নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

গল্পঃ চাঁদ সুন্দরী (সপ্তম পর্ব) Valobasar Golpo Chad Sundori

গল্পঃ চাঁদ সুন্দরী (সপ্তম পর্ব)
Valobasar Golpo Chad Sundori
লেখকঃনিয়াজ
আনিকা জুঁইকে নিয়ে এক সাইটে একটা টেবিলে বসে।পাশের টেবিলে থাকা দুইটা ছেলে তাদের দিকে তাকাচ্ছে আর কিছু বলছে।জুঁই আনিকাকে বলে,,,,

-এখানে ফ্যান নাই।তবুও কি সুন্দর ঠাণ্ডা বাতাস।
-আস্তে বলো।কেউ শোনলে তোমাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে।
-কেন?
-কারণ এখানে এসি আছে।তাই এমন ঠাণ্ডা।
-অহ!কোথায় এসিটা রাখছে বলোতো?আমি একটু দেখবো।আমিতো আগে কখনও দেখি নি।
-বাসায় গিয়ে দেখাবো।আমাদের বাসায় আছে।তুমি বসো আমি একটু ওয়াশরুম থেকে আসি।
-আচ্ছা।আনিকা জুঁইকে রেখে ওয়াশরুমে চলে যায়।জুঁই বসে এদিক সেদিক দেখতে থাকে।হঠাৎ পাশের চেয়ার থেকে একটা ছেলে উঠে এসে বলে,,,
-হাই,,,জুঁই ছেলেটার দিকে নজর দিয়ে দেখতে থাকে।ছেলেটার থুতনিতে অল্প দাড়ি।আর নাকের নিচে একটা গোঁফ।গোঁফটা এমন ভাবে রাখা দেখলে তেলাপোকার মতো লাগছে।দুই গালে একটুকুও দাড়ি নেই।চুলগুলো কদমফুলের মতো।কি রকম অদ্ভুত দেখাচ্ছে ছেলেটাকে।দেখলেই বমি আসে।কি বিশ্রী সাজপোশাক। প্যান্টটাও ছেড়া।জুঁই বলে,,,
-আমাকে কিছু বলছেন?
-ইয়েস সুন্দরী।তোমাকেই বলছি।তুমি ছাড়া এখানে আর কেউ আছে?ছেলেটার কথা বলার ভঙ্গিটা জুঁইয়ের একদম পছন্দ হয়নি।এই রকম বাদর টাইপের ছেলের সাথে তার একদম কথা বলতে ইচ্ছে করছে না।কথাবার্তা চালচলন কেমন গুণ্ডাদের মতো।জুঁই পেছন ফিরে দেখে আনিকা আসছে কিনা।কিন্তু আনিকাকে কোথাও দেখতে পাচ্ছে না।আর এই ছেলেটাকেও তার খুব ভয় করছে।ভেতরে কাঁপতে শুরু করেছে।ছেলেটা জুঁইয়ের সামনে একটা চেয়ার টেনে বসে বলে,,,
-সুন্দরী,তোমার নাম কি?জুঁই ভয়ে ভয়ে বলে,,,,
-জুঁই।
-বাহ! নামটা তোমার মতো সুন্দর।কোথায় থাকো?
-.............
-কি হলো?কথা বলছো না কেন?কোথায় থাকো?বাসা কোথায়??কোথায় পড়াশোনা করো?
-..............
-তুমি এতো সুন্দর কেন?আমি তোমার মতো এতো সুন্দরী মেয়ে একটাও দেখি নি।তোমার মোবাইল নাম্বারটা একটু দেওয়া যাবে???
-আমার মোবাইল নাই।
-বলে কি?এখনও এমন মানুষ আছে নাকি যার কাছে মোবাইল নাই?ঠিক আছে,আমি তোমাকে একটা মোবাইল কিনে দিবো।আগে বলো তোমার বাসা কোথায়??
-আপনি আমাকে মোবাইল কিনে দিবেন কেন?আমিতো আপনাকে চিনি না।আর আমি আপনার দেওয়া মোবাইল নিবোই বা কেন??
-চিনতে কতক্ষণ? আমাকে তোমার বন্ধু বানিয়ে নাও।তাহলেই তো হয়।কথা গুলো বলে ছেলেটা জুঁইয়ের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়।জুঁই চেয়ার থেকে উঠে এদিক সেদিক আনিকাকে খোঁজতে থাকে।ছেলেটা জুঁইয়ের সামনে এসে বলে,,,,,,
-কি হলো হাত মেলাও?
-আমি আপনার সাথে হাত মেলাবো না।
-কেন?
-এমনি।আমার ইচ্ছা।জুঁই সেখান থেকে চলে যেতে নিলে ছেলেটা জুঁইয়ের হাত চেপে ধরে।জুঁইয়ের প্রায় কান্না করার মতো অবস্থা। জুঁই ছেলেটার থেকে হাত ছাড়ানোর জন্য চেষ্টা করতে থাকে।কিন্তু কিছুতেই বাদর ছেলে হাতটা ছাড়তে চাইছে না।জুঁই আর কোনো উপায় না দেখে ছেলেটার হাতে জোরে এক কামড় বসিয়ে দেয়।এতে ছেলেটা জুঁইয়ের হাত ছেড়ে দেয়।জুঁই সেখানে আর এক মুহূর্তও না দাঁড়িয়ে দৌঁড়াতে শুরু করে।জুঁইয়ের দৌঁড়ের গতি এতোটাই বেশি ছিল যে গেইটের কাছাকাছি গিয়ে কারো সাথে ধাক্কা লেগে একদম ফ্লোরে পড়ে যায়।
-আম্মাগো,,,বলে জুঁই চিৎকার করে উঠে।পেছনে তাকিয়ে দেখে ছেলেটাও তার পেছন পেছন আসছে।সামনে তাকিয়ে দেখে পরাগ তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।জুঁই এক লাফে নিচে থেকে উঠে পরাগের পিছনে গিয়ে হাত দুটি সামনে এনে পরাগের শার্ট কামছে ধরে।পরাগের পিঠে তার গাল লাগিয়ে চোখ দুটি বন্ধ করে ফেলে।পরাগ বলে,,,,,,,
-কি হচ্ছে কি?এটা পাবলিক প্লেস।সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।ছাড়ো।পরাগ জুঁইয়ের হাত দুটি ছাড়ানোর চেষ্টা করলে জুঁই আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।জুঁইয়ের সারা শরীর কাঁপছিল।ভয়ে কোঁকড়ে গিয়েছিল।জুঁই ভারী কণ্ঠে বলে,,,,,
-প্লীজ,আমাকে বাঁচান।প্লীজ প্লীজ।পরাগ জুঁইয়ের কাঁপুনি ঠের পেয়েছিল।পরাগ সামনে তাকিয়ে দেখে একটা ছেলে তার থেকে কিছুটা ডিসটেন্সে দাঁড়িয়ে আছে।পরাগের আর বুঝতে বাকি রইলো না কেন জুঁই এভাবে দৌঁড়ে আসছিল।নিশ্চয় এই ছেলে জুঁইয়ের সাথে কিছু করেছে।রাগে পরাগের চোখ দুটি লাল হয়ে যায়।সে ছেলেটার দিকে আগুনের দৃষ্টিতে তাকায়।ছেলেটা আর কিছু না বলে চলে যায়।পরাগ অনেক কষ্টে নিজেকে শান্ত করলো।জুঁই যদি তাকে এভাবে ধরে না রাখতো তাহলে আজ এই ছেলেটাকে মেরে শেষ করে দিতো।কতো বড় সাহস তার,,,,,,,পরাগ আস্তে করে বলে,,,
-এবার ছাড়ো।ছেলেটা চলে গেছে।পরাগের কথা শোনে জুঁই চোখ মেলে তাকায়।পরাগের এক সাইট দিয়ে মুখটা একটু বের করে দেখে সত্যি ছেলেটা নাই।তারপর পরাগের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখে পরাগ তার দিকে চেয়ে আছে।জুঁই পরাগকে ছেড়ে দিয়ে পরাগের পাশে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে।পরাগ বলে,,,,
-এতো জোরে কেউ দৌঁড় দেয়?
-আমি জোরে দৌঁড় দেই নি।আস্তে করে দিয়েছিলাম।কিন্তু পা গুলো শুধু সামনের দিকেই যাচ্ছিল। আমি অনেক চেষ্টা করেছিলান দাঁড়াতে।কিন্তু পারছিলাম না।এখন আমি কি করবো?জুঁইয়ের কথা শোনে পরাগের একটু হাসি পেলো।তবুও সে হাসিটা চেপে রাখলো।মেয়েটা হঠাৎ করে এসে পড়লো।নিশ্চয় ব্যথা পেয়েছে। এই অবস্থায় হাসা নিতান্ত বোকামি।
-এতো জোরে আছাড় খেলে,ব্যথা পাও নি?
-নাহ,
-বলো কি?এভাবে আছাড় খেলে তো হাত পা ভেঙ্গে যাওয়ার কথা।চলো ডাক্তার দেখাই।পরে আবার প্রবলেম না হয়।
-না না।ডাক্তার লাগবে না।আমার কিছু হবে না।আমার এভাবে ধোমধাম করে আছাড় খাওয়ার অভ্যাস আছে।জুঁইয়ের কথা শোনে পরাগ অবাক হয়ে বলে,,,
-মানে??
-ছোট বেলায় কতো আছাড় খেতাম।গাছ থেকে,বিছানা থেকে,বৃষ্টির দিনে দৌঁড়াতে গিয়ে।আমার কিছু হয়নি।আমার হাড় অনেক শক্ত,মজবুত।জুঁইয়ের কথা শোনে পরাগ হাসবে না কাঁদবে বোঝতে পারলো না।শুধু আবুলের মতো জুঁইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।আনিকা ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে টেবিলের কাছে এসে দেখে জুঁই নাই।আনিকার এপাশ ওপাশ তাকিয়ে দেখে দরজার কাছে জুঁই আর পরাগ দাঁড়িয়ে আছে।আনিকা তাদের দিকে এগিয়ে এসে বলে,,,,,
-আমি তোমাকে ওখানে খোঁজছি।তুমি এখানে কি করছো?জুঁই আনিকার কাছে এসে বলে,,,,
-তুমি চলে যাওয়ার পর একটা ছেলে আমাকে ডিস্টার্ব করছিল।
-কি বলো?কোন ছেলে?কি বলে??
-চল আগে গিয়ে বসি।পরে শোনবি সব।
-হ্যাঁ চলো।পরাগ জুঁই আর আনিকা গিয়ে একটা টেবিলে বসে।ওয়েটার আসলে পরাগ খাবার অর্ডার করে।এর মাঝে আনিকা জুঁইয়ের কাছ থেকে সবটা বিষয় শোনে।পরাগের রাগ লাগছিল সব শোনে।সত্যি সত্যি ইচ্ছে করছে ঐ ছেলেটাকে খোঁজে বের করে পিটাতে।পরাগ একটু কঠিন গলায় আনিকাকে বলে,,,,
-তুই ওকে একা রেখে গেলি কেন??
-আমি কি জানতাম এমন হবে?তাছাড়া এতক্ষণ মার্কেটে ঘুরার কারণে খারাপ লাগছিল।তাই একটু ফ্রেশ হতে গিয়েছিলাম।
-তুই ওকে সাথে নিয়ে গেলেই পারতি।এখন আমি যদি ঠিক সময় না আসতাম তাহলে ও নিশ্চয় দৌঁড়ে বাইরে বের হয়ে যেতো।এই শহরের কিছুই তো চিনে না।কোথায় থেকে কোথায় চলে যেতো।বা ঐ ছেলেটা কিছু অসভ্যতামী করতো।জুঁই তাকিয়ে বারবার আনিকা আর পরাগের মুখ দেখছিল।পরাগ একটু রেগেই কথা বলছিল।আনিকার মুখটাও কালো হয়ে গিয়েছিল।জুঁইয়ের খারাপ লাগছিল।তার জন্য দুই ভাইবোনের মনোমালিন্য হচ্ছে।এটা সে চায় না।জুঁই কাঁদো কাঁদো ভাব নিয়ে বলে,,,,
-প্লীজ,আনিকাকে বকবেন না।ওর কোনো দোষ নেই।পরাগ বুঝতে পারছিল,এই বুঝি ভারী বর্ষণ শুরু হবে।তাই সে আর কিছু বললো না।কিছুক্ষণ সবাই চুপচাপ বসে থাকে।শুধু জুঁইয়ের চোখ দিয়ে পানি পড়ছিল।পরাগ শান্ত গলায় বলে,,,
-তুমি কাঁদছো কেন?আর আমি আনিকাকে বকছি না।ও রেসপন্সিবলের কথা বলছি।যা হোক,আনিকা,তুই জুঁইকে ওয়াশরুমে নিয়ে যা।জুঁই ফ্রেশ হয়ে আসুক।
-ঠিক আছে।আনিকা জুঁইকে নিয়ে ওয়াশরুমে যায়।জুঁই ফ্রেশ হলে তারা আবার টেবিলের কাছে চলে আসে।তারা আসতে আসতে খাবার চলে আসে।প্রাইড রাইস অর্ডার করেছে।খাবারের পাশে একটা কাটা চামচ আর একটা টেবিল চামচ।পরাগ আর আনিকা দুই হাতে দুই চামচ নিয়ে খেতে শুরু করে দিয়েছে।জুঁই বুঝতে পারছে না এই চামচ গুলো দিয়ে কিভাবে খাবে।আর এতো সুন্দর দুইটা হাত থাকতে চামচ দিয়ে খাওয়ার কি দরকার?টিভিতে দেখতো বড়লোকরা চামচ দিয়ে খায়।কিন্তু গরীবরা হাত দিয়েই সব খায়।আর জুঁইয়ের মতে হাত দিয়ে খেতে অনেক শান্তি।আর খাবারের স্বাদও বেশি উপভোগ করা যায়।কিন্তু কি আর করা।এখানে সবাই তো চামচ দিয়েই খাচ্ছে।আনিকা চেয়ে দেখে জুঁই খাচ্ছে না।আনিকা বলে,,,
-কি হলো?খাচ্ছো না কেন?খাও,ঠাণ্ডা হলে ভালো লাগবে না।জুঁই দুইটা চামচ দুই হাতে নিয়ে চামচ গুলো ভালোভাবে দেখে। ডান হাতের চামচ দিয়ে অল্প রাইস মুখে দেয়।রাইস গুলো মুখে দিয়ে চিকেন কাটার জন্য টেবিল চামচ দিয়ে চিকেনে জোরে চাপ দিতেই চামচ স্লিপ খেয়ে প্লেটে পড়ে আর চিকেন চিটকে গিয়ে পড়ে পাশের টেবিলে বসা এক ভদ্র লোকের মাথায়!!!

চলবে------
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label