নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

গল্পঃ ছোট_সাহেব Valobasar Golpo shoto Shaheb

গল্পঃ ছোট_সাহেব
Valobasar Golpo shoto Shaheb
(পর্বঃ ০৫)
Writer:- (নষ্ট জীবন) Sohanur Rohoman Sohan
গোসল করছিলাম মুখে, গাঁয়ে সাবান লাগানো অবস্থায় কলিংবেলের আওয়াজ শুনতে পেলাম।তোয়ালেটা পুরে দরজা খুলে দিলাম।মাধবীলতা তাকিয়ে থেকে বিরবির করে কি যেন বলছে।
রাগ নিয়ে বলি...

-কাজে কখন আসার কথা ছিলো?
.
-৮টায় (কাজের বুয়া)
(মাথা নিচু করে উত্তর দিলো)
.
-এখন কত বাজে?এটা কি সরকারি অফিস পাইছো।সময় মতো আসলে আসবে না আসলে মাইনে থেকে বেতন কেটে নিবো..!
.
-জ্বী আচ্ছা ছোট সাহেব।আর এমন ভুল হবেনা।কিন্তু আপনি তোয়ালে পরে আছেন কেন?? (কাজের বুয়া)
(ভূরুকুচকে বলল)
.
-তারাহুরায় পেরেনি।যাও সকালের নাস্তা রেটি করো.!
.
-লুচ্চা (কাজের বুয়া)
(ধীর কণ্ঠে বলে)
.
-কিছু বললে মনে হয়? আরেকটি বার বলতো শুনি? (শুনেও না শোনার ভান ধরে)
.
-কিছু না সাহেব...(কাজের বুয়া)

গোসল শেষ করে ডাইনিং টেবিলে বসলাম সকালের নাস্তা করে শপিং করতে চলে যায়।একটা নতুন লাল টুকটু শাড়ী হাতে বাসায় ফিরলাম।
মাধবীলতা দরজা খুলে আমার হাতে শাড়ী দেখে আচর্য হয়ে গেলো।ওর হাতের উপর রেখে বললাম...
-তোমার পছন্দ হয়ে কি?
.
-ম্যাডাম জানলে আমাকে মেরেই ফেলবে।আমি এই শাড়ী নিতে পারবো না।আপনি এটা ফিরিয়ে আসুন..(কাজের বুয়া)
.
-তুমি কি শাড়ীটা পেয়ে খুশি হয়নি মাধু? অনেক শখ করে কিনেছি।আর কালকের জন্য আমি সত্যিই লজ্জিত, প্লিজজ আমাকে ক্ষমা করে দিও..।
(মাধবীলতার হাত দুটো শক্ত করে চেপে)
.
-সাহেবব.! হাত ছাড়ুন।বার বার হাত ধরার অভ্যাস আপনার গেলো না (কাজের বুয়া)
.
-তাহলে শাড়ীটা তুমি নিবে বলো প্লিজ।ফিরিয়ে দিও না।আমার কলেজের বেতনের টাকা দিয়ে কিনছি শুধু তোমার জন্য..।
.
-আচ্ছা সাহেব নিলাম।

মাধবীলতার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো শাড়ীটা দেখে।এর আগে এত দামি আর সুন্দর শাড়ী সে দেখিনি।
মাঝে-মাঝে ইচ্ছা জাগতো এমনটা শাড়ী কেনার।
কিন্তু মায়ের ঔষধের পিছনেই অধিকাংশ টাকা চলে যেতে।সেজন্যই তার স্বপ্ন গুলো স্বপ্নই থেকে যেত।
মাধবীলতা একটা রুমে ঢুকে প্রথমে আয়নার সামনে দাড়িয়ে ঘুড়িয়ে ফিরিয়ে দেখার চেষ্টা করছে তাকে দেখতে কেমন লাগছে।

আয়নায় হঠাৎ পুরুষ মানুষের ছাঁয়া দেখে শরীরল ঢাকার চেষ্টা করলো।দরজা কাছে গা ঘেষে দাড়িয়ে একটা ছেলে মুঁঁচমি মুচঁকি হাসি দিচ্ছে।
আজ মাধবীলতাকে সয়ং বিধাতাও বাঁচাতে পারবে না বুঝতে বাঁকি নেই।
মাধবীলতা থমকে গিয়ে বলে....
??
-সাহেব আপনি এখানে কেন? (কাজের বুয়া)
.
বিছানার উপর বসে মিটিমিটি হাসতে হাসতে।
-বাহ্.রে! পুরো বাসাটাই তো আমার।ভবিষ্যৎ মালিক।আমি নিজের বাসার রুমে ঢুকলে সমস্যা থাকার কথা না..।
.
-আপনি ইচ্ছা করেই এই রুমে ঢুকেছেন আমার উলঙ্গ দেহ দেখতে।কারণ আপনি আগে থেকেই জানতেন আমি কাপড় বদলাবো (কাজের বুয়া)
.
-তো? তো কি হয়েছে? ইচ্ছা করেই এসেছি কি করব কর?
.
-ম্যাডামকে বলে দিবো আপনার নোংরা কাজের ঘটনা।আমার কাপড় বদলানো দেখেছেন, সিগারেট খেতে পারেন সেটাও বলে দিবো (কাজের বুয়া)
(মাধবীলতা ভয় দেখার চেষ্টা করে কিন্তু সে নিজেই ভয়ে আধমরা অবস্থা)
.
একটু একটু করে এগিয়ে যায়।
ভয়ে পা পিছিয়ে যাচ্ছে আর বলছে "সাহেব আর একটি পাও বারাবেন না সামনে, নয়তো আমি"
মাধবীলতা চিৎকার করার কথাটা বলতে চায়।
চিৎকার করেই বা কি লাভ, বাসার বাইরে তো টু-শব্দও যায় না।

নিরব চোখে মাধবীলতা চোখের পানি ফেলছে।আজ তার দেহটা দিয়েই দিতে হবে তাছাড়া উপায় নেই।
দেওয়ালের শেষ দিকে এসে ঠেকে যায়।
চোখের সামনে ঠোঁট দুটো কাঁপছে।
নিজের নিচের ঠোঁট কামরে ধরে ধরে মাধবীলতার গালে হাতের আঙ্গুল ছুঁয়ে দিচ্ছে।
?
গলার কাছে এসে আঙ্গুল থেমে যায়।
গলায় অসংখ্য চুমুতে ভড়িয়ে দিচ্ছে।মাধবীলতা গলা কাটা মুরগির মতো ছটফট করে যাচ্ছে।
ধাক্কা দিয়ে সরানোর চেষ্টা করেও পারছেনা।

আরো শক্ত করে ধরছে তাকে।চোখের জলে পিঠ ভিজে যাচ্ছে।
ঠোঁটের উপর ঠোঁট চেপে ধরলো।নিঃশ্বাস ভাড়ি হচ্ছে ক্রমোশ, মাধবীলতার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।ঠোঁট কামরে রুক্ত বের হয়ে গেছে কিন্তু ছাড়ার নাম গন্ধ নেই।
পিঠের পিছনে হাত শক্ত করে চেপে ধরে, ব্যাথায় বলে উঠে "লাগছে হাতে"।
?
বিছানায় ফেলে দেয়।অনুরোধের কণ্ঠে বলে "ছোট সাহেব এমন করবেন না, আমার খুব ভয় করছে।কোনো কথা শুনলো না দুটি হাতে এগিয়ে যাচ্ছে।
ঝাপিয়ে পরে মাধবীলতার উপর।

প্রায় ৩ ঘন্টা পর মাধবীলতা মুক্তি পায়।
ছোট সাহেবের দিকে তাকালো এখন সে ঘুমাচ্ছে।
ঘুমন্ত অবস্থায় কতটা নিষ্পাপ লাগছে।কিন্তু বাস্তবে যে জানোয়ার রূপি একটা মানুষ কেউ বুঝতেও পারবেনা।
কাপড় গুলো এলোমেলো হয়ে পরে আছে।
দু'হাতে জোরিয়ে নিয়ে ব্যাথা শরীরল নিয়েই বাথরুমের দিকে পা বারালো।দেওয়ালের সঙ্গে গায়ে লাগিয়ে দিয়ে বসে আছে।
?
মনে মনে বিধাতার কাছে খুব করে নালিশ করলো।সে তার কান্নার্থ চিৎকার শুনতে পায়না।
গরিব বলেই কি কষ্টের পাহাড় দিয়ে দেবে তার ঘাড়ে?
চিৎকার করে কান্না করছে কিন্তু গলা বেয়ে একটা শব্দও বের করতে পারছেনা।নিরবেই জল ফেলতে লাগলো।
পুরাতণ কাপড়টা পরে তোয়ালে দিয়ে ভেজা চুলে খোঁপা বেঁধে ছোট সাহেবের কাছে দাড়ায়।
ধাক্কা দিয়ে বলে....
?
-সাহেব উঠুন বিকেল গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেছে" (কাজের বুয়া)
.
-উঁম কিছু বলবে?
.
-সাহেব আপনার দেওয়া শাড়ীটা ফিরেনিন।আমি এটা রাখতে চাইনা।নিজেকে কলঙ্কিত মনে হবে..(কাজের বুয়া)
.
-রাখো না প্লিজ।এটা উপহার ছিলো বু্ঝলে?
.
-না, সাহেব এমন উপহার আমি চাইনা..(কাজের বুয়া)
শাড়ীটা বিছানার এক কোণে রেখে যাচ্ছিলো তখনই হাত টেনে ধরা অনুভব করে হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে...
-সাহেব এবার তো ছেড়ে দিন(কাজের বুয়া)
.
এক টানে বুকে জোরিয়ে নিয়ে বলে।
-গোসল করার পর তোমাকে আরো বেশি সুন্দর লাগে।খুব আদর করতে ইচ্ছা করছে তোমাকে..!
.
মাধবীলতা এক মনে ভেবে যাচ্ছে।তখন আবার বলে..
?
-কি ভাবছো? তোমার চরিত্রে দাঁগ লাগানোর কথা? বিয়ে করব তোমাকে আমি প্রমিস।আম্মু আসলেই তোমার আমার বিয়ের কথা বলব।এই বাসার রাণী করে রাখবো।এবার একটু হাসো..?
.
মাধবীলতা এক গাল হেসে দিয়ে বুকে মাথা লুকালো।
পরম যত্নে বুকে জোরিয়ে ধরে তাকে!
.
-চলবে...???
-বিয়ে কিন্তু সত্যিই হবে।তবে..? থাক পরে না হয় সেটা লেখে বলব :) ভালো না লাগলে ইগনোর করুন।
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label