নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

গল্পঃ 😍 সিনিয়র আপুর রোমান্টিক অত্যাচার 😍 Bro apur Romantic Balobasar Golpo


গল্পঃ 😍 সিনিয়র আপুর রোমান্টিক অত্যাচার 😍
(পর্বঃ ০১)
Writer:- (নষ্ট জীবন) Sohanur Rohoman Sohan
-আচ্ছা মা! নিজের মামা বাড়িতে থাকতে হবে।এতে রুম ভাড়া দেওয়ার কি আছে.??
-তোর মামা যে কতটা কৃপণ টাইপের লোক।তোর তো জানাই আছে।৪০টাকা কেজি ভালো বেগুন রেখে, ২০টাকা কেজি অল্প পোঁকা ধরা বেগুন কিনে আনে।বুঝতে পারছিস কতটা হার-কৃপণ?
.
কৃপণ দেখছি কিন্তু মামার মতো কৃপণ জীবনে দেখিনি! শেষে কিনা পঁচা বেগুন খাওয়া শুরু করলো?
আজ ৭ বছর পর মামার বাড়িতে পা রাখছি।দরজায় টোকা দিলো, একজন ৪০/৪৫ বয়সী লোক দরজা খুলে গলা ঝারিয়ে বলে...
-কি চাই?
বাংলা গল্পঃ শত্রু_থেকে_বউ Bangla Balobasar Golpo Sottru Thake Bow
মা কোনো কথা না বলেই পা ছুয়ে সালাম করলো।
আমি সালাম দিলাম, তবে দাড়িয়ে থেকেই দিয়েছি।মাথায় লম্বা ঘোমটা দিয়ে বলে
-কেমন আছো মেজো দাদা?
.
সঙ্গে সঙ্গেই চোখে মুখে হাসির রেখা ফুটে উঠলো।
আমাকে বুকে জোরিয়ে ধরলো, মোটেও এরজন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম।জোরিয়ে ধরে বলে...
-সেই যে নাক ঘুষি মেরে চলে গেলি।আর একটি বারও দেখতে আসলিনা কেমন আছি?
.
৭বছর আগে যখন মা আর মামার ভেতর জমি-জমা নিয়ে ঝগড়া হয় তখন রাগের বসে নাক বরাবর একটা ঘুষি দিয়ে মামাকে জ্ঞান করে দিয়।
সেদিন আর বাড়িতে ঢোকার সাহস হয়নি।
একটা বন্ধুর বাড়িতেই রাতটা কাটিয়ে ছিলাম।মামা পা থেকে মাথা পর্যন্ত তাকিয়ে বলল
-ছেলে তো অনেক বড় হয়ে গেছে।এখনো কি আগের মতোই দুষ্টুমি করিস নাকি?
.
মা বলল
-কি যে বলো না মেজো দাদা, সোহান অনেক ভালো একটা ছেলে।শুধু পড়ালেখায় একটু কাঁচা।
.
বুঝতে পারছিনা, মা প্রশংসা করছে নাকি মান-সম্মান ঢুবাতে চাইছে? চিন্তায় মাথার উকুন গুলি কিলবিল করছে।
মাথা চুলকাতে চুলকাতে মা'র দিকে কটমটিয়ে চোখ নিয়ে তাকালাম।
মা ফিক করে হেসে দিলো, আমার তাকানোতে।
মামা পান চিবুতে চিবুতে তখন বলে...
-শুনলাম ছেলে নাকি গঞ্জিকা টঞ্জিকা খায়।মানে শুদ্ধ ভাষায় যাকে গাঁজা বলে আর কি? (মামা)
.
৩২ পাটি দাঁত বের করে খিলখিল করে হেসে দিলো।
লজ্জায় মুখ-খানা আমার লাল হয়ে গেছে, না পারছি চোখ তুলে তাকাতে! না পারছি কোনো কথার উত্তর দিতে.!
বুঝতে বাকি রইলো না, নাক ফাটানোর প্রতিশোধটাই নিতে চাচ্ছে।তাই নিরবে সহ্য করে যাচ্ছি।
মামা ছাগলের মতো বলেই যাচ্ছে, মা'র দিকে করুন চোখে তাকালাম।মা হাতের ইশারায় বলল "তুই একটু কন্ট্রোলে থাক, রাগবি না"
-ওসব খায় না, তবে মাঝে-মাঝে দুই একটা সিগারেট খায় (মা)
.
মামার চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়|
-বলিস কিরে? সিগারেট খায় অথচ তুই কিছুই বলিস না।ভারি! অসভ্য হয়ে গেছে তোর ছেলে।একটু চোখে চোখে রাখতে হবে। (মামা)
.
-আহ্ মেজো দাদা বকছো কেন? বাচ্চা মানুষ বোঝে কম।বুঝালেই সব বুঝবে। (মা)
.
-এই বুড়ানাতার ছেলেকে বাচ্চা বলছিস? বিয়ে দিলে তো নিজেই ৩বাচ্চার বাপ হয়ে যাবে...(এই কথা বলে মামা হো হো করে হেসে দিলো) (মামা)
.
-মেজো দাদা.! (মা)
.
-হয়েছে হয়েছে আর বলব না।মজার জন্য দুঃখিত।এই ধর চাবি।দোতলার রুমটা এখন থেকে তোদের। (মামা)
মামা ভাড়ি গলায় ঢাকলো "অবন্তিকা মা, অবন্তিকা একটু নিচে আসো?"
আমি ভাবতে থাকলাম এই অবন্তিকাটা কে? নামটাও চেনা চেনা লাগছে যেন অনেক বছর আগে কখনো শুনেছিলাম।
রূপে গুণে ভরপুর চুলো গুলো খোঁপা করে বেণী বেঁধেছে।
বিধাতার যে এত সুন্দর বস্তু বানাতে পারে? সেটা এই মেয়েকে না দেখলে বুঝতাম না।
মামা যে "মা" বলে ডাকলো! তার মানে কি এটাই আমার নানী।এমন যুবতী নানী কিভাবে সম্ভব?
নানা কি আরেক'টা বিয়ে করে ছিলো নাকি?
আমি একটু ঝুঁকে মেয়েটার (অবন্তিকা) পা ছুঁয়ে সালাম করতে যাবো তখনি আমারটা টেনে উপরে তুললো।টগবগানো জ্বলামুখির মতো চোখ, আগুনের কুন্ডর মতো বিষ্ফরণ হচ্ছে।
ভয়ে ঢোল গিললাম.!
কানে ব্যাথা লাগছে অথচ বলার মতো কোনো ভাষা আমি মুখ দিয়ে উচ্চারণ করতে পারছিনা।
-সোহান সালাম করছিস কেন? এটা অবন্তিকা, তোর সঙ্গে ছোট বেলা যে মেয়েটা খেলা করতো এই সেই মেয়ে.?(মা)
.
-কিন্তু মামা যে বলল "মা"।তার মানে তো এটা আমার নানী সেটাই বোঝা যাচ্ছে..!?
.
-আমি যেমন তোকে "বাবা/পাগল" বলে ডাকি তেমনি তোর মামাও তার মেয়েকে আদর করে "মা" ডাকে।বোঁকা ছেলে এখনো বুঝ-জ্ঞান হলো না.??(মা)
মা কথা গুলি বলে একটু খানি হাসলো।
.
-আপু আমার কানটা ছাড়ুন ব্যাথা লাগছে তো..!
.
অবন্তিকা একটা হাত কোমরে রেখে বলে?
-বেশ হয়েছে কান টেনে ধরেছে।তোকে তো মেরেই ফেলতাম আমি।এত দিন পর আমাদের কথা মনে হলো তোর।এই ৭টা বছরে একটি বারও কল দেওয়ার কথা ভাবিসনি? (অবন্তিকা)
.
-নাম্বার ছিলো না আপু।এখনো থেকে প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে তার সামনে নাম হাজিরা দেবো প্রমিস..|
কানটা ছেড়ে দিয়ে ওরনা মাথায় দিয়ে মাকে সালাম করলো।আমি ব্যাগটা হাতে নিতে মামা বলল...
?
-অবন্তিকা ওদের দুইটা দেখিয়ে দিয়ে আসো।সব থেকে বড় এবং সুন্দর রুম দুইটা দেখাবে..(মামা)
?
৩২টা দাঁত কপাটি দেখিয়ে "হো হো" করে হেসে দিলো মামা।কি বিচ্ছিরী হাসি দিতে পারে মাইরি!
মামা না হলে আরেকটি বার ঘুষি দিয়ে দাঁত ভেঙ্গে দিতাম।
অবন্তিকা হাত থেকে ব্যাগ গুলি কেরে নিয়ে বলে..
.
-রাখ তোর এসব নিতে হবেনা।এতটা ভাড়ি ব্যাগ তুই সহ্য করতে পারবিনা।বাচ্চা মানুষ..(অবন্তিকা)
.
ডান হাত টান দিতেই অবন্তিকা ধপাস করে পরে গেলো।আমাদের দিকে তাকিয়ে বলল..
-আপনার চিন্তা করতে হবেনা আন্টি।আমি ব্যাগ নিতে পারবো প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ খাই হুম.? (অবন্তিকা)
.
ব্যাগ তোলার খুব চেষ্টা করছে অবন্তিকা কিন্তু পারছেনা।
চোখ-মুখ লাল হয়ে যাচ্ছে।
"হা হা" করে হেসে দিয়ে বললাম...
-বাচ্চা মানুষের কাজ বাচ্চাকেই করতে দিলে খুশি হবো।আপু আপনার এত কষ্ট করা কি দরকার?
.
রুম দেখিয়ে দিলো।
মার রুম আগে থেকে গোছানো ছিলো, অবস্যই অবন্তিকা ছাড়া কেউ করেনি কারণ মেয়েরাই পারে রুম পরিষ্কার কাজ পারর্ফেক্ট ভাবে করতে।
আমার রুমে এসে ধপাস করে খাটে শুয়ে হাপ ছাড়লো।
ব্যাগ গুলো এক কোনোয় রেখে, সেন্ডুগেন্জি খুলছিলাম তখন অবন্তিকার চোখের দিকে চোখ যায় লোলুভ দৃষ্টিতে আমার শরীরের দিকে তাকিয়ে আছে।
এবার একটু রেগেই গেলাম...
-যান রুম থেকে বের হয়ে.! কাপড় বদলানো দেখাটা কি ভদ্র মেয়েদের কাজ? আমার রুমে আপনি কি করছেন হু..?
.
-বাহ্!! তুই তাহলে অনেক বড় হয়ে গেছিস দেখছি, কেন? ছোট বেলায় যখন আমার সঙ্গেই গোসল করতি তখন তো এরকম রাগতি না..! (অবন্তিকা)
.
লজ্জায় মুখ লাল হয়ে কুচকে গেছে।
-তখন আমরা ছোট ছিলাম আপু।এসব মনে করিয়ে দিয়ে কি লজ্জা দেওয়ার চেষ্টা করছেন?
.
-১৮ বছরের নিচে সবাই শিশু।তার মানে তুই এখন বড় হয়ে গেছি?? এখনো আমার ২-৩ বছরের ছোট হুম..! (অবন্তিকা)
×
(To be Continue)= চলবে কি??
-ধন্যবাদ Nill pori আপু একটা নাম বলার জন্য।তবে নামটা একটু চেন্জ করে দিছি।।
বাংলা গল্পঃ শত্রু_থেকে_বউ Bangla Balobasar Golpo Sottru Thake Bow
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label