নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

চাচাতো বোনের অবহেলা valobasar Golpo Chacha to Boner Obohela

চাচাতো বোনের অবহেলা
Chacha to Boner Obohela
লেখিকা: তিশা
পর্বঃ০৩

আমি আজ আর সহ্য করতে পারলাম না।আঘাত করলাম ভালো বাসার মানুষটিকে।
আমি তিশা কে একটা ঠাসসস করে থাপ্পুর মারলাম।

তিশা আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।হয়তো ভাবছে আমার এত সাহস কোথা  থেকে পেলাম।

তিশা আমাকে বলে ওঠলো
শয়তান, লুচ্চা তুই আমার ওড়না ধরে টান দিয়েছিস কেন??

আমি তিশার কথা শুনে নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলাম।।
তিশার ওড়না টা সোপার সাথে আটকে আছে।

আমি ওড়না টা ছাড়িয়ে বললাম।
আমি এত টাই নিচ না আর আমি লুচ্চা ছেলেও না। যে তোমার ওড়না ধরে টানবো।
দেখো তোমার ওড়নাটা আটকে ছিলো।মিথ্যে ভুল তুমি খুব ভালোই বুজতে পারো।

কথা গুলো বলেই আমি চলে আসলাম।
রাতে শুয়ে আছি তামিম এসে বলল,
ভাইয়া খেতে আসো আম্মু তোমাকে ডাকছে।

আমি খেতে গেলাম।খাওয়া অবস্থায় দেখলাম তিশা আজ চুপ কিছুই বলছে না। আমি আর কথা বাড়ালাম না।

খাওয়া করে এসে ঘুমিয়ে গেলাম।
প্রতিদিন কার মতো আমার কাজ চলছিলো।তিশা বকা আর আমার সহ্য করা।


আমি একদিন তিশা কে একটা ছেলের সাথে দেখে অবাক হলো। কে এই ছেলে টা হয়তো আমি জানি না।আজ খুব হিংসে ও হচ্ছে। কি করবো।
আমি যে অনেক ভালো বাসি তিশা কে।


রাতে বাসায় ফিরলাম।চাচি মা খেতে ডাকলো কিন্তু আমি কিছুই বললাম। মনে শুধু একটা প্রশ্নের উদয় হলো যে ছেলে টা কে।


আমি আর সহ্য করতে পারলাম না।রাত দশটায় তিশার রুমে গেলাম।তিশা তখন ফোনে এসএমএস করায় ব্যস্ত।
।ক
তিশা তোমার সাথে আমারন কিছু কথা আছে।
তিশা আমার কথা শুনে বলল কি কথা আর এত রাতে তুই এখানে কেন।
আমি কিছু কথা বলতে চাই।
তাই আসছি।


কি কথা বল,
তোমার সাথে আজকে একটা ছেলেকে দেখলাম।ছেলেটা কে??

কেন? সে কে তুই জেনে কি করবি?
___  আমাকে বলো কে সে??
--- বলবো না।
____ তুমি তাকে ভালো বাসো??
_____ বাসলে বাসি তাতে তোর কি ছোটলোকের বাচ্ছা।
_<_ তিশা তুমি আমার বাবা মাকে বকা দাও কেন।
আমি শুধু জিগ্যস করেছি ছেলেটি কে।তাতেই তুমি বকা দিবা??
___ আমার রুমে এত রাতে কেন আসছিস ছোটলোকের বাচ্চা। বের হ বলছি।আরেক দিন আমার রুমে দেখলে তোকে ঘাড় থাক্কা দিয়ে বের করিয়ে দিবো।
বের হ বলছি। না হলে আমি চিৎকার করবো বলছি।


থাক তিশা আমি চলে যাচ্ছি।
আমি এসে ঘুমিয়ে গেলাম।
সকালে ওঠে আমি আমার কাজে চলে গেলাম।


রাতে আমি একটু শুয়েছিলাম।তিশা বলল
কি রে ছোটলোকের বাচ্চা শুয়ে আসিছ।তামিম কে পড়াবে?
এ তোর লজ্জা করে না। তুই আমার বাবার টাকায় খাস।
আমি হলে কবে বেরিয়ে যেতাম। তুই এখান থেকে যাস না। কেন

তোকে দেখলে আমার গা জলে।তুই চলে গেলে আমি খুব খুশি হবো তুই বাড়িতে একটা আপত মাত্র।


আমি বিছানা থেকে ওঠলাম না।আমি শুয়ে শুয়ে কান্না করছি। খুব কষ্ট হচ্ছে।
আমার তো সব কিছু ছিলো। একটা ঝর এসে সব ভেঙে গেছে।পৃথিবীতে জায়গার অভাব নেই। আমি আর এ বাসায়,থাকবো না।চলে যাবো তিশা। থাকবো না এ বাড়িতে।
তুমি তো আমাকে সহ্য করতে পারো না। আমি চলে গেলো যদি খুশি হও তো আমি চলে যাবো।

কাল সকালে চাচা কে মিথ্যে কিছু বলে হলেও চলে যাবো।
আমি আর তিশার চোখের কাটা হয়ে থাকবো না।

তারপর আমি ঘুমিয়ে গেলাম

সকালে ঘুম ভাঙ্গল।কারো কান্নার আওয়াজ শুনে।কে কান্না করছে বুজতে পারছি না।

একটু পরেই বুজতে পারলাম চাচার রুমে কান্না করছে।
আমি ওঠে তারাতারি করে গিয়ে দেখলাম। চাচা চোখ বন্ধ করে পড়ে আছে আর চাচি তিশা কান্না করছে।

আমি কিছুই বুজতে পারছি না।
আমি তিশা কে বললাম
তিশা কি হইছে চাচার। এমন কান্না করছো কেন


তিশা চুপ করো আছে আর কান্না করছে।
এ তিশা কি হইছে বলবে তো

রা রাজ আব্বু হঠাৎঅজ্ঞান হয়ে গেছে। আর কথা বলছে না।প্লিজ কিছু একটা কর??

আমি কি করবো বুজতে পারছি না

আমি অনেক কষ্টে চাচা কে কুলে তুলে নিলাম তার পর গাড়ি করে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম।


একটু পর ডক্টর এসে বলল,
ওনি হার্ট এটাক করেছেন।অনেক টাকা লাগবে। চাচি মা
আমাকে কিছু টাকার কথা বললেন।আমি তিশা কে নিয়ে
বাসা থেকে ঐ সব টাকা নিয়ে আসলাম।


আরো টাকা লাগবে তাই তিশা সহ চাচি কে হাসপাতালে রেখে আমি টাকা কালেক্ট  করতে চলে আসলাম।


অনেক চেষ্টা করে কিছু টাকা নিয়ে ফিরলাম।
চাচি মা আমাকে দেখেই বলল,
রাজ টাকা পেলি??
___ হে চাচি মা।কিছু টাকা পেয়েছি। তোমরা তো কিছু তো খাওনি বসো।আমি খাবার নিয়ে আসছি।

বলেই আমি বাইরে গিয়ে খাবার নিয়ে আসলাম।খাবার এনে তিশার হাতে দিয়ে বললাম নাও খেয়ে নাও।
তিশা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
আমি খাবো না।
আজ প্রথম তিশা কে কান্না করতে দেখলাম।

কি তিশা কান্না করছো কেন??
____ আব্বু আব্বু বলেই তিশা কান্না করে দিলো।
___ কি পাগলামি করছো। চাচা ঠিক ভালো হয়ে যাবে। নাও খেয়ে নাও।

চাচি মা কেও খাবার দিয়ে বসে রইলাম।
একটু পর তিশা এসে বলল,
রাজ তুই খাবি না??
,
,
না আমি খাবো না।আমি খেয়েছি।
তিশা আমার কথা শুনে আর কিছু বলল না। চুপ করে বসে রইলো।

একটু পর ডক্টর এসে বলল,
কোন ভয় নেই ওনি সুস্থ্য হয়ে যাবে।
চাচি মা চাচার কাছে রইল।
আমি আর তিশা বসে আছি সাথে তামিমও।
একটু পর একটা লোক এসে বলল,
আপনি বলছিলেন রক্ত দিবেন।চলেন।
তিশা কথাটা শুনে বলল
কিসের রক্ত দিবে ও।
___ আমাদের কে রক্ত দিবেন বলেছেন।
<__ রাজ এসব কি বলছে এ লোক টা?
____ আমি এ কে চিনি না তিশা। এ ভাই আপনি যান তো।।লোক টা ইশারা দিয়ে যেতে বললাম।

আর তিশা কে বললাম।
লোক টা ভুল করছে।

তিশা শান্ত হয়ে গেলো।
আসলে আমি টাকার জন্য রক্ত বিক্রি করতে চাইছিলাম।



তিনদিন পর চাচা কে ছুটি দিলো।চাচা কে নিয়ে বাসায় আসলাম।তারপর আমার কাজ গুলো আবার করতে লাগলাম।


একদিন আমি ওয়াস রুমে ছিলাম। তিশা আমার রুমে আসলো।
আরে বলাই তো হলো না তিশা আজ কাল পরির্বতন হয়ে গেছে।
আজ কাল আর বকা দেয় না।

তিশা আমার রুমে ডুকে টেবিলের ওপর একটা ডায়রি দেখতে পেলো।

তিশা কৌতুহল বশত পড়তে লাগলো।
তিশা ডায়েরিটা পরতে গিয়ে অবাক হলো
প্রতিটা পেজে তিশার অবহেলা গুলো লিখা।আর ভালোবাসি তিশা তোকে খুব।কিন্তু বলতে পারি না।


তিশা আরো পড়তে লাগলো
জানো তিশা তোমাকে আজ নদীর পারে নিয়ে বলতে চাইছিলাম I love you বাট পারলাম না বললাম ফুচকা খাওয়াবো।

জানো না তো তিশা সেদিন বিকেলে আমি আমি তোমার ওড়না টেনে ধরিনি।আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।সেদিন তোমাকে থাপ্পুর দিয়েছি। কিন্তু জানো ব্যাথাটা আমার গায়ে লেগেছে।


সেদিন ঐ ছেলেটা কে তোমার সাথে দেখে খুব হিংসে হচ্ছিলো। বাট আমি সেদিন হেরে গেললাম।কারন তুমি সেই ছেলে টাকেই তো ভালো বাসো।

তুমি তারপর যখন বললে আমি চলে গেলে খুশি হবো। সেদিন ঠিক করছিলাম আমি চলে যাবো। কিন্তু পর দিন চাচা অসুস্থ্য হয়ে গেলো।আমি যেতে পারলাম না।
আমি চাচা চাচির মাঝে আমার বাবা মার ছায়া দেখতে পাই। খুব ভালোবাসি চাচা চাচি কে। আমি সারাজীবন এ পরিবারে থাকতে চাই। কিন্তু আমাকে একদিন চলে যেতে হবে।তিশা আমাকে তুমি যতই অপমান করো আমি আমার বাবা মা কে ছেড়ে কোথাও যাবো না।আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।

তিশা ডায়েরিটা পড়ে ডুকরে কেদে ওঠলো।।


তখনি আমি ওয়াশ রুম থেকে বের হয়ে আসলাম
তিশা আমার দিকে তাকিয়ে আছে
আমি তিশার হাতে ডায়রিটা দেখে ভয় পেয়ে গেলাম।

রাজ আস্তে আস্তে তিশার সামনে আসতেই তিশা যা বলল।রাজ তা কোন দিন কল্পনাও করেনি,,,,,,
,,
,
,
,
____< to be continue.....
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label