নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

ভালবাসার_ছোঁয়া Valobasar Chowa

ভালবাসার_ছোঁয়া
Valobasar Chowa
Last part
Writer-Farjana Fairuz Tanisha
,
,
,
সাত বছর পর......
আজ মাহমুদ পরিপারের সবচেয়ে প্রিয় ও আদরের সদস্যের জন্মদিন। ফুটফুটে পিচ্চি অরিয়ানা'র চার বছরের শুভ জন্মদিন আজ।
,
হ্যা, অরিয়ানা অর্ণীল আর রুপসার একমাত্র মেয়ে। আরিয়ান ঠিকই বলেছে, অর্ণীল তার ভালবাসা দিয়ে রুপসার ভালবাসা আদায় করে নিয়েছে। আসলে অর্ণীল এমন একজন মানুষ,  যাকে ভাল না বেসে উপায় নেই।

কিন্তু অর্ণীল রুপসার মনে আরিয়ানের জায়গাটা নিতে পারেনি। অবশ্য অর্ণীল তার চেষ্টাও করেনি।
অর্ণীল চেয়েছিল নিজের জন্য রুপসার মনে আলাদা জায়গা সৃষ্টি করে নিতে। যেখানে থাকবে শুধু অর্ণীলের বসবাস। অর্ণীল তাতে সফলও আছে।
,
অর্ণীল তার ভালবাসার ছোঁয়া দিয়ে একটু একটু করে রুপসার মনে অনেকখানি জায়গা দখল করে নিয়েছে। এখন রুপসাও অর্ণীলকে অনেক ভালবাসে।
কিন্তু আজও মনের মণিকোঠায় এক টুকরো ভালবাসা আরিয়ানের জন্য রয়েই গেল। আমরণ সে ভালবাসা বেঁচে থাকবে।
,
অরিয়ানার নামটা আরিয়ানের সাথে মিল রেখে রাখা হয়েছে। নামটা অর্ণীল, রুপসা দুজন মিলে রেখেছে। অরিয়ানার মধ্যে দিয়ে আরিয়ানের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে চায় ওরা।
আরো গল্প পড়ুন  অতৃপ্ত পিপাসা Balobasar Story in Bangla
ঐশীর যমজ দুটো মেয়ে হয়েছে। একজনের নাম অলিভিয়া আর অপরজনের নাম এ্যানি। দুজনই ভীষন চঞ্চল আর দুষ্টু। দেখতেও সেই লেভেলের কিউট। অভির কাছে ওর মেয়ে দুটো নয়নের মণি। আর ঐশীতো এখন অভির কলিজা।
,
রুপসার বিয়ের এক বছর পরেই ঝিমলির বিয়ে হয়েছে। ওর বর ব্যাংকার, নাম শুভ্র। দেখতে বেশ হ্যান্ডসাম। ওদের বিয়েটা পারিবারিকভাবেই হয়েছে। এ্যারেঞ্জড ম্যারিড হলেও শুভ্রর সাথে ঝিমলির বন্ডিং টা খুব ভাল। ঝিমলির পাগলাটে টাইপের কথাবার্তা, আচার-আচরণের জন্যই নাকি শুভ্র ওকে পছন্দ করেছে।
ঝিমলির পাঁচ বছরের একটা মেয়ে আছে। নাম 'জেরিন'।
,
লিসা স্কটল্যান্ডে ওর বয়ফ্রেন্ডকে বিয়ে করে নিয়েছে। সম্প্রতি ওদের একটা ছেলে হয়েছে। মাঝে মাঝে এই কাপল বাংলাদেশে বেড়াতে আসে।
,
আদ্র আর রিমঝিমের বিয়ে হয়েছে বছর তিনেক আগে। দুজনের খুনসুটি একটু একটু করে ভালবাসায় পরিণত হয়েছে। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতেই ওদের বিয়েটা হয়েছে।
কিন্তু এখনও ওদের ঝগড়া করার স্বভাব যায়নি। কথায় কথায় ঝগড়া শুরু হয়। আর একটু ঝগড়া শুরু হলেই সম্বোধনটা 'তুমি' থেকে 'তুই' তে চলে আসে।
,
তবে ভালবাসার কমতিও নেই দুজনের মধ্যে। এই ঝগড়া করবে তো একটু পরেই ভাব করে নিবে। এভাবেই হাসিখুশি আর খুনসুটিময় ভালবাসা নিয়ে চলছে ওদের জীবনের যাত্রাপথ।
,
রিমঝিম প্রেগনেন্ট। অসুস্থ থাকার কারণে রিমঝিম চেয়েও আসতে পারেনি অরিয়ানার জন্মদিনে। তাই আদ্রও আসেনি। তবে সকালে ভিডিও কলে দুজনেই বার্থডে উইশ করেছে অরিয়ানাকে।
,
শ্রাবণ ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে এখন মেডিকেলে পড়ছে। ছোট বেলা থেকেই ওর স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হবার। সে স্বপ্ন পূ্রণের প্রথম ধাপে এখন অবস্থান করছে শ্রাবণ।
,
এক কথায় সবাই সবার বর্তমান জীবন নিয়ে খুব হ্যাপী।
,
আলফাজ দাদাভাইয়ের একমাত্র প্রিন্সেসের জন্মদিন বলে কথা! বেশ বড়সড় এ্যারেঞ্জমেন্ট করা হয়েছে। রুপসার মা-বাবা, শ্রাবণ, ঝিমলি-শুভ্র-জেরিন, ঐশী-অভি-এ্যানি-অলিভিয়া সহ সবাই এসেছে অরিয়ানার জন্মদিনে।
,
অরিয়ানা অলিভিয়া আর এ্যানিকে পেয়ে বাদ বাকি সব ভুলে গেছে। তিনজনে মিলে দুষ্টুমি আর আনন্দে মেতেছে।
সব গেস্টরা চলে এসেছে। ব্যস্ততার কারণে রুপসার রেডি হতে দেরি হয়ে গেছে। সবকাজ শেষ করে মাত্র রেডি হতে গেছে।
,
রুপসা মেরুন রঙের একটা শাড়ি পরেছে। চুলগুলো খোঁপা করে ক্লিপ দিয়ে আটকে দিয়েছে। ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপিস্টিক দিয়েছে। হাতে, কানে, গলায় গহনা পরেছে। সাজ বলতে শুধু এটুকুই।
রুপসা রেডি হয়ে নিচে এসে সবার সাথে কুশল বিনিময় করলো।
,
অভি:সবাই তো চলেই এসেছে। এবার তাহলে অনুষ্ঠান শুরু করা যাক।
,
রুপসা:না অভি। আরেকটু ওয়েট করি।
,
অভি:কেন?
,
রুপসা:অরি'র জন্মদিনে স্পেশাল দুজন মানুষ ওর ছোট দাদুভাই আর দিদুন। অরি'র প্রত্যেক জন্মদিনেই তারা ছিল। এবারও তাদের উপস্থিতি ছাড়া অরির জন্মদিনের অনুষ্ঠান শুরু হবেনা।
,
ঝিমলি:কিন্তু উনারা তো এখনো এলেন না। তুই একটা ফোন করে দেখ রুপসা।
,
আরমান খান:তার আর প্রয়োজন নেই। অরি'র ছোট দাদুভাই ও দিদুন চলে এসেছে।
,
সবাই তাকিয়ে দেখলো আরমান খান ও নায়লা খান দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছেন। মাত্রই তারা এসেছেন।
রুপসা গিয়ে উনাদের সালাম করলো। অর্ণীলও এগিয়ে এসে উনাদের সালাম করে কুশল বিনিময় করলো।
,
অরিয়ানা দৌড়ে গিয়ে আরমান খানকে জড়িয়ে ধরলো। আরমান খান নিচু হয়ে অরি'র সামনে বসলেন।
অরিয়ানার বয়স মাত্র চার বছর। তা সত্ত্বেও ওর কথাগুলো একদম স্পষ্ট।
,
অরিয়ানা:আমার জন্মদিনের গিফট কোথায় ছোট দাদুভাই?
,
আরমান খান:এই যাহ্! আমি তো গিফট আনতে ভুলেই গেছি।
,
অরিয়ানা মুখটা গোমরা করে অন্যদিক ফিরে রইলো। তা দেখে আরমান খান, নায়লা খান ফিক করে হেসে দিলেন।
,
নায়লা খান:তোমার দাদুভাই তোমার জন্য উপহার আনতে ভুলে গেছে। কিন্তু আমি কি আমার প্রিন্সেসের বার্থডে গিফট আনতে ভুলে যেতে পারি!
,
নায়লা একটা গিফটের বক্স অরিয়ানার দিকে এগিয়ে দিলো। অরিয়ানার গোমড়া মুখটা মুহূর্তে হাসিতে ভরে গেল। সাথে সাথে উপহারের প্যাকেটটা নিয়ে নায়লা খানকে জড়িয়ে ধরলো।
,
অরিয়ানা:থ্যাঙ্কিউ গ্রান্নি। তুমি খুব ভালো। একটু নিচু হওতো।
,
নায়লা খান অবাক হয়ে বললেন,
,
নায়লা খান:কেন?
,
অরিয়ানা:ওফ্ কথা বলো না তো। নিচু হও বলছি।
,
নায়লা খান একটু নিচু হয়ে অরিয়ানার সমান হলে অরিয়ানা নায়লা খানের কপালে একটা চুমু দিয়ে হেসে দেয়। অজান্তেই নায়লা খানের চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।
,
অরিয়ানা অবাক হয়ে বলল,
,
অরিয়ানা:গ্রান্নি, তুমি কাঁদছো কেন?"
,
নায়লা খান:সুখে রে দাদুভাই। তোকে দেখলে আমি আমার আরিয়ানের কষ্টটা ভুলে যাই। তুই এই ছেলেহারা মায়ের কষ্টে ভরা বুকে এক টুকরো প্রশান্তি।
,
শাখাওয়াত হোসেন ব্যাপারটা সামলানোর জন্য বললেন,
,
শাখাওয়াত হোসেন:আরেহ আপা, আজ অরি'র জন্মদিন। সবাই মিলে ওর জন্মদিনে কেক কাটবো, কত আনন্দ করব। আনন্দের দিনে চোখের পানি ফেললে চলবে কি করে! আজ শুধু আনন্দ করব, তাইনা অরি দাদুভাই?
,
অরিয়ানা:ঠিক বলেছো মেঝো দাদুভাই।
,
অরিয়ানা অর্ণীলের বাবাকে বড় দাদুভাই, রুপসার বাবাকে মেঝো দাদুভাই এবং আরিয়ানের বাবাকে ছোট দাদুভাই বলে ডাকে।
,
এবার কেক কাটিং এর পালা।
অরিয়ানা ফুঁ দিয়ে একে একে সবগুলো ক্যান্ডেল নিভিয়ে দিলো।
সাথে সাথে সবাই একসাথে করতালি দিয়ে বার্থডে সং গেয়ে উঠলো....
"হ্যাপী বার্থডে টু ইউ, হ্যাপী বার্থডে টু ইউ, হ্যাপী বার্থডে ডিয়ার অরিয়ানা, হ্যাপী বার্থডে টু ইউ।"
,
অর্ণীল, রুপসা অরিয়ানার হাত ধরে একসাথে কেক কাটলো। তারপর দুজনে অরিয়ানাকে কেক খাইয়ে দিলো। অরিয়ানাও ওর পিচ্চি পিচ্চি হাত দিয়ে ওদের দুজনকে কেক খাইয়ে দিল।
তারপর অরিয়ানা সবাইকে একটু একটু করে কেক খাইয়ে দিলো।
,
এরপর একে একে সং, ডান্স, জোকস, আড্ডা, খাওয়া-দাওয়া সব মিলিয়ে হই-হুল্লোর, আনন্দ-ফুর্তিতে জমজমাটপূর্ণভাবে জন্মদিনের অনুষ্ঠান শেষ হলো।
,
সব গোজগাজ করে রুপসা বেড রুমে এসে ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে গায়ের গহনাগুলো খুলছিল। এমন সময় অর্ণীল পেছন থেকে রুপসাকে জড়িয়ে ধরে ওর গালে টুপ করে একটা চুমু এঁকে দেয়।
আরো গল্প পড়ুন  অতৃপ্ত পিপাসা Balobasar Story in Bangla
ওদের বিয়ের সাত সাতটা বছর কেটে গেল। আজও অর্ণীল রুপসার মধ্যে ততটা মায়া খুজে পায় যতটা প্রথম দেখায় পেয়েছিল। এ ক'বছরে রুপসার প্রতি অর্ণীলের ভালবাসা একটুও কমেনি। বরং বেড়েছে আরো কয়েকগুণ।
,
অর্ণীল:তোমাকে আজকে শাড়িতে যা লাগছিল না! আমার তো মাথা নষ্ট হবার যোগাড়। ইশ্ আমার বউটাকে কত্ত সুন্দর দেখতে লাগে। প্রতিদিনই নতুন করে তোমার প্রেমে পড়ে যাই, সোনা। ইচ্ছে করে আবার বিয়ে করে ফেলি।
,
রুপসা:কি বললে?
,
অর্ণীল:আরেহ! তোমাকেই বিয়ে করার কথা বলছি। চলোনা আবার বিয়ে করি!
,
রুপসা:অর্ণীল, তোমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। আর মশাই, এই বয়সে এসেও আপনার এত রোমান্স আসে কোথা থেকে হ্যা?  এক মেয়ের বাবা হয়েছো। এবার পাগলামি ছাড়ো।
এখন আর অতো রোমান্টিক হতে হবেনা।
,
অর্ণীল:এ কেমন কথা! আমি কি বুড়ো হয়ে গেছি নাকি যে আমার মধ্যে রোমান্টিকতা থাকবে না। আর তাছাড়া সবে মাত্র আমাদের একটা মেয়ে হয়েছে। বাকি ছেলে মেয়ে গুলো তো পৃথিবীতে আসার জন্য আমাকে সিগন্যাল দিচ্ছে।
,
রুপসা ভ্রু জোড়া কুঁচকে বলল,
,
রুপসা:বাকি ছেলে মেয়েরা মানে?
,
অর্ণীল:মানে? আচ্ছা শোনো, আমি ভাবছিলাম, আমরা আমাদের ছেলে-মেয়েদের দিয়ে একটা টিম বানাব। টিমটা কিসের হবে বলোতো?
,
রুপসা ক্ষেপে গিয়ে বলল,
,
রুপসা:কিসের টিম দেখাচ্ছি তোমাকে!
,
রুপসা অর্ণীলকে উড়াধুড়া মাইর লাগালো। অর্ণীল হাসতে হাসতে রুপসার হাত দুটো ধরে এক টান দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে আসলো। রুপসার সামনের ছোট চুলগুলো মুখের সামনে এসে পড়ছে। অর্ণীল আলতো করে ওর চুলগুলো সরিয়ে দিল।
,
রুপসা তাকালো অর্ণীলের চোখের দিকে। ওই চোখে শুধু নেশা, ভয়ঙ্কর নেশা। হুট করেই অর্ণীল রুপসার ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দেয়। রুপসার সমস্ত শরীরে ভাললাগার, ভালবাসার শিহরণ বয়ে যাচ্ছে। এভাবেই চলে গেল অনেকটা সময়।
,
কিছুক্ষন পর রুপসা অর্ণীলের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়। তারপর চুপটি করে অর্ণীলের বুকে মাথা ঠেকায়।
চারিদিকে পিনপতন নিরবতা বিরাজ করছে। নিরবতা ভেঙে অর্ণীল বলল,
,
অর্ণীল:অরি কোথায়?
,
রুপসা:অরি আজকে ঐশীর কাছে ঘুমাবে। এ্যানি আর অলিভিয়াকে পেলে সব ভুলে যায় মেয়েটা। এত জোরাজুরি করলাম অথচ কিছুতেই এলোনা। ওর এক কথা, সারারাত এ্যানি আর অলিভিয়ার সাথে শুয়ে শুয়ে গল্প করবে।
,
অর্ণীল:সেটা আর চাইবে না কেন? সারা বাড়িতে একমাত্র পিচ্চি অরি ই। এ পরিবারে আর ছোট কোনো সদস্য নেই। মেয়েটা একা থাকতে থাকতে বোর হয়ে যায়না বুঝি! আচ্ছা অরি'র একাকীত্ব দুর করার জন্য যদি আমাদের একটা মেয়েবাবু বা ছেলেবাবু হয়, তাহলে কেমন হবে?
,
রুপসা:খুব খারাপ হবে। দুই বাপ বেটির জ্বালাতেই আমার শান্তি নেই। আবার আরেকজনের আমদানি হবে, হুহ!
,
অর্ণীল:কি? আমি জ্বালাই তোমাকে?
,
রুপসা:তা ছাড়া আবার কি!
,
অর্ণীল ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি রেখে বলল,
,
অর্ণীল:ঠিক আছে আজ তোমাকে আরো বেশি জ্বালাব।
আরো গল্প পড়ুন  অতৃপ্ত পিপাসা Balobasar Story in Bangla
রুপসা জোরে অর্ণীলকে একটা চিমটি কাটলো।
অর্ণীল হাসতে হাসতে রুপসাকে আরো শক্ত করে তার বাহুডোরে আবদ্ধ করে নিল।
,,,,,,,,
মাঝরাত...
অর্ণীল ঘুমের ঘোরে রুপসার গায়ে হাত দিতেই অনুভব করলো, রুপসা বেডে নেই। অর্ণীল চোখ মেলে তাকালো। হ্যা রুপসা নেই বিছানায়।
অর্ণীল শোয়া থেকে উঠে বারান্দার দিকে তাকাতেই দেখলো বারান্দার দরজা খোলা। তারমানে রুপসা বারান্দাতেই আছে।
,
অর্ণীল বিছানা ছেড়ে বারান্দায় গিয়ে দেখল রুপসা রেলিং এ হাত দিয়ে আকাশের পাণে তাকিয়ে আছে। অর্ণীল রুপসার কাঁধে হাত রাখলো।
রুপসা জানে এটা অর্ণীলের স্পর্শ। এ ক'বছরে অর্ণীলের ছোঁয়া বড্ড চেনা হয়ে গেছে রুপসার কাছে।
,
অর্ণীল:আরিয়ানের কথা ভাবছো?
,
রুপসা কিছুক্ষন চুপ থাকলো। তারপর বলল,
,
রুপসা:মানুষটা এই পৃৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে আরো সাতটা বছর আগে। কিন্তু ওর স্মৃতি আমাদের ছাড়ছে না কেন? আজও আরিয়ানকে ভেবে চোখ দিয়ে নোনাজল গরিয়ে পড়ে! আজও পারিনি আরিয়ানকে ভুলতে। কেন পারিনি বলতে পারো?
,
অর্ণীল রুপসার বাহু ধরে ওকে নিজের দিকে ফিরিয়ে বলল,
,
অর্ণীল:কারণ আমরা তো চাচ্ছিনা আরিয়ানকে ভুলতে। আর আরিয়ান এমনই একজন মানুষ যাকে কখনোই ভোলা যায়না। আরিয়ান হয়তো এ পৃথিবীতে নেই কিন্তু আমাদের স্মৃতিতে উনি বেঁচে থাকবে চিরজীবন। যতদিন আমরা থাকব ততদিন আরিয়ানও থাকবে আমাদের মনে।
,
রুপসা অর্ণীলের বুকে মাথা ঠেকালো। তারপর দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল,
,
রুপসা:তোমার প্রিয়তমা সংসারী হয়েছে আরিয়ান। এখন আমি যেমন অর্ণীলের স্ত্রী, তেমনি অরি'র মা। অর্ণীলকে আমি ভালবাসি। অনেক বেশি ভালবাসি আমার সংসার, স্বামী, সন্তানকে। কিন্তু এত কিছুর পরেও দিনশেষে তোমার শূণ্যতা আজও অনুভব করি আরিয়ান। ভালো থেকো ওপারে। মিস ইউ আরিয়ান। মিস ইউ আ' লট।
,
রুপসার চোখ থেকে টুপ করে দু ফোঁটা জল গরিয়ে পড়লো।
,
,
,
,
💘সমাপ্ত💘
ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
আরো গল্প পড়ুন  অতৃপ্ত পিপাসা Balobasar Story in Bangla
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label