নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

"প্রথম দেখা " Valobasar Golpo 2 Prothom Dakha

"প্রথম দেখা "
Valobasar Golpo 2 Prothom Dakha
লেখা: কানিজ ফাতেমা
 পার্ট ৩
 গান শেষ করার সময় খেয়াল করলাম দরজার পাশে কেউ হাটছে। জানালা দিয়ে উকি দিতেই দেখি সেই ডাবল ব্যাটারি। দরজাটা খুলে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম আপনি ঘুমাননি এখনো। প্রতিউত্তরে তিনি বললেন নতুন জায়গা তাই তার একটু  পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে সময় লাগবে। কথা গুলি তিনি নিচের দিকে তাকিয়ে বলছিলেন। জিনিসটা আমার বেশ অদ্ভুত লাগে। আমি তাকে গিটারটা এনে দাওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই। এমন সময় কেউ একজন তার ফোনে কল করে আর তিনি নিচে নেমে যায়। যা ই হোক আমার সব কিছুই বেশ অদ্ভুত লাগা শুরু করে। সকাল সকাল নাস্তা করে বের হয়ে যাই। নিচে নামতেই দাড়োয়ান চাচা একটা অদ্ভুত প্রশ্ন করে যেটা শুনে বেশ  অবাক হয়ে যাই। তিনি বললেন কাল রাত কে জানি নিচে নেমে গেইটের পাশের চিপায় দাড়িয়ে অনেক্ষণ কাদছিল। তিনি লাইটের আলো নিয়ে গিয়ে দেখেছেন যে ওটা নাকি আমাদের বাসায় আসা মেহমানটা। তখন বুঝতে আমার আর বাকি ছিল না যে সেটা আকিব ছিল। কিন্তু তখন আর কোনো কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ সেখান থেকে চলে যাই আর দাড়োয়ান চাচাকে বলি সে হয়তোবা ভুল দেখেছে। অন্য কেউ ছিল হয়তো। কলেজে গিয়ে ক্লাসে ঢুকে দেখি নিশি বেশ ভালো মুডে। হয়তোবা এখন আমার ওপর তার তেমন রাগ নেই। তাই নিশির পাশে গিয়েই বসি। ক্লাস শুরু হয় ঠিকি কিন্তু কিছুতেই ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারছিলাম নাহ। কেন জানি কাল রাতের ব্যাপারটা মাথায় ঘুরাঘুরি করছিল। নিশি আমাকে এই ভাবে অন্য মনস্ক দেখে  ফাজলামি করা শুরু করে। বলে ডাবল ব্যাটারির প্রেমে পরেছি আমি তাই তার ভাবনায় মশগুল। কিন্তু আসলেই এইটা ছিল এক অন্য রকম ব্যাপার। কলেজ শেষ করে বাসায় যাই। বাসায় গিয়ে দেখি  ইতি এসেছে। ইতি আমাদের নিচতলায় থাকে। খুব মিশুক প্রকৃতির তাই জুনিয়র হলেও আমার সাথে বন্ধুর মতো কথা বলে। ইতি দেখি আকিবের সাথে বেশ আড্ডা দিচ্ছে। কিন্তু তাতে আমার কি। আমি আম্মুকে একটু  চা করে দিতে বললাম। কিন্তু আমার আম্মুর তো কমন ডায়লগ নিজের টা নিজে করে খেতে শিখ। তাই বিরক্ত হয়ে নিজেই রান্না ঘরে চলে গেলাম। সামনের রুম থেকে আম্মু জোরে আওয়াজ করে হুকুম দিল চা যেহেতু বানাচ্ছি আকিব আর ইতির জন্য ও যাতে বানাই। কথা গুলি শুনে ইচ্ছে করছিল তখন ওই ডাবল ব্যাটারির মাথায় গিয়ে বারি দিয়ে ফাটিয়ে ফেলি। আমার রুম দখল করেছে আমার আম্মুর ওপর ভাগ বসিয়েছে, আমার কথা বলার সাথী ইতিকে পটাচ্ছে। এটা মানুষ নাকি বানর। কোথায় যানি পড়েছিলাম বানরের থেকে নাকি মানুষের উতপত্তি কিন্তু কোনো দিন এতো বিলিভ করি নি। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে এই  বানর  মানুষ হয়ার যোগ্য নাহ। কথা গুলি ভাবতে ভাবতেই  ডাবল ব্যাটারি সামনে এসে হাজির। এই যে মিস ইমা চা বানাতে এতো সময় লাগে নাকি। চা বানাতে পারেন তো নাকি শুধু শুধু এখানে দাড়িয়ে কারো স্বপ্ন দেখছিলেন। কথা টা শুনে মনে চাচ্ছিল গরম গরম চা টা এর মাথায় ঢেলে দেই। মানুষ না বানর ও নাহ আস্ত একটা হনুমান। হঠাৎ আম্মু এসে পরলো। কথায় আছে না  খারাপ হলে সবই  খারাপ হয়। এটা আর কারো জন্য না আমার জন্যেই প্রযোজ্য। আমি কিছু না বলেই ছাদে চলে গেলাম দুপুরে খেতেও যাই নি নিচে। আব্বু অনেক ডাকাডাকি করে গেছিল অবশ্য কিন্তু আমার অভিমানটা যে একটু বেশিই। সন্ধার পর বেশ খিদে লাগে। তাই নিচে চলে যাই। কোনো কথা না বলে খাবার শেষ করে উঠে চলে আসবো আর ওমনেই পিছন থেকে  আমার হাতটা আকিব টেনে ধরে।
চলবে...
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label