নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

গল্প:সিনিয়ার খালাতো বোনকে বিয়ের পর Valobhasar Golpo :khalato Bonke Biyer Por

গল্প:সিনিয়ার খালাতো বোনকে বিয়ের পর
Valobhasar Golpo :khalato Bonke Biyer Por
লেখক:ফাহিম ফয়সাল

''ইশ সারারাত মশার কামড় খেয়ে আর বাচা যায়না।যাই ফ্রেশ হয়ে আসি,,সারারাত ঘুম হয়নি
বললেই চলে বাইরের বারান্দায় কি ঘুম হয় নাকি?
ছোট নবাব বলে কথা নরম বিছানায় মজাই মজা।কিন্তু গতরাতে আর ঘুম হলো না।কি আর করার?
যাগ এসে গেছি ব্রাশ টাস করে ফ্রেশ হয়ে নেই।

ব্রাশ মুখে লাগিয়ে কিছুটা ভাবনায় চলে গেলাম।গতকাল সহ আগের কিছুদিনের কথা।

So কি বলে ওইটা???ফ্ল্যাশ ব্যাক! চলেন ফ্ল্যাশ ব্যাক করি।

সপ্তাহ খানিক আগের কথা।আমি জেনো প্রত্যেক মুহুর্তে প্রিয়ার কথাই ভাবি।বয়সে খুব বেশি বড় না হলেও পড়াশুনায় আমার বড়। আমি ত সবেমাত্র
ওনার্স এর ২য় বর্ষ কিন্তু প্রিয়ার পড়াশুনা একদম মাস্টারের ফাইনাল ইয়ারে।হুম সে আমার অনেক বড়,, কিন্তু কি করার???এতো কিউট দেখতে ওরে
বয়সের কথা আর মাথায়ই থাকেনা। আমি যা করতাম দিনের মধ্যে যতবার দেখা হতো''প্রিয়া আই লাভ ইউ''আমার কথাই জেনো একটা।

আরে ভাব্বেন না সে আমাকে চড় থাপ্পড় কিছুই মাড়ত না শুধু বেয়াদবি ছাড় এই কথা বলেই চলে যেতো।নতুবা এইটা বলতো দেখ সব সময় ফাজলামি ভালো লাগেনা দূর হ হারামি।আমার তাতে মজাই লাগতো,,, প্রিয়া এসব দুষ্টমি ফাজলামি ভাবলেও আমার কাছে এসব কিছু সিরিয়াসই ছিল। চলছিল দিন এইভাবেই কিন্তু
শক্ট ত আমি হলাম ১ সপ্তাহ আগে সেদিনও শুক্রবার। আমি রোজ প্রপোজ করতাম পাঠ পুট থাকলেও হাতে কিছুই থাকতো না।কিন্তু ভাবলাম
হয় ত ফুল গিফট এসব নিলে সিরিয়াসলি আমার
কথা ভাববে।

so কি করব?? সেইভাবে গিফট প্যাক করলাম।বেশ ভালো দেখে ফুলের বুকে কিনলাম।বিকেলে সেই জায়গাটাতেই অপেক্ষা করতে লাগলাম।আজ
বেশ ঘন্টা খানিক আগেই আসলাম একটু প্রস্তুতি নিয়ে।দেখতে প্রিয়া এসে গেলো,,,,একাই তারপর

একদম নায়কের মতন সামনে ঠেকালাম।তারপর
একদম ফিল্মের মতন আঁটু গেড়ে বসে,,,,,সামনে ফুল দিয়ে,,, বলতে লাগছি

''দেখো প্রিয়া আমি জানি তুমি এইসব রোজ রোজ প্রপোজ করা একটু পাগলামি ফাজলামি ছাড়া কিছুই মনে করো না।কিন্তু সত্যিটা এই আমি অর্নব সত্যি তোমাকে এতোটাই ভালোবাসি সারাক্ষণ তোমার ভাবনায় ডুবে থাকি।আমি জানি তুমি এটা ভালোবাসা বলে আখ্যা দিবেনা বলবে পাগলামি
কিন্তু পাগলামি হলেও নিজের জানা অজানায় সব তুমি,, এখন তুমি বয়সের আখ্যা দিতে পাড়বে কিন্তু
ভালোবাসায় কি বয়স কোনো ফ্যাক্ট??আমি জানিনা এর পরের পরিস্থিতি কি হবে কিন্তু আমি জানি আমি তোমাকেই চাই আর তোমাকেই চাই
আমার চাওয়া শুধু তোমাকেই,,,,,I love u priya,,,
সত্যি অনেক ভালোবাসি তোমায়''

''তোর বলা হইছে'' (প্রিয়া)

''হুম হয়েছে'' (আমি)

''তাহলে এখন ত তোকেও আমার ভালোবাসতে হবে
আমার পাগল প্রেমিক তুই''
(কেমন জানি অদ্ভুত আচরন করছে)

''হুম ভালোবাসি যখন পাওয়ার আশা ত রাখি''
(কথা বলছি কিন্তু ওর আচরনে কেমন জানি অসুস্থতাজনিত লাগছে)

'' ওকে মেরি পাগলা জানু আজ থেকে আমাদের প্রেম শুরু'' (প্রিয়া)

''ওহ সত্যি''
(বলেই Hug করলাম)

[আমাকে ছাড়িয়ে]''হুম হয়েছে??এখন শুন''

''হুম তুমি যা বলবে সব শুনবো''

''ওহ বাবা তাই??ওলে আমার জানুটা'' (প্রিয়া)

''হুম ঠিক তাই''
(এক গাল হাসি নিয়ে)

''তাহলে শুন,,,আজ থেকে প্রেম কাল হবে ডেট কিছুদিন কথা তারপর ব্রেকাপ'' (প্রিয়া)

প্রিয়ার এমন কথা শুনে আকাশ থেকে পড়লাম জেনো আমি।বুঝতে পারছিনা কি বলা উচিৎ আমার। আমি ত বুঝেই উঠতে পাড়লাম কিছুই,,,

''এই মজা করছো তাইনা''
(হাসি হাসি মুখে)

''ওই তোর সাথে কিসের মজা রে???তুই ত এমনই চাস শরির ভোগ করে ছুড়ে ফেলবি তোরে চিনিনা আমি'' (প্রিয়া)

''আরে তুমি এইটা কি বললে?আমাকে তুমি নতুন চিনো?প্লিজ এসব ভাবনা ভুল তোমার আমাকে বুঝো তুমি একটু'' (হাত ধরে নিয়ে অর্নব)

''এই তোর ত সাহস কম না??আমার হাত ধরিস লুচ্ছামি তাইনা??ছাড় বেয়াদপের বাচ্ছা'' (প্রিয়া)

''এই মাইরা ফেলমু একদম যা বলবি আমাকে!বাচ্ছাটাচ্ছা কইলে কি যে করমু নিজেও জানিনা''

''হুম তুই ত ওইটার ধান্দাতেই আছস। না হলে বয়ফ্রেন্ড আছে জেনেও কোনো মেয়েকে এইভাবে রোজ রোজ পটাতে আসতিস না। তোর মতন ছেলের মুখ থুঃ থুঃ ফেলা উচিৎ'' (প্রিয়া)

''এই কি,,কি বললা''

''হা হা হা,,,, তোতমালি কেন করিস??এখন ত বলবি এইটা তুই জানিস না হ্যান ত্যান তাই ত???তোরে আর নতুন করে চিনার প্রয়োজন মনে করার কি আছে'' (প্রিয়া)

''দেখো প্রিয়া আমি সত্যি জানিনা তোমার কোনো বফ টফ আছে বলে সত্যি বিশ্বাস করো আমায়।আমি শুধু তোমার ভাবনায় ডুবে থাকতাম তাই তাই বাইরের কিছুই জানার চেষ্টা করিনি''আমি সত্যি অনেক অনেক দুঃখিত প্লিজ,,,,

''হইছে হইছে আর বলিসনা তোদের বাড়ির দিকে যাওয়ার ছিল আমার থাক তুই যখন রাস্তায় এগিয়ে আসলি কার্ড নিতে কি আর করার আমার আর শক্তি ক্ষয় করে তোর বাড়ি অবধি যাওয়ার দরকার নাই।এই নে কাল চলে আসিস আমার একমাত্র খালাতো ভাই বলে কথা আপুর বিয়ের দায়িত্ব ত নিতে হবে তাইনা??কার্ডটা আন্টিকে দিস
কাল সময় মতন চলে আসিস ওকে''

কথাটা বলেই চলে যেতে লাগলো প্রিয়া।আমি হাত ওর দিকে নিয়ে আছি তারপর নামিয়ে নিলাম।
যদি বয়ফ্রেন্ড আছে এমন বেপার ছিল তাহলে কোনো বেপার নায়কই ত সব সময় নায়েকাকে পাবে কিন্তু বেপারটা বিয়ে অবধি গড়িয়ে গেছে
আর আমার আগের সব দিনের কথা মনে হয়ে নিজেকে কমিডিয়ান লাগছে আর হাসি পাচ্ছে।
যদিওবা হাসিটা কষ্ট ঘেরা তবুও নিজে কত বড় রাম ছাগল আজ বুঝে গেছি।

হাটছি আর ভাবছি দেখতে দেখতে বাড়িও চলে আসলাম।আমি নক দিলাম,,, মা খুলে দিলো

''কিরে আজ এতো তাড়াতাড়ি''

জবাবে কিছুই দিলাম না আমি।সজা ঘরে চলে আসলাম। দেখতে দেখতে রাত হয়ে গেলো বাবাও
বাড়িতে আসছে অনেক্ষণ হলো খেতে ডাকছে যদিওবা কানে ডাকার শব্দ আসছে কিন্তু খাওয়ার এবং উঠার চিন্তা নাই বললেই চলে। আমাদের পরিবারে মাত্র তিনজন আমরা,, আর তিনজন একসাথে বসেই খাই কিন্তু আজ আমি টেবিলে নাই
তাই ডাকাডাকি করছে,,, বেশ অনেক্ষন ডাকার পর
যখন আমার সারা শব্দ নেই তখন ধারাম করে দরজা খুলে বাবা মা ঢুকে পড়লো আমার ঘরে

তারপর,,,

''এই তোর কি হয়েছে আজ বলবি'' (মা)

{অর্নবের জায়গাটা আমি নিলাম কেও কিছু মনে করবেন না। গল্প লেখার একটু সুবিধার্থে প্লিজ}

[মুচকি হাসি দিয়ে আমি]''কই কিছুনা ত''

''দেখ তোর হাসিভরা মুখ সারাক্ষণ দেখি আমি এখন মুচকি হাসি দিচ্ছিস তার মানে এই নয় আগের মতন তোর মন মানুষিকতা আছে।যখন বাড়িতে ঢুকলি কোনো কথাই বললি না। যে ছেলে একাই বাড়ি পুর্ন করে দেয় আমাদের ছোট পরিবারে মনে হয়না অপুর্ন আছে সে আজ তার মাকে একদম জ্বালাতে আসে নাই। কিছু ত হয়েছে তোর বল কি'' (মা)

''আরে কিছু না চলো খাবো'' (আমি)

''আগে বল কি হয়েছে তারপর খাওয়া'' (মা)

''এইটা প্রিয়া আপু দিয়েছে ধরো'' (আমি)

''প্রিয়া আপু??বাহ বাহ'' তা দেখি ত বিয়ের কার্ড মনে হচ্ছে ত,,, Priya with Hridoy''' মানে যাকে প্রিয়া ভালোবাসে সে হৃদয়'' (মা)

মায়ের এমন কথা শুনে আকাশ থেকে আবার পড়লাম জেনো। মানে মা জানে আর মা যে আমাকে বার বার বলতো তাহলে সেইটা সত্যি প্রিয়া আগেই রিলেশনশিপে ছিল।

''মানে তুমি জানতে'' (আমি অবাক হয়ে)

''হুম তাহলে এই বেপার তুই সত্যি প্রিয়াকে ভালোবাসিস???দেখ কিছু করার নাই সে তোর বয়সে বড় এইটা কোনো ফ্যাক্ট না কিন্তু কোন মুখে তোর বিয়ের কথা বলি বলতো??যেখানে প্রিয়ার বিয়ে হচ্ছে ওর ই ভালোবাসার মানুষের সাথে।বাপ আমার ওরে ভুলে যা আমি দরকার হলে এই শহরের সেরা মেয়েকে তোর জন্য এনে দিবো যে তোকে অনেক ভালোবাসবে তুই ভেঙ্গে পড়িসনা আয় খাবি'' (মা)

''হা হা হা''

''কি হলো পাগল হইলি নাকি??হাসিস কেন'' (বাবা)

''নিজেকে এতোটা ষ্টুপিড মনে হচ্ছে তাই'' (আমি)

''ওহ রিয়েলি??আমার ছেলে ষ্টুপিড? আমার ছেলে ত জেমস !চল খাবি''আমার অফিস কলিঙ্গ এর মেয়ে আছে আজ আসছিল সেরা সুন্দরি সেই ব্যবহার তোর সাথে লাগিয়ে দিবো ভাবিস না''

''আরে কোন মেয়েটা'' (মা)

''ওই ত স্নেহা'' (বাবা)

''ওহ ওই মেয়েটা সত্যি দারুণ মানাবে আমাদের অর্নবের সাথে '' (মা)

''হুম দেখছি ছাই মানাবে আমার সাথে'' (আমি)

''তার মানে দেখছিস??বাহ তাহলে ত হয়েই গেলো'' (বাবা)

''ছাই হবে আমাকে দেখলে মিট মিট করে তাকায় হাট হবেনা'' (আমি)

''আচ্ছা বাদ দে আগে খাবি চল সব তোর পছন্দের খাবার''আর কাল সবাই যাচ্ছি প্রিয়াদের বাড়ি সাথে স্নেহা'' (মা)

''এইটা কিন্তু বারাব্বারি মা'' (আমি)

''হুম হলে হবে তুই প্রিয়ার সাথে কি করছিস??সেইটা কি??হুম'' (মা)

''থাক বাদ দাও খাবো চলো উম্মাহ মম'' (আমি)

''তাহলে বেপার মিটে গেলো চলো সবাই দিব্বি করে খাই'' (বাবা)

তারপর আর কি খেয়ে নিলাম হাসি খুশি ভাবেই সব কিছু ভুলেই ছিলাম মজায় মজায় কিন্তু ঘুমাতে এসে বার বার ওর কথা গুলো কানে ভাসছে।খুব কষ্ট করে ঘুমালাম একদম ভোরে উঠে ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে সবাই বেড় হলাম। কিন্তু যে কথার সেই কাজ মা সত্যি সত্যি স্নেহাকে সাথে নিছে।এমন মা পাইলে যে কেও খুশি কিন্তু এমন সময় আমি খুশি হতে পারছিনা।দেখতে দেখতে প্রিয়াদের বাড়ি চলে আসলাম।

সবাই খুব খুশি প্রিয়া সামনেই তখনই প্রিয়ার মা মানে আমার আন্টি জিজ্ঞেস করলো সাথে থাকা মেয়েটা কে??মা উত্তর দিলো ছেলের হবু বউ।
আমার কথা কানে যেতে কিছুই মনে হলো না।প্রিয়ার মা বললো বাহ বেশ সুন্দর। কিন্তু হঠাত করেই খেয়াল করলাম প্রিয়ার মুখ লাল হয়ে গেছে
ভাবতে লাগছি কি হলো??রাগ নাকি খুশি,কি জানি।
জেনে আমার কি??

আমি ফোন কানে নিয়ে বান্ধবির সাথে কথা বলছি
তখনই স্নেহা এসে মুচকি হাসি দিচ্ছে। আমি ফোন কানে থাকা অবস্থায় বললাম কি হয়েছে??সে মাথা নেড়ে কিছু না বললো।মেয়েটার হাসিটা বেশ দারুণ
মন কেড়ে নিতে এক মুহুর্ত যথেষ্ট। কিন্তু সব ক্ষেত্রে নয়।আমার মনে জায়গা আদো নিতে পাড়বে কিনা সন্দেহ আছে।

যাই হোক কিছুক্ষণ পর ডাক পড়ল আমার।প্রিয়ার মা ডাকছে প্রিয়া স্ট্রেট দাড়িয়ে আছে। কেবল স্নেহা আমার সাথে টুকটাক কথা বলছে ঠিক তখনই

আমি ছুটে আসলাম সাথে মেয়েটাও আসলো,,,তারপর

''হ্যা আন্টি বলেন'' (আমি)

''না মানে বাবা মানে হৃদয় ত আসে নাই তাই যদি প্রিয়ার সাথে তুমি একটু বাকি থাকা কয়কটা বাড়িতে যাইতে'' (আন্টি)

''হ্যা যাবে মানে এইটা জিজ্ঞেস করার কি হলো''(মা)

''কিন্তু আমি ত স্নেহার সাথে বিজি'' (আমি)

কথাটা শুনে প্রিয়ার মুখের ব্রাইটনেশ নাইট মুড হয়ে গেছে।বেশ মজাই ত বাহ বাহ।

''আরে সময় অনেক পাবি যা এখন সাথে স্নেহাকেও নে প্রব্লেম কি?? (মা)

''হুম তাহলে ঠিক আছে'' (আমি)

''হুম চলেন আপু'' (স্নেহা)

''ওকে আসো'' (প্রিয়া)

ড্রাইভ আমি করছি পাশে বসে স্নেহা আর পিছনে প্রিয়া,, একটু একটু দুষ্টমি হাসা হাসি করছি স্নেহার সাথে। আর গ্লাসে দেখছি প্রিয়ার রিয়াক্ট আর মনে মনে দিব্বি হাসছি।বেশ হিংসে করে ত,, হা হা হা।

দেখতে দেখতে একটা বাড়িতে দুইটো বাড়িতে কার্ড দেওয়া এইভাবে শেষ বাড়িতে আসলাম প্রিয়ার মুখে হাসি নেই বললেই চলে এখন শেষ বাড়ি।
আমি মাঝে স্নেহা এক পাশে প্রিয়া এক পাশে আমি মাঝে দাঁড়িয়ে আছি।নক দিলো প্রিয়া,,,,,

দরজা খুললো আমাদের চেনা এক আত্মিয়,,,

''হ্যা প্রিয়া মা কি হয়েছে?? অর্নব ও দেখছি কি খবর''

[প্রিয়া একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে]''না মানে আমার বিয়ে''

''ওহ গুড নিউজ তা অবশেষে অর্নবকেই বিয়ে করলে??বাহ বাহ দারুণ মানাবে''
(আন্টি কার্ড খুলছে আর বলছে)

''না আন্টি অর্নব না হৃদয় দেখেন ছবি আছে কার্ডে''

''আরে এই ছেলে??কেমন ভিলেন ভিলেন দেখা যায় ছিঃ মা তোমার পছন্দ এমন''

''আন্টি এইটা আজকালকার স্টাইল ভিলেন ভিলেনই মানায় বিয়েতে আসবেন না আসলেও অখুশি হবো না''বাই (প্রিয়া)

বাহ এখন যা লাগছে প্রিয়ার মুখটা কি বলবো আর হাসি পাচ্ছে আমার দিকে যতবার তাকাচ্ছে তত ওর রাগ জেনো বাড়ছে।

ধিরে ধিরে দিন যাচ্ছে প্রিয়ার হিংসে বাড়ছে আমি সামনে পাইলেই স্নেহার সাথে লেগে যাই।এইভাবে দিন শেষ আজ প্রিয়ার বিয়ে বেশ ফ্রেশ মুডেই আছে হাসি খুশি সে,, ভালোবাসার মানুষকে পাবে বলে কথা তাই। দেখতে দেখতে বিয়ের সময় হয়ে গেছে,,, যতো সময় যাচ্ছে তত ভিতর থেকে ফাটছে আমার।কিন্তু একি সময় যাচ্ছে ত যাচ্ছেই কিন্তু
এখন অবধি বর পক্ষের খবরই নাই,,,,কি জানি কি হলো দেখতে দেখতে আর ও ঘন্টা দুই চলে গেলো
বিয়ের পুরো লগ্ন কিন্তু তবুও নেই। বিয়ের কাজ হবে কিন্তু বর পক্ষই ত নেই,,,,,,,

আংকেল অনেক বার কল করেই যাচ্ছে বেশ চিন্তায় সকলে কিন্তু ফোন ও ধরছেনা কেও অবশেষে ফোন ধরতেই আংকেল কান্নার আওয়াজ শুনলো,,,,, বাজ পড়ার মতন অবস্থায় আংকেলের মাথায় জেনো। ফোন টা রেখে দিয়েই ধপাশ করে বসে গেলো আংকেল।সবাই হই হুল্লর করছে আংকেল আর কথা বলছেনা ঘামছে আর কান্না কান্না অবস্থা,,,,,তারপর সে বলতে লাগলো

''আমার মেয়ের আর কোনোদিন বিয়ে হবেনা''
(বলেই কান্না শুরু)

অনেক জিজ্ঞাসাবাদ করার পর আংকেল সস্থি গলায় বলে উঠলো হৃদয় সকালে বাইক এক্সিডেন্ট করেছে আর নেই হৃদয়।

কথাটা শুনে পুরো পরিবারের জেনো অবস্থা খারাপ
দেখলাম প্রিয়া উঠে যেতে লাগছে,,,,কাছে গেলাম

''কই যাও প্রিয়া?? (আমি)

''বাবা যেতে দে ও কোথায় যাচ্ছে জানি আমি''
(আংকেল)

''মানে কি??এই কোথায় যাও''
(হাত ধরলাম আমি)

''কি করব আর বলো???আমার ত এইটাই শেষ রাস্তা ছাড় আমায়'' (প্রিয়া)

''না'' (আমি)

''ত কি করব??আমায় কে বিয়ে করবে তুই??করবি আমায় বিয়ে??বল''
(নিষ্পাপ মুখ জেনো প্রিয়ার)

আমি জানি প্রিয়ার অনেক প্রপোজাল সবাই দাঁড়িয়ে গেছে শুধু বলার অপেক্ষা আমি না করলেই
একে একে শুরু করে দিবে।আর আমি ত ভালোবাসি কি করব???তাই আর দেড়ি করলাম না কথাটা বলতে,,,,

''হুম আমি বিয়ে করব'' (আমি)

''সত্যি বাবা বিয়ে করবে আমার মেয়েকে''
(আংকেল উঠে আসলো)

প্রিয়া ধমকে গেলো ওর গলায় জেনো কথা আটকে গেছে। আমার সাথে আমার মা বাবা দাঁড়িয়ে আছে
কিন্তু অনেকটা অবাক তারা আসলে হচ্ছে কি??
বুঝেই উঠা জেনো কষ্টকর।তারপর বর সাজার দরকার নাই পাঞ্জাবি পায়েজামাই পড়ে আছি আংকেল মাথায় একটা টুপি বাধছে সেইটা আমায় পড়ে দিলো,,,, তারপর বিয়ের কাজ হয়ে গেলো।এসবের মাঝে স্নেহা কোথায় কে জানে??

দেখতে সব শেষ বাড়ি আসলাম আগেই ফোন করে ঘর সাজানোর কথা বলা হয়েছে তাই আমার ঘর সাজানো শেষ। কিন্তু আমার মনে হয়না ওর সাথে আজ কাটানো উচিৎ রাত তাই ঘরে রেখে একটা বালিশ নিয়ে বাইরের বারান্দায় ঘুমাইছি,,,,,

এখন বর্তমান,,,,,ফ্রেশ হয়ে টেবিলে বসে চা নাস্তা খাচ্ছি। ভাবলাম প্রিয়া হয় ত এখনো উঠে নাই
তাই চা আর কিছু বিস্কুট নিলাম। আমি হয় ত মহান স্বামিদের মধ্যে একজন আজ,,বউকে ডাকতে যাচ্ছি।তাও আবার চা নাস্তা হাতে,,,

দেখলাম দরজা খোলাই আছে মানে যেমন রেখে গেছি তেমনই দরজার কিন্তু ভিতরে গিয়ে দেখলাম
প্রিয়া বসে আছে কোনের সাজে।কাল যেমন বেড় হবার সময় ছিল,,ঠিক তেমন বসে আছে। আমার মনে হচ্ছে সে হয় ঘুম থেকে উঠে ওমন করে বসে আছে।কিন্তু চোখের যে অবস্থা দেখলাম তাতে বুঝা যাচ্ছে সে ঘুমাইনি,,,,,

''এই নাও চা'' (আমি)

''চা খাওয়াতে আসছো বাহ বাহ'' (প্রিয়া)

প্রিয়ার কথা শুনে অবাক হলাম কি হলো এমন এইভাবে কথা বলে কেন?

''কেন বর কি চা খাওয়াতে পারেনা??বউয়ের কেয়ার নিতে পারেনা''
(আমি পাশে বসে)

''কিন্তু বউ এর ওমন অবস্থা ওই অবস্থায় বিশ্বাস ভরসা এসব কে দিবে??মাই ডিয়ার পিচ্ছি বর''

শুনে মাছের খাবি খাওয়ার মতন অবস্থা আমার।বলে কি??কাল এতো কিছু আর আজ এমন কথা।
শালা এই জন্য বলে মেয়েদের চেনা বড় দ্বয়!

চলবে ত?????

(পর্বটা কি অনেক বড় হলো??ছোট করব কি?)

নাম গুলো হিন্দু সম্প্রদয়ে বেশি ব্যবহৃত কিন্তু আপু ভাইয়া এসব মুসলিম।
একবার এক ভাইয়া বলছিল অর্নব আর প্রিয়া নাম দিয়ে জেনো গল্প লিখি ভাইয়ার নাম ও তার প্রিয় মানুষের নাম ভাইয়া সরি ট্যাগ করব আইডি নাম মনে নাই,,,তাই ট্যাগ করতে পাড়লাম না। আমার ফ্যান ফোলোয়ার সিংহভাগ ইন্ডিয়ান কিন্তু অধিকাংশ মুসলিম।

আমি চাইনা ধর্ম নিয়ে কোনো কথা হোক। কিন্তু
দশের চাওয়া কি করব???এই গল্পে কোনো ধর্ম
একদিক প্রকাশ করব না।মানে বুঝা যাবেনা আসলে কোন ধর্মের মানুষ। কারো কোনো অভিযোগ থাকলে জানাতে পাড়েন ধন্যবাদ
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label