নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

♥মামাতো বোনকে বিয়ে♥ ৫ম পর্ব Valobasar Golpo 2 Mamato bonke biye

♥মামাতো বোনকে বিয়ে♥
৫ম পর্ব
Valobasar Golpo 2 Mamato bonke biye
লেখকঃSk_Polok
অনিকা চলে গেছে অনেকক্ষণ হয়ে গেছে...আমি অই খানেই বসে ছিলাম।অনিকার চলে যাওয়া আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না..আমি অনিকাকে অনেক ভালোবাসি😭😭
প্রায় অনেকক্ষণ ধরে বসে ছিলাম।তারপর নিলার কথা মনে হলো মেয়েটা একা আছে বাসায় না জানি আবার কিছু করে বসলে...আমি সেখান থেকে তাড়াতাড়ি বের হয়ে গেলাম।
রিক্সাতে করে বাসায় আসলাম,যদিও ইচ্ছা করছিলো হেটে হেটে বাসায় আসবো কিন্তু নিলার কথা ভেবে একটু তাড়াতাড়ি এলাম।এসে দেখি ঘুমাচ্ছে আর বোতল দুইটা মেঝেতে পড়ে আছে...
আমি নিলাকে আর জাগাইলাম না।পাশের রুমে চলে গেলাম।খুব কান্না পাচ্ছে কিন্তু আপনাদের সামনে কান্না করতে পারতাছি না।।অন্য সময় কান্না করে নিমু..শুয়ে থাকতেও ভালো লাগছিলো না।আমি গিয়ে গোসল করে নিলাম।
জানিনা অনিকার কি অবস্থা মেয়েটা নিজের কোনো ক্ষতি করে দেই নাই তো??
বারবার ফোন দিচ্ছি কিন্তু ফোন বন্ধ করে রেখে দিছে।
গোসল করে বের হয়ে দেখি নিলা ঘুম থেকে উঠে গেছে...
আমাকে দেখেই
নিলাঃঅই আমি আরো খাবো আমাকে এনে দাও?
আমি;আজ আর হবে না,,আবার কালকে এনে দিবো?
নিলাঃনাহ আমি আজকেই খাবো..
আমিঃবলছি তো আজ আর হবে না..যাও এখন ফ্রেশ হয়ে আসো,,,একটু ধমকের সুরেই বললাম।
নিলা আমার কথা শুনে ফ্রেশ হতে চলে গেলো..আমি পাগল হয়ে যাবো,,একদিন নিলা অন্যদিকে অনিকা
আর আছে মামাকে দেওয়া কথা...
কেনো যে বিয়ে খেতে গেছিলাম না গেলেই অনেক ভালো হতো..অন্তত আমার আর অনিকার সম্পর্ক ঠিক থাকতো...মামার মান সম্মান গেলে আমারর কি?
আর আম্মুও কেনো অই রকম একটা কছম দিতে হবে।নিজের ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে...
কোনো আব্বু আম্মু চাইনা তার ছেলে একটা মাতালি মেয়েকে বিয়ে করুক,,কিন্তু আমার আব্বু আম্মু সব জেনেও কেনো যে বিয়ে দিলো??আর আমি একটা পিচ্চি এখনো কি আমার বিয়ের বয়স হয়েছে😭😭😭
এইসব ভাবতে ভাবতে দেখি নিলা বের
হলো..
আমিঃযাও এইবার মাথার চুল গুলো ঠিক করো যাও..
নিলাঃআমি যেমন আছি তেমনি থাকবো আমাকে পরিবর্তন করতে আসবা না।আর তোমার সাথে কেনো ভালো ব্যাবহার করছি জানো তুমি আমাকে প্রিয় জিনিস এনে দিবে তাই,,না হলে আমি এখানে তো কোনো দিন থাকতাম না।আর তোমার সাথে ভালো ব্যাবহার তো দূরে থাক কোনো কথাই বলতাম না..
আমি;সেটা তো আর এখন করতে পারছো না,,তাই যাও মাথার চুল গুলো ঠিক করে এসো আমরা খেতে বসবো..
নিলাঃআমি খাবো না,,আমার খিদে নাই..
আমি;সেটা বললে তো হবে না,,তোমাকে খেতেই হবে..তোমাকে যেহেতু আমাদ দায়িত্বে এখানে নিয়ে এসেছি তাই তোমার সব কিছুএ দায়িত্ব আমার যাও যেটা বলছি সেটাই করো।
এখন নিলা একদম নিজের জ্ঞানে আছে কারন নেশা করেছে সকালে আর এখন বিকাল....
নিলা হঠাৎ করেই আমার শার্টের কলার ধরে বললো অই তুই পেয়েছিস কি?আর তুই কে? যে তুই যা বলবি আমাকে তাই করতে হবে.দেখ আমাকে বেশি রাগাবি না,আমি তোর ইচ্ছাতে এখানে আসি নাই।আমি এখানে এসেছি নিজের ইচ্ছাতে তাই তোর কোনো ইচ্ছা আমার উপর জোড় করে চাপিয়ে দেবার কোনো চেষ্টা কখনো করবি না এই বলে দিচ্ছি।।
আমি নিলার কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বললাম তোমার যা ইচ্ছা করো আমি আর কখনো তোমাকে কিছু করতে জোড় করবো না।
এই মেয়ের জন্য আমার এতোদিনের ভালোবাসা শেষ হবার পথে..আবার বড় বড় কথা বলে মনটাই চাইতেছে থাপ্পড়াইয়া দাত সব ফেলে দেই...
আমি আমার রুমে চলে গেলাম।
এমনিতেই খেতে ইচ্ছা করছিলো না,শুধু নিলাকে খাওয়ানোর জন্য বলছিলাম..
কিন্তু মেয়ে তো খেলোই না...উল্টা আমাকে কতগুলো কথা শুনিয়ে দিলো।মামাতো বোন বলে কিছু বললাম না।আমি আমার রুমে যাবার পর আবার শুয়ে পড়ি...
নিলা কি করছে না করছে সেটা আমার জানার কোনো দরকার নেই..ও থাকুক ওর মতন আমি আর কিছু বলতে যাবো না...
আমি শুয়ে আছি ঠিক সেই সময় আমার ফোন কেপে উঠলো আমি ফোন হাতে
নিয়ে দেখি অনিকা ফোন করেছে..আমি কিছুটা অবাক হলাম,,আর অনেক খুশি হলাম
কল রিছিভ করলাম
হ্যালো………………>
অনিকাঃঅই তুই আমাকে ভালোবাসিস?জানিন আমি অনেক ভেবে দেখলাম আমি তোকে ছাড়া থাকতে পাড়বো না...
আমি;হ্যা আমিওও তোমাকে ছাড়া থাকতে পাড়বো না...
অনিকাঃথাকতেই যখন পাড়বি না,,তাহলে আমাকে ছেড়ে অন্য কাওকে বিয়ে কেনো করলি হারামি(চিৎকার দিয়ে))
আমি তো তোমাকেই বলেইছি আমি এই বিয়ে করতে চাইনি,,
অনিকাঃআচ্ছা আমার জন্য কি করতে পাড়বি??
আমিঃতুমি যা করতে বলবে আমি তাই করবো...
অনিকাঃতুই তোর বউকে ডিভৌস দিতে পাড়বি??
আমিঃসেটা তোমাকে বলতে হবে না..ও ঠিক হোক আর না হোক ৫মাস পর আমি এমনিতেই ডিভৌস দিয়ে দিবো...
অনিকাঃসত্যি তো??
আমি;হ্যারে বাবা সত্যি আমি অই মাতালির সাথে সংসার করতে পাড়বো না।
অনিকাঃতাহলে আমাকে কথা দে তুই অই মেয়ের কাছে একদম যাবি না..
আমিঃহ্যা যাবো না,,যতটুকু দরকার শুধু আমি ততটুকু যাবো....
অনিকাঃআচ্ছা ঠিক আচে,,আর অই মেয়েকেও তোর কাছে কিন্তু একদম আসতে দিবি না..
আমিঃআরে অই মেয়ে আমার কাছে এমনিতেও আসে না...
অনিকাঃতাহলে তো খুব ভালো হলো।শুন যদি কেও তোর অধিকার পাই তাহলে সেটা আমি অন্য কাওকে তুই সেই অধিকার দিতে পাড়বি না বলে দিলাম...
অনিকার কথা শুনে আমার অনেক ভালো লাগছে।তাহলে পাগলিটা আমাকে বুঝতে পেরেছে তাই তো আমাকে ছেড়ে কোথাও যায়নি।
আমি;এই তুমি আমাকে ভালোবাসো তো??
অনিকাঃভালো না বাসলো এতোগুলো কথা বলতাম নাকি??আসলে আমি তখন সত্যি সব শেষ করে দিতে চাইছিলাম,,বাসায় এসে নিজেকে অনেক বুঝাতে চেয়েছি কিন্তু কিছুতেই পাড়ছিলাম না বার বার শুধু তোর কথাই মনে হচ্ছিলো..শুন আমি কিন্ত তোকে ছাড়া থাকতে পাড়বো না এই বলে দিলাম..
আমিও থাকতে পাড়বো না..
অনিকাঃএই তুমি তো মনে হয় কিছু খাওনি তাই না???
আমিঃহ্যা কিন্তু তুমি জানলে কি করে??
অনিকাঃআমি জানবো
না তো কি তোর মাতালি বউ জানবে??
আমিঃএই তুমি আবার রাগ করছো কেনো??
অনিকা;যাও এখন খেতে যাও তাহলে আর রাগ করবো না...
আমিঃতুমি খেয়েছো?
অনিকাঃনাহ তবে তুমি খেলে খেয়ে নিবো??
আমিঃআচ্ছা যাও খেতে যাও আমিও খেয়ে নিচ্ছি
এই বলে আমি কল কেটে দিলাম।আমার খুব আনন্দ হচ্ছে,,আমার অনিকা আমার থেকে দূরে যাবে না এটা ভাবলেই ড্যান্স দিতে ইচ্ছা করছে...কিন্তু ভালো কোনো গানের নাম মনে পড়ছিলো না তার জন্য আর ড্যান্স দিতে পাড়লাম না দুঃখের বিষয়।
আমি উঠে খেতে চলে গেলাম।
নিলাকে আর ডাকলাম না।আমার পাগলিটা বলেছে নিলার থেকে দূরে দূরে থাকতে..
আমি খেতে বসে আবার অনিকাকে ফোন দিলাম
অনিকা;কি হলো আবার কেনো ফোন দিলে??
আমিঃতুমি খেয়েছো??
অনিকাঃহ্যা হাতটা একটু পরিষ্কার করেই খেতে বসবো..
আমিঃকেনো হাতে কি হয়েছে??
অনিকাঃকিছুনা কিছুনা তুমি খেয়েছো
অনিকার কথা শুনে খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেড়েছি পাগলি টা কি করেছে??
আমিঃঅই কাওকে খেতে হবে না,,তুমি যত তাড়াতাড়ি পারো আমার সাথে দেখা করো,,আমি এখুনি বের হচ্ছি...
অনিকাঃকিন্তু কেনো?
পরে বলবো আগে আমার সাথে দেখা করবা
অনিকাঃআচ্ছা আমি তাহলে এখুনি বের হচ্ছি..
আমিও বাসা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম।আমাদের দেখা করার জন্য সুন্দর একটা যায়গা আছে নাম বলমু না তাহলে আপনারা আবার ডিস্টার্ব করতে পারেন...
আমি পৌছানোর আগেই দেখি অনিকা এসে দাঁড়িয়ে আছে।আমি কোনো বার এই মেয়ের আগে আসতে পারি না।আমাকে কখনো অনিকার জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি..অনিকা সব সময় আমার জন্য অপেক্ষা করেছে।
আমাকে দেখে অনিকা বললো কি ব্যাপার এতো জরুরি তলব কেনো করলে??
আমি শুধু রাগে ফুঁসছি
কি হলো বললে না আমাকে কেনো ডাকলে..
এইবার আর নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পাড়লাম না।
ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিলাম।নতুন কিছু না মাঝে মধ্যে চড় দিতে হয়...
অনিকাঃকি হলো আমাকে মারলে কেনো?
আমি;তুমি আবার হাত কেটেছো কেনো??
অনিকাঃআমার ইচ্ছা হয়েছিলো তাই...
আমিঃসত্যি বলো কেনো কেটেছো??
অনিকাঃতুমি কেটেছো তাই কেটেছি..
আমিঃদেখি হাত দেখি..
অনিকা হাত বাড়িয়ে দিলো আমার থেকে অনেক বেশি কেটেছে...
আমি আর কান্না আটকেকে রাখতে পাড়লাম না।
চোখ দিয়ে পানি পড়ছে...
অনিকাঃএই তুমি কাঁদছো কেনো?
নিশ্চুপ………………………
অনিকাঃএই তুমি কেদো না প্লিজ..
আমি কিছুতেই কান্না থামিয়ে রাখতে পারছি না...
শেষমেশ অনিকা আর কোনো উপায় না পেয়ে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো..
অনিকাঃএই তুমি এইভাবে কেদো না,,আমার যে আরো বেশি কষ্ট হচ্ছে।জানো যখন শুনলাম তুমি আমাকে ছেড়ে অন্য কাওকে বিয়ে করেছে আমি নিজেকে শেষ করে দিতে চেয়েছিলাম।কিন্তু পরেই ভাবলাম বিয়ে করেছো সেটা তো আমার কাছে লুকিয়ে রাখতে পারতে..রিলেশন চালিয়ে যেতে পাড়তে..কিন্তু তুমি তো সব সত্যি বলে দিয়েছো,,এটাও বলেছিলে তোমার বউকে ডিভৌস দিয়ে দিবে..তুমি শুধু আমাকে চাও এই সব ভেবেই আমি আবার তোমারর কাছে ফিরে গেছি।।সত্যি তো তোমার তো কোনো দোষ ছিলো না।
অনিকার কথা শুনে আমি ভেতর থেকে অদ্ভুত ধরনের একটা শক্তি পাচ্ছি..
অনিকা তখনো আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ছিলো...
আমার কান্না থেমে গেছে অনেক আগেই।অনিকার স্পর্শ পেলে আমি সব কিছু ভুলে যাই....
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label