নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

❤💓গল্প - "ভালবাসার মিষ্টি খুনসুটি"💓❤Valobasar Golpo Misti Khunchuti


❤💓গল্প - "ভালবাসার মিষ্টি খুনসুটি"💓❤Valobasar Golpo Misti Khunchuti
❤❤❤💓💓লেখাঃ(মুন্না)💓💓❤❤❤
.
শুক্রবার রাত ১০ টা।
রাতের খাবার মনোযোগ দিয়ে খাচ্ছি।
হোটেল থেকে খাবার কিনে এনেছি। মামার
দোকানের ভুনাখিচুড়ি আর মুরগির মাংস। আহ!
কি টেস্ট!
আমি মনোযোগ সহকারে পরম তৃপ্তিতে খেয়ে
যাচ্ছি। আর ওদিকে আমার স্ত্রী রাত্রি ব্যাগ
গোছাচ্ছে।
- "না! এভাবে আর সহ্য হয় না। এই মানুষটার
সাথে আমি আর থাকবো না। যেদিকে দু চোখ
যায় চলে যাব আমি।"
জোরে জোরে চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে কথাগুলো
বলছে রাত্রি।
আমার কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। আপন মনে চোখ
বুজে পরম তৃপ্তিতে মুরগির ঠ্যাং টা চিবিয়ে
যাচ্ছি। যতই চিল্লিয়ে বলুক না কেন ম্যাডাম
যে যেদিকে দু চোখ যায় চলে যাব, আসলে ও
যে কত দূর যেতে পারবে তা আমার ভালো
করেই জানা আছে। গেলে ঐ ওর বাপের বাড়ি
অবধিই ওর দৌড়। তাও যাবে কিনা সন্দেহ!
কথায় আছে না? মোল্লার দৌড় মসজিদ অবধি।।
- "কালকেই ওর সাথে ডিভোর্স করবো। এরকম
একটা মানুষের সাথে কি থাকা যায়! ছিঃ! কি
যে পাপ করেছিলাম আগের জন্মে নাহলে
এরকম ভাদাইম্মা ছেলে আমার জুটে!" গলার
ভয়েজ টা রীতিমত বেড়ে চলেছে। আমি কোন
রকম কান দিচ্ছি না তাতে। কারণ দিয়েও লাভ
নাই। মেয়ে মানুষের সাথে ঝগড়া করার চেয়ে
হিংস্র সিংহের হাতে প্রাণ দেওয়াও সহজ।
খাওয়া শেষ করে পরম তৃপ্তিতে একটা ঢেকুর
তুললাম। রান্নাঘরে প্লেট টা রেখে রুমের
ভিতরে যাই। বউকে ব্যাগ গোছাতে সাহায্য
করি। এত কাপড় চোপড়, কসমেটিকস্, বেচারি
একা এত পারবে না। যাই তাহলে। . - "সব গোছগাছ কমপ্লিট
তোমার? ঠিক মতন
সবকিছু নিয়েছ কিনা দেখে নাও। কিছু ফেলো
যেয়ো না আবার। যেন ওটা ফেরত নেওয়ার
জন্য আবার না আসতে হয়।" ক্ষিপ্র দৃষ্টিতে
চোখ বড় বড় করে তাকালো রাত্রি আমার
দিকে। কিছু বললো না। আমি মোবাইলটা
হাতে নিলাম। ফেসবুকে ঢুকে একটা স্ট্যাটাস
দিলাম।
"Feeling Great! বউ চলে যাচ্ছে আজ। কাল সকালে
ডিভোর্স। "
স্ট্যাটাস টা দিয়েই ফেসবুক থেকে বেড়িয়ে
আসলাম।
- "বউ, কোন সাহায্য লাগলে বলো। ব্যাগ
গোছাতে সাহায্য করবো?"
- "কোনো দরকার নাই সেটার। আমি একাই
পারবো সেটা। তুমি কষ্ট করে একটা উপকার
করো। খালি কালকে ডিভোর্স টা অন্ততো
দিয়ে দিও আমায়। মুক্তি চাই আমি।" - "ওকে
বউ।"
ভুবন ভুলানো এক হাসি উপহার দিয়ে উত্তর
দিলাম।
.
রাত ১১ টা ১০ মিনিট। বিছানাতে চুপচাপ শুয়ে
আছি। আর আমার বউ জানালার পাশে চুপচাপ
দাঁড়িয়ে আছে। ভীষণ রেগে আছে। মেয়ে হিসেবে
অনেক ভালো। খালি রাগ টা
একটু বেশি। আমার মতন এক অগোছালো, মনভোলা
ছেলেকে যে কিভাবে আপন করে
নিয়েছে তা আমার কাছে অজানা। এত রেগে
থাকতো না মেয়েটা। দোষটা আমারই। আসলে
বললাম না, আমি একটু মনভোলা স্বভাবের।
আজকে একটি বিশেষ দিন ছিল। আমাদের
তৃতীয় বিবাহবার্ষিকী। কিন্তু আমি বেমালুম
ভুলে গিয়েছিলাম। এই জন্যই মেয়েটা রেগে
আছে। মনে মনে ভীষণ অনুতপ্ত। কিন্তু প্রকাশ
করছি না। আমার স্বভাবই এমন। কিছুটা বদমাইশ
ও আছি। বউয়ের সাথে ১৫ মিনিট পর পর ঝগড়া
না করলে ভাল লাগে না। ওকে রাগাতে খুব
ভাল লাগে। কিউট মেয়ে তো খুব, তাই! কিন্তু
২৫ মিনিট হয়ে গেলো। এখনো কোন ঝগড়া হলো
না! উমমম.. কি করা যায়! কি করা যায়! Yess!! আইডিয়া!
.
আমার অফিসের এক মেয়ে কলিগ আছে। নাম
শেফালী। অবিবাহিত। ভাল বন্ধুত্ব আমাদের।
আমাকে নিজের ভাইয়ের মতন শ্রদ্ধা করে।
কিন্তু রাত্রি ওকে একদমই সহ্য করতে পারে না।
ওকে দেখলেই ৪৪০ ভোল্টেজ পাওয়ারে জ্বলে
উঠে।
ফোন টা হাতে নিলাম। ভান করছি যে কাউকে
ফোন করছি। আসলে কাউকেই ফোন করছি না।
সবই বউকে রাগানোর চেষ্টা।
- "হ্যালো শেফালী!
আরে কি খবর?
কেমন আছো?
আমাকে তো ভুলেই গেলা!!"
আমি যখন কথা বলছিলাম, I mean ফোনে কথা
বলার অভিনয় করছিলাম, তখন আড়চোখে ওর
দিকে তাকাচ্ছিলাম। জোরে জোরে শ্বাস
নিচ্ছে। ধীরে ধীরে রাগের তাপমাত্রা টা
বাড়ছে ওর। আমার তো কাজ ঐ একটাই। আগুনের
উপরে পেট্রোল ঢালা।
- "শেফালী। কালকে অফিস ছুটির শেষে তুমি
আর আমি রেস্টুরেন্টে ডিনার করবো একসাথে।
ওকে??
রাখি তাহলে, গুড নাইট।"
ফোন টা সবেমাত্র কান থেকে নামালাম। -
"এইইইইইইই!"
রাত্রির ভয়ানক এক চিৎকার।
- "তুমি কাল ঐ মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাবা
বললা?"
- "কেন তুমি শুনো নাই! বয়ড়া নাকি! বললাম না
রেস্টুরেন্টে যাব।
- "রেস্টুরেন্টে যাবা, নাহ??" ঝড়ের গতিতে
জানালার কাছ থেকে এসে বিছানার সামনে
দাঁড়ালো।
- "ঐ মেয়ের সাথে এত কিসের পিরীত, হ্যা?" -
"তুমি আমার সাথে পিরীত করো না দেখে কি
বাইরের মেয়েরাও পিরীত করতে পারবে না?" -
"না পারবে না। তুমি আমার জামাই। অন্য কোন
মেয়ের না।"
- "কে তোমার জামাই! কালই তো ডিভোর্স
হয়ে যাচ্ছে তোমার সাথে।"
- "হ্যা, তুমি তো এটাই চাও। তাহলে ঐ মেয়ে
কে নিয়ে ঘুরতে পারবে তাই না? আমি
জীবনেও সেটা হতে দিব না। কোথাও যাবো
না আমি।"
- "তা যাবা কেন? আছো তো খালি আমাকে
জ্বালানোর জন্যই।"
- "বেশ করছি জ্বালাচ্ছি। আমি যদি জ্বলি
তাহলে তোমাকেও জ্বালাবো।"
- "হ্যা, আর কত জ্বালাবা! জ্বালাতে জ্বালাতে তো গায়ের চামড়া
সাদা থেকে
কালো হয়ে গেছে।"
- "ভাল হয়েছে। আরো কালো বানাবো তোকে।
যাতে কোন মেয়ে তোর দিকে না তাকায়।" -
"ধুর! তোমার সাথে কথা বলাই ঠিক না। ঘুম
পেয়েছে সরো তো।
- "হ্যা, আমার সাথে তো কথা বলতে ভাল
লাগবেই না। শেফালীর সাথে কথা বলতে খুব
মজা লাগে তো না? দাঁড়াও, ব্যাগ থেকে
কাপড় গুলো নামিয়ে নিই তারপর ঘুম ছুটাচ্ছি
তোমার আজকে।"
কোমরে শাড়ির আচল টা গুঁজে ব্যাগ থেকে
কাপড় গুলো নামানোর জন্য লেগে পড়লো
রাত্রি। একটু পরেই শুরু হবে মিষ্টি ভালবাসার
সুপার লড়াই। আমি প্রস্তুত!
.
রাত ৩টা ৩০ মিনিট।
সুপার হাইভোল্টেজের ঝগড়া শেষে আমার
বুকে মাথা দিয়ে ঘুমাচ্ছে রাত্রি। এই তিনবছরের মধ্যে কতবার
যে বললো যে আমাকে ডিভোর্স দিবে, ছেড়ে দিবে,
থাকবে
না আমার সাথে। কিন্তু দিন শেষে আমার
বুকেতেই এসে আশ্রয় নেয়। ফেসবুকে ঢুকলাম
একটু। স্ট্যাটাস টাতে অনেকের লাইক এসেছে।
কমেন্ট এসেছে আরো বেশি। তার মধ্যে একটি
কমেন্ট চোখে পড়েছে।
- "Feeling Great তাই না? কি ভেবেছো? ডিভোর্স দিবো
তোমাকে আর তুমি অন্য
কারো হয়ে যাবা? কোনদিনও না। তুমি শুধু
আমার। আমারই থাকবে। বুঝেছো?" মুচকি হাসি
দিলাম একটা। মোবাইলটা পাশে রেখে শক্ত
করে জড়িয়ে ধরলাম ওকে। কমেন্ট টা কে আর
করবে?
আমার বউ ই করেছে। আমার মিষ্টি পাগলী বউ
টা।
❤💓💓❤★★সমাপ্ত★★❤💓💓❤
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label