নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

Golpo বান্ধবীর বয়ফ্রেন্ড যখন বর [ part:___03]

বান্ধবীর বয়ফ্রেন্ড যখন বর
writer : Tabbasum Tisha[ part:___03]
………………………………………
………………………………………
শুভ্র ওঠছে না।  কি করি এখন??
আমি শুভ্রর গায়ে হাত দিয়ে বললাম।
শুভ্র,  এই শুভ্র।
শুভ্র ওঠে কোনো কথা না বলেই আমাকে একটা ঠাসস করে থাপ্পুর মারলো,,,,,,,,


আমি নিজের গাল ধরে কান্না করতে লাগলাম।আর বললাম।

।আ আমমি এতএত্ত বড় হয়ে এ এম এমন মাইর খাইনি । আমার কান্না করতে করতে হেচকি ওঠে গেছে।


তুমি আমার গায়ে হাত দিলে কেন।don't  touch me ok....understand !
.
একদম আমার ধারে কাছেও আসবা না।কি ভাবছো তুমি আমি তোমাকে বউ হিসেবে মেনে নিবো??( শুভ্র)
____ ও হ্যালো,  তুমি ভাবলে কি করে তোমাকে আমি বর হিসেবে মেনে নিবো।( আরবি)
___ চুপ একদম চুপ। তোমার জন্য এসব কিছু হয়েছে। কেমন বান্ধবি তুমি লজ্জা করে না। নিজের বান্ধবীকে কাদাচ্ছো।
আমি আখির চোখে কখন জল দেখিনি। তুমি জানো আমি আখির সাথে কথা না বলে একদিনও ঘুমাইনি। কিন্তু আজ তাও হলো না।
তুমি  আমার স্বপ্ন নষ্ট করে দিলে। কেন এমন করলে বলো।আমি তোমার সাথে ঝগড়া করতাম এটা আমার অন্যায় ছিলো।আজ বুজতে পারছি তোমার বড় শত্রু ছিলাম আমি।।
একদম আমার ধারে কাছে আসার চেষ্টাও করবে না।
তোমার জায়গা এ খাটে হবে না। আমি জানি তুমি প্লেন করে এসব কিচ্চু করেছো। যাতে আমাকে বিয়ে করতে পারো। আমি তো তোমাকে হেল্প করতে চাইছিলাম।আর তুমি তার প্রতিদান এমন করে দিলে??
তুমি কখনো কারো বউ হবার যোগ্য না। ছি: মেয়ে একটা তুমি!( শুভ্র)


হুম।আমি অনেক খারাপ।আজ যা করেছি তার কোনো ক্ষমা নেই।আমি সব ঠিক করে দিবো।তোমার আখি তোমারি থাকবে কেউ নিয়ে যাবে না।আমি তাতে ভাগ বসাতেও আসবো না।
তোমার সাথে এমনি ঝগড়া করতাম বাট কোন শত্রু তা নেই।


আমি তোমার কাছে স্ত্রীর দাবি নিয়ে দাড়াবো না। আমি অনেক দূরে চলে যাবো।সব ঠিক করে দিবো।
বাট আমার অনেক খিদে পেয়েছে।তাই তোমাকে ডেকেছিলাম।
প্লিজ আমি না হয় তোমার শত্রু তবুও কিছু খাবার এনে দাও।
আমি আর থাকতে পারছি না।


আজ প্রথম আরবিকে শুভ্র নরম হয়ে কথা বলতে দেখলো।

তারপর শুভ্র রান্না ঘর থেকে সামান্য খাবার নিয়ে আসলো।

আমি খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম।


সকালে শুভ্র ওঠে নিচে গেলো।
অভ্র বলল,
আরবি কোথায় ।??
___ আরবি ঘুমোচ্ছে। শুভ্রর কথা শুনে সবাই্ হা হয়ে রইলো। নতুন বউ এখনো ঘুমোচ্ছে।অভ্র চোখ রাঙ্গিয়ে শুভ্র কে বলল, যা ডেকে নিয়ে আয়।কিন্তু শুভ্র মাথা নিচু করে আছে।
অভ্র আবার ও দমক দিয়ে বলল,  কি কথা কানে যায় না?
,
অভ্রর রাগ দেখে শুভ্রা বলল,
ভাইয়া,আমি যাচ্ছি।


শুভ্রা গিয়ে দেখলো আরবি সোপায় ঘুমিয়ে আছে।
শুভ্রা,কি বলবে বুজতে পারছে না।
তবুও আরবি কে ডাক দিলো।

আরবি , আরবি।
আমি শুভ্রা আপুর ডাক শুনে চমকে ওঠলাম।

তুমি এখনো ঘুমোচ্ছো!?  আর এখানে কেন?  ( শুভ্রা)

আমি কিছু টা অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম।কি বলবো আমি??

ঠিক আছে তারাতারি ফ্রেস হয়ে নিচে আসো সবাই ওয়েট করছে। একসাথে নাস্তা করবে।।


আমি পড়ে গেলাম। শাড়ি তো পড়তে পারি না।এখন কি করি। কি পড়বো।আমার কাছে এক্সটা কোন কাপড় ও নেই।

সামনে একটা আল মারি দেখি কিচ্চু আছে কিনা।
বাহ! আলমারি  ভর্তি পেন্ট সার্ট এ ভর পুর।যাই হোক এখান থেকে একটা কাজে লাগাতে হবে।।


পাশেই দেখতে পেলাম একটা পান্জাবি।
আমি একটা পেন্ট আর পানজাবি পড়ে নিলাম।
ওকে একদম ঠিক ঠাক আছে।


তারপর crisis এ পড়ে গেলাম। no problem
কাল কে পড়া লেহেংগা টা না পেলেও ওড়না টা পেলাম।


এগুলো পড়েই নিচে গেলাম।অফ অনেক খিদে পেয়েছে।

আমি নিচে গিয়ে দেখি সবাই ওয়েট করছে। আমাকে দেখেই সবাই যেন আকাশ থেকে পড়লো।

বুজতে পারছি না সবাই এমন করে তাকিয়ে আছে কেন।
আমি কিছু না বলে চুপ চাপ শুভ্রর পাশের চেয়ার টায়,গিয়ে বসলাম। আর বললাম আন্টি আমার অনেক খিদে পেয়েছে। তারাতারি খেতে দিন।

আমার দিকে খাবার গুলো এগিয়ে দিলো আর আমি খেতে লাগলাম।।

তখন অভ্র ভাইয়া বলে ওঠলো।তুমি এসব কি পড়েছো আরবি।আর আম্মু কে আন্টি ডাকছো কেন।?( অভ্র)

আমি খুব স্বাভাবিক বললাম,
আসলে শাড়ি পড়তে পারি না তো তাই এমন আর কি।ওকে।আন্টি _ আম্মু আংকেল! _- আব্বু।
আমি আবারো খাবারে মন যোগ দিলাম।
অভ্র আবার ও বলে ওঠলো।এসব পাগলামি বাদ দাও আরবি।এখন তুমি এ বাড়ির বউ। আর শুভ্র নিজের বউ কে সামলা বলছি।

শুভ্র ছোট্ট করে উত্তর দিলো জি ভাইয়া।


আমি মনে মনে ভাবতে লাগলাম।আমি এসব পাগলামি করবো যাতে তোমরা সবাই আমার প্রতি বিরক্ত অণুভব করো।


অভ্র শুভ্র হাতে এক টা টিকিট ধরিয়ে বলল,
এটা তোদের হানিমুনের টিকিট। দুদিন পর যাবি। কক্সবাজার।শপিং করে সব রেডি করে নে।


হানিমুন কথাটা শুনেই আমার গলা দিয়ে খাবার  নামছে না।আমি অনর্গল কাশি দিতে লাগলাম।



আমার কাশি দেয়া দেখে সবাই হা করে তাকিয়ে রইল।
শুভ্র মাথা নাড়িয়ে হা করলো।


আমি মনে মনে ভাবছি ওল্লু টা হানিমুনে যাবে কেন?

শুভ্রর হাতে অভ্র ভাইয়া সিম বেটরি দিলো।শুভ্র ওঠে চলে গেলো।


আমি কিন্তু বসে থাকি নি। খেয়ে নিয়েছি পেট পুরে 
তারপর আমি ওপরে গেলাম।গিয়ে দেখি কেথাও শুভ্র নেই
।।


বেলকুনিতে কারো কথা বলার আওয়াজ পেলাম। আমাকে দেখেই শুভ্র ফোন রেখে দিলো।


ঠাাসসসস,
শুভ্র আমাকে আবার একটা থাপ্পুর মারলো। আমি বুজতে পারছি না।এ হনুমান টা কে মারছে কেন??


ঐ সমস্যা কি!  আমাকে মারছো কেন বার বার হুমম।?( আরবি)
____ কি পরছো এসব হুম।আর অভ্র ভাইয়া কি যাতা,বলল,?( শুভ্র)
____ কে কি বলল তাতে I don't  care ok..আমাদের ডিবোর্স টা হচ্ছে কবে? ( আরবি?(
___ মানে।তুমি এখনি ডিবোর্স এর কথা ভাবছো হুম( শুভ্র)
___ হুম।আর আখির সাথে কথা বলেছো?
___ আখি অনেক কান্না করছে। ( শুভ্র)
____ আমাকে দাও কথা বলি
বলে শুভ্রর কাছ থেকে ফোন টা নিয়ে আখি কে ফোন দিলাম।
।।
হ্যালো বলতেই আখি কান্না করে দিলো।
আরবি আমি শুভ্র কে ছাড়া বাচবো না। প্লিজ আরবি তুই আমার কেড়ে নিস না।

আখি তুই চুপ করবি নাকি। কিচ্চু হয়নি জাস্ট এটা একটা এক্সিডেন্ট । আমি আর শুভ্র নদীর পাড়ে আসছি। তুই চলে আয়।

ওকে।( আখি)
____ তুমি এখন নদীী পারে জাবে কেমন করে? ( শুভ্র)
___ আমি আন্টি কে বুজাবো ওকে।বলেই  আমি নিচে যাবার জন্য পা বাড়ালাম আর শুভ্র আমাকে পিছনে থেকে হাত টেনে ধরল।
আজ প্রতম কোন ছেলে আমার হাত ধরলো কেমন জানি লাগছিলো।ওল্লু টার স্পর্শ আমার ভালোই লাগছিলো। আজ প্রথম শুভ্র কে এত কাছে থেকে দেখলাম।


তুমি এসব পড়ে আবার নিচে যাচ্ছো।
তোমার সাথে আমার এগ্রিমেন্ট  হবে আরবি।


কি এগ্রিমেন্ট ??
আমরা,এ রুমে থাকবো স্বামি স্ত্রীর পরিচয়ে।সবার সামনে একদম পাগলামি করবা না।সবাই কে মেনে চলবে।আর নিজেকে এ বাড়ির বউ মনে করবে।মনে রাখবে অভ্র ভাইয়া খুব চালাক। কিচ্চু জানতে পারলে আখি কে শেষ করে দিবে।প্লিজ আখির জন্য একটু ভালো হয়ে চলো।সময় হলে ঠিক ডিবোর্স করে নিবো।।


আমার তাহলে শর্ত আছে?
কি শর্ত?( শুভ্র)
,
,
এখানে অনেক মশার অপদ্রুপ।
সো একদিন আমি সোপায় অন্য দিন তুমি।
____ ওকে( শুভ্র)
______ আমাকে একটা ফোন দিতে হবে ___
___ওকে।( শুভ্র)
___ আর যত দিন ডিবোর্স না হচ্ছে আমাকে বউ বলে ডাকতে হবে।আর সবার সামনে এমন অভিনয় করতে হবে যেন তুমি আমাকে অনেক ভালো বাসো। তাহলে দেখবে ডিবোর্স টা তারাতারি হবে।
____ ডিবোর্স তারাতারি হবে মানে বুজলাম না ( শুভ্র)
___ আস্তে আস্তে সব বুজতে পারবে।এবার যাও পারমিশন নিয়ে আসো  বাইরে যাবো।।

আমি লামিয়া আপুকে ফোন দিই


তারপর শুভ্র নিচে চলে গেলো।
আমি লামিয়া আপু কে ফোন দিলাম। আপুর সাথে কথা বলে শুভ্রর সাথের বের হলাম।।


একটু পরেই আমরা নদীর পাড়ে পৌছে গেলাম
দূর থেকে আখি আমাদের কে দৌড়ে আসলো।এসেই শুভ্র কে জরিয়ে ধরলো।


আমি একটু সাইটে গিয়ে দাড়ালাম।আজ একটু খারাপ লাগছে।শুভ্র আমার বর। কালেমা পরে বিয়ে করছি।কেমন জানি মায়া লাগছে।হিংসেও হচ্ছে।


আখি এখনো,শুভ্র কে ছাড়ছে।আমি অনেক সময় আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলাম আর বলল,
নিজের বর অন্য কাউকে লেপটে জরিয়ে আছে। আমি তা দেখছি  কি কপাল আমার?!


পরখনেই মনে হলো এটা বিয়ে নয় ছেলে খেলা।শুভ্র আখির।আমি সামনে গিয়ে বললাম।
কি রে আর কত। দম আটকে মরে যাবি তো। এবার তো ছাড়!


আমার কথা শুনে ওরা দুজন ই ছেড়ে দিলো।
তিনজন বসে পরামর্শ করলাম কি করে হানিমুনে না যাওয়া যায়।বাট শুভ্র বলল যেতেই হবে।


আখি কথাটা শুনে মুখ কালো করে ফেলল।
আখি তোর শুভ্র তরিই থাকবে।আমি প্রমিজ করছি।
কিছু দিন গেলে আমি ডিবোর্স করে নিবো।দেখিস শুভ্র র বাবা মা তোকে বউ করে নিবে।


অনেক কষ্টে আখি কে বুজিয়ে চলে আসলাম।
রাতে বাসা থেকে ফোন দিলো।
আব্বু বলল,
একটা কথা বলি মা তোকে??
___ বলো আব্বু??
____ মা,  তুই শুভ্র কে মেনে নে।কোন দিন তুই এমন কিছু করিস না যাতে তোর বাবা হারিয়ে যায়।বলেই বাবা কান্না করে দিলো।

আমি ফোন কেটে দিয়ে চুপ করে বসে আছি।
তখনি কাজের মেয়ে এসে বলল,্
ভাবি আপনাকে শুভ্র ভাইয়া ডাকছে।
।।
আমি নিজেকে স্বাভাবিক করে নিচে গেলাম।
সবাই টেলিভিশন দেখছিলো আমি ও একটা সোপায়,বসলাম।
একটু পর শুভ্র দুকাপ চা নিয়ে এসে বলল,
নাও সোনা বউটা আমার। তোমার জন্য স্পেশাল চা।
আমি শুভ্রর কথা শুনে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলাম।

শুভ্র মুচকি হেসে বলল,
কি বউ এমন করে আমাকে দেখবা না কিন্তু।
আমার লক্ষ্মি বউ একটা
উম্ম্ম্ম্মাহ,
,,,আমি নিখুত অভিনয় দেখে চমকে ওঠলাম চায়ের কাপ টা হাত থেকে পড়ে গেলো।
,,,,,
,,


_________to be continue..




্্
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label