নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

আমার_তুমি পর্ব_১ Valobasar Golpo Amar Tumi লেখিকা_Munni_Binte_Priya

আমার_তুমি
পর্ব_১
Valobasar Golpo Amar Tumi
লেখিকা_Munni_Binte_Priya
"নাভি দেখা যায় এমন শাড়ি কি না পড়লে হয়না?" এতটুকু কথা বলেই অন্যদিকে তাকালো শাদাফ।
কথাটা শুনে পরী পেছনে তাকালো শাদাফের দিকে।
- লুচ্চা ব্যাডা! মেয়ে মানুষ দেখলেই লুচ্চামি করতে মন চায়? ফালতু ছেলে জানি কোথাকার। চোখ কি কপালে নিয়ে ঘুরিস? আমি কি শাড়ি পড়েছি চোখে দেখেছিস? সুতী কাপড় পড়েছি। আমি পেট বেড় করেই শাড়ি পড়িনা আর তুই বলতেছিস নাভি দেখা যায়? আসলে এগুলা তো সব লুচ্চামি করার ধান্দা। ফাউল ছেলে যত্তসব।
কথাগুলো বলেই পরী হনহন করে চলে গেল।শাদাফ আর ওর বন্ধু রওশান হা করে তাকিয়ে আছে। রওশান বললো,
- দোস্ত! মেয়েটা কে?  কি বলেছিস ওকে তুই? এতগুলা কথা তোকে বলে গেল কেন?
- ওহ শিট! মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়ে গেছে। আমি রেখা ভেবে মেয়েটিকে কথাটা বলে ফেলেছি।
- কি বলেছিস?
- আগে বল রেখা কোথায়?
- এখানেই তো ছিল। আশেপাশেই কোথাও আছে হয়তো।
- চলতো দেখি।
.
কোথাও রেখাকে খুঁজে না পেয়ে একটা চেয়ারে বসে পড়ে শাদাফ। বেশ কিছুক্ষণ পর রেখা আসে।
- কি রে দোস্ত? বিয়ে বাড়িতে ইনজয় না করে এখানে মুখ গোমরা করে বসে আছিস কেন?
- তোর জন্যই হইছে সব রেখার বাচ্চা।
- রেগে আছিস কেন? কি হয়েছে?
-কোথায় গিয়েছিলি তুই?
- আর বলিস না। আদিল বললো,
এটা কি শাড়ি পড়েছো? সব বুঝা যাচ্ছে! মশারির মত একটা শাড়ি পড়ছো। যাও এখনি চেঞ্জ করে আসো। তাই জান্নাতের মাকে বলে এই শাড়িটা পড়ে আসলাম।
- তুই কি হলুদ শাড়ি পড়েছিলি আগে?
- হ্যাঁ কেন বলতো?
- জান্নাত বললো, তুই কি একটা শাড়ি পড়েছিস তা নিয়ে অনেকেই বাজে কমেন্ট করছে। এখানে আসার পর আমি তো তোকে দেখিনি। জান্নাত দূর থেকে দেখিয়ে দিলো। তোর কাছে যাওয়া ধরেছি এর মধ্যে রওশানের সাথে দেখা। পরে ওকে সাথে নিয়েই গেলাম। পেছন থেকে তোকে ভেবে অন্য একটি মেয়েকে বলে ফেলেছি 'নাভি দেখা যায় এমন শাড়ি না পড়লে হয়না'
- পরে?(অবাক হয়ে)
- পরে আবার কি! মেয়েটা আমাকে ইচ্ছামত বকাঝকা করে গেল।
- পাগল নাকি তুই?ভালো করে দেখবি না কাকে কি বলতেছিস? আর বলেই যখন ফেলেছিস তখন একটা স্যরি তো বলবি!
- মেয়েটা আমাকে সেই সুযোগ দিলে তো।
- মেয়েটার নাম জানিস?
- তার নাম আমি কি করে জানবো? চিনি নাকি আমি?
- আচ্ছা নেক্সট টাইম দেখা হলে স্যরি বলিস।
- সব তোর জন্য হয়েছে।
- স্যরি দোস্ত আর এমন হবে না।
.
.
শাদাফ, জান্নাত, রেখা, আদিল, রওশান এরা হলো কলেজ লাইফের ফ্রেন্ড। রেখার সাথে আদিলের সম্পর্ক ইন্টার পরীক্ষার পর থেকেই। আদিল একটা ভালো চাকরী পেলেই রেখাকে বিয়ে করে নিবে। শাদাফ আর রওশান বেষ্টফ্রেন্ড। সেই ছোটবেলা থেকে একে অপরের বন্ধু। দুজনেই এখন নিজেদের বিজনেস নিয়ে ব্যস্ত।
জান্নাতের বিয়ে উপলক্ষে আজকে ওর গায়ে হলুদে এসে হয়ে গেল এক এলাহি কাণ্ড।
.
.
গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান শেষে শাদাফ আর রওশান চলে যেতে চাইলেও জান্নাত যেতে দেয়না। জান্নাতের এক কথা,
- বিয়ে শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের বাড়িতেই থাকতে হবে।
অগত্যা শাদাফ আর রওশানও থেকে যায়।
রাত প্রায় ২টা,
সকলেই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলেও ঘুম আসছেনা শাদাফের। এই হলো শাদাফের এক সমস্যা নতুন জায়গায় কিছুতেই ঘুম আসেনা। জান্নাতদের বাসায় আজ যে প্রথম এসেছে এমন নয়। এর আগেও বহুবার এসেছে কিন্তু কখনো রাত থাকেনি। মাকে খুব মিস করছে শাদাফ। ছাদে গিয়ে মাকে ফোন করে।
- হ্যালো মা
- কি হয়েছে শাদু? এত রাতে ফোন দিলি যে? কোনো সমস্যা?
-না মা। কোনো সমস্যা নেই। আসলে তোমার কথা খুব মনে পড়ছিল তাই ফোন দিলাম।
- পাগল ছেলে। রাতে খেয়েছিস?
- হ্যাঁ। তুমি খেয়েছো?
- হুম।
- বাবা?
- সবাই খেয়েছো।
- ওষুধ খেয়েছো তো?
- হ্যাঁ বাবা।
- আচ্ছা মা এখন তাহলে ঘুমাও। আমি সকালে ফোন দিবো।
- আচ্ছা।
ফোন কেটে দিয়ে শাদাফ ছাদের একপাশে রাখা চেয়ারটায় বসে। এখন মনটা বেশ শান্ত লাগছে। মায়ের সাথে কথা বলেছে বলে কথা! এক কথায় শাদাফ ভীষণ মা ভক্ত।
ছাদে বাতাস বইছে খুব। তাই শাদাফ আর ঘরে না গিয়ে ছাদেই বসে রইলো। গান শুনতে শুনতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে কে জানে!

সকালে শাদাফের ঘুম ভাঙ্গে পানির ছিটায়। শাদাফ চোখ খুলে তাকাতেই দেখে, একটা মেয়ে কাপড় ঝাকি দিয়ে দিয়ে তারপর দড়িতে দিচ্ছে। সেই পানির ফোটাই শাদাফের মুখে গেছে। কিন্তু সেটাতে অবাক হয়নি শাদাফ।
শাদাফ মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মেয়েটির চুলের দিকে। ভেজা লম্বা চুল। চুল থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। মেয়েটার মুখ দেখতে পাচ্ছে না শাদাফ। আনমনে শাদাফ মেয়েটির চুলের দিকে তাকিয়ে ভাবছে,
- মেয়েটা কি ঠিকমত চুল ঝাড়তে পারে না? কিরকম পানি পড়ছে চুল থেকে! তবে মাশআল্লাহ্ মেয়েটার চুলের কোনো প্রশংসা হয়না। সাক্ষাত পরী একটা! যদিও এখনো পরীর মুখটা দেখতে পারিনি।

শাদাফের ঘোর কাটে একটা পিচ্চি মেয়ের ডাকে।
- পরী আপু পরী আপু।
- কিরে এভাবে চেঁচাচ্ছিস কেন?
- আমাকে সাজিয়ে দিবা না?
- এত সকালে কিসের সাজগোজ?
- বাহ্ রে! তুমি মনে হয় জানো না যে আজ জান্নাত আপুর বিয়ে।
- জানি তো! কিন্তু বিয়ে তো রাতে শুরু হবে এখন কিসের সাজ?
- ধুর তুমি কিছু বুঝো না। চলো তো আমাকে সাজিয়ে দিবা।

পরীর হাত ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে রাব্বানা। 
শাদাফ ওদের যাওয়ার পথে তাকিয়ে আছে।
-মেয়েটার নাম সিরিয়াসলি পরী! কিন্তু এই পরীটাকে কেন জানি চেনাচেনা লাগছে।
ওহ, হ্যাঁ! মনে পড়েছে। এইতো সেই মেয়ে যাকে কাল আমি রেখা ভেবেছিলাম।
রওশান ছাদে এসে শাদাফকে বলে,
- তুই এখানে? আর তোকে সারা বাড়িতে খুঁজে মরতেছি।
- আমি রাতেই এসেছি। কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম টের পাইনি।
- জানিস সিঁড়িতে না ঐ মেয়েটার সাথে দেখা হয়েছে, যে তোকে রাতে ঝাড়লো।
শাদাফ একটু কেশে বললো,
- পরী?
- মেয়েটার নাম পরী নাকি?
- সকালে ঐ স্নিগ্ধ ভেজা চুল দেখে পরীই লেগেছিল আমার কাছে। যখন ঐ স্নিগ্ধ মুখটা দেখলাম তখন মনে হলো মেয়েটা আসলেই পরী। তারপর যখন পিচ্চি মেয়েটা এসে ওকে পরী আপু বলে ডাকলো তখন মনে হলো মেয়েটা আসলেই বিশেষ কেউ!
- দোস্ত তুই কি আবার ওর প্রেমে পড়লি নাকি?
- ধুর কি বলিস! তুই তো জানিসই লম্বা চুল আমার দূর্বলতা।
- হুম বুঝি বুঝি।
- কিন্তু জানিস রওশান, রাতের পরী আর সকালের এই পরীটার মধ্যে কত্ত তফাৎ। রাতে কি রাগিণী দেখলাম আর সকালে একটা স্নিগ্ধ মায়াবিনী।
- স্বাভাবিক দোস্ত। একটা অপরিচিত মেয়েকে ঐ কথা বললে রাগ করাটাই স্বাভাবিক।
- তা ঠিক। কিন্তু মেয়েটা কে? ও কি জান্নাতের কোনো রিলেটিভ নাকি?
- জান্নাতকে জিজ্ঞেস করতে হবে।
- ধুর! জান্নাত কি ভাববে?
- ওটা নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না।আমার ওপর ছেড়ে দে। এখন চল অনেক কাজ পড়ে আছে।
- হুম চল।
.
.
ফ্রেশ হয়ে সকালের নাস্তা করে শাদাফ, রওশান আর আদিল বাড়ির অন্যান্য কাজে সাহায্য করছে। আর রেখা, আরো বান্ধবীদের নিয়ে জান্নাতের সাথে হাসি-ঠাট্টা করছে।
কিছুক্ষণ পর শাদাফ দেখতে পেল পরীকে। জান্নাতের মায়ের সাথে কাজে হেল্প করতে চাইছে পরী কিন্তু জান্নাতের মা দিচ্ছে না।
- আন্টি, আমাকে কোনো কাজে সাহায্য করতে না দিলে আমি জান্নাত আপুর বিয়েতে থাকবোনা বলে দিলাম।
- পাগল হলি তুই পরী? তুই যা জান্নাতের আরো বান্ধবীরা আছে সবার সাথে পরিচিত হ গল্প কর। ভালো লাগবে।
- আমি গুণে গুণে পাঁচটা দিন কলেজ থেকে ছুটি নিয়েছি জান্নাত আপুর বিয়েতে থাকবো বলে। আর সেখানে আমি তোমাকে হেল্প না করে শুধু ঢ্যাং ঢ্যাং করে ঘুরে বেড়াবো? এত স্বার্থপর আমি?
- দেখো তো! আমি তোকে এ কথা কখন বললাম?
- তাহলে দিচ্ছো না কেন কাজ করতে?
- আচ্ছা বেশ। আমার রুমে গিয়ে দেখবি অনেকগুলা ফুল আছে ঐ জান্নাতের রুমে একটু দিয়ে আয়।
- ব্যাস এতটুকুই?
- আগে এটা কর, পরে কাজ থাকলে আরো দিবোনি।

শাদাফ পরীর এমন আচরণ দেখে আরো একবার মুগ্ধ হয়ে যায়।
-একটা মেয়ে এত লক্ষী হতে পারে! কিন্তু কে এই মেয়েটা!
রাব্বানা ওর বয়সী ছোট ছোট বাচ্চাদের সাথে দৌড়ে বেড়াচ্ছে। শাদাফ রাব্বানাকে ডাক দিলো।
- বাবু শোনো তো।
- আমার নাম বাবু না। আমার নাম রাব্বানা।
- বাহ্! অনেক সুন্দর নাম।
- থ্যাঙ্কিউ
- পরী তোমার কি হয়?
- আমার বোন হয়।
- আপন বোন?
- হুম। আন্টির মেয়ে।
রাব্বানার কথা শুনে হাসলো শাদাফ। পকেট থেকে দুইটা চকোলেট বের করে রাব্বানার হাতে দিলো।
হঠাৎ ই শাদাফের মনে পড়লো,
- আন্টি না পরীকে ফুল নিয়ে জান্নাতের রুমে যেতে বললো? তার মানে পরী এখন জান্নাতের রুমে।
শাদাফও জান্নাতের রুমের দিকে পা বাড়ায়। জান্নাতের রুমের দরজার সামনে যেতেই জোরে ধাক্কা খায়। না, না কোনো দরজার সাথে না আর অন্য কোনো মেয়ের সাথেও না। পরীর সাথে ধাক্কা খেয়েছে। শাদাফ স্ট্রং থাকায় পড়েনি কিন্তু পরী নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে একদম ফুলের ওপর গিয়ে পড়েছে!!
- মাগো! আমার কোমড় গেল!
জান্নাত আর রেখা এসে পরীকে ধরে তুলে। পরী শাদাফের দিকে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,
- লুচ্চা ছেলে! ধাক্কা দিলি কেন?
ঘরে উপস্থিত সকলের চোখ যেন চোখের কোটর থেকে বেড়িয়ে আসতে চাইছে পরীর কথা শুনে!.........
চলবে.....
.

Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label