নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

ভিলেন_বর Part_12 ( Vilen Bor Golpo)

#ভিলেন_বর
#Writer_Sinthiya_Simthi
#Part_12

রাতে ডিনার করার সময় আদ্রর আম্মু বলল,,,,

আদ্রর আম্মুঃ- আগামীকাল তোদের ফুপ্পির বাসায় যেতে হবে?

আদ্রঃ-কেনো আম্মু?

আদ্রর আম্মুঃ- তোদের তো কোথাও যাওয়া হয় নি। তাছাড়া অনিক অন্তু ওরা কেউ তোর বিয়েতে উপস্থিত থাকতে পারে নি।ওরা দেশে এসেছে তাই তোদের যেতে বলছে।

আদ্রতাঃ-আমি যেতে পারবো না।

আদ্রঃ-কেনো? কি হয়েছে?

আদ্রতাঃ- কারণহীন। তোদের ইচ্ছা হয় তোরা যা আমি যাবো না।

ইশরাঃ-আদ্রতা বনু চলো।

আদ্রতাঃ-সরি গো ভাবি।

আদ্রতা চলে গেল।

আদ্রর আম্মুঃ- এই মেয়েটা কারো কোনো কথা শোনে না।ইশরা তোর সাথে আমার কথা আছে।আমার রুমে আয়।

আদ্রর আব্বু-আম্মু চলে যায়।

ইশরা আর আদ্র খাবার শেষ করে।তারপর ইশরা আদ্রর আম্মুর কথা শুনতে যায়।

ইশরাঃ-আসবো আম্মু?

আদ্রর আম্মুঃ- হুম আয়।

ইশরা রুমে প্রবেশ করে দাঁড়িয়ে থাকে।

আদ্রর আম্মুঃ- বস (ইশরা বসে)তোর কি মনে হয় না এবার তোদের সম্পর্কটার কিছু একটা পরিনতি হোক।দেখ এবার সম্পর্কটা একটা রূপ দেয়া প্রয়োজন।

ইশরাঃ-আম্মু একটু বুঝিয়ে বলো। আমি কিছু বুঝতে পারছি না।

আদ্রর আম্মুঃ- আজ আদ্র তোকে কোলে নিয়ে আসে।আমি তখন ঐ পাশের বাসার রুবায়রা ভাবির সাথে কথা বলছিলাম।তোকে রুমে শুইয়ে এসে আমাকে আদ্র বললো তোকে চেঞ্জ করে দিতে।আমিও তাই করলাম।

ইশরাঃ-(তার মানে স্যার না আম্মু চেঞ্জ করে দিয়েছে।শুধু শুধু স্যারের সাথে তর্ক করলাম)

আদ্রর আম্মুঃ- তোকে চেঞ্জ করে নিচে এসে দেখি রুবায়রা ভাবি এখনো বসে আছে।আমাকে দেখে প্রশ্নের ঝুঁড়ি খুলে বসলেন।আদ্র তো ইশরার স্বামী তবে কেনো ভাবি আপনাকে আদ্র চেঞ্জ করতে বললো?স্বামী তো তার বউয়ের চেঞ্জ করাতে পারে?তোদের মাঝে ঝামেলা হয়েছে কি না ইত্যাদি ইত্যাদি। তখন তার সামনে লজ্জায় আমার মাথা কাটা যায়।তাকে কিছুই বলতে পারি নি।তাছাড়া তাকে বলার মতো কিছু ছিল না।

ইশরাঃ- (তার প্রশ্ন গুলো অযৌক্তিক ছিলো না আম্মু)

আদ্রর আম্মুঃ-আগে যা হয়েছে সব ভুলে নতুন করে সব শুরু কর।এভাবে কোনো সম্পর্ক টিকে থাকতে পারে না।আমিও আর পাঁচটা শ্বাশুড়ির মতো আমার দাদুভাই দিদুনভাই চাই।আমি কি বলতে চাইছি আশা করি বুঝতে পারছিস?

ইশরাঃ- হুম।

আদ্রর আম্মুঃ- অনেক রাত হয়েছে এবার গিয়ে ঘুমিয়ে পড়।

ইশরা মাথা দিয়ে সম্মতি জানিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে যেতে নেয়।

আদ্রর আম্মুঃ- শোন কাল সকাল সকাল কিন্তু তোদের বেরুতে হবে।তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে হবে।

ইশরাঃ-আচ্ছা।

ইশরা আদ্রর রুমে না গিয়ে সোজা ছাদে চলে আসে।বৃষ্টি হওয়ায় পরিবেশটা অন্যরকম লাগছে।ইশরার চারদিকে একবার চোখ বুলালো।ল্যাম্পপোস্টের আলোতে সব কিছু রঙিন দেখাচ্ছে।কিন্তু এই রঙিনের পেছনে লুকিয়ে আছে সাদা-কালো। ইশরার জীবনটা সাদা-কালো হয়ে গেছে।যেখানে রঙের ছোঁয়া থাকলেও রঙের কোনো অবদান নেই।

ইশরাঃ-আমি কিভাবে সম্পর্কটার রূপ দিবো?যেখানে সম্পর্কটাই রঙহীন। স্যার কি আদো আমার সাথে থাকতে চায়?হয়তো প্রতিশোধ নেয়া শেষে ফিরিয়ে দিবে আমাকে?এখনো তার কোনো কিছু আমার কাছে পরিষ্কার না।কি চায়,,,, এরপরে কি করবে আমি কিছুই জানি না।কিভাবে সম্পর্কটা আমি ঠিক করবো?আম্মু তো আশা করে আছে তার দাদুভাই দিদুনভাইয়ের আমার মাথায় কিছু আসছে না(মনে মনে)

হঠাৎ করেই ইশরার ওর আম্মুর কথা মনে পড়ে যায়।অনেকদিন হলো তাদের সাথে ওর দেখা হয় না।আদ্রকে অনেকবার বলতে যেয়েও পারে নি। যদি ঐবাড়ির কথা শুনলে আদ্র আরও টর্চার করে। তাছাড়া যদি আদ্রর আর মিশরার দেখা হয়ে যায়।এই সব চিন্তা করে আর আদ্রকে ওদের বাসার যাওয়ার কথা বলা হয় নি।

ইশরার জীবনটা কি ছিলো?এখন কি হয়েছে?এসব ভাবতেই ইশরার অজান্তেই চোখ দিয়ে কয়েক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো।

________
তোমার কান্নার বৃষ্টিতে আজ শহর ভিজেছে
ভিজেছে আমার বুক,

তবুও তোমার চোখ জুড়ে কেন মেঘ অভিমান
কেন বিষন্ন চিবুক।

তোমার ঐ ফর্সা গালে কেন এই বর্ষা রাতে
বিষাদের ছবি আঁকা,

ভিজে বর্ষায় মন খারাপের দরজায় কেন হায়
একা দাঁড়িয়ে থাকা?

ইশরা পিছনে তাকিয়ে দেখে আদ্র দাঁড়িয়ে কবিতা আবৃত্তি করছে। ইশরা নিজের চোখ মুছে।

ইশরাঃ-আপনি তো অনেক সুন্দর কবিতা আবৃত্তি করেন?

আদ্রঃ-কি হয়েছে তুমি এখানে এতো রাতে একা ছাদে কি করছো?

ইশরাঃ- আপনি এখানে কেনো?

আদ্রঃ-আমি আগে একটা প্রশ্ন করেছি?

ইশরাঃ- ভালো লাগছিল না তাই ছাদে এলাম।

আদ্রঃ-আমাকেও বলতে পারতে।তাহলে তোমাকে এতো না খুঁজে সরাসরি ছাদে চলে আসতাম।

ইশরাঃ- আমাকে খুঁজছিলেন কেনো?কোনো কিছু লাগবে লাগবে আপনার?

আদ্রঃ-লাগবে তো তোমাকে।রুমে গিয়ে দেখলাম তুমি নেই।অনেক খুঁজলাম তারপর ময়নার কাছ থেকে জানতে পারলাম তুমি ছাদে।

ইশরাঃ-ওহ।

আদ্রঃ-কি হয়েছে তোমার?

ইশরাঃ-কি হবে আমার কিছুই না।

আদ্রঃ-সত্যি কি কিছু হয় নি?

ইশরাঃ-সত্যি বলছি আমার কিছু হয় নি।

আদ্রঃ-(তুমি যেহেতু বলবে না আমি তোমায় জোর করবো না।যেদিন তোমার বিশ্বাস অর্জন করতে পারবো সেদিন আমি প্রশ্ন করার আগেই তুমি আমাকে তোমার সব কথা বলবে)একটা গান গাইবে।

ইশরাঃ-খারাপ হলে কিন্তু কিছু বলতে পা,,,,,,,,

আদ্রঃ-বলবো না কিছু।হ্যাপি

ইশরাঃ-হুম
_________আমার একলা আকাশ থমকে গেছে
রাতের স্রোতে ভেসে
শুধু তোমায় ভালোবেসে

আমার দিনগুলো সব রং চিনেছে
তোমার কাছে এসে
শুধু তোমায় ভালোবেসে

নিজ দায়িত্বে বাকিটা শুনে নিবেন।

আদ্র কিছু বলছে না।শুধু ইশরার দিকে তাকিয়ে আছে।

ইশরাঃ- আমি জানতাম ভালো হবে না।আমি স্টেজ ছেড়ে দিয়েছি অনেক বছর হলো।

আদ্রঃ-তুমি স্টেজে গান করতে?ও মাই গড

ইশরাঃ- আরে না আমাদের যখন কলেজে পোগ্রাম হতো তখন স্টেজ গান গাইতাম। তারপর ভার্সিটি জীবন শুরু তারপর এই প্যারাময় জীবন।

আদ্র কিছুক্ষণ ইশরার দিকে তাকিয়ে বলল,,,,

আদ্রঃ-
______আমি চুপ করে রই
তোমার কণ্ঠ শুনে মুগ্ধ হব বলে।
তুমি বলেই যাও,হেসেই যাও
আমি তখন মুগ্ধতায় চুপ।

হঠাৎ তুমি কথা-হাসি দুটোই বন্ধ করে প্রশ্ন করো,
"এই! তুমি এতো বোরিং কেনো?"
তখন আমি হাসি, মুগ্ধতার হাসি।😍😍

ইশরাঃ-বাহ! খুব ভালো লাগলো।

আদ্রঃ-যাকে ডেডিকেটেড করেছি সেও সুন্দর। অনেক রাত হয়েছে এবার নিচে চলো।

ইশরাঃ-হুম।

তারপর ওরা নিচে চলে আসে।
.
.
ইশরাঃ-আমি যে আপনার সাথে এক বিছানায় ঘুমাই এতে আপনার কোনো সমস্যা হয়?

আদ্রঃ-কোনটা শুনতে চাও?

ইশরাঃ-সমস্যা হলে আমি চলে যাচ্ছি?

আদ্রঃ-কোথায়?

ইশরাঃ-যেখানে আগে ঘুমাতাম।

আদ্রঃ-আরেকবার এই কথা বললে মুখ কেটে দরজার সামনে ঝুলিয়ে রাখবো।চুপচাপ এখানে শুয়ে থাকো আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।

ইশরাঃ- ভিলেন একটা ভালোবেসে দু একটা কথা বলতে পারবে না।সব সময় ধমক দিয়ে কথা বলবে।

আদ্রঃ-সোনা ভালোবাসা কত প্রকার ও কি কি সব তোমাকে বুঝাবো একটু অপেক্ষা করো।

ইশরাঃ- পোড়া কপাল আমার।
.
.
আদ্র ওয়াশরুম থেকে এসে দেখে ইশরা বিছানার এক কোণায় গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে।একটু নড়াচড়া করলেই পরে যাবো।

আদ্র বিছানায় শুয়ে একটানে ইশরাকে নিজের কাছে টেনে নেয়।

ইশরার তো চোখ বেড়িয়ে আসার মত অবস্থা।

ইশরাঃ- আ,,,আরে স,,,স্যার আ,,আপনি কি ক,,,,করছেন?

আদ্রঃ- চুপচাপ ঘুমাও।

ইশরা কিছুতেই ঘুমাতে পারছে না।ইশরার তো দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয়েছে।আদ্রর এতো কাছে কখনো আসে নি।ইশরার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। আর শীতে মধ্যে মানুষ কাঁপে আর ইশরা শীতের চাইতেই চারগুন বেশি ইশরার কাঁপা-কাঁপি শুরু হয়ে গেল।

আদ্রঃ-এই সমস্যা কি এতো কাঁপছো কেনো?

ইশরাঃ-আ,,,আপনি এ,,,একটু দূ,,,,দূরে স,,,সরবেন?

আদ্রঃ-কেনো?
আদ্র আরও কাছে টেনে নিয়ে আসে ইশরাকে।

আদ্রঃ-আর একবার যদি রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের মতো কাঁপতে দেখি তবে আমার চাইতে খারাপ কিন্তু কেউ হবে না।

ইশরাঃ- আ,,,,আমি নি,,,,নিঃশ্বাস নি,,,নিতে পা,,,পারছি না।

আদ্রঃ-না পারলেই নাই।আমি এক ইঞ্চিও দূরে সরবো না।সরি দূরে সরার সার্ভিসটি এখন বন্ধ আছে।

ইশরা কিছুতেই বুঝাতে পারছে না।

আদ্রঃ-ডিয়ার এতো কেঁপে উঠো না।আমার মাঝে না কেমন কেমন ফিলিংস আসে।

ইশরাঃ-কে,,কেমন ফিলিংস ?

আদ্রঃ-দেখাবো তোমাকে।

ইশরাঃ- নাআআআআআ(চিৎকার দিয়ে)

আদ্রঃ-আস্তে চিৎকার করো পাঠকগন খারাপ কিছু মনে করবে।তার জন্য তুমি দায়ী থাকবে কিন্তু

ইশরাঃ-আ,,,আপনি কিছু না করলে পাঠকগন কিছু মনে করবে না।

আদ্রঃ-তুমি কি আমাকে কিছু করতে বলছো?

ইশরাঃ- না সরতে বলছি।

আদ্রঃ-কোনো কথা বলো না তো ঘুমাও।

ইশরাঃ-এভাবে ঘুমাতে পারবো না।

আদ্রঃ-ঘুমানোর প্রয়োজন নেই আমাকে দেখতে থাকো।

ইশরাঃ-আমার তো কোনো কাজ নেই।

আদ্রঃ-আপাতত এটা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই

ইশরাঃ- কালকে তো সকাল সকাল উঠতে হবে?ফুপ্পির বাসায় যেতে হবে না।

আদ্রঃ-ভেবেছিলাম কিছু করবো না। এখন দেখছি করতেই হবে।

ইশরাঃ- কি করবেন?

আদ্রঃ-ওয়েট

আদ্রকে ইশরাকে কাছে টেনে নেয়।ইশরা এখন আদ্রর বুকে লেপ্টে আছে। আদ্রর হৃদ স্পন্দন শুনতে পাচ্ছে।আদ্রর একহাতের উপরে ইশরার মাথা।আর একহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে রেখেছে ইশরাকে।

আদ্র ইশরার মুখের কাছে মুখ নিয়ে,,,,,,

আদ্রঃ-চুপচাপ এবার ঘুমিয়ে পড় নয়তো আম্মুর জন্য দাদুভাই/দিদুনভাই আনতে আমি এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট করবো না।বার বার কেঁপে উঠছো আমার ফিলিংসের বহিঃপ্রকাশ ঘটলে কি হবে ভাবতে পারছো।

আদ্রর প্রতিটা নিঃশ্বাস ইশরার মুখে আছরে পড়ছে।
ইশরার মনের মধ্যে ঝড় শুরু হয়ে গেছে।

ইশরাঃ- (তারমানে স্যার আমাকে মিথ্যে বলেছে আমাকে খুঁজে নি। আম্মু আমাকে কি কথা বলেছে তা শুনেছে।)

ইশরাকে অবাকের আরেক সিড়িতে পৌঁছে দিয়ে আদ্র ইশরার ঘাড়ে মুখ ডুবালো🙈🙈
ইশরার ঘাড়ে ঠোঁটের ছোঁয়া পেতেই ইশরার পুরো স্তব্ধ হয়ে গেল।ঘটনাটা এমনভাবে ঘটলো যে ইশরা নিঃশ্বাস ছাড়ছেও না নিচ্ছেও না।

আদ্রঃ- জেলে পাঠানোর ইচ্ছা না থাকলে নিঃশ্বাস ছাড়ো।

কথাগুলো বলার আদ্রর ঠোঁট কেঁপে উঠে যার জন্য ইশরা ঘাড় থেকে পুরো শরীরে অন্যরকম কিছু অনুভূতি হতে থাকে।
.
.
অতঃপর আদ্র ঘুমে বিভোর হয়ে গেল। আর ইশরা বেচারি না পারছে ঘুমাতে না পারছে একটু নড়তে।

ইশরাঃ-(এভাবেও যে কাউকে টর্চার করা যায় ভিলেনটা কে না দেখলে জানতেও পারতাম না)

আহারে বেচারি ভিলেনের অত্যাচার সহ্য করছে🤣😂

Be continue,,,,,,,,,,,

বিঃদ্রঃ- এই পর্বটা আমার লিখতেই বোরিং লাগছিল।মনে হয় আপনাদের কাছেও বোরিং লাগবে।
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label