নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

গল্প_সংকেত লেখা :-Joshim Ahmed(জ্বলন্ত প্রতিভা) (#পর্ব_১)

#গল্প_সংকেত
লেখা :-Joshim Ahmed(জ্বলন্ত প্রতিভা)
(#পর্ব_১)

বিয়ের প্রথম রাতেই অনিল ওর নতুন বউয়ের পেটে লাথি দিল । নিরু প্রচণ্ড ব‍্যথায় পেট ধরে মেঝেতে বসে পড়লো । অনিল আবার নিরুর চুল ধরে তুলে মুখে কয়েকটা জোরে জোরে চড় মারলো । নিরু অসহায় হয়ে অনিলের অত‍্যাচার ভোগ করছে । কিছু বলছে না । কিছু বলার মতো কথা খুঁজে পাচ্ছে না । কেননা এই অপরিচিত আপন মানুষকে নিরু চেনে না । বিয়ের কথাবার্তা হওয়ার সময় একবার দেখেছিলো । আর আজ । এর মাঝে কোনো কথা হয়নি । অনিল রুমে ঢুকতেই নিরু সালাম দিয়ে এগিয়ে আসে । আর তখনই হুটহাট এলোপাতাড়ি ভাবে অনিল নিরুকে মারতে শুরু করে । অনিল কেন মারছে ? কি অপরাধে এমন করছে নিরু এখনও বুঝতে পারছে না । নিরুর পেটে অসম্ভব ব‍্যথা করছে । মুখেও ব‍্যথা করছে কিন্তু পেটের থেকে কম ।
অনিল দুম করে আর একটা লাথি নিরুর পেটে মারলো । এতক্ষণ নিরু নিরবে সহ‍্য করলেও এবার নিরু প্রচণ্ড জোরে মাগো বলে শব্দ করলো । বিয়ের প্রথম রাতে এমন কান্ড ঘটবে নিরুর জানা ছিল না । কিভাবে জানা থাকবে ! নিরু তো ভবিষ্যতে কি হবে জানেনা ।
চেঁচামেচি শুনে অনিলের মা বাবা ছুটে আসলো । অনিল দরজা খুলে দিয়ে বাইরে চলে গেল । অনিলের বাবা মা রুমে ঢুকে দেখলো নিরু পেটে হাত দিয়ে মেঝেতে পড়ে ব‍্যথায় কাতরাচ্ছে । অনিলের বাবা জলদি ডাক্তারের আসার ব‍্যবস্থা করলো । রুবেল হোসেন একজন নামকরণ বড় ব‍্যবসায়ী । উনার পরিবারের জন্য আলাদা ভাবে একজন ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া আছে । কিন্তু এসবের তো একটা নিয়ম কানুন আছে নাকি । মধ্য রাতে বাসার চাকরকে ডাকাও কেমন অসভ্যতা দেখায় । আর এখানে একজন ডাক্তারের ক্ষেত্রে তো একটু সংকোচ থাকবেই । কিন্তু বিপদের কাছে সংকোচ করলে বিপদ আরও বাড়বে ।
 ডাক্তার নিরুকে চিকিৎসা দেবার পর নিরু একটু স্বস্তি বোধ করছে । রাত তখন তিনটা । ডাক্তার চলে গেছে । নিরুর শ্বাশুড়ী নিরুর শরীরের বিয়ের কাপড় পাল্টে একটা পাতলা সুতির শাড়ী পড়িয়ে দিলেন । নিজে শাড়ী পড়ার মতো শক্তি নিরুর নেই । নিরু একমনে আকাশ বরাবর তাকিয়ে আছে । উপরে অবশ্য আকাশ নেই । ইট বালুর জয়েন্টে ছাদ । রুবেল হোসেন অনিলকে ফোনে পাচ্ছে না । রিং হচ্ছে কিন্তু রিসিভ করছে না ।
রুবেল হোসেনের খুব বিরক্ত লাগছে । উনার সম্মানেও অনেক আঘাত হানছে । ছেলে বিয়ের প্রথম রাতে এমন অস্বাভাবিক কিছু করবে তার জানা ছিল না ।
রুবেল হোসেন জাহানারা বেগমের উদ্দেশ্যে বললেন
-তুমি এখানেই থাকো । আমি রুমে যাচ্ছি । কোনো সমস্যা হলে আমাকে জানিও ।
জাহানারা বেগম মাথা দুলিয়ে সম্মতি দিলেন। নিরুর চোখ মুখ ঘোলা হয়ে আসছে । ঠিকমতো তাকাতে পারছে না । নিরু গ্ৰামের একটা ধর্ম ভীরু মেয়ে । জাহানারা বেগম  বাবার বাসায় গ্ৰামে  বেড়াতে গিয়ে নিরুকে পছন্দ করে । আর তিনি মনে করেন অনিলের জন্য নিরু একদম পারফেক্ট পাত্রী । সেই থেকে সব কিছুর উৎপত্তি । নিরু চোখ মেলে তাকিয়ে বলল
-আন্টি পানি খাবো ।
জাহানারা বেগম পানির গ্লাস মুখে দিয়ে খাইয়ে দিলেন । নিরু আসলেই খুব অসুস্থ । তার শরীরের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে ব‍্যথা । ব‍্যথার জ্বালা থেকে মনের মাঝে জ্বলে ওঠা আগুনের তাপ , যাতনা বেশি । বিয়ে নিয়ে প্রতিটি মেয়েরাই একটা স্বপ্ন তৈরি করে । নিরু স্বপ্ন দেখেছিল যা তার ঠিক উল্টো হলো ।   জাহানারা বেগম নরম গলায় বললেন
-মা কি হয়েছে বলো তো একটু ? অনিল এমন মিস বিহেভ কেন করলো ?
নিরু অস্ফুট কণ্ঠে বলল
-কিছুই হয়নি । আমার সাথে কোনো কথায় বলেনি । রুমে ঢুকেই !!
নিরুর চোখে জল । জলের ধারা চোখের দুই কোণা বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে । নিরুর মনে পড়লো তার খালার কথা । নিরুর খালার একবার বিয়ে হয়েছিল । তারপর সেই স্বামী নিরুর খালার উপর খুব অত‍্যাচার করতো । নিরুর খালা সংসার টিকিয়ে রাখতে পারেনি । স্বামী সংসার ছেড়ে নিরুর খালা বাবার বাড়ি চলে যায়। তারপর আর বিয়ে করেনি । এখনও আগের মতো দিব‍্যি আছে । এমনকি নিরুর খালা কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানেও যায় না । নিরু অনেক অনুরোধ করার পর নিরুর বিয়েতে আসে ।  নিরুর খুব কান্না পাচ্ছে । মনে হচ্ছে হাউমাউ করে , চিৎকার করে কাঁদি ।
নিরু জাহানারা বেগমকে বললেন
-আন্টি আপনি রুমে যেয়ে ঘুমান । আমি এখন একদম ঠিক আছি । ফজরে যদি জাগা না পাই তবে ডেকে দিবেন ।
-আমাকে মা বলবে কেমন ।।

অনেক সময় পর অনিল রুবেল হোসেনের কল রিসিভ করলো । রুবেল হোসেন রেগে বললেন
-তুই কোথায় এখন ?
অনিল কেমন সেন্সলেস কণ্ঠে বলল
-প্রতিদিন যেখানে থাকি সেখানে ।
-প্রতিদিন যেখানে থাকিস তার মানে কি ! আজকেও কি তোর মদ গিলতে হবে ! এই মদই তোকে শেষ করে দিবে । আজকে তোর বিয়ে হয়েছে ভুলে গেছিস ?
অনিল বিরক্তিকর কণ্ঠে বলল
-ওইসব বিয়ে টিয়ে আমি মানিনা । 
-দেখ অনিল ! অনেক বেশি বেড়ে গেছিস । তোকে আমি বাড়ি থেকে বের করে দিব বলে দিলাম ।  এখনি বাড়ি আয় বলছি ।
অনিল বলল
-আহ এত বিরক্ত কর কেন বুঝিনা । আমার আসতে লেট হবে ।
-কষে এক থাপ্পড় দিব । তোর বউ খুব অসুস্থ । এমন ব‍্যবহার কেন করেছিস ? তাড়াতাড়ি বাসায় আয় তোর বিচার হবে ।
অনিল আবার অস্ফুট কণ্ঠে বলল
-আজকে রাতে আর বাসায় যাবো না । সকালে যাবো । দেখি তোমরা কি করতে পারো ।
  -আমি তোকে এক ঘন্টার মধ্যে বাসায় দেখতে চাই ।
অনিল রুবেল হোসেনের শেষের কথাটা শুনতে পায়নি । তার আগেই লাইন কেটে দিয়েছে । অনিল ইদানীং কারো কথায় মান‍্য করে না ।
অনিল প্রতিদিনের ন‍্যায় আজও ক্লাবে গেছে  । অনিলের নিত্য দিনের কাজের মধ্যে এটা একটি অন্যতম কাজ । নাচানাচি , হৈচৈ গান বাজনা নিয়ে অনিল ইদানীং মেতে থাকে । কিন্তু অনিল একদম এমন ছিল না । হঠাৎ কেন যে বদলে গেল রুবেল হোসেন এখনও আঁচ করতে পারছেন না ।  রুবেল হোসেনের নাগালের বাইরে সকল ঘটনা ঘটছে ।
রুবেল হোসেন আরও খবর পেয়েছেন , অনিল মাঝে মাঝে খারাপ মেয়েদের সাথে একান্ত সময় কাটায় ।  ছেলেকে ছোট থেকেই চাওয়া মাত্র সব কিছু দেওয়ার পরিণতি এমন পর্যায়ে আনবে সেটা উনার ধারণা ছিল না ।
জাহানারা বেগম রুমে ঢুকে বললেন
-কি বলল অনিল ?
রুবেল হোসেন মন খারাপ করে বললেন
-সে আজ রাতে বাড়ি ফিরবে না । কিন্তু তুমি চলে এলে কেন নিরুর কাছে থাকতে । 
রুবেল হোসেন আবার প্রশ্ন করলেন
-নিরু কি করছে এখন ?

নিরু বিছানায় আধো শোয়া হয়ে বসে অপেক্ষা করছে । কেন করছে ! কিসের জন্য করছে নিরু ঠিক উপলব্ধি করতে পারছে না । কিন্তু নিরু বুঝতে পারছে তার আজ অপেক্ষা করার রাত । একজন মানুষের জন্য তার অপেক্ষা । শুধু মাত্র একজন মানুষই পারে নিরুর আজকের রাতের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে । কিন্তু লোকটা কি আদৌও আসবে ?  নিরু একটু নড়ে বসে ।  এত যন্ত্রণা দেওয়ার পরেও লোকটার জন্য নিরুর অবচেতন মন অপেক্ষা করছে।  স্বামী কি এমনই ? মেয়েদের জীবন কি এমনই ? মেয়েদের মনও কি এমনই ?
নিরু মনে মনে প্রশ্ন করে কিন্তু কোনো উত্তর পায় না । উত্তর কখন পাবে তাও জানেনা । নিরুর মনে হয় , কিছু প্রশ্নের উত্তর না জানাই ভালো ।  কিছু অজানা বরং অজান্তেই থেকে যাক ।  তবে উত্তর গুলো জানতে পারলে মনে খুব প্রশান্তি পাওয়া যায় ।

চেচামেচি শুনে নিরুর ঘুম ভেঙে গেল ।  নিরু তাকিয়ে দেখলো রুমটা অপরিচিত । প্রতিদিনের মতো ঘুম ভেঙে সে পরিচিত রুমটা দেখতে পেল না । নিরু রুম থেকে বাইরে  বের হলো ।
সামনে তাকিয়ে নিরুর চোখ বড় বড় হয়ে গেল !! নিরুর দম বন্ধ হয়ে আসছে । নিরুর মনে হচ্ছে পৃথিবী ঘুরছে । খুব জোরে জোরে । সত্যি হলো , পৃথিবী ঘোরে । কিন্তু আমরা সেটা টের পায় না । কিন্তু নিরুর মনে হচ্ছে , পৃথিবী ঘুরছে এবং সেটা খুব ভালো ভাবেই সে বুঝতে পারছে ।
নিরু চোখ বড় বড় করে অনিলের দিকে তাকালো । অনিল একটা মেয়ের কাধে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে । অনিলকে দেখে মনে হচ্ছে , সে কিছুক্ষনের মধ্যেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে ।  রুবেল হোসেন রাগন্বিত হয়ে বললেন
-অনিল , তুই কিন্তু এবার তোর সীমালঙ্ঘন করছিস । তোর মতো এমন বেহায়াপনা আমার চৌদ্দগোষ্ঠির কেউ করেনি । ঘরে বউ রেখে রাস্তার মেয়েদের সাথে ঢলাঢলি করতে তোর লজ্জা করে না । তুই কবে এত নিচে নামলি ! ছিঃ !
অনিল ধীরে ধীরে চোখ তাকিয়ে অস্পষ্ট স্বরে বলল
-দেখো বাবা ,  আমি আগেই বলেছি , আমি এই বিয়ে মানিনা । তাই ওকে বউ হিসেবে মানতে পারছি না ।
অনিল পাশের মেয়েটাকে উদ্দেশ্য করে বলল
-এটা আমার গার্লফ্রেন্ড আমি ওকেই বিয়ে করবো ।
-নিরুকেই তোর বউ হিসেবে মানতে হবে । এটাই শেষ কথা ।
-বললাম তো । এই বিয়ে মানিনা । আর মানবোও না ।
-বিয়ের আগে এই কথা বলতে পারিসনি ? তাহলে এখন মানবি না কেন ? বিয়ে যেহেতু করেছিস । তোকে মেনে নিতেই হবে ।
অনিল ঘুম ঘুম কণ্ঠে বলল
-ও একটা নষ্টা মেয়ে । ওর সাথে আমি থাকতে পারবো না । ও তোমাদের কাছে ভালো সেজে আছে। ওই মেয়ে একটা মুখোশধারী নষ্টা মেয়ে !
অনিলের কথা শুনে সবাই অবাক ।
অনিলের ছোট বোন শিমু বিস্মিত হয়ে বলল
-ভাবি নষ্টা মেয়ে তুই জানলি কিভাবে ? বল আমাদের ! বল ! কে বলেছে তোকে বল ?
অনিল ঘুম ঘুম কণ্ঠে আবার বলল
-আমাদের মসজিদের হুজর বলেছে !!
অনিলের কথা শুনে সবাই বোবাতে পরিণত হলো !
চলবে.সংকেত_গল্পের_২য়_পর্ব_আমার_টাইন_লাইনে_দেওয়া_আছে।
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label