নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

গল্প মায়া মায়া Valobasar Golpo Maya

মায়া
Valobasar Golpo  Maya
     পর্ব১
জাকিয়া সুলতানা রাফিকা

কড়া রোদের মধ্যে দিয়ে তিথির হাটছে আর ভাবছে সে কোথায় যাবে তার তো যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই। বাবা মা থাকলে তো তাদের কাছে যেত কিন্তু আল্লাহ তো আর সবার ভাগ্যে বাবা মা লিখে না।  আমার ভাগ্যেও লিখেনি।

  তার মনে আছে তাদের গাড়ি  এক্সিডেন্ট  হয়েছিলো।তাকে তার বাবা মা শক্ত করে ধরে রেখেছে যাতে তিথির কিছু না হয়। পরে যখন সে বাবা মার কথা যানতে যায় তখন সে অনাথ হয়ে গিয়েছে আর চাচারা সম্পতির লোভে তিথিকে অনাথ আশ্রম  রেখে যায়। সে কি তার বাড়ি যাবে? গেলোও কি তাকে ডুকতে দিবে?? না আর ভাবতে পারছিনা মাথাটা প্রচন্ড ব্যাথা করছে বসতে হবে কোথায় আর হাটতে পারছিনা। ভাবতে ভাবতে হঠাৎ একটা গাড়ি এছে তাকে ধাক্কা দিল। ধাক্কার সাথে সাথে অজ্ঞান  হয়ে রাস্তায় পরে যায়।

লোকটি গাড়ি থেকে বের হয়ে দেখে মেয়েটি অজ্ঞান  হয়ে গেছে।  লোকটি না চাইতেও  বাধ্য হয়ে তিথিকে গাড়িতে করে বাড়ি নিয়ে যায়।

কলিং বেল শব্দ পেয়ে আকাশের মা (মিসেস আখি রায়)  দরজাটা খুলে দেন। তিনি বলেন :এই মেয়ে কে বাবা,কি হয়েছে।
আকাশ : ওনার  এক্সিডেন্ট হয়েছে আমার গাড়ির সাথে জাস্ট অজ্ঞান  হয়ে গিয়েছে।
আখি রায়(মা): ওহ!
আকাশ: আমি ওনাকে অনুর ঘরে রাখতে যাচ্ছি তুমিও আছো।

তিথি  চোখ মেলে দেখি মধ্য বয়সী একজন মহিলা তার মাথার কাছে বসে আসে।
আখি রায় বললেন,
কিছু লাগবে মা ? শরীর খারাপ লাগছে তোমার? 
তিথির চোখ ছলছল করছে কারন তার মার পরে কেউ এতে আদর করে কথা বলছে।
আখি রায়: আসো  আমি তোমায় খাইয়ে দি কেমন।
তিথি :আন্টি ! 
আখি রায় : কিছু বলবে মা?
তিথি : আপনি তে আমাকে চিনেন না।  তাহলে এতো আদর করে মা ডেকে কথা বলছেন?
 আখি রায় : বা রে তুমি তো আমার মেয়ের মতো। আচ্ছা তোমার নাম তো জানা হলো না মা।  বলো তো কি নাম।
তিথি: তিথি।
আখি রায় :মিষ্টি নাম!  একদম তোমার মতো।আচ্ছা তোমার বাসার   এড্রেসটা আর নাম্বার  দেও তোমার বাসাই বলতে হবে তো।
তিথি: আন্টি!  আমার কেউ নেই। থাকার জায়গাও নেই
আখি রায় : ওহ!  মা কিছু মনে করো না আমি তো যানতাম না।  তুমি বসো আমি এখুনি আসছি কেমন।

তিথি রুমটা খুটিয়ে দেখলো এটা একটা মেয়ের রুম যার এক পাশের দেয়ালে মেয়েটার একটা  বড় ছবি টানানো  আর এক পাশে মা  ভাই আর মেয়েটার ছবি। দেখেই  মনটা খারাপ হয়ে গেলো।

 আখি রায় বললেন,
   ও আমার ছোট মেয়ে আনু।
কাছে আয় খাইয়ে দি আর গল্প করি।
বলতো  তিথি  তুই আমার ছেলের গাড়ির সামনে পড়লি কেমন করে
তিথি: আসলে আন্টি রাস্তায় অনেক রোদ ছিল আর না খায়ে ছিলাম তাই মাথা ঘুরে  পরে গিয়েছি।

 আচ্ছা আন্টি  আমি এখন যাই আপনাদের অনেক কষ্ট দিলাম মাফ করে দিবেন।
আখি রায়: এই মেয়ে কি বললি?  কোথায় যাবি?হুম তুই এখানে থাকবি বুঝলি।
তিথি: কিন্তু!  আন্টি?
আখি রায় : কোনো কিন্তু নয়। আমি আকাশ কে পাঠাচ্ছি কেমন কথা বল।

তিথি: যে আমাকে নিয়ে  আচ্ছে তার নাম আকাশ?
আকাশ: আসতে পাড়ি?
তিথি: ছি ছি  অনুমতি নিচ্ছেন কেনো এটা তো আপনার বাড়ি।
আকাশ: তাও!  আচ্ছা আপনি কি করেন?
তিথি : আমি অনার্স  ৪র্থ  বর্ষ পরছি আর টিউশনি করি। এই আর কি।
আকাশ: আচ্ছা!  বাকি কথা আম্মু বলে দিয়েছে।

     একটু পর অনু আসবে। চলুন নিচে যায় আম্মু আছে কথা বলবেন।
 তিথি: চলুন।
    নিচে নামছে আর ওমনি কে যেনো জরিয়ে ধরল।
অনু: আপুপুপু! তুমি তিথি আপু তাইনা আম্মু বলেছে এটাও বলেছে তুমি আমাদের সাথে থাকবে।  কি মজা  আমরা অনেক গল্প করবে কেমন।
আখি রায়: পাজি মেয়ে যা  ফ্রেস হো যা।
অনু: যাসছি  তো।

চলবে...
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label