নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

গল্প : অভিমান 😎😎 Goplo Oviman

গল্প : অভিমান 😎😎
Goplo Oviman
পর্ব : ৪র্থ
লেখক : রায়হান__রাফি
.
.
ম্যাম আমার বাসার সামনে এসে নামিয়ে দিয়ে তিনি চলে গেলেন।
বাসায় ঢুকতেই আম্মু বলল,
- আজ এত তাড়াতাড়ি আসলি? (আম্মু)
- ওই ম্যাম আজকে আমাকে নিয়ে একটা সাইট দেখতে বের হয়েছিলেন। (আমি)
- ওহ। তা আজ ও কি ম্যাম কে দেখতে পারিস নি?
- হুম। কিন্তু ম্যাম এর চোখ গুলো না কেমন জানি খুব চেনাচেনা লাগলো!
- ম.মানে? (আতংকিত কন্ঠে বলল)
- মানে ম্যাম এর চোখজোড়া আমার কাছে মনে হল খুব পরিচিত।
- তোর ম্যাম এর ছবি দেখাতে পারবি?
- Google এ পাওয়া যাবে। আমাদের কোম্পানির ওয়েবসাইট এ গেলে।
- আচ্ছা। ফ্রেস হয়ে এসে দেখা।
- আচ্ছা। কিন্তু তোমার এত......
- আমি কিছু শুনতে চাচ্ছি না। যা তুই। (আম্মুর কন্ঠ চেঞ্জ হয়ে গেলো)
আমি আমার ঘর এ চলে আসলাম। আমি বুঝলাম না আম্মু এর কথা মাঝে মাঝে এমন হচ্ছে কেনো?
আমি ফ্রেস হয়ে Google থেকে আমাদের কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে ম্যাম এর ছবি নিয়ে রাখলাম। কিছুক্ষন পরে আম্মু চা' নিয়ে আসলো। এরপর আম্মু বলল,
- তোর ম্যাম এর ছবি দেখা। (আম্মু)
- হুম। এই যে.. (পিসি টা এগিয়ে দিলাম)
আম্মু ছবিটা দেখার পরপরই আম্মুর মুখটা কেমন জেনো বদলাতে শুরু করলো। ভয়ে আর আতংকে আম্মু ঘামতে লাগলো। আমি আম্মুকে প্রশ্ন করে উঠলাম,
- আম্মু? তোমার কি হয়েছে? শরির ঠিক আছে তো? (আমি)
- ত.ত.. তোই সত্যিই ঠিক দেখেছিস তো? এটাই তো ম্যাম? (আম্মু)
- হুম। এটাই। কিন্তু কেনো?
- ন.না. কিছু না। তোকে কিছু বলেছে?
- না. তেমন কিছু বলে নি। কিন্তু কেনো?
- নাহ। কিছু না। কিছু না।
আম্মু উঠে চলে গেলো। আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না। আম্মু ম্যাম এর ছবি দেখার পর এভাবে ঘামতে লাগলো কেনো? আম্মু কি ম্যাম কে চিনে?
আমি হাবিজাবি ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পড়লাম মনে নেই আমার। আমার ঘুম ভাঙলো ৯ টায়। আম্মু এর ডাকে। খাবার খেতে ডাকছে আম্মু। আমি উঠে ফ্রেশ হয়ে। খেতে গেলাম। আম্মুকে আজ অন্যরকম লাগছে। খুব বেশি চিন্তিত দেখাচ্ছে তাকে। আমি আম্মুকে জিজ্ঞাসা করলাম তার শরির খারাপ লাগছে কি না। আম্মু আমার কথার জবাব না দিয়ে মাথা নাড়িয়ে " না " করলো। তারপর আমি আর কথা বাড়াই নি।
ঘড়ির কাটায় রাত ১১ টা ছুঁই ছুঁই,
আমি আবার ছাদে এসে, দোলনায় বসে পড়লাম। আজ চাঁদ পুরোটা উঠেছে। একটা থালার মত! চাঁদের এই ব্যাপার টাকে জোছনা বলে। যদি একটু সাহিত্য এর ভাষায় বলার চেষ্টা করা হয়। তাহলে বলতে হবে, জোছনাস্নাত রাত!
হা হা হা! আনমনেই হেসে উঠলাম আমি! সাহিত্যিক হতে ইচ্ছে হচ্ছে বড্ড এখন! কিন্তু তার কারন কি? আমি তো সাহিত্য এর ধারে কাছেও যেতাম না। এইসব সাহিত্য তো আমার কাছে আগে এক বিরক্তির কারন হত? তাহলে আজ কেনো আমার এই ভ্রম হচ্ছে? আচ্ছা এটা কি শুধু ভ্রম? নাকি অন্য কিছুর ইঙ্গিত? যা আমার কাছে আসতে চাইছে। কিন্তু আমার হেয়ালির কারনে তা আমার কাছে আসতে বা পৌঁছুতে পারছে না?
কি জানি বাপু! আজকাল মাথায় বড্ড চাপ নিতে ইচ্ছে করছে! আমিও যে কি? এত উদ্ভট চিন্তা ভাবনা মাথায় কেনো যে আসছে? আর আমিও কিছু চিন্তা না করে ভাবা শুরু করে দিলাম? পাগল হয়ে যাবো আমি এভাবে আমার দিনগুলো কাটতে লাগলে।
আরও কিছুক্ষন থেকে ছাদ থেকে নেমে ঘুমিয়ে পড়লাম!
পরেরদিন সকাল বেলা,
ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে নিলাম। এরপর নাস্তা করে বেড়িয়ে পড়লাম। আম্মু আমাকে আজ কিছুই বলল না। আম্মুর চোখ মুখ দেখে মনে হল সে খুব চিন্তায় আছে। কিন্তু এটা কেনো হচ্ছে? এত কিসের চিন্তা তার?
আমি অফিস এর উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়লাম। অফিসে এসে কাজ করছি এমন সময় আমার ডাক ম্যাম এর রুম থেকে আমার পড়লো। আমি ম্যাম এর রুম এর রুমে গেলাম। ম্যাম এর রুমে যেতেই ম্যাম বলল,
- কেমন আছেন? (ম্যাম)
- আলহামদুলিল্লাহ! ম্যাম। আপনি? (একটু অবাক হয়ে আমি)
- আলহামদুলিল্লাহ! চা খাবেন না কফি?
- বুঝলাম না?
- চা খাবেন এখন না কফি?
- কিন্তু কেনো?
- যা বলছি তার উত্তর দিন আগে?
- কফি হলে ভালো হয়। একটু স্ট্রোং!
- হুম।
ম্যাম পিয়ন কে ২ কাপ কফি দিতে বললেন। তারপর ম্যাম বললেন,
- কাজ করতে কেমন লাগছে?
- জ্বী ম্যাম ভালো। যদি কিছু মনে না করেন একটা কথা বলবো? (আমি)
- হুম। বলুন!
- আসলে ম্যাম আমার অনেকগুলো ফাইল দেখা বাকি আছে। তাই যদি জরুরী কিছু হয়। তাহলে বলে দিন। আমার আবার কাজগুলো শেষ করতে হবে।
- আজকে শেষ করতে হবে না। আর আপনি আজকে শেষ করলেও আমি সাইন করবো না।
- কিন্তু কেনো ম্যাম? (অবাক হয়ে বললা।)
- ম্যাম আসবো? (পিয়ন)
- হুম । আসো। এখানে রাখো। (ম্যাম)
- জ্বী ম্যাম। (পিয়ন)
পিয়ন কফির কাপ রেখে চলে গেলো। এরপর ম্যাম বলল,
- নিন।
- জ্বী ম্যাম।
- আপনাকে ডাকলাম কাজ এর চাপ নেই বেশি। তাই একটু আড্ডা দিবো। (ম্যাম)
- আমার সাথে আড্ডা? (অবাক হয়ে)
- আমি অবাক হওয়ার মত কি বললাম?
- কিছু না ম্যাম।
- হুহ! আচ্ছা আপনি চাঁদ দেখেন? রাত এর বেলায়?
- জ্বী ম্যাম। এটা দেখা হয়! (আমি একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম এমন প্রশ্ন শুনে)
- কাল দেখেছেন? (একটু উৎসাহিত হয়ে)
- হুম। কাল জোছনা ছিলো। সাথে ছিলো ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ! প্রকৃতির ঠান্ডা হাওয়া। নিস্তব্ধ চারপাশ!
- বাহ! এখন ও মনে আছে এইগুলা? (বিড়বিড় করে)
- জ্বী ম্যাম কিছু বললেন?
- নাহ। কিছু না। ভালো বলেছেন। সাহিত্যিক হবার ইচ্ছা আছেন মনে হয়?
- ঠিক তা নয়! তবে বেঠিক বললেও ভুল বলা হবে!
- হা হা হা। (ম্যাম হেসে উঠলেন)
- আচ্ছা ম্যাম আপনার নাম কি?
- মানে? আপনি এখন ও আমার নাম জানেন না?
- জানি তবে আপনার মুখ থেকে জানতে ইচ্ছে করছে।
- মেজবাহ সুলতানা ইলা।
- সুন্দর নাম।
- ধন্যবাদ। এখন আপনি যেতে পারেন। আর ফাইলগুলো এতো তাড়াহুড়ো করে শেষ করা লাগবে না।
- জ্বী ম্যাম।
আমি ম্যাম এর রুম থেকে বের হলাম। ম্যাম এর রুম থেকে বের হতেই দেখি সবাই আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমি ঘড়ির দিকে তাকাতেই অবাক হয়ে গেলাম ১ ঘন্টার উপরে হয়ে গিয়েছে। আমি ম্যাম এর রুমে। সবার তো একটু অবাক হওয়ার ই কথা।
আমি আমার কেবিনে এসে কাজ করছি। এমন সময় এক সিনিয়র কলিগ এসে বলল,
- কেমন আছেন? (কলিগ)
- জ্বী। আলহামদুলিল্লাহ! আপনি? (আমি)
- এই তো। তা ভাই ভালোই চলছে তাহলে?
- ভালো চলছে মানে? বুঝলাম না?
- ভাই এতো অবুঝ হওয়ার দরকার কি?
- ভাই কি বলতেসেন এইগুলা?
- কি বলতেসি মানে? ম্যাম অফিসের কারো সাথে ২ মিনিট এর বেশি কথা বলে না। আর আজ তার রুমে আপনি ১ঘন্টা ছিলেন? তার উপর আবার কফির অর্ডার? তা আবার কে? ইলা ম্যাম? ভাবা যায়? আর আগের দিন কি করলো? আপনারে নিয়া সাইট দেখতে গেলো? যা ম্যাম ১ বছরে কারো সাথে করে নাই?
-....... ( ভাবছি আমি).....
- যদি কিছু থেকেও থাকে। প্লিজ ভাই কিছু করবেন না। আমি ইলা ম্যাম কে পছন্দ করি। কিন্তু কিছু বলতে পারছি না।
- ওহ। আচ্ছা।
- হুম। ধন্যবাদ ভাই। এখন আসি পরে কথা হবে।
- হুম। আসুন।
আমি ভাবছি এইগুলা কি বলে গেলো? সব কি সত্যিই? অবশ্য হতেও পারে। তাহলে আমার সাথে আজ আড্ডা দিলেন কেনো? কাজ কম ছিলো বলে?
আমি কাজ করতে লাগলাম। তারপর অফিস শেষ হলে বাসায় এসে পড়লাম। ম্যাম এর সামনে আর পড়লাম না আমি।
চলবে??
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label