নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

গল্পঃ- পরশ Writter- Diamond (Md Aryan Hira)

গল্পঃ- পরশ

Writter- Diamond (Md Aryan Hira)



আমি রাস্তা দিয়ে হাটছি আর গান গাচ্ছি আশেপাশের খেয়াল নাই কে আছে আর কে নাই।।
'কি করে তোকে বলবো তুই কে আমার আয় না সাথে চলবো সব পারাপার'।। ঠাশ,,,,

সাবিহা- আবার বল কি বললি??

গাল থেকে হাত সরিয়ে দেখি সাবিহা দাঁড়িয়ে আছে এবার বুঝলাম কে আমার গালে এতো সুন্দর করে ঢোল বাজালো।।

আমি- আমি আবার তোকে কি বললাম?

সাবিহা- রাস্তায় মেয়ে দেখলে গান গাইতে মন চায় তাই না দারা আজ তোর বাসায় গিয়ে আন্টির কাছে বিচার দিবো এরপর দেখি কত গান বের হয় তোর এই কাকের মতো গলা দিয়ে।

আমি- আরে বোইন শোন আমি কাউকে দেখে গান গাই নাই আমি তো একা একা হাটছি আর গান গাচ্ছি এর মধ্যে কখন তুই এলি আর কখন গালে ঢোল থুক্কু থাপ্পড় দিলি টের পাই নাই।।আর তোর পায়ে পরি আম্মুরে কিছু বলিস না নয়তো মেয়ে ফেলবে।।

সাবিহা- একদম মিথ্যা বলবি না হারামজাদা তুই আমাকে দেখেই গান গাইছিস।।

আমি- এইযে তোর মাথায় হাত দিয়ে বলছি আমি মিথ্যা বলছি না।।

সাবিহা- ওই আমার মাথায় হাত দিয়ে কসম কাটিস কে যদি মিথ্যা কসম কাটিস আমি মরে যাবো আর আমি এতো তাড়াতাড়ি মরতে চাই না এখনো বিয়া করি না জামাই বাচ্চা-কাচ্চার মুখ দেখি নাই আর তুই আমারে মেরে ফেলার প্লান করিস।।

আমি- ওই মাইয়া থাম তুই কি পাগল যে এতোদূর চিন্তা করিস।। আর আমি মিথ্যা বলি নাই।।

সাবিহা- যা মাফ করলাম এখন বেশি কথা বলার সময় নাই ক্লাস আছে।।

আমি- যা যা বোইন।।

উফফ বাচলাম গেছে এই কুটনিবুড়ি।। এই মাইয়াডা আমার গেবনডা তেজপাতা করে ছাড়ছে।।

আরে পরিচয় দিলাম না যে আপনাদের আমি হলাম সাব্বির আমার বাবা আর মায়ের একটামাত্র সন্তান। এবার অনার্স ২য় বর্ষে লেখাপড়া করছি।। আর যে কুটনিবুড়ির সাথে দেখা হল সে হচ্ছে আমার মায়ের বান্ধুবীর মেয়ে সাবিহা।। সেও ওর বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান।।ও আমার কলেজের ১ম বর্ষে পড়ে।।

এখানে যে ও বলে গেল আমার মায়ের কাছে কিছু বলবে না কিন্তু আপনারা দেইখেন বাসায় পা রাখার সাথে সাথে আমার উপরে ঢোল বাজানো হবে।।

যাক এখন এতো চিন্তা করে লাভ নাই।। বাসায় যাওয়ার আগে চিন্তা করবোনে।।

এখান থেকে বন্ধুদের সাথে গেলাম আড্ডা দিতে।।

সেখানে গিয়ে শুনি আরেক কান্ডের কথা।।
সাবিহা নাকি পুরো কলেজে বলে বেরিয়েছে আমি নাকি ওর হবু বর।।

আর আমি এই কথা শুনে কাদবো না রাগবো বুঝতাছি না।।

কারন এতে আমার কলেজে মেয়েদের কাছে সুন্দর ইমেজ খারাপ হয়ে গেছে + এখন কোনো মেয়ে আমার সাথে কথা বলতেও ভয় পাবে।।

কারন সাবিহা হল ১ নম্বরের গুন্ডি টাইপের।।
জানি না আমার সাথে কেন ও লেগে থাকে।।

যাই আজ বাসায় তখন ওকে ইচ্ছা মতো ঝাড়বো।।

কিন্তু আমি এটা ভাবছি আমি ওকে ঝাড়বো না মা আমাকে ঝাড়বে সেটা নিয়ে ভয়ে আছি।।

যাই বাসায় যা আছে কপালে।।

বাসায় গিয়ে দেখি মা বাবা আর ঘরে বাকি সবাই বসার ঘরে বসে আছে।।(বাকি সবাই বলতে আমরা জয়েন্ট পরিবার এখন বুঝে নেন)

আমি- কি ব্যাপার সবাই এক সাথে এভাবে বসে আছো কেন??

মা- চুপ
বাবা- চুপ
বাকি সবাই- চুপ

আমি- কি ব্যাপার সবাই একসাথে কানে কম শুনা শুরু করছো??

মা- তুই এখন কথা বলবি না হারামজাদা তুই আমাদের বংশের নাম ধুলায় মিশায় দিছিস

আমি- আমি আবার কি করলাম??

মা- কি করছিস জানিস না বেয়াদব আবার মুখে মুখে কথা বলিস।।তুই রাস্তায় মেয়েদের ইভটিজিং করিস।।

আমি- কি,,,,,,(মাথায় আকাশ পাতাল যা আছে সব ভাইঙ্গা পড়ছে)

মা- কি মানে কি আমাদের সাবিহা সব বলছে তুই রাস্তায় মেয়েদের ইভটিজিং করিস আজ নাকি ওকে ইভটিজিং করছিস আবার ওর বান্ধুবীদেরো।।

আমি- মা বিশ্বাস করো এই কাজ আমি করি নাই ওই সাবিহা সব বানিয়ে বলছি আমি শুধু রাস্তায় গান গাইতে ছিলাম আর বন্ধুদের কাছে যাচ্ছিলাম।।আর ও তখন আমার গান শুনে এটা মনে করছে।।

বাবা- দেখছো আমি আগেই বলছিলাম আমার ছেলে এই কাজ করতেই পারে না তুমি শুধু আমার ছেলেকে বকো।।(এই ঘরে মা বাদে সবাই আমাকে সাপোর্ট করে)

মা- চুপ থাকো ছেলেকে এতো মাথায় উঠানো লাগবে না।। আর হ্যা ওকে ওই কথা বলো।।

বাবা- না তুমি বলো।

আমি- কি কথা বলবে একজন বলো??

মা- আমরা সাবিহার সাথে তোর বিয়ে ঠিক করছি।।

আমি- আমার মতামত নেয়ার প্রয়োজন মনে করলে না।।

মা- আমার কথাই শেষ কথা আর একটা কথা বললে দরজা খোলা আছে যেতে পারিস।।

আমি আর কিছু না বলে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে শুয়ে পড়লাম আর ভেটাকাইতে থাকি।।
আর আয়নার সামনে গিয়ে মনে মনে বলি যাক যাকে ভালবাসি তাকেই বিয়ে করতে পারবো এটাই অনেক তোবে সাবিহা আমাকে ভালবাসে কিনা তা জানার জন্য একটা পরীক্ষা নেয়া লাগবে যদিও জানি ভালবাসে তাও শিওর হওয়ার জন্য।।

যেই ভাবা সেই কাজ সন্ধ্যায় ওকে ফোন দিয়ে ডাকলাম আমাদের বাসার ছাদে।।

আমি দাঁড়িয়ে আছি আর অভিনয় করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম আর ওর পিছনে সেই ২ বছর ঘুরার কথা ভাবছিলাম।।

আসলে আমি যখন ইন্টার ভর্তি হই তখন ও ১০ম শ্রেণিতে পড়ে তখন থেকেই ওর পিছনে ঘুড়া শুরু করি কিন্তু ও পাত্তাই দিতো তোবে তখন ও আমার মায়ের কাছে বিচার দিতো না।।

একদিন ওকে প্রোপজ করায় ও ডিরেক্ট বা করে দেয় তাও ওর পিছন ছাড়তাম না কিন্তু একদিন যেসময় আমি ইন্টার পরীক্ষা দিবো তখন ওকে দেখি একটা ছেলের সাথে করে রিকশায় কোথায় যেন যাচ্ছে আর তা আমার সহ্য হয়নি আর কিছু না বলে ঘরে আসি তখন থেকে ওর পিছনে ঘুরি না শুধু দেখা হলে টুকটাক কথা বলি এই আরকি।।

কিন্তু ও যখন আমার ভার্সিটেতে ভর্তি হয় তখন একটু অবাক হই কারন আমি ওর থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতাম ওইদিন থেকে।।

এরপরে ও যখনি আমাকে কোনো মেয়ের সাথে দেখতো আম্মুর কাছে বিচার দিতো এমনকি আমার বন্ধুদের সাথেও মিশতে দিতো না তাও লুকায় লুকায় দেখি করি।।

এসব ভাবতে ভাবতে যে কখন সাবিহা আমার পিছনে এসে দাঁড়িয়ে আছে টের পাইনি।।

সাবিহা- আশা করি সব শুনে ফেলছো।।

আমি- হুম কিন্তু এমন কেন করলে??

সাবিহা- কেন তোমার বন্ধুরা কিছু বলে নাই??

আমি- না তুমি বলো।।

সাবিহা আমার সামনে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো ভালবাসি তাই।।

আমি- কি করছো ছাড়ো কেউ দেখবে আর ভালবসো মানে কি তোমার তো bf আছে তাও আমাকে কেন??

সাবিহা- bf আবার কোথা থেকে আসলো??

আমি- ওইদিন যার সাথে রিকশায় দেখলাম আশা করি তুমিও ওইদিন আমায় দেখছিলে।।

সাবিহা- আমাকে জিজ্ঞাস করছো একবারো ও কে হয়??

আমি - না কে ও??
সাবিহা-তুমি খালাতো ভাই জিসানকে চিনো না সে ছিল।।

আমি- ওও তা আমাকে বিয়ে করবে কেন আগে তো আমাকে সহ্য করতে পারতে না।।

সাবিহা- আচ্ছা তুমি আমাকে এটা বলো এইযে তুমি আগে আমাকে এতো বার প্রোপজ করছিলে তখন কি আমি একবারো আন্টির কাছে বিচার দিছি??

আমি- না দেও নাই কিন্তু কেনো??

সাবিহা- আচ্ছা তাহলে বলো আমি কখন আন্টির কাছে বিচার দিছি??

আমি- সঠিক জানি না।।

সাবিহা- যখন দেখছি আমাকে রেখে অন্য মেয়ের সাথে তুমি কথা বলছো তখন দিছি এখন বলো কেন বিচার দিছি??

আমি- থাক বাকিটা আমি বুঝছি আর বলা লাগবে না আমি বুঝছি।।

সাবিহা- হুম

সাবিহা আমার সামনে এসে দাড়ালো আমি ওর হাতটা একটু ধরলাম আর সাবিহা কেমন যেন কেপে উঠলো।।

সাবিহা- এভাবে হাত ধরে রাখবে আজীবন।।

এরপর আমি ওকে আমার দিকে ফিরিয়ে ওর কপালে হালকা করে ভালবাসার পরশ দিলাম আর সাবিহা আমার বুকে এসে পরলো।।আমাকে অনেক শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো আমিও জড়িয়ে ধরলাম।।

"সমাপ্ত"

বি:দ্র- অনেকদিন পর গল্প লিখলাম ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন এবং ভুল ধরিয়ে দিবেন যাতে পরবর্তীতে ঠিক করে নিতে পারি।

[
 ](https://www.facebook.com/ufi/reaction/profile/browser/?ft_ent_identifier=ZmVlZGJhY2s6OTk1OTk0MTQ3NDA4ODU5&av=100009948488951)
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label