নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

বোন লেখক: আরিয়ান পাঠ:সম্পূর্ণ

বোন
লেখক: আরিয়ান
পাঠ:সম্পূর্ণ
,,
,,,

আমি: আম্মু আপু কই?

আম্মু: মেয়েটাকে আর কত জ্বালাবি?

আমি: কেন আমি কি করছি?

আম্মু: কী করিস নাই মেয়েটাকে সারাদিন একটু শান্তিতে থাকতে দিস?

আমি: আচ্ছা আমি আর আপুর কাছে যাবই না।
বলে রুমে এসে শুয়ে রইলাম। স্কুল থেকে এসে প্রতিদিন আপুর সাথে খেলা করি। ফাইজলামিটা তো বোনাস।কিন্তু আজ আপু কোথায়!  কিছু হলো না তো?

অবশেষে আপুর রুমের সামনে গিয়ে দেখি আপু শুয়ে।

আমি: আপু... আপু.....আপু?

আপু: হুম বল?

আমি: শুয়ে আছিস কেন?

আপু: এমনি শুয়ে আছি। যা ভাত খেয়ে আয়।।

আমি: তুই কেমনে জানিস আমি ভাত কাই নাই?

আপু: ছোটবেলা থেকে তোকে খাওয়াদাওয়া কে করায়।

আমি: কেন তুই।

আপু: তাহলে

আমি: তুই ছাড়া কি আমি কখনো খাই। তুই খাইয়ে দেনা আপু!

আপু: চল একলা তো আর খাবি না!

আম্মু: তোকে না করছি না মেয়েটাকে জ্বালাস না!  যখন বিয়ে হয়ে যাবে তখন কে খাইয়ে দিবে।

আপু : আরে আম্মু তুমি আরিয়ান কে বকো কেন?আমি নিজেই এসেছি।

আম্মু: যেমন ভাই তেমন বোন!  থাক তোরা

আম্মু চিল্লাচিল্লি করতে করতে চলে গেছে।

সেইদিন রাতেই আমার জ্বর আসে। সারারাত আপু আমার পাশেই ছিলো। মাথায় জ্বলপট্টি দিছে।

এভাবেই চলছিলো আমাদের দিন। হঠাৎ একদিন সব শেষ হয়ে গেলো। আপুকে দেখতে বর যাত্রী এলো। আমি খুব খুশি হয়েছিলাম  কারণ আপুর বিয়ে হবে কত্তোমজা।

দেখতে দেখতে বিয়ের দিন চলে এলো। তারা আমার আপুকে নিয়ে চলে গেলো। আপু যাওয়ার সময় বলে গেলো।

আপু: ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করিস। আম্মুকে জালাস না। আর দুষ্টামি করবি না। আমি মাঝে মাঝে আসবো।

আপু কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল। আপুর কান্নাদেখে আমি নিজে ও কেঁদে দিলাম।

আপু চলে যাওয়ার পর পুরো বাড়িটা কেমন নিস্তেজ হয়ে আছে। সারাবাড়িতে আপু আর আমার পাইজলামির চিএ ভাসতেছে।

তখনো বুঝি নি আপুর শূণ্যতা।

রাতে ঘুমাতে গিয়ে ঘুমাতে পারলাম না। সারারাত কেঁদে কেঁদে পার করলাম।এক মুর্হুতের জন্য ও চোখ বন্ধ করতে পারলাম না। শুধু আপুর স্মৃতি ভাসে চোখে।

আজ দুইদিন হলো। আজ আপু আসবে। এই দুইদিন আমি একবেলা ও খাই নাই। কারণ আপু না খাইয়ে দিলে আমি খাই না।

আসলে ভাইবোনের ভালোবাসা মনে হয় এমনই। বোনের কষ্টে মনে হয় নিজের কলিজা ছিড়ে যায়।

সমাপ্ত
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label