নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

গল্প কাজের মেয়ে যখন বউ

গল্প কাজের মেয়ে যখন বউ
লেখক:- মো.নীল চৌধুরী
আমি  সাব্বির, আজ অনেক দিন পর বাড়িতে আসলাম।
বাসায় এসে কলিংবেল বাজানোর পর.......
-আসসালামু আলাইকুম(অপরিচিত মেয়ে)
-ওয়া আলাইকুম আসসালাম(আমি)
-ব্যাগ টা দেন
-কে তুমি?
-ওর নাম নীলা(মা)
-ওহ
-হুমম এখন ফ্রেস হয়ে বস পরে সব বলব
-আগে বলো তুমি আর বাবা কেমন আছো?
-হুমমম পাগল সবাই ভালো আছে, নীলা এক গ্লাস সরবত
বানিয়ে নিয়ে আয়।
-আচ্ছা খালাম্মা(ওর নাম নীলা)
-মা এই মেয়েটা কে?
-তোর নানির বাড়ির, ওর আপন বলতে ওর বাবা ছিলো
কয়েকদিন আগে উনি মারা গেছে তারপর ওরে আমাদের
বাসায় নিয়ে আসলাম।
-মা তুমি কি যে করো।
এইভাবে অপরিচিত মেয়ে আনা ঠিক নাহ
-আরে পাগল এটা তোর নানার বাড়ির।
-হুমম বুঝলাম
-হুমম মেয়েটা ও অনেক লক্ষী
-হয়ছে বাদ দেও এবার।
খাবার খেয়ে রুমে এসে ঘুম দিলাম।
বিকালে দরজা বার বার নক করতাছে তখন দরজা খুলে....
-ঐ মাইয়া কি হয়ছে?(আমি)
-ভাইয়া রুম মুছবো(নিলা)
-দেখতাছো রুম খুলি নাই তা ও বার বার কেনো নক
করতাছো?
-চুপ
-যাও এখান থেকে
ও মন খারাপ করে চলে গেছে, আমি আবার ঘুমের দেশে
ভ্রমন করলাম।সন্ধ্যায় ঘুম থেকে উঠে মারে খুজতে খুজতে
ওর রুমে গিয়ে দেখি ও কান্না করতাছে আর চোখগুলে
লাল হয়ে আছে।
মনে হয় খুব কান্না করছে।
-কান্না করো কেনো?(আমি)
-না তো ভাইয়া(নিলা)
-তাহলে চোখ লাল হয়ে আছে কেনো?
-চোখে পোকা পড়ছিলো তুই লাল হয়ে আছে।
-তুমি কি আমারে অবুঝ পাইছো যে যা বলবা তা-ই
বিশ্বাস করবো।
-চুপ হয়ে আছে
-স্যরি
-না না ভাইয়া, আমি তো এমনিতে মন খারাপ করে রাখছি
কারন মা বাবার কথা মনে পরছে তাই
-আমি মিথ্যা কথা শুনতে পছন্দ করি না
-আসলে
-হয়ছে এখন ফ্রেশ হয়ে পড়তে বসো।
-ওকে
আপনাদের বলতে ভুলে গেছি,
নিলা ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ালেখা করে।
অনেকদিন পর বন্ধুদের পেয়ে আড্ডা দিয়ে ১০ টার দিকে
বাড়িতে ফিরলাম ।
-এতো রাত করে আসলি কেনো?(মা)
-মা অনেকদিন পর বাড়িতে আসা তাই বন্ধুরা ছাড়ে নাই।
-হুম ফ্রেশ হয়ে খেতে আয়
-ওকে
খাওয়া-দাওয়া শেষ করার পর......
-বাবা নিলা অনেক্ষন হয় একটা অংক মিলাতে
পারতাছেনা, তুই যদি একটু হেল্প করতি
-ওকে, কোথায়?
-ওর রুমে
-ওকে
ওর রুমে গিয়ে দেখি রুমটা অনেক গুছালো,ঠিক ওর মতোই।
ওর মতো কেনো বলছি??
ও দেখতে অনেক সুন্দর, যে কেউ দেখে ওর প্রেমে পড়তে
পারে।ও যখন সন্ধ্যায় কান্না করছিলো তখন ওর চোখের
কাজলগুলো লেপ্টে গিয়ে কেমন যেনো এক অদ্ভুত সুন্দর
লাগতে ছিলো।
আমি আসতে দেখে ও বসা থেকে দাড়িয়ে.....
-ভাইয়া বসেন(নিলা)
-আরে বসো বসো
-না আপনি বসেন
-হুমম বলো কোন অংকে সমস্যা?
-ভাইয়া এই অংক টা
-ওকে দাও
অংকটা বুঝিয়ে দেওয়ার পর...
-ভাইয়া ধন্যবাদ
-হুমম ধন্যবাদের কিছু নাই,এখন খেতে আসো।
-ওকে ভাইয়া আসছি।
ও অন্য দশটা কাজের মেয়ের মতো নাহ।আগেই বলছি ওর
কেউ নাই তাই আমাদের বাসায় নিয়ে আসছে।বাসার
কাজ ও আর মা মিলে করে, আর পড়ার সময় পড়তে বসে।
আমি গোছল করে, তোয়ালে পড়ে বের হইছি,,, তখনি সামনে দেখি নিলা।। সে আমার ঘরে এসেছে।।।আমাকে দেখেই নিলা বলে।
-স্যরি(নিলা)
-কেনো?
-না কিছুনা এমনিতে বলে দৌড় দিয়ে রুম থেকে চলে
গেছে , ওর মুখে স্পষ্ট লজ্জার ছাপ বুঝা যাচ্ছে। ওর
অবস্থা দেখে আমার হাসি উঠে গেছে।
আসলে আমার রুমে কেউ প্রবেশ না।
প্রবেশ করলেও নক করে প্রবেশ করে,কিন্তু গ্রামের
মেয়ে তো তাই হয়তো এমন ভুলগুলো করতাছে।
সকালে উঠে ব্রাশ করে দেখি ও মাকে নাস্তা বানাতে
হেল্প করতাছে।
ওর সাথে চোখাচোখি হওয়ার হাসি দিয়ে আবার নিচের
দিকে চেয়ে রয়ছে।
নাস্তা শেষে
-বাবা ওরে একটু কলেজে দিয়া আয়।
-ও কি এতোদিন কলেজে যায়নি?
-যায় কিন্তু বখাটে ছেলেরা নাকি ওর পিছনে নেয়।
-ওহহ
-হুমম তাই বলছিলাম কি ওরে যদি কলেজে নিয়ে যেতি
তাহলে ভালো হত।
-আচ্ছা,মা বাইকটা বের করি?
-না না বাইক ছাড়া যাবি।
-কেনো?
-৭-৮ মাস আগে হাত ভাঙ্গছিলো, সেটা কি ভুলে
গেছোছ?
-ঐ সময় তো আমি আমার জায়গা দিয়েই যাচ্ছিলাম তখন
ট্রাক চালক এসে আমার বাইকে ধাক্কা লাগিয়ে দিছে।
-হয়ছে এখন চাপা মারা লাগবোনা।রিক্সা দিয়ে যা
-তাহলে আমি পারবোনা
-আচ্ছা বাইক নিয়ে যা তবে খুব সাবধানে চালাবি বাবা।
-ওকে মা, তুমি পৃথিবীর শ্রেষ্ট মা
-হয়ছে এখন আর পাম্প দেওয়া লাগবে না।
-পাম্প না তো
-ওকে এখন ওরে নিয়ে কলেজে দিয়ে আয়।
-ওকে,আসো(নিলা উদ্দেশ্যে)
-বাইকটা বের করে দেখি সবই ঠিকঠাক আছে,তেল ও
আছে
-উঠে পিছনে বস
-কিভাবে উঠবো?
-বাংলা মুভি দেখোনা?
-হুমম একটু একটু
-নায়কারা যেভাবে উঠে যায় তারাতারি উঠে বসে যাও
-আমি কি নায়কা নাকি?(মাথা নিচের দিকে দিয়ে, এখন
ও কালকের লজ্জা মাখা হাসিটা দিতাছে)
-নায়কার চেয়ে কম কিসে।
-সাব্বির ভাইয়া এখন কিন্তু ভালো হবে না
-আচ্ছা আচ্ছা উঠে বসো
-হুম আপনি স্টার্ট দেন
ওরে পিছনে নিয়ে প্রথমই একটু জুড়ে টান দেওয়াতে ওর দুই
হাত দিয়ে আমার কোমরে জড়িয়ে ধরছে আর বলছে
ভাইয়া ভাইয়া আস্তে চালাও আমার ভয় করছে।
-আরে আস্তেই তো চালাচ্ছি।
-আরো আস্তে চালান
-ভয় পাও?
-হুমমম
-আমি থাকতে এতো ভয় কিসের?
-আপনি আছেন তার জন্যইতো ভয় করতাছে
-কিহহহহহ
-হুমম, আস্তে চালান আর না হলে খালাম্মার কাছে
বিচার দিমু
-কি বিচার দিবা?
-বলমু আপনি আমারে নিয়ে এতো জুড়ে জুড়ে বাইক
চালাইছেন।
-হি হি হি তাহলে মা কিছু বলবে না
-তাহলে বলবো ,, একটা ট্রাক এসে প্রায় মেরে দিছিলো..........
চলবে

কাজের মেয়ে যখন বউ
পর্ব:২
-তাহলে বলবো ,, একটা ট্রাক এসে প্রায় মেরে
দিছিলো..........
--কি মিথ্যা বলবা কেনো,,,
--এমনেই, কারণ আপনি অনেক জোরে বাইক
চালাইতাছেন।।।।আর জোরে বাইক চালাই খারাপ
ছেলেরা।।।
-কি আমি খারাপ?
-একটু একটু খারাপ
-কেনো?
-ঐদিন আমাকে এমন ভাবে ধমক দিলেন কেনো?
-আরে ঐদিন ঘুমের ঘোরে ছিলাম তাই
-হুম জানি, আপনি ইচ্ছা করেই আমাকে ধমক দেন।
-ওকে আর ধমক দিবো না
-হি হি ওকে
-আবার হাসার কি হলো?
-কিছুনা
-হুম সামনে কলেজ আসছে নামো
-হুম নামতাছি
-আমি কি কলেজ শেষে আসব?
-আসলে ভালো হয়,আমার ঐ ছেলেগুলোরে দেখলে কেমন
জানি লাগে
-কেমন লাগে?
-বখাটের মত
-ওকে এখন ক্লাসে গিয়ে ক্লাস করো।
-ওকে
-ওকে বাই
-এই শুনেন
-কি?
-সাবধানে যাবেন কিন্তু,আর হ্যা আস্তে আস্তে চালিয়ে
যাবেন
-ওকে বাই
-বাই
বাড়িতে এসে শুয়ে থাকলাম, কতক্ষণ পরে.....
-সাব্বির (মা)
-হ্যা মা বলো
-নিলার কলেজ ছুটি হয় দুইটা বাজে
-ওকে তাহলে আর কতক্ষন পরে বের হবো
-না এখনি যা
-যেভাবে বলো যেনো নিজের কোনো আত্মীয় হয়
-হয় নাই হবে
-মানে?
-কিছুনা এখন ওর কলেজে যা
-ওকে যাচ্ছি
-হুম সাবধানে যাস, তোরা আসলে খেতে বসব
-ওকে মা
ওর কলেজে গিয়ে দেখি ছুটি হয়ে গেছে।ও কোথাই যে
গেলো?
কতক্ষণ খোজাখুজির পর কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখি
বারান্দাতে বসে আছে।
ও আমাকে দেখার সাথে বাচ্চা মানুষের মতো নাক
ফুলিয়ে মুখ অন্যদিকে নিয়ে গেছে।
- ঐ আসো
-না আমি একলা যেতে পারি এই বইলা হাটা শুরু করছে
-আরে উঠো
-না
-বলছি উঠতে
-আবারো ধমক দিয়ে কথা বলেছেন।
-আমিতো ২.১০ এ আসছি,রাস্তায় জ্যাম ছিলো তাই লেইট
হয়ছে
-ওকে
বাইকে করে বাসায় নিয়ে আসলাম
-কিরে মা আজ কেমন লাগছে?(মা)
-হুম মা ভালোই লাগছে, আজকে আর ওরা কেই পিছু
নেয়নি।
-হুম এর জন্যই তো সাব্বিরকে পাঠালাম
-মাহহহহ আমি এখানে ওর সেক্রেটারি হয়ে গেলাম?
(আমি)
-কিভাবে?
-ঐ যে ছেলেরা যেনো ডিস্টার্ব না করে তার জন্য
আমাকে পাঠায়ছো।
-বেশি বুঝবিনা বলে দিলাম,যা গোসল করে আয়।
রুমে এসে কতক্ষন রেস্ট নিয়ে গোসল করে হেডফোন দিয়ে
হাই-বলিউমে গান শুনতাছি।
হঠাৎ একটা আপেলের টুকরা আমার উপরে এসে পরল
তখন মুখ ফিরিয়ে দেখি ও হাসতাছে তখন ঠিক ইড
শেরানের পারফেক্ট গানের নায়িকার মতো অনেক
কিউট লাগতাছে।
-স্যরি(নিলা)
-কেনো(আমি)
-আপনাকে মনে হয় ১০ টার বেশি ডাক দিছি তাও শুনেন
নাই তাই ডিল দিছি।
-তাহলে রুমে এসে ডাক দিলানা কেনো?
-আপনি আমাকে বলছেননা যেনো কারো অনুমুতি না
নিয়ে রুমে না ডুকতে
-হা হা হা
-হাসেন কেনো?
-তাই বলে আপেলের টুকরা দিয়ে ডিল দিছো?
-হু
-এর জন্য হাসি পাইতাছে
-বেশি হাসলে দাত পরে যাবে
-আচ্ছা হাসবোনা
-হুমম এখন আসেন, মা অপেক্ষা করতাছে।
-ওকে চলো
খেয়ে রুমে এসে ওরে নিয়ে ভাবতে লাগলাম।ওর আমরা
ছাড়া আর কেউ নাই তাও কিভাবে হাসিমুখে থাকে।
আসলেই ও অনেক ভালো,আর নামাজ ও পড়ে।
আমি এতদিন যার অপেক্ষায় ছিলাম এটাই কি সেই
মেয়ে।
কি অদ্ভুত আবার থুতুনির নিচে তিলটাও অনেক সুন্দর
লাগে।
ওরে আমাদের ঘরে একবারে রেখে দিলে কেমন হয়?
ভালোই হবে, ও তো মেয়ে হিসেবে অনেক ভালো এবং
ধার্মিক ও।
এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে গেলাম তা নিজেই
জানিনা।
ঘুম থেকে উঠে দেখি বিকাল ৪.৩০ এর মতো বাজে।
উঠে ফ্রেশ হয়ে ওর রুমে ছাদে গেলাম , গিয়ে দেখি
ছাদের এক কোনে কান্না করতাছে।
-নিলা(আমি)
-চমকে গিয়ে বলল জি হ্যা বলেন(নিলা)
-কান্না করো কেনো?
-এমনি
-হাতে এটা কি?
-ছবির ফ্রেম
-দেখি কার ছবি এই বইলা হাতে নিয়ে দেখি ওর মা বাবা
আর ওর এক ফ্রেমে তোলা ছবি। এই মা-বাবা গত হয়েছেন
তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করো যেনো তারা
জান্নাতে যেতে পারে।
-হুম করি তো(কান্না করে করে)
-মা-বাবার কথা কি খুব মনে পড়ছে?
-হুম মা বাবারে অনেক মিস করতাছি।
-আচ্ছা এখন রুমে আসো, এই বলে ওরে রুমে নিয়ে আসছি।
কয়েকদিন পর এভাবে চলার পর একদিন বিকালে দেখি
ছাদের এক কোনে বসে আছে।
তখন ওর পাশে গিয়ে.......
-নিলা(আমি)
-হুম বলুন
-একটা কথা বলি?
-হুম বলার জন্যইতো বললাম।
-বলব?
-না বললে এখানে বসে থাকেন আমি যাই কাজ আছে
-কি কাজ?
-অনেক কাজ আছে
-কাজ করা লাগবেনা
-আমি এই বাড়ির কাজের মেয়ে, বাড়ির বউ না যে
বিকালে বসে থাকবো
-যদি বলি বউ
-মানে?
-নিলা আমি ঘুরিয়ে পেচিয়ে কিছু বলতে পারিনা,
ডিরেক্ট বলতাছি "আমি তোমাকে ভালোবাসি"
-করুনা?
-না
-তাহলে?
-সত্যিই এই কয়দিনে খুব ভালবেসে ফেলেছি
-এটা ভালোবাসা না
-তো কি?
-এটা সম্পূর্ণ করুনা
-একদম না
-আমি এই বাড়ির কাজের মেয়ে , আমার সাথে কিভাবে
আপনায় যায় বলেন?
-আমার তোমাকেই লাগবে, তোমাকে ভালোবাসছি
তোমাকেই বিয়ে করবো।
-হা হা হা আমাকে আপনি বিয়ে করবেন?আমি তো
কোনো এক রিক্সাওয়ালার বউ হব,বাই আর হ্যা আপনি আর
আমার সামনে আসবেননা।
-ওর হাতটা ধরে,নিলা প্লিজ আমাকে বুঝার চেস্টা করো
-আপনাকে বুঝার জন্য আশে পাশে আরো অনেক মেয়ে
আছে।
-সত্যিই খুব ভালোবাসি।
-হাত ছারেন
-না আগে হ্যা বলো
-হাত ছারেন
-বলছিতো উত্তর দেও
এরপর যা করলো তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম
না............
to be continued
যদি কেউ আমারর গল্প পড়তে পড়তে, পার্ট খুঁজে না পাও,, তাহলে সেটা আমাকে জানাবে, আমি লিংক দিয়ে দিবো।।।।

৩, ৪ একসাথে

কাজের মেয়ে যখন বউ
পর্ব:-৩+৪
লেখক:- মো.নীল চৌধুরী
-সত্যিই খুব ভালোবাসি(আমি)
-হাত ছারেন(নিলা)
-না আগে হ্যা বলো
-হাত ছারেন(রাগি মুখে)
-বলছিতো উত্তর দেও,এরপর হঠাৎ যা করলো তার জন্য
মোটেও প্রস্তুত ছিলাম নাহ।
হ্যা আশা করি নাই ও আমাকে একটা থাপ্পর দিবে।
যেই আমাকে মা-বাবা পর্যন্ত হাত তুলে নাই সেই শরীরে
আজ পছন্দের মানুষটা আঘাত করে চলে গেছে।অজান্তেই
চোখ দিয়ে কয়েক ফোটা পানি জড়ে পরলো।জীবনে
কোনো মেয়েকে ভালোবাসি নাই শুধু মনের মতো একটা
পাগলির দেখা পাই নাই বলে। আর এমন একটা মেয়ে
পাইছি সেও ভুল বুঝে চলে গেল।
এসব ভাবতে ভাবতে রাত ঘনিয়ে এল
সন্ধ্যার পর রুমে গিয়ে দরজা লক করে উচ্চ সুরে গান
লাগিয়ে দিছি কিন্তু ঐ কাহিনীটা বার বার কল্পনায়
আসতাছে।
এসব ভাবতে ভাবতে রাত ১১.০০ টা বেজে গেছে।
গান ও ভাল্লাগেনা, গান বন্ধ করে বসে আছি এমন সময় মা
ডাকতেছে...
-সাব্বির(মা)
-কি হয়ছে?
-দরজা খুল
-হুমম বলো
-খেতে আয়
-না আমি খাবো না
-কেনো?
-এমনি ক্ষিদা নাই
-বাহির থেকে খেয়ে আসছিস?
-না
-তাহলে ক্ষিদা নাই কেনো?
-এমনিতে
-বাবা কিছু কি হয়ছে?
-না
-তাহলে এভাবে মন খারাপ করে বসে আছিস কেনো?
-ভালো লাগতাছেনা
-আচ্ছা আমি খাইয়ে দেই?
-বলছি তো খাবো না
-নিলা(মা)
-জি খালাম্মা
-টেবিল থেকে ভাত আর তরকারি নিয়ে আয়
-আচ্ছা
-আমি বলছিতো খাবো না
-খেতে হবে
-নেন খালাম্মা(নিলা)
-আমি তোমাকে সোজা বাংলায় কথা বলি বুঝোনা?
-বাবা তুই এভাবে কথা বলস কেন?
-মা প্লিইইইইজ খাব না
-ওকে ঘুমিয়ে পর
অতঃপর দরজা লাগিয়ে শুয়ে আছি। সারারাত ঘুম
আসেনি। সকাল সকাল উঠে ছাদে গিয়ে বসে আছি এমন
সময় কি কাজে যেনো ছাদে উইঠা চোখে চোখ পরার পর
দেখি ও কান্না করে নিচে চলে গেছে।
ও যা মন চাই করুক, আমি ওরে ভালোবাসি কিন্তু ও তো
আমাকে ভালোবাসে নাই।কতক্ষণ পর নিচে গিয়ে দেখি
মা খাবারের টেবিলে অপেক্ষা করতাছো তখন আমি
আমার রুমে প্রবেশ করে বসে আছি।
-সাব্বির বাবা তোর কি হয়ছে?
-আমার কিছু হয় নাই
-আমরা তোকে কিছু বলছি?
-আমি বলছি?
-না
-তাহলে এত এডভান্স কথা কেনো বলো।
-নে খেয়ে নে
-আমি খাব না
-আমি আর তোর বাবা মরলে খুশি হবি?
-কি সব আবোলতাবোল বলো।
-তোর বাবা আজ আসছে
-কেনো?
-কি অনুষ্ঠান যেন করবে
-ওহ ভালো
-এখন খেয়ে নে, না হলে আমিও আর খাব না
-তুমি কেনো খাবানা?
-এমনিতে
-আচ্ছা খাইয়ে দেও
-এইতো আমার লক্ষী ছেলে
খেয়ে রুমে শুয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে গেলাম,
কারন মন যতই খারাপ হউক ঐ কলিজার বন্ধুগুলো মন ভালো
করে দেই।
ওদের সাথে আড্ডা দিয়ে এসে দোখি বাবা আসছে।
-বাবা কেমন আছো?(আমি)
-হুমম বাবা ভালো, তুই কেমন আছোছ?
-হুম ভালো
-বস
-হুমম বলো
-কাল আত্মীয়স্বজনরা আসবে
-ওহহ মা বলছিলো
-হুম
অনুষ্টানের দিনে দেখি প্রায় সব আত্মীয় রা-ই আসছে।
হঠাৎ চোখ যায় মিলির উপর।মিলি আমার খালাতো বোন,
ও আমাকে অনেক আগে থেকেই পছন্দ করে। ও অনেকবার
প্রপোজ করছিল কিন্তু রাখি নাই। আজ ওরে দিয়া একটু
গেইম খেলি দেখি কি হয়।
-সাব্বির কেমন আছো?(মিলি)
-হুম ভালো, তুমি?
-হুম ভালো, আসো তোমার সাথে কথা আছে এই বলে ও
আমার হাত টেনে নিলার সামনে দিয়ে আমার রুমে ডুকে
দরজা ভেতর থেকে লক করে এসে বলে
-ভালোবাসি
-কাকে(আমি)
-শুধু তোমাকে
-ওহহ
-হুমম তুমি ভালোবাস না?
-না
-কেনো আমার মাঝে কি নাই?
-সব আছে
-তাহলে আমার প্রেমে কেনো সারা দিচ্ছ না
আচ্ছা আমি ভেবে দেখবো এখন যাও আমার কাজ আছে
-কি কাজ
-মেহমানদের দেখাশোনা করা লাগবে
-ওহ আচ্ছা
-হুমমম
সন্ধ্যায় মিলি আর আমি ছাদের মধ্যে.....
-আমি তোমাকে ভালোবাসি এটা কি বুঝোনা?
-হুমম
-তাহলে সারা দেও না কেনো?
-এমনি বাই বলে হাটা শুরু করছি তখনই মিলি আমাকে
পিছন থেকে জড়িয়ে ধরো বলতাছে লাভ ইউ, ঠিক তখনই
সামনে তাকিয়ে দেখি নিলা ।নিলা আমাকে আর
মিলিকে এভাবে দেখার সাথে সাথে...........


কাজের মেয়ে যখন বউ
পর্ব:৪
লেখক:-মো.নীল চৌধুরী
-মিলি আমাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলতাছে লাভ
ইউ,ঠিক তখনই সামনে তাকিয়ে দেখি নিলা।নিলা
আমাকে আর মিলিকে দেখার সাথে সাথে মন খারাপ
করে না দেখার ভান করে ছাদ থেকে নেমে গেছে।
-মিলি(আমি)
-হুমম বলো(মিলি)
-একটা কথা বলি?
-হুম বলো
-মন খারাপ করবিনা তো?
-না বলো
-কছম কর
-ওকে কছম
-আমি নিলারে ভালোবাসি,ওরে ছাড়া আমি শূন্য হয়ে
যাবো
-তুমি ওরে ভালবাসো?
-হুম শুধু ভালবাসি না অনেক অনেক ভালবাসি, ওরে ছাড়া
আমি থাকতে পারবনা , প্লিজ মিলি তুই এটাতে একটু
সাহায্য কর প্লিজ
-আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি
-আমি যে ওরে খুব ভালবাসিরে
-তাহলে আমার কি হবে?
-প্লিজ আমারে একটু সেক্রিফাইস কর
-ওকে(কান্না করে)
-প্লিজ তুই এইভাবে কাদিস না, মিলি তুই বিশ্বাস কর ওরে
আমার জীবন থেকেও বেশি ভালবাসি।
-ওকে যাও, ভালবাসা তো আর জোর করে পাওয়া যায় না।
যদি জোর করে বা অন্য কোন উপায়ে পাওয়া যেতো
তাহলে তোমাকে আমার করে নিতাম ।
-তুই অনেক ভালো ছেলে পাবি
-পাওয়া লাগবে না বাই
-বাই

কতক্ষণ পর রুমে যাইতাছি ঠিক তখন নিলা সামনে পরছে ,
সামনে পরতেই আমার দৃষ্টি ওর চোখে পরল, মনে হয়
অনেক কান্না করছে নাহলে চোখ কেন লাল হবে?
সেদিনের মতো রাতটা এভাবে ভাবতে ভাবতে কেটে
গেলো।
আর সারা রাতে একটা চিঠি লিখছি,
চিঠিটা ছিল এইরকম

প্রিয় নিলা
হঠাৎ চলার পথে এক একটা মুখ একেবারে বুকের মধ্য গেঁথে
যায়।এটা কেবল সৌন্দর্যের জন্য না।আর একটা কি গুন
আছে-বোধ করি সচ্ছতা।এই মুখ হাজার মানুষের ভিড়েও
চোখে পরে।সবচেয়ে বড় কথা হলো আমি তোমাকে
আবিস্কার করেছি একটু একটু করে।মনের চোখ দিয়ে
তোমাকে দেখেছি।মন বলে,পরীর দেশ থেকে একটা পরি
এসে আমাকে পৃথিবীর ধুলো বালি থেকে আচঁল দিয়ে
ডেকে রাখার জন্য।তোমার মুখে কি দেখেছিলাম কে
জানে!
ফলে যা হবার তাই হলো-আমি মুহূর্তেই তোমাকে
ভালোবেসে ফেললাম।
বস্তুত ভালোবাসার মধ্য কোনো অপরাধ আমি দেখি না।
কারন এতে মানুষের কোনো হাত নেই।কেমন একটা ইচ্ছায়
অনিচ্ছায় হয়ে যায় আল্লাহতালা ভালো বলতে পারবেন।
ইংরেজীতে যাকে বলে-Love is the gift of God.তাই শাস্তি
আমাকে না দিয়ে তাকেই দিও!!শুধু আমারটা আমাকেই
বুঝিয়ে দিলেই হবে।
আসলে ভালোবাসাহীন জীবন অনেকটা পিথাগোরাসের
গানিতিক তও্বের মতো রসকষহীন।আর ভালোবাসায় ভরা
জীবন হচ্ছে-ভিঞ্চির মোনালিসার মতো রোমান্টিক
জীবন।কিটসের কবিতার মতো মধু ভরা মৌচাক।শুধু মাত্র
ভালোবাসার মাধ্যমেই সব স্বপ্ন সত্যি করা যায়।
আচ্ছা মানুষের মন কি কোয়ান্টাম মেকানিক্স এর মতো
জটিল?আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি।এখন যদি
পৃথিবীর সবচেয়ে রুপসী কন্যা এসে "I Love you"বলে আমি
সবিনয়ে অপারগতা জানাবো।বোকার মতো অনেক কিছু
লিখে ফেললাম।এতো কিছু লেখার অধিকার হয়তো
আমার নেই।তারপরও নিজেকে বাচানোর জন্য লিখতে
হলো।কথাটা আরো গুছিয়ে বললে যা দাড়ায় তা
হলো-"আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না"
ইতি
তোমার উপর অধিকার না পাওয়া অপদার্থ

সকালে উঠে প্রথমই কুত্তিটারে দেখছি, ও কত্তো
গুছালো। ওরে দেখলে কেন এতো ভাল্লাগে।
ও আমাকে এমন আকর্ষন করে কেন?
ও যখন ওয়াশ রুমের দিকে গেছে তখন ওর টেবিলে চিঠিটা
রেখে আসলাম।
এভাবে দুপুর পর্যন্ত গেল।
দুপুর গিয়ে বিকেল হলো তখন দেখি ও ছাদে যাচ্ছে ।
তখন আমিও পিছন পিছন গেলাম, ওর পিছনে গিয়ে
দাড়িয়ে....
-নিলা(আমি)
-চুপ হয়ে আছে
-এই নিলা
-কি হয়ছে?
-চিঠিটা দিয়েছিলাম,পাইছো?
-হুমম
-যদি চিঠির উত্তরটা দিতে তাহলে খুশি হতাম।
-কোন উত্তর নাই
-কেন?
-এমনি
-সত্যিই উত্তর নাই?
-হ্যা আছে
-হুমম প্লিজ তারাতারি বলো
-কয়টা প্রেম করেন?
-এখন ও করি নাই
-তাহলে মিলি
-মিলিরে আমি বোনের চোখে দেখি
-তাহলে কাল যে এতো মজা করে জড়িয়ে ধরছেন
-ও আমাকে ধরছে আমি ধরি নাই
-ও
-হুম সত্যি ওর সাথে আমার কিছু নাই, আর অবিশ্বাস হলে
ওরে ডাক দেই?
-দরকার নেই
-তাহলে
-প্রেমের আগে বিয়ে করতে পারবেন?
-মানে?
-মানে খুব সোজা, আগে বিয়ে তারপর প্রেম।
-তার মানে রাজি?
-আমি কি রাজি বলছি নাকি?
-এটা রাজির লক্ষন
-খুব ভালোই তো অভিজ্ঞতা আছে দেখছি
-হুম তোমার হবু স্বামী
-চুপপপপ
-ওকে
-হুমম এখন নিচে গিয়ে নামাজ পরবেন, নাহলে সব বাদ
-এই কথা শুনে খুশিতে ওরে জড়িয়ে ধরছি
-এই এই রাখেন,
নিলা মুখে বললেও আমার জড়িয়ে ধরা থেকে হাত
ছাড়াতে কোনো কিছু করছে না।
-হুমম বলো
-আমি ঐদিনের ঘটনার জন্য স্যরি!!
-স্যরি কেন?
-ঐযে রাগের মাথায় হাত উঠালাম
-ইটস ওকে
- ঐদিনের পর থেকে আপনাকে ভালোবাসতে শুরু করছি
কারন শাশুড়ি মা নাকি অনেক আগে থেকেই রাজি
-মানে?
-হুম মা আমাকে সব বলছে, আর বলছে আপনারে যেনো
ঠিক করি
-সত্যি?
-হুমম সত্যি
-এই আরেকটু জড়িয়ে ধরি?
-লাগবেনা, ঐ মিলিরে ধরেন
-মিলিরে বোনের মতো ধরবো আর তোমাকে বউয়ের মত।
-তা-ও মিলিরে জড়িয়ে ধরবেন?
-আরে না
-এখনই তো বলছো স্যরি বলছেন
-তোমাকে জড়িয়ে ধরবো সারাক্ষণ আর হ্যা এখন থেকে
সর্বদা তুমি করে বলবা
-ওকে
-হুম বলে ওর কাদে হাত দিয়ে ছাদ থেকে নামার সময়
দেখি মা সামনে..........
চলবে

কাজের মেয়ে যখন বউ
পর্ব:৫ম /শেষ পর্ব
লেখক:- মো.নীল চৌধুরী
-তা-ও মিলিরে জড়িয়ে ধরবা?
-আরে না
-এখনইতো বলছো
-তোমাকে জড়িয়ে ধরবো বলে ওর কাদে হাত দিয়ে কাছে
টেনে নিলাম।
কাদে হাত রেখে ছাদ থেকে নামবো ঠিক তখনি দেখি মা
সামনে......
-তাহলে এই ব্যাপার?(মা)
-(ওর কাদ থেকে হাত ছেড়ে)কি ব্যাপার মা?(আমি)
-তাহলে কি বৌমা পেয়ে যাচ্ছি?
-সম্ভাবনা আছে
-কিহহহহহহহ সম্ভাবনা মানে?(নিলা)
-সম্ভাবনা মানে কালকেই বিয়ে করব
-হু(নিলা)
-বাবা বিয়ে কালকে হচ্ছে না(মা)
-কেনো?
-তোর বাবার ছুটি কম
-ওহহ তাহলে আজকেই করে ফেলি?
-চুপপ অসভ্য, বিয়ে সামনের মাসে হবে
-এত দেরি কেন
-তুই আমার একমাত্র ছেলে তাই অনেক বড় অনুষ্টান করব
-ওহহ
-হুম এখন রুমে চল
রুমে গিয়ে বসে আছি আর এগুলো ভাবতাছি , তখন ভাবনার
ছেদ ঘটিয়ে নিলা রুমে আসলো আর সাথে একটা খাতা
আর বই।
-আসতে পারি(নিলা)
-এসেইতো পরছো আবার অনুমুতি নিচ্ছ
-হবু স্বামীর ঘরে ডুকতে বুঝি অনুমুতি লাগে?
-হুম আসো
-হাতা বই খাতা কেনো?
-এটাতো লোক দেখানো
-মানে?
-মানে হল আমার বাবুটারে দেখতে আসছি
-হুম বসো এই বলে আমার কোলে বসাইছি
-এই কি করছো
-কই কি করছি?
-কোলে নিলা কেন?
-আদর করবো বলে
-কি?
-হুম। ওরে আমার দিকে ফিরিয়ে কপালে ভালবাসার পরশ
একে দিলাম।আরেকটা দেওয়ার জন্য এগিয়ে
গেলাম তখন এই মিস্টার বাকিসব বিয়ের পর
-আসো এখন ঘুরতে নাম করে কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে
করে চলে আসি
-আহারে বাবুটার বুঝি আর সহ্য হয় না
-হয় না তো
-বিয়ের পর সব
-কি ?
-কিছুনা
-বলো
-এখন যাই মা ডাকতেছে এই বইলা দৌড় দিয়া চলে গেছে।
-রাতে খেয়ে ওরে নিয়া ভাবতেছি
আল্লাহ নিলা কত সুন্দর করে বানাইছে। যেসময়
হাসিটা দেয় তখন থুতুনির তিলটা আর গালের টোল টা
অদ্ভুত সুন্দর লাগে।
এমন ভাবতে ভাবতে রাত ১টার মতো দেখি ও আমার রুমে
চুপি চুপি আসতাছে,আমি ঘুমের ভান ধরে চোরা চাহুনি
চেয়ে রইছি।নিলা আমার কাছে আস্তে আস্তে এসে
কপালে একটা
ছোট করে কিস খাওয়া মাত্র ওর মাথায় ধরে একটা
দিয়ে দিছি।(আপনারা বুঝেনই তো কি দিছি আর না
বুঝলে পানি খেয়ে হাল্কা হিশু করে শুয়ে পরুন,বিকল্প
অপশন হিসাবে মুড়ি আছে, খেয়ে নিতে পারেন,)
-এই কুত্তা তুমি না ঘুমিয়ে ছিলা?
-বেডের পাশে থাকা সুইচটা দিয়ে লাইট জ্বালিয়ে
নিলাম
-এই লাইট অফ করো
-কেনো করবো?
-আমার বুঝি লজ্জা লাগেনা?
-ওরেএএ আনার জরিনা বেগমরে
-ঐ কি বলছো?
-কই কিছু না তো
-তুমি আমাকে জরিনা বললা কেনো?
-আরে জরিনা না তো কারিনা বলছি।
-সত্যি তো?
-আরে কারিনার সৌন্দর্য তোমার তিল আর টোলের
কাছে হেরে যাবে।
-হয়ছে আর পাম্প লাগবেনা
-আরে পাম্প না তো
-আচ্ছা এখন ছারো রুমে যাই
-এটা কি রুম নাহ?
-হুমম তবে আমার রুম না
-স্বামীর
-হুম বাট হবু স্বামী
-শুধু হবু আর হবু
-হুম রাগ করছো বাবু?
-নাহ আমি রাগ করি না
-রাগতো করছো এটা বুঝা-ই যায় এই বলে নিলা একটা চুমু
দিয়ে বুকে মুখ লুকিয়ে আছে
এভাবে চলতে চলতে বিয়ে হয়ে গেল (আলমগিরের মতো
গানে গানে বিয়ে করে ফেলা )
আজ, এখন আমি বাসর ঘরের সামনে।
বাসর ঘরে মানে আমার রুমে ডুকে দেখি চারদিকে ফুল
আর মাঝখানে আমার স্বপ্নের পরীটা বসে আছে।
রুমে ডুকার সাথে সাথে নিলা আমাকে সালাম করে.........
-এশার নামাজ পড়ছ?
-না
-এখন পড়ো
-এখন?
-হুমম আমি তোমার পিছনে বসে থাকি, প্রথমে এশার
নামাজ পড়বা তারপর দুইজনে দুই রাকাত নফল নামাজ
পড়ব।
-ওকে
দুইজনে নামাজ সম্পন্ন করে খাটে গিয়ে বসলাম।
-এই শুনো
-হুমম বলো
-আমার কিছু আবদার আছে, যা সবকিছু মানতে হবে
-আচ্ছা বলো
-প্রতিদিন তুমি আমাকে খাওয়া দিবে। যখন
অফিসে যাবা তখন আমাকে অনেকগুলো চুমু দিতে হবে।
সকালে নাস্তা বানানোর সময় তুমি আমাকে পিছন থেকে
জড়িয়ে ধরতে হবে না হলে নাস্তা বানানো হবে না
-হুম করবো তো
তারপর বলো
-অফিসে যাওয়ার পর আমি সারাক্ষণ ফোন করমু , না
করতে পারবানা।
-ওকে
-সন্ধ্যায় বাসায় আসলে আমাকে জড়িয়ে চুমু দিতে হবে।
আরর আসার সময় ফুসকা আনতে হবে
-হুম
-তারপরে শুয়ার সময় তোমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাবো।
-হুম বৌয়ের সব হুকুম ধার্য করা হলো।
-হুম,অই কাছে আসো এই বলে ওরে কাছে টেনে নিলাম
আর দুজনে মিলে আবদ্ধ ভালোবাসার পবিত্র বন্ধনে
-এই এই ওয়েট
অই আপনারা যান নাই।।
আরে এত্তোকিছু দেখা লাগে নাকি? এখন আমরা
ভবিষ্যত প্রজন্ম গড়ার লক্ষে সফর করলাম।
বুঝেননাই?
না বুঝলে সময় করে আইসেন উগান্ডার ভিসা ধরাই দিমু।।।। আর গল্পটা কেমন হলো বলবেন কিন্তু
।।।খারাপ হলেও বইলেন,।।।কারণ আপনাদের রুচি সম্পর্কে জানা উচিত আমাদের।।।।
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label