নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

গল্প:স্পর্শ পর্ব ৯

গল্প:স্পর্শ
পর্ব ৯
লিখা:শাহরিয়ার আশিক
(আগের পর্বগুলা আমার টাইমলাইন এ দেওয়া আছে)

আমি এই দৃশ্যটা সহ্য করতে না পেরে তখনি ওখান থেকে চলে আসলাম। আমার পৃথিবীটা যেনো অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে। যাকে নিজের থেকে বেশি বিশ্বাস করলাম সে এইভাবে আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল। এইটা আমি কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছি না।
কি দোষ ছিলো আমার সামিয়া। আমার সাথে কেনো এমনটা করলে।তোমার আমার সম্পর্কটা শুরু হয়েছিলো অনেক বড় একটা পরিক্ষার মাধ্যমে। কিন্তু পরিক্ষাই উত্তির্ণ হবার পরে আমার সাথে এমন কিছু হবে আমি কখনো কল্পনা ও করতে পারিনি।

মনে মনে এসব ভাবছি আর নিস্তব্ধ রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছি।
চোখ থেকে অঝোর ধারায় বৃষ্টি পরছে।শার্টের হাতা দিয়ে চোখ মুছতে যাবো এমন সময় আমার হাতে থাকা ফুল গুলো দেখলাম।
এই ফুলগুলো একটু আগে যার জন্য কিনলাম। যাকে ভালোবেসে সারপ্রাইজ দিবো বলে ভেবেছিলাম সে এখন আমাকে এতো বড় একটা সারপ্রাইজ দিলো। তার কাছে আমার এই ফুলগুলা মূল্যহীন।
ফুলগুলা হাত থেকে পাশের নর্দমায় ফেলে দিয়ে বাসার দিকে পা বাড়ালাম।
কিছুদূর যেতেই ফোনে একটা মেসেজ আসলো।
ফোনের লকটা খুলে দেখি সেই অচেনা নাম্বার থেমে মেসেজটা এসেছে। মেসেজটা ছিলো,
কখনো কারো ভালো করতে নেই। আপনাকে অনেক আগেই সাবধান করেছিলাম কিন্তু আপনি নিজের ক্ষতি নিজেই করলেন। আপনাকে এখনো বলছি আপনি সামিয়াকে ডিভোর্স দিয়ে দিন। আপনার লাইফটা ঠিক আগের মতো সুন্দর হয়ে যাবে।
ইতি 💜

এতোদিন পরে হঠাত আবার এই নাম্বার থেকে মেসেজটা দেখে অনেকটা ভয় পেয়ে গেলাম। আবার পূরনো কথাগুলো মনে পরে গেলো। সবকিছু ভুলে যাকে বিশ্বাস করেছিলাম আজ সে আমার বিশ্বাসের এই মর্যাদা দিলো।

হাটতে হাটতে বাসার সামনে চলে আসলাম। দরজার সামনে দারিয়ে কলিংবেলে চাপ দেওয়ার শক্তিটা ও যেনো আমার হচ্ছে  না।চাপ দিতে যাবো এমন সময় মনে হলো যদি দরজাটা মা খোলে তাহলে তো আমার চেহারা দেখলেই বুঝে যাবে যে আমার কিছু একটা হয়েছে।
তাই পকেট থেকে রুমালটা বের করে চোখ,মুখ পরিষ্কার করে যতটা সম্ভব নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলাম।
 কলিংবেলে চাল দিলাম একটু পরেই মা এসে দরজা খুলে দিলো।

বাবা বাসায় আসতে এতো দেরি হলো কেনো(মা)
অফিসে একটি কাজের চাপ ছিলো।অনেক দিন পরে আজকে অফিসে গেছিলাম।বন্ধুদের সাথে দেখা হলো, ওদের সাথে কথা বলে আসতে আসতে একটু রাত হয়ে গেলো।

আচ্ছা আই এখন খেয়ে নে। (মা)
না মা।আমি বায়রে থেকে খেয়ে এসেছি এখন আর কিছু খাব না। তোমরা খেয়েছো?
হ্যা আমরা সবায় খেয়েছি ।
মা সামিয়া কোথায়?সামিয়া খেয়েছে?
ঘুমিয়ে পরেছে হইতো। ও সন্ধ্যার দিকে একটু বায়রে গিয়েছিলো। বায়রে থেকে খেয়ে এসেছে বললো।
ওহ। আচ্ছা মা তুমি কি যাও। অনেক রাত হইছে। ঘুমিয়ে পড় তুমি।
হ্যা বাবা তুই ও যা। তুই ও অনেক ক্লান্ত তোর চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ দেখা যাচ্ছে।যা রুমে গিয়ে ঘুমাই পর।

মা চলে গেলো তারপর আমিও আমার রুমে চলে আসলাম।
রুমে ঢুকে দেখি সামিয়া ঘুমিয়ে আছে। কত সুন্দর করে ঘুমিয়ে আছে। জানালা খোলা থাকায় চাদের আলো এসে তার মুখের উপরে জ্যোৎস্না ছরাচ্ছে। এত সুন্দর মায়াবি মুখটার পিছনে যে কতো বড় বেইমান লুকিয়ে আছে সেইটা আমি ছাড়া আর কেউ বুঝতে পারবে  না।
রাগ আর ঘৃনায় সামিয়ার মুখের দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারছি না।
বিছানার উপর থেকে টাওয়ালটা নিয়ে ওয়াশরুমে যাবো এমন সময় সামিয়ার ফোনে একটা মেসেজ আসার শব্দ পেলাম।মেসেজের শব্দ পেয়েই বুকের ভেতরটা কাপতে শুরু করল।না যানি আবার সেই অচেনা নাম্বার থেকেই তাকে হইতো মেসেজ দিছে।কে কি মেসেজ দিলো দেখার জন্য মনটা ব্যাকুল হয়ে উঠল।
সামিয়া ঘুমিয়ে আছে এই সুযোগে মেসেজটা চেক করে দেখি।
আমি টাওয়ালটা ঘারের উপর রেখে মোবাইলটা হাতে নিলাম।
মোবাইলটা অন করতেই দেখলাম গ্রামীণফোন অফিস থেকে একটা মেসেজ এসেছে।আমি ফোনটা রেখে ওয়াশরুমে চলে গেলাম। ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসেই শুয়ে পরলাম। মাথায় সন্ধ্যায় যা হয়েছে সেই কথাগুলা ঘুরতে লাগলো। বার বার বলতে ইচ্ছা করছে, সামিয়া এইটা কেন করলে আমার সাথে।
এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছিলাম বুঝতেই পারিনি।

সকালে ঘুম ভাঙলো কারো স্পর্শে।মনে হচ্ছে বুকের উপর অনেক ভারি কিছু আছে।চোখ খুলতেই দেখলাম বুকের উপর আর অন্য কিছু না সামিয়া শুয়ে আছে।
মনে মনে অনেক রাগ হচ্ছে।সামিয়াকে বুকের উপর থেকে এক পাশে নামাতে যাবো এমন সময় সামিয়া আরো শক্ত করে আমাকে জরিয়ে ধরল।
এতে আমার অনেক রাগ হচ্ছে কিন্তু কেনো যানি সামিয়াকে আমার বুক থেকে নামাতে ইচ্ছে করছে না।
ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে সামিয়াকে এক প্রকার জো
র করেই বুকের উপর থেকে নামিয়ে দিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলাম ফ্রেশ হতে। আমি সামিয়াকে বুকের উপর নামিয়ে দেওয়ার সাথে সাথেই সামিয়ার ঘুম ভেঙে গেলো।
ঘুমিয়ে ছিলো তাই হইতো সে বুঝতে পারেনি।
বিছানা থেকে নেমে ওয়াশরুমে আসতে চাইলো। কিন্তু আমি দরজাটা ভিতর থেকে লক করায় সামিয়া ভিতরে ঢুকতে পারল না।

এই দরজা খুলো (সামিয়া)
কিন্তু আমি ভিতর থেকে কোনো কথা বললাম না।
কি হলো দরজা খুলতেছোনা কেনো?
আমি সামিয়ার কথায় কান দিলাম না।ফ্রেশ হয়ে কিছুক্ষন পরে বের হলাম।

কি হলো আমি তোমাকে ওয়াশরুমের দরজা খুলতে বলছিলাম, তুমি খুললে না কেনো?(সামিয়া)
এই যে এখন খুলেছি এখন ফ্রেশ হওয়ার ইচ্ছা থাকলে যেতে পারো।
কথাটা বলেই আমি নিচে চলে আসলাম।
আমাকে দেখে মোটামুটি মা এবং দোলা অনেকটা অবাক হলো।

ভাইয়া তুই এতো সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পরলি কিভাবে। তোর তো সকাল ১০-১১ টার আগে ঘুম ই ভাঙে না।কিন্তু আজ এতো তাড়াতাড়ি ঘুম ভাঙলো কিভাবে।(দোলা)
চুপ থাক তুই। আমার সকাল সকাল ঘুম ভেঙেছে। এইটা নিয়ে তোর কোনো এক্সপেরিমেন্ট করতে হবে না।
এই শাহরিয়ার সামিয়া কি এখনো ঘুম থেকে উঠেনি? (মা)
ওইদেখ মা ভাবি চলে এসেছে (দোলা)

সামিয়া নিচে এসে মা কে রান্না করতে সাহায্য করছে। আমি আর দোলা বসে কার্টুন দেখছি।
কিছু সময় পর মা খেতে ডাকল।
খাবার শেষ করে রুমে এসে অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছিলাম।
এমন সময় সামিয়া এসে আমাকে পিছন থেকে জরিয়ে ধরল।

কি হচ্ছে এইসব। তুমি দেখতে পারতেছোনা আমি রেডি হচ্ছি। এখন ডিস্টার্ব করো না।
সামিয়া আমার ব্যাবহারে অনেকটা অবাক হলো। নিমিষেই সামিয়ার মুখটা মলিন হয়ে গেলো।
সামিয়া গিয়ে বিছানাই বসে এক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি দেখেও না দেখার ভান করলাম।
রেডি হয়ে রুম থেকে বের হবো কিন্তু হঠাত সামিয়া আমার সামনে এসে দারালো।
কি হইছে তোমার?এমন অচেনা মানুষের মত বিহেভ করছ কেনো(সামিয়া)
কিছু হইনি আমার। আমি ঠিক আছি। বলেই সামিয়ার পাশ কাটিয়ে চলে আসলাম।
নিচে এসে দেখি মা বসে আছে।
শাহরিয়ার বাবা এইদিকে আই (মা)
হ্যা মা কিছু বলবা (মায়ের সামনে গিয়ে বললাম)
হঠাত কলিংবেলের আওয়াজ শুনতে পেলাম।
মা তুমি বস আমি দেখে আসছি।
আমি গিয়ে দরজাটা খুললাম স্বাভাবিক ভাবে কিন্তু যা দেখলাম সেটা দেখে আর স্বাভাবিক থাকতে পারলাম না।

দরজার ওপাশে দেখি সামিয়া দারিয়ে আছে।কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব সামিয়া তো তার রুমেই আছে। আমি মাত্রই সামিয়ার সামনে দিয়ে আমার রুম থেকে বের হলাম। তাহলে সামিয়া এখানে আসলো কিভাবে।

চলবে,,
(পরবর্তি পর্ব পরতে Addবা ফলো করে সাথেই থাকুন)
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label