নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

Story:-বউয়ের অবহেলা [ Season 2 ] part 1 থেকে part 5

Story:-বউয়ের অবহেলা
         [ Season 2.]
Part:-5

Writter:-Johny Ahmed.

আন্টির সাথে কথা শেষ করে নিজের রুমে চলে আসলাম। চলে যাবো এই স্বার্থপর প্রিয় মানুষটির মায়াজাল ছেড়ে।তবে আমি কি ঈশিতা কে ছাড়া থাকতে পারবো?হয়তো কষ্ট হবে।কিন্তু আমাকে যে থাকতে হবে।ঈশিতার অবহেলা গুলো আর নিতে পারছি না।হয়তো প্রতিদিন ঈশিতার কথা ভেবে কান্না করবো?কি পেলাম ঈশিতাকে ভালোবেসে। অন্যদিকে দিশাও নাকি আমাকেই ভালোবাসে।কিন্তু আমি তো দিশার ভালোবাসা চাইনি?আমি চেয়েছি ঈশিতার ভালোবাসা।যা সেই ছোট থেকে চেয়ে এসেছি।

এরপর সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করে কলেজে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে পড়লাম।আজকে কলেজে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা ছিলো না।তবুও দিশার জন্য যেতে হবে।কলেজে এসে ক্লাসে ঢুকে গেলাম কিন্তু দিশাকে কোথাও দেখতে পেলাম না?ব্যাপার কি মেয়েটা কোথায় গিয়েছে?ক্লাস প্রায় শুরু হয়ে যাবে।দিশা এখনও আসে নাই। অনেক বার ফোনে ট্রাই করেছি কিন্তু ফোন দরেনাই। তাই আমি ক্লাস থেকে বের হয়ে দিশাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।বাড়ির সামনে গিয়ে দেখি গেটে তালা দেওয়া।কি আজব ব্যাপার মেয়েটা কোথায় গেলো?পাশের বাড়ির কয়েক জনকে জিজ্ঞাসা করলাম কিন্তু কেউই জানে না কোথায় গেছে?মেয়েটা যেখানেই যাক এটলিস্ট বলে তো যাবে।আমার মনে হয় দিশার ভালোবাসা মুখেই ছিলো অন্তরে না।কথা ভেবে মুচকি হাসলাম। আসলে সব মেয়েরাই এক।[Don,t mind apu ra...]মেয়েরা মুখে শুধু ভালোবাসি বলে কিন্তু হৃদয় থেকে কয়জন বা ভালোবাসে?

এরপর গাড়ি নিয়ে নদীর পাড়ে গেলাম। আর কখনও মন খারাপ হলে এখানে আসা হবে না।ঘন্টার পর ঘন্টা এখানে বসে সময় কাটানো হবে না।এই সব কিছু ছেড়ে যেতে একদম মন চায় না।কিন্তু এতো অবহেলা নিয়ে ও তো থাকা যায় না। নদীর পাড়ে কিছুক্ষাণ বসে বাসায় আসলাম।

ব্যাগপত্র সব গুছিয়ে নিতে হবে।নিজের প্রয়োজনীয় সব জিনিস নিলাম।সাথে ঈশিতার একটা ছবি ও নিলাম।আসলে আমার কাছে ঈশিতার কোনো ছবি নাই।তার অজান্তে ওর রুম থেকে নিয়ে নিলাম।এরপর রুমে এসে একটা চিঠি লিখলাম ঈশিতার জন্য।

প্রায় দুপুর হয়ে এসেছে।তাই ফ্রেশ হয়ে নিলাম।এরপর আযানের সাথে সাথে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ে আসলাম।বাড়িতে দুপুরের খাবার খেয়ে একটু ঘুমিয়ে নিলাম।ঘুম থেকে উঠলাম প্রায় বিকাল বেলা।এরপর ফ্রেশ হয়ে চুপিচুপি ঈশিতার রুমে গেলাম।ভালো ভাবে তাকিয়ে দেখি ঈশিতা এখন ও আসে নাই।তাই ওর রুমে গিয়ে চিঠির উপরে একটা গোলাপ দিয়ে টেবিলে রেখে আসলাম।

এরপর সবকিছু ভালো ভাবে চ্যেক করে নিলাম।রাকিব কে ফোন দিয়ে বললাম ফ্যান্টাসি কিচেনে আসার জন্য।আমি গিয়ে ওর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম।প্রায় আধা-ঘন্টাপর রাকিব আসলো।

-কিরে কেমন আছিস?তুই তো একটা কলও দিস না?

~আরে বলিস না ব্যেটা।ঈশিতা ম্যাম সবসময় অফিস লেট করে ছুটি দেয়। আর সব সময় কাজের উপরে রাখে।জীবন টা ত্যাজপাতা বানিয়ে পেলছে।একটু অবাধ্য হওয়া যায় না।আবার অফিস শেষে বাসায় এসে রান্না করতে হয়।তুই তো জানিস আমার কেউই নাই।সব কিছু নিজেকে করতে হয়।

-দূর পাগল কে বলছে তোর কেউ নাই?আমি আছি তো সব সময়।আর আমাদের ভাবি কবে আসবে?

~ওম্মা কে ভাবি? কিসের ভাবি? কার ভাবি?কোথায় থেকে আসলো ভাবি?আমি তো জানতাম না।

-ভাব নিওনা আমার সাথে।চুপিচুপি অনার্স শেষ বর্ষের একটা মেয়ের পিছনে ঘুরো কিন্তু মেয়েটা পাত্তা দেয় না আর তুমি ভাবো আমি কিছুই বুঝি না।

~ওই ওই তুই কেমনে জানলি?আমি তো তোকে বলি নাই।

-তুই তো বলবি না আমি জানি।তাই আগে থেকে খবর নিয়ে রাখলাম।তা কি খাবি অর্ডার কর।আজকে আমি তোকে খাওয়াবো।যা ইচ্ছা অর্ডার দে।সাথে আমার জন্যও দে।

~হুমমম ওকে।

এরপর আমরা খেয়ে নিলাম।

-আচ্ছা দোস্ত একটা কথা বলতেছি তোকে।যা যা বলব মনোযোগ দিয়ে শুনবি

~হুমম বল।

-আমি দেশের বাহিরে যাচ্ছি।কবে ফিরবো জানি না।তুই সব সময় অফিসে ঈশিতার খেয়াল রাখবি।আমার সাথেও যোগাযোগ রাখবি।আর আমি কিন্তু একদিন না একদিন ফিরবো।তবে কখন তা জানি না।তুই ঈশিতার উপর নজর রাখিস।আসলে মেয়েটা একটু অগোছালো আর অবুজ।যদি ঈশিতার কিছু হয় তাহলে তোকে সব কিছুর জন্য জবাব দিতে হবে।তুই তো জানিস ওকে কতোটা ভালোবাসি।আর তোকে খুব মিস করবো দোস্ত।

~সত্যি কি চলে যাবি?আর না গেলে হয় না দোস্ত?এই পৃথিবীতে আমার মা-বাবা আর আপন বলতে কেউই নেই।কিছুদিন আগে থেকে তোর সাথে পরিচয় হয়।তুই এতটা আপন হয়ে উঠবি ভাবেই পারি নাই।নিয়তি চাইলে দেখা হবে।আর তোর ঈশিতাকে আমি দেখে রাখবো।নিজের যত্ননিস দোস্ত।[দেখলাম ছেলেটার চোখে পানি।]

-আরে পাগল কান্না করিস কেনো?আমি তোর সাথে তো যোগাযোগ রাখবো।আচ্ছা দোস্ত আজকের মত উঠলাম।ভালো থাকিস দোস্ত।

~হুমমম তুইও।তোকে খুব মিস করবো।

-আমিও দোস্ত।

এরপর চলে এলাম বাড়িতে।প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছে।সেই পুরোনো স্মৃতি গুলো বেসে উঠে আসছে চোখের মাঝে।কত অবহেলা নিয়ে কাটিয়েছি দিন গুলো।হয়তো আমি চলে গেলে ওর কিছু আসে যায় না।ঈশিতা তো আমাকে ভালোবাসেই না।তাহলে আমার অনুপস্থিতিতে ওর কিছু আসবে-যাবে না।রাত প্রায় ১২টা বাজে।আমি ঘুমিয়ে আছি হঠাৎ মোবাইল এর আওয়াজে ঘুম ভেঙ্গে গেলো।মোবাইল এর স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখি দিশার নাম্বার।তাড়াতাড়ি করে রিসিভ করলাম।

-হ্যালো দিশা।কথায় ছিলে তুমি সারাদিন?(আমি)

<.............?

-কি হইছে দিশা?তুমি জানো আজকে কতো বার তোমার মোবাইলে ট্রাই করছি।কিন্তু তুমি ফোন রিসিভ করো নাই কেনো?কি হইছে চুপ কেনো?

<(ওই পাশ থেকে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দ আসছে।)

-কি হইছে দিশা?চুপ করে আছ কেনো।তোমার জন্য তোমাদের বাড়িতে গেছি।কিন্তু দরজায় তালা দেওয়া।কোথায় ছিলে?তোমাকে উত্তরটা ও দেওয়া হয় নাই।

হঠাৎ মোবাইলটা কেটে গেলো।বুঝলাম  না মেয়েটা হঠাৎ করে কথায় উদাও হয়ে গেলো?আবার ফোন দিয়ে কান্না করছে কিন্তু কোনো কথা বলছে না।মেয়েটা এমন কেনো করলো?এরপর আবার ঘুমিয়ে গেলাম।

Part:-4

ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।বারবার শুধু ঈশিতার কথা গুলো মনে পড়ছে।তবে কি চিরতরে হারাতে হবে ঈশিতাকে?আর যেই ভাবে অবহেলা করছে তাতে ঈশিতা না থাকাও ভালো।কিন্তু প্রিয় মানুষটি কাছে থেকে অবহেলা করলে তা না পাওয়ার চেয়ে ও ভালো।কিন্তু আমি যে এতো অবহেলা নিতে পারছি না।কিন্তু একদিন ওর অবহেলা গুলোও খুব মিস করবো।আমাকে ও কিছু একটা করতে হবে।এমন কিছু করবো যাতে ঈশিতা নিজেই আমার কাছে আসে।নাস্তা করে কলেজে যাওয়ার জন্য রেড়ি হয়ে নিলাম।এরপর গাড়ি নিয়ে কলেজে চলে আসলাম।মনে পড়ে সেই দিন গুলো যখন আমি আর ঈশিতা এক সাথে কলেজে আসতাম।আমি সবসময় ক্লাসে চুপটি মেরে বসে থাকতাম আর ঈশিতা ওর ফ্রেন্ডদের সাথে কতো মজা করতো।
আমি গাড়ি পার্ক করে ক্লাসে চলে আসলাম।বসে আছি নিজের বেঞ্চে।হঠাৎ কোথায় থেকে একটা মেয়ে এসে আমার পাশে বসে পড়লো।

-আরে দিশা তুমি?
<হ্যাঁ আমি।কেমন আছো?
-এতো ভালোই,তুমি?
<হুমমম আমি ও ভালো আছি।
-দিশা একটা কথা ছিলো?
<হুমম বলো সমস্যা নাই।
-সত্যি কথা বলতে হবে কিন্তু।
<আরে বাবা সত্যিই বলবো।
-আচ্ছা ঈশিতার কি কোনো বয়ফ্রেন্ড আছে?তুমি কি জানো?
<না তো,আমার জানা মতে কেউ নাই।কেনো কি হইছে বলো তো?
-নাহহহ তেমন কিছুই না।
<হুমমম বুঝলাম তেমন কিছু না,তবুও বলো তুমি।
-আসলে ঈশিতা আমাকে কালকে  বললো ওর নাকি বয়ফ্রেন্ড আছে।
<আরে বলো কি?আমাকে তো কখনও বলে নাই।আর তুমি থাকতে অন্য কোনো ছেলে কেনো থাকবে।তুমি না ওর স্বামী?
মুচকি হেসে বললাম.....
-দিশা তুমি তো জানো আমি ওর নামে স্বামী অধিকারে না।
<জনি তোমাকে একটা কথা বলবো,রাখবা আমার কথা?
-আচ্ছা বলো কি করতে হবে।
<নাহহহহ!আগে আমাকে কথা দিতে হবে।
-আচ্ছা দিলাম।এখন তো বলো।
<চলো না আমরা আজকে ক্লাস না করে ঘুরবো।অনেক হলো যাই না।চলো না প্লিজ।
- কিন্তু ক্লাস?
<তুমি কিন্তু কথা দিয়েছো?যেতে তো হবেই।
কি আর করা যায়।কথা যখন দিয়ে দিয়েছি,তা হলে কথা মতো কাজ করতে হবে।
এরপর গাড়ি নিয়ে আমি আর দিশা বেরিয়ে পড়লাম।উদ্দেশ্য নদীর পাড়ে যাবো।এরপর আমরা আমাদের গন্তব্যে চলে এলাম।বসে আছি নদীর পাড়ে একটা গাছের নিচে।কি সুন্দর প্রকৃতি,যার বর্ণনা দিয়ে শেষ করা যায় না।দিগন্ত বিস্তৃত নদী,নদীর ওপারে সারি সারি গাছ।চারদিকে হালকা রোদের তাপ।আর দক্ষিণের বাতাস এসে মনে দৌলা দিয়ে যাচ্ছে।সব মিলিয়ে একটা মনমুখগ্ধ কর পরিবেশ।
<জনি কি ভাবো?
-এইযে কতো সুন্দর প্রকৃতি।দিগন্ত বিস্তৃত নদী।এর পাড়ে আমরা দুইজন পাশাপাশি একটা গাছের নিচে বসে আছি।
<হুমমম এই সময়টা আরো সুন্দর হয় যখন প্রিয় মানুষটি পাশে থাকে।
কিছু বললাম না।চুপচাপ করে বসে রইলাম।
<কি হইছে বসে আছো যে?কথা বলো না কেনো?
-নাহ এমনিতেই।
<আচ্ছা তুমি কি এখনও ঈশিতাকে ভালোবাসো
-হুমমমম বাসি তো।আগের মতোই ভালোবাসি।তুমি কাকে ভালোবাসো বললে না তো?
<হুমম আমিও একজনকে খুব ভালোবাসি।তবে বলতে পারছি না।কারণ ওর যে এখন বউ আছে।
-ওম্মা বলো কি?তাহলে কে সে?
<আচ্ছা দাঁড়াও।
এই কথা বলে ঈশিতা তার ব্যাগ থেকে একটা গোলাপ ফুল বের করলো।এবং আমার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো।

<হবে কি তুমি আমার রাত জাগার কারন?হবে কি তুমি আমার স্বপ্ন দেখার কারণ?জানো তোমাকে আমি সেই ছোট থেকেই ভালোবাসতাম।যেইদিন ঈশিতার সাথে তোমাকে প্রথম দেখেছি সেই দিন থেকে তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি।শুধু মাত্র ঈশিতার জন্য কোনো দিন বলে উঠতে পারি নাই।প্লিজ ফিরিয়ে দিয়ো না।খুব ভালোবাসি তোমাকে।যানো ঈশিতা যেইদিন তোমাকে কলেজে সবার সামনে অপমান করতো সেইদিন আমি মুখ বুজে কান্না করতাম।ঈশিতা তো তোমাকে আর ভালোবাসে না।আর ওর বয়ফ্রেন্ড ও আছে।তাহলে আমাকে ফিরিয়ে দিয়ো না প্লিজ।

আমি মুচকি হেসে দিশা নিচু থেকে উঠিয়ে পাশে বসালাম।ফুলটাও নিলাম।
-দিশা তুমি তো জানো আমি ঈশিতাকে ভালোবাসি।আর যদি ভালো না বাসতাম তাহলে এতো অবহেলা,কষ্টের মাঝে ওর কাছে পড়ে থাকতাম না।আর তোমার এইগুলা ভালোবাসা না সব আবেগ।দেখবে সব আগের মতো ঠিক হয়ে যাবে।দেখবে আমার থেকে আরও হাজার গুন ভালো ছেলে আসবে।
<হুমমম হাজার গুন ভালো আসবে কিন্তু তোমার মতো না।প্লিজ ফিরিয়ে দিয়ো না।
তোমাকে না পেলে আমি কিন্তু আত্মহত্যা করবো।[এইবার মেয়েটা কান্না করতে লাগলো।]
-আরে কান্না করছো কেনো?আর আত্মহত্যা করতে হবে না।তবে আমাকে কিছুদিন সময় দিতে হবে।তুমি তো জানো আমি কতো ডিফ্রেসনে আছি?আমাকে কিছুদিন সময় দিতে।

এই কথা বলার সাথে সাথে মেয়েটা আমাকে জড়িয়ে ধরলো।আমি শুধু মুচকি হাসলাম।আর ওর মাথায় হাত রাখলাম।বুঝলাম না?আমি তো এখনও হ্যাঁ বলি নাই।এতেই এতো খুসি?মেয়েটা খুব ইমোশনাল।
এরপর আমার থেকে দিশাকে ছাড়িয়ে দিলাম।
-আচ্ছা দিশা তুমি কি আমাকে পাবে?আমার তো মনে হয় আমাদের ভালোবাসা পূর্ণতা পাবে না।
<সব ভালোবাসা কি পূর্ণতা পায়?কিছু কিছু ভালোবাসা অসম্পূর্ণ রয়ে যায়!আমাদের টাও না হয় অপূর্ণ থাকবে।আর আমার পাগল টাকে নাহ সারা জীবন দূর থেকে ভালোবেসে যাবো।তবে যেই কয়দিন আছি তোমার সাথেই থাকতে চাই।[চোখের পানি মুছে মুচকি হেসে বলল]
-হুমমম বুঝলাম।আচ্ছা দিশা আমাকে এখন উঠতে হবে।
<হুমমম চলো।
এরপর আমি দিশাকে ওদের বাড়িতে পৌঁছে দিলাম।
<আমি কিন্তু তোমার উত্তরের অপেক্ষা আছি।তবে উত্তরটা কিন্তু হ্যাঁ হতে হবে।
-হুমমমম।ok bye...See you tomorrow.
<ok bye.
এরপর আমি বাসায় চলে আসলাম।ফ্রেশ হয়ে দুপুরে খেয়ে শুয়ে পড়লাম।কিন্তু ঘুম আসছে না।কি করবো ঠিক বুঝতে পারছি না।একদিকে ঈশিতাকে ভুলতে পারবো না অন্য দিকে দিশাকেও কষ্ট দিতে পারবো না।চরম একটা পরীক্ষার সম্মুখীন হলাম।ঈশিতাকে ভুলতে পারবো না।আর দিশাকে কষ্ট দিতে পারবো না।কারন প্রিয় মানুষটি অবহেলা করলে তা কতো কষ্টের আমি বুঝি।কিন্তু আমি তো ঈশিতাকে ছাড়তে পারবো না।আবার দিশাকে ও কষ্ট দিতে পারবো না।ঘুম আসছেই না।তাই উঠৈ গেলাম।ধীরে ধীরে ঈশিতার রুমের দিকে এগোতে লাগলাম।
ওর রুমের সামনেই দাঁড়িয়ে আছি।কিন্তু নক করতে ভয় করছে।তবুও নক করলাম।

- ঈশিতা আসবো?
>হুমমম আয়।আর আমার নাম ধরে আর কখনও ডাকবি না।আজকে মনটা একটু ভালো আছে তাই এই রকম ব্যাবহার করছি।বেশি বাড়াবাড়ি করলে কিন্তু তোর অবস্থা খারাপ করে দিবো।
আমি দরজায় এসে ভাবতে লাগলাম"আমাকে অবহেলা করে ওনার মনটা ভালো আছে।আসলে এই পৃথিবীর মানুষ গুলো বড়ই আজব"।
>ওই কি হইছে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো?আর কি বলবি তাড়াতাড়ি বল।
-না মানে একটা কথা চিলো।যদি কিছু মনে না করেন তাহলে বলতে পারি।
 >এতো ন্যাকামো না করে কি বলবি বল।
--আপনি কেনো এই রকম করেন আমার সাথে?আমি তো আপনার স্বামী।আমার দোষটা?কি কারণে আমাকে প্রতিনিয়ত অবহেলা করে যাচ্ছেন?কেনো বারবার কষ্ট দিচ্ছেন?কোন পাপের শাস্তি দিচ্ছেন আমাকে?
>আমি তোর এতো প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য নই।আর তোকে আমি আগেই বলেছি আমি তোকে ভালোবাসি না,তোকে দেখলে আমার ঘৃণা হয়।এই বাড়িতে শুধু আব্বু-আম্মুর জন্য তোকে রেখেছি।যেই ভাবে আছিস সেই ভাবেই থাক,আমার কাছে স্বামীর অধিকার নিয়ে আসবি না।এখন আমার রুম থেকে চলে যা।আমাকে আর ডিস্টার্ব করবে না।যত্তোসব ছোটলোক আসছে আমার কাছে ভালোবাসা পেতে।
-হুম চলে যাচ্ছি।তবে এই রুম থেকে নয়, এই বাড়ি থেকে একদিন চলে যাবো।চিরতরের জন্য চলে যাবো, কোনো ছোটলোক আর আপনার কাছে আসবে না স্বামীর অধিকার চাইতে। কেউ আর বলবে না ভালোবাসি আপনাকে।[কথা গুলো বলে চোখের পানি মুছতে মুছতে চলে আসলাম।]

এরপর আন্টির রুমে গেলাম।
-আন্টি আসবো?
=হুমমম বাবা আয়।কিছু বলবি?
-হুমমম আন্টি,তোমার অনুমতি ছাড়া আমি এই কাজ করতে পারবো না।
=আচ্ছা বল কি কথা?আর অনুমতি তো অবশ্যই দিবো।
-আসলে আন্টি আমি আর ঈশিতার অবহেলা নিতে পারছি না।একটু মুক্তি পেতে চাই এই মায়াজাল থেকে।বাঁচতে চাই নিজের মতো করে।গড়তে চাই আমার একটা নিজস্ব পৃথিবী।যেই পৃথিবীতে থাকবে না কোনো অবহেলা,থাকবে না প্রিয় মানুষটির দেওয়া কষ্ট।তাই আন্টি আমি দেশের বাহিরে যেতে চাই।তুমি প্লিজ না করো না।আমার সুখের কথা ভেবে অনুমতি দাও প্লিজ!
=আরে বোকা দেশের বাহিরে যাবি সমস্যা কি তাতে?আমি ও চাই না তুই আর কোনো কষ্ট পাছ।তবে আমার প্রতিদিন যোগাযোগ রাখতে হবে।আমি তোর আংকেল কে বলব।তুই শুধু বল কখন যেতে চাস?
-এই তো আন্টি পরশু।পারবো না এতো অবহেলা নিতে।আর তোমাকে কি করে ভুলি বলো তো?
=আচ্ছা এখন গিয়ে শুয়ে থাক।

এরপর আমি আমার রুমে চলে আসলাম।ঈশিতা কে ছেড়ে কি ভাবে থাকবো?কিন্তু ওর অবহেলা গুলোও নিতে পারছি না।না পারছি ওর সাথে থাকতে না পারছি ওকে ভুলে যেতে।আর দিশার সাথে রিলেশন এ জড়িয়ে মেয়েটা কে শুধু শুধু কষ্ট দিতে চাই না।তবে আমার মনে হয় ওকে বুঝালে ও ঠিকই  বুঝবে।এই সব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেলাম।


Part:-3

ঘুম ভাঙ্গে প্রায় সকাল ৯ টায়।কি ব্যাপার?কোনো দিন তো এতো দেরি ঘুম ভাঙ্গে না।শুয়া থেকে উঠতে চেষ্টা করলাম কিন্তু  উঠতে পারছি না।পুরো শরীর কি রকম ভার হয়ে আছে আর আগুনের মতো পুড়ে যাচ্ছে।হঠাৎ করে আবার জ্বর এলো কেনো?কালকের ঘটনা মনে পড়ে গেলো।কপালে হাত দিয়ে দেখি কে যেনো জলপট্টি দিয়ে রেখেছে।এরপর অনেক কষ্টে বিছানা থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।আজকে আর অফিসে যাওয়া হবে না।অনেক লেট হয়ে গেছে।একটা জিনিস বুঝতে পারলাম না আমার মাথায় জলপট্টি দিলো কে?মনে হয় আন্টি ছাড়া আর কেউ হতেই পারে না।আন্টির কথা ভাবতেই আমার রুমে এসে হাজির হয়ে গেলেন।
=এখন কেমন আছিস ভাবা?জ্বরটা কমেছে?
-হুমমম আন্টি এখন একটু সুস্থ আছি।আর জ্বর টা ও একটু কমেছে।
=আমি তোর জন্য নাস্তা নিয়ে এসেছি।হা কর আমি খাইয়ে দেই।
এরপর আন্টি আমাকে খাওয়াতে লাগলেন।আমি চুপচাপ খেয়ে নিচ্ছি।
-আচ্ছা আন্টি আমার মাথায় জলপট্টি দিলো কে?
=আমি দিয়েছি।আচ্ছা কালকে কি হইছে সত্যি বল?গাড়ির সাথে হালকা ধাক্কা লাগলে তো এই রকম আঘাত হয় না।আবার রাতে জ্বর এসেছে।সত্যি করে বল কিন্তু।আমার সাথে মিথ্যা বলবি না।
-না আন্টি সত্যি সেই রকম কিছু না।
=আবার মিথ্যা কথা বলিস?আমি কিন্তু সব বুঝি।ঈশিতা এই রকম করেছে তাই না?সত্যি কথা বলবি কিন্তু।
-আসলে ইয়ে......জানাটা কি বেশি জরুরি?
=হুমম বেশি জরুরি।বল আমাকে।
এরপর অনিচ্ছা সত্যেও আন্টি কে সব বলতে হলো।
আমার কথা শুনে আন্টির মুখ টা কালো হয়ে গেলো।আমার মাথার বেন্ড্রিস টা খুলে আন্টি দেখতে লাগলেন।এরপর আন্টি কিছু না বলে আমাকে ওষুধ খাইয়ে দিয়ে চলে গেলেন।আমি ও চুপচাপ শুয়ে পড়লাম।অনেক দিন কলেজে যাওয়া হয় নাই।আবার সামনের মাসে পরীক্ষা,আমার ওই রকম ভালো প্রস্তুতি নাই।কালকে কলেজে যেতে হবে।এই ভাবে দিনটা কেটে যায়।

জ্বরটা একটু কমেছে তাই সকালে  নাস্তা করে গাড়ি নিয়ে বেরি পড়লাম কলেজের উদ্দেশ্যে।হঠাৎ আমার গাড়ির সামনে একটা মেয়ে এসে পড়লো।আমি তাড়াতাড়ি ব্রেক করলাম তবুও গাড়ির সাথে হালকা ধাক্কা লাগে মেয়েটির।আমি তাড়াতাড়ি গাড়ি বন্ধ করে গাড়ি থেকে নেমে পড়লাম।এরপর মেয়েটিকে তুলতে গেলাম।আরে এইটা তো ঈশিতার ফ্রেন্ড দিশা।আমি তাড়াতাড়ি হাতটা বাড়িয়ে দিলাম দিশার দিকে।

-উঠে আসো দিশা।
এরপর আমি ধীরে ধীরে দিশাকে তুলতে লাগলাম।গাড়ির সাথে ধাক্কা লাগার কারনে মেয়েটা পায়ে ব্যাথা পাইছে।উঠে দাঁড়াতে কষ্ট হচ্ছে।
-তোমার কি হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে?
<নাহ তেমন না ঠিক হয়ে যাবে।আচ্ছা এখন ছাড়ো আমি যেতে পারবো।
-আচ্ছা।
আমি দিশাকে ছেড়ে দিলাম।ও ধীরে ধীরে হাঁটার চেষ্টা করতে লাগলো।কিন্তু পায়ের ব্যাথার কারনে পারছে।দিশা পড়ে যেতে লাগলো,তাই আমি তাড়াতাড়ি দিশাকে আবার ধরে পেললাম।
-চলো আমি তোমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি।
<না তার আর দরকার হবে না,,,আমি যেতে পারবো।
-চুপ!সেই তখন থেকে যেতে পারবো যেতে পারবো বলছে তো।কই একটু ও তো সামনে যেতে পারছো না।
<তো আমি এখন কি ভাবে যাবো?
-আচ্ছা দাঁড়াও।

কি করবো ঠিক বুঝতে পারছি না।মেয়েটা ঠিক মতো হাঁটতেও পারছে না।তাই কোনো কিছু না ভেবে দিশাকে কোলে তুলে নিলাম।এইরকম কিছুটা একটা করবো দিশা ভাবতে পারেনি?আমার দিকে ড্যাবভ্যাব করে তাকিয়ে আছে।আমি আর কিছু না বলে দিশা গাড়িতে উঠিয়ে নিলাম।আসলে আমার ও কোনো ইচ্ছা ছিলো না দিশাকে কোলে নেওয়ার কিন্তু পরিস্থিতির শিকার হয়ে করতে হলো।এরপর দিশাকে একটা হাসপাতালে নিয়ে আসলাম।ডাক্তার দেখাতে হবে না হয় পরে আবার সমস্যা হতে পারে।গাড়ি থেকে হাসপাতালের ভিতর কোলে করে নেওয়া লাগলো।এরপর ডাক্তারকে দেখিয়ে নিলাম।আঘাতটা একটু বেশি লেগেছে।তবে কিছুক্ষন পর ঠিক হুয়ে যাবে।ডাক্তার কিছু ওষুধ লিখে দিলেন ওষুধ গুলো কিনে দিশাকে নিয়ে আবার গাড়িতে চলে এলাম

-দিশা কোথায় যাবে এখন?কলেজে নাকি বাড়িতে?
<কলেজে চলো।
-ঠিক মতো হাঁটতে পারবে তো?সমস্যা হলে বলো আমি তোমাকে বাড়িতে দিয়ে আসবো।
<হুমমম হাঁটতে পারবো।সমস্যা হবে না আমার।কলেজে চলো।

 এরপর আর কিছু না বলে গাড়ি চালাতে লাগলাম।গাড়ি চালানোর সময় খেয়াল করলাম দিশা আমার দিকে বারবার আড়চোখে তাকিয়ে রয়েছে।আমি কিছু বললাম না। কেলেজে চলে এলাম।অনেক দিনপর কলেজে এলাম।দিশা গাড়ি থেকে নেমে হাঁটতে লাগলো।কিন্তু পারছে না।তাই আমি গিয়ে দিশার হাতটা ধরে ফেললাম।এরপর ধীরে ধীরে ওকে নিয়ে যেতে লাগলাম।কলেজের সবাই আমাদের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।আমি ওই দিকে পাত্তা না দিয়ে দিশাকে নিয়ে ক্লাসে চলে আসলাম।এরপর মেয়েটাকে আমার পাশেই বসালাম।কারণ মেয়েটা এখন আমার দ্বায়িত্বে।আমার জন্য মেয়েটার এই অবস্থা হয়েছে।কিন্তু মেয়েটা ওই সময় এতো তাড়াহুড়ো করে কোথায় যাচ্ছিলো?
- দিশা ওই সময় এতো তাড়াহুড়ো করে কোথায় যাচ্ছিলে?
<কলেজে যাচ্ছিলাম।আসলে একটা কাজ ছিলো।
-ওহহহহহহ।
<আচ্ছা জনি একটা কথা বলো তো!সত্যি করে বলবা।
- হুমম বলো কি শুনতে চাও?
<এতোদিন কই ছিলে তুমি?আর শরীরের কি অবস্থা করেছো?ঠিক মতো খাও না নাকি?
সব সময় সবার কাছ থেকে এই প্রশ্নটা এড়িয়ে যেতে চাই।কিন্তু পারি না,প্রশ্নটার সম্মুখীন হতে হয়।
-নাহ তেমন কিছু না।
<সত্যি করে বলবা কিন্তু।আমি জানি তুমি মিথ্যা কথা বলতেছো।যেদিন থেকে তুমি কলেজে আসো নাই সেইদিন থেকে ঈশিতা ও আসবো না।সমস্যা কি বলো তো।
-ইয়ে সেই রকম কিছু না।শুধু একটু প্রবলেম হইছে।
<হুমমম প্রবলেম টা কি?বন্ধু ভেবে বলতে পারো।
-আসলে দিশা ওই দিন আমি ঈশিতার কথা রাখতে গিয়ে তাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে যাই।ঠিক ওইদিন আমার রোড এক্সিডেন্ট হয়।প্রায় ৪ মাস পর আমার জ্ঞান ফিরে।ডাক্তার কাছে থেকে জানতে পারি আমি ৪ মাস কোমায় ছিলাম।চিকিৎসার ব্যাপারটা হলো ওই হাসপাতালে নাকি একটা ফান্ড আছে।যে রোগির আত্মীয় বা কাছের কেউ যদি না থাকে তাহলে তাদের হাসপাতালের ওই ফান্ড থেকে চিকিৎসা করা হয়।আমার চিকিৎসা টা ও হয় ওই ফান্ডের সাহায্য।এরপর যখন জ্ঞান ফিরে কোথায় যাবো,কি করবো কিছুই বুঝতে পারি নাই।ভাগ্যবসতো আবার ঈশিতাদের বাড়িতেই আসতে হলো।যখন ঈশিতাদের বাড়িতে ফিরে এলাম ভাবলাম এ কয়েকদিনে হয়তো আমার জন্য ঈশিতার মনে একটু হলেও মায়া জন্মাবে।কিন্তু তা আর হলো কই?সেই আগের মতোই ঈশিতার কাছ থেকে অবহেলা পেলাম।

কথা গুলো বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম।দিশার দিকে তাকিয়ে দেখি তার মুখটা কেমন মলিন হয়ে আছে।বুঝতে পারলাম আমার কথা শুনে হয়তো একটু কষ্ট পেলো।
<আচ্ছা জনি ঈশিতা তোমাকে এতো কষ্ট দেয়,এতো অবহেলা করে,এতো অপমান করে তবুও তুমি কিছু বলো না কেনো?
-ভালোবাসি তাই কিছু বলতে পারি না।ঈশিতার ভালোবাসা না পেলে কি হবে?তার দেওয়া অবহেলা গুলো উপহার হিসেবে গ্রহণ করি।
<হুমমম বুঝলাম।ঈশিতা কে ভালোবেসে তুমি অনেক কষ্ট পাচ্ছো।কিন্তু তোমাকে ভালোবেসে আরেক জন কষ্ট পাচ্ছে।না পারছে তোমাকে তার মনের কথা বলতে,না পারছে ভুলে যেতে।
-মানে কি?তোমার কথার কিছুই বুঝলাম না?
<না কিছুই না।
এই ভাবে কথায় কথায় ক্লাস গুলো শেষ হয়ে যায়।এরপর দিশাকে ওদের বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আমি বাড়ি চলে আসলাম।এরপর ফ্রেশ হয়ে চলে খেয়ে একটু ঘুমিয়ে নিলাম।ঘুম থেকে উঠলাম প্রায় সন্ধ্যায়।ফ্রেশ হয়ে নিচে আন্টির রুমে গেলাম।
-আন্টি আসবো?
=হুম বাবা আয়।কিছু বলবি?
-হুমমমম আন্টি বলবো।আংকেল কে বলে দিও আমি এই কয়েকদিন অফিসে যেতে পারবো না।সামনে পরীক্ষা আছে।
=আচ্ছা বলবো।
-আন্টি ঈশিতা কোথায়?ওর রুমে নাকি?
=নাহহ!ঈশিতা এখন ও অফিস থেকে আসে নাই।
-মানে বলো কি?প্রায় রাত হয়ে এলো কিন্তু ঈশিতা এখন ও বাড়িতে আসলো না!অফিস তো সেই কখন শেষ হয়ে যায়।
=কি জানি বাবা,মেয়েটা আজকে এতো দেরি করছে কেনো?আমার খুব চিন্তা হচ্ছে।
-আচ্ছা দাঁড়াও আমি খবর নিচ্চি।
এরপর আমার রুমে এসে রাকিব কে ফোন দিলাম।
-হ্যালো!কেমন আছিস দোস্ত?(আমি)
~এইতো ভালো।তুই কেমন আছিস?
-হুমমম আমিও ভালো আছি।আচ্ছা দোস্ত অফিস কি ছুটি?
~হুমমমমম অফিস তো সেই কখন শেষ হয়ে গেছে?কেনোরে কি হইছে?
-আরে ঈশিতা এখনও বাড়িতে ফিরে নাই।
~বলিস কি?দেখ ম্যাম হয়তো অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত আছে।
-আচ্ছা দোস্ত তাহলে রাখি।তোর সাথে আবার পরে কথা হবে।
~আচ্ছা ঠিক আছে।ভালো থাকিস।
এই বলে মোবাইল টা কেটে দিলাম।কি করি এখন?ঈশিতার নাম্বার টা বউ দিয়ে সেভ করা আছে,কিন্তু কোনোদিন ফোন দেওয়া হয়নি।আর কোনো কিছু না ভেবে ফোন দিলাম।কিন্তু ফোন তুলছে না।এইভাবে ছয়বার ফোন দিলাম।তবুও ফোনটা ধরলো না।আমার চিন্তা আরো বেড়ে গেলো।তাই আবার ফোন দিলাম।এইবার ঈশিতা কলটা ধরলো।
>ওই ছোটলোকের বাচ্চা বারবার ফোনদিস কেনো?
-আপনি কোথায়?তাড়াতাড়ি বাড়িতে আসেন।আন্টি আপনার জন্য চিন্তা করছে।
>তোকে বলতে যাবো কেনো?আমি আমার বয়ফ্রেন্ডের সাথে আছি।আর ডিস্টার্ব করবি না আমাকে।যতোসব ছোটলোক কোথাকার।

ঈশিতার কথা শুনে আমার পায়ের নিচের মাটি সরে গেলো।ঈশিতার বয়ফ্রেন্ড আছে?ভাবতেই চোখ দুটো ভিজে গেলো পানিতে।বুক ফেটে কান্না আসছে।আমার ভালোবাসা কখনও ঈশিতা বুঝলো না।শুধু অবহেলাই করে গেলো?তবে কি ঈশিতাকে আমার নিজের করে আর কখন ও পাবো না?কখনও কি আর হবে না ঈশিতার ভালোবাসা পাওয়া?অনেক কান্না করলাম।ভালোবাসার মানুষটির অবহেলা মৃত্যুর সমান।কান্না করতে করতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি ঠিক মনে নেই।

Part:-2

ভোর বেলায় ফজরের আযানে ঘুম ভাঙ্গলো।বিছানা থেকে উঠতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।শরীর টা এখন আগের মতো ব্যাথা করতেছে।অনেক কষ্ট করে উঠে অজু করে নামাজ পড়তে চলে গেলাম।কারন এখনকার এই ব্যাথা জাহান্নামের শাস্তি থেকে কোটি গুন কম।এই সামান্য কষ্টের জন্য কপালে আখিরাতের চিরস্থায়ী সুখ থাকতে পারে।অনেক কষ্ট করে নামাজ পড়ে বাড়িতে আসলাম।এখন একটু ভালো লাগতেছে।হালকা হালকা বাতাস বয়ে যাচ্ছে।অনেক দিনপর সকালের সূর্যটা দেখতে পাবো।কারন হাসপাতালে এতো দিন কোমায় থাকায় বাহিরের আলো আমার হৃদয় স্পর্শ করতে পারেনি।তাই ছাদে চলে আসলাম।খেয়াল করলাম কেউ একজন ছাদের এক কোনায় দাঁড়িয়ে আছে।একটু কাছে যেতেই বুঝতে পারলাম ঈশিতা।আমি গিয়ে ওর একটু পাশে দাঁড়ালাম।ভাবলাম এই কয়দিনে হয়তো আমি তার হৃদয়ে একটু হলেও আমার জন্য জায়গায় করতে পেরেছি।কারো উপস্থিতি টের পেয়ে ঈশিতা আমার দিকে তাকালো।আমাকে দেখে বিরক্তিকর দৃষ্টি নিয়ে তাকালো ঈশিতা আমার দিকে।
>তুই এইখানে কি করিস?তোকে বলছি না আমাকে ডিস্টার্ব করবি না।
-আসলে আমি বুঝতে পারিনি আপনি ছাদে আছেন।জানলে এখানে আসতাম না।
>জানলে আসতো না🙄!এই বাড়িতে আবার কেনো আসলি তুই?তোর নাকি এক্সিডেন্ট হইছে?মরিস নাই কেনো এক্সিডেন্টে।মরে আমাকে উদ্ধার করতি।যত্তসব ছোটলোক কোথাকার।
এই কথা বলে ঈশিতা চলে গেলো।
ঈশিতার কথা শুনে বুকের ভিতর ঘূর্ণিঝড় শুরু হলো।তাহলে কি আমি ভুল ভাবনা নিয়ে এতো দিন বেঁচে ছিলাম?মৃত্যুটাই আমার জন্য শ্রেয় ছিলো।ভালোবাসার মানুষটি বলছে মরতে!তাহলে এই তুচ্ছ জীবন রেখে কি লাভ?শুধুমাত্র আত্মহত্যা করলে এই অবহেলা থেকে মুক্তি পেতে পারি।কিন্তু আত্মহত্যা যে মহাপাপ,আর এই কথা জেনে বেঁচে আছে পৃথিবীতে হাজারো জীবন্ত লাশ।চোখ দিয়ে অনবরত অশ্রু জড়তেছে।কেনো জানি বাঁধা দিয়েও থামাতে পারছি না বুকের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া কষ্টের ঢেউ।আর কতো অবহেলা পেতে জানি না।তবে একদিন এই অবহেলিত জনির কাছে ঈশিতাকে আসতেই হবে।সূর্যোদয় টা না দেখে চলে আসলাম।ইচ্ছা নেই সূর্যোদয় দেখার।
নাস্তা করতে নিচে চলে আসলাম।জানি ঈশিতা আমার সাথে এক টেবিলে বসে নাস্তা করবে না।তবুও বসলাম।ঈশিতা আসলো আর আমাকে দেখেই আবার চলে গেলো।ওই সময় কষ্ট পেয়েও পেলাম না কারন প্রিয় মানুষটির থেকে  কষ্ট পাবো এই কথা যদি জেনে যাই তাহলে ওই রকম আঘাত করে না।তবে জখম টা রয়ে যায়।এরপর আমাকে আন্টি নিজ হাতে নাস্তা খাইয়ে দিলেন।এরপর আমি একটু রেস্ট নিয়ে ফার্মেসীতে গিয়ে ১ মাসের জন্য ওষুধ নিয়ে আসলাম।ধীরে ধীরে পিঠের ক্ষতটা ভালো হতে লাগলো।পিঠের ক্ষত ভালো হয়ে লাভ কি?বুকের ক্ষতটা তো তার চেয়ে হাজার গুন বেশি।যা শুধু ঈশিতাই ভালো করতে পারবে।যার একমাত্র ওষুধ ঈশিতা।
!!!!!!!!!!
!!!!!!!!
!!!!!!
!!!!
!!!
!!
আজ একমাস পর আমি মোটামুটি সুস্থ।কিন্তু অবহেলা টা প্রতিদিন পেতে হয়।এই কারনে না হয় অন্য কারনে।এখন থেকে আমি আংকেল এর অফিসে যাবো।আংকেল বারণ করছে,তবুও ঘরে একা-একা বসে থাকতে ভালো লাগে না।এর চেয়ে অফিসে গেলেই ভালো হয়।কিন্তু  ঈশিতা ও নাকি অফিসে যেতে চায়।তবে ভালোই হবে,কাজের ফাঁকে ঈশিতাকে চুরি করে নিজের ইচ্ছা মতো দেখতে পাবো এতেই অনেক।আজকে অফিসে প্রতিদিন আমার আর ঈশিতার।দুইজনে এক গাড়িতে করে গেলাম সাথে আংকেল ও ছিলেন।আজ থেকে অফিসের নতুন এমডি হচ্ছে ঈশিতা,,,,।
আর আমাকে একটা ডেস্ক দেখিয়ে দিলেন।আমার জন্য কাজটা নির্ধারিত নয়,আমার কাছে ভালো লাগলে কাজ করতে পারবো না হয় অফিসে বসে থাকতে পারবো।প্রথমদিন সবার সাথে পরিচয় হয়ে নিলাম।আর একজনকে বন্ধু বানিয়ে নিলাম.. নাম হচ্ছে রাকিব।আমার সমবয়সী রাকিব আর আমার পাশের ডেস্কে রাকিব বসে।আমরা সমবয়সী হওয়ার কারণে একজন আরেক জনকে তুই করেই বলি।
প্রথম দিন সব কিছু বুঝে নিতে নিতে সময় কেটে গেলো।

পরদিন সকাল বেলা নাস্তা করে অফিসে চলে আসলাম।ঈশিতা ও আমার সাথেই গাড়িতে আসে।আমি গাড়ি চালানোর ফাঁকে ফাঁকে ঈশিতার দিকে তাকিয়ে থাকি।মেয়েটা কে দেখতে কতোটা নিষপাপ লাগে,কেউ দেখলে বিশ্বাসই করবে না মেয়েটা যে এতো নিষ্ঠুর।তবে ঈশিতা আমার জন্য নিষ্ঠুর না,ঈশিতা আমার জন্য আমার রাজ্যের রানী।

আমার ডেস্কে বসে আছি এমন সময় পিয়ন এসে বলল ঈশিতা নাকি আমাকে ডাকছে।
তাই গেলাম ওর কেবিনে
-আসতে পারি ঈশিতা?
>ওই ছোট লোক এইটা অফিস,বাড়ি না।আর তোর সাহস কি করে হয় আমার নাম ধরে ডাকিস?
-Sorry Ma'am.বলেন কি করতে হবে?
>মনে থাকে জেনো?এখন এই ফাইলটা রেড়ি করে নিয়ে আয়।
-জ্বী ম্যাম।
প্রায় দেড়-ঘন্টা পর ফাইলটা রেড়ি করতে পারলাম।এইবার ঈশিতার কাছে নিতে হবে,,,,
-May I coming ma'am?
>yes come.
-এই যে ম্যাম ফাইলটা রেড়ি,,,,,
আমার হাত থেকে ফাইল টা নিয়ে ঈশিতা দেখতে লাগলো।হঠাৎ ঈশিতা ফাইলটা আমার দিকে ছুঁড়ে মারলো আর বলতে লাগলো....
>ছোট লোকের বাচ্চা সামান্য একটা ফাইল ঠিক করে তৈরি করতে পারে না..আর আসছে অফিসে কাজ করে।[রাগে চিৎকার করে বলল]

ফাইল টা এসে আমার কপালের আগের ক্ষতটায় লাগে।ফাইলের কোনা লাগায় ক্ষতটা ফেটে টপটপ করে রক্ত জড়তে লাগে।ভীষণ ব্যাথা করতে লাগলো।আমি তবুও চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম।
>দাঁড়িয়ে আছিস কেনো?যা ফাইল টা বিশ মিনিটের মধ্যে ঠিক করে আনবি না হয় তোর কপালে খারাপি আছে।
আমি ফাইল টা ফ্লোর থেকে তুলে নিজের ডেস্কে চলে আসলাম।রক্ত এখন ও জরতে থাকে।বিষয়টা রাকিব ঠিকই বুঝতে পারে তাই রাকিব আমার জন্য অফিসে রাখা মেডিসিনের পাস্টবক্স টা আনলো।আর ধীরে ধীরে ক্ষতটা পরিষ্কার করতে লাগলো।ওর হাতটা আমার ক্ষততে লাগতেই ব্যাথায় চিৎকার দিয়ে উঠলাম।ভীষণ ব্যাথা করতেছে।এরপর রাকিব ধীরে ধীরে আমার মাথা ভালো ভাবে বেন্ড্রেস করে দিলো।এরপর রাকিব চুপিচুপি ফাইল টা আবার ঠিক করে দিলো।আমি গিয়ে ফাইলটা ঈশিতাকে দিয়ে চলে আসলাম।এরপর অফিস শেষে আবার ঈশিতাকে নিয়ে  বাসায় চলে আসলাম।বাড়িতে ঢুকবার সময় আমার মাথায় বেন্ড্রেস দেখে আন্টি আমার কাছে দৌড়ে এসে জিগ্যেস করলেন,,,,,,
=কি হইছে জনি?মাথায় বেন্ডিস কেনো?
-ও কিছু না আন্টি,,,গাড়িতে উঠার সময় গাড়ির সাথে ধাক্কা লেগে হালকা কেটে যায়।দেখবা আমার ঠিক হয়ে যাবে।
এই কথা বলে রুমে চলে এসে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।এরপর রাতে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।


Part:-1

[বিঃদ্রঃযারা "বউয়ের অবহেলা"গল্পটি পড়েন নাই তারা দয়া করে পড়ে নিবেন।না হয় এই গল্পটা বুঝতে পারবেন না]

হাসপাতাল থেকে মুক্তি পেলাম চার মাস পর।ভাবতেই অবাক লাগে এতো গুলোদিন কি ভাবে ছিলাম হাসপাতালে?ঈশিতা একটি বারের জন্যও খোঁজ নেয়নি?ডাক্তারের কাছ থেকে জানতে পারলাম চার মাসে ধরে এই হাসপাতালে ছিলাম।তার মানে ওই এক্সিডেন্ট এ আমার মৃত্যু হয়নি?কেনো বেঁচে গেলাম।আল্লাহ কেনো নিলো না?না জানি আরও কতো অবহেলা সহ্য করতে হবে?কতো অপমানিত হতে হবে?আর কতো কষ্ট সহ্য করতে হবে?ভাগ্যে কি এইটাই লেখা ছিলো?রাস্তা দিয়ে হাঁটতেছি আর কথা গুলো ভাবতেছি।পুরো শরীর ব্যাথা করতেছে।ব্যাথার কারনে ঠিক মতো হাঁটতে পারতেছি না।একটু পরপর মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠছে।মাথা ব্যাথাও ভীষণ বেড়ে যাচ্ছে।জীবনে চারটি মাস অতিবাহিত হয়ে গেলো কোমায় থেকে!কিন্তু ঈশিতা একবারের জন্যও আমার খবর নিলো না?তাহলে কি ওর মনে আমার জন্য বিন্দু মাত্র ভালোবাসা নেই?ওর জীবনে কি আমার জন্য একটুও জায়গায় নেই?আর জায়গা থাকবেই বা কেনো?আমি তো ছোটলোক।হয়তো ঈশিতা এখন নতুন কাউকে নিয়ে শুখে আছে।পাওয়া হলো না আর ঈশিতার ভালোবাসা।এইদিকে সন্ধ্যায় হয়ে আসছে।কোথায় যাবো কি করবো?আমার কাছে একটি টাকা ও নেই যে কিছু খাবো।প্রায় গভীর রাত হয়ে এসেছে।বসে আছি পেটের ক্ষুধা ও ব্যাথার্থ শরীর নিয়ে একটা ল্যামপোস্টের নিচে।ভাবতেই পারিনি জীবনে এমন দিনও পার করতে হবে।সবই নিয়তির খেলা। আনমনে বসে আছি আর আকাশের তারা গুলো দেখছি।আজকে তারাদেরকে ও একা লাগছে।আকাশে চাঁদটা ঠিকই উঠেছে কিন্তু আমার মনের আকাশটা আঁধার হয়ে আছে। হঠাৎ খেয়াল একটা গাড়ি এইদিকে আসতেছে।একবার ভাবলাম সাহায্য চাইবো আবার বসে পড়লাম।গাড়িটা আমার সামনে এসে থামলো।কি  ব্যাপার?গাড়িটা আমার সামনে দাঁড়ালো কেন?হয়তো ওদের কোনো কাজে দাঁড়িয়েছে।আমি গাড়ির দিকে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা করছি।চেনা চেনা মনে হচ্ছে।গাড়ি থেকে একজন লোক নেমে আসলো।আরে এতো আংকেল!চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো।দেখলাম আংকেল এর চোখে পানি।হয়তো কতগুলো দিনপর দেখা হলো তাই।আংকেল এসে আমার পাশে এসে চুপ করে বসলেন।আমি ও চুপচাপ বসে আছি।হঠাৎ নিরবতা ভেঙ্গে আংকেল বললেন.....
~কেমন আছো জনি?
-হুমমম আংকেল ভালোই আছি।যতোটা ভালো থাকলে মৃত্য ব্যক্তি মতো জীবন যাপন করা লাগে?
~কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বললেন"এতোদিন কোথায় ছিলে?
-এইতো আংকেল এক বন্ধুর বাসায়।তা বাসার সবাই কেমন আছে?(মিথ্যা বললাম।কারন সত্যি টা বলা যাবে না)
~হুমমম সবাই ভালো আছে।কিন্তু তোমার এ অবস্থা কেনো?কি রকম শুকিয়ে গেছো?ঠিক মতো খাও না নাকি?একদম বদলে গেছো?আর তোমার কপালে,হাতে এগুলা কিসের দাগ?মনে হয়তো কোনো কাটার দাগ।কি হইছে বলো তো।
-আমার কথা না হয় বাধদেন।ওই দিন সিড়ি দিয়ে নামার সময় পা পিছলে পড়ে গেছি।তাই একটু কাটা গেছে।ঈশিতা কেমন আছে???
~তোমার চলে যাওয়াতে সব চাইতে ভালো আছে ঈশিতা।[কথাটি শুনে অনেকটা কষ্ট পেলাম।এতো দিনেও আমার জন্য তার হৃদয়ে একটু ও মায়া জন্মালো না?]
 জানো তুমি যখন বাড়ি থেকে চলে গেছো তোমার আন্টির হার্টস্টোক হইছে!
(কথাটি শুনে ভীষণ কষ্ট পেলাম।আজকে আমার জন্য সব কিছু হয়েছে।সবকিছুর জন্য আমি দাই।
-আন্টি এখন কেমন আছেন?
~হুমমম আছে মোটামুটি।কিন্তু তুমি যদি না ফিরে যাও তাহলে তোমার আন্টির খারাপ কিছু একটা হয়ে যেতে পারে।
তুমি প্লিজ আমার সাথে চলো।

চুপ করে বসে রইলাম।কিভাবে যাবো আমি ওই বাড়িতে?আমি তো ঈশিতাকে কথা দিয়েছি আর কখনও ওর সাথে দেখা দিবো না।কিন্তু নিয়তি কেনো বারবার পরীক্ষার মুখে ফেলে আমাকে?আবার ঈশিতার সম্মুখীন হতে হবে।চাই না নতুন করে অবহেলা পেতে,চাই না নতুন করে কষ্ট পেতে।কিন্তু আন্টির জন্য ও যেতে হয়।কারন তিনি আমাকে নিজের ছেলের মতো আদর করতেন।আবার ও একটা কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হলাম।

~কি হইছে জনি?চুপ করে বসে আছো কেনো?প্লিজ চলো আমার সাথে।
-কিন্তু আমি তো যেতে পারবো না,আমি ঈশিতাকে কথা দিয়ে এসেছি আর কোনো দিন ওর সামনে যাবো না।
~তুমি কি তোমার কথা রাখতে গিয়ে তোমার আন্টিকে হারাবে?
পড়ে গেলাম আরেক চিন্তায়।ছোটবেলায়
আব্বু-আম্মুকে হারালাম কিন্তু আব্বু-আম্মুর অভাব টা আমাকে বুঝতে দেয়নি তারা,তাহলে আজকে কেনো আমার জন্য মরতে বসবে?এইটা হয় না।
-হুমমমম আংকেল আমি রাজি।
~এইতো আমার লক্ষী ছেলে,চলো।
এইটা বলে আমার কপালে একটা চুমু দিলেন আংকেল।আমি মুচকি হেসে গাড়িতে উঠলাম।গাড়িতে উঠে অবাক হয়ে গেলাম!ঈশিতা ও গাড়িতে রয়েছে!তার মানে কি ঈশিতা আমার সব গুলো কথা শুনে নিয়েছে?
আমি কিছু না বলে গিয়ে গাড়িতে বসলাম।শরীরের ব্যাথার জন্য ঠিক মতো বসতে পারছি না।খুব ব্যাথা করছে।তবুও কষ্ট করে বসে পড়লাম।চুপচাপ বসে রইলাম।আবার অনেক দিনপর ঈশিতার সাথে দেখা হলো।মনে পড়ে সেই দিনটার কথা যেইদিন ঈশিতা কলেজে সবার সামনে আমাকে জুতা দিয়ে মেরেছিলো।ওইদিন ঈশিতার সাথে কলেজে গেলাম।সিড়ি দিয়ে ওঠার সময় হঠাৎ ঈশিতার এক বান্ধবীর সাথে ধাক্কা লাগে আমার।আমি মেয়েটিকে সরি বললাম,মেয়েটি আমাকে কিছু না বলে চলে গেলো।কিন্তু কোথায় থেকে ঈশিতা এসে আমাকে ওর পায়ের জুতা খুলে আমাকে মারতে লাগলো।ঈশিতা তার পায়ের হিলওয়ালা জুতা গুলো দিয়ে  মারতে মারতে আমার শরীর রক্তাক্ত করে দেয়,কিন্তু আমি জায়গা থেকে সামান্য সরে দাঁড়ায়নি।ওই সময় শুধু চোখ দিয়ে পানি জড়েছে।ঈশিতার বান্ধবী এসে ঈশিতাকে বলল"ওর কোনো দোষ নেই,আসলে আমি অনেক তাড়াহুড়োতে ছিলাম ভালো ভাবে খেয়াল করিনি তাই ধাক্কা লাগলো।আর জনিতো নিজে থেকে আমাকে ধাক্কা দেয়নি তাহলে তুই ওকে শুধু শুধু শাস্তি দিচ্ছিস কেনো ঈশিতা?
>আমি জানি ওই ছোটলোক নিজে থেকে তোকে ধাক্কা দিয়েছে দিশা(ঈশিতার বান্ধবীর নাম দিশা)।এই বলে আবার মারতে থাকে আমাকে।প্রায় আধমরা হয়েগেছি ওই দিন।ওই সময় ১৬ দিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছে আমাকে।
শুধু মাত্র একটা ভুলে জন্য সবার সামনে আমাকে অপমানিত করলো।সবার সামনে আমাকে মারলো।কথা গুলো ভাবতে ভাবতে চোখে পানি চলে এসেছে।আমি কান্না করতেছি ঈশিতা বুঝে পেলে,তাই আমি তাড়াতাড়ি চোখ মুছে নিলাম।
এইসব কথা ভাবতে ভাবতে গাড়ি এসে থামলো ঈশিতাদের বাড়িতে।আমি দৌড়ে গেলাম আন্টির কাছে।আন্টি শুয়ে আছে।কি রকম শুকিয়ে গেছেন।মনে হয় ঠিকমত খায় না।ঠিকমত ঘুমায় না,ঠিক মতো ওষুধ ও খায় না।আমি গিয়ে আন্টির পাশে বসলাম এবং মাথায় হাত রাখলাম।আমার হাতের স্পর্শ পেয়ে আন্টি জেগে গেলেন।আমাকে দেখে আন্টি   অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন আমার দিকে।আন্টির চোখ ছলছল করছে,,,আমাকে আন্টি পাগলের মতো চুমু দিতে লাগলেন।
-কেমন আছ আন্টি?
=আগে ভালো ছিলাম নারে।তুই এসে গেছিস আমি এখন খুব ভালো আছি।কিন্তু তোর এই রকম অবস্থা কেনো?কপালে কাটার দাগ,হাতেও অনেক বড় কাটার দাগ রয়েছে।
-ওই টা আন্টি তেমন কিছু না,,,সিঁড়ি দিয়ে নামতে পড়েগেছি তাই একটু কেটে গেছে।
=আমার কেনো যানি বিশ্বাস হচ্ছে না তোর কথা।কেনো জানি  তোর কথা মানতে পারছি না।
-না আন্টি ওই রকম কিছুই না।
=আচ্ছা তুই ফ্রেশ হয়ে আয় আমি তোকে খাবার দিচ্ছি।
-আচ্ছা আন্টি।
আমি চলে যেতে লাগলাম।আন্টি আবার আমাকে পিছন থেকে ডাক দিলেন।
-জ্বী আন্টি বলো।
-এই দিকে আয় তো।তোকে জড়িয়ে ধরি না অনেক দিন হইছে।
আমি মুচকি হেসে আন্টির কাছে গেলাম। আন্টি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন।ঠিক তখনই আমি ব্যাথায় আহহহহ করে চিৎকার দিয়ে উঠলাম।আমার চিৎকার শুনে সবাই ভয় পেয়ে গেলো।
=কি হইছে জনি?
-আন্টি হঠাৎ পিঠে ভীষণ ব্যাথা করে উঠলো।
=কই গেখি?
আমার পরনের টি-শার্ট টা উল্টিয়ে আন্টি
বড়সড়ো একটা ধাক্কা খেলেন বুঝতে পারলাম।সাথে সাথে আংকেল আর ঈশিতা ও।কিন্তু কি এমন হইছে বুঝতে পারলাম না।
=সত্যি করে বল জনি তোর কি হইছে?তুই আমাকে মিথ্যা কথা বললি কেনো?
-আরে আন্টি মিথ্যা বলবো কেনো?আমি তো সত্যি বলতেছি।
=তুই সত্যি বলছিস তাই না?এক থাপ্পড় দিবো?তোর পিঠে ওইটা কিসের দাগ?
-কই কিসের দাগ?
আমি আয়নার সামনে দিকে দেখতে লাগলাম।দেখে আমি নিজেই অনেক বড় ধাক্কা খেলাম!আমার পিঠের প্রায় অর্ধেক টা কাটা।তার মানে ওই এক্সিডেন্ট এই রকম হইছে?কিভাবে বেঁচে গেলাম?এতো বড়ো আঘাত হওয়ার পরেও বেঁচে গেলাম?
=জনি তোকে আমার কছম সত্যি করে বল কি হইছে?
কি করি এখন?সত্যি টা তো বলতেই হবে।
-আসলে আন্টি আমার এক্সিডেন্ট হইছে!ওই দিন বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটা গাড়ির সাথে ধাক্কা লাগে আমার।আমি এতোদিন ধরে আমার কোনো বন্ধুর বাসায় না হাসপাতালে কোমায়  ছিলাম।আর আজকে চারমাস পর জ্ঞান ফিরেছে।
এইবার আন্টি হাউমাউ করে কেঁদে দিলেন।আমি গিয়ে আন্টিকে সান্ত্বনা দিতে লাগলাম।কোনো মতে আন্টিকে ঠান্ডা করলাম।এরপর আন্টিকে বুঝিয়ে-সুজিয়ে চলে আসলাম আমার রুমে।ফ্রেশ হতে গেলাম,ঠিক মতো কিছু ফ্রেশ হতে পারছি না।কোনো মতে ফ্রেশ হয়ে নিচে চলে আসলাম খাওয়ার জন্য।আন্টি আমাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিলেন।তবে একটা জিনিস খেয়াল করলাম ঈশিতা আজকে আমার সাথে এক টেবিলে বসে খেলো।অনেকটা খুশি হলাম।এরপর খাওয়া-দাওয়া শেষ করে রুমে চলে আসলাম।একটু ঘুমানোর চেষ্টা করলাম।কিন্তু পিঠ ব্যাথা জন্য পারছি না।তবুও কোনো মতে চিত হয়ে শুয়ে পড়লাম।

#চলবে?

(বিঃদ্রঃভুলত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন।আর গল্পটা কেমন হচ্ছে জানাতে ভুলবেন না কিন্তু।আর কপিবাজ রা একটু দূরে থাইকেন।ধন্যবাদ সবাইকে।)

 বউ অবহেলা সিজন 2

Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label