নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

লাস্ট বেঞ্চের ছাত্র প্রথম পর্ব Golpo Last Brancer Student লেখক সালমান ভূঁইয়া।

লাস্ট বেঞ্চের ছাত্র
প্রথম পর্ব
Golpo 2 Last Brancer Student
লেখক সালমান ভূঁইয়া।
জে এস সি পরিক্ষার রেজাল্ট নিয়ে আমি আর শুভ কিছুটা সমালোচিত।
বড়দের মুখে একটাই কথা "রনি তুই এই পয়েন্ট নিয়ে কি করবি? এখনতো গোল্ডেন  পেয়েও কেউ কিছু করতে পারে না। আর তুই ৩.০০ নিয়ে কি করবি?

উত্তর দেওয়ার মতো কোন ভাষা নাই। চুপ করে থাকা ছাড়া অন্য কোন উপায় খুঁজে পাই না।মনে মনে বলি রেজাল্টই কি সবকিছু?
সফলতা কি এতো সহজেই অর্জন করা যায়? ভালো কিছু করতে হলে কি গোল্ডেন পেতে হয়?নাকি পরিশ্রম করতে হয়?
আমি জানি সঠিক উত্তর হবে পরিশ্রম।
কিন্তু  এ প্লাস নির্ভর শিক্ষার যুগে কয়জনইবা মানুষের ইচ্ছার মুল্য দেয়? আমাদের সমাজে ভালো ছাত্রদের নিয়ে সবাই ভাবে।কিন্তু কতজন লোক আছে যে দুর্বল ছাত্রদের নিয়ে ভাবেu? একটা কথা আছে" শক্তের ভক্ত নরমের জম" যা আমার জীবনের সাথে মিল পাওয়া যায়।

এবার আমি আর শুভ দৃঢ় সংকল্প করেছি এ-প্লাস পেতেই হবে। আইনস্টাই যদি অংকে ফেল করে বিজ্ঞানী হতে পারে তাহলে আমরা কেন পারবোনা?

এক তারিখে ভর্তি শুরু হবে। ভাবতে মনটা ভালো হয়ে যা। নতুন ক্লাস, নতুন বই, নতুন রুটিন নতুন নিয়ম  সেই সাথে নতুন বইয়ের গন্ধ নেওয়া।খারাপ ছাত্র হওয়া সত্বেও নতুন বইয়ের গন্ধ নিতে ভালোবাসি সেই সাথে বই সেলাইকরা, বইয়ে ট্যাপ লাগানো ইত্যাদি। প্রতি বছরই আমি এমনটা কারি এবং অনেক আনন্দ পাই।এবার তার জন্য অপেক্ষায় আছি।

শুভর কথা না বললেই নয়।
অনেক আগে থেকই শিউলিকে ভালোবাসে।
কিন্তু শিউলি শুভকে ভালোবাসেকিনা তা এই মূহুর্তে সঠিক বলতে পাড়বো না।  জে এস সি পরিক্ষার রেজাল্ট পাওয়ার কয়েকদিন পর শুভ ঢাকা চলেগেছে। শুনলাম শুভ নাকি ঢাকাতেই পড়বে। সেখানে তার মামার কাছে থেকে পড়াশোনা করবে। খবরটা পেয়ে মন ভেঙে পরেছে। বন্ধুদের মাঝে শুভকেই বেশি ভালোবাসি। কিন্তু এখন দুইজন দুই জায়গায় থাকবো ভাবতে ই আবাক লাগে। যদিও আকাশ, আবির, রোদেলা,রুনা শিউলি, ও মিরাজ আমারা ভালে বন্ধু  তারপরও শুভর না থাকলে শূণ্যতা  কাজ করে। কিন্তু ভাগ্যে যা লিখা আছে তাই হবে। শুভকে ছাড়াই ইস্কুল জীবনটা পার করতে হবে।হয়তো কারো মাঝে আবার শুভকে ফিরে পাব।দুধের স্বাদ ঘোলে মিটাতে হবে! কি করবো শুভতো ঢাকা! মাঝে মাঝে যদি বাড়িতে আসে তাহলে অনেক আড্ডা দিবো শুভর সাথে। এমটাই ভেবে স্কুললে গেলাম ভর্তি হতে। অফিস কক্ষে আবুল স্যার বসে আছে।উনি সব ভর্তির কাজ করায়। অনুমতি নিয়ে স্যারের কাছে গেলাম।

-আসসালামু আলাইকুম, স্যার কেমন আছেন?
--ওয়ালাইকুম আসসালাম। রনি নাকিরে!
--জ্বি স্যার কেমন আছেন?
--আলহামদুলিল্লাহ তুই?
-- যেমন দোয়া করছেন।
--দোয়াতো সবসময় করি।শুভ কোথায়?
--স্যার ঢাকায়।
--ভর্তি হবে কবে?
--স্যার ও ঢাকায় শুভ বলছে "ও ঢাকায় ওর মামার কাছে থেকে পড়াশোনা করবে।
--ও আচ্ছা। ওর সাথে কথা হয়?
--জ্বি স্যার কথা হয়।
--গ্রুপ কোনটা নিবি?
--সাইন্স!

--বাবা একটা কথা বলি?
--জ্বি স্যার বলেন?
--আমার মনে হয় তুই আর্টস নিয়ে পড়লে ভালো করবি। সাইন্স নিয়ে টিকে থাকতে পারবি না। তোর থেকে অনেক ভালো ছাত্ররাও সাইন্স নিয়ে টিকতে পারে না।

স্যার কথা শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে হয়ে গেলাম।ছোট বেলা থেকেই ইচ্ছা ছিলো সাইন্স নিয়ে পড়বো।কিন্তু স্যার বলছে আর্টস নিয়ে পড়তে।তাহলে কি আমার ইচ্ছার কোন দাম নাই? নিচু স্বরে বললাম,
--স্যার আমিতো সাইন্স নিয়ে পড়তে চাই।
--বাবা সাইন্স নিয়ে সবাই টিকে থাকতে পারেনা। তুই পারবিতো?
--ইনশাআল্লাহ পারবো।চেষ্টা করলে পারবো।
--আচ্ছা ভর্তির টাকা দে। আমি হেড স্যারের সাথে কথা বলে দেখি।উনি যদি বলে তাহলে সাইন্স নিস আমার কোন আপত্তি নাই।
--আচ্ছা স্যার। বই দিবেন না?
--ওহ হ্যাঁ।আপাতত  জেনারেল বইগুলো  নিয়ে যা গ্রুপের বই পরে নিস?
--এখন দিয়ে দেন স্যার।
--বললামতো হেড স্যারের সাথে কথা বলে দিবো।

মাথানিচু করে জেনারেল বইগুলোই নিয়ে চলে আসলাম।শীতের সকালে স্কুল মাঠে রৌধ পোহাচ্ছি আর ভাবছি। যোগ্যতা না থাকলে ইচ্ছার কি কোন মূল্য নাই? কিন্তু  কেন? ইচ্ছা না থাকলে যোগ্যতা বাড়বে কিভাবে? এরকম অনেক প্রশ্ন মাথায় ঘুরতেছে।

পকেটে সাইলেন্ট করা মোবাইলটা কেপে উঠলো।মোবাইলটা। হাতে নিয়ে দেখলাম শুভর কল।শুভ এভাবে চলে যাওয়াতে তার উপর রাগ উঠেছে।একবার ভাবলাম কলটা কেটে দেই।কথাবলার ইচ্ছে হচ্ছে না। তাই কলটা রিসিভ  করিনাই। শুভ আবার কল দিলো। এবার ইচ্ছে না থাকা সত্বেও কলটা রিসিভ করলাম।
--হ্যালো।
--কেমন আছো?
--ভালো তুই?
---ভালো। কই আছো?
--তুই তা জেনে কি করবি? ফোন দিছো কেন সেটা বল?
--রাগ করছ কেন?
---না রাগ করি নাই।
--তাহলে বল তুই কোথায়?
--স্কুলের মাঠে কেন?
--তুই ওখানেই থাক।
--কেন তুই কই?

শুভ কলটা কেটে দিলো। আমি দাঁড়িয়ে  আছি কারণ শুভ আমার মন বলছিলো শুভ বাড়িতে আসছে । কিছুক্ষণ পর শুভ আসলো। আমি অনেক খুশি হয়েছি কিন্তু শুভকে বুঝতে দেইনি। গম্ভীর হয়ে বললাম,
--আসছো কবে?
--কাল রাতে?
--জানাস নাই কেন?
---এমনি ভাবলাম তোকে একটু চমকে দেই।
--ওহহ!  যাবি কবে?
--কই?
--ঢাকা
--যাবো না
--কেন তুইনা ঢাকায় ভর্তি হবি।
--হোপ বেটা। আয় স্যার এর কাছে গিয়ে ভর্তি হই তারপর সব হবে।
--তুই যা আমি কি করবো?
--রাগ করছো?
--- না।
--আচ্ছ কানে ধরছি।
--বস।
--কেন?
-বসতে বলছি বস।
--ওকে।
--কানেধরে  বস।
--আশে পাশে মানুষ আছে ভাই পারে ধরি?
--এখন ধরবি।
--প্লিজ ভাই এত অত্যাচার করিছ না।
--তুই ধরবি কিনা বল?
--ওকে।
শুভ কানধরে বসে পরলো। আশেপাশের মানুষ তা দেখে হাসছে।শুভ বললো,
--এবার হইছে?
--না, উঠ।
--উঠলাম।
--এবার বস। মোট বিশ বার উঠাবসা করবি।তাহলে মাফ পাবি।
--পরে করবো এখন সবাই আছে।স্যাররা আছে।
--ওকে।

এর মাঝে রোদেলা আর শিউলি আর শিউলি আসলো।
শিউলিঃকিরে তোরা কেমন আছো?
আমিঃ ভালো তোদের কি খবর?
রোদেলাঃআছি কোনরকম।
শুভঃ তোরাকি আজকে ভর্তি  হবি?
রোদেলাঃহুম।
শুভঃ তাহলেতো ভালোই। চল আমিও আজকে ভর্তি হবো।
শিউলিঃওহ তাহলে আগে ভর্তি হই তারপর সব হবে।
আমি বললাম তোরা ভর্তি হয়ে আয় আমি মাঠে আছি?
শুভঃকেন আমাদের সাথে গেলে কি তোর মানসম্মান  চলে যাবে?
--আমি তা বলছি? আমি হয়েছি।
রোদেলাঃ তো কি হয়েছে? ভর্তি হইছো বলেকি আমাদের সাথে যাওয়া যাবে না?
--আমি তা বলছি?
শুভঃতাহলে আসলে সমস্যা কি?
--কিছুনা আয়।

সবাই মিলে আবুল স্যারের৷ কাছে গেলাম।স্যার শুভকে দেখে বললো, কিরে তুই নাকি ঢাকায় ভর্তি হবি?
শুভঃনা স্যার,কে বলছে?
স্যারঃরনি বললো। কিরে রনি শুভ কি বলে।
শুভঃ স্যার ও আমার কাছে বলছিলো তাই বলছি।
স্যারঃবাদ দে। শুভর পয়েন্ট  কত?
শুভঃ৩.৭৫
স্যারঃশিউলির?
শিউলিঃ৪.৩৩
স্যারঃরোদেলা?
রোদেলাঃ৪.৫০
স্যারঃ ওহ ভালো কথা রুনাকে দেখছিনা, ও কোথায়?
শুভঃ জানিনা।
স্যারঃরুনার পয়েন্ট আসছিলো?
আমিঃজানিনা স্যার।
রোদেলা বললো, তুইতো কিছুই জানছ না।
--হুম।
শিউলিঃস্যার রুনার পয়েন্ট ৪.৯০!
স্যারঃআরেকটু হলেতো প্লাস পাইতো। মেয়েটা ভালো।

শিউলির কথা শুনে আমি চমকে গেলাম। এর আগে আগে আমি রুনার পয়েন্ট জানতাম না।সেইযে একদিন কথা বলছিলাম। এর পরথেকে আর কোন কথা হয় নাই।একটাবার খোজ নেওয়ার প্রয়োজনবোধ করিনি। কি স্বার্থপর আমি!
 আমি বললাম রুনা সত্যি ৪.৯০ পাইছে?
রোদেলাঃকেন তুই জানোছ না?
-আজকে জানলাম।
--শিউলিঃতুই জানবি কি করে? তুইতো স্বার্থপর।
--মাথা নিচু করে চুপ করে দাড়িয়ে রইলাম।

ওরা সবাই ভর্তি হওয়ার পর মাঠে চলে আসলাম। সবাই সাইন্স নিছে।গ্রুপের বইও দিছে। হঠাৎ রুনা বললো, রনি তোর গ্রপের বই কোথায়?


Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label