নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

জানি দেখা হবে ( jani dakha hobe)

জানি দেখা হবে
Write : Sabbir Ahmed
>>>>>>>>>>>>>>>>

-মা দোয়া করো আজকের ইন্টার্ভিউ এ যেনো টিকতে পারি (শুভ)
-হ্যা রে বাবা দোয়া তো করি, আর এটাতে যদি না হয় তাহলে কি করবি??(শুভর মা)
-কি আর করবো, বাবা যেই কাজ করতো সেই কাজ করবো, একটা সি এন জি কিনে চালাবো..
-..............
-আচ্ছা আসি মা
,,
,,
শুভ বাইরে বের হতেই দেখা হয় তার মামাতো বোন এর সাথে। নাম তিশা
-কিরে কই যাস??(তিশা)
-একটা চাকরির ইন্টার্ভিউ দিতে যাচ্ছি(শুভ)
,,
তিশা শুভর থেকে ছোট তাও, শুভকে তুই করে বলে...
-আরে যা যা, তোর শুধু পরীক্ষা দেওয়া লাগবে, চাকরি আর তোর কপালে নাই(তিশা)
-হুমমম তবুও দোয়া কইরেন
-দোয়া করেও লাভ নাই, তোর মতো খ্যাত এর চাকরি হবে না
-হুমমম
-উফফফ সক্কাল সক্কাল কার মুখ দেখে দিন শুরু হলো ধ্যাত...
,,
,,
তিশা শুভর সাথে সবসময় এমন আচারণ করে কারন...
তিশা সম্পর্কে শুভ ছোট বেলা থেকেই মামার বাসায় থাকে, তার মায়ের সাথে। শুভর যখন ১০ বছর বয়স তখন তার বাবা মারা যায়, পরে শুভর মামা তাদের বাড়িতে থাকতে দেয়, আর এখান থেকেই শুভ বড় হয়।
,,
,,
শুভ আর শুভর মাকে তিশার আর তা মা একদমই সহ্য করতে পারে না। মামা মারা গেছে মাস ছয়েক আগে তারপর থেকে আরও বেশি খারাপ আচারন শুরু করেছে। এতদিন এইসব সহ্য করতে করতে শুভর অভ্যাস হয়ে গেছে....
,,
,,
শুভ যেখানে ইন্টার্ভিউ দিতে যাবে, তার মামা বাসা থেকে সেইখানে যেতে বেশি সময় লাগেনা। তাই সে হেটেই যাচ্ছিলো। রাস্তায় একটা মেয়ের সাথে শুভর লাগে ধাক্কা...মেয়ের হাতে যা কিছু ছিলো সব নিচে পড়লো।
,,
,,
মেয়েটা কিছু বলল না, শুধু গাল ফুলিয়ে মাজায় হাত দিয়ে দাড়ালো। শুভ ভয়ে পড়ে থাকা কাগজ গুলো তুলল। আর তার প্যান্টের সাথে ধুলো গুলো মুছলো। তারপর মেয়েটাকে কাগজ গুলো দিয়ে বলল
-সরি, আমি দেখি নি (শুভ)
-হুমমম(মেয়েটি)
,,
,,
শুভ পাস কাটিয়ে চলে আসলো, আর হাটতে থাকলো। মেয়েটিও চলে গেলো। কিছুসময় পর অফিসে পৌছে যায় শুভ, গিয়ে দেখে সবাই বসে আছে। একে একে সবার ইন্টার্ভিউ নেওয়া হচ্ছে। শুভ একটা বেঞ্চে বসলো। বসে ওয়েট করছে হঠাৎ দৌড়ে এসে একটা মেয়ে তার পাশের ছিটে বসলো। মেয়েটা হাঁপাতে হাঁপাতে বলল
-হুহ, রাস্তায় জাম পড়ার আর সময় পায় নি হুহ,(মেয়েটি)
,,
শুভ মেয়েটির দিকে তাকায়, তাকিয়ে দেখে সেই ধাক্কা খাওয়া মেয়েটি, শুভ মেয়েটাকে দেখে দাড়িয়ে যায়...
মেয়েটি এবার শুভর দিকে তাকায়, আর বুঝতে পারে এর সাথেই রাস্তায় ধাক্কা লাগছিলো...
-আ আ আপনি এখানে?? (মেয়েটি)
-হ্যা আমি এখানে ইন্টার্ভিউ দিতে আসছি (শুভ)
-ওহহ, আমিও তো আসছি
-হুমমম
(শুভ আর কিছু বলল না)
,,
,,
কিছুক্ষণ যাওয়ার পর মেয়েটা বলল
-আমরা পরিচিত হতে পারি??(মেয়েটি)
-হুমমম (শুভ)
-আমি ইরা
-শুভ
-কোথায় থাকেন??
-......(একটা জায়গার নাম বলল)
,,
,,
পরিচয় হওয়ার পর, ইরা বলল
-আচ্ছা একটা কথা বলি রাগ করবেন না বলেন (ইরা)
-হ্যা বলেন (শুভ)
-আপনার যে পোশাক, এই পোশাকে আপনার জব হবে না
-কেনো??
-কি পোশাক পড়ে আসছেন দেখছেন??
-কেন সব তো ঠিক আছে
-হাহ ওকে দেখেন কি হয়
-হুমমম
,,
,,
একসময় শুভর ডাক আসে সে ভেতরে যায়... সে বসার সাথে সাথে প্রশ্ন করে...
-আচ্ছা এর থেকে ভালো পোশাক আপনার কাছে নেই...
-না
-তাহলে আপনি আসতে পাড়েন
-হ্যা
-আপনি আসতে পারেন
-হুমমম (শুভ মন খারাপ করে চলে আসে বাইরে)
,,
,,
শুভর পরে ইরার ভেতরে ঠোকার পালা, ভেতরে ঠোকার আগে মেয়েটা শুভকে বলে...
-আগেই বলেছিলাম হবে না (ইরা)
-হুমমম (শুভ)
,,
,,
শুভর চোখে পানি চলে আসে, এখন কি করবে সে?? এত্ত গুলো ইন্টার্ভিউ দিলো তাও কাজ হলো না। আর আজকে তো আগেই বের করে দিলো।
সেই অফিসের নিচে একটা গাছের নিচে বসে আছে আর ভাবছে...
,,
,,
এর মধ্যেই ইরার ইন্টার্ভিউ দেওয়া শেষ হয়ে গেলো। তার জব টা হয়েছে। সে অফিস থেকে বাইরে বের হয়, আর দেখে শুভ বাইরে বসে আছে, আনমনে একদিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবছে...
ইরা শুভর কাছে গেলো...
-এই যে শুনছেন (ইরা)
-....(শুভ শুনতে পায় না)
-এই যে হ্যালো
-এহহ হ্যা ওহহ আপনি, আপনার হইছ?? জব হইছে??
-হুমমম হয়েছে
-যাক ভালই হলো
-বাসায় যাবেন না??
-না আপনি যান
-আরে এক সাথেই যাই, আমি তে আপনাদের ঐ দিকেই থাকি
-না আমি পরে যাবো
-ওকে থাকেন(ইরা চলে গেলো)
,,
,,
শুভ আরও কিছুক্ষণ বসে থাকা তার বাসায় চলে গেলো...যাওয়ার পর থেকেই কথা শোনা শুরু হয়ে গেলো...
-ওই যে আসছে, পোড়া কপাল আসছে, একটা চাকরি জোগাড় করতে পারে না, আর আজকেও হয়নাই মনে হচ্ছে...
,,
,,
শুভর তার মায়ের কাছে যায়, গিয়ে কান্না করে দেয়...
-মা আজও তো হলো না (শুভ)
-তাই কান্না করতে হবে?? আজ হয় নি কাল হবে (মা)
-এইগুলো ফেলে দিয়ো, কাল থেকে আমি ভাড়ায় সি এন জি চালাবো
-তাহলে...
-মা আমাকে আটকিয়ো না তো, আমার ভালো লাগছেনা, আমি আর কিচ্ছু শুনতে চাইনা
-আচ্ছা ঠিক আছে, এখন আয় খেয়ে নে
-না আমার খুদা নেই, তুমি খেয়ে নাও
(শুভ তার রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লো)
,,
,,
পরদিন সে একটা সি এন জি ভাড়া নেয়, সারাদিন চালিয়ে ভালই টাকা হলো। সে টাকা পেয়ে মনে হয় হাফ ছেড়ে বাঁচলো। এভাবেই চলল এক মাস... একদিন সকালে কাজে যাবে। শুভ উঠে দেখে তার মা এখনো উঠে নাই....মাকে ডাকা শুরু করলো..
-মা মা ওমা আমি গেলাম (শুভ)
-......(তার মা কোনো শব্দ করলো না)
-মা ও মা
-.......
শুভ তার মায়ের হাত ধরলো কিছু একটা অনুভব করতে পেরেই একটা জোড়ে চিৎকার দিলো। চিৎকারে তার মামি আর তিশা চলে আসলো
-কিরে কি হইছে?? (মামি)
-মা মা মা মা(শুভ বলতে পারছে না)
-কি মা মা করছিস?? কি হয়েছে সেটা বল
-মা মা নেই
-নেই মানে!! এই যে শুয়ে আছে
-মা মারা গেছে(এটা বলে শুভ জোড়ে চিৎকার করে)
,,
,,
মামি কাছে গিয়ে দেখে সত্যিই তাই।
সেদিন দুপুর এর পর তার মায়ের দাফন হয়। সেই থেকে শুভ একদম মন মরা হয়ে যায়। কারও সাথে কথা বলে না।
কাজ থেকে ফিরে তার মামির কাছে টাকা দেয়, কিন্তু কোনো কথা বলে না।
এভাবে কয়েকদিন যাওয়ার পর...একদিন রাতে শুভ কাজ থেকে ফিরে নিজের ঘরেই খাচ্ছিলো..
,,
,,
হঠাৎ তার মামি জোড় গলায় বলল
-একজন বিদায় হলেই রুম দুইটা ভাড়া দিতে পারি, আপদ টা বিদায় হচ্ছে না, কবে যে বিদায় হবে আল্লাহ যানে (মামি)
,,
,,
শুভ সাত পাঁচ না ভেবে, তার কাপড় গুছাতে থাকে তখনই।
পরদিন সকালে ব্যাগ হাতে নিয়ে শুভ কাজে বের হয়...
,,
,,
-মামি আসি, এতদিন আপনাদের ঘারের উপর বসে থেকে খেয়েছি, মাফ করে দিয়েন, আর ভালো থাকেন (এটা বলেই দ্রুত সেই বাসা থেকে বের হয় শুভ। তার মামিকে কিছু বলার সময় দেয় না)
,,
,,
শুভর আজ খুব ভালো লাগছে, মনে হচ্ছে গলায় একটা কাটা লেগেছিলো।এতদিন। আবার একটু খারাপ ও লাগছে, এতদিন থাকছে সেই বাসায়। এসব ভাবতে ভাবতে তার সি এন জি গ্যারেজে পৌছে যায়...
,,
,,
-মামা বাসাা থেকে চলে আসছি, তোমার এখানে কি থাকার জায়গা হবে??(তার মালিক কে বলে)
-না রে তেমন কোনো রুম নেই
-রুম লাগবে না, শুধু রাত টা পার করবো, এমন জায়গা
-আচ্ছা শোন তুই আমার বাসায় চল
-না মামা আমি বাসায় থাকতে পারবো না
-কেনো??
-এমনি আমার বাইরে থাকতে হবে
-আচ্ছা এই গ্যারেজ এ একটা রুম আছে, সেখানে আগে একজন থাকতো, এখন কেউ থাকে না, কিন্তু রুম টা অপরিষ্কার
-আমি পরিষ্কার করে নিবো, কোন দিকে তাই বলো
-একদম সোজা পেছন দিকে চলে যা
-আচ্ছা
-এই দাড়া চাবি নিয়ে যা...
,,
,,
শুভ রুমটা খুলে দেখলো, যাচ্ছে তাই অবস্থা..একটা ভাঙা চকির উপর তার ব্যাগ টা রেখে রুমটা তালা দিয়ে চলে আসলো...
-মামা এই যে চাবি (শুভ)
-তোর কাছেই রাখ, আর হ্যা একটু ভালো ভাবে পরিষ্কার করে নিস
-ঠিক আছে মামা, আমি বের হলাম
-আচ্ছা ঠিক আছে যা, সাবধানে কাজ করিস
-ঠিক আছে মামা....
,,
,,
শুভ কাজে বের হয়। বিকেল বেলা কাহ থেকে ফিরবে। জ্যাম এর জন্য যেতে পারছেনা। তার গাড়ি একটা হাসপাতাল এর সামনে ছিলো। হঠাৎ শুভ দেখতে পেলো...একজন হতাশ হয়ে এদিক সেদিক ঘোরা ফেরা করছে....শুভ তার এমন ভাব সাব দেখে গাড়িটা সাইড এ রেখে তার কাছে গেলো...একটু বয়ষ্ক লোক ছিলো আর খুব ভদ্র পরিবারের লোক ছিলো, তাই শুভ বলল
-আংকেল কেনো সমস্যা??(শুভ)
-বাবা একটা কিডনি লাগবে, একটা কিডনি হলেই আমার মেয়েটা বেচেঁ যাবে (লোকটি শুভকে জড়িয়ে ধরলো)
-আংকেল আংকেল শোনেন, এভাবে কিডনি খুঁজে পাওয়া যাবে না, হাসপাতালে খোঁজ করেন নি
-সবজায়গায় খুঁজেছি নেই, কেউ দিতে রাজি হয় নাই। বাবা যত টাকা চাও দিবো তুমি একটা কিডনি দাও
-আচ্ছা চলেন আগে দেখি পাওয়া যায় কি না
,,
,,
শুভ হাসপাতালের ভেতরে গেলো..আর সেই লোকটার মেয়েকে দেখতে গেলো...গিয়ে দেখে সেই মেয়েটি। মানে ইরা... শুভ এক দেখাতেই চিনতে পেরেছে।
শুভ স্বাভাবিক হয়ে বলল
-কিডনি দিতে পারি তবে শর্ত আছে, (শুভ)
-তুমি যা চাও তাই দিবো, তুমি শুধু বলো কি চাও
-আংকেল আমার কিছু লাগবে না, আমি যে কিডনি দিবো সেটার জন্য কিচ্ছু নিতে পারবো না, আর আমি যে কিডনি দিয়েছি সেটা আপনার মেয়েকে বলবেন না
-কেনো??
-আসলে আংকেল আমার এটা ভালো লাগে না তাই
-আচ্ছা ঠিক আছে...
(তারপর ডাক্তার এর কাছে গেলো)
শুভ অপারেশন এর আগে তার মামা কে ফোন দিয়ে বলল
-হ্যালো মামা (শুভ)
-হ্যা বল
-মামা আমি এক্সিডেন্ট করে একটা হাসপাতালে আছি, (হাসপাতাল এর ঠিকানা বলে শুভ ফোন টা কেটে দেয়)
,,
,,
এদিকে ইরার ও অপারেশন হয়ে যায়।
রাতে..
শুভর সেই মালিক আসে..
-কিরে কিভাবে হলো এক্সিডেন্ট??
-মামা এক্সিডেন্ট হয় নি (তারপর পুরো ঘটনা বলে)
-তুই এটা কি করলি হ্যা, এইভাবে নিজের জীবন এর অর্ধেক কাউকে দিয়ে দেয়??
-কি করবো বলে?? আমার তো কেউ নেই, আমি পৃথিবীতে থেকে কি করবো?? ভাবছি আর একটা যে আছে সেটাও সুযোগ পেলে কাউকে দিয়ে দিবো...

(কথাটা শুনে মামা কান্না করে দেয়)
।।
।।
।।
।।
।।
।।
।।
।।
।।
।।
।।
।।
।।
।।
চলবে
#SSSS
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label