নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

বান্ধবীর বয়ফ্রেন্ড যখন বর part 4 (Bandhobir boyfriend Jokhon Bor)

বান্ধবীর বয়ফ্রেন্ড যখন বর
writer: Tabbasum Tisha[ pArt __04]
......
 আমি শুভ্রর নিখুত অভিনয় দেখে চমকে ওঠলাম। চায়ের কাপ টা আমার হাত থেকে পড়ে গেলো।।


শুভ্র আবার বলে ওঠলো।
কি হলো বাবু টা চা ভালো হয়নি বুজি। থাক তোমাকে চা খেতে হবে না।
আমি তোমাকে হানিমুনে নিয়ে গিয়ে এত্তগুলো চা খাওয়াবো।


শুভ্র কথা শুনে আমার মাথা ঘুরছে।
আমি ও অভিনয় কম করতে জানি না রে শুভ্র।তবে আমার অভিনয় দেখে তুই ও চমকে ওঠবি।


আমি কিছুই না বলে ছাদে চলে গেলাম।একা একা ভাবতে লাগলাম। আমি কি করে এ বাড়ি থেকে বের হবো।
কাল তো কক্সবাজার  যাবো।


আমি আখি কে কথা দিয়েছি শুভ্র ওর ই থাকবে। কিন্তু বাবা কি বলল??
আমি যদি শুভ্র কে ডিবোর্স করি তো হয়তো বাবা কিছু একটা করে ফেলবে।
তাছাড়া কি বলেই বা আমি ডিবোর্স করবো।
শুভ্রর পরিবারের সবাই তো আমাকে মেনেই নিছে।
আমি কি করে কি করবো।?
না আমাকে এমন কিছু করতে হবে যাতে সবাই আমাকে ভুল বুজে।শুভ্র জেন ভালো থাকে।
শর্ত অনুযায়ি চলা যাবে না।


আমি ভাবনার জগৎ থেকে ফিরলাম। শুভ্রা আপুর ডাকে।

___ আরবি? ( শুভ্র)
___ আমি পিছন ফিরে বললাম।হুম আপু বলো? (
_____ তুমি এখানে কেন।?  শুভ্র কোথায়?? ( শুভ্রা)
___ আমি চুপ করে আছি। আমি জানি শুভ্র এখন কোথায়। আখির সাথে ফোনে কথা বলছে। থাক আমি বলবো।

শুভ্র আপু আবার ও বলে ওঠলো।
কি হলো আরবি কথা বলছো না কেন??
___ আপু ও মনে হয় বাইরে গেছে।
আমার কথা শুনে আপু বলল,
শয়তান টা কখনো মানুষ হবে না। 
বলেই চলে গেলো। আমি আরো একটু সময় থেকে চলে আসলাম।



আমি সবার সাতে রাতের খাবার খেয়ে দেখি শুভ্র সব লাগেজ গুচাচ্ছে।

আমি তো ভুলেই গেছিলাম। কাল কে হানিমুনে যাবো।
কি কপাল মাইরি। বিয়ে হলো বর আছে। কিন্তু সে অন্য জনের।

শুভ্র আমাকে দাড়িয়ে থাকতে থেকে বলল,
তোমার সব কিছু গুচিয়ে নিয়োছো তো?? (

আমি মাথা নাড়িয়ে হা করলাম।

আমি ঘুমানোর জন্য যখনি খাটে ঘুমাতে গেলাম। শুভ্র বলে ওঠলো
ও হ্যালো, মেম এখানে কেন??
____ এখানে মানে। আজ তুমি শর্তানুসারে  সোপায় ঘুমাবে। আমি খাটে।!
___ জি,  না। আজ থেকে স্টার্ট। কাল থেকে হবে। সো তুমি সোপায়? ( শুভ্র)

এ মানুষ না অমানুষ।!  দূর ভাল্লাগেনা।আমি একরাশ বিরক্তি নিয়ে সোপায় শুয়ে পড়লাম


পরের দিন সকালে আমার ঘুম ভাঙল শুভ্রা আপুর ডাকে।
আপু আজও আমাকে সোপায় দেখে অবাক চোখে তাকিয়ে রইলো।

আমি কিছু না বলে ওয়াস রুমে চলে গেলাম।

নাস্তা করে রেডি হচ্চি লাম। বাট শাড়ি তো পড়তে পাড়ি না। তাই শুভ্রা কে বললাম পড়িয়ে দিতে।


শুভ্রা আপু আমাকে এক অদ্ভুত প্রশ্ন করে বসলো।
___ আরবি তোমাকে শুভ্র কে মেনে নেয় নি? ( শুভ্রা)
___ আমি সুযোগ টাকে কাজে লাগালাম।বললাম,
আসলে আমি ই শুভ্র কে মেনে  নিতে পারিনি।কারন আমি আরেক জন কে ভালোবাসি।


শুভ্রা আপু কিছু না বলে চুপ করে চলে গেলো।
আমিও রেডি হয়ে নিচে আসলাম।
সকাল নয় টায় গাড়িতে ওঠলাম।
সারা রাস্তা শুভ্র আখির সাথে কথা বলছিলো।
জানি না কেন জানি আমার খুব হিংসে হচ্ছিলো। আমার সাথে শুভ্র একটা কথাও বলেনি। আমি চুপ চাপ বসে আসি। খুব ঘুম পাচ্ছিলো।তাই ঘুমিয়ে গেলাম।
।।

ঘুমের ঘুরে কখন জানি আমি সামান্য শুভ্রর কাধে ডলে পড়লাম।আর শুভ্র বলল,
কি হচ্ছে এসব। নিজেকে ঠিক রাখতে পারো না??

আমি শুধু সরি বললাম।

রাতে পৌছে গেলাম কক্সবাজার  এ। আমি সেখানে গিয়ে খুব অবাক হলাম।
আগে থেকেই আখি সেখানে আছে।

অথচ আমি কিছুই জানি না।
ওরা দুজন চলে গেলো হোটেলে আমাকে রেখেই।
আমি একাই দাড়িয়ে রইলাম।
আখি একবার ও বলল না
আরবি কেমন আছিস।


একটা মেয়ে এসে আমাকে বলল,
মেম এটা আপনার চাবি রুম নাম্বার ১০।

আমি একটু মুচকি হাসি দিয়ে চাবি গুলো নিলাম।
তারপর রুমে গেলাম।
আমার আজ খুব খারাপ লাগছে। শুভ্র আর আখি আমাকে এত টাই পর করে দিলো।আমি তো আর ইচ্ছে করে বিয়ে করিনি।।


যাই হোক আমি ধরে নিলাম রাতে হয়তো শুভ্র রুমে আসবে। কিন্তু আমার ভাবনা হলো পুরাই উল্টো। শুভ্র আসলো না।আমি ঘুমিয়ে গেলাম।
সকালে ওঠে হোটেল কিপারের কাছ থেকে জানতে গেলাম।শুভ্র কত নাম্বার রুমে আছে।
বলল,
৫নাম্বার রুমে আছে।
আর আখি কত নাম্বার রুমে আছে? (আরবি)
____ জি,ওনারা একি রুমে আছেন।
কথাটা শুনা মাত্র আমার অনেক রাগ হলো। আমি তারাতারি করে ঐ রুমের সামনে গিয়ে নক করলাম। ্
পাশ থেকে একটা লোক বলে ওঠলো।
তারা তো অনেক আগেই বেরিয়ে গেছে।

আমি ভাবতে পারছি না এত কিছু।
আমি ও রেডি হয়ে বাইরে বের হলাম।
সমুদ্র পাড়ে একা একা ঘুরছি কিন্তু শুভ্র আখি কে খুজে পাচ্ছি না। আমি অনেক সময় পর আখি শুভ্র কে খুজে পেলাম।

হায়,আরবি।কেমন কাটলো রাত ( শুভ্র)
___ well, একটা কথা বলতে চাই শুভ্র, আখি ( আরবি)
___ বল কি বলবি? ( আখি)
____ তুই এখানে কেন?  আর শুভ্র তুমি আখিকে নিয়ে একি রুম নিলে কেন? ( আরবি)
____ সেটা তোমার কাছে কৈফিয়ত দিতে হবে নাকি ( শুভ্র)
__== মানে কি। তোমরা বিয়ে করো নি। বাট এসব কি শুভ্র! ( আরবি)
___ হাহাহা, বাবু বলো না পাগলি টা কে। আমাদের কি সমপর্ক। ( আখি)
___ শুনো। তুমি বাসর রাতে যা পাও নি।সেটা আখি অনেক দিন আগে পেয়েছে। সো understand ? ( শুভ্র)
____ আখি তুই এতটাই নিচে নেমে গেলি।আমি তো জানতাম তুই অনেক ভালো। কিন্তু এসব।!  আমি তো ভাবতেও পারছি না।
আর শুভ্র ছি:
এই তোমার ভালোবাসা!  আমি তো তোমাকে এমনি দেখতে পেতাম না।বাট খুব খারাপ লাগছে।এত ভালো ফ্যামিলির ছেলে হয়ে এত টাই খারাপ। ভালোবাসার নামে তোমরা নোংরা রেকেট চালাচ্ছো।
আমি আর দশ প্রেমিক প্রিমিকা থেকে তোমাদের দুজন কে আলাদা ভাবতাম। কিন্তু তোমারও ছি::

বলেই আমি চলে আসলাম।
আমি রুমে এসেই দরজা বন্ধ করে দিলাম।
আর ভাবতে লাগলাম। মানুষ এতটাই খারা হতে পারে।
আমি সারা রাত কান্না করলাম।কি ভাবছেন শুভ্রর জন্য না। আসলে নিজের বান্ধবী এত নোংরা ভাবতেও পারি নি।আর শুভ্র।

আমি কখন জেন ঘুমিয়ে গেলাম।

রাতে আখি আরবি কে সরিয়ে ফেলার প্লেন করে নিলো।
যেভাবেই হোক দুতিন এর মধ্যে আরবি কে মেরে ফেলবে। আর বাসায় জানিয়ে দিবে আরবি কে পাওয়া যাচ্ছে। কারো সাথে পালিয়ে গেছে।

কিন্তু শুভ্র রাজি হচ্ছে না।
কিন্তু আখি খুব ভালো করেই জানে শুভ্র ওর প্রতি দুর্বল। তাই এক সময় শুভ্র রাজিও হলো।কেন আরবি কে আখি মারতে চায় শুভ্র আজও জানে না।


প্লেন অনুযায়ি পরের দিন আখি আর শুভ্র আরবি কে নিয়ে ঘুরতে গেলো।সাধারন আরবি সব ভুলে গেলো।কারন এটা জানা শুভ্র আখি কে ভালোবাসে।আর ওরা ফিজিক্স রিলেশনে আছে।এখানে সে আর বাধা হয়ে দাড়াবে না।


আরবি খুব হাসি খুশি ই কাটিয়ে দিলো। কিন্তু মনে মনে ওদের ওপর একটা ঘৃনা হলো।

মাজ পথে যেতেই গাড়ি থামালো। আরবি বুজতে পারছে না। গাড়ি কেন থামালো।


আখি নেমে আরবিকে টেনে বের করলো আর বলল,
আজ এখানেই তোর দিন শেষ আরবি।
___ মানে কি বলতে চাস আখি।
___ খুব সহজ। তোকে মরতে হবে।
__ কিন্তু কেন।আমাকে মারবি কেন।সেদিন ভুল আমাদের তিন জনের ই ছিলো।
প্লিজ আখি আমাকে মারিস না।
আমি তোদের এসব কিচ্চু কাউকে বলবো না।আর যত তারাতারি সম্ভব আমি শুভ্রর জীবন থেকে সরে যাবো।


তুই শুভ্র থাক চাই না থাক তাতে কিছু যায় আসে না।বাট তোকে মরতে হবে। এটাই ফাইনাল।


কিন্তু কেন আমাকে মারবি??
___ কারন টা অজানা।তুই আমার চিরশত্রু। তোকে না মারলে আমার অনেক বড় ক্ষতি হবে।
বলেই আখি শুভ্রর হাতে একটা ছুরি তুলে দিলো।
যাও শুভ্র ওকে খুন করো।


আমি পারবো না আখি


বউ বলে খুব দয়া হচ্ছে তাই না।
না হলে আমাকে হারাবে তুমি


আমি ভয়ে দৌড় দিলাম।কিন্তু কিছু দুর যেতেই সামনে সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলো।
আমার মনে হলো পিছন থেকে কেউ আমার পেটে ছুড়ি ডুকিয়ে দিলো।
আমি পিছন ফিরে অবাক হলাম।
এ শুভ্র।
আমি শুভ্রর মুখের দিকে তাকিয়ে চোখের জল ছেড়ে দিলাম।খুব কষ্ট হচ্ছিলো আমার।শুভ্র আবারও আমাকে আঘাত করলো।
আমার চোখে ঐ দৃশ্যটা ভাসতে লাগলো।
শুভ্র আমাকে চা এনে দিয়ে বলল, সোনা বউ চা।


আমার খুব কষ্ট হচ্ছে জানতেও পারলাম না।কি অপরাধ টা ছিলো আমার।আমি তো সব ফিরিয়ে দিতে চাইছিলাম।

শুভ্র কি করলে পারলে আমাকে এভাবে মারতে।আমাকে তো তুমি বিয়ে করেছিলে??
কথা গুলো মনে মনে বলছিলাম।কারন মুখে বলার শক্তি টুকুও নেই।

।আমার চোখ আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে আসছিলো।অনেক চেষ্টা করেও তাকিয়ে থাকতে পারছি না।

একটু পর আমি ঝপসা দেখতে পেলাম কোন বস্তা আনা হচ্ছে।হয়তো তাতে ভরে আমাকে নদীতে ফেলে দিবে।
আজ বাবা কে দেখতে খুব ইচ্ছে করছে।
আমি আর পারলাম না হারিয়ে গেলাম না ফেরার দেশে,     ,,,,,,,,,,,,
,,,,,,,,,,
____________
<______<_<_<<_ চলবে_______
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label