নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

Story of Tuition

Story of Tuition
Writer: Morshed Uddin Raj

প্রতিদিন সন্ধ্যায় ক্লাস সেভেন এর ইংলিশ ভার্সনের দুইজন ছাত্র পড়াতে যাই। তাদের কি পড়াইতেছি, কখন পড়াইতেছি, কখন পড়িয়ে বের হয়ছি আন্টি এসব হিসাব রাখেন না। অান্টি শুধু বলে তোমাকে দায়িত্ব দিছি তুমি তোমার দায়িত্ব যেভাবে খুশি পালন কর। তাদের তুমি নিজের মতো করে পড়াও। আমিও আমার দায়িত্ব খুব ভালোভাবে পালন করে চলি, আমি কখনো দায়িত্ব অবহেলার পাত্র নই, তাদের ১ঘণ্টা ৩০ বা ৫০মিনিট এর মধ্যে পড়া শেষ করিয়ে দিয়ে তারপর বাসায় ফিরি।

তাদের পড়াতে গেলে হাসিতে মনটা ভরে যায়। তারা মাঝে মাঝে এমন কতগুলো জোকস বলে যা শুনে হাসি আটকে রাখতে পারি না। একদিন একজনে বলেছিল

"স্যার জানেন জানেন আজকে রাস্তায় কি দেখছি "?
কি দেখছো?
স্যার কেমনে যে আপনাকে বলবো!
আরে বলো তো কোন সমস্যা নাই...?
স্যার আপনি কিছু মনে করবেন না তো?
আমি জানার খুব আগ্রহ নিয়ে বললাম "একদম কিছুই মনে করবো না তুমি বল"?
স্যার আজকে রাস্তায় একটা দুই চাকার সাইকেল দেখছি 😃😃😃
হাসতে হাসতে শেষ আমি...!!

তারা অন্য বিষয়ে ভাল হলেও কিন্তু বাংলায় বাংলার "ব" ও বুঝে না। যেদিন বাংলা পড়াই সেদিন সামনে ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানির বোতল নিয়ে বসি। কারণ মাথা গরম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি আর যখনি গরম হবে তখনি ঐ ফ্রিজের পানি মাথায় ঢেলে আর পান করে মন ও মাথা দুইটাই ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করি.....!!

তাদের পড়ানো দেখে একই স্কুলের একই ক্লাসের পাশের বাসা থেকে আরেকটা নতুন টিউশনির অপার আসে। তাও ইংলিশ ভার্সন, দুইজনই ছাত্র একসাথে পড়াতে হবে। কন্ডিশন হলো সপ্তাহে ৫দিন। আমি বলে দিলাম নিদিষ্ট কোন সময় নিয়ে পড়াবো না যতক্ষণে পড়া শেষ হবে ততক্ষণ পড়ানো। বিকাল ৫টা থেকে পড়াতে হবে। হাতে সময় থাকার কারণে এটাও পড়ানো শুরু করলাম।

প্রথম দিন গিয়ে তাদের সাথে পরিচয় হয়ে কিছু হালকা নাস্তা করে চলে আসলাম। দ্বিতীয় দিন গিয়ে তাদের পড়ানো শুরু করার সাথে সাথে দেখি তাদের দুইজনের ই মা বাবা পাশে বসে আছে। বুঝার বাকি রইল না যে " টিচার টেস্টিং" চলতেছে। আমি ও আমার মত করে পড়াতে লাগলাম। এভাবে আমার এক ঘণ্টা লেকচার শোনার পর তাদের মা বাবা আসন ত্যাগ করল। পরদিন খবর আসল আমার পড়া ভাল লাগছে এবং আমার কাছেই পড়াবে।

তাদের টানা ১:৪৫মিনিট করে পড়াই আর ঠিক ৫টায় তাদের বাসায় ইন করি। আমার একটা স্বভাব যতক্ষণ পড়াবো ততক্ষণ পড়ার মতো পড়াবো কোন প্রকার ফাঁকিবাজি নাই। এই সময়ের মধ্যে তাদের ৩ ঘণ্টার পড়া হয়ে যায়।

এভাবে কয়েকদিন পড়ানোর পর একদিন যেতে দেরি হয় এতে করে অান্টি হুট করে বলে উঠল আজকে দেরি করছেন মনে হয়। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম ৫:১২মিনিট। বুঝলাম যে একটু দেরি হল কিন্তু এটা বলার কি দরকার আমি তো ঘড়ির সময় পড়াতে আসি না। ১০০০ভোল্টেজ এ মাথা গরম হওয়ার পর মাথা ঠাণ্ডা করে আন্টিকে বললাম "আসলে আন্টি আমি ঘড়ি ধরে স্টুডেন্ট পড়াই না, আসতে দেরি হলে যেতেও দেরি হবে, পড়া কিন্তু শেষ করেই যাব"।

১৫দিন যাওয়ার পর থেকে আন্টি প্রতিদিনই একটা কথা বলে যাচ্ছে ২:৩০মিনিট করে সময় দিতে। আন্টিকে একটা জিনিস কিছুতেই বুঝাতে পারছিনা যে "সময় বড় কিছু নই পড়াটাই আসল। তারপরও তিনি নারাজ বিষয়টা মানতে। অবশেষে আমি সিন্ধান্ত নিলাম ২:৩০ ঘণ্টা করে সময় দিব ঠিকই কিন্তু আড়াই মিনিটও পড়াবো না। যেমন কথা তেমন কাজ।
শুরু করে দিলাম ২:৩০ ঘণ্টা করে পড়ানো। আন্টি এতে মহা খুশি। সবাইকে বলাবলি করে বেড়াচ্ছে আমার পড়ানোর সুনাম।

২মাস পর ১ম মাসিক পরীক্ষা দিল ২টা টিউশনির ৪জন ছাত্র। রেজাল্টও বের হলো। পুরাতন টিউশনির দুইজনই ভাম্পার রেজাল্ট করছে, তারপর নতুনটার খবর জানতে তাদের বাসায় গেলাম, আমি নিশ্চিত ছিলাম যে নতুন টিউশনির ওরা ভাল রেজাল্ট করবে না, আমার ধারণাটাই ঠিল হল রেজাল্টে দুইজনেরই F আসছে, মনে মনে চিন্তা করতে লাগলাম এই টিউশনিটা মনে হয় চিরতরে গেছে, একটু পরে আন্টি আসল। আন্টি এসে যা বলল তাতে আমি মুগ্ধ " স্যার আপনি তো অনেক কষ্ট করে, অনেক সময় দিয়ে পড়াইছেন, পাস করতে পারেনি এটা আমাদের ছেলের দোষ, এভাবে আপনি পড়াই যান".....!!!!!

কথাটা দ্বারা প্রমাণিত হল যে " আন্টি সময় টাই খুজে পড়াটাই বুঝে না
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label