নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

story---সিনিয়র_আপু Writer---পিচ্চি_পণ্ডিত

story---সিনিয়র_আপু
Writer---পিচ্চি_পণ্ডিত

Part--- 02





{আমি এবার এক ছুট দিয়ে বাসায় পৌছে গেলাম, না জানি আর কিছুক্ষন থাকলে ওর ফ্রেন্ডের স্যান্ডেল গুলাও আমার দিকে ছুঁড়ে মারতো, পুরাই ইজ্জতের ফালুদা হয়ে যেতো আরো, কিন্তু ১৪৩ এর মানেটা কি? 😱😱 কিছুই তো বুঝতে পারছিনা। আমি রুমে এসে আমার এক ফ্রেন্ডকে কল দিয়ে....}
-- এই রিয়া একটা শব্দ জিজ্ঞাসা করছি সেটার মানে কি তুই জানিস?(আমি)
{রিয়া হলো আমার এক ফ্রেন্ডের নাম}
-- কি বল? (রিয়া)
-- না মানে ১৪৩ এর মানে কি?(আমি)
-- তুই জানিস না নাকি যে আমাকে জিজ্ঞাসা করছিস।(রিয়া)
-- না জানিনা বলেই তো তোকে জিজ্ঞাসা করছি।(আমি)
-- ১৪৩ এর মানে হলো I love you বুঝলি।(রিয়া)
-- হিহিহি ভাভা গো বিরাট ব্যাপার দেখছি যে।(আমি)
-- মানে?(রিয়া)
-- না না কিছু না।(আমি)
-
-
-
(ভাইরে আমার মনে তো এখন লাড্ডু ফুটছে। উফ আল্লাহ মেয়েটা আমাকে আই লাভ ইউ বললো, কি যে খুশি লাগছে বলে বোঝাতে পারবো না। 😍😍😍)
-- ওহ আচ্ছা।
-- এখন রাখি বুঝলি পেত্নি।
-- এই সিয়াম ভালো হবে না বলছি।
-- আমি আকাশ না যে তোকে ভয় পাবো।(আমি)
-- তোর থেকে আমার আকাশ অনেক ভালো। রাখ বাই।(রিয়া)
-- তা তো হবেই উনি তো তোমার হবু ইয়ে।(আমি)
-- এই চুপ কর সিয়াম তোর পাঠক ভাইয়া কি মনে করবে শুনি?(রিয়া)
-- হিহিহি, আচ্ছা বাদ দে কাল কলেজ যাবি তো।(আমি)
-- জ্বি, তুই(রিয়া)
-- হুম যাবো আর আকাশ যাই কিনা একটু জিজ্ঞাসা করে টেক্সট করে দিবি বুঝলি।
-- কেন তোর তো বেস্টফ্রেন্ড, তুই জিজ্ঞাসা কর।
-- আচ্ছা করবানে এখন রাখি।
-- আচ্ছা বাই।
[এবার ফোন রেখে দিলাম।
মানে রিয়া আকাশের গফ, আমরা সবাই এক ইয়ারেই পড়ি। মেয়েটা ছেলেটাকে অনেক ভালোবাসে আর ছেলেটাও।]
-
-
(এবার বই নিয়ে পড়ার টেবিলে এলাম, বইটাও খুললাম দেখি সেই জান্মাত আমার সিনিয়র ক্রাশের ছবি বই এর পাতায় ভাসছে, আমি চুপটি করে গালে হাত দিয়ে হা করে বসে রইলাম, এবার রাতে ডিনার সেরে ঘুমাতে গেলাম। এবার আমি আমার ঘুমের রাজ্যে রাজত্ব করতে চলে গেলাম, দেখি সেখানে সব ঠিকঠাক আছে)
-
-
(তাই আমি আবার আমার আব্বুর রাজ্যে ফিরে এলাম, সকালে ঘুম থেকে উঠে আবার রেডি হয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।
এবার কলেজে ঢুকে সেই গাছের নীচে গিয়ে বসলাম যেখানে আমার সব কুত্তা ফ্রেন্ডরা বসে আছে, আমাকে দেখে সবাই হাসছে, কি ব্যাপার রে ভাই কিছুই তো বুঝে উঠতে পারছিনা। এবার আমি সাগরের কাছে গিয়ে ওর মাথায় এক চাপড় দিয়ে....)

.
-- ওই আমাকে কি দেখে সার্কাসের জোকার মনে হয়?(আমি)
(আকাশ হেসে হেসে.....)
-- তা কেন মনে হবে শুনি?  আর মনে করার কি আছে তুই তো এমনিতেই জোকার। (আকাশ)
-- আকাশের বাচ্চা😡😡😡😡😡(আমি)
-- আচ্ছা আচ্ছা চুপ করলাম।(আকাশ)
-- এবার বল তোরা হাসছিলিস কেন?(আমি)
-- তাহলে দেখতে চাস কেন হাসছিলাম।(আকাশ)
-- জ্বি।
-- ওই দেখ কে দাঁড়িয়ে বলতো?
.............
(এবার আকাশের আঙুল তুলে যেদিকে দেখালো, সেটা দেখেই তো আমি পুরাই অবাক আর সঙ্গে সঙ্গে আকাশকে জড়িয়ে ধরলাম। উরিবাবা এতো আমার সিনিয়র ক্রাস😍😍😍, কাল আই লাভ ইউ বলেছিলো তাই মনে হয় প্রপোজ করতে এসেছে।
উফ আল্লাহ আমি তো পুরাই লজ্জায় রাঙা হয়ে গেছি।)
..........
(কিছু খুঁজে না পেয়ে আকাশের ব্যাগে হাত ভরে দিলাম কারন আকাশ প্রতিদিন রিশার জন্য গোলাপফুল নিয়ে আসে। এবার আমি ব্যাগ থেকে বের করতেই আকাশ  বলে উঠলো....)
.
-- কি ব্যাপার মাম্মা?(আকাশ)
(আমি হেসে হেসে....)
-- আরে কিছু না মামা।(আমি)
-- হুম কিছু তো আছে বল।
-- না মানে আকাশ ইয়ে ওই যে মেয়েটাকে দেখালি তাকে প্রপোজ করবো।
-- তাহলে দেরি করছিস কেন?
-- না মানে দোস্ত খুব ভয় করছে তো।
-- আরে ভাই প্যায়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া।(আকাশ)
-- তাও ঠিক, মামা আমি পারবো না মনে হয় তুই আমার সাথে চল না।
-- আচ্ছা যাইতে পারি তবে ট্রিট লাগবো, দিবা।
-- আচ্ছা দিবানে।
-- চল।


(এবার আমি হাতে গোলাপটা নিয়ে আস্তে আস্তে জান্নাতের সামনে যাচ্ছি, দেখি জান্নাত একভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে আর কি যেন ফুসুরফাসুর করে ওর ফ্রেন্ডকে বলছে। আমার হাতটা এবার কাঁপাকাঁপি শুরু করে দিলো আমার কপালে খুব ঘাম দিচ্ছে, অবশেষে গোলাপটা সামনে হাতে রেখেই নিয়ে যাচ্ছি, এবার জান্নাতের কিছুটা কাছে আসতেই আকাশ.....)


-- মামা বাঁশ খাওয়ার জন্য তৈরি থাকো।(আকাশ)
(এটা শোনা মাত্রই আমি হাতে থাকা গোলাপটা পিছনে করে নিলাম।
আমি এবার কপালে ঘাম টিস্যুপেপার দিয়ে মুছে....)

-- দোস্ত কেন ভয় দেখাচ্ছিস।
-- কই না তো।
-- তাহলে ওসব কেন বললি?
-- কই কি বললাম।
-- তাহলে হয়তো আমি শুনতে ভুল করেছি।
-- হবে হয়তো।
.....
(এবার আমি জান্নাতোর সামনে গেলাম পিছনে গোলাপ নিয়ে...  খুব লজ্জা পাচ্ছে জান্নাতের সামনে দাঁড়াতে তাই মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে...)
.
-- আপনি যেই প্রস্তাবটা রেখেছিলেন তাতে আমি মঞ্জুর। (আমি)
-- মানে?(জান্নাত)
-- না মানে কাল যেটা বলেছিলেন?
-- কি বলেছিলাম।
-- ওহ আচ্ছা আপনি লজ্জা পাচ্ছেন।
-- আরে কি বলেছিলাম যে লজ্জা পাবো।
-- আরে আমিও যে বলবো আমারো তো খুব লজ্জা পাচ্ছে হিহিহি😁
-- বেশি না বকে কি বল।
-- না মানে কাল আমায় ১৪৩ বলেছিলেন তাই না।
-- তো কি হয়েছে। ( একটু হেসেহেসে)
-- তো মানে এই নিন।
এবার আমি গোলাপ ফুলটা মিমের সামনে ধরে.....
-- I lv u jannat... আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।(ami)
-- থাবড়ারাইয়া বত্রিশটা দাঁত ফালাই দিমু।(jannat)

-- কেন?
-
(যাহ শালা কি হলো, কথাটা শুনেও কিছুটা কষ্ট হলো....)
-- কেন না আমি তোকে কাল ওসব বলিনি। ১৪৩ এর মানে হলো I ht u( জান্নাত)
-- I lv uও তো হয়য়।(আমি)
-- সেটা তোর কাছে হতে পারে কিন্তু আমার কাছে না।
এতোসব শোনার পর আমার চোখে কিছুটা পানী চলে এলো।
-- জান্নাত তোমাকে আমি সত্যি করে বলছি আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।
-- ভুলে যাসনা তুই আমার থেকে জুনিয়র।
-- হুম জানি জুনিয়র, আর এটাও জানি যে তুমি আমাকে ভালোবাসো তাই এখানে এসেছো।
--  এটা কি তোর একার কলেজ নাকি যে তুই শুধু আসবি।(কঠরভাবে বললো)
-- তারমানে তুমিও এই কলেজেই পড়ো। তাহলে তো আরো ভালো হয়, এক কলেজে দুইজনে প্রেম করতে পারবো।(আমি)

-- ওই ফাজিল পোলা চুপ।
-- জ্বি ফাজিল হতে পারি কিন্তু এই (পোলাডা খুব ভালো, দেখে নিও তোমার খুব কেয়ার করবে। প্লিজ আমাকে একটু ভালোবাসতে দাও।)
-- দেখ বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে।
আমি এবার ওর হাতটা ধরতেই...
আমার গালে একটা কষে ঠাসসসস করে থাপ্পড় মেরে....(জান্নাত)
-- তোর সাহস কি করে হয় যে তুই। আমার হাত ধরছিস?

(আমি এবার গালে হাত দিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলাম, জ্বি আমি খারাপ কাজইই করেছি কারোর পারমিশন না নিয়ে কারোর হাতে হাত রেখেছি।)

-- সরি
-- সরি। এরপর থেকে আমার চোখের সামনে আসবি না। ছি ছি একটা লম্পট চরিত্রহীন পোলা, যে সারাদিন রাস্তার মাইয়াদের লগে টাংকি মারে সে আবার আমার সাথে রিলেশনশিপ এ আসবে। যা ভাগ।(জান্নাত)

(এটা বলে জান্নাত চলে গেল আমার সামনে থেকে চলে গেলো, সঙ্গে সঙ্গে আমি হাটমুড়ে বসে পড়লাম, বসতেই আমার মাথা ঘুরতে লাগলো খুব কষ্ট হচ্ছে, আমার বুকটা হু হু করে কেঁদে উঠছে  আমার চোখ দিয়ে পানী টপটপ করে পড়তে থাকলো। এবার আমার কাছে আকাশ এসে আমাকে তুলে বুকে জড়িয়ে নিয়ে....)
-- ভাই এটা সম্ভব না, দেখ ও তোর থেকে সিনিয়র। কোনোভাবেই রিলেশন হবে না। (আকাশ)
(আমি এবার কেঁদেকেঁদে...)
..
-- আকাশ আমি ওকে খুব ভালোবেসে ফেলেছিরে এই একদিনের দেখাতে।
-- দেখ ভাই ওটা ভালোবাসা ছিলো না ওটা এক তরফা ভালো লাগা ছিলো।
-- আকাশ আমি ওকে ছাড়া থাকতে পারবো না।
-- ছাড়।

(এবার আমাকে সাগর আর রিয়ার  কাছে নিয়ে এলো, আমার এমন অবস্থা দেখে সাগর আর রিয়া হো হো করে হাসতে লাগলো। আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে আর এদের আনন্দ হচ্ছে, আজ বুঝলাম কিছু কিছু কুত্তা ফ্রেন্ড আছে তারা দুঃখের সময়েতেই হাসাহাসি করে মনে হয় এই কুত্তাগুলো এজন্যই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড, আমি ওদের এমন কান্ড দেখে রেখে আমি সোজা বাসায় চলে এলাম।)
......
(বাসায় এসে সোজা বিছানায় শুয়ে পড়লাম, বালিশে মুখ গুঁজে। চোখ দিয়ে পানী অনবরত ভিজে যাচ্ছে। আমি প্রতিজ্ঞা করলাম এবার যে, জান্নাতের সামনে আমি আর কোনোদিন যাবো না প্রমিস। কারন আমার ভালোবাসার মানুষটা যদি এতে খুশি থাকে তাহলে আমিও থাকবো।)
.....
(এভাবে কিছুক্ষন শুয়ে থাকার পর আমার প্যান্টের পকেটে থাকা মোবাইলটা যেন এক মুহূর্তের জন্য কেঁপে উঠলো তাই আমি মোবাইলটা বের করলাম আর স্ক্রিন অন করতেই দেখি একটা আননোন নাম্বার থেকে ম্যাসেজে লিখেছে.....)
-- এই ফাজিল পোলা রাগ করেছিস, খুব কষ্ট পাচ্ছিস তাই না।

(কার নাম্বার আমি বুঝে উঠতে পারছিনা তাই আমি কল দিলাম দেখি কল রিসিভ করছে না আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম যে এটা কার নাম্বার।
আবার একটু পর....)

-- এই কুত্তা 😡😡😡😡😡 রিপ্লাই দে বলছি।
আমি এবার....
-- আপনি কে যে আপনাকে রিপ্লাই দিতে হবে চিনিনা জানিনা।
-- যা বলছি তার জবাব দে।
-- আমি কারোর গোলাম না যে আপনি যা বলবেন তার সব জবাব দেবো।
-- দেখ খুব খারাপ হয়ে যাবে।
-- হোক, অসুবিধা নেই।
-- এই ১৪৩।
(ভাই আবার এটা? আমি তো বুঝে উঠতে পারছিনা আমার সাথে কেন এরকম হচ্ছে😡😡😭😭😭😭)
#waiting _for_next
নতুন আইডি তাই গল্প প্রেমিক প্রেমিকারা অ্যাড দিতে পারেন।
আগামী পর্ব আসার আগে পর্যন্ত আলহামদুলিল্লাহ সবাই ভালো থাকবেন.......
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label