নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

গল্প বিয়ে_ছাড়া_বউ Golpo biye chara bow

গল্প  বিয়ে_ছাড়া_বউ
 Golpo biye chara bow
পার্টঃ ১
 লেখক : সিয়াম হোসেন

সকালে মনের আনন্দে ঘুমিয়ে আছি । হঠাৎ ফোনের আওয়াজে ঘুমটা ভেঙে গেলো ।

কানের কাছে ফোনটা নিয়ে কিছুক্ষন কথা বলে ফালদিয়ে উঠলাম বিছানা থেকে । উঠার সাথেই আম্মু এসে হাজির ।

-কিরে আজকে সূর্য কোন দিক দিয়ে উঠেছে । (আম্মু)
আম্মুর কথাটা শুনে কিছুটা অবাক হলাম । আম্মু আবার অন্ধটন্ধ হয়ে গেলো নাকি । সূর্য উঠেছে কিনা সেটা জিজ্ঞাসা করছে । আমি কি ঠিক শুনেছো ।
-কিরে বললি না যে । (আম্মু)
না এবার নিশ্চিন্ত আমি ঠিকই শুনেছি । তাই কথা মতো বাইরে তাকালাম ।
-কেনো আম্মু আজকে তো সূর্য এখনও উঠে নি বাইরে কুয়াশা । তুমি আবার অন্ধ হয়ে গেলে নাকি । (আমি)
-মানে ।
-তুমি জিজ্ঞাসা করলে সূর্য কোন দিক দিয়ে উঠেছে তাই বললাম অন্ধ হয়ে গেছো সেই জন্য দেখতে পাচ্ছো না । (আমি)
-চুপ বেয়াদপ এতো বড় হয়ে গেছিস তারপরও বাঁদরামি গেলো না (আম্মু)
-যা বাবা আমি আবার কি করলাম তুমি তো জিজ্ঞাসা করলে (আমি)
-চুপ । আমি বলতে চেয়েছি আজকে এতো তাড়াতাড়ি কি মনে করে বিছানা থেকে উঠলি । (আম্মু)
-ও এই কথা তা ভালো ভাবে বললেই তো পারতা আমি আরও মনে করলাম ....(আমি)
-থাক বাদ দিয়ে এখন বল (আম্মু)
-আম্মু আমার চাকরি হয়েছে (আমি)
আম্মু দেখি আমার কথাটা শুনে চোখ বড় বড় করে তাকালো ।
-কি হলো এমন করে তাকাচ্ছো কেনো খুশি হওনি (আমি)
-আমি কি স্বপ্ন দেখছি নাকি (আম্মু)
- স্বপ্ন মানে (আমি)
-দেখ বাবা মিথ্যা বলা মহা পাপ এমন মিথ্যা কথা আর বলিস না এই পর্যন্ত ৩৫ বার চাকরির কথা বলেছিস কিন্তু একবারও হয়নি । (আম্মু)
-যা আমি আবার মিথ্যা কখন বললাম সত্যি আমার চাকরি হয়েছে । (আমি)
-আমার মনে হয় তোর ঘুম হয়নি যা আর একটু ঘুমিয়ে নে দেখবি সব ঠিক হয়ে গেছে । (আম্মু)
আম্মু কথাটা বলেই বেড়িয়ে গেলো । যা শালার সত্যি কথার কোনো ভাত নাই‌। চাকরির কথা বলতেই উল্টা পাল্টা কথা বলে চলে গেলো । আসলে বলারই কথা এই পর্যন্ত ৩৫ বার চাকরি হয়েছে কিন্তু কোনো না কোনো কারণে বাদও হয়ে গেছি । এই যেমন প্রথম যখন চাকরি পেলাম তখন কার ঘটনা ।

নতুন চাকরি তাই একটু সুন্দর করে সেজে বাসা থেকে বের হলাম । যাবার সময় আম্মুও অনেক দোয়া করে দিলেন । মনের আনন্দে রাস্তা দিয়ে হাটছি । ভাবলাম প্রথম দিন দেড়ি করে যাওয়া যাবেনা তাই একটা বাসে উঠে পড়লাম । বাসটা কিছুদূর যাবার পরেই গেলো চাকাটা বাস্ট হয়ে ব্যাস কি করার । বাস থেকে নেমে কিছুদূর হাটলাম একটা বাসও আর আসছে না যে যাবো । কিছুক্ষন বাদে একটা অটো দেখতে পেয়ে সেটাতেই‌ উঠে পড়লাম । জানিনা অটো ড্রাইভার ভিতু কিনা সাহসী এমন ভাবে চালাচ্ছে যেনো মনে হচ্ছে মাল গাড়িতে উঠেছি । ভাবলাম নেমে যাই কিন্তু নামলে আবার গাড়ি যদি না পাই সেটা আর এক সমস্যা কোনো মতে পৌছে গেলাম অফিসে এসে দেখি পাক্কা ৩৫ মিনিট লেট । অফিসে পা দেবার সাথেই বসের ডাক । গেলাম তারপর কিছুক্ষন ভাষণ ছাড়লেন
- প্রথম দিনেই কেনো এতো দেড়ি জানি না পরে আরও‌ কতো দেড়ি করবে । ভাষণ শুনে তো মাথাটা গরম হয়ে গেলো ।
-নিকুচি করি আপনার চাকরির চললাম । (আমি)
কথা গুলো বলেই সেখান থেকে বেড়িয়ে এলাম । এরপর বাদ বাকি চাকরি গুলোও নানা ভাবে নষ্ট হয়ে গেছে । যাই হোক এখন কার কথায় আসি ।
এইবার যেই চাকরিটা পেয়েছি তার জন্য ঢাকায় যেতে হবে । তাই এবার আর কোনো গড় মিল করা যাবে না । ফ্রেশ হয়ে নাস্তার টেবিলে এলাম ।

-আম্মু ক্ষুদা লাগছে খেতে দাও (আমি)
-কি বেপার নবাব আজকে এতো সকাল করে ঘুম থেকে উঠেছে । (আব্বু)
- ওই আমার চাকরি হয়েছে সেখান থেকে ফোন দিয়ে ছিলো তাই মনটা খুশিতে লাফাচ্ছে । (আমি)
-তা এটা নিয়ে কয়টা চাকরি হবে । (আব্বু)
-হবে যেই কয়টাই হোক । আব্বু আমাকে কিছু টাকা দিও ঢাকায় যাবো (আমি)
-ঢাকায় কেনো (আব্বু)
-আরে চাকরি হয়েছে বললাম না সেই জন্য ওখানে গিয়ে বাসা নিতে হবে তার জন্য যেই টাকা লাগবে সেটা দাও (আমি)
-সত্যিই ঢাকা যাবি (আব্বু)
কি বেপার আব্বু আমার ঢাকা যাওয়ার কথা শুনে এতো খুশি হলো কেনো ।
-হ্যা কিন্তু তুমি আমার ঢাকা যাওয়ার কথা শুনে এতো খুশি হলে কেনো । (আমি)
-না তুই যদি ঢাকায় যাস তাহলে একটু শান্তিতে থাকতে পারবো এমনি তেই‌ যে জ্বালানো জ্বালাস (আব্বু)
-হুমম বুঝছি আর বলতে হবে না । (আমি)
নাস্তা করে বাইরে আসলাম‌।
এইযা এখনও তো পরিচয়টাই দিলাম না । যাই হোক এখন দিয়ে দেই ।
আমি সাব্বির পড়ালেখা শেষ করে চাকরির জন্য ঘুরছি । আর আব্বু আম্মুতো আমাকে সেই‌ মাপের বিশ্বাস করে দেখলেন না সকালে বললাম চাকরি হয়েছে কি বিশ্বাসটাই না করলো ।

বাইরে এসে দেখি নোমান (আমার বন্ধু) মনমরা হয়ে বসে আছে ।

-কিরে মন খারাপ কেনো । (আমি)
-ও তুই ।
-হুমম মন খারাপ কেনো । (আমি)
-আর বলিস না ফারিয়ার সাথে আবারও ব্রেকআপ ‌হইছে । (নোমান)
-ও চিন্তা করিস না ঠিক হয়ে যাবে এর আগেও তো হয়েছে এমন তাই না । (আমি)
-হুমম কিন্তু এবার একটু বেশিই বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে মনে হয় সহজে ওর রাগ ভাঙবে । (নোমান)
-ঠিক আছে চিন্তা করিস না আমার সাথে ঢাকায় চল । (আমি)
-পাগল নাকি আমি কেনো তোর সাথে ঢাকায় যাবো আর তুই ঢাকা গিয়ে কি করবি । (নোমান)
-আরে আমার চাকরি হয়ে গেছে সেই জন্য ঢাকায় যেতে হবে তুইও চল যদি তোরও  চাকরি হয়ে যায় । (আমি)
-ভাই এবার দিয়ে কতবার বলছিস তোর চাকরি হয়েছে প্রতিবারই কোনো না কোনো কারণে চাকরি নষ্ট হয়ে গেছে এখন আর নতুন করে চাকরির জন্য ঢাকা যাসনা নাহলে শুধু শুধু টাকা গুলা নষ্ট হবে । (নোমান)
-চুপ শালা ভাবলাম নতুন চাকরির কথা শুনে খুশি হবি তা না থাক তুই আমি গেলাম । (আমি)
সেখান থেকে উঠে কিছুক্ষন ঘোরাঘুরি করে বাসায় এসেই দিলাম ঘুম । 
ঘুম থেকে উঠলাম রাতে তারপর খাবার খেয়ে জামা কাপড় গুছিয়ে বিছানা শুতে যাবো তখনই ফোনটা বেজে উঠলো । হাতে নিয়ে দেখি সকালের নাম্বারটা ধরলাম ।‌
-হ্যালো (আমি)
-হ্যা সাব্বির বলছেন ।
-জ্বী
-আসলে আপনাকে ফোন করে বলেছিলাম যে আপনার চাকরি হয়েছে সেই জন্য দুঃখিত আমাদের এখানে সাব্বির নামে আরেকজন আবেদন করেছিলো তো তার কাছে দিতে গিয়ে আপনার কাছে গেছে সেই জন্য আমরা আন্তরিক ভাবে দুঃখিত । (বলেই ফোনটা কেটে দিলো)
কথাটা শুনে আমি হাসবো না কাঁদবো বুজতে পারছি না । এখন যদি আম্মু আব্বুকে বলি তাহলে তো তারা কি বলবে জানি না । কিন্তু নোমান যদি জানতে পারে তাহলে তো হাঁসা হাঁসি করবে । কোনো চিন্তা ছাড়াই ঘুমিয়ে পড়লাম ।
সকালে ঘুম থেকে উঠে বাসা থেকে বের হচ্ছি । তাদেরকে এখনও বলিনি যে চাকরি নেই । জানি না ঢাকায় গিয়ে কি করবো বাসে উঠছি দেখি আব্বু আম্মু আমার দিকে তাকিয়ে আছে ।
-শোন ওখানে গিয়ে কারও সাথে ফাইজলামি করবি না আর ভালো ভাবে কাজ করবি । কাজ করার সময় ছুটি নিবিনা নাহলে চাকরি চলে যেতে পারে । ৬ মাসের আগে বাড়িতেও ‌আসবিনা শুধু শুধু টাকা নষ্ট হবে (আব্বু)
জানি না আব্বু কি বললো তবে এটা নিশ্চিত যে আমি না থাকায় খুশি হইছে । বাসের মধ্য বসে আছি । আর ঢাকা গিয়ে কি করবো সেটা ভাবছি । ধুর এখন ভেবে শুধু শুধু মাথা খাটানোর কোনো মানেই হয়না । এর থেকে ভালো ঘুমিয়ে‌ থাকি ।

চলবে......

হয়তো প্রথম পার্ট তাই ভালো হয়নি তবে পরের পার্ট গুলো ভালো করার চেষ্টা করবো ।

বিয়ে_ছাড়া_বউ
পার্টঃ ২
লেখকঃ সিয়াম হোসেন

ঢাকায় এসে নামলাম । অবশ্য এর আগেও এক দিনের জন্য আসছিলাম । কিন্তু ভালো মতো কোনো জায়গা চিনি না । আগে একটা বাসা ভাড়া নিতে হবে । তাই বাসা খুজা শুরু করে দিলাম । একটা বাসার বাইরে দেখি ছোট ফেমিলি ভাড়া দেওয়া হবে কিন্তু আমি তো ব্যাচেলার আমাকে কি ভাড়া দিবে । সাত পাঁচ না ভেবে ঢুকে পড়লাম । দেখি একটা মেয়ে দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে । হয়তো এই বাসার মেয়ে কিন্তু সাথে ব্যাগ কেনো । হতে পারে কোথাও গেছিলো এখন সেখান থেকে আসছে । মনে মনে ভাবতে শুরু করলাম ।
আচ্ছা আমি যদি মেয়েটাকে পটাতে পারি তাহলে নিশ্চয় হয়তো ও তার বাবাকে বলে আমাকে এই বাসায় থাকার বেবস্থা করে দিতে পারে । হাত সাফাই করে কাজে লেগে পড়লাম ।

-হ্যালো (আমি)
-কোনো কথা নেই । ভাব নিয়ে দাড়িয়ে আছে ।
-আপনি কি এই বাসায় থাকেন । (আমি)
-দেখে কি মনে হচ্ছে (মেয়েটা জোর গলায়)
-না এমনি আচ্ছা দেখলাম এই বাসাটা ভাড়া হবে আপনি কি আপনার বাবাকে বলে আমাকে ভাড়া দেওয়ার বেবস্থাটা করে দিবেন (আমি)
-মেয়েটা দেখি আমার কথাটা শুনে কিছুক্ষন আমার মুখের দিকে তাকিয়ে কি যেনো ভাবলো ।
-আপনি দেখেন নি একটা ফেমিলি ভাড়া দেওয়া হবে । (মেয়েটা)
-হ্যা দেখেছি আসলে আমি ঢাকা শহরে নতুন এসেছি তাই এখন বাসা খুজা খুবই কষ্ট কর যদি আপনি বেবস্থা করে দেন । (আমি)
-ঠিক আছে এখানে দাড়িয়ে থাকুন আর কথা বলবেন না বেশি (মেয়েটা)
-জ্বী তা নাম কি আপনার (আমি)
-বললাম না চুপ করে দাড়িয়ে থাকেন । (মেয়েটা)
কেমন মেয়েরে বাবা নামটা পর্যন্ত বললো না । না বললে নাই আমার বাসাটা পেলেই হলো । কিছুক্ষন বাদে দরজা খুলে একটা বয়সক লোক বেড়িয়ে এলো মানে এই বাসার বাড়িওয়ালা হয়তো ।
-তোমরা কে (লোকটা)
-জ্বী আংকেল বাসা ভাড়া নিতে আসছি । (আমি)
-ওই চুপ কথা বলতে না করছি না । (মেয়েটা)
-ওহ্ কিন্তু আমি তো ফেমিলি ছাড়া বাসা ভাড়া দিতে পারবো না তোমরা......(লোকটা কথা শেষ করার আগেই মেয়েটা বলতে শুরু করলো)
-আমরা স্বামী স্ত্রী আর বাইরে লিখা দেখে এখানে বাসা ভাড়া নিতে এসেছি বাসাটা খুব সুন্দর । (মেয়েটা)

আমি তো মেয়ের কথা শুনে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছি । তার মানে এই মেয়েটা এই বাসার না ভাড়া নিতে এসেছে । আর আমাকে কথা না বলার কারণ এটা । বিয়ের আগেই স্বামী হয়ে গেলাম না জানি এক সাথে থাকলে আরও কি কি হবে । এর থেকে ভালো এখান থেকে কেটে পড়ি । পিছন ফিরে হাটতে যাবো তখনি মেয়েটার ডাক ।
-কি হলো কোথায় যাচ্ছো বাসাটা পছন্দ হয়নি । (মেয়েটা)
-আমার একটু দরকার আছে আসছি (আমি)
-না তুমি এখন কোথাও যেতে পারবে না আগে বাসায় চলো ফ্রেশ হয়ে তারপর যাবে আসো । আংকেল চাবিটা দেন (মেয়েটা আমার হাত ধরে টানছে)
-আরে বাবা বউ মা যখন বলছে তখন ফ্রেশ হয়ে তারপর যেও তাছাড়া বউমা একা কি সব কিছু করতে পারবে । (লোকটা)
শালার এ কোন চিপার মধ্য পড়লাম আমি । যদি হাত ছাড়িয়ে চলে যাই তাহলে লোকটা খারাপ ভাববে আবার মেয়েটারও‌ মান সম্মান নষ্ট হয়ে যাবি ।  যদি না যায় তাহলে আমার মাসম্মানের ১২ টা বাজবে । কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না । মেয়েটা হাতটা ধরে রুমের মধ্য এনেই দরজা বন্ধ করে দিলো ।

-এটা কি হলো তার মানে তুমি এই বাসার মেয়ে নও (আমি)
-চুপ‌ আস্তে বাড়িওয়ালা শুনতে পারবে (মেয়েটা)
-কেনো তুমি তাকে কি বললে আমরা স্বামী স্ত্রী তাই না (আমি)
-দেখো তোমারও থাকার জন্য বাসা দরকার আর আমারও তাছাড়া ঢাকার শহরে ফেমিলি ছাড়া কেউই বাসা ভাড়া দিতে চায় না ।(মেয়েটা)
-কিন্তু আমরা তুমি আমি কেউ‌ কাউকে চিনি না এই রুমে কি ভাবে (আমি)
-তোমার মতো তুমি থাকবে আর আমার মতো আমি যদি কখনও বাড়িওয়ালা চলে আসে তাহলে অভিনয় করবা । (মেয়েটা)
-কিসের অভিনয় আমি কোনো অভিনেতা না যে অভিনয় করতে পারবো (আমি)
-চুপ বেশি কথা বলো কেনো উনি বুঝতে পেরে যাবেন । (মেয়েটা)
-ঠিক আছে তোমার নাম কি আগে সেটা বলো (আমি)
-জান্নাত তোমার (মেয়েটা)
-সাব্বির ...তা ঢাকায় কি মনে করে তোমার বাসা কোথায় (আমি)
-অনেক বড় কাহিনী পরে বলবো এখন আমার সাথে কাজ করো । (জান্নাত)
-হুমম
তারপর দুজনে মিলে ঘরটা সুন্দর করে পরিষ্কার করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো ।
-এক সাথে থাকবো ঠিক আছে কিন্তু ঘর ভাড়াটা কিন্তু অর্ধেক অর্ধেক (আমি)
-হুমম জানি জানি।
-খাবারের বিষয় নিয়ে কি ভাবলে ।
-কি ভাববো সবাই যা করে আমরাও তাই ‌করবো।
-মানে ।
-মানে তুমি বাজার করে আনবা আমি রান্না করবো।
-কিন্তু বাজারের টাকা (আমি)
-এই এতো টাকা টাকা করো কেনো হু একা থাকলে কি বাজার করা লাগতো না তাছাড়া আমি রান্না করে দিচ্ছিত।
-হুমম বলতে হবে না এখন কি খাবো (আমি)
-চলো বাইরে থেকে খেয়ে আসি।
দুজনে মিলে বাইরে খাবার খেতে চলে গেলাম । পাশা পাশি হাটছি নিজেকে কেমন যেনো জামাই মনে হচ্ছে আর পাশে নতুন বউ হি হি হি । তারপর দুজনে বাসায় চলে এলাম ।
-আমার ঘুম পাচ্ছে ঘুমাতে গেলাম (জান্নাত বলেই বিছানায় শুয়ে পড়লো)
আমারও শরীর ক্লান্ত লাগছিলো তাই ঘুমানোর জন্য বিছানার দিকে যাচ্ছি ।
-এই তুমি কোথায় ঘুমাবা।( জান্নাত)
-কেনো বিছানায় (আমি)
-না তুমি এখানে থাকতে পারবে না।
-মানে তাহলে কোথায় থাকবো।
-কেনো নিচে।
-আমরা না স্বামী স্ত্রী তাহলে এক সাথে ঘুমালে দোষ কোথায়।
-দেখো বাসা ভাড়া নেওয়ার জন্য বলছি আমরা স্বামী স্ত্রী সুতরাং স্বামী স্বামী করবানা ঠিক আছে ।
-এহ্ বললেই হলো আমি নিচে থাকতে পারবো না
-তাহলে দাড়িয়ে থাকো (জান্নাত বলেই অন্য পাশ হয়ে শুয়ে পড়লো )
কি আর করার নিচে বিছানা পেতে শুয়ে পড়লাম ।

সকালে ঘুম থেকে উঠে রেডি হয়ে বাসা থেকে বের হচ্ছি দেখি জান্নাতও রেডি হচ্ছে ।
-কি বেপার তুমি রেডি হয়ে কোথায় যাবে । (আমি)
-চাকরির ইন্টারভিউ দিতে।
- ওহ আমিও যাবো চলো তোমাকে পৌছে দেই (আমি)
-দরকার নেই ‌আমি একাই যেতে পারবো হু (জান্নাত বলেই ‌বেড়িয়ে গেলো)
আমিও বেড়িয়ে গেলাম । প্রথমে দুই চারটা অফিসে গিয়ে দেখলাম কিন্তু কাজ হলো না । ভাবলাম বাসায় চলে যায় । আচ্ছা আর একটা অফিসে গিয়ে দেখি কাজ হয় কিনা । অফিসে গিয়ে শুনলাম তাদের এখানে দুইজন লোক লাগবে। খুবই ফুরফুরা মেজাজে অফিসে ঢুকে ইন্টারভিউ দিলাম । ভাগ্য মনে হয় ভালো তাই চাকরিটা পাইয়া গেছি । মনের আনন্দে গান গাইতে গাইতে বাসায় চলে এলাম । একি জান্নাত তো এখনও আসেনি । কোথায় গেলো মনে হয় এখনও চাকরি হয়নি যাই হোক আসলে ‌আসুক না আসলে নাই । ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়লাম । রাতে নিচে থাকার কারণে ঠিক মতো ঘুম হয়নি ।
ঘুম যখন ভাঙলো দেখি সন্ধ্যা হয়ে গেছে প্রায় কিন্তু জান্নত এখনও আসেনি । ওর আবার কোনো বিপদ হলো না তো । কেমন যেনো একটা অজানা ভয় বিরাজ করতে শুরু করলো মনের ভিতর । চিন্তা হচ্ছে কোথায় যেতে পারে ভাবতে ভাবতেই মহারাণী এসে হাজির ।
-কি বেপার কোথায় ছিলে যে এতো দেড়ি হলো (আমি)
-যেখানেই‌ থাকি না কেনো তাতে তোমার কি ।
-আমার অনেক কিছু জানো কতো চিন্তা হচ্ছিলো । (আমি)
-থাক আমার জন্য আর কষ্ট করে চিন্তা করতে হবে না ।
এ কেমন মেয়েরে বাবা একজন থাকে নিয়ে চিন্তা করছে তাতে তার কোনো মাথা বেথায় নেই‌। ধুর চিন্তা করাই লস ।
-তা চাকরি হয়েছে তো (আমি)
-হুমম একটা অফিসে চাকরি পেয়েছি তোমার।
-আমার কপালে চাকরি লিখায় থাকে বুঝছো অফিসে পা দিতেই চাকরি দিয়ে দিছে ।
-থাক আর চাপা ছাড়ার দরকার নেই ।
-চাপা কখন ছারলাম সত্যি চাকরি হইছে ।
-হুমম ভালো তা বাজার করছো নাকি রান্না করার মতো ।
-না
-না মানে যাও গিয়ে বাজার করে আনো নাহলে রাতে কি খাবে ।
-আমি‌ আজকে বাইরে খাবো নতুন চাকরি পেয়েছি বলে কথা (আমি)
-ঠিক আছে তুমি যাও ‌আমি যাবো না
-না গেলে নাই‌ আমার কি (আমি)
বলেই‌ বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম । জান্নাতের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম মুখটা কেমন জানি শুকিয়ে গেছে হয়তো সারাদিন কিছু খায়নি । কিন্তু কেনো নাকি টাকার সমস্যা বুঝলাম না কিছু । বাইরে থেকে দুই‌ পেকেট বিরিয়ানী নিয়ে বাসায় চলে আসলাম ।
-তুমি না বাইরে খেতে গেলে চলে আসলে কেনো ।(জান্নাত)
-একা একা খেতে ভালো লাগে না তাই নিয়ে আসলাম । (আমি)
-তোমাকে কে বলছে আমার জন্য নিয়ে আসতে ।
-কেউ বলেনি ভালো লাগলো তাই‌ এনেছি নাও খাও।
বলার সাথেই ‌জান্নাত প্যাকেট খুলে খাওয়া শুরু করে দিলো । বুঝলাম সারাদিন কিছু খায়নি । ও খাচ্ছে আর আমি তাকিয়ে আছি কি সুন্দর মায়াবী চেহারা । কিন্তু এই ঢাকার শহরে ও একা কি করছে জানি না ।
-কি হলো খাচ্ছো না কেনো (জান্নাত)
-হ্যা খাচ্ছি( আমি এতোক্ষন ওর দিকে তাকিয়েই ছিলাম)
তারপর খেয়ে আবার কালকের মতো ও বিছানায় আর আমি নিচে শুয়ে পড়লাম ।

চলবে.....

বিয়ে_ছাড়া_বউ
পার্টঃ ৩
লেখকঃ সিয়াম হোসেন

সকালে মনের আনন্দে ঘুমিয়ে আছি । কেউ‌ মনে হয় আমার গায়ে ধাক্কা দিচ্ছে । একটা চোখ হালকা খুলে দেখি জান্নাত ধাক্কা দিচ্ছে আর ডাকছে ।
-কি হয়েছে (আমি ঘুমের ঘোরে)
-ওই ওঠো । (জান্নাত)
-আর একটু পর।
- আরে ওঠো তো সকাল হয়ে গেছে ।
-হুমম একটু পর।
-ওই‌ তোমার না আজকে অফিসে প্রথম দিন যাবেনা ।
কথাটা শুনেই তড়িঘড়ি করে উঠে পরলাম ।
-হুমম যাবো কয়টা বাজে দাড়াও আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি ।
-এখনও অফিসে যাওয়ার অনেক সময় আছে ।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি এখনও ৭ টা বাজতে ১০ মিনিট বাকি আছে । আর অফিস ১০ টায় ।
-এখনও তো ৭ টা বাজে নাই এতো সকালে ডাক দিলে কেনো।
-অফিসে যাবা ঠিক আছে কিন্তু সকালে নাস্তা না করেই যাবে নাকি সেই জন্য যাও গিয়ে বাজার করে আনো।
-এটা তো তুমিও আনতে পারতা ।
-হুমম কিন্তু কথা কি ছিলো তুমি বাজার করবা আর আমি রান্না করবো যাও তাড়াতাড়ি গিয়ে বাজার করে আনো।
-হুমম যাচ্ছি।
মুখ ধুয়ে বাজারে চলে গেলাম ।কি কিনবো সেটাই ভাবছি । আসার সময় তো বললো না কি বাজার করতে হবে । নিজের যতো দূর পর্যন্ত জ্ঞ্যান আছে বাজার করলাম । একটা মাছ নিয়ে গেলে কেমন হয় ।

-মামা রুই মাছ কতো (আমি)
-৪০০ টাকা কেজি
আরে শালা বলে কি এর আগে বাসায় থাকতে একবার কিন ছিলাম ২০০ টাকা কেজি নিছিলি এখানে তো ৪০০ টাকা থাক দরকার নেই আমার ।
-কি মামা দিবো (সোকানি)
-না মামা লাগবে না রেখে দেন । (আমি)
-৩৫০ টাকা নিবেন (দোকানি)
-না
-আচ্ছা ৩০০ টাকা দেন নিয়ে যান অনেক ভালো মাছ এর থেইকা কম দামে আর পাইবেন না বুঝছেন (দোকানি)

আমি কি মাছ কিনতে আসছি না কাপড় কিছু বুঝতে পারছি না ।
-আচ্ছা দেন । (আমি)
মাছ আর বাজারের ব্যাগ নিয়ে বাসার দিকে হাঁটা দিলাম । বাড়িতে একটু ফোন দেই ঢাকায় আসার পরে ফোন দেওয়া হয় নাই‌।

-হ্যালো আম্মু (আমি)
-এই কে বলছেন (আম্মু)
-আম্মু আমি সাব্বির(আমি)
-না আমার ছেলে তো এতো সকালে ঘুম থেকে উঠে না তুমি নিশ্চয় চোর আর সেটটা চুরি করে আনছো‌(আম্মু)
-ধুর আম্মু ফাইজলামি বাদ দাও তো (আমি)
-হুমম তা এতো সকালে উঠেছিস যে (আম্মু)
-তোমার ছেলে এখন চাকরি করে বুঝছি আর চাকরিতে যেতে হবে তাই (আমি ভাব নিয়ে)
-থাক আর ভাব নিস না কয়দিন টিকবি সেইটা ভাব (আম্মু)
-হুমম দেইখো (আমি)
-তা অফিস তো মনে হয় আরও পরে এতো সকালে কি করছিস (আম্মু)
-ওই বাজার করতে আসছি নাস্তা বানাতে হবে তো । (আমি)
-তা কি কি বাজার করছিস । (আম্মু)
-অনেক কিছুই রুই মাছ কিনছি (আমি)
-রুই মাছ কে রান্না করবে । (আম্মু)
-কে আবার আমি করবো (চাপা ভাব নিয়ে)
আম্মু দেখি কথাটা শুনে অপাশ থেকে হালকা কাশি দিলো ।
-কি হলো আম্মু কাশি দিলে যে যক্ষা হয়নি তো আবার । (আমি)
-হয়নি তবে এবার হবে তোর কথাটা শুনে (আম্মু)
-কেনো
-শোন তোর আব্বু যা টাকা দিছে সেইটা এই ভাবে নষ্ট করিস না (আম্মু)
-আমি আবার নষ্ট করলাম কখন (আমি)
-ওই যে মাছ টা কিনছিস তুই রান্না করতে পারবি না শুধু শুধু নষ্ট করার থেকে যেখান থেকে কিনেছিস সেই খানে ফেরত দিয়ে আয় (আম্মু)
-ধুর (বলেই ফোনটা কেটে দিলাম)

এটা কেমন কথা নিজের ছেলেকে একে বারেই বিশ্বাস করে না আল্লাহ কই যাবো আমি । তারপর বাজারের ব্যাগটা নিয়ে বাসায় চলে এলাম । দেখি জান্নাত রান্না ঘরে সব কিছু গোজগাজ করছে ।
-কি বেপার এতো দেড়ি হলো কেনো আসতে । (জান্নাত)
-ওই আম্মুর সাথে ফোনে কথা বলছিলাম ।
-হুমম তাড়াতাড়ি দাও রান্না করতে হবে নাহলে আবার অফিসে যাওয়া দেড়ি হয়ে যাবে ।
-হুমম এই যে ।
জান্নাত ওটা নিয়ে রান্না ঘরে চলে গেলো । আমিও রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে নিলাম । গিয়ে দেখি এখনও হয়নি ।
-কোনো সাহায্য লাগলে বলো (আমি)
-থাক তোমাকে সাহায্য করতে হবে না।
-তা রান্না হয়ছে।
-হুমম প্রায় ।
রান্না শেষে দুজনেই খেতে বসলাম । খাবারটা কিন্তু সেই রকম হইছে ।
-ওয়াও অনেক সুন্দর রান্না করতে পারো তো তুমি তা কে শিখিয়েছে । (আমি)
-আম্মু।
তারপর দুজনেই খেয়ে দেয়ে বেড়িয়ে পড়লাম অফিসের উদ্দেশ্য ।
-তুমি চাইলে তোমার অফিস পর্যন্ত এগিয়ে দিতে পারি (আমি)
-থাক লাগবে না আর শুনো বাসায় আমরা যেমনই থাকি না কেনো বাসার বাইরে কিন্তু কেউ‌ কাউকে চিনি না ঠিক আছে সুতরাং তুমি তোমার মতো যাও আমি‌ আমার মতো ।
বলেই একটা রিকশা নিয়ে চলে গেলো । এ কেমন মেয়ে দয়া মায়া বলতে কি কিছু নেই নাকি । পৌছে দিলে কি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যেতো । তারপর‌ আমিও একটা রিকশা নিয়ে অফিসে চলে এলাম । এই প্রথম মনে হয় আমি ঠিক সময়ে অফিসে এসেছি । তারপর গিয়ে সোজা নিজের কেবিনে বসলাম । পাশের কেবিনে তাকাতেই যেনো অবাক । সৌভাগ্য নাকি দুর্ভাগ্য জানি না কারণ আমার পাশের কেবিনে আর কেউ‌না জান্নাত। জান্নাতও হয়তো আমাকে দেখে কিছুটা অবাক হয়েছে । আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে কাজ শুরু করে দিলো । এমন ভাব করছে যেনো‌ আমাকে চিনেই না । আমি তো এক ভাবে ওর দিকে তাকিয়ে আছি আর ওর এমন আচরণের কথা ভাবছি।
-কি বেপার কাজ করছেন না কেনো ।
কথাটা শুনে সামনে তাকাতেই দেখি বস ।
-Good Morning Sir (আমি)
- হুমম অফিসে প্রথম দিন আর আসতে আসতেই অন্য কেবিনে চোখ কেনো ।
-না মানে স্যার।
-চুপচাপ নিজের কাজে মনোযোগ দিন এর পর যদি আবার দেখি তাহলে কিন্তু চাকরি থেকে বের করে দিবো ।
-সরি স্যার আর হবে না ।
- হুমম বসুন ।
নিজের কেবিনে বসে পড়লাম । আড় চোখে তাকিয়ে দেখি জান্নাত মিট মিট করে হাসছে । খুব রাগ হচ্ছে ওর উপর । আমিও‌ আর সেদিকে খেয়াল না করে কাজে মনোযোগ দিলাম । ওর দিকে আর একবারও তাকায়নি । অফিস ছুটির পরে নিজের মতো বাসায় চলে এলাম । কিছুক্ষন বাদে জান্নাতও আসলো । এখনও ওর উপর রাগটা আছে ।
-কি বেপার এমন মুখ ফুলিয়ে বসে আছো কেনো ।
-অফিসে আমার সাথে ওমন ব্যবহার করলে কেনো ।
-কি করলাম ।
-যে ভাবে ছিলে মনে হলো আমাকে চিনোই না।
-আমি তোমাকে বলেছিলাম বাসার বাইরে আমরা কেউ কাউকে চিনি না সুতরাং এখানে রাগ করার কোনো মানেই হয়না । এখন সরো রান্না করতে হবে ।
জান্নাত রান্না করতে চলে গেলো । রান্না শেষে দুজনে খেয়েই শুয়ে পড়লাম । আজকে আর ওর সাথে তেমন একটা কথা বলিনি ।

দেখতে দেখতে ১০ দিন পার হয়ে গেছে । এই কয়দিনে জান্নাতকে অনেক আপন ভেবে নিয়েছি । বলতে গেলে ভালোবাসি ভাবছি এই বিয়ে ছাড়া বউ এর থেকে সত্যি সত্যি বউ হলে কেমন হয় । কিন্তু জান্নাত এখনও আগের জায়গায় আছে । জানি না ও আমাকে ভালোবাসে নাকি ওর মনে অন্য কেউ আছে । রাতে ঘুমানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি ।
-জান্নাত একটা কথা জিজ্ঞাসা করি (আমি)
-কি?
-আচ্ছা তুমি কি কাউকে ভালোবাসো (আমি)
-হঠাৎ এই প্রশ্ন।
-না এমনি জানতে চায়ছিলাম আছে নাকি কেউ।
-ঘুমিয়ে পড়ো অনেক রাত হয়েছে । (জান্নাত বলেই অন্য পাশ হয়ে শুয়ে পড়লো)
আমিও‌ আর কোনো কিছু না বলে ঘুমিয়ে পড়লাম ।
সকালে ঘুম থেকে উঠে বাজার এনে দিয়ে ফ্রেশ হতে
চলে গেলাম । আজকে আর জান্নাতের সাথে তেমন একটা
কথা বললাম না হয়তো ও কাউকে পছন্দ করে যার জন্য
আমার কাছে রাতে বললো না । ফ্রেশ হয়ে এসে খেতে
বসলাম ।
-কি বেপার আজকে এতো চুপচাপ কেনো ।
-এমনি ভালো লাগছে না ।
-কেনো জিএফ কি ছ্যাকা দিছে নাকি (জান্নাত বলেই
একটা হাসি দিলো)
-আমার কোনো জিএফ নেই।
জান্নাত আর কিছু বললো না । আমিও চুপচাপ খাচ্ছি ।
-আমি কাউকে পছন্দ করি না।
কথাটা শুনে জান্নাতের দিকে তাকালাম । মনের ভিতরে
লাড্ডু ফুটছে যাক কাউকে তো পছন্দ করেনা । কাউকে
পছন্দ করে না তার মানে কি আমাকেউ পছন্দ করে না
মনে হতেই মুখটা কালো হয়ে গেলো আচ্ছা জিজ্ঞাসা
করবো আমাকে পছন্দ করে কিনা । না থাক যদি আবার
কিছু বলে ।
-কি হলো কথা বলছো না কেনো । (জান্নাত)
-হুমম বলছি সত্যিই কি কাউকে পছন্দ করো না।
-না
-ওহ্
আর কোনো কথা হয়নি তারপর খেয়ে অফিসে যাওয়ার
জন্য বের হচ্ছি ।
আমি একটা রিকশায় উঠতে যাবো ।
-আজকে এক সাথে যাই।
কথাটা ঠিক শুনলাম নাকি ভুল কিছুই বুঝতে পারছি না ।
-যদি তোমার সমস্যা হয় তো যাও আমি একাই যেতে
পারবো ।
-না না কোনো সমস্যা নেই ‌আসো (আমি)
জান্নাত আর আমি রিকশায় পাশাপাশি বসে আছি ।
কিছুটা অস্থিরতা কাজ করছে । তারপরও এক অজানা
অনুভূতি বিরাজ করছে । তারপর অফিসে এসে নিজের
কাজে মনোযোগ দিলাম ।
-সাব্বির দেখোতো আমি এইটা সলভ করতে পারছি না
করে দাও না । (জান্নাত)
-হুমম দিচ্ছি।
জান্নাতের কাজটা করে আবার জায়গায় এসে পড়লাম ।
জান্নাত তো কখনও কারও কাছে কাজের জন্য সাহায্য
চায়না সে যথেষ্ট পারদর্শি তার কাজে প্রতি তাহলে
আমাকে দিয়ে করালো কেনো । সবই মাথার উপর দিয়ে
যাচ্ছে আজকে সকাল থেকেই জান্নাতকে অন্য রকম
লাগছে কিন্তু এর কারণ কি বুঝে উঠতে পারছি না । কাজ
শেষে বাসায় আসতে যাবো তখনই স্যারের নোটিশ সবাই
গেলাম তার কাছে ।
-আগামী ১০ দিন অফিস ছুটি থাকবে (স্যার)
....চলবে....

বিয়ে ছাড়া বউ
 শেষ পার্ট (৪)

সবাই মিলে কারণ যানতে চাইলাম কিন্তু বললেন না ।
বুঝলাম না ১০ দিন ছুটি দেবার কারণ কি ঈদেও তো
কোনো অফিস ১০ দিন ছুটি দিতে চায় না । সে যাই করুক
আমার কি ছুটি তো আছে এই ফাকে একবার বাড়ি থেকেও
ঘুরে আসা যাবে । বাড়িতে এসে ব্যাগ গোছাচ্ছি ।
-কি বেপার ব্যাগ গোছাচ্ছো কেনো।
-বাড়িতে যাবো (আমি)
-কেনো
-১০ দিন অফিস ছুটি শুধু শুধু এই কয়টা দিন বসে থাকার
চেয়ে বাড়ি থেকে ঘুরে আসি তা তুমি যাবে না তোমার
বাসায় (আমি)
-না
-কেনো
-এমনি ভালো লাগছে না আমি ঘুমাতে গেলাম টেবিলে
খাবার আছে খেয়েনিও।
-কেনো তুমি খাবে না।
-না।
অবাক হলাম ওর এমন ব্যবহারে একটু আগেও তো ঠিক
ছিলো হঠাৎ করে আবার কি হলো সত্যি মেয়েদের মন
বুঝা কষ্ট কর কখন কোন দিকে যায় বলা যায় না । আমি
আমার মতো খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়লাম । সকালে ঘুম থেকে
উঠে রেডি হয়ে বাসা থেকে ব্যাগটা নিয়ে বের হচ্ছি
দেখি বাড়িওয়ালা আংকেল গেটের সামনে দাড়িয়ে
আছে । .
- কি বাবা কোথায় যাচ্ছো (আংকেল)
-বাসায় যাচ্ছি অফিস বন্ধ তো তাই (আমি)
-ভালো তো কিন্তু বউমা কোথায় (আংকেল)
-ঘরে
-ঘরে কেনো বউমা যাবে না তোমার সাথে (আংকেল
অবাক হয়ে)
-না
-কেনো ঝগড়া করছো তাই তো না আমি থাকতে এমনটা
কখনও হবর না বউমা বউমা (আংকেল)
আল্লাহ্ এ কোন বিপদে পড়লাম আবার ।
-জ্বী আংকেল (জান্নাত)
-তোমার সাথে কি ওর কোনো ঝগড়া হয়েছে যে ও
তোমাকে নিয়ে যাচ্ছে না (আংকেল)
জান্নাত কি বলবে হয়তো বুঝতে পারছে না চুপ করে
দাড়িয়ে আছে ।
-যাও তাড়াতাড়ি করে জামা কাপড় পড়ে এসো আমি
তোমাদের দুজনে এক সাথে বাসে উঠিয়ে দিয়ে আসবো
যাও যাও (আংকেল)
জান্নাত দেখলাম ঘরে চলে গেলো কিছুক্ষন বাদে একটা
ব্যাগ নিয়ে বেড়িয়ে এলো । তারপর আমরা দুজনে বাসে
না উঠা পর্যন্ত আংকেল সাথেই ছিলো । বাস চলছে ।
-এইটা কি করলে (জান্নাত)
-আমি আবার কি করলাম । (আমি)
-তোমার জন্য আমা কেউ বাসা থেকে বের হতে হলো এখন
কোথায় যাবো ।
-এমন ভাব করছো যে তোমার নিজের বাসা নেই সেখানে
যাও।
জান্নাত কিছু না বলে মুখটা কালো করে ফেললো ।
তারপর কিছুক্ষন চুপ থেকে বলতে শুরু করলো ।
-তুমি জিজ্ঞাসা করলে না আমার কোনো বাড়ি আছে
কিনা সত্যি আমার কোনো বাড়ি নেই । ছোট থাকতে
বাবা মা এক দুর্ঘটনায় মারা যায় ছোট থেকে চাচার
কাছে বড় হয়েছি কিন্তু আমার চাচী আমাকে সেখা
রাখতে পছন্দ করতেন না । যখন বড় হলাম তখন একটা ছেলে
আমাকে পছন্দ করতো খুব বড় লোক বাবার বখাটে ছেলে
আমার চাচীর কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিলে চাচীও রাজি
হয়ে যায় । কিন্তু আমি রাজী ছিলাম না তাই আমাকে
জোর করে বিয়ে দিতে চেয়েছিলো সেই জন্য আমি
ওখান থেকে পালিয়ে এই ঢাকার শহরে চলে আসি
(জান্নাত কথাটা বলেই ঢুকরে কেঁদে উঠলো )
আমি কি বলবো কিছুই বুঝতে পারছি না ।
-সরি আমি বু......
-থাক আর বলতে হবে না।
-তুমি যদি চাও তাহলে আমার সাথে আমার বাসায় যেতে
পারবো (আমি)
-কিন্তু কি পরিচয় নিয়ে থাকবো।
সেটা দেখা যাবে এখন চলো ।
তিন্নিকে নিয়ে নিজের বাসায় চলে এলাম । দরজায় বেল
বাজাতেই আম্মু দরজা খুলে দিলো ।
-কিরে এতো তাড়াতাড়ি চলে এলি চাকরি চলে গেছে
নাকি । (আম্মু)
-উফ কিসের চাকরি যাবে অফিস ছুটি তাই এসেছি (আমি
বলতে বলতেই পিছন থেকে জান্নাত সামনে এসে
দাড়ালো )
-এটা কে (আম্মু)
-আম্মু ও হচ্ছে......
-কি তুই বিয়ে করে ফেলেছিস (আম্মু কথাটা বলেই মাথায়
হাত দিলো)
-আম্মু আমার কথাটা তো শোনো (আমি)
-চুপ একটা কথাও বলবি না তাছাড়া বিয়ে যখন করেইছিস
ভালোই হয়েছে এবার ষদি একটু ভালো হইস আস বউমা ঘরে
আসো (আম্মু জান্নাতকে নিয়ে চলে গেলো )
- নাম কি তোমার (আম্মু)
-জান্নাত
-বাহ্ অনেক সুন্দর নাম তো তা তোমার আব্বু আম্মুর নাম
কি । (আম্মু)
-তারা বেঁচে নেই (জান্নাত মাথা নিচু করে)
-ওহ্ মন খারাপ করো না তারা নেই তো কি হয়েছে আমি
আছি তো তা আমার ছেলের সাথে তোমার পরিচয়টা
কিভাবে হয়েছিলো । (আম্মু)
-সে অনেক বড় কাহিনী (জান্নাত)
-আচ্ছা তুমি ফ্রেশ হয়ে আসো আমি খাবার দিচ্ছি ।
(আম্মু)
জান্নাত আমার রুমে আসলো ।
-তোমার মা ভাবছে আমরা হয়তো (জান্নাত)
-দেখেছো আম্মু তোমাকে দেখে কতো খুশি হয়েছে
আম্মুকে সত্যটা বলিও না দরকার হয় আমরা যেভাবে
ছিলাম সেভাবেই থাকবো আম্মুকে বুঝতে দেওয়া যাবে
না এই টুকু করে দাও (আমি)
-ঠিক আছে । (জান্নাত)
-ধন্যবাদ
তারপর আমি আর জান্নাত ফ্রেশ হয়ে খেতে চলে গেলাম

আম্মুর সাথে জান্নাতকে একটা ভালো সম্পর্কে হয়ে
গেছে । জান্নাতও সব সময় আম্মুর কাজে সাহায্য করে
ভালোই লাগে জান্নাতকে দেখতে কিন্তু আমার একটাই
দুর্ভাগ্য এখনও নিজের বাসায় এসেও নিচে শুতে হয় ।
দেখতে দেখতে ৮ দিন হয়ে গেলো । রাতে আমি আর
জান্নাত শুয়ে আছি ।
-আর ২ দিন আছি তারপর আবার আমাদের ঢাকা চলে
যেতে হবে তাই না । (আমি)
-হুমমম জানো তোমার মাকে আমার খুবই ভালো লাগে
ছোট থেকে মায়ের আদর তেমন একটা পায়নি কিন্তু
তোমার আম্মুর কাছে যতক্ষন থাকি মনে হয় আমার মায়ের
কাছে আছি । আচ্ছা সিয়াম একটা কথা বলি (জান্নাত)
-হুমমম
-যখন তোমার আম্মু জানতে পারবে আমরা স্বামী স্ত্রী
না শুধু অভিনয় করেছি তখন তোমার আম্মুর কি হবে
ভেবেছে । (জান্নাত)
- জানি না তবর যখন হবে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করবো ।
আচ্ছা এখন শুয়ে পড়ো অনেক রাত হয়েছে । (আমি)
বলেই অন্য পাশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম ।আমি আর জান্নাত বাড়িতে আরো ২ দিন থেকে ঢাকাই  চলে আসলাম।।।
আসার সময় বাসে জান্নাত আমার পরিবার সম্পর্কে অনেক ভালো ভালো বললো ।।।।
এখানে আসার পর দিন কাল ভালো যাচ্ছিল।।। আর এখন তো জান্নাত আমাকে অনেক কেয়ার করে।। আমি কেয়ার করি না বললে ভুল হবে,,, কারণ আমি তো জান্নাত কে অনেক ভালোবেসে ফেলছি।।।
একদিন সকালে। আমি ঘরে বসে আছি। আর জান্নাত রান্নাঘরে রান্না করছে।। হঠাৎ রান্নাঘর থেকে একটু আওয়াজ পেলাম তাই তারাতারি করে রান্না ঘরে চলে গেলাম। গিয়ে দেখি জান্নাত তরকারি কাটতে গিয়ে হাত কেটে ফেলছে।। তাই আমি আর ঠিক থাকতে পারলাম না।।একটু উত্তেজিত হয়ে তার হাত আমার রোমাল দিয়ে চেপে ধরে রাখালাম,,
--- পাগল হয়ে গেছো নাকি,, দেখে শুনে কাজ করতে পারো না। (একটু উত্তেজিত হয়ে আমি বললাম হাত ব্যান্ডেজ করতে করতে)
-- আরে কিছু হয় নাই।।  তুমি শুধু শুধু উত্তেজিত হয়তাছ
(জান্নাত)
এখন আমি আরও কিছু বললাম কিন্তু জান্নাত কিছু বললো না,, শুধু আমার দিকে চেয়ে থাকলো।।  জানি না কেনো সে আমার দিকে এমন করে চেয়ে আছে।।
-- তুমি এখন এই চেয়ারে বসে থাকবা,।।  আজ আমি রান্না করবো।( একটা চেয়ার তার দিকে এগিয়ে দিয়ে)
-- আরে তুমি রান্না করতে পারবা না।। 
-- বলছি তু পারমু।। ( একটু ঝাড়ি দিয়ে বললাম)
জান্নাত আর কিছু বললো না। শুধু বললো আমি কিন্তু সাহায্য করবো।।  আমি না করলেও,, সে আমার কথা মানলো না
।। আমি রান্না করছি আর জান্নাত আমাকে শিখিয়ে দিতাছে।।  আসলে জান্নাত এর সাথে রান্না করতে আমার ভালোই লাগতাছে।।।  আমি আর জান্নাত মিলে রান্না করতে গেলাম তার পর দুজন যখন খেতে গেলাম। আমি যখন খেতে বসলাম দেখি জান্নাত খাইতাছে না।।  আমি বুঝতে পারলাম সে কেনো খাইতাছে না।।।।
-- হা করো।( আমি)
এবার জান্নাত অবাক হলো কারণ সে বিশ্বাস করতে পারছিলো না যে আমি তাকে খাওয়াইয়া দিমু।।।
-- কি হলো হা করো।  ( জান্নাত)
সে কিছু বললো না।  হা করলো আমি তাকে খাওয়াইয়া দিলাম।।
কিন্তু কেনো যেনো আমি জান্নাত এর চোখে জল দেখলাম।
--অই কান্না করছো কেনো।  (আমি)
- - জানো কেউ আমাকে এমন করে খাওয়া দেই না।। তুমি সত্যি অনেক ভালো মনের মানুষ।।
-- আমি তো আমার বউ কেই খাওয়া দিতাছি অন্য কাউকে তো দিচ্ছি না।  (মনে মনে বললাম)
-- কি হলো মনে মনে কি বলো এতো।।
--- কই কিছু না তো
--- জানো আমি ভুল করেও একটা ভালো কাজ করছি ।।।
-- মানে?
--- মানে হলো ভুল করেছি যে আমি এমন একটাছেলের সাথে বাসা ভাড়া নিয়েছি।যাকে আমি জিবনেও চিনতাম না ।  আর সঠিক কাজ টা হলো তুমার মতো একজনের সাথে থাকতে পারছি।
-- হা হা হা হা   তাই নাকি
-- হুম,,,
-- ওকে, তুমি আজ তো অফিসে যেতে পারবে না। তাহলে তুমি বাড়িতে থাকো,,।।
-- হুম
-- নিজের খেয়াল নিয়ো।।।।
---আর তুমিও ঠিক মতো অফিসে যাইয়ো,। আর দুপুরে খেয়ে নিও কিন্তু।।
-- ওকে ম্যাডাম।।।। বাই
-- হুম বাই।।
আসলে মেয়েটা অনেক ভালো। সব সময় কেয়ার করে,।  কি মায়াবী চেহারা দেখলেই প্রেমে পড়ে যায়।। এগুলো ভাবতে ভাবতে অফিসে চলে আসি।।। বিকালে অফিস থেকে যাওয়া সময় ভাবলাম জান্নাতের জন্য একটা ফোন নিয়ে যায়,,কারণ আজ ভালো করে কথায় বলতে পারলাম না মেয়েটার সাথে,,তাই বাজারে গেলাম জান্নাতের জন্য একটা ফোন নিলাম,, আর জান্নাতের জন্য কিছু বকুল ফুল নিলাম।।।  বাসায় গিয়ে কলিং বেল চাপতেই জান্নাত দরজা খুলে দিলো।।
-- কি ব্যাপার আজ একটু দেরি হলো যে।। (জান্নাত)
--- একটু মার্কেটে গেছিলাম।।
-- অহ,,তুমি হাত মুখ ধুয়ে আসো।।  আমি খাবার দিচ্ছি।।
-- আমক ভিতরে গিয়ে ফোন আর বকুল ফুল গুলো লুকিয়ে রাখলাম ভাবলাম পরে দিবু।।।
পরে হাত মুখ ধুয়ে খেতে গেলাম। আমি যেই খেতে বসেছি। তখন মনে হলো মেয়েটার তো হাত ব্যান্ডেজ করা মেয়েটা মনে হয় কিছু খাইনি  ।।  তাই জান্নাত কে বললাম
--জান্নাত আমার পাশে বস তো।। (এতক্ষণ জান্নাত দাঁড়িয়ে ছিলো।  আমার কথা শুনে আমার পাশে বসলো)
-- হা কর।
--- আমি খেয়েছি তো
--- আমি জানি তুমি খাওনি।।  হা করতে বলছি,,  হা করো।।
জান্নাত আর কিছু বললো না।  আমি জান্নাতকে খাওয়াইয়া দিতাছি আর জান্নাত তা খাইতাছে।।। 
--- খাওয়ার পর সব ঠিক করে ঘরে আসলাম,,,।।।
আসার পর জান্নাত তো ঘরে আসলো।।  আমি ফোন আর বকুল গুলো জান্নাতের কাছে এগিয়ে দিয়ে বললাম
-- জান্নাত ধরো এগুলি তুমার জন্য আনছি।। 
--- কি এগুলি,,, সরি এগুলো আমি নিতে পারবো না।।
-- কেনো?? 
--- আমি এমনেতেই অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলছি তোমাকে।।  এখন আবার তুমার কাছ থেকে এগুলো।।  প্লিজ মাফ করবেন।।
--- আমি কি জানি না এগুলি তুমি নিবা এটাই ফাইনাল,,।।।
--- না আমি নিবো না,।।
--- নিবা না তুমি?
--- নাহ।।
আমি আর কিছু বললাম না।  আর করে টেবিলের উপরে বকুল আর ফোনটা রেখে বাইরে চলে আসলাম রাগ করে।।  এবার জান্নাত ভাবতে লাগলো,,, সাব্বির এমন করে চলে গেলো কেনো।।  রাগ করলো নাকি।।  না না রাগ করবো কেনো।।
রাত ১০ সময় আমি দোকানে বসে চা খাইতেছি আর এখানকার মানুষদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি।। আর জান্নাত ভাবছে সাব্বির মনে হয় আমার উপর রাগ করছে, কেনো আমি এমন করলাম।।  আমি নিলেও তো পারতাম শুধু শুধু কষ্ট দিলাম সাব্বির কে,,।।  এখন কি করি।। এখন জান্নাতের কান্না করতে মন চাইতাছে,।। এগুলো ভাবতে ভাবতে জান্নাতের মনে পড়লো ফোনের কথা সেটা দিয়ে সাব্বির কে ফোন দেই,, কিন্তু আমি তো সাব্বিরের ফোন নাম্বার জানি না।  দেখি ফোনে নাম্বার পাই কি না।  সাব্বির আবার ফোন কিনার সময়  ফোন নাম্বার টা ফোনে সেভ করে রাখছিলো,, তাই জান্নাত ফোন নাম্বার পেয়ে যায়,, আর সাব্বিরকে ফোন দেয়।
--- হ্যালো,, কোথায় তুমি। (জান্নাত)
-- আমি বাইরে আছি, কেনো কি হয়ছে।।।
--- আমাকে মাফ করে দেও  প্লিজ। তুমি বাসায় চলে আসো ।। বলেই মেয়েটা কান্না করে দেই।।।
-- এই তুমি কান্না করছো কেনো,, দাড়াও আমি আসতেছি।।।
বাসায় এসে কলিং বেল চাপতেই জান্নাত দরজা খুলে দিলো,, মনে হলো সে দরজার কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল। 
--- অই তুমি এমন করে কান্না করছ কেনো।।।
--- এতোক্ষণ তুমি কোথায় ছিলে।
--- আরে দোকানে বসে চা খাইতে ছিলাম,,।
-- অহ।, ভিতরে এসো।।।  আর কিছু বললো না জান্নাত।।
-- তাই ডাক দিয়ে বললাম,,, আমার দেয়া মোবাইল টা নেও প্লিজ।।
সে শুধু মাথা দিয়ে হ্যা করলো।।।
এভাবে কেটে গেলো আরো ১ মাস।  আজ অফিসে গিয়ে জানতে পারি আমার নাকি প্রমোশন হয়ছে  ।।।  তার সাথে ট্যান্সফারও হয়ছে চট্টগ্রাম।।  তাই মনটা খারাপ হয়ে গেলো।। মন মরা হয়ে বাসার আসলাম।।  এসে দেখি জান্নাতেরও মন খারাপ। প্রয়োজন ছাড়া কথা বলছে না। 
-- কি হয়েছে তোমার মন খারাপ কে।। (আমি)
--- কই মন খারাপ।।।
--- না আজ কেমন কেমন লাগছে তোমারে।। নাকি  শরীর খারাপ।
-- আরে কিছুই হয় নাই।।। তুমি কি সত্যিই চলে যাবে চট্টগ্রাম?
--- চাকরি করতে হলে তো চট্টগ্রাম যেতেই হবে।।।
-- অহ,, হুম।।।
আর কিছু বললো না জান্নাত।। তাই আমি বললাম
-- কাল একটু আমার সাথে বাইরে যাবে ঘুরতে।।
জান্নাত কিছুক্ষণ ভাবলো।।  তার পর কি জানি মনে করে হ্যা বলে ফেললো।।
আজ জান্নাতকে নিয়ে ঘুরতে যাবো।  তাই জান্নাত কে রেডি হতে বললাম।। আমি রেডি হয়ে বসে আসি।। কিছুক্ষণ পরে জান্নাতও রেডি হয়ে আমার সামনে আসলো, আমি দেখেই ক্রাশ খাইলাম।।  কারণ আজ জান্নাত শাড়ি পরেছে। তাই অনেক অনেক সুন্দর লাগছে জান্নাতকে,, মনে হয় একটা পরি আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আমি তো চোখ টাই সরাতে পারছি না।। আমি যদি কবি হতাম তাহলে আজ তার সৌন্দর্যের  একটা কবিতা লেখে ফেলতাম।। ।।

-- কি দেখছো এমন করে।। (জান্নাত)
--- ক ক কই কি কি কিছু না তো।।  (তোতলাতে তোতলাতে আমি বললাম)
-- হয়ছে হয়ছে চলো এখন।। তারপর দুজনে একটা রিকসা তে উঠলাম।।  দুজনে রিকসা করে যাচ্ছি কেউ কিছু বলছি না।।। বাতাসে জান্নাতের খোলা চুলগুলোও আমার মুখে এসে পড়ছে।। যা আমার কাছে অনেক ভালো লাগছে।।  রিকশা করে একটা নদীর তীরে আসলাম।।  নদীর তীরে দুজনে পাশাপাশি হাটছি কিন্তু কেউ  কিছু বললে না।।  নিরবতা ভেঙ্গে আমি বললাম।
-- জান্নাত। আমি চলে গেলে,,, তুমি কি আমাকে ভুলে যাবে।।।
জান্নাত কিছু বললো না,, শুধু আমার দিকে কেমন করে যেনো তাকিয়ে থাকলো।। তাই আমি আবার বললাম।।
-- জান্নাত আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই।  জানি না তুমি কিভাবে নিবে আমার কথা গুলো।। তাও আমাকে বলতে হবে, তা না হলে আমি আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটা হারিয়ে ফেলবো।।। 
-- হুম বলো।।
আমি আর দেরি না করে,পকেট থেকে রিং টা বের করে, হাটুতে বরদিয়ে নায়কদের মতো বসে  বললাম।।
--- জান্নাত আমি তোমাকে প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ে গেছিলাম।  তোমাকে অনেকবার বলতে চাইছি কিন্তু বলতে পারি নি।কিন্তু আজ যখন তোমাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা আসলো,, তাই আর না বলে থাকতে পারলাম না।।  I love u jannat।।  আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।  হবে কি তুমি আমার জীবন সঙ্গি।। 
জান্নাত কিছু বলছে না,।।  শুধু অভাক দৃষ্টি তে চেয়ে আছে আমার দিকে।।তাই আমি আবার বললাম।।
-- কি বলো না,, হবে কি আমার জিবন সঙ্গি।
-- জান্নাত মাথা নেড়ে হ্যা বললো।
তাই আমি রিং টা তাকে পড়িয়ে দিলাম।।  রিং পড়ানোর সাথে সাথেই জান্নাত আমার বুকে ঝাঁপিয়ে  পড়লো।।।।কিছুক্ষণ আমরা দুজন দুজনে জড়িয়ে ধরে থাকলাম।।  পরে আমি বললাম।। 
-- অই কি করছো ছাড়ো।।  মানুষ দেখছে তো।।
-- না দেখে আমি কি অন্য কাউকে জরিয়ে ধরছি নাকি , আমি আমার হবু বর কে জড়িয়ে ধরছি।। 
-- হুম ঠিক আছে  , তাই বলে এখানে এমনন করে।। 
জান্নাত এবার ছেড়ে দিলো। তাই আমি বললাম।।
-- চলো না বিয়ে করে ফেলি।।
-- হুম করবো কিন্তু আমার কিছু চাওয়া আছে।।
-- কি সেটা।।
-- আমাকে প্রতিদিন খাওয়া দিত্ব হবে।  কারণ তোমার হাতে খেতে অনেক ভালো লাগে। আর আমাকে মাঝে মাঝেই এমন করে বেড়াতে নিয়ে যেতে হবে।আর চুড়ি কিনে দিতে হবে।  আর অফিস থেকে ফেরার পথে আমার জন্য ফুসকা  আনতে হবে।।
-- ঠিক আছে মহারাণী।।  আপনার সব কথাই রাখবো। এখন তো বিয়ে করবে আমাকে।।
-- ভেবে দেখবো।।
-- কি?
-- আরে পাগল।।  তোমাকেই তো বিয়ে করবো।। 
-- চলো তাহলে বিয়ে করে ফেলি।।
-- হুম চলো।।
 

তারা তো বিয়ে করতে চলে গেলো।।  এখন আপনারা কি করবেন।।  এখন তাহলে আপনারাও বিয়ে করে ফেলেন  কেমন।। 
         (সমাপ্ত)  বাড়ি চলে যান
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label