নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

গল্পঃ (কি করে বেঁচে থাকি) Ki kore bace Thaki

গল্পঃ (কি করে বেঁচে থাকি)
লেখকঃ #Asad_AF


আজ দিয়ে ৬ মাস হয়ে গেছে। পাগলীটার সঙ্গে কথা বলি নাই। কাজের অনেক চাপ ছিলো। আজকে বাসায় যাচ্ছি পাগলীটাকে সারপ্রাইজ দিবো বলে। পাগলীটার পচ্ছন্দের চকলেট কিনেছি আর অনেক গুলো চুরি কিনেছি। আরো অনেক কিছু আম্মু আব্বু বাসার সকলের জন্য অনেক কিছু কিনেছি। আজকে বাসার সবাইকে সারপ্রাইজ দিবো।
ভাবতেই কেমন যেন অন্যরকম একটা অনুভূতি হচ্ছে। পাগলীটা কত্তটা খুশি হবে তাই না? আমার পাগলটা অনেক রাগ করে বসে আছে মনে হয়! থাকবে না কেন। আমি কত্তোটা খারাপ একবার অন্তত কলও করি নাই। না খেয়ে খেয়ে শরীল খারাপ করেছে হয়তো।
বাসায় যাচ্ছি পাগলীটার কাছ থেকে সরি চেয়ে নিবো। আরে হ্যাঁ আমার পাগলী বউটার নাম রাইসা। মেয়েটা অনেক অভিমানী। একদিন না কথা বললে অনেক রাগ করে। আর আমি কিনা ৬ মাস কথা বলিনাই। অনেক রাগ করেছে হয়তো। তবে হ্যাঁ পাগলীটা আমাকে দেখলে অনেক খুশি হয়ে যাবে।
বাসায় এসে দেখি সবাই খুশি হয়ে আমার কাছে আসলো।
কিন্তু একটা জিনিস খিয়াল করলাম সবাই যেন না চাইতেও হাসার চেষ্টা করছে। সবাই বলছে কেমন আছিস। আম্মু বললো হাত মুখ ধুয়ে নে। খাবার বেরে দিচ্ছি।
আমি আম্মুকে বললাম আম্মু আম্মু রাইসা কোথায়। আম্মু কিছু না বলে বললো। রুমে যা। আমি খাবার নিয়ে যাচ্ছি।
আমি রুমে গিয়ে রাইসাকে অনেক খুজলাম পাইলাম না। আম্মু খাবার নিয়ে আসলো। রুমে।
-আম্মু রাইসাকে কোথাও দেখছি না যে। পাগলীটা কোথায় আম্মু।
-আগে খাবারটা খেয়ে নে বাবা। তারপর বলছি।
-আচ্ছা আম্মু খেয়ে দেও।
-ওকে হা কর।

আম্মু আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে। কিন্তু আম্মুর চখে জল দেখতে পেলাম। আমি জিগ্যেস করলে বললো এমনি।

-আম্মু রাইসা কোথায় বলো না।
-রাইসা নেই।
-মানে কি আম্মু। রাইসা কি শশুর বাড়ি গিয়েছে? অনেক রাগ করে আছে না।
-না রে বাবা রাইসা এই পৃথিবীতে আর নেই।
-মানে

খাবারের বাটি নিচে পরে গেলো। আমার।
-তুমি মজা করছো না আম্মু।
-যা ভাবছিস তাই।
-যানি তো। আম্মু বলো না রাইসা কোথায়।
আম্মু বললো কবরস্থানে যা।
-রাইসা কি করছে ওখানে আম্মু?
-দেখে আয় (,বলে আম্মু রুম থেকে বের হয়ে গেলো।
আমি অনেক চিন্ততত হয়ে গেলাম। এই পাগলীটা পারেও বটে। এতো রাগ কিসের। যাই দেখে আসি কবরস্থানে কি করছে।
আমার ভাইয়া কবর স্থানে নিয়ে এসে বললো। দেখ (বলে কান্না করতে লাগলো।)
-মানে কি ভাইয়া আমার রাইসা কোথায়?
-নিচে দেখ
-কি কোথায় ওটা তো একটা কবর।
-ওখানেই তোর রাইসা সুয়ে আছে।
-কি বলছো ভাইয়া। কি হয়েছে আমার পাগলীটার।
-তোর পাগলী ক্যানসারে মারা গেছে ভাই।
-কি বলছো এসব ভাইয়া (ভাইয়ার কলার ধরে)

আমি সঙ্গে সঙ্গে কবরটার কাছে গিয়ে কান্না করতে লাগলাম। ওই জানু কি হয়েছে তোমার। তুমি এখানে কেন? ওঠোই না। না হলে অনেক বকবো কিন্তু। দেখোই না তোমার জন্য কত্তগুলো চকলেট নিয়ে এসেছি। এতোটাই অভিমান আমার উপর তোমার।  রাইসা বলে চিতকার দিয়ে কান্না করতে লাগলাম। কবরে মাথা লেগে পরে আছি। ভাইয়া বলছে আর পাগলামি করিস না ভাই বাসায় চল।
-না আমি কোথাও যাবো না। আমার জানুটার কাছে থাকবো। তুমি চলে যাও।(চিতকার দিয়ে বললাম।( ভাইয়া চলে গেলো।)
আমি কান্না করতে করতে সুয়ে থেকে গেলাম ওখানে। ঘুমের মাঝে রাইসাকে দেখতে পাচ্ছি। রাইসা আমাকে বলছে ওই পাগল পাগলামি করো না। আমি তোমার সঙ্গেই তো আছি বলো। এই তো আমি। একদম কান্না করবে না। ভালো ছেলে হলে এখন বাসায় চলে যাও। নয়তো আবার অভিমান করবো কিন্তু। চখ খুলার মাত্র দেখলাম। রাইসা আর নেই। আবার কান্না করতে লাগলাম। বৃষ্টি চলে এসেছে।  বাসায় ভিজতে ভিজতে চলে আসলাম। এখন আমি প্রতেদিন। নামাজ পড়ার সময়। আমার পাগলীটার জন্য দোয়া করি।
আবেদন করি খোদার দরবারে আখিরাতে পাই যেন পাগলীটারে।
জীবনটা ডাইরির শেষ পাতা হয়ে গেছে আমার। এখন শুধু প্রহর গণতে থাকি।
রাতে আকাশের অনেক তাঁরার মাঝে রাইসাকে খুজতে থাকি। একটা ঝলমলে তাঁরা দেখতে পেলে ভেবে নেই এইটা আমার রাইসা। বলে কান্না করতে থাকি।
পাগল হয়ে পরে থাকি এখন। ভালো মতো খাওয়া হয়না। আর প্রতি নামাজে পাগলীটার জন্য দোয়া করি। কলিজাটা পুরে গেছে আমার।। পাগলীটার কাছে কবে যাবো এখন প্রহর গনি। কি করে বেঁচে থাকি পাগলীটাকে ছারা।

সমাপ্ত......

গল্পঃ (কি করে বেঁচে থাকি)
লেখকঃ #Asad_AF
___________________

(October27_2019)
___________________

ভালো লাগলে কমেন্ট করে
যানাবেন কেমন।😓😥
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label