নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

বিসিএস_ক্যাডার_হয়েছি লেখকঃমাহামুদুল হাসান মহাব্বত

বিসিএস_ক্যাডার_হয়েছি
লেখকঃমাহামুদুল হাসান মহাব্বত
এটা সবাই জানে,কিন্তু এর পিছনের কারনগুলো হইত কারো জানা নেই।
-অতীতগুলো ছিল এইরকম
-বাবা ছিলেন জেলে।প্রতিরাতে জাল দিয়ে মাছ ধরতো,আর সকালে তা বিক্রি করতো।
-আমি যখন ছোট ছিলাম,তখন আমিও প্রতিরাতে বাবার সাথে মাছ ধরতাম।
-মা অন্যের কাথা সেলাইয়ের কাজ করতো।
অনেক অভাব অনটনের সংসার আমাদের।
প্রতিদিন তিনবেলা খেতে পারতাম না।
পেটে সবসময় ক্ষুদা লেগেই থাকতো।
এই পরিবারে আবার বৃদ্ধ দাদা-দাদিও ছিলো।
আমার উপদেশ দাতা,এই বৃদ্ধ দাদাই ছিলেন।
- উপদেশগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতাম।
আমার একটা ছোট বোন ছিল,আমার খুব আদরের সে।
সবসময় আমার পিছু পিছু ঘুরতো।
-তারপর,আমি যখন ক্লাস সেভেনে উঠলাম,
-মা হঠাৎ করেই মারা গেল।
-যেদিন মা মারা যায়,সেদিন মাকে ধরে খুব কেঁদেছি। ছোট বোনটার জন্য অনেক কস্ট হচ্ছিলো।
-তারপর,বাবা আরেকটা বিয়ে করলো। সৎ মায়ের আচরন ও অত্যাচার একদম ভাল লাগতো না।
-বাবা সকালে উঠে বাজারে যেত,তাই মা ঘুম থেকে দেরি করে উঠতো।
তাই প্রায় প্রতিদিন না খেয়ে যেতে হত।
স্কুলে যাওয়ার সময়,দাদি কতকদিন,হাস-মুরগির ডিম চুরি করে আমাকে দিতো।
আমি সেগুলো বিক্রি করে,দুপুরবেলা কিছু খেতাম।
এভাবে,অনেক কস্ট করে স্কুল করতাম।
লেখাপড়ায় অনেক ভাল ছিলাম।সেই সুবাদে স্কুলের হেডস্যার আমার প্রাইভেট খরচ,স্কুলের বেতন,পরিক্ষার ফি,ফরম ফিলাপ সবকিছুই মওকুপ করতেন।
তারপর এসএসসিতে খুব ভাল রেজাল্ট করলাম।আমাদের থানার ভিতর ১ম।
সবাই অনেক খুশি,
কিন্তু মা যেন হিংসার আগুনে পুড়ে যাচ্ছিলো।
বাবাকে ডাক দিয়ে বলতো, ছেলেকে এত লেখাপড়া করানোর দরকার নাই,কাল থেকে যেন মাছ মারতে যায়।
এমনিতেই সংসার চলে না।
এই কথাগুলো শুনে যখন খুব খারাপ লাগতো,
তখন একদৌড়ে বাড়ির পিছনে মার কবর পাড়ে যেতাম।
মার কবর জড়িয়ে ধরে অনেক কান্না করতাম,আর সব কথা মাকে বলে দিতাম।
হঠাৎ,খেয়াল করতাম আমার মাথায় কেউ একজন হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
পিছন ফিরে দেখি,আমার সেই ছোট বোন।
সেও নাকি,আমার মত মায়ের কাছে বিচার দিতে এসেছে।
তারপর এইচএসসি পাশ,ঢাবিতে চাঞ্জ(অনার্স-মাস্টার্স)বিসিএস ক্যাডার।
অতীত গুলো মনে পড়লে খুব কস্ট হয়।তবে একটা কথা বলতেই হয়,পৃথিবীতে এখনো ভাল মানুষ আছে।তবে অতি নগন্য।
যাদের একটু সাহায্য,অনুপ্রেরণা আর ভালবাসা আজ আমাকে,আমাদের মতো ছেলেদের এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে।
ভালবাসা অবিরাম সেই মানুষগুলোর জন্য।
সেই মানুষগুলো আজ প্রমান করে দিয়েছে
#মানুষ_মানুষের_জন্য
(কাল্পনিক একটা গল্প,তবে হইত কারো জীবনের, যা বাস্তবতার সাথে একটু মিল রেখে লিখেছি,আর ভুল ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃস্টিতে দেখবেন)
লেখকঃমাহামুদুল হাসান মহাব্বত
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label