নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

গল্প সুখের_সন্ধানে

গল্প সুখের_সন্ধানে
পর্ব ১০তম
-হ্যালো কি বলছিস! কিভাবে হলো এসব!
-বাবা আমি তোমাকে সব কথা পড়ে বলবো! তুমি ১৫ মিনিটের ভেতরে ওদের বাড়ি এসো……
রহিম চাচা! গাড়ি ঘুড়ান তাড়াতাড়ি……
ইমন বাবার সাথে কথা বলে কলটা কেটে দিলো,,!
ঠোঁটের কোণে তার মুচকি হাসি__
কিছুক্ষণ আগে যে বাড়িটাতে খুশির আমেজ ছিলো পরমুহূর্তেই সেই বাড়িটা শোকে পরিণত হলো……
এক কান থেকে আরেক কান প্রায় সবাই ই জেনে গেছে যে বিয়েটা হবে না।
নুসরাতে মায়ের পাশে বসে আছে শাহিনা বেগম মুখ চেপে কাঁদছেন,,,,
মিলি পাশ থেকে উঠে গিয়ে বাইরের অবস্থা বুঝার চেষ্টা করলো,,,,এরই মাঝে সবাই ই জেনে গেছে___
তখনি এক ভদ্র মহিলা শাহিনা বেগমের কাছে আসলেন__
-কি হইলো আপা এহনো কি বরযাত্রী আহে না?
শাহিনা বেগম কি বলবেন ভেবে পান না,,,একবার নুসরাতের দিকে তাকিয়ে শুধু বললেন,,,
-বরের গাড়ি এক্সিডেন্ট করেছে,,,তাই………
পুরো কথা বলতে না দিয়ে ভদ্র মহিলা দাঁড়িয়ে গিয়ে বলতে লাগলেন,,,,
-বাবা গো বাবা! এমন মুখপোড়া মেয়ে বিয়ের আগেই অঘটন ঘটতাছে না জানি বিয়ার পর কি হইবো,,,এই মাইয়া তো একটা অপয়া……
এই বলে গা ঝাড়া দিলেন মহিলাটি,,,,
নুসরাত নিঃশব্দে কথাগুলা হজম করছিলো……
শাহিনা বেগম- দেখুন এখানে আমার মেয়ের কোন দোষ দেখছি না! যা হয়েছে আল্লাহর হুকুমেই হয়েছে…
আর আল্লাহ এতে নিশ্চয়ই কল্যাণ রেখেছেন।
আপনারা প্লিজ যান এখান থেকে……
এরই মধ্যে কয়েকজন মহিলাও এসে গেলেন শাহিনা বেগমের ঘরে……
এর মাঝে এক মহিলা বলে উঠলেন,,,
-হ হ যামুই তো,,,আমাদের তো অপমান করনেই লাইগ্গাই আনছেন,,,হুদাই আমাদের টাইমটা নষ্ট কইরা দিলেন যত্তসব ফকিন্নির দল!
এই বলে রাগে গজ গজ করতে করতে মহিলাটি বেরিয়ে গেলেন……
.
বাড়িতে ছিমছাম নিরবতা বিরাজ করছে,,,
নুসরাত নিজের ঘরে গিয়ে আস্তে আস্তে গায়ের শাড়িটা খুলে ফেললো……
বাতরুম থেকে ওযু করে এসে দু রাকাত নামায পড়লো সে___
নামায পড়ে রান্না ঘরে গেলো নুসরাত,,,
আস্তে আস্তে বাটিতে করে খাবার নিয়ে মায়ের রুমে গেলো……
শাহিনা বেগম চোখ বন্ধ করে ছিলেন,,,কিন্তু তার চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝড়ছে……
সন্ধ্যা নেমেছে অনেক আগে,,,চারিদিক থেকে ঝি ঝি পোকার আওয়াজ আসছে,,,,
নুসরাতদের ঘরেও কোন সাড়াশব্দ নেই,,,,মিলি সেই যে রুমে ঢুকেছে বের ই হচ্ছে,,,নুসরাত কয়েকবার ডাকা স্বত্বেও না……
এখন মায়ের রুমে এসেছে মাকে খাইয়ে দিবে বলে,,,
আস্তে আস্তে মায়ের মাথার পাশে গিয়ে বসে শাহিনা বেগমকে ডাকতে লাগলো নুসরাত……
-মা..।
মেয়ের ডাক শুনে একবার চোখ খুলে তাকালেও পরক্ষণে আবার চোখ বন্ধ করে ওপাশে ফিরে শুয়ে পড়লেন তিনি……
-খাবে না মা? খাবারটা কি দোষ করলো,,,,খেয়ে নাও মা!
শাহিনা বেগম কোন উত্তর দিলেন না……
-মা টেবিলে খাবারটা রেখে যাচ্ছি! তুমি না খেলে এই ঘরে কোন সদস্যদের পেটেও খাবার যাবে না!
নুসরাত চোখ মুছে মায়ের রুম থেকে বেরিয়ে এলো……
.
আধার নেমেছে রাতটাও ঘাড়ো হচ্ছে,,,কিন্তু কারো চোখেই ঘুম নেই……
নুসরাত বালিশে মুখ গুঁজে কান্না করছে,,,,
"কি হতে কি হয়ে গেলো মাবুদ! মায়ের দিকে তাকিয়েই বিয়েটাতে রাজি হয়েছিলাম মা যেন কষ্ট না পায়! কিন্তু……
দরজায় খট করা আওয়াজে নুসরাত নিজের চোখটা মুছলো,,,
মিলি এসেছে ঘরে……
-আপু তৈরি হয়ে নে!
মিলির দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে নুসরাত!
-কি হলো তাকিয়ে আছো কেন! তৈরি হও,,
এই বলে মিলির হাতে থাকা একটা শপিং ব্যাগ থেকে কাপড় বের করে নুসরাতের কাছে দিলো

কাপড়টা চোখে ধাধা লাগানোর মতো এতো জাঁকজমক তার উপর ভারি কারুকার্যে ভরা,, এতো দামি কাপড় মিলি কোথায় পেলো……
নুসরাত প্রশ্ন করলো মিলিকে,,,
স্মৃতিহাস্যে মিলি উত্তর দিলো,,,
-আমার হবু দুলাভাই এটা এনেছেন,,,তৈরি হয়ে নাও!
নুসরাতের মাথার উপর দিয়ে যেন সব যাচ্ছে!
মিলির হাত খপ করে ধরে নিজের কাছে আনলো নুসরাত,,,
তারপর মাথায় হাত দিয়ে প্রশ্ন করলো মিলিকে,,,
-কই জ্বর তো নেই! তাহলে আবোলতাবোল বকছিস কেন?
বোনের কথায় ফের মুচকি হাসলো মিলি……
-কি হলো রে তোর,, বেশি শোকে পাগল হয়ে গেলি না কি?
মিলি উঠে বোনের হাত ধরে আয়নার সামনে দাঁড় করালো……
মিলি- এইখানে চুপটি করে দাঁড়িয়ে থাকো,,,আমি শাড়িটা পড়িয়ে দেই!
নুসরাত কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে গেলো মাকে দেখে……
শাহিনা বেগম এসেই তোরজোড় লাগালেন নুসরাতকে তাড়াতাড়ি রেডি করতে।।
নুসরাত মা আর মিলির অবস্থা দেখে কান্না করে দিলো আর মনে মনে বললো,,,
"হে আল্লাহ এ কি হলো শেষ পর্যন্ত মাও শোক সহ্য করতে না পেরে………"
শাহিনা বেগম মেয়ের কান্না দেখে নুসরাতের পাশে এসে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললেন,,,
-কাঁদিস না মা! এইসময়টা সব মেয়েদের জীবনেই আসে! আল্লাহর কাছে শোকরিয়া কর যে আল্লাহ আমাদের দিকে ফিরে তাকিয়েছেন,,,নাহলে আজকের ঘটনার পর বড় চিন্তিত ছিলাম তোকে আর বিয়ে দিতে পারবো কি না।
যে মেয়ের বিয়ের আসর থেকে বিয়ে ভেঙ্গে যায় সমাজ যে তাকে আর ভালো চোখে দেখে না রে মা!
আল্লাহ আমাদের ডাক শুনেছেন,,,,সব ঠিক হয়ে যাবে এখন!
মিলি তাড়াতাড়ি ওকে সাজিয়ে দে তো মা!
নুসরাত মায়ের কথাতে বিস্মৃত হলো…
-মায়ের কথাতে তো মাকে পাগল বলে মনে হয় না!
হে আল্লাহ এসব হচ্ছেটা কি?
মিলির হাত থেকে শাড়িটা কেড়ে নিয়ে মিলির দিকে চোখ গরম করে তাকালো নুসরাত……!
বোনের ভয়ংকর চাহনি দেখে ঢোক গিললো মিলি……
-ভালোয় ভালোয় উত্তর দে মিলি! হচ্ছেটা কি এসব?
নুসরাতের কথায় উত্তর দিলো না মিলি,,,,এইবার নুসরাত বেশ রেগে গিয়ে মিলিকে ধমক দিতে লাগলো……
মিলি-মা মায়ায়ায়ায়া!
বলে শাহিনা বেগমকে ডাকতে লাগলো,,,,
নুসরাত মিলির মুখ ততক্ষণাৎ চেপে ধরলো……
-ওকে ওকে বলতে হবে না কিছু! দে দে শাড়িটা পড়িয়ে দে……। তোরা যখন পাগল হয়েছিস আমিও হলে ক্ষতি কি……!
বিড়বিড় করে বললো নুসরাত!
বোনের সম্মতিতে ভুবনবিজয়ী হাসি দিলো মিলি!
নুসরাতকে যেই সাজানো শুরু করতে যাবে,,,
নুসরাত- এই দাঁড়া,,,যা ইশার নামায পড়ে আয়! তারপর সাজাস!
মিলি চুপচাপ রুম থেকে বেরিয়ে গেলো……মিলি চলে যেতেইই দরজা আটকে দিলো নুসরাত……
এখনো নুসরাতের মাথায় কিছুই ঢুকছেনা হচ্ছেটা কি?
সবাই কি একসাথে পাগল হয়ে গেলো না কি?
আবারো দরজায় খটখট আওয়াজ আসলো,,,
প্রচন্ড রাগ নিয়ে নুসরাত দরজা খুললো,,,,
সামনে তার দুই ভাই আমিনুল আর মোহাম্মদ হাসি হাসি মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে……
নুসরাত কোমড়ে হাত রেখে রাগি রাগি ভাব নিয়ে বললো,,,
-কি চাই! নামায কই? মসজিদে যাস নি এখনো?
আমিনুল উত্তর দিলো……
-এইতো যাব! যাওয়ার আগে তোমাকে দেখতে ইচ্ছে হলো,,,,নামায পড়ে তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নিও কেমন?
নুসরাতের রাগে শরীর কাঁপছে,,,,কি পেয়েছেটা কি এই রাত্রীবেলা সবাই কেন ওকে পাগল বানাচ্ছে……
বোনের মনের অবস্থা ঠিকই আন্দাজ করতে পেরেছে দুই ভাই,,,তাই তো মিটিমিটি হেসেই যাচ্ছে দুজন!
-ভীষণ মজা নিচ্ছিস তাই না! যা আমার চোখের সামনে থেকে তোরা! নইলে নইলে তোদের চুল ছিঁড়ে দিবো আমি!
বোনের রাগ দেখে দুই ভাই হাসতে হাসতে মসজিদের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেলো……
নুসরাত ঠাশ করে দরজা আটকে দিলো……
.
কিছুক্ষণের মধ্যেই নুসরাতদের বাড়িটা আবার প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে!
শোক শোক ভাবটা কেটে আনন্দজনক পরিবেশ তৈরি হয়েছে……♥
বাড়িতে মেহমানদের ও আনাগোনা বেড়েছে,,,,
নুসরাত এখনো কিছুই জানে না,,, নিজের রুমে চুপটি করে বসে আছে!
বাইরে শোরগোল শুনা গেলেও তেমন পাত্তা দিলো না সে……
-আপু আপু দরজাটা তাড়াতাড়ি খুল তো……!
নুসরাত ভেতর থেকে চেঁচিয়ে বললো,,,
-আজ খুলবো না আমি দরজা! সবকটি তোরা পাগল হয়েছিস, সাথে আমাকেও পাগল বানাচ্ছিস!
যা এখান থেকে!
মিলি দরজার ওপাশ থেকে বলল……
-আস্তে আপু আস্তে! বাড়ির বউরা এইভাবে চেঁচায় না কি? দরজাটা খুলো তো বরযাত্রী এসে গেছে অনেকক্ষণ হলো,,তোমার সাজটা এখনো কম্পলিটই হয় নি……!
নুসরাতের বুকটা ধ্বক করে উঠলো,,,,
"বউ বরযাত্রী" কি হচ্ছে এসব,,,নুসরাতের নিজেকে পাগল পাগল লাগছে……
আস্তে আস্তে উঠে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতে দিলো মিলিকে……
-আপু তাড়াতাড়ি আয়নার সামনে আসো তো!
নুসরাতের অবস্থা এমন যে সে এখনি কান্না করে দিবে……
.
-বাবা! মাকে কি করে রাজি করালে,,,,
আরমান সাহেবকে প্রশ্ন করলো ইমন!
ইমনকে পাগড়ী পড়িয়ে দিতে দিতে আরমান সাহেব বললেন,,,
-সে কি নিজে রাজি হয়েছে না কি! বাধ্য করেছি রাজি করাতে! তোর মা টার জিদটা দিন দিন যে এতো বেড়েছে না!
-আচ্ছা বাবা তুমি উনাদের কি বলে রাজি করালে এতো তাড়াতাড়ি রাজি হয়ে গেলেন!
-তোর বাবাকে কি এতই আকাইম্মা ভেবেছিস যে এই ছোট্ট কাজটা করতে পারবে না! আর রাজি করানো তেমন কোন বড় কাজ নয় বুঝলি,,
আমি গিয়েছি আশরাফের দোহাই দিয়েছি আর বলেছি মেয়েটা অনেক সুখে থাকবে!
-ব্যাস এই রাজি হলে গেলেন?
বাবাকে পালটা প্রশ্ন করলো ইমন……
-আরে না!
-তাহলে?
-উহু এখন চল তো পরে বলবো ……
এই কথা বলে আরমান সাহেব ছেলের দিকে তাকিয়ে রহস্যময়ী হাসি দিলেন,,,
বাবার হাসির দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিলো ইমন……
.
নুসরাতের সামনে কাজি সাহেব বসে আছেন,,,
নুসরাত যেন একটা ঘোরের মাঝে আছে,,,সবকিছু তার কাছে স্বপ্ন লাগছে……
-বলো মা কবুল!
কারো কন্ঠ শুনে নুসরাত স্তম্ভিত ফিরে পেলো……
এখনো সবকিছু ধোঁয়াশা লাগছে নুসরাতের কাছে,,,
নুসরাত আজ অনেক সুন্দর করে সেজেছে,,,কিন্তু সেই সাজটা নুসরাত সেই অপরূপ রূপটা কারো চোখে ঘুচোর হচ্ছে না……
নুসরাতের পড়নের ভাড়ি কাপড় গহনা সব আড়ালে করে তার উপড়ে পবিত্র কাপড় বোরকাটা পড়ে নিয়েছে,,,
এইকাপড়টা পড়লে নুসরাত নিজেকে অনেকটা পবিত্র মনে করে,,,,এই কাপড়টাতে যেন আছে পবিত্রতার ছোঁয়া!
.
অবশেষে নুসরাতের বিয়েটা হয়ে গেলো……
কিন্তু নুসরাত এখনো তার জীবনের সেই কাঙ্খিত পুরুষটাকে দেখেনি!
কবুল বলার সাথে সাথে নুসরাতের বুকটা যেন হাহাকার করে উঠলো,,,,
এই ঘর এই বাড়ি এতো স্মৃতি এতো আপনজন রেখে সে আজ অচেনা অজানা জায়গা অচেনাজীবনের পথে যাত্রা করতে যাচ্ছে!
নুসরাতের বুকটা যেন ধুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে……
সে চলে গেলে কি হবে এই পরিবারের? বাবাকে দেওয়া কথাটা কিভাবে পূরণ করবে সে? মাকে "সুখের সন্ধান" দিবে কি করে?
এরকম হাজারো প্রশ্ন এসে নুসরাতের মাথা দলপাকাতে লাগলো……
=================
😍😍😍😍😘😘😘😘
#চলবে_ফ্রেন্ডস...........?
ভুল ক্রটি ক্ষমার চোখে দেখবেন। আর কেমন হলো জানাবেন,
আপনাদের ভাল লাগার উপর নির্ভর করে,গল্পের #পরবর্তী_পর্ব পোস্ট করা হবে।
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label