নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

মন চাই অন্য কিছু পর্ব:-২ ( moon chai onno kichu)

মন চাই অন্য কিছু
পর্ব:-২
লেখক:- আফরান শুভ
ট্রেন থেকে নেমে সুহানের পা সামনে যাচ্ছে না কিছুতেই ভিরের মাঝে টেলাটেলিতে পায়ের বেলেন্চ সামলাতে না পারায় পা পিছলে একটা মেয়ের উপরে হুমরি খেয়ে পরে মেয়েটার ঠোটে চুমু খায়।
মেয়েটা দুমিনিট চোখ বন্ধকরে রাখে সুহান এই মুহুর্তে চেহারার ফুটে উঠা সুন্দর্য অবলোকনের পর চিল্লানি দেয়।
-ওহ ছারুন এসব কি হয়তাছে।(মেয়েটি)
-ওহ সরি সরি বলে সুহান উঠে দারিয়ে মেয়েটাকে হাত দিয়ে উটিয়ে নেয়।
শয়তান বদমাস বলে কয়েকটাকটা গালি দেয় সুহানকে।
-এই প্রথম আপনার মতো একটা ছেলে নজরে পরছে।রাস্তাঘাটে চোখকান কই রাইখা চলেন
-দেখেন আইএম রেলি সরি।আমি নিজে থেকে আপনার উপরে পরেনি।ভুলটা আমার নয় পেছন দিক থেকে কেউ একজন ধাক্কা মারছে।
-না-না ভূলটা তো আমাদের ঢাকার মানুষদের গ্রাম থেকে এসব অশিক্ষিত মানুষদের ঢাকায় নিয়ে আসে।কোথা থেকে যে আসে এরা আল্লাই জানে।
-দেখুন আমি আপনার সাথে এত ভদ্রতার সহিত কথা বলতাছি আার আপনি সেকেন্ড ক্লাসের যাত্রীদের ছারিয়ে থার্ড ক্লাসের পেসেন্জারদের মতো বেহিব করতাছেন।
-তার জন্য তো আমি সরি।
-নিজেকে একেবারে স্মার্ট মনে করবেন না।এটা ঢাকা একটা ফোন করে দিমুনা কোথায় গায়েন যাবেন বলতে পারবেন না বলে মেয়েটি ইউ ইডিওট বলে গায়ের উপর ধাক্কা মেরে চলে যায়।
সুহান অভাগ হয়ে গমন পথে তাকিয়ে থেকে একটা হাসি দিয়ে রাইসার সাথে দেখা করতে চলে আসে।
বেশ কিছুখন অপেক্ষা করার পর রাইসার সাথে দেখা হয়।
-কেমন আছো?(সুহান)
-ভাল তুমি কেমন আছো?আমি জানতাম তুমি আমাকে সত্যি ভালবাসো  আর এখানে আসবে।
-ভাল, সিলেটের কথা একবারও মনে হয়নি তেমার
-হুম তোমার কথা খুব মনে পরতো কিন্তু এখন তো তুমি চলে আসছো।
-রাইসা সিলেটে ফিরে চলে।
-মানে কি তুমি আমাকে ফিরিয়ে নিতে আসছো?
- হুম সবাই চাই যে তুমি আবার সিলেটে ফিরে যাও।
-সুহান এটা চাইলেও সম্ভবনা।আমি কন্টাক সাইন করে পেলেছি।(রাইসা)
-আবারও একটাবার বেবে দেখনা রাইসা এটা আমাদের সুখদুখের প্রশ্ন।
-তোমার কি মনে হয় আমি এত দুর এসে ফিরে যাব?
-তো তাহলে আমিও ফিরে যাবনা।(সুহান)
-মানে
-এ শহরে থেকে তোমার ফিরে যাওয়ার অপেক্ষা করব।
-ভাল, হতে পারে কিছুদিনপর তুমিও ফিরে যেতে চাইবেনা।
-ওকে আমাকে যেতে হবে সুহান বলে বিদায় নেয়।
সুহান একটা বাস ধরে আসাদ আংকেলের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।আসাদ আংকেল লন্ডনে থাকেন কয়েক মাস হলো করিওর পিন্টিংয়ের কাজে গেছেন। লিপ্টা বন্দ হবে টিক তখনি দৌরে লিপ্টটা আটকাবে পেছন দিক থেকে একটা মেয়েকে উদ্দেশ্য করে এইযে দারান লিপ্টটা আটকান।মেয়েটি এবার সামনে মুরে দারালো।একি এ তো সকালের সেই মেয়েটা যার জন্য আজকের দিনটায় খারাপ গেল আমার ।মেয়েটি সুহানকে চিনতে পেরে লেপ্তের দরজাটা লাগিয়ে ফেলে।
সুহান সিরি দিয়ে দৌরে গিয়ে মেয়েটাকে আটকায়।
-এই যে আপনি লিপ্টটা কেনো থামালেন না?(হাপিয়ে হাপিয়ে বলতাছে)
-পুলিশকে ডাকব কি?মাকে ডাকব কি?আপনি আমাকে ফলো করতাছেন
-দেখুন আপনি এতটা সুন্দরও না যে আপনাকে ফলো করব। আমি বলতে এসেছি আপনি লিপ্ট কেনো থামান নি?
-কি হয়েছে মাইসা?আর ছেলেটি কে?(মাইসার মা)
-জানিনা মা গুন্ডা হবে হয়তো।ফলো করতে করতে বাসা পর্যন্ত চলে আসছে।(মাইসা)
-দেখতে তো শরিফ মনে হচ্ছে।(মাইসার মা)
-এই যাবেন নাকি পুলিশ ডাকতে হবে।(মাইসা)
-ওকে,বলে নিজের রুমে চলে আসে।
কিছুকন পর পাশের রুম থেকে একটা পুরুনো গানের আওয়াজ আসতাছে বলে মাইসা তার মাকে বলতাছে মা আসাদ আংকেলের বাসায় কি নতুন কেউ থাকতে এসেছে।
হতে পারে ভাল কথা।কি ভাল বলতাছো মা দুঘন্টা ধরে একটা পুরুনো গান বাজতাছে আমি দেখে আসি মা বলে মাইসা নিচে নেমে আসে।
দরজায় নক করে,দরজা খোলতেই
-আপনি?
-আপনি?বলে সুহান খালি গায়ে লজ্জা পাওয়ায় দরজাটা বন্দ করে দেয়।
একটা শার্ট গায়ে দিয়ে দরজাটা আবার খোলেন।
-হুম কি হয়েছে বলেন?(সুহান)
-আপনি এখানে কি করছেন?
-আমি এখানে থাকতে এসেছি
-কিন্তু এটা তো আসাদ আংকেলের বাসা?
-হুম এখন এটা আমার বাসা।
-নেন নুডুলস খান।
-না আমি নুডুলস পছন্দ করি না।
-আমি বেশি কথা পছন্দ করি না আর এসব আলতো মার্কা গান চলবেনা এখানে।
-কেনো
-আপনার কাছে কি বস্তি  মনে হয় লাইড দিয়ে গান শুনতাছেন বলে মাইসা নিজের রুমে চলে আইসা বলতাছে আাসাদ আংকেলের জানি কি হয়েছে  এসব জংলিটাইপের লোক বাসায় টাই দেয়।
-কিন্তু যদি ও জংলি টাইপের হতো তাহলে মিউসিক বন্দ করতে চাইতনা(রাইসার মা)
-মা ওকে দেখে আমার সুবিধা মনে হচ্ছেনা।
খাওয়াদাওয়া শেষ করে সুহান চাদে এসে জিরো লাউডে গান লাগিয়ে শুনতাছে আর রাইসাকে মিস করতাছে।মোবাইলটা বেজে উঠল বের করে দেখে রাইসা ফোন করেছে ফোনটা রিসিব করার পর
-কি কররতাছো
-বসে আছি তুমি
-বসে আছি রাতে খাইসো?
-হুম তুমি খাইসো?
-হুম
-সুহান কাল তুমি আমার সাথে দেখা করতে পারবে?
-কখন
-কাল দশটায়
-ওকে।
এবাবে দুজনে বেশ কিছুখন কথা বলার পর কলটা রেখে দিয়ে সুহান রুমে চলে আসে।
পরেরদিন সুহান রাইসার সাথে দেখা করতে যায় একটা বুক স্টোরের বসে একটা বই হাতে যখন অপেকা করতাছে তখন একটা দৃশ্য সুহানের চুখে পরে একটা মেয়েকে বুক স্টোরের মালিক খুব সাসাইতাছে
দুই দিনের আগে যদি মনিস দাসের লেখা মাধুকরী বইটা সংগ্রহ করে না দিতে পার তাহলে তোমার চাকরি থাকবেনা চলে যাবে।স্যার আপনার কথায় আমি মনিস দাসের লেখা সব বই পরেছি কিন্তু এই বইটা খুজে পাইনি।চুপ কর মনিস দাস আমার খুব ভাল বন্ধু।লন্ডনে প্রায় সময়ে আমার সাথে বসে আড্ডা দেয়।সুহান এসব দেখে একটা মুচকি হাসি দিয়ে উঠে দারিয়ে
স্যার এই দেখুন বদ্ধ দেব গুপ্তের লেখা মধুকরি বইটা প্রচ্ছদ করেছে মনিস দাস
কিন্তু আমি তো নিজের কানে সুনলাম বইটা মনিস দাসের লেখা।
ওকে তোমার চাকরিটা বেচে গেল আর এই আওয়ারা ম্যানাজারর সাহেব কোথায় ওকে বলে দিও আমি এসেছিলাম বলে লোকটা বিদায় হয়।
-হাই আমি জারা,টেংকস গড আপনি আমার চাকরিটা বাচিয়ে দিলেন।
-হাই আমি সুহান ইটস ওকে।
-আাপনি একানে কোথায় থাকেন?
-সামনেই একটা বাসায় থাকি কিছুদিন হলো আসলাম
ম্যানাজার সাহেব এতখন দূর থেকে লুকিয়ে সব দেখতাছে কাছে আসার সাহস পাইনাই এবার বেরিয়ে এসে তাদের কথা বলার মাঝে আটকায়।
-আরে দোস্ত আমি আলভি
-তুমিই সেই ডিজে আলভি
-কেনো এত বড় বাংলাদেশে কি আরেকটা আলভি থাকতে পারে না?ও মিউসিক বানিয়ে ব্যাবসা করে আর আমি বই চাপিয়ে ব্যানসা করি।
কথা বলার ফাকে একবার সুহান উকি দিয়ে দেখে নেয় রাইসা এসেছে কিনা
-পুলিশের তারানি  খেয়ে এসছো?
-কেনো আমার কপালে কি লিখা আসে যে আমি পুলিশের তারানি খেয়ে আসছি।
-আরে তুমি স্টোরের ভিতরে থাইকা বাহিরের দিকে  উকি মারগাসো তো তাই।
-ওকে বাদ দেন আমও এই বইটা কিনতে চাই দাম কত হবে?
-১৬হাজার টাকা।
-১৬হাজার টাকার বই এটা
-১৬হাজার টাকা আমি তোমাকে দেব
-কেনো তুমি আমাকে কেনো ১৬হাজার টাকা দেবে।
-আরে ভাই তোমাকে তো কাউন্টারের ওপাশে থাকা দরকার।চাকরি করবে?
-না ধন্যবাদ।
-কেনো বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান বুক স্টোর পছন্দ নয়।আর তোমার মতো হেনসাম ছেলে থাকলে সুন্দরি মেয়েদের সংখ্যাতো আরো বেড়ে যাবে।জারা এখটু মুচকি হাসে দূর থেকে।
-ওকে
-তাহলে তোমার চাকরির টাইম চালো হয়েছে এখন থেকে।
-নো লান্চ টাইম থেকে বলে সুহান রাইসার আসতে দেখে তারাতারি করে বেরিয়ে যায়।
-তোমাকে কিছু কথা বলব(রাইসা)
-হুম বলো
-আমার আমি কাল সকালের প্লাইটে লন্ডন চলে যাচ্ছি বিশেষ পশিকনের জন্য
-আমাকে ভুলে যাও তুমি আর হয়তো দেখা হবেনা
-রাইসা আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পাররবনাচ আার সামনের বুক স্টোরে আমার একটা চাকরি হয়েছে
-সরি সুহান এটায় আমাদের শেষ দেখা হবে হয়তো কথাগুলো বলে রাইসা চলে যায়। সুহান তার চলে যাওয়ার দিকে করুন দৃষ্টিতে...........

চলবে
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label