নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

#গল্পঃ_অনুসূচনার কারাগার ১ম_পর্ব (onuauconar karagar)


#গল্পঃ_অনুসূচনার কারাগার
             #১ম_পর্ব
লেখক: আরফিন ইউসুফ অভি
বাইরে প্রচন্ড বৃস্টি হচ্ছে, থানার বাইরে একটি  ধর্সিতা মেয়ের লাশ পড়ে আছে,লাশটা সেই কখন থেকে বৃস্টিতে ভিজছে,ওসি সাহেব নিজের রুমে টেবিলে পা এর উপরে পা তুলে পাবজি গেম খেলছে আর সিগারেট ফুকছে।

এমন সময় কনস্টেবল মজিদ এসে পাশে দাড়ালো,

ওসি সাহেব বললো বাইরের অবস্থা দেখেছো মজিদ যে হাড়ে বৃস্টি পড়ছে ৮৮ বন্যা হয়ে যাবে দেখা যাচ্ছে,সকাল থেকেই শরীরটা কেমন ম্যাচ ম্যাচ করছে,বড্ড  ঘুমও পাচ্ছে এটা বলে হাই তুলতে তুলতেই ওসি কামরুল বললো মজিদ তোমাকে এতো চিন্তিত দেখাচ্ছে কেনো?
কিছু হয়েছে তোমার?

মজিদ বললো নাহ স্যার কিছু হয়নি।

ওসি সাহেব: তাহলে কিছু বলবে??

মজিদ বললো স্যার থানার বাইরে একটা লাশ পড়ে আছে সেই কখন থেকে মেয়েটাকে ধর্সন করা হয়েছে, শুনলাম মেয়েটা নাকি ৫ মাসের অন্তঃস্বত্বা গর্ভবতি ছিলো।

এজন্য এসপি সাহেব আসছে উনি নিজে এই মামলার তদন্ত করতে।
এটা নিয়ে সাংবাদিক, মিডিয়া, সাধারন জনগন সবাই খুব খেপে আছে,
মেয়েটা দেশের নামকরা ভার্সিটির ছাএি ছিলো।

মজিদের কথাটা শুনে ওসি সাহেব টেবিলের উপর পা থেকে পা নামিয়ে একটু নড়ে চড়ে বসে হকচকিয়ে বললো,
আরে মজিদ এ কথা আগে বলবে তো?

আমি তো বলতে চেয়েছিলাম দেখলাম আপনার মন মেজাজ ভালো না তাই আর বলিনি।

ওসি সাহেব:  আচ্ছা এখন শোনো ঐ লাশের সমন্ধে আর কোনো ইনফরমেশন কী আছে তোমার কাছে?

মজিদ: নাহ স্যার যেটুকু জানি বললাম তো?

ওসি সাহেব: বুঝলে মজিদ ব্যাপারটা নিশ্চই কোনো সাধারন মার্ডার না?
তা না হলে কী আর এসপি সাহেব নিজে এসে এই কেস হ্যান্ডওভার করতে চাইতো নাকি?

মজিদ: স্যার বাইরে গাড়ির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে এসপি সাহেব মনে হয় এসে পড়েছে।
এটা বলে কনস্টেবল মজিদ আর ওসি সাহেব বাইরে বেরোতেই দেখতে পেলো,
একেক করে সিরিয়াল ধরে কয়েকটা গাড়ি ঢুকছে থানায় মাঝখানে এসপি সাহেবের গাড়িও দেখা যাচ্ছে।

গাড়ি থেকে নামতেই সবাই এক ঝাক স্যালুট দিলো এসপি সাহেবকে, এসপি সাহেব ডোন্ট কেয়ার করে ভেতরে গিয়ে লাশের সামনে গিয়ে কাপড়টা সরিয়ে একবার ডেথ বডি আর লাশের মুখটা ভালো করে দেখে নিলো।

বডি দেখে তো ধর্সনের কোনো স্পট দেখা যাচ্ছে না বা আচঁও করা যাচ্ছে না,
লাশটা দেখে মনে হচ্ছে কী মায়াবী একটা চেহারা মলিন হয়ে আছে।

এসপি সাহেব বললো লাশ পোস্টমর্টেম এর ব্যাবস্থা করো কুইক,
এসপি সাহেবের নির্দেশ অনুযায়ী লাশ মর্গে নেয়া হলো, পোস্টমর্টেম এর জন্য।

এসপি সাহেব বাইরে পায়চারী করছে, একটু পরই ডাক্তার ওসি সাহেবের হাতে রিপোর্ট ফাইলগুলো তুলে দিয়ে বললো স্যার,
মেয়েটা তো রেপ হয়নি, সুইসাইড করেছে আইমিন যে কোনো কারনবসত মেয়েটা এই আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে,
আর আরেকটা রহস্য আছে এর ভেতরে যে মেয়েটা অন্তঃস্বত্বা ছিলো, ওর গর্ভে ৫ মাসের সন্তানসম্ভবা ছিলো।

ডাক্তারের কথা শুনে ওসি সাহেব বললো ওহ মাই গড!  নিশ্চই আরও কোনো গভীর রহস্য লুকিয়ে আছে এর মধ্যে।

এসপি সাহেব ডাক্তারকে আবার জিজ্ঞেস করলো মেয়েটি কী বিবাহিতা ছিলো?

ডাক্তার বললো না?  মেডিকেল টেস্ট রিপোর্ট বলছে মেয়েটি অবিবাহিতা।

এসপি সাহেব নির্দেশ দিলো মেয়েটা কোথায় থাকে কী করে গ্রামের বাড়ি কোথায় তার বন্ধুবান্ধব অল সবকিছু সম্পর্কে তথ্য নিতে বললো ওসিকে।

ওসি সব কিছু খোজ খবর নিয়ে এসপি সাহেবকে তথ্য দিলো স্যার,
আসল ঘটনা জানা গেছে মেয়েটার একটা নোংরা ভিডিও ভাইরাল করেছে কে যেনো, ভিডিওটা পুরো ভার্চুয়াল,জগৎ নেটে প্রচার হয়ে যায় এজন্যই বোধহয় মেয়েটা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে।
মেয়েটা ঢাকা ভারসিটিতে পড়ে, গ্রামের বাড়ি রংপুর জেলার মিঠাপুকুর গ্রামে,
ওখানে ওর বাবা মা থাকে আর মেয়েটা এখানে ম্যাস এ থাকতো?

এসপি সাহেব বললো সবই বুঝলাম কিন্তু আমার কথা হচ্ছে মেয়েটার গর্ভে ৫ মাসের সন্তানসম্ভবা হলো? মেয়েটা জানতো ওর ভেতরেও আরেকটা প্রাণ বেড়ে উঠছে কিন্তু এই অবস্থায় আত্মহত্যা কেনো করলো, কোনো মা ই চায়না তার গর্ভের সন্তানকে মেরে ফেলতে, মেয়েটা বেচে থাকতো নিশ্চই ওর জন্য না হলেও ওর ভেতরে যে আরেকটা প্রাণ আসছে তার জন্য হলেও মেয়েটা বেচে থাকতো, কিন্তু নিশ্চই এমন কিছু হয়েছে ওর সাথে যার কারনে ও এটা করতে বাধ্য হয়েছে।

ঠিক এই সময়ে মজিদ এসে বললো স্যার আজকের পএিকার হেডলাইনটা দেখেন , রংপুর জেলার পিঠাপুকুর গ্রামে একসাথে  স্বামীস্ত্রী দুজন বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে আর ঐ দুজন হলো এই মেয়েটার বাবা মা?

রিয়ার বাবা স্টেশনমাস্টার, বাড়ি ফেরার সময় স্টেশনের বখাটে ছেলেগুলো আড্ডা দিচ্ছিলো ওখান দিয়ে রিয়ার বাবা যেতেই বলে উঠলো একজন কী কাকু, মেয়েকে তো ঢাকায় রেখে ব্যবসা না করিয়ে এখানেই করাতে পারেন, আমরা তো আছিই, আরেকজন বলে উঠলো এখানে ব্যবসা করালে তো এলাকার লোকজন সবাই জেনে ফেলবে,আরেকজন বললো কাকু ভিডিওটা একটু দেখবেন নাকি?

রিয়ার বাবা লজ্জায় মাথা নিচু করে চলে আসলো, গ্রামের সব লোকজন ও নানান ধরনের কথা বার্তা বলে উস্কানি দিচ্ছে।

রিয়ার বাবা ঘরে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দিলো,রিয়ার মা বলছে এসব কি শুনছি মেয়েটা আমাদের মান ইজ্জৎ এর কথা একবারও ভাবলো না,আগে যদি জানতাম তাহলে জন্মের সময়ই গলা টিপে মেরে ফেলতাম তাহলে নিশ্চই আর আজ এতো লান্চনা অপমান কস্ট সয্য করতে হতো না।

দরজায় আওয়াজ পড়লো, দরজা খুলতেই এক মহিলা ভেতরে এসে বললো কী গো রিয়ার মা খুব তো বলতে তোমার রিয়ার মতো নাকি এই পাড়াতে কোনো মেয়েই হয় না, শুনলাম তার নাকি নীল ছবি বেরিয়েছে, কোথায় গেলো তোমাদের সেই বড়ো মুখের কথা, নাকি তোমরা এগুলো সব আগে থেকেই জানো তাই মেয়েকে দূরে রেখেছো তাই না?

রিয়ার মা বললো চুপ করুন বেড়িয়ে যান এখনই এখান থেকে

মহিলাটি বললো হুম উচিৎ কথা বললে তো খুব গায়ে লাগে তাই না।

রিয়ার মা দরজায় খিল দিয়েই দরজা ধরে দাড়িয়ে আছে তার কিছুখন পরই অনেক ডাকাডাকির পরও আর সে দরজা খোলেনি,
তারপর গ্রামের লোক বাধ্য হয়ে দরজা ভেঙে দেখতে পেলো তারা দুজনেই বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে।

এসপি সাহেব পএিকার পাতায় চোখ রাখতেই চশমাটা খুলে টেবিলে রেখে বললো ওহ সিট!  আমরা খুব দেরী করে ফেলেছি?  আর দেরী করা যাবে না আজ এখন থেকেই আমাদের মিশন শুরু।

এটা বলেই এসপি সাহেব নিজে মজিদকে নিয়ে গাড়ি বের করে বেড়িয়ে গেলো?

মজিদ বললো স্যার আমরা কোথায় যাবো?
এসপি সাহেব বললো প্রথমে মেয়েটার কলেজে যাবো কিছু তথ্য বের করতে।

কলেজে ঢুকেই রিয়ার ডিপার্টমেন্ট এ গেলো তথ্য নিতে?
রিয়ার কিছু বান্ধবির সাথে কথা বলে জানতে পারলো ওর কোনো ফ্রেন্ড ছিলো না শুধু ওর একজন বয়ফ্রেন্ড ছিলো নাম আসিফ,
আর ও নাকি তেমন কোনো ছেলের সাথেও মিশতো না খুব ভালো মেয়ে ছিলো?

এসপি সাহেব আবার জানতে চাইলে রিয়ার একটা নোংরা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে এ ব্যাপারে তোমরা কী কিছু জানো?

সবাই বললো হ্যা এটা পুরো কলেজ আর সারা মহল্লার মানুষই জেনে গিয়েছিলো তাই ও আত্মহত্যা করেছে।

এসপি সাহেব বললো রিয়ার মারা যাবার সময় রিয়া ৫ মাসের অন্তঃস্বত্বা ছিলো এ ব্যাপারে তোমরা কিছু জানো?

সবাই বললো নাহ এগুলো কিছু জানি না তবে, আমাদের সন্দেহ এই কাজ এবং ভিডিও ভাইরাল করা এগুলো নিশ্চই ওর বয়ফ্রেন্ড ছাড়া আর কেউ করেনি ,
কারন রিয়া ওর বয়ফ্রেন্ড ছাড়া অন্য কোনো ছেলের সাথে কখনোই মিশতো না।

কলেজ এ তথ্য নেয়া শেষ হলে এসপি সাহেব রিয়ার মেস এ গেলো তথ্য নিতে।
ওখানে গিয়ে জানতে পারলো আসিফ নামের একটা ছেলে প্রায় প্রায়ই আসতো ওকে নিয়ে যেতে।
আর প্রায় সময়ই অনেক রাত করে বাসায় ফিরতো রিয়া?

আসিফের হোম ঠিকানা বাসার নং বের করে  রাতেই আসিফকে গ্রেফতার করলো পুলিশ?
প্রথমে থানায় নিয়ে মারধর করার পরও আসিফের মুখ থেকে কোনো স্বীকারোক্তি বের করতে পারছে না পুলিশ।
তারপর আসিফের রিমান্ড মন্জুর করা হয় কোর্ট থেকে কিন্তু ৭ দিন রিমান্ডে থেকে আধপাগল অবস্থায়ও ওর মুখে শুধু একটা কথা আমি কিছু জানি না,
আমি কিছু করিনি, রিয়া আমার ভালবাসা  আমি ওর সাথে কখনটা এমনটা করতে পারি না?

আজ ১৩ দিন হয়ে গেলো আসিফের কোনো জবানবন্দিই বের করতে পারলো না।
এদিকে পএিকায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বেশ উওেজনা চলছে এখনও  সাংবাদিক আর মিডিয়ার লোকজন উঠে পরে লেগেছে, তারা যেভাবে পারছে পএিকায়,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যামে, ভার্চুয়ালে,বিভিন্ন ওয়েবসাইট এ এমনকী প্রেস এ টক শোতে একেবারে ধুয়ে দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
সাধারন পাবলিক ও খেপে আছে, অনবরত  আন্দোলন চালাচ্ছে।

একটা কেস হলে মানা যেতো ধর্সন করে গর্ভবতী করার পরও মেয়েটাকে ছাড় দেয়নি? নোংরা ভিডিও ভাইরাল করেছে।
তার উপর কিছুদিন পরই মেয়েটার বাবা মার দুজনের একসাথে আত্মহত্যা
একসাথে তিন তিনটে জিবন চলে গেলো
একটা জিনিসকে ইস্যু করে,
কিন্তু এ রহস্যের জট কিভাবে খুলবে?

এসি চলছে তবুও এসপি সাহেবের কপাল বেয়ে টপটপ করে ঘাম ঝরছে,যে করেই হোক রহস্য আমাকে উৎঘাটন করতেই হবে।
কাল একবার রিয়ার মেসে ও যেই রুমে থাকতো সেখানে  গিয়ে তল্লাশ করবো ওখানে নিশ্চই এমনকিছু পাওয়া যাবে যা আমাকে এই রহস্যের জট খুলতে সাহায্য করবে।
চলবে........................



#লিখার মধ্যে ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃস্টিতে দেখবেন।
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label