নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

চাচাতো বোনের অবহেলা ( সিজন ২)এক সাথে সব পার্ট

চাচাতো বোনের অবহেলা ( সিজন ২)
Golpo Sijon 2
চাচাতো বোনের অবহেলা ( সিজন ২) এক সাথে সব পার্ট
পর্ব:(০১)
লেখিকা: তিশা


_____
রাত নয় টা বাজে। আমি রাজ নির্জন  শহরের গলি দিয়ে একাই হেটে চলছি। আজ সামনে পা বাড়াতেও খুব ভয় হচ্ছে। ছয় মাস পর আজ জেল থেকে ছাড়া পেলাম আমি। বাসায় যাচ্ছি। জানি না আমার আপন মানুষ গুলো আমার সাথে কেমন ব্যবহার করবে। তবে এই টুকুনি জানি অনেক খারাপ ব্যবহার ই করবে। ছয় মাস জেলে থাকলাম কেউ খোজ নেয়নি আমার শুধু চাচা ছাড়া। আর কে ই নিবার আছে নিজের বউ তিশা ছাড়া। তিশা  আমাকে  ভুল  বুঝেছে সেটা আমি জানি।
তবে এই ভুল হয়তো কোন দিন আর ভাঙ্গবেও না। কারন আমার কাছে কোন প্রমান নেই। জেলে থেকে শুনেছি আমি বাবা হতে চলছি। তিশার গর্ভে আমার সন্তান।
 আর ভেবেছি তিশা রাগের মাথায় আমার সন্তানের কোনো ক্ষতি করে বসবে নাতো?

 হয়তো তিশা ওর সন্তান কে আমার সন্তান হিসেবে পরিচয় ই দিতে দিবে না। কথা গুলো ভাবতে ভাবতে বাসায় এসে গেলাম। দরজার সামনে দশ মিনিট ধরে দাড়িয়ে আছি কলিং বাজানোর সাহস হচ্ছে না। সাত পাচ না ভেবে অবশেষে কলিং বেল টা বাজালাম।

চাচি মা মানে আমার শাশুড়ি মা দরজা খুলে দিলেন। আমাকে দেখে মুখটা কালো করে চলে গেলো।

আমি চুপ করে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রইলাম। কিছুই বলতে পারছি না। চোখ দিয়ে পানি পরছে। খুব বলতে ইচ্ছে করছে মা আমি সেদিন কিছুই করিনি কেউ আমাকে ফাসিয়ে ছিলো। আর আমাকে আবির ই ফাসিয়ে ছিলো মা। কিন্তু বলতে পারছি না। একটা অজানা বাধা আমাকে আটকাচ্ছে।




আরে রাজ তুই কখন ছাড়া পেলি? । উপরে তাকিয়ে দেখলাম চাচা। চাচা আমাকে জরিয়ে দরলেন।

ভালো হইছে তুই এসেছিস যা ঘরে যা। তারপর ফ্রেস হয়ে আয় একসাথে খাবো কেমন।
হুমম।





আমি অনেকটা ভয় নিয়ে রুমে গেলাম। জানি না তিশা আমার সাথে কেমন করবে। আমি রুমে গিয়ে দেখি তিশা খাটের উপর বসে আনমনে কি যেন ভাবছে।।




কেমন আছো তিশা।

তিশা আমার দিকে তাকিয়ে এত গুলা বকা দিলো।




তুই আমার রুমে আসছিস কেন। ঐ ছোট লোকের বাচ্চা। তোর লজ্জা করে না। জেল থেকে এসে আমাকে তোর ঐ মুখ আমাকে দেখাতে??





তিশা আমাকে তুমি ভুল বুজতেছো ঐ দিন আমি কিছুই করিনি।( রাজ)




তুই একটা লুচ্চা ছেলে তুকে বিশ্বাস করে আমি অনেক বড় ভুল করছিলাম আর এখন তার মাশুল দিচ্ছি। তুই আমার চোখের সামনে থেকে দূর হ। তুকে আমি আর বিশ্বাস করতে চাই না।( তিশা)




তিশা আমাদের সন্তানের কথা টা একবার ভাবো তুমি।( রাজ)



ঐ একদম আমাদের সন্তানের কথাটা একবার ও বলবি ও শুধু তোর সন্তান আমার না। পাপ হবে বলে ওকে আজও বাচিয়ে রেখে চি। যেদিন ও পৃথিবীতে আসবে তুই তোর সন্তানকে নিয়ে চলে যাবি।( তিশা)





তিশার কথা শুনে আমি যেন আকাশ থেকে পরলাম। এমন সময় চাচি এসে যা বললেন জীবনেও ভাবতে পারিনি চাচি মা ও এমন কথা বলবে

পর্ব: (০২)



আমি তিশার কথা শুনে যেন আকাশ থেকে পড়লাম। আর চাচি মা এসে যা বললেন তা শুনার  জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।

_______________________
রাজ তুই?  তুই আমার বাসায় এসেছিস কেনো?  তোর মুখটাও আমরাও দেখতে চাই না। তুই আমাদের কাছে মরে গেসিছ। আমার মেয়ে বিধবা হয়ে গেছে। তুই বের হ আমার বাসা থেকে।



আমি চুপ করে দাড়িয়ে রইলাম। আমি সেদিন কোনো অন্যায় না করলেও সাজানোর নাটকের একটা নায়ক হয়েছিলাম। তাই চুপ করেই রইলাম। কিন্তু ঐ কথাটা  শুনতে খুব কস্ট হলো আমার মেয়ে বিধবা হয়ে গেছে। আসলেই আমি তিশাকে কস্ট দিয়ে ফেলেছি।

,

আমি সোফায় শুয়ে ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে চাচািমা ডেকে তুললেন। বললেন খেতে আয়। নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। ইনিই কি রাতে আমাকে বকা দিয়ে ছিলেন। ফ্রেস হয়ে নাশতা করে নিলাম।

,
,

আমার কোন কাজ নেই। সারাদিন বাসায় বসে আছি। তিশা আমাকে দেখলেই বকা দেয়।তাই তিশার সামনে যাচ্চি না। ছাদে বসে আছি।
,
,
,

ভাইয়া আমাকে কয়টা অংক করে দিবে?  কথাটা শুনে চমকে গেলাম। পিছন ফিরে দেখি তামিম। হুমম।যা আসতেছি।
,
,

তামিম কে অংক করাচ্ছিলাম কিন্তু অংক ও আর মিলাতে পারছি না। তারপর ওঠে আসলাম। একটু রুমে গোলাম। দেখলাম তিশা কিছু একটা খুজছে।


 কি খঁজছো তিশা?  আমাকে বলো আমি খুজে দিই।( রাজ)

,
,
,
এই ছোট লোকের বাচ্চা, লুচ্চা তুই আমার সাথে গা ঘেসে কথা বলতে আসবি না। তাহলে তোর খবর আছে।( তিশা)

,
,
,

তোমার এই ভাবে খুজতে কস্ট হবে তাই বলছি।এমন করে বকা দাও কেন হুম।আমি

আমার কষ্ট হলে তোর কি আয়ছে দরদ দেখাতে।( তিশা)

,
এবার আমার খুব রাগ হলো তাই বললাম। আমি তোমার কথা ভেবে আসিনি। আমি আমার সন্তানের কথাভেবেই আসেছি?( রাজ)
,
,
,

কি?  তোর সন্তান মানে?  ও শুধু আমার সন্তান। আমার সন্তানের দিকে হাত বাড়ালে তোর হাত আমি কেটে দিবো( তিশা)

,
,

এবার আমি খুব অবাক হলাম কি মেয়ে রে বাবা। তিশা তুমিই তো কাল কে বললে আমার সন্তান আমার মতো  খারাপ হবে। ওকে আমাকে দিয়ে দিবে( রাজ)

,

বের হ আমার রুম থেকে( তিশা)

,
,

আমিও বাড়াবাড়ি না করে বের হয়ে আসলাম।আর একটু মুচকি হেসে দিলাম। এভাবেই তিশার বকা শুনে শুনে আমার সাত দিন কেটে গেলো।
,
,
,

ভাবলাম কিছু একটা করতে হবে। তাই একটা বন্ধুর কাছে গেলাম।
,

আমাকে একটা কাজের ব্যবস্থা করে দিবে বলল।সব পেপার্স নিয়ে যেতে বলল।
,

পরের দিন ওর কথামতো গেলাম। আর কাস্টমার সার্ভিসে একটা চাকুরিও হলো।
,

চাচা আমার চাকুরির কথাটা শুনে অনেক খুশি হলেন। চাচিমা বললেন, তুই যদি কোনো দিনও চাকুরি না পাইতিস তবুও আমাদের কোনো দুঃখ ছিলো না কিন্তু আমার মেয়েটাকে দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েসিস। চাচা তিশাকে আমার চাকুরির কথাটা বলল,ও কিছুই বলল না চুপ করে চলে গেলো।
চাচিমার কথাটা শুনে অনেক খারাপ লাগলো।
,
,
,

এভাবে ই চলে গেলো একমাস। আজকে বেতন হলো আমার হাতে টাকা অনেক খুশি আমি। তখনি পুরোনো কথা মনে পরলো। রাজ সামনের মাসের টিউশনির টাকাটা দিয়ে আমাকে একটা শাড়ি কিনে দিবা?

,
,

তাই দৌড়ে মার্কেটে গিয়ে একটা নীল শাড়ি কিনলাম তিশার জন্য। তারপর বাসায় আসলাম।
,
,

তিশা জানালার কাছে বসে আছে। আমি শাড়িটা এগিয়ে দিয়ে তিশাকে বললাম, তিশা এই নাও তোমার শাড়ি।
,
,
তিশা আমার দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়ে শাড়ি টা নিলো। আমি অনেক খুশি হলাম।ভাবছিলাম।
কিন্তু আমার এ হাসি বেশি সময় রইলো না।

 তারপর শাড়ি টা আমার মুখের উপর ছুড়ে মারলো।তিশা এটা কি করলে তুমি।?( রাজ)
,
,

তুই ভাবলি কি ফকিরের বাচ্চা তোর শাড়ি আমি পরবো? ( তিশা)

আমি শাড়িটা হাতে নিয়ে রেখে দিলাম। ইচ্ছে করছিলো কষে একটা মাইর দি কিন্তু চাচা নিষেধ করছে আমি যেন তিশাকে কিছু না বলি।তাই কিচ্চু বললাম না।
,
,
,

সন্ধ্যার সময় চাচা আসলেন। চাচাকে বাকি টাকাগুলো বুজিয়ে দিলাম। এসে ঘুমিয়ে গেলাম। হঠাৎ সজাগ হয়ে কারো ঘোঙ্গরানোর আওয়াজ শুনলাম। লাইট ওন করে দেখি তিশার বেট থেকে আওয়াজটা আসতেছে। আমি তিশাকে ডাক দিলাম কোন ছাড়া নেই। আমি তিশার কাধে জাকি দিতেই তিশা আমাকে একটা থাপ্পুর বসিয়ে দিলো

ঐ ছোট লোকের বাচ্চা তুই আমাকে টাচ করলি কেন?
( তিশা)
 
তিশা তুমি কান্না করছিলে তাই।আমি আর কিছু বললাম না।
,
হইছে যা এবার( তিশা)

,
,
,

আমি এসে সোফায় শুয়ে শুয়ে পুরনো কথাগুলো ভাবতে লাগলাম। তিশা আমাকে কতটা বিশ্বাস করতো।
আমি সব নষ্ট করে দিয়েছি।
সবাই নিশ্চয় ভাবছেন কি এমন খারাপ কাজ ককরছি তাই না??
তাহলে
আসুন  ঘুরে আসি পুরনো দিনগুলো তে কি হয়েছিলো।
,
,
বিয়ের পরেও আমি টিউশনি করাতাম।তিশার বেশি চাওয়া ছিলো না।শুধু বলতো। পেমেন্ট পেলে তিশা কে একটা শাড়ি কিনে দিই আর একদিন যেন ফুচকা কিনে খাওয়াই।
,
,
বিয়ে করার আগে দেখতাম তিশা রিক্সা করে কলেজ যেত। কিন্তু বিয়ের পর আমার কাছে টাকা থাকত না বলে দুজনেই হেটেই কলেজ যেতাম।চাচা টাকা দিলেও তিশা নিতো না।
আমি তিশার এমন বিহেভ দেখে অবাক হতাম।কেননা তিশা বিয়ের আগে মাসে চাচার কাছ থেকে অনোক টাকা নিয়ে নিতো।সে আজ এত পরিবর্তন হয়েছে।
,
,
মাজে মাজে চাইতাম কোন কোম্পানিতে জব নিবো।কিন্তু তিশা চাইতো আগে স্টাডি টা শেষ করি।ওর নাকি কোন কষ্ট হয় না।
,
,
তাই পড়াশুনাই করতাম বেশি।
আমি সবাই কে নিয়ে খুব সুখেই ছিলাম।
কিন্তু এ সুখ আমার বেশি দিন রইলো না।
,
,
একদিন টিউশনি থেকে বাসায় ফিরে দেখি তিশা কাজিন আবির আসছে।
,
,
আমি ভিতরে ডুকতেই তিশা বলে ওঠলো,
__ কি এত লেইট করলে কেন? ( তিশা)
___ পরাতে পড়াতে লেইট হয়ে গেছে। ( রাজ)
তারপর তিশা সোফায় বসে থাকা ছেলেটার দিকে ইশারা করে বলল,
_______ ও আমার খালাতো ভাই আবির
আর আবির কে বলল,
এ আমার বর রাজ।
,
,
তিশা আমার একটা হাত ধরে হেসে হেসে বলছিলো।
,
আমি আবিরের সাথে অনেক কথাই বললাম।
রাতে আবির চলে গেলো।
,
,
পরের দিন তিশা বলল,
__ আমি আজ কলেজ যাবো না রাজ।তুমি যাও ( তিশা)
__ কেন। তোমার শরীর খারাপ।?  আমি তিশার কপালে হাত দিয়ে বললাম।
,
,
তিশা হেসে দিয়ে বলল,
no mr.রাজ।
আমি একদম ঠিক আছি।
}------
তাহলে কলেজ যাবে না কেন?( রাজ)
____ আম্মু,  আব্বু খালামনিদের বাসায় যাবে। আমিও যাবো।
তিশার কথা শুনে আমি তাকিয়ে রইলাম।
তিশা আবারো বলে ওঠলো,
আরে আবিদের বাসায়।
,
আমি আর কিছু না বলে কলেজে চলে আসলাম।
,
কলেজে ডুকার পর মনে হলো কেউ আমাকে ডাকছে।
আমি পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখি আবির দাড়িয়ে আছে।
,
,
প্রথমত আবির এখানে কেন?
আমি যাবো না বলে কি নিতে আসছে। নাকি তিশার সাথে দেখা করতে আসছে। প্রশ্ন গুলো আমি মনে মনে বললাম।
তারপর আবিরের সামনে গেলাম।
আপনি এখানে কেন??
___ তোমার সাথে দেখা করতে আসলাম রাজ? ( আবির)
_____ আমার সাথে দেখা করতে কিন্তু কেন?? ( রাজ)
__ আসো আমার সাথে কিছু জরুরি কাজ আছে।
বলে আবির আমাকে ওর গাড়ি তে গিয়ে বসতে বলল।
___
না ভাইয়া,  আমার ইম্পুর্টেন্ট ক্লাস আছে। অন্য দিন যাবো আপনার বাসায়।তাছাড়া তিশা তো যাচ্ছে ই।
____ হা হা হা 
আবির আমার কথা গুলো শুনে অট্টহাসিতে ভেঙ্গে পড়ল।
আমি তার হাসির কারন টা ঠিক বুজতে পারছি না।
এমন করে হাসছেন কেন?( রাজ)
____ আরে তোর কথা শুনে। তুই ভাবলি কি করে তোকে আমার বাসায় নিয়ে যাবো। আমার বাসায় একটা সোফায় বসার যোগ্যতাও তো তুর নেই।
,
তিশা যে তোকে কেন বিয়ে করলো সেটাই বুজতে পারছি না।
,
আমিও মুচকি হেসে বললাম,
আপনি বুজবেন ও না। কেন করেছে।
তো আপনার কথা বলা শেষ হলে আমি এখন যাই?
,
আবির আবার ও বলে ওঠলো,
তুই তিশার জীবন থেকে সড়ে দাড়া। আমি তিশা কে ভালোবাসি।
,
,
আবিরের কতাটা শুনে আমি জোরেই হেসে দিলাম,
কি ভাই আমি বউ কে ছেড়ে দিবো হুম।
আপনাকে ডক্টর দেখানো দরকার।
 আমি যাই
,
আমি সামনের দিকেই পা বাড়াতেই আবির বলে ওঠলো,
পর্ব:০৩
♥♥♥♥♥♥♥
আমি সামনের দিকে পা বাড়াতেই আবির বলে ওঠলো,,,
______________________

রাজ তিশা শুধু আমার। তোকে আমি ঠিক সরিয়ে নিবো। ( আবির)
______
আমি আবারও হাসি দিয়ে চলে আসলাম।
আবিরের কথাটা সেদিন পাত্তা দিলাম না। তিশা কে বলেছিলাম আবিরের সাথে কথা না বলতে।মেয়েটা অনায়েশে বলে দিলো ঠিক আছে আর বলবো না।
__________________________
 
তার একমাস পর আমি কলেজ এ গাছের নিচে বসে বই পড়ছি। তিশা মাঠে বাকি বন্ধুদের সাথে গল্প করছে।
,
আমি পুরোপুরি পড়ায় মগ্ন। এমন সময় কারো কথায় ওপরে তাকালাম।দেখলাম সাদিয়া আমার সামনে দাড়িয়ে আছে।
_________________________

কিছু বললে আমাকে সাদিয়া?( রাজ)
___ হুম।আমাকে একটু হ্যাল্প করবে রাজ?( সাদিয়া)
_____ কি হ্যাল্প বলো।কোন নোটস লাগবে? ( রাজ)
__আরে নাহ,  নোটস না।অন্য রকম হ্যাল্প ( সাদিয়া)
_____ আসলে তুমি তো জানো আমি সোহান অনেক ভালোবাসি। কিন্তু ও আমাকে পাত্তাও দেয় না। প্লিজ রাজ সোহান কে বুজিয়ে বলো না।
তুমি বললে ও ঠিক শুনবে ( সাদিয়া)
___ দেখ সাদিয়া।এটা সোহানের পার্সোনাল মেটার আমি কি করবো? ( রাজ)
_____ প্লিজ রাজ এমন করে বলো না।একটু দেখ? ( সাদিয়া কান্না করে বলল,)
____ আরে কান্না করছো কেন? ( রাজ)
____ সত্যি বলছি সোহান আমার ভালোবাসা মেনে না নিলে মরে যাবো।সত্যি বলছি আমি কিছু একটা করে ফেলবো ( সাদিয়া 😭😭😭)
________আচ্ছা আমি সোহান কে বলবো। ( রাজ)
____ তাহলে এখনি চলো রাজ।সোহান কোথায় আছে আমি জানি। আর ও এখন একা আছে। প্লিজ রাজ এই টুকুনি হ্যাল্প করো ( সাদিয়া)
_________________________


কি করবো আমি বুজতে পারছিলাম না।মেয়েটা কান্না করছে তাই যেতে রাজি হলাম।কিন্তু রাজি হওয়াটা আমার জীবনের কাল হয়ে দাড়ালো।

,
চলো তাহলো সাদিয়া,
আমি বইটা বেগে রেখে সাদিয়ার পিছু চললাম।
আর যাওয়ার আগে তিশাকে ইশারা দিলাম আমার একটু কাজ আছে।
,
,
সাদিয়া যাচ্ছে আমি তার পিছু পিছু যাচ্ছি।কলেজের ক্লাস হওয়া সব গুলো রুম ই অতিক্রম করে ফেলছি। পুরোনো বিল্ডিংটার কাছা কাছি এসে গেছি।
,
আমার কেমন জানি সন্দেহ হতে লাগলো।আমি সাদিয়া কে বললাম,
আর কত যাবে আর সোহান কোথায়? ( রাজ)
__=এই তো আরেক একটু। ( সাদিয়া)
আমি আবারও চললাম সাদিয়ার পিছু। একটু গিয়ে সাদিয়া একটা রুমের দিকে ইশারা করে বলল,
এই রুমে সোহান বসে আছে।? ( সাদিয়া)
আমার কেমন জানি লাগছিলো।সোহান এখানে কি করছে। আমি কি ভিতরে যাবো?? জায়গাটা নির্জন। কি করি এখন?  কিন্তু সাদিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখলাম,
মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ওর চোখে পানি টলমল করছে। খুব মায়া হচ্ছিলো।
আমি ভাবলাম না রুমে ডুকলাম।কিন্তু রুম টা অন্ধকার। কিচ্ছু দেখা যাচ্ছে না।
আমি একটু সামনে এগিয়ে গেলাম। আর সোহান কে ডাকতে লাগলাম,
সোহান,  সোহান, এই সোহান তুই কোথায় রে। এই অন্ধকার রুমে কি করিস?  বেরিয়ে আয় বলছি সোহান,
কোন আওয়াজ না পেয়ে আমি দরজার দিকে তাকালান অদ্ভুত দরজা বন্ধ হলো কেমন করে বুজতেছিনা তো।
,
আমি সাদিয়া কে ডাকতে যাবো তখনি রুমে লাইট জলে ওঠলো।আমি সামনে তাকিয়ে অবাক হলাম।সাদিয়া দরজা বন্ধ করে দাড়িয়ে আছে। আর মুচকি মুচকি হাসছে।
,
আমি কিচ্ছু বুজে ওঠতে পারছি না। আমি ঘুরে তাকালাম সোহান কে দেখার জন্য। কিন্তু না সোহান কোথাও নাই। আমি সাদিয়া কে প্রশ্ন করলাম।
______ সোহান কোথায়সাদিয়া??
___ সোহান তো নেই রাজ এখানে? ( সাদিয়া)
_____ সোহান এখানে নেই মানে?  আর তুমি দরজা বন্ধ করলে কেনো? ( রাজ)
____ আবির কে চিনো। আবির আমাকে পাঠিয়েছে।তোমাকে মিথ্যে বলে এখানে নিয়ে আসলাম। এখন দেখ কি করি।
বলেই সাদিয়া চেচাতে চেচাতে লাগলো।
বাচাও কেউ,  রাজ আমার ক্ষতি করো না ইত্যাদি ইত্যাদি বলে।
আমি সাদিয়ার এমন বিহেভ এ তব্দা হয়ে গেলাম। তখনি আমার মনে তিশা তো মাঠে বসে আছে। আর মাঠ থেকে এ চিৎকার শোনা যাবে।
,
,
আমি তারাতারি করে বের হতে গেলাম। কিন্তু সামনে সাদিয়া দাড়িয়ে চেচাচ্ছে। কেমন করে বের হবো আমি?
আমি যখনি সাদিয়া কে সরিয়ে বের হতে গেলাম।তখনি সাদিয়া আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো।
আমি একটা সিটের কর্নারে গিয়ে পড়লাম।আমার বেগটা একটু দূরে গিয়ে পড়লো।
আমি তারাতারি ওঠার চেষ্টা করলাম। কিন্তু আমার পা কিছু একটার সাথে আটকে গেছে। অনেক চেষ্টা করেও বের করতে পারছি না।
তখনি আমার নজর পড়ল আমার হাতে টপ টপ করে ফোটা ফোটা রক্ত পড়ছে।
আমি কপাল হাত দিলাম।
হ্যা আমার কপাল টা একটু কেটে গেছে। আমি অনেক কষ্ট করে যখনি পা টা বের করে কোন রকম ওঠে দাড়ালাম ততখনে সবাই এসে গেছে।
সাদিয়া তিশা কে ধরে কান্না করছে আর বলছে,
আ, আমি আসতে চাইনি রাজ জোর করে নিয়ে আসছি। ও বলছে আমাকে কিছু নোটস দিবে তাই আসছি।
কিন্তু জানতাম না রাজ আমার সাথে এমন টা করবে। আমি ওকে বিশ্বাস করে ছিলাম।
তিশা আমি রাজ কে আঘাত না করলে আজ অনেক বড় ক্ষতি করে ফেলতো। তুকে অনেক ধন্যবাদ তিশা ঠিক মতো এসে আমাকে বাচিয়ে দিলি।
সাদিয়া নিজেকে দুটো হাত দিয়ে ডেকে রাখছে আর কান্না করে।এক এক করে সব মিথ্যে বলে যাচ্ছে।
,
,
তিশা সাদিয়া কে আমার সামনে এসে দাড়ালো।
আমার চোখের দিকে তিশা তাকিয়ে আছে। ওর চোখে জল গড়িয়ে পড়ছে


আমি কিছু বলতে যাবো তিশা তখনি আমাকে একটা থাপ্পুর মারলো আর বললল,
____লজ্জা করে না। বউ রেখে অন্য মেয়ে কে নির্জন জায়গায় ডেকে এনে। ছি :
এই আমার ভালোবাসার মুল্য তোর কাছে? এই প্রতিদান আমার ভালোবাসার?  কি দোষ ছিলো আমার?  কিসের কমতি ছিলো।আমি তোকে কখনো দূরে সরিয়ে দিতাম।
আমার ভাবতেও ঘৃনা হচ্ছে তুই আমার স্বামী। তুই একটা খারাপ লোক।ভুল করেছিলাম আমি তোকে ভালোবেসে।তারচেয়ে বড় ভুল করেছিলাম তোকে বিয়ে করে?
____ তিশা আমি কিচ্চু করিনি। আমাকে কেউ ফাসিয়েছে?  বিশ্বাস করো?
____ বিশ্বাস করবো? 
আবার ও?
নিজের চোখের সামনে এত কিছু দেখেও। কেমন করে করবো।?বিশ্বাস আমার শেষ হয়ে গেছে? (
____ আমাকে একটা বার বিশ্বাস করো আমার কথাটা একবার শুনো।আমি কিচ্চু করিনি?
____ বাহ, বাহ,  কি অভিনেতা?
তাহলে এই ওড়নাটা এখানে আসলো কেমন করে। আমার কাছেই পড়ে থাকা সাদিয়ার ওড়নার দিকে ইশারা করে বলল,
তোর কপাল  ফেটে রক্ত বের হলো কেমন করে।
এসব কিচ্ছু মিথ্যে? ( তিশা)
___ তিশা আমি কিচ্চু করিনি। কেন বুজতে পারছো না। ( রাজ)
___ আমি আর বুজতে চাই না।তোর এই মুখ আমি আর দেখতে চাই না। বলেই সাদিয়ার ওড়না টা নিয়ে তিশা চলে গেল।
,
,
একটু পর পুলিশ এসে আমাকে ধরে নিয়ে গেলো।
,
আমার আর বুজতে বাকি রইলো না। সব ছিলো আবিরের সাজানো নাটক।
আমাকে ফাসিয়ে দিলো।আবির ঠিক আজ আমাকে তিশার থেকে সরিয়ে দিলো।
,
,
আমাকে শুধু চাচা ছাড়া আর কেউ বিশ্বাস করতে পারলো না।
অনেক চেষ্টা করেও চাচা আমাকে বার করতে পারলো না। কারন তিশা নিজে সাক্ষ্য দিলো আমি সাদিয়ার ক্ষতি করতে চাইছি।
আমার ছয় মাসের জেল হয়ে গেলো।
,
,
বাকি টা আপনারা জানেন ই।
বলতে বলতে রাজের দুচোখ জুরে ঘুম নেমে আসলো।
,
,
সকালে রাজ ওঠে অফিসে চলে গেলো।আজ কাল রাজ তিশার সামনে কম যায়।তাই তিশাও আর বেশি রাগে না।
,
,
রাজ একদিন অফিস থেকে ফিরে খুব অবাক হলো।
,
তিশা আবিরের সাথে বসে হাসাহাসি করছে।
আজ রাজের খুব রাগ হলো।কিন্তু চুপ করে থাকলো
,
,
একটু পর তিশা রুমে আসলো।
____ তুমি আবিরের সাথে বসে হাসাহাসি করছিলে কেন? ( রাজ)
____ আমার ইচ্ছে হইছে তাই করছি এর জন্য কারো কাছে আমি কইফিয়ত দিতে পারবো  না।
___ তিশার কথা গুলো শুনে আজ আমার খুব রাগ হলো।কারো কাছে মানে? 
আমি তোমার বর তাই আমি নিষেধ করছি। সো তুমি আবিরের সাথে কথা বলবা না। ব্যাস( রাজ)
____ তুকে আমি বর হিসেবে মানি না। আর কখনো মানবো ও না।? ( তিশা)
____ তিশার কথা শুনে আজ আর নিজেকে কন্ট্রোল  করতে পারলাম না।তাই ঠাসসস ঠাসস করে দিলাম দুটো থাপ্পুর।
তিশা কান্না করতে লাগলো আর বলল,
ছোটলোকের বাচ্চা আজি এ বাসা থেকে বের হবি। তোর জায়গা এখানে নেই।
_____ আর এক বার ছোটলোকের বাচ্চা বললে খবর আছে। শয়তান মেয়ে লজ্জা করে না নিজের বর রেখে অন্য ছেলের সাথে হাসা হাসি করতে। আমি কি এমন করছি। সারাখন বকা দিয়ে যাস। এবার থেকে আমি ও ছাড়বো না।ঐ আবিরের সাথে তুকে দেখলে খবর আছে।
,
আমার অনেক রাগ হয়েছিলো তাই একদমে সব গুলো কথা বলে ফেললাম।
তখনও তিশা কান্না করছিলো।
,
আমি দরজার দিকে তাকিয়ে অবাক হলাম।
চাচি মা দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে। জানি না রাগের মাথায় কি কি বলে ফেললাম।
,
চাচি মা এসেই আমাকে থাপ্পুর মারলো।
বেরিয়ে যা আমার বাসা এ বাসায় তোর আর জায়গা নেই।
অনেক জালিয়েছিস এবার দূর হ। আমার মেয়ের নামে বদনাম করিস তাই না।আবার আমার মেয়ের গায়ে হাত তুলেছিস।তুকে জেলে পচিয়ে মারার দরকার ছিল।
ছোট বেলা থেকে খায়িয়ে পড়িয়ে এত বড় করেছিলাম।
এজন্য তাই না?
যে দিন বাবা মা মারা গিয়েছিলো কোথাও তো জায়গা পাসনি?
আজ আমি জায়গা দিয়েছি বলে এত কিছু করছিস?
বেরিয়ে যা আমার বাসা থেকে।এক্কন বেরিয়ে যা।তোর মতো ছেলের কোন জায়গা নেই?
চাচি মা কথা গুলো বলেই আমার কাপড় একটা বেগে ভরে আমার মুখের উপর ছুড়ে মারলো।
আজ আমার ও খুব রাগ হলো।আর এত অবহেলা বকা সহ্য করতে পারছি না। তাই বেগ টা কাধে নিলাম।।
,
চাচি মা আমাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিলো। তারপর আমার মুখের উপর
চাচিমা দরজা বন্ধ করে দিলো।
,
,
আমি কেন জানি আর সহ্য করতে পারছি না। অনেক প্রতিবাদ করতে ইচ্ছে করছে।
না আমি আর শহরে থাকবো না। চলে যাবো গ্রামে।
,
,
,
বাসার সামনে দশ মিনিট দাড়িয়ে থেকে রওনা দিলাম বাস টপের দিকে।
,
,
,
রাতের বেলা রাস্তা দিয়ে হাটছি আর ভাবছি। আমি তো ইতিম। আর ইতিম হয়ে ও অনেক বড় স্বপ্ন দেখে ফেলেছি। এখানে থেকে আর লাভ নেই।
হয়তো চাচা এসেও একি ব্যবহার করবে। কারন তার গায়ে হাত উঠিয়েছি। মিথ্যে বদনাম দিয়েছি। কম কি করেছি নাকি।
,
,
,
যাই হোক বাসস্টপে এসে গেলাম।টিকিট কেটে ওয়েট করতে থাকলাম বাসের জন্য।
আর ভাবতে লাগলাম চাচা মনে হয় ফোন দিবে বাসায় ফিরার জন্য। কিন্তু তাও ভুল হলো।
,
,
,
আমার বাস এসে গেল। যাত্রা শুরু করলাম গ্রামে।
,
,
,
রাতে তিশার বাবা এসে সব কিছু শুনে কিছুই বললেন না।
তখনও তিশার মা অনর্গল বকে যাচ্ছে রাজ কে।
,
,
,
তিশার বাবা ছাদে গিয়ে দেখল তিশা মন মরা হয়ে দাড়িয়ে আছে। ওনি তিশার পাশে দাড়ালো। আর রাজ কে ফোন দিলো। ততখনে রাজ ফোন বন্ধ করে দিয়েছে। ফোন সুইচ অফ দেখাচ্ছে।
,
,
,
তিশা যেন মন মরা হয়ে কি ভাবছে যা তিশার বাবা ঠিক বুজতে পারছে 
,
ওর বাবার ডাকে তিশা বাস্তবে ফিরলো,
______ তিশা তুকে কিছু কথা বলতে চাই? ( বাবা)
______ বলো বাবা কি কথা? ( তিশা)
তুই রাজ কে ভুল বুজেছিস মা।ও নিদোর্ষ কিচ্চু করেনি।( বাবা)
___ বাবা তুমি কাকে নিদোর্ষ বলছো বলোতো? ( তিশা)
___ ঐ দিন সাদিয়ার সাথে যা কিছু হয়েছে সব সাজানো নাটক ছিলো।আবিরের কথায় সাদিয়া রাজকে ফাসিয়েছে।
তোর কাছ থেকে রাজ কে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। ( বাবা)
___ কিন্তু কেন?  আবির এমন কেন করবে? ( তিশা)
___ কারন আবির তোকে ভালোবাসে। ( বাবা)
____ তুমি এসব জানলে কেমন করে বাবা? ( তিশা)
___ রাজ বলেছে। তুই খুব কস্ট দিয়ে ফেললি রাজকে।ছেলেটার কেউ নেই রে মা তুই ছাড়া।
কোথায় গেল এখন কে জানে?
ফোনটাও তো অফ দেখাচ্ছে।
বলেই তিশার বাবা চলে গেলো।
,
,
,
কথাগুলো শুনে তিশার চোখ দিয়ে পানি পরছে। কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে তিশা।
কি বলবে কত খারাপ করেছে রাজের সাথে।
,
,
,
তিশা দৌড়ে রুমে গেল আর রাজ কে কল দিলো।
এবার রাজের ফোনে রিং হচ্ছে।
তিশা একটু হেসে দিলো।মনে মনে ভাবতে লাগলো রাজ কোথাও যায়নি। পরমুহুর্তেই তিশার মুখটা মলিন হয়ে গেলো। কারন রাজ ফোন কেটে দিলো
তিশা আবারও ফোন দিলো এখন ফোন সুইচ অফ দেখাচ্ছে,,,,,,,,,,,,,
♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥

পর্ব:{ ০৪}
♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥
তিশা আবার ও ফোন দিলো কিন্তু এখন ফোন সুইচ অফ দেখাচ্ছে, ,,,,,
_______________________
সারা রাত তিশা ট্রাই করে গেলো।কিন্তু রাজের ফোন বার বার অফ দেখাচ্ছে।
তিশা বুজতে পারলো রাজ আজ অনেক বেশি কষ্ট পেয়েছে । কিন্তু আবির এসব করেছে জানতে পারলে রাজের সাথে তিশা  কখনো এমনটা করতো না।
,

,
_____
রাত পেরিয়ে সকাল হয়ে গেল। রাজের ঘুম ভাঙল একটা লোকের ডাকে।
--- ও ভাই,  বাসেই থাকবেন নাকি। বাস তো এসে গেছে।
রাজ হুরমুরিয়ে ওঠলো।
বাস থেমে অটো করে চলে আসলো গ্রামে।
,
বাড়িতে ডুকতেই রাজের ছোট চাচিমা বলে ওঠলো,
কি রে রাজ তুই এত সকাল সকাল আসলি যে।
___
রাজ কিছুই না বলে ছোট চাচাতো ভাই আরমানের রুমের দিকে পা বাড়ালো।
পিছন থেকে চাচি মা আবারও বলে ওঠলো,
কি রে তিশা কোথায়। তিশা কে নিয়ে আসলি না?
,
,
রাজ এবার ও চুপ করে রইলো।
রুমে ডুকতেই আরমান যেন চমকে ওঠলো।
আরে রাজ ভাইয়া যে কখন আসলে?
,
রাজ কোন উত্তর না দিয়ে ব্যাগ রেখে বিছানায় শুয়ে পড়লো।
আরমান পড়ার টেবিল থেকে ওঠে এসে বলল,
ভাইয়া তিশা আপুও আসছে নাকি???
,
,
রাজ এবার আরমানের দিকে একটু রাগি মুডে তাকালো। আরমান আর কিছু না বলেই চলে গেলো।
,
,
ছোট চাচিমা আর আরমান বুজতে পারলো। কিছু একটূ তো হয়েছে।
আরমান চুপ করে তিশা কে ফোন দিলো।
____ হ্যালো,  তিশা আপু?
____ হুম।বল আরমান?
______ আপু বাসায়,কি কিছু হইছে।রাজ ভাইয়া আসল এখন কিন্তু কারো সাথে কথা বলছে না
__= রাজ গ্রামে গেছে?
____ হে তো একটু আগেই আসলো। আপু কিছু হয়েছে?
____ হুম। অনেক কিছু।
____ কি হয়েছে আপু বলো।
তারপর তিশা আরমান কে সব কিছু বলল,
আপু চিন্তা করো না।ভাইয়া ঠিক চলে যাবে। আমি আম্মু কে বলি তাহলে রাখি তাহলে
.

আরমান ফোন রেখে ওর আম্মু কে সব কিছু বলল।
তাহলে রাজকে কিছু বলিস না আরমান।ও চুপ করেই থাক।

,
তিশা দৌড়ে গিয়ে ওর বাবা কে বলল,
আব্বু রাজ গ্রামে গেছে।
___ ও গ্রামে চলে গেছে?  তাহলে চিন্তা করিস না। চলে আসবে।
,
,
,
কিন্তু তিশা কিছুতেই শান্তি পাচ্ছে না।আব্বু চলো গ্রামে গিয়ে রাজ কে নিয়ে আসি । আমি অনেক অন্যায় করেছি।
প্লিজ আব্বু চলো।
,
,
,
দরকার হলে আমি যাবো। তুই রেস্ট কর। একদম টেনশন করবি না। তোর শরীর টাই ভালো না।
,
,
বাবার কথা শুনে কিছুটা শান্তি পেলেও মুহুর্তেই মন খারাপ করে ফেলল।
কত বকা দিয়েছি রাজকে।নিজের সন্তান কে ও বকা দিয়েছি আমি।আমি কত নিষ্ঠুর হয়েছি।
তিশা ওর পেটে হাত দিয়ে বলল,
মাফ করে দিস আব্বু টা তোর পচা আম্মু টাকে।
,
,
__________________________

রাজ একটু ঘুমানোর পর ওঠেই চাচি কে বলল,
ছোট মা অনেক খুদা পাইছে খেতে দাও তো?
,
,
তুই রুমে গিয়ে বস আমি নিয়ে আসছি।
___ না ছোট মা রান্না ঘরে বসেই খাবো।
_এখানে বসে খাবি। তুই রুমে যা আমি টেবিলে খাবার দিচ্ছি।
___ এতিমের আবার টেবিলে খাবার দাও তো। বলেই রাজ নিচে বসে পড়লো।
ওর ছোট মা এতিম কথা টা শুনেএক দৃষ্টিতে রাজের দিকে তাকিয়ে আছে
তারপর বলল,
তুই এতিম কে বলেছে রাজ?
আমরা কি মারা গেছি?
__
খেতে দাও তো। এতিম কে এতিম বলবে না তো কি বলবে। আর এতিম শুনতে খারাপ লাগে না বরং ভালোই লাগে।শুনতে শুনতে এতিম শব্দটাই ভালো লাগে।
,
রাজ খাবার খেয়ে বেরিয়ে গেলো।
গ্রামের ছোট খাটো বাজারে গিয়ে ওর ছোট বেলার বন্ধু সজিবের সাথে দেখা করলো।
___
আমাকে কোন একটা কাজ দিবি সজিব।যে কোন ধরনের কাজ হলেই চলবে।
___ তোর মাথা খারাপ নাকি? এত পড়াশুনা করসোস। এখন এসব কাজ করবি? তোর করার মতো কাজ এখানে নাই।( সজিব)
____ তুই যে কাজ করিস তাই করবো আমি প্লিজ না করিস না( রাজ)
___ আমি ট্রাক থেইকা মাল নামাই। তুই পারবি নাকি? ( সজিব)
____ আমি পারবো।তুই আমাকে কাজটার ব্যবস্তা করে দে । আমি তোর কাছে একটু চাইচি। এই এতিম কে একটু সাহায্য কর।
___ রাজ তোর মাথা ঠিক আছে তো?  আর কি হইছে বলতো ( সজিব)
___ সব শুনলে কাজ দিবি তো?
___ হুম।দিবো। বল আগে।
___ শোন তাহলে। তারপর রাজ সজিব কে সব কিছু বলল,
সজিব কি বলবে বুজতে পারছে না।
রাজের জোরাজোরি তে কাজে নিলো।
রাজ আজ প্রথম অনেক কষ্টের কাজ করছে।সজিব ওকে বার বার না করছে । কিন্তু রাজ আর কারো বুজা হয়ে থাকতে চায় না।
,
,
সারাদিন কাজ করে রাজ পাচশত টাকা পাইলো।তা নিয়ে বাড়ির দিকে পা বাড়ালো।
,
,
,
রাজের ছোট মা সারা,দিন রাজকে খুজেছে।সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরলে তিনি খুব অবাক হলেন। রাজের গা ভর্তি ময়লা।
,
রাজ তোর এ অবস্থা কেন।সারা,দিন কোথায় ছিলি তুই?
__ আমি কাজে গিয়েছিলাম সজিবের সাথে। এই নাও টাকা।রাজ ওর ছোট মার হাতে টাকা গুলো গুজে দিয়ে।
গোসল করতে চলে গেলো।
,
,
,
গোসল করে এসে রাজ শুয়ে আছে। এমন সময় ছোট মা এসে বলল,
__________ রাজ,  তুই এমন কাজ কেন করতে গেলি।আমরা কি বলিছি তুকে কাজ করতে যেতে?(
____ রাজ হাও মাও করে কেদে ওঠলো। ছোট মা।
এ পৃথিবীতে আমার কেউ নেই। খুব এতিম আমি। আর এতিম দের কে কেউ ভালো বাসতে পারে না। সবাই বুকে তুলে নিলেও আবার অবহেলা করে দূরে সরিয়ে দেয়।
জানো ছোট মা,
আমি যে এতিম। তিশার যোগ্য নয় তা ভুলেই গেছিলাম।আমি স্বপ্নের রাজ্যে হারিয়ে গেছিলাম।
জানো কালকে চাচি মা সব মনে করিয়ে দিয়েছে।
ঘার দাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে। টাকা পয়সা খরচ করিয়ে বড় করেছে।
ছোট মা আমি এখানে থাকবো কিন্তু টাকা রোজগার করে তোমাদের কে দিবো।
আর যদি বাধা দাও তো আমি এখান থেকে ও অনেক দূরে চলে যাবো।প্লিজ ছোট মা এই এতিম টাকে দূরে সরিয়ে দিও না।
রাজ আস্তে আস্তে ওর ছোট মার কুলে মাথা রেখে কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে গেলো।
________________________

তিশাও আজ ভালো নেই।ঠিক মত খাওয়া করে না।আস্তে আস্তে অসুস্থ্য হয়ে যাচ্ছে।
এটা দেখে তিশার বাবা ছুটে চললেন গ্রামে।
,
,
তিশা রাতে রাজের ছবি টা দেখছে আর কান্না করছে।
রাজ তুমি আমাকে অনেক ঘৃনা করো  তাই না।হুম করবেই তো। একজন স্ত্রী হয়েআমি তোমাকে ভালো বাসতে পারিনি। খালি করেছি অবহেলা করেছি।সব সময় ছোট লোকের বাচ্চা বলে ডেকেছি । আমি তোমার কাছে কখন গিয়ে দাড়াতে পারবো না। কোন মুখ নিয়ে দাড়াবো বলো।আমি যে অনেক অন্যায় করেছি । আমি তোমাকে অনেক দূর থেকেই ভালোবাসবো। তোমাকে ফিরে আসতেই হবে। আমার আর তোমার সন্তানের জন্য হলেও আসতেই হবে। কত দিন ফোন বন্ধ করে রাখবে বলো?
আসতেই হবে।
,
,
পাশ থেকে তিশার মা এসে বলল,
তুই এভাবে কান্না করলে চলবে বল,
বাচ্চাটার ক্ষতি হবে তো।এবার তো কিছু খেয়ে নে। তোর বাবা গ্রামে গেছেন রাজ ঠিক চলে আসবে।
,
,
তিশার ওর মা কে জরিয়ে ধরে কান্না করে দিলো।
,
তিশা সেই বিকেলে একটু ছাদে ওঠেছে।তখনি আবির আসলো আর গিয়ে দাড়ালো তিশার পাশে।
তিশা আবির কে দেখেই রাগে ফুলতে লাগলো
তুই এখানে এসেছিস কেন শয়তান।
তুই আমার সব কিছু শেষ করে দিয়ে এখন কেন আসছিস?
তোকে মেরে ফেললেও আমার প্রতিশোধ নেওয়া,শেষ হবে না।
,
,
আবির তিশার কথা শুনে হাসতে লাগলো।
তিশা আবিরের হাসি শুনে অবাক হলো,
___ সে সুযোগ আর হবে তিশা বেবি। আগে তোমার পেটের বাচ্চা টা কে শেষ করবো তারপর ঐ রাজ কে।কথা হলো আমি তোমাকে চাই।
____
এটা তোর দুরস্বপ্ন!  কখনো পুরন হবে না।তুই আমার মনে রাজের জন্য একটু একটু ঘৃনা সৃষ্টি করেছিস।
বলেই তিশা পাশ থেকে একটা লাঠি নিয়ে যখন আবির কে আঘাত করতে গেলো।আবির তিশা কে ধরে ফেলল,
তিশার মুখে একটা রুমাল চেপে ধরল। তিশা মুহুর্তেই ঘুমিয়ে গেলো।
,
,
আবির গাড়িতে করে তিশা নিয়ে চলে গেলো তার বিশাল বর বাংলোতে।
তিশা কে নিয়ে একটা রুমে রাখা হলো।
,
,
,
তিশা যখন চোখ খুলল তখন দেখল কোন একটা অনধকার রুমে আছে। অনেক পানির পিপাসা পেয়েছে।
,
,
একটু পর ই দরজা খুলে কেউ ভিতরে প্রবেশ করলো।
তিশা স্পস্ট দেখতে পেল এটা আবির।
___ হায় তিশু বেবি কেমন আছো তুমি??
____ আবির,  আবির আমাকে কিছু খেতে দাও। আমাকে কিচু খেতে দাও। আমার বাবু টা অনেক ছট ফট করছে।আবির প্লিজ?😭😭😭😭
__________________


তিশার বাবা গ্রামে গিয়ে রাজকে অনেক বুজালো কিন্তু রাজ আসতে রাজি নয়।
রাজের কান্না সহ্য করতে না পেরে তিশার বাবা ফিরে চলল,
পিছন থেকে রাজ বলে ওঠলো,
চাচা একটা কথা ছিলো,
___
বল কি কথা?
আমার সন্তান কে দেখে রেখো।আমি কোন দিন তিশার সামনে গিয়ে দাড়াবো না।তুমি তিশা কে দেখো রেখো।
,
,
,
তিশার বাবা আর কিছু বলতে পারলো না।বলবে বা কি করে তিশা তো রাজ কে কম কষ্ট দেয়নি। তবুও বলে গেলো
,
তিশা অনেক কান্না করে। পারলে চলে যাস।তিশা এভাবে ডিপ্রেশন  এ থাকলে তোদের সন্তানের ই ক্ষতি হবে।
রাগ আর অভিমান কমলে চলে যাস।তোর জন্য আমার বাড়ির দরজা সব সময় খুলা থাকবে।
,
,
যখনি তিশার বাবা চলে আসবে তখনি তার ফোন টা বেজে ওঠলো।রিসিব করতে ঐ পাশ থেকে তিশার মা কান্না করতে করতে বলল,
তিশা কে কোথায়ও পাওয়া যাচ্ছে না।বাসায় ই তো ছিলো
এখন নেই।পুরো বাসা খুজেছি কোথাও নেই।
,

,
তিশার বাবা রাজ কে বলল,
রাজ বলল,
দেখো আছে কোথাও আবিরের সাথে?
,
,
তিশার বাবা আর কথা না বারিয়ে তারাতারি বেরিয়ে আসলেন।
,
,
রাজ রাতে শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলো তিশার কিছু হলো না তো
রাজ ওর ফোন টা অন করলো।সাথে সাথে অনেক গুলো এসএমএস আসলো।
,
,
রাজ এসএমএস গুলো পড়ে কান্না করে দিলো।প্রতিটা এসএমএস পাঠিয়েছে তিশা।

,
,
রাজের কেমন জানি খারাপ লাগছে। তাই এসএমএস গুলো না পড়েই ফোন টা রেখে দিয়ে ঘুমিয়ে গেলো।
,
,
রাতে তিশা খিদের জালায় ছটফট করচে।আবির রুমে ডুকে তিশার হাতে খাবার দিলেই তিশা খেয়ে নিলো।
,
,
আবির আমাকে ছেরে দাও প্লিজ।
___ সেটা কি করে হয় তিশু বেবি। আমি যে তোমাকে অনেক ভালো বাসি। আমি তোমাকে বিয়ে করবো ডার্লিং।
____ শয়তান তুই জানসো না বিবাহিত।আমি অন্ত: সত্বা?
তারপর কেন এমন করছিস।
____ কালকের মধ্যে তোমার এই সন্তান পৃথিবীতে আসবে বাট মৃত। আর এই অগ্রিম খবর সবার আগে জানবে তোমার বর রাজ। বলেই আবির তিশা কে একটা থাপ্পুর মারলো।
আর বলল,
তোর অবস্থা এমন করবো। যা দেকে তোর বাবা চিন্তা করতে পারবে না আবির কত টা খারাপ।
তোর বাবা আমার সাথে অনেক বড় প্রতরনা করেছে।তার মাশুল এখনি তুই দিবি। 
বলেই আবির চলে আসলো।


তিশা আবিরের কথা বুজতে পারছে না। ওর আবিরের সাথে কিসের প্রতরনা করেছে।যার জন্য আবির আমার সন্তান কে মেরে ফেলতে চায়।
তিশা আস্তে আস্তে বেশি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে।
না আমাকে সুস্ত থাকতে হবে আমার সন্তানের জন্য।
,
,
তিশার বাবা বাসায়,ফিরে অনেক জায়গায় খুজল।থানায় গিয়ে পুলিশ কেও জানালো।আবিরের খুজ নিলো।যত দূর সম্ভব জানতে পারলো আবির দেশে নেই।
চলে গেছে দশদিন আগে।
তিশার বাবা ভাবতে পারছেন না। আমার মেয়ের তাহলে কি হলো।
,
,
রাজকে সব ফোন করে জানালো।রাজ চুপ করে থেকে ফোন রেখে আবার ঘুমিয়ে গেলো।
,
,
রাতে তিশা বাংলোর পিছন দরজা দিয়ে পালালো।
অনেক টা পথ তিশা পারি দিয়েছে।তিশা আচমকা হেসে দিলো।আবির আমার সন্তানের কিচুই করতে পারবে না।
কিন্তু তিশা আর হাটতে পারছে না।পা গুলো অবশ হয়ে গেলো।
তাই একটা গাছের নিচে বসে গুমিয়ে গেলো।
যখন তিশার ঘুম ভাঙল তিশা আবিরের সেই বাংলোতে।
,
,
ওয়েলকাম মাই সুইট হার্ট।
সুপ্রভাত তিশু বেবি।
,
তিশা বুজতে পারছে না এখানে আসলো কি করে।

তুমি কেমন করে ভাবলে পালিয়ে যাবে আমার কাছ থেকে। এত সোজা না তিশু।
তুমি কখন আমার কাছ থেকে ছাড়া পাবে না।কিছু খাবার এগিয়ে
দিয়ে বলল
খেয়ে নাও আজি তোমার সন্তানের শেষ দিন
,
,
বলেই আবির চলে গেলো।

তিশা আল্লাহ কে ডাকতে লাগলো।আল্লাহ তুমি আমার সন্তান কে বাচাও।একবার রাজের কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ করে দাও।,

_____________________
রাজ সকালে ওঠে কাজে চলে গেলো

কিন্তু আজ রাজ কাজে তেমন মন বসাতে পারছে না কেমন জানি করছে। যা লক্ষ্য করেছে সজিব।
____ কি রে রাজ কিছু হয়েচে?
___ না রে।
বলেই রাজ কাজ করতে লাগলো।হঠাৎ করে রাজের ফোনে একটা এসএমএস আসলো।
রাজ এসএমএস টা দেখে থমকে গেলো।নাম্বার টা আবিরের।
আর এসএমএস টা হলো______<_____<<__<___<<<<__<_<<______





পর্ব { ০৫ ___ সমাপ্তি  }
♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥
রাজ এসএমএস টা দেখে থমনে গেলো।নাম্বার টা আবিরের। আর এসএমএস টা হলো,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
" রাজ তোর তিশা এখন আমার কাছে আর তোর সন্তানেরও শেষ সময় " পারলে ঢাকায় চলে আয়।
,
,
রাজ বুজতে পারলো তিশা কে পাওয়া যাচ্ছে না এটা সত্যি। এত দিন ভেবেছিলো রাজ হয়তো আমি যাতে ফিরে যাই তাই এসব বলছে।
,
,
,
রাজ তারাতারি করে আবিরের নাম্বারে কল দিলো।
সাথে সাথে আবির রিসিব করলো আর বলল,
মি: রাজ আপনি  ঢাকায় আসেন পরে কথা হবে। বলেই আবির ফোন কেটে দিলো।
,
,
রাজ কিচ্চু বলার সুযোগ না পেয়ে আবার কল দিলো। কিন্তু ঐপাশ থেকে বলছে।
আপনার ডায়াল কৃত নাম্বার টিতে এই মুহুর্তে সংযোগ হচ্ছে না।
,
,
রাজ ঠাসস করে পড়লো।
কাজের ফাঁকে যা লক্ষ্য করলো সজিব।
,
কি রাজ কি হইছে? ( সজিব)
রাজ সজিব কে সব কিছু বলল,
তুই আজি ঢাকায় যা ভাই। তিশা কে বাচা। আপাতত তোর সন্তান কে বাচাবি তো নাকি?
,
,
রাজ তারাতারি বাড়ি তে ময়লা কাপড় ছেড়ে। রেডি হয়ে রওনা হলো ঢাকার উদ্দেশ্যে।
,
,
গাড়িতে থেকেও রাজ অনেক বার কল দিলো আবির কে কিন্তু এখনো একি কথা বলছে।
,

,
,
তিশা ভয়ে কান্না করছে।আবির বলেছে ও আমার সন্তান কে মেরে ফেলবে।হে আল্লাহ,  তুমি আমাকে আর আমার সন্তান কে বাচাও।
,
এমন সময় আবির আসলো।
আর বলল,
ভেবেছিলাম তোমার সন্তান কে আজকেই মেরে ফেলবো। কিন্তু না। তোমার বর আসছে ঢাকায়।
আমার পাওয়া না টা আদায় করে তোকে এমন শাস্তি দিবো তিশা তুই ভাবতেও পারবি না।
বলেই তিশা কে আবির আরেক টা থাপ্পুর মারলো।
,
,
তিশা কান্না করতে করতে বলল
আমার সাথে তোর কিসের এত শত্রুতা বল। কেন এমন করসিস?
__
শত্রুতা তোর সাথে নয় তোর বাবার সাথে।উনি আমাকে ঠকিয়েছেন।আমার সাথে বিজনেস করে টাকা মেরে দিয়েছিস।আমিও টাকা আদায় করেই ছাড়বো না হলো তোকে শেষ করে ফেলবো।
বলেছিলো তোকে আমার সাথে বিয়ে দিবে সেখানেও ঠকিয়েছে।কি ভেবেছে তোর বাবা। আমি কাউকে ছাড়বো না। বলে আবির টেবিলে ঘুসি মারলো 
,
,
তিশা কান্না করছে আর বলছে আব্বু এতটা নিচে নেমে গেছে।
কেন এমন বেইমানি করলো আব্বু?
,
,
রাজ রাত দশটায় বাসায় পৌছালো।
তিশার বাবা মা রাজ কে দেখে অবাক।
চাচি মা কান্না করে বলে ওঠলো।
সত্যি তুই অনেক বেইমান। একটু কথা বলেছি তাই এভাবে চলে গেলি?
আমাকে খমা করে দিস বাবা?
,
,
চাচিমা তুমি এসব কি বলছো? ( রাজ)
___ ঠিকি। তুই আমার মেয়েকে এনে দে।তিন হলো তিশার কোন খুজ নেই।
র‍্য__
তিশা আবিরের কাছে।
কথাটা শুনে সবাই চমকে ওঠলো।
রাজ ওর চাচা চাচি মা কে সব কিছু খুলে বলল,
,
,
তখনি রাজের ফোন টা বেজে ওঠলো।
রিসিব করতেই আবির বলতে লাগলো,
রাজ কালকে সকাল দশটার মধ্যে পাচ লক্ষ টাকা নিয়ে আমার সাথে দেখা করবি আর তিশা কে নিয়ে যাবি। না হলে তোর সন্তান খতম।
,
,
এই আবির তোর কিসের এত জেদ বলতো। কেন এমন করছিস?
,
,
তোর শশুড় আমার টাকা গুলো অনায়েশে মেরে দিয়েছে। সেই পাচ লক্ষ টাকা আমি ফেরত চাই। আমি এড্রেস টেক্সট করে দিচ্চি চলে আসবি। সকাল দশটা।
,
,
আবির ফোন কাটার পর রাজ ওর চাচা কে জিগ্যেস করলো।
কিসের টাকা তোমার কাছে। যা আবির চাচ্ছে। পাচ লক্ষ টাকা দিলেই ও তিশা কে ছেরে দিবে বলছে।
,
,
আমি আর আবির এক সাথে বিজনেস শুরু করেছিলাম।
ওর কাছ থেকে আমি অনেক টাকা মেরে দিয়েছি।যার জন্য ও আমার পরিবারে একের পর জামেলা লাগিয়েই যাচ্ছে।
ঠিক আছে আমি টাকা দিবো। আমার কে ছেড়ে দিতে বল।
,
,
,
দেখেছো লোভে পাপ পাপে মৃত্যু। আজ তোমার জন্য আমার মেয়েটা না জানি কি হালে আছে।
,
,
রাজ আর কিছু বললো না। চুপচাপ ওঠে চলে গেলো ওর বন্ধু দের কাছে।
সোহান সহ সবার সাথে দেখা করে একটা প্ল্যান করলো কেমন করে তিশা কে বের করা যায়।
,
,
শোন আবিরকে তুই এখন কল দিবি। আর বলবি আমি তিশার সাথে কথা বলবো।তো ও তিশা কে দিবে। আমরা ওর নাম্বার ট্যাগ করে লোকেশন ঠিক করে নিবো।
সো কাল কে তুই যখন আবিরের সাথে দেখা করবি ঐ লোকেশন অনুযায়ি। আমরা সেখানে গিয়ে তিশা কে নিয়ে আসবো।কারন আবির তিশা কে নিয়ে তোর সাথে দেখা করবে না এটা কন্ফার্ম।
,
পরের টা পরে দেখা যাবে।
( সোহান)
সোহানের কথার সাথে সবাই একমত হলো।
,
,
রাজ আবির কে কল দিয়ে তিশার সাথে কথা বলতে চাইলো।
আবির তিশা কে ফোন দিতেই তিশা কান্না করে বলতে লাগলো।
রাজ প্লিজ আমাকে নিয়ে যাও। আমার জন্য না হলেও আমাদের সন্তানের,,   ,   
বলতেই আবির ফোন টা নিয়ে নিলো আর বলল,
ঠিক ঠিক মত চলে আসবি।কোন পুলিশ বা চালাকি যদি করেসিস তো দেখবি। আমি কত খারাপ হই।
,
রাজ ওকে বলে রেখে দিলো।
,
সোহান ইশারা দিয়ে জানালো কাজ হয়েছে।
,
,
পরের দিন সকাল দশটায় রাজ একটা বিটকেস নিয়ে দাড়িয়ে আছে আবিরের জন্য।

একটু পর একটা কালো গাড়ি করে আবির আসলো
,
__
আবির কে দেখেই রাজ বলল,
তিশা কোথায়?
__ আরে আছে। আগে।তো টাকা গুলো দে।
,
রাজ আবিরের ককথা শুনে মুচকি হাসতে ললাগলো।
রাজের ফোনে একটা এসএমএস আসলো।
সোহান লিখেছে ভাই তিশা কে পেয়ে গেছি। ও কে নিয়ে বাসায় যাচ্ছি।তুই শালাকে সাইজ কর।

,

রাজ জোরে জোরো হাসতে ললাগল তখন আবির বলল
হাসসিস কেন?
সাথে সাথে পুলিশ এসে আবির কে ধরে ফেলল।
তখনি আবির বলল
রাজ ভুলে যাস না তিশা আমার কাছে?
রাজ বলতে ললাগলো
,
তুই এখানে আসার সাথে সাথে আমার বন্ধুরা তিশাকে বাড়ি নিয়ে চলে গেছে।তিশা এখন ওর বাবা মার কাছে।
,
,
আবির রাজের কথা শুনে রাগে কটমট করতে লাগলো। পুলিশ আবিরকে নিয়ে যাওয়ার সময় আবির আবার ও বলল দেখে নিবো তোকে রাজ।
আমাকে বেশি দিন আটকে রাখতে পারবে না। আর তখন আমার সাথে করা চিটিংবাজির পুরো প্রতিশোধ নিবো। দেখবো তখন তিশা তোকে কি করে বাচায় আর তুই কি করে নিজের বউকে বাচিয়ে নিস।
পুলিশ টানতে টানতে আবির কে নিয়ে গেলো।
,
,
রাজ আবিরের কথাগুলো শুনে মুচকি হাসছিলো।
আর বলল,আরে যা না বাবা। যখন সময় আসবে তখন দেখা যাবে।
তখনি রাজের বন্ধুরা আসলো আর বলল ভাই ভাবি কে বাসায় দিয়ে আসছি।
,
রাজের একবন্ধু বলল,
দোস্ত তিশা ভাবি একদম ঠিক আছে। তুই কোনো চিন্তাই করিস না তো।
,
আরে দোস্ত তিশা ভাবি তো সেই।! 
,
কেন রে তিশা ভাবি আবার কি করলো।
,
আরে জানিস না তো তিশা ভাবি আবিরের কাছ ঢথেকে পালাইছিলো।!!
,
,
ওকে তোরা থামতো এবার ( রাজ)
ওকে,
,
,
কিন্তু দোস্ত আমাদের একটা আবদার তোকে রাখতেই হবে।
,
কি আবদার বল। আমি অবশ্যই রাখার জন্য চেস্টা করবো। তোরা আমাকে হেল্প করলি।
,
,
বেশি কিছু না দোস্ত। শুধু আমাদেরকে তোর বাড়িতে একদিন খাওয়াতে হবে তাও আবার তিশা ভাবির হাতের রান্না। তাহলেই হবে।
,
,
ঐ শালা তুই খালি খাই খাই করিস কেন?
,
আরে বুজতে পারসিস না এতে দুটো উপকার হবে।
,
,
কি উপকার হবে শুনি,?
,
,
তিশা ভাবি তো রাজের সাথে রাগ করে আছে। আমাদের কে দাওয়াত করে খাওয়ালে দুজনের মান - অভিমানটাও কমবে।
,
,
এ ই তোর বুদ্ধি আছে বটে। মানতে হবে। ওকে একদিন আমার বাড়িতে দাওয়াত দিবো।
,
,
রাজ আর তার সব বন্ধুরা মিলে হাসাহাসি করছিলো ঠিক তখনি রাজের ফোন টা বেজে ওঠলো।
,
,
রাজ ফোনটা হাতে নিয়ে দেখে চাচার ফোন। রিসিভ করা মাত্রই ঐ পাশ থেকে চাচা বলে ওঠলো।
,
,
রাজ তুই কোথায়?.  তারাতারি হাসপাতালে চলে আায়। আমরা তিশাকে নিয়ে হাসপাতালে আছি।
,
,
চাচা তিশা ঠিক আছে তো? 
,
,
হুমম, আগে তো আসবি।
হুমম,চাচা আসতেছি।
,
,
রাজ ওর বন্ধুদের নিয়ে তারাতারি হাসপাতালে গেলো। তিশার বাবা মা অটির সামনে ওয়েট করছে।
,
,
চাচা, চাচিমা, তিশা ঠিক আছে তো।
,
,
তখনি ভিতর থেকে নার্স বেরিয়ে আসলো।
,
,
মি:রাজ, আপনার জন্য গুড নিউজ আছে।
,
আপনার মেয়ে হয়ছে।

,
,
রাজের মুখে মুচকি হাসি ফুটে ওঠলো। রাজের বন্ধু রা বলল, তোকে তো আজকে ডাবল মিষ্টি খাওয়াতেই হবে। তা না হলে তোকে আর ছারছি না।
,
,
রাজ ভিতরে গিয়ে দেখলো  তিশা সুয়ে আছে। রাজ যখনি ওর মেয়েটিকে তুলে কোলে নিবে তখনি তিশা বলে ওঠলো।
,
ঐ তুই আমার মেয়েকে কোলে নিবি না। ও শুধু আমার মেয়ে। আর কারো নয়।
,
,
তিশার কথা শুনে সবার মুখের হাসি যেন এক মিনিটেই দূর হয়ে গেলো।
,
,
কি বলছিস মা। তোর মেয়ের বাবা রাজ। সব কিছু তো আবিরের জন্য হইছে। তারপর ও রাজকে অপমান করছিস কেন?  ( তিশার মা)
,
,
মা তুমি এখানে কথা বলবা না।
,
যা কিছু করার আমি করবো।
রাজ আমাদের বাড়িতে আর থাকতে পারবে না। ও গ্রামের বাড়ি চলে যাবে। সাথে সাথে আমিও যাবো আর আমার মেয়েও।
,
,
তিশা কি বলছে ঠিক কেউ বুজে ওঠতে পারছে না। রাজও আহাম্মক হয়ে দাড়িয়ে আছে।
,
,
তিশা সবার মুখের দিকে তাকিয়ে হাসছে।
সবাই ভয় পেয়ে গেলে তাই না।
,
,
তখন সবাই বুজতে পারলো তিশা সবার সাথে মজা করছে।
,
,
রাজ আর তিশার মেয়েকে একে একে সবাই কোলে নিলো।তিন দিন পর তিশাকে বাড়ি নিয়ে গেলো।
,
,
অনুষ্ঠান  করে তিশা আর রাজের মেয়ের নাম রাখা হলো রোজা। ঐ দিন রাজের সব বন্ধুদের কে দাওয়াত করে খাওয়ানো হলো।
,
,
একদিন তিশার কথা শুনে রাজ খুব অবাক হলো।
,
রাতে তিশা রাজের পায়ে পড়ে বলল,
আমাকে তুমি ক্ষমা ককরে দাও রাজ।আমি তোমাকে অনেক অপমান করেছি।
রাজ তিশা কে তুলে বলল,
আমার কিছুই মনে নেই।
তিশা রাজকে জরিয়ে ধরে ককান্না করে দিলো।
রাজ আবার তার অফিসে জয়েন্ট ককরলো।

,
রাজ তোমাকে একটা কথা বলি।
,
,
রাজ অফিস যাবার জন্য রেডি হচ্ছিলো। হুমম বলো তিশা কি বলবে।
,
,
সেদিন সাদিয়া কি বলে তোমাকে ডেকে নিয়ে গেসিলো।
,
,
রাজ অনেকটা সময় তিশার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,সোহানের কথা বলে।
,
,
ঠিক আছে তুমি অফিস যাও।
,
,
কিছু হয়ছে কি। হঠাৎ আজকে সাদিয়ার কথা বলছো।
,
,
না কিছু হয়নি।
রাজ রোজাকে কোলে নিয়ে আদর করে অফিস চলে গেলো।
,
,
এই দিকে তিশা মনে মনে হাসছে। রাজকে সাদিয়ার কথা বললেই কেমন ভয় পায়।
,
,
আর মাত্র পাচ দিন বাকি পরেই আসছে রাজ তিশার বিবাহবার্ষিকী ।
,
,
এই পাচ দিন আগে থেকে রাজের সাথে আমার ঝগরা বাধতে হবে তারপর রাজকে সাডেনলি সারপ্রাইজ  দিবো




,

,
,

,
,
তিশা সব কিছু রেডি করে রাখলো। রাজ বিকেলে বাসায় ফিরলো।
,
,
রাজ আজ তিশার  ব্যবহার দেখে খুব অবাক হলো।হঠাৎ তিশা এমন করছে কেন। রাজ বুজতে পারছে না।
,
,
রাজ খাবার খেয়ে রুমে গেলো। তিশা মুখটা ঘুমরা করে বসে আছে। রোজা কান্না করছে এই দিকে তিশার কোনো ভ্রু - খেপ ই নেই।
,
,
কি ব্যাপার তিশা রোজা কান্না করছে আর তুমি চুপ করে বসে আছো যে।
----- তাতে আমার কি। তোমার মেয়ে তুমি দেখে রাখবে।
------ আমার মেয়ে মানে। আমাদের দুজনের ই তো মেয়ে রোজা।
----- হইছে। তুমি তোমার মেয়েকে নিয়ে আমার সামনেথেকে যাও।
---+-- কি হইছে তিশা। বলবা তো। কেন এমন করছো। আমার খাবার টাও দিলে না।
----- কিছু হয়নি তো।! 
তিশা রুম থেকে চলে আসলো। আসার আগে দেখল রাজ রোজা কে কোলে নিয়ে আনমনে কি যেন ভাবছে।তিশা একটা মুচকি হাসি দিয়ে চলে আসলো।
,
,
রাজ ভাবতে লাগলো তিশা এমন করছে কেন। আমাকে তিশা অবহেলা করুক তাতে কিছু যায় আসে না কিন্তু রোজা কে অবহেলা করছে কেন।
,
রাজ রোজা কে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। তারপর চাচা কে ফোন দেয়। কারন তারা কয়দিনের জন্য গ্রামে গেছেন।
,
রাজ জেনে চাচারা কবে আসবে। তারপর রাজ শুয়ে ঘুমিয়ে গেল। সকালে ওঠে দেখলো তিশা ও পাশ ঘুরে ঘুমিয়ে আছে। রাজ বুজতে পারলো তিশা কিছু একটা নিয়ে খেপে আছে।
,
,
রাজ রোজা কে তুলে হাত মুখ ধৌয়ে নিলো। রোজা এখন একটু দাড়াতে পারে মাত্র। একটু আম্মু আর আব্বু ও বলতে পারে। রাজ তো অবাক ছোট রোজা আদো আদো করে আব্বু ডাকে।।
,

,
 তারপর রাজ তিশার কাছে রোজা কে রেখে অফিস চলে যায়।
,
তিশা রোজা কে খাবার খাইয়ে নেয়।তারপর ওর বান্ধবি নিহা কে ফোন দেয়।
,
নিহাকে নিয়ে তিশা শপিং করে। আসার সময় তিশা রাস্তায় আবির কে দেখে। আবির কে দেখে তিশা সামান্য ভয় পায়।
,
,
রাজকে আবিরের কথা বলবে ভেবে পরে আর বলে না। তিশা ওদের বিবাহবার্ষিকী  পালন করার জন্য সমস্ত আয়োজন করে নেয়। কিন্তু রাজকে কিছুই বুজতে দেয় না।
,

ঐ দিকে রাজ ভাবতে থাকে তিশা কেন এমন করছে? 
রাজ বিকেলে বাসায় যায়।আজও তিশা রাজের সাথে কথা বলে না। রাজ তিশা কে জিগাসা করে।
----- তিশা তুমি এমন করছো কেন আমার সাথে। কি করে ছি বলবা তো??
----- তুমি মনে করে দেখ। তুমি অফিসে কি করেছো। কি ভাবছো আমি কিছু জানি না। তুমি অফিসে মেয়েদের সাথে যা তা করবে আর জানবো না।
,
---- রাজ অবাক হয়ে আছে তিশার কথা শুনে। কারন রাজ অফিসে কোনো মেয়ের সাথে তেমন কথাই বলে না। তিশা তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে।
---- হইছে তোমাকে  আর ভালো সাজতে হবে না।
--- রাজ ভেবে পাচ্ছে না। তিশা কাকে নিয়ে সন্দেহ করছে?? 
এভাবেই পাঁচ দিন কেটে গেলো। তিশা ভাবছে কাল কে রাজকে সারপ্রাইজ  দিবো।
,,
,
পরের দিন তিশা রাজের  জন্য ওয়েট করতে লাগলো। কিন্তুর রাজের ফেরার নাম নেই। রাজ তো কখনো এমন করে না। তিশা রাজকে ফোন দিলো কিন্তু ফোন অফ দেখালো। তিশা এবার খুব চিন্তায় পরে। রাজ কি রাগ করলো নাকি। তিশা একের এক ফোন  দিতেই থাকলো।
,
,
তখনি কলিং বেলের আওয়াজ হলো। তিশা মুখেই আনমনে হাসি ফুটে ওঠলো। তিশা তারাতারি করে দরজা খুলে দেখলো ওর বাবা মা আসছে। তিশার মুখটা খনিকের জন্য মলিন হয়ে গেলো।
,
,
তিশার বাবা মা রোজাকে নিয়ে কথাবার্তা  বলতে লাগলো। এমন সময় তিশার ফোনটা বেজে ওঠলো। তিশা এবারও অনেক আগ্রহ নিয়ে ফোন টা দেখে আবার ও নিরাশ হয়ে গেলো। কারন আননোন নাম্বার দেখে। অবশেষে তিশা ফোনটা রিসিভ করলো।
,,
---- হায়, তিশু বেবি।how  are you? 
---- তিশার আর বুজতে বাকি রইল না। কে কথা বলছে।
---- ঐ শয়তান তুই আমাকে ফোন দিয়েসিস কেন।
---- কুল বেবি কুল। তোমার প্রানের স্বামি রাজ এখন আমার কাছে। পারলে তুমি এসে নিয়ে যাও। আমি ঠিকানাটা  text  করে দিচ্ছি। আর হে পুলিশ কে ফোন দিয়ে ভুল করবে না। কিনতু।
,
তিশা কিছু বলার আগেই আবির ফোন কেটে দিলো। সাথে সাথে একটা এসএমএস আসলো। তাতেই ঠিকানা দেওয়া আছে।
,
,
তিশার ওর বাবা মাকে সব টা বলল। তার পর রোজা কে ওর মায়ের কাছে রেখে রেডি হয়ে চলে গেলো রাজকে বাচাতে। তিশা জানে আবির তিশাকে পেলে রাজকে ছেড়ে দিবে। যাবার আগে তিশার বাবা পুলিশের কথা বললেনন।কিন্তু তিশা না করলো।
,
,
আবির তিশাকে মাত্র এক ঘন্টার মধ্যে পৌছাতে বলছিলো কিন্তু তিশা তার আগেই পৌছে গেলো।
,
তিশা দেখলো আবির রাজকে বেধে রাখছে।
---- আবির এবার রাজকে ছেড়ে দে। আমি এসেছি।

---- ছারবো কি তুমি নিয়ে যাবে।
--- তিশা তুমি এখানে কেন আসছো??
---- তিশা কোনো কথা বলচে না।
----- তিশা তুমি চলে যাও বলছি । এই শয়তানটার কাছে ধরা দিও না।
----- তিশার এবার ও রাজের কথায় কনপার্ত করছে না।
---- আজ তোর বউ কে আমি অনেক আদর করবো। যার চিৎকার তুই এখান থেকে শুনতে পাবি কিন্তু আপসোস কিছু করতে পারবি না।
---- তিশা তুমি শুনতে পাচ্ছো ও কি বলছে।
------- তিশা কি করবে বুজতে পারছে না।তবে ও আজ আবিরের কাছে হার মেনে গেলো।
তিশা রাজকে বাচাতেই আবিরের দেখানো একটা রুমে গেল।
পিছন থেকে তিশা রাজের চিৎকার শুতে পাচ্ছিলো তবুও দাড়ানোর মতো কোনো রাস্তা পেলো না।
-- রাজ মনে মনে বলতে লাগলো হে আল্লাহ তুমি আমাকে এই দিনটা দেখার জন্য আমাকে বাচিয়ে রাখ"ছো।রাজ ভাবতে  লাগলো তিশা ঐ ঘর থেকে বাচাও বলে চিৎকার করবে আর আমাকে এখান থেকে তা শুনতে হবে
,
,
তিশা যেই রুম টা আছে আবির সেই রুমে গেলো।
আর রাজ মনে মনে আল্লাকে বলল,
হে আল্লাহ তুমি আমার তিশা কে বাচাও। ঠিক সেই সময় রাজ কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলো। তবে এটা তিশার কান্নার আওয়াজ না এতো আবির কান্না করছে।
,
আবির শুধু বলছিলো ওমা বাচাও জলে গেল। রাজ কিছু বুজতে পারছে না আবির কেন কান্না করছে।
এমন সময় দেখতে পেলো ওর দুই বন্ধু রাজকে পাহারা দেয়া ছেলে গুলোকে মারছে। রাজ অবাক হয়ে শুধু দেখছে।
,
তিশা আবিরকে লাঠি দিয়ে উদম কেলাতে কেলাতে বাইরে নিয়ে আসছে।আবির ওর দুই চোখ ধরে কান্না করছে।
,
রাজের বন্ধুরা রাজের বাধন খুলে দিলো। আর বলল ভাবি দিন বেশি করে।
তিশা আবিরকে অনেক মারছে। আর আবির শুধু বলছে ও বোন ছেড়ে দাও। আমাকেৃপুলিশে দাও। আমি আর জীবনে কোন মেয়ের দিকে তাকাবো না।
,
,
আগে বল আমার আর রাজের মধ্যে বাধা হয়ে দাড়াবি কোন দিন।?
--- না বোন আর কোন দিন এমন করবো না।
তিশা তখনও আবির কে মারছে। রাজ গিয়ে তিশাকে থামালো। পুলিশ এসে আবির ও তার ছেলেদের কে ধরে নিয়ে গেলো।
রাজ এখনো বুজতে পারছে না  তিশা আবিরকে কি করলো ও ঐ ভাবে চোখ ধরে কান্না করছিলো।
তখনি তিশা বলল,
আমি বাসা থেকে মরিচের গুরি নিয়ে আসছিলাম। আবির যখন আমাকে ধরতে গেলো। আর আমি গুরিগুলো ওর চোখে মারলাম। কাজ হয়ে গেলো।
,
রাজ তিশার কথা শুনে হা করে তিশার দিকে তাকিয়ে রইল।
তিশা রাজের মুখ টা অফ করিয়ে দিয়ে বলল এবার বাড়ি চলেন।
রাজ বাসায় গিয়ে চাচা চাচিকে দেখে বলল, তোমরা এসে গেছো।
তোর কিছু হয়নি তো বাবা ( চাচা) 
রাজ হেসে দিয়ে তিশা কি আবিরকে মারছিলো তা বলল।
তারপর রাজ রুমে গেলো। রোজা ঘুমিয়ে আছে। রোজার কপালে একটা চুমু খেলো।

,
তিশাকে কোথাও দেখতে না যখনি বাইরে পা বাড়াতে যাবে তখন তিশা পিছন থেকে জরিয়ে ধরে বলল,
হেপি মেরিজ ডে,
রাজ সামনে ঘুরে অবাক হলো আজ তিশা সেই শাড়ি পরছে যা একদিন তিশা রাজকে অবহেলা করে ফেলে দিয়েছিলো। আর আজ যে ওদের মেরিজ ডে ছিলো তা মনেই ছিলো না।
তিশা এবার বলল,
আমার gift দাও।
--- রাজ কি বলবে বুজতে পারলো না। তুমি আমাকে আগে মনে করিয়ে দিবে তো।
---+ হুমম। মনে নেই বলেই তো তোমার সাথে বানিয়ে বানিয়ে ঝগরা করছে যাতে তোমাকে সারপ্রাইজ  দিতে পারি।
রাজ এখন বুজতে পারছে সব কিছু।
,
---- gift দিতে হবে না। তবে একটা কাজ করতে হবে।
--- কি কাজ।
--- আমাকে কোলে করে ছাদে নিয়ে যেতে হবে।
রাজ তিশার বলার সাথে সাথে তিশাকে কোলে করে ছাদে নিয়ে আসলো। তিশা রাজের কোল থেকে নেমে রুপালি চাদ দেখতে লাগলো।।কিন্তু রাজ কোথাও গেলো।
এমন সময় তিশা দেখলো রাজ তিশার সামনে হাটু বসে আছে। হাতে সামান্য একটা কাগজি ফুল।
,
,
তিশা আই লাভইউ। আমি সারা জীবন তোমার পাশে থাকতে চাই। বলো আর কখনো আমাকে অবহেলা করবে না।
,
তিশার রাজের কাছ থেকে ফুল নিয়ে বলল,
অবহেলা একটু করতেই হবে না হলে ভালোবাসা কমে যাবে তো।
--- আচ্ছা করিও।
হুমম, পাগলটা আমার।
--- ওকে তাহলে পাগলি টা আমার।
এভাবেই রাজ তিশা ওদের ভালোবাসার মাঝে বেচে থাকুক।

♥♥♥♥ সমাপ্ত♥♥♥,

গল্পটি কেমন হলো জানি না। ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label