নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

গল্প চাচাতো বোনের ভালোবাসার অবহেলা সব পার্ট

গল্পঃ চাচাতো বোনের অবহেলা।
লেখিকা: তিশা
পর্ব: ১
টিউশনি থেকে বাসায় ফিরছি। শরীরটা আজকে অনেক ক্লান্ত লাগছে। জানি বাসায় ফিরলে তিশার বকা শুনে শরীর টার সাতে সাথে মনটাও অনেকটা ক্লান্ত হয়ে যাবে।সবদিন গুলোর মতো আজকেও বাসার কলিং বেল বাজিয়ে দাড়িয়ে আছি।জানি তিশা ভিতরেই আছে তবুও দরজা খুলে দিবে না।বিগত দিনগুলোর মতোই চাচিমা এসে দরজা খুলে দিলো। আমি দেখলাম তিশা টেলিভিশন দোখচে। আমি আমার রুমের দিকে যাচ্ছিলাম আর তখনি তিশা বলতে শুরু করল।
ঐ ফকিরের বাচ্ছা ঐ দিকে কই যাসরে তামিমকে কে পড়াবে রে? তোর বাপ এসে পড়াবো নাকি রে??? একটা মানুষের টা বসে বসে খেতে অনেক মজা লাগে ফকিরের বাচ্চা। ছোট লোক কোতাকার লজ্জা করে না আমার বাবার টাকার খেতে পড়তে।
আমি কিছুই বললাম না চুপচাপ রুমে চলে এলাম। গোসল করতে গিয়ে অনোক সময় কান্না করলাম। এ কান্না নিরব কান্না কেউ শোনেনা এমনকি চোখের পানিও মিশে যায় সাধারণ পানির সাথে। প্রতিদিন এটা আমার রুটিন হয়ে গেছে। আসুন পরিচিত হই।
আমি রাজ বাবা মা কেউ নেই এতিম। চাচার বাসায় থাকি। অর্নাস ৩য় বর্ষে পরি। টিউশনিও করি কিন্তু তাতে আমার খরচ চলে না।তিশা আমার চাচার মেয়ে। আমি ওর দূচোকের কাটা। অনেক বকা দেয় আমাকে। দেখলেন ই তো। চাচা চাচি অনেক ভালো। তাই তো থাকতে পারচি। তামিম তিশার ছোট ভাই। তিশা আমি একসাথেই পরি। আসলে ওকে আমি কিছুই বলতে পারি না কারন আমি তিশাকে ভালোবাসি। আজও ভালোবাসি কথাটা বলা হয়নি তিশাকে। কিকরোই বা বলবো যে আমাকে দেখতেই পারেনা। যাই খাওয়া করে তামিম কে পরাই।
চাচি মা ভাত দাও।
হুমমম,বাবা তুই বস তিশা দিচ্ছে, তিশা রাজকে ভাত দো তো।
জানি তিশা চাচিমাকে কিছুই বললো না তবে আমার কপালে যে আজকে আর ভাত জুটবে না সেটা খুব ভালো করোই বুঝলাম।
ঐ ছোট লোকের বাচ্ছা এখনো বসে আছিস কেন আমি তোকে ভাত দিবো ভেবে। কখনোই দিবো না।
আমি কিছুই বললাম না।কারন কিছু বললে হয়তো একটা চর ও মারবে। তামিম কে পড়াচ্ছি কিন্তু খিদায় পেটটা জ্বলে যাচ্ছে। পড়ানো শেষে রুমে যাচ্ছিলাম সবাই তখন খাচ্ছিল। চাচা ডাক দিলো, অনেক খুশি হলাম হয়তো খেতে পারবো তা আর হলো কই।
খেয়েছিস রাজ??
আমি হ্যা বা না বলার আগেই চাচি মা বলে উঠলো রাজ খেয়েছে, আর তিশাও আমার দিকে রাগি ভাবে তাকালো। আমি কিছুই বলতে না পেরে বললাম আমি যাই ঘুমাবো সকালে টিউশনি আছে। আমি রুমে এসে শুয়ে ভাবতে লাগলাম চাচিমাতো অন্যায় কিছু বলে নি তার মেয়ে খেতে দেয়নি তা তো আর দেখেনি। যাইহোক পেটে খিদা নিয়েই ঘুমিয়ে যাই। এমনতো অনেক রাত কাটাইচি না হয় আজকেও কাটাইলাম।।।
সকালে,,,,,,,,,,
,,,,,,,,,,,,,,,,,,চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,

চাচাতো বোনের অবহেলা
লেখিকা: তিশা
পর্ব:০২

যাই হোক পেটে খুদা,নিয়েই ঘুমিয়ে যাই।
এমন তো অনেক রাত কাটাইছি না হয় আজকেও কাটাইলাম।
তারপর আমি ঘুমিয়ে গেলাম।
সকালে, 
আমার ঘুম ভাংল ফজরের আজান শুনে। আমি ওঠে আমি নামাজ পরতে গেলাম।

যখনি টিউশনি তে যাবো বলে বের হবো চাচি মা পিছন থেকে ঠেকে ওঠলো।
রাজ খেয়ে তারপর যা।
আমি চাচিমার কথা শুনে অবাক হলাম।এর আগে তো এত সকালে খেতে বলেনি।
কি ভাবছেন চাচি মাও আমাকে দেখতে পারে না।
আরে না।

চাচিমা এত সকালে ওঠে না।
ওনি আমাকে অনেক আদর করেন।
তাই তো থাকতে পারছি।

হে চাচি মা বলো??
খেয়ে তারপর টিউশনি তে যা
আমি টেবিলে খাবার দিচ্ছি।

না আমি এখন ঠান্ডা ভাত খাবো না

চাচিমা রেগে বলে ওঠলো।
দিবো এক চর।তোর জন্য রান্না করেছি।

আমি খেতে বসে দেখালাম সত্যি চাচিমা রান্না করেছে।
তুমি এত সকালে রান্না করতে গেলে কেন??

তুই কাল রাতে খাসনি কেন
বলতো। তিশার আব্বু জিগ্যাস করলো তুই বললি খেয়েছি। না খেয়ে কেন মিথ্যে বললি?
তুই জানিস তিশা বদমেজাজি।

।।
এমনি বলিনি।
হইছে এবার খাবার খেয়ে যা তো।

আমি নাস্তা করে টিউশনি করাতে করাতে নয়টা বেজে গেলো।।
আমি তারাতারি করে বাসায়,এসে রেডি হয়ে কলেজ যাবো বলে বের হলাম।
।।ল

রাস্তায় দেখি তিশা দাড়িয়ে আছে।
আমি কিছুই বললাম না জানি কিছু বললেই বকা দিবে।
আমি আস্তে আস্তে হাটতে লাগলাম।
তিশা হয়তো রিকশা করে আসবে।আমার তো।এত টাকা নেই।
টিউশনি করিয়ে নিজের খরচ টা চালাই কোন মতে।


কিছুদুর যেতেই তিশা ডেকে ওঠলো।
এই রাজ দাড়া।
আমি তিশার ডাক শুনে ঘুরে দাড়ালাম

তিশা এসে বলল চল।
আমি তিশার দিকে হা করে তাকিয়ো রইলাম।
তিশা বলে ওঠলো।।কি রে এমন করে তাকিয়ে আসিস কেন?
না এমনি।।



তারপর দুজনে হেটে কলেজ পৌছালাম। আজ খুব অবাক হলাম তিশা হেটে আসলো কেন।।


যতারীতি আমি কারো সাথে তেমন কথা বলি না।,্চুপবচাপ থাকি


তিশা ওর বন্ধ দের সাথে কথা বলছিলো। আমি বকুল গাছের নিচে বসে বই পড়ছিলাম।

হঠাৎ একটা মেয়ে এসে বললল,
রাজ তোমাকে একটা কথা বলতে চাই।
আমি ওপরে তাকিয়ে দেখি নিপু।মানে আমার ক্লাস মেট।

হুম বলো কি বলবা?
_____ আসলে আমি একটা চ্যাপ্টার বুজতে পারছি না।তুমি যদি বুজিয়ে দিতে।
____ ঠিক আছি।কোথায় প্রবলেম বলে।
নিপু আমার পাশে বসার সাথে সাথে তিশা এসে বলল,
কি হচ্ছে এখানে??


আমি তিশার কথায় কি বলবো বুজতে পারছি না।শুধু বললাম ও আমার কাছে নোট নিতে আসছে।

নিপু তুই যা নোট আমি দিবো। রাজের ধারে কাছেও জেন তোকে না দেখি।
আমি ওঠে দাড়াতেই তিশা আমাকে একটা থাপ্পুর মারলো।
আর বলল,
আমার বাবা টাকায়,খেয়ে পড়ে আবার প্রেম করতে চাস?
আমি যদি বাবার কাছে না বলিছি তো আমার নাম তিশা নয়।
বলেই তিশা চলে গেলো।
আমার চোখ দিয়ে দুফোটো জল টপ করে পড়ে গেলো।
তিশা রে আমি ও তোমাকে ওল্টো থাপ্পুর দিতে পারতাম। শুধু পারি না তোমাকে ভালোবাসি বলে।আর আব্বু কথা দিয়েছিলাম যত কষ্ট আমি যেন চাচা চাচির কাছেই থাকি।


আমি কলেজ থেকে ফিরলাম।গোসল করে যখনি খেতে যাবো। তখনি চাচিমা বলল,

রাজ দেখতে তিশা রুমে কি করছে ওকে। খেতে আসতে বল।

জি চাচি মা।
আমি তিশার রুমের সামনে দাড়িয়ে আছি। খুব ভয় হচ্ছে যদি আবার বকা দেয়।

আমি আর না ভেবে দরজা ডেলে ভিতরে ডুকলাম
আমাকে দেখেই তিশা রেগে ওঠলো।

এ ফকিন্নির বাচ্চা তুই আমার রুমে কেন??
___ চাচিমা তোমাকে খেতে ডাকছে তাই আসছি।
___ ও এখন বাহানা তাই না।আসলে তোর মতো লুচু ছেলে কে আমার ভালো করে চিনা আছে। যা বের হ বলছি।।


আমি কিছু না বলই চলে আসলাম।এসে খাওয়া করে আবার টিউশনি তে গেলাম।


রাতে বাসায় ফিরার পর চাচা বলল,
রাজ ফ্রেস হয়ে আয়।তোর সাথে কথা আছে।

আমি ফ্রেস হয়ে এসে বসলাম।
চাচা বলতে শুরু করলো।
তোকে কলেজে পাঠাই কি প্রেম করতে!

চাচা তুমি এসব কি বলছো।আমি এসব কিচ্চু করিনি
আমার কথাটা শুনা মাত্র চাচা আমাকে মারতে আসলো।চাচিমা সামনলে নিলো।
তারপর চাচা যা বলল,
আমি শুনে শুধু অবাক ইহলাম।
তোর ফোন কোথায়??
রুমে আছে চাচা?
____ হুম।নিতু নামের মেয়ে টা তোকে এত ফোন দেয় কেন।আর এসব কিসব এসএমএস?

আমি ফোন টা হাতে নিবার আগেই চাচা ফোনটা আছাড় দিয়ে ভেঙ্গে দিলো।

আর বলল,
এমন করলে আমার বাড়িতে একটুও জায়গা হবে না বলে দিলাম।
বলেই চাচা চলে গেলাম।
আমি মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রইলাম।
একটু পর তিশা এসে বলল,
ফকিন্নির বাচ্চার ডং কত!


আমি কিছুই বললাম না।কি বলবো আমার যে যাবার মত কেউ নেই। হায়,রে তিশা তোকে ভালোবাসি বলেই এত কথা।

আমি রাতে তামিম কে পড়িয়ে ঘুমিয়ে গেলাম।
।।
প্রতিদিন আমার রুটিন অনুযায়ি চলতে থাকলাম।
তিশা ছেলেদের সাথে অনেক মিশে। আমার অনেক হিংসে হতো।বাট কিছু বলতে পারতাম না ভয়ে।


আমি প্রতিদিন তিশা কে নিয়ে আমার ভালোবাসার কথাগুলো লিখে রাখতাম।
আর একটা করে খুচকি হাসি দিতাম।মাঝে মাঝে ভাবতাম বেকার ভালো বাসি আমি।
তিশা কোন দিন আমার ভালোবাসা মেনে নিবে না।


তারপর আমি গুমিয়ে গেলাম


আজ শুক্রবার তাই নিজের কাপড় গুলো ধুয়ে দিলাম।আমি শুয়ে আছি এমন সময় তিশা এসে বলল,
রাজ একটা কাজ করে দে তো?
এখানে এক হাজার টাকা আছে।আম্মু তোকে বাজার করে নিয়ে আসতে বলছে।
তারাতারি নিয়ে আসবি।।
এই তার লিস্ট। আম্মু খালামনির বাসায় গেছে। এসে রান্না করবে কিন্তু


হুমম।আমি টাকা নিয়ে যখনি একটা শার্ট বের করলাম। তিশা বলে ওঠলো।
ছোট লোকের আবার শার্ট পড়তে হয়।আর টাকা চুরি করবি না। একদম।


তিশা কথাগুলো শুনে অনেক খারাপ লাগলো।
তারপর আমি বাজার করে নিয়ে আসলাম।

জুমাতে যাবো বলে রেডি হচ্ছিলাম।চাচা ডাকতে শুরু করল।আমি তারাতারি করে গেলাম।

চাচা আমাকে ডাকছিলে?
হুম।এ নে তোর গিফট?
___ কিসের গিফট চাচা?
__ আরে আজ শুক্রবার না।তাই তোর জন্য এই পান্জাবি টা কিনে নিয়ে আসলাম।
খুলে দেখত কেমন।

আমি পান্জাবি টা দেখে হেসে দিলাম আর বললাম।
অনেক সুন্দর চাচা


চাচা হাসি দিয়ে বলল, যা বেটা পড়ে আয়।চাচা ভাতিজা নামাজে যাবো আমি।
আজ আমার অনেক খুশি লাগছে।আর বাবার কথাও মনে পড়ছে। আমি বাবার সাথে পান্জাবি পরে নামাজ এ যাইতাম।


আমি নামাজ পরে এসে খাওয়া করে যখনি রুমে যাচ্ছিলাম।চাচা বলে ওঠলো।
রাজ এদিকে আয় তো



আমি সামনে গিয়ে দাড়াতেই চাচা আমার হাতে দুশত টাকা দিয়ে বলল,
কোতা থেকে ঘুরে আয়।আজ তো ছুটি। আমি টাকা নিতে চাইলাম না।কিন্তু না নিয়ে ও কোন উপায় নেই।


আমি রুমে বসে ভাবতে লাগলাম। আজ না হয় তিশা কে প্রোপজ করি দেখি কি হয়।


কিন্তু তিশা কে কেথায়ও ঘুরতে নিয়ে যাবো এটা বলার সাহস আমার নেই।


তাই চাচাকে গিয়ে বললাম।চাচা আমি তিশা কে নিয়ে বাইরে যাই?

যা। আরো ভালো দুজন মিলে ঘুরে আয়।তিশা কথাটা শুনে আমার দিকে রাগি ভাবে তাকিয়ে আছে।
আমি চাচাকে বললাম
তুমি বলে দাও তাহলে।তিশা যাবে।


তিশা মা যাতো রাজের সাথে দুজনে গুরে আয়।
তিশার চাচার কথা ফেলতে পারে না।ভয় পায় বললেও চলে।

তিশা রাজি হয়ে গেলো।
আমি তিশা নিয়ে একটা নদীর পাড়ে গেলাম



তিশা জায়গা টা দেখে অনেক খুশি। ও সেলফি তুলায় ব্যস্ত।
আমি দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছি।হঠাৎ ই তিশা বলে ওঠলো।
রাজ আয় তোর একটা পিক ওঠায়।
আমি না করলে ও বলল
আসবি না মাইর খাবি।
কাশফুলের মাঝে দাড়িয়ে আমি একটা পিক ওঠালাম।


আমি আগেই লুকিয়ে একটা গোলাপ নিয়ে ছিলাম।
আমি বুক অনেক সাহস নিয়ে আল্লাহ এর নাম নিয়ে তিশার সামনে দাড়ালাম।

তিশা তোমাকে কিছু বলতে চাই।
__ বল।কি বলবি।
___ আমি তোমাকে "
__< কি আমাকে
___ আ আমি তোমাকে। কথাগুলো বলতে গিয়েও পারছি। ভালোবাসি কথাটা বের হচ্ছে না।
____ কি বলবি বল তারাতারি বলছি।
___ খুব ভয় হচ্ছে তিশা যদি মারে।আর চাচা চাচিকে বলে দেয়।
না বলেই ফেলি
আমি তোমাকে ভ,,,,,,,,,
বলেই আটকে গেলাম

কি বলতে চাস কি তুই??
তারাতারি বল না হলে এক থাপ্পুর দিয়ে কথাটা বের করে নিবো।


আমি কি বলবো বুজতে পারচি না।
না বললেও তিশা আমাকে ছাড়বে না।আমি বলে ফোললাম।
আমি তোামাকে ফুচকা খাওয়াবো।প্লিজ না করো না।


তোকে একটা থাপ্পুর না দুটো দেওয়া দরকার। এই কথা বলতে এত সময় নিলি।
চল।



তারপর তিশা কে নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে নিয়ে আসলাম।তিশা ফুচকা খাচ্ছে আমি তাকিয়ে দেখছি।আমি আজও পারলাম না বলতে।


আমি তিশা কে নিয়ে বাসায়,চলে আসলাম।রাতে বসে বসে আমার মনের কথাগুলো ডায়েরিতে লিখে রাখলাম।
আজ সত্যি অনেক ভালো লাগছে। তিশা আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেনি।
।।

আমি বারান্দায় হাটতে বের হলাম।
আমি হঠাৎ দেখলাম তিশা ফোনের দিকে তাকিয়ে আমার দিকে আসছে।আমি দাড়িয়ে গেলাম আর ভাবলাম এখন বলবো।
কিন্তু তিশা আমার পাশ কেটে চলে গেলো।
আমি কিছুই বলতে পারলাম না।
আমি নিচের দিকে তাকিয়ে দাড়িয়ে আছি।তিশা আমার সামনে এসে দাড়ালো।আর একটা থাপ্পুর মারলো।
আমি আজ আর সহ্য করতে পারলাম না।আঘাত করলাম ভালোবাসার মানুষটিকে। আমি তিশাকে একটা ঠাসসসসস করে থাপ্পুর মারলাম,,,,,
,,,,,
,   
,,,,, চলবে।

চাচাতো বোনের অবহেলা
লেখিকা: তিশা
পর্বঃ০৩

আমি আজ আর সহ্য করতে পারলাম না।আঘাত করলাম ভালো বাসার মানুষটিকে।
আমি তিশা কে একটা ঠাসসস করে থাপ্পুর মারলাম।

তিশা আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।হয়তো ভাবছে আমার এত সাহস কোথা  থেকে পেলাম।

তিশা আমাকে বলে ওঠলো
শয়তান, লুচ্চা তুই আমার ওড়না ধরে টান দিয়েছিস কেন??

আমি তিশার কথা শুনে নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলাম।।
তিশার ওড়না টা সোপার সাথে আটকে আছে।

আমি ওড়না টা ছাড়িয়ে বললাম।
আমি এত টাই নিচ না আর আমি লুচ্চা ছেলেও না। যে তোমার ওড়না ধরে টানবো।
দেখো তোমার ওড়নাটা আটকে ছিলো।মিথ্যে ভুল তুমি খুব ভালোই বুজতে পারো।

কথা গুলো বলেই আমি চলে আসলাম।
রাতে শুয়ে আছি তামিম এসে বলল,
ভাইয়া খেতে আসো আম্মু তোমাকে ডাকছে।

আমি খেতে গেলাম।খাওয়া অবস্থায় দেখলাম তিশা আজ চুপ কিছুই বলছে না। আমি আর কথা বাড়ালাম না।

খাওয়া করে এসে ঘুমিয়ে গেলাম।
প্রতিদিন কার মতো আমার কাজ চলছিলো।তিশা বকা আর আমার সহ্য করা।


আমি একদিন তিশা কে একটা ছেলের সাথে দেখে অবাক হলো। কে এই ছেলে টা হয়তো আমি জানি না।আজ খুব হিংসে ও হচ্ছে। কি করবো।
আমি যে অনেক ভালো বাসি তিশা কে।


রাতে বাসায় ফিরলাম।চাচি মা খেতে ডাকলো কিন্তু আমি কিছুই বললাম। মনে শুধু একটা প্রশ্নের উদয় হলো যে ছেলে টা কে।


আমি আর সহ্য করতে পারলাম না।রাত দশটায় তিশার রুমে গেলাম।তিশা তখন ফোনে এসএমএস করায় ব্যস্ত।
।ক
তিশা তোমার সাথে আমারন কিছু কথা আছে।
তিশা আমার কথা শুনে বলল কি কথা আর এত রাতে তুই এখানে কেন।
আমি কিছু কথা বলতে চাই।
তাই আসছি।


কি কথা বল,
তোমার সাথে আজকে একটা ছেলেকে দেখলাম।ছেলেটা কে??

কেন? সে কে তুই জেনে কি করবি?
___  আমাকে বলো কে সে??
--- বলবো না।
____ তুমি তাকে ভালো বাসো??
_____ বাসলে বাসি তাতে তোর কি ছোটলোকের বাচ্ছা।
_<_ তিশা তুমি আমার বাবা মাকে বকা দাও কেন।
আমি শুধু জিগ্যস করেছি ছেলেটি কে।তাতেই তুমি বকা দিবা??
___ আমার রুমে এত রাতে কেন আসছিস ছোটলোকের বাচ্চা। বের হ বলছি।আরেক দিন আমার রুমে দেখলে তোকে ঘাড় থাক্কা দিয়ে বের করিয়ে দিবো।
বের হ বলছি। না হলে আমি চিৎকার করবো বলছি।


থাক তিশা আমি চলে যাচ্ছি।
আমি এসে ঘুমিয়ে গেলাম।
সকালে ওঠে আমি আমার কাজে চলে গেলাম।


রাতে আমি একটু শুয়েছিলাম।তিশা বলল
কি রে ছোটলোকের বাচ্চা শুয়ে আসিছ।তামিম কে পড়াবে?
এ তোর লজ্জা করে না। তুই আমার বাবার টাকায় খাস।
আমি হলে কবে বেরিয়ে যেতাম। তুই এখান থেকে যাস না। কেন

তোকে দেখলে আমার গা জলে।তুই চলে গেলে আমি খুব খুশি হবো তুই বাড়িতে একটা আপত মাত্র।


আমি বিছানা থেকে ওঠলাম না।আমি শুয়ে শুয়ে কান্না করছি। খুব কষ্ট হচ্ছে।
আমার তো সব কিছু ছিলো। একটা ঝর এসে সব ভেঙে গেছে।পৃথিবীতে জায়গার অভাব নেই। আমি আর এ বাসায়,থাকবো না।চলে যাবো তিশা। থাকবো না এ বাড়িতে।
তুমি তো আমাকে সহ্য করতে পারো না। আমি চলে গেলো যদি খুশি হও তো আমি চলে যাবো।

কাল সকালে চাচা কে মিথ্যে কিছু বলে হলেও চলে যাবো।
আমি আর তিশার চোখের কাটা হয়ে থাকবো না।

তারপর আমি ঘুমিয়ে গেলাম

সকালে ঘুম ভাঙ্গল।কারো কান্নার আওয়াজ শুনে।কে কান্না করছে বুজতে পারছি না।

একটু পরেই বুজতে পারলাম চাচার রুমে কান্না করছে।
আমি ওঠে তারাতারি করে গিয়ে দেখলাম। চাচা চোখ বন্ধ করে পড়ে আছে আর চাচি তিশা কান্না করছে।

আমি কিছুই বুজতে পারছি না।
আমি তিশা কে বললাম
তিশা কি হইছে চাচার। এমন কান্না করছো কেন


তিশা চুপ করো আছে আর কান্না করছে।
এ তিশা কি হইছে বলবে তো

রা রাজ আব্বু হঠাৎঅজ্ঞান হয়ে গেছে। আর কথা বলছে না।প্লিজ কিছু একটা কর??

আমি কি করবো বুজতে পারছি না

আমি অনেক কষ্টে চাচা কে কুলে তুলে নিলাম তার পর গাড়ি করে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম।


একটু পর ডক্টর এসে বলল,
ওনি হার্ট এটাক করেছেন।অনেক টাকা লাগবে। চাচি মা
আমাকে কিছু টাকার কথা বললেন।আমি তিশা কে নিয়ে
বাসা থেকে ঐ সব টাকা নিয়ে আসলাম।


আরো টাকা লাগবে তাই তিশা সহ চাচি কে হাসপাতালে রেখে আমি টাকা কালেক্ট  করতে চলে আসলাম।


অনেক চেষ্টা করে কিছু টাকা নিয়ে ফিরলাম।
চাচি মা আমাকে দেখেই বলল,
রাজ টাকা পেলি??
___ হে চাচি মা।কিছু টাকা পেয়েছি। তোমরা তো কিছু তো খাওনি বসো।আমি খাবার নিয়ে আসছি।

বলেই আমি বাইরে গিয়ে খাবার নিয়ে আসলাম।খাবার এনে তিশার হাতে দিয়ে বললাম নাও খেয়ে নাও।
তিশা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
আমি খাবো না।
আজ প্রথম তিশা কে কান্না করতে দেখলাম।

কি তিশা কান্না করছো কেন??
____ আব্বু আব্বু বলেই তিশা কান্না করে দিলো।
___ কি পাগলামি করছো। চাচা ঠিক ভালো হয়ে যাবে। নাও খেয়ে নাও।

চাচি মা কেও খাবার দিয়ে বসে রইলাম।
একটু পর তিশা এসে বলল,
রাজ তুই খাবি না??
,
,
না আমি খাবো না।আমি খেয়েছি।
তিশা আমার কথা শুনে আর কিছু বলল না। চুপ করে বসে রইলো।

একটু পর ডক্টর এসে বলল,
কোন ভয় নেই ওনি সুস্থ্য হয়ে যাবে।
চাচি মা চাচার কাছে রইল।
আমি আর তিশা বসে আছি সাথে তামিমও।
একটু পর একটা লোক এসে বলল,
আপনি বলছিলেন রক্ত দিবেন।চলেন।
তিশা কথাটা শুনে বলল
কিসের রক্ত দিবে ও।
___ আমাদের কে রক্ত দিবেন বলেছেন।
<__ রাজ এসব কি বলছে এ লোক টা?
____ আমি এ কে চিনি না তিশা। এ ভাই আপনি যান তো।।লোক টা ইশারা দিয়ে যেতে বললাম।

আর তিশা কে বললাম।
লোক টা ভুল করছে।

তিশা শান্ত হয়ে গেলো।
আসলে আমি টাকার জন্য রক্ত বিক্রি করতে চাইছিলাম।



তিনদিন পর চাচা কে ছুটি দিলো।চাচা কে নিয়ে বাসায় আসলাম।তারপর আমার কাজ গুলো আবার করতে লাগলাম।


একদিন আমি ওয়াস রুমে ছিলাম। তিশা আমার রুমে আসলো।
আরে বলাই তো হলো না তিশা আজ কাল পরির্বতন হয়ে গেছে।
আজ কাল আর বকা দেয় না।

তিশা আমার রুমে ডুকে টেবিলের ওপর একটা ডায়রি দেখতে পেলো।

তিশা কৌতুহল বশত পড়তে লাগলো।
তিশা ডায়েরিটা পরতে গিয়ে অবাক হলো
প্রতিটা পেজে তিশার অবহেলা গুলো লিখা।আর ভালোবাসি তিশা তোকে খুব।কিন্তু বলতে পারি না।


তিশা আরো পড়তে লাগলো
জানো তিশা তোমাকে আজ নদীর পারে নিয়ে বলতে চাইছিলাম I love you বাট পারলাম না বললাম ফুচকা খাওয়াবো।

জানো না তো তিশা সেদিন বিকেলে আমি আমি তোমার ওড়না টেনে ধরিনি।আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।সেদিন তোমাকে থাপ্পুর দিয়েছি। কিন্তু জানো ব্যাথাটা আমার গায়ে লেগেছে।


সেদিন ঐ ছেলেটা কে তোমার সাথে দেখে খুব হিংসে হচ্ছিলো। বাট আমি সেদিন হেরে গেললাম।কারন তুমি সেই ছেলে টাকেই তো ভালো বাসো।

তুমি তারপর যখন বললে আমি চলে গেলে খুশি হবো। সেদিন ঠিক করছিলাম আমি চলে যাবো। কিন্তু পর দিন চাচা অসুস্থ্য হয়ে গেলো।আমি যেতে পারলাম না।
আমি চাচা চাচির মাঝে আমার বাবা মার ছায়া দেখতে পাই। খুব ভালোবাসি চাচা চাচি কে। আমি সারাজীবন এ পরিবারে থাকতে চাই। কিন্তু আমাকে একদিন চলে যেতে হবে।তিশা আমাকে তুমি যতই অপমান করো আমি আমার বাবা মা কে ছেড়ে কোথাও যাবো না।আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।

তিশা ডায়েরিটা পড়ে ডুকরে কেদে ওঠলো।।


তখনি আমি ওয়াশ রুম থেকে বের হয়ে আসলাম
তিশা আমার দিকে তাকিয়ে আছে
আমি তিশার হাতে ডায়রিটা দেখে ভয় পেয়ে গেলাম।

রাজ আস্তে আস্তে তিশার সামনে আসতেই তিশা যা বলল।রাজ তা কোন দিন কল্পনাও করেনি,,,,,,
,,
,
,
,
____< to be continue.....

গল্পঃচাচাতো বোনের অবহেলা।
পর্বঃ০৪
লেখিকা: তিশা


রাজ আস্তে আস্তে তিশার সামনে আসতেই তিশা যা বলল।রাজ তা কোন দিন ও কল্পনাও করতে পারেনি।


রাজ এতে কি সব লিখা সব সত্যি!?



রাজ কিছু বলার আগেই তিশা রাজকে জড়িয়ে ধরলো
I love you raj....  কেন এতো দিন বলিসনি তুই আমাকে এতো টা ভালোবাসিস। I love you sooo....much raj. তিশা রাজকে এমন করে জরিয়ে ধরছে যেন মনে হচ্ছে রাজ তিশাকে ছেড়ে যাবে।





রাজ তিশাকে জরিয়ে ধরতে চেয়েও ভয় পাচ্ছে যদি তিশা মারে। রাজ আজ এতো খুশির মাজেও কান্না করছে।

 রাজ কখনো কল্পনাও করেনি তিশা এভাবে নিজে থেকে ভালোবাসি কথাটা বলবে।


 রাজ যেন জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়াটা পুরন করছে।

---তুই আমাকে সত্যি।
ভালোবাসিস তো?  এই ডায়রির কথা গুলো সত্যি তো রাজ??? (তিশা)


---+++রাজ চুপ করে মনে মনে হাসছে।

----এই রাজ তুই চুপ করে আছিস কেন।
---হুমম,ডায়রিতে যা লেখা আছে সব ঠিক ছিলো।
। তোমাকে ভালোবাসতাম এখন আর বাসি না। যত তারাতারি সম্ভব আমি তোমাদের বাসা ছেড়ে চলে যাবো। (মিথ্যা বলল রাজ কারন তিশা কি করে তাই দেখতে চায়)


---সত্যি তুই আমাকে ভালোবাসিস না। আমি তোকে অনেক অবহেলা করছি। কিন্তু আজ তোকে অনেক ভালোও বাসি বিশ্বাস কর রাজ প্লিজ।


--++আমি তোমার যোগ্য না তিশা। আমি ইতিম। ছোটলোকের বাচ্চা। ফকিরের বাচ্ছা। আর আমার মতো ছেলে কখনো তোমাকে ভালোবাসতে পারে না।
কথাগুলো বলতে রাজের খুব কস্ট হচ্ছিলো তবুও বলল।তারপর রাজ টিউশনিতে চলে গেলো।



তিশা রুমে বসে রাজের কথাগুলো ভাবসে রাজ সত্যি বলছে কেন আমার ভালোবাসা মেনে নিবে। আমি তো ওকে একটুও মেনে নেইনি বা বুঝারও চেস্টা করিনি।


আজ তিশা নিজেকে খুব অপরাধি ভাবছে। একটু অবহেলার জন্য আমরা আমাদের ভালোবাসার


 মানুষকে হারিয়ে ফেলি। আর ভুলটা যখন বুঝতে পারি তখন আর সময় থাকে না পিছনে যাবার।



রাজ রাতে বাসার সামনে এসে কলিংবেল বাজাতেই তিশা দরজা খুলে দিলো।


আজ তুমি ঘুমাওনি তিশা। চাচি মা কোথায়??


মা ঘুমাচেছে। আমার ঘুম আসছিলো না তাই জেগে আছি।


রাজ কিছু না বলে রুমে চলে গেল। তিশা পিছন পিছন গিয়ে রাজ বলল,


রাজ আমাকে তুই ক্ষমা করে দে। আমি তোর সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করছি। আমি তোকে অনেক ভালোবাসি রাজ।


তিশা তোমার প্রতি আমার কোনো রাগ বা অভিযোগ ও নেই। প্লিজ তুমি যাও এখন।তুমি কখনো আমাকে ছোটলোকের ফকিরের বাচ্চা ছাড়া কথা বলো নি। যাতা অপমান করছো কি ভাবছো সব কিছু ভুলে গেছি আমি?? কিছুই ভুলে যাইনি আমি। আমি ইতিম। ইতিম হইয়ে ই থাকতে দাও।

হুমম,আমি তোমাকে ভালোবাসতাম এখন আর বাসি না। অনেকটা ঘৃণা করি তোমাকে।



তিশা রাজের কথাগুলো নিচের তাকিয়ে, শুনছে আর কান্না করছে। আজ তিশার মুখে কোনো কথা নেই। তিশা যেনো বোবা হয়ে গেছে।


রাজ তিশাকে কথাগুলো বলে বাসা থেকে বের হয়ে গেলো।



রাজ রাস্তা দিয়ে হাটছে আর মনে মনে বলছে সরি, তিশা আমাকে ক্ষমা করে দিও তোমাকে আজও অনেক ভালোবাসি। তুমি আমাকে আজ ভালোবাসো এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া ছিলো কিন্তু আমি যে গরিব।


 জানি আজ তুমি অনেক কসট পাচ্ছো আমার কথাগুলো  শুনে। বিশ্বাস করো তোমাকে কসট দিতে গিয়ে আমার তিনগুন বেশি কস্ট হচ্ছে। কি করবো বলো চাচা যে তোমার বিয়ে ঠিক করে রাখছে। সামনের মাসেই তোমার বিয়ে হবে। একটা সুখের সংসার হবে। চাচার স্বপ্ন পুরন হবে। ডাঃবলেছেন চাচাকে উত্তেজিত করা যাবে না। কি করে আমার এতো বড়  স্বপ্ন টা ভেঙ্গে দেই বলো। I love you tisa but I am really sorry..


রাজ কথাগুলো মনে মনে বলতে একটা দোকানে এসে পৌচালো।

 মামা একপ্যাক সিগারেট দেনতো।রাজ কোনো এসব খায়নি কিন্তু  আজকে কষ্টটা মেনে নিতে অনেক কষ্ট হচছে। রাজ সিগারেট নিয়ে ছাদে চলে গেলো। একেরপর এক সিগারেট টানতে লাগলো। কিছুই আর রাজের ভালো লাগছে না। তারপর রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে গেলো।
এভাবেই কয়েকদিন কেটে গেলো। তিশা আর আগের মতো রাজে বকা দেয় না। সারাক্ষন রাজকে অপমান করার কথা ভেবে কান্না করে

।।
। তিশা ঠিক করলো আজ রাজকে আর একবার বুঝাবো।


আজও তিশা রাজের কথার কাছে হেরে গেল।
দেখো তিশা একটা কথা বলি তোমাকে। তোমার বিয়ে ঠিক করে রাখছে চাচা তাকেই বিয়ে করো সুখি হবে।আর যত তারাতারি পারি তোমাদের বাসা ছেড়ে চলে যাবো কারন চাচা এখন পুরোপুরি সুস্থ্য আছে।



তিশা রাজের মুখে বিয়ের কথা শুনে কিছুই বুঝতে পারলো না ওর মাকে বলল,



মা আমার নাকি বিয়ে ঠিক হয়ে আছে?? আমি তো কিছই জানি না??



হুমম তোর বাবার বন্ধুর ছেলে আবিরের সাথে। সামনের মাসেই তোদের বিয়ে হবে।



কি কখনো না আমি ঐ শয়তান আবিরকে বিয়ে করবো না। বিয়ে যদি করতেই হয় রাজকে করবো অন্য কাউকে না তার আগে নিজেকে শেস করে দিবো। কতাটা মনে রেখো মা।



তিশার মা খুব অবাক হলো। সে বুজতে পারলো এই কথাগুলো একবার তিশার বাবার কানে পৌচালে ওনি আবার অসুস্থ্য হয়ে যাবেন।



রাতে রাজ বাসায় ফিরলে তিশার মা রাজকে সবটা খুলে বললেন আর রাজকে দূরে সরে যেতে বললেন।



রাতে রাজ শুয়ে শুয়ে কান্না করছে আর বলছে কি দোষ করছিলাম আল্লাহ বাবা মাকে নিয়ে গেলে আর আমাকে রেখে গেলে।এতো গুলো।কষ্ট পাবার জন্য???........



______ চলবে????

চাচাতো বোনের অবহেলা
লেখিকা: তিশা
পর্ব: ০৫।শেষ পার্ট

রাতে রাজ শুয়ে শুয়ে কান্না করছে আর বলছে। কি দোষ করেছিলাম আল্লাহ। বাবা মা কে নিয়ে গেলে আর আমাকে রেখে গেলে।
এত গুলো কষ্ট পাবার জন্য???


রাজ ঠিক করে নিলো কিছু একটা বলে ও গ্রামে চলে যাবে কারন এমনি তে চাচা যেতেই দিবে না।

রাতে রাজ ঘুমিয়ে গেলো।
সকালে রাজের ঘুম ভাগ্ঙল তিশার ডাকে।

____ রাজ,  এই রাজ। উঠ এবার বাবা তোকে ডাকছে।
___ তুমি যাও আমি আসছি।
তিশা চলে যাবার পর আমি ফ্রেস হয়ে চাচার রুমে গেলাম।

চাচা আমাকে দেখে ই বলে ওঠলো।
এত বেলা করে ঘুমানো ভালো না। তোকে কিছু টাকা দিচ্চি বাজার করে নিয়ে আয়।আজকে আবিরের বাবা মা আসবে।
তারাতারি আসিস কিন্তু।চাচা আমার হাতে টাকা গুলো দিয়ে বলল,

আমি রুমে যেতেই তিশাআসলো।রাজ তুই আব্বু কে বলল,
তুই আমাকে ভালোবাসিস??
না হলে আমি গিয়ে বলি??
___ তিশা তুমি পাগল!  জানো না তুৃমি চাচা অসুস্থ্য।তুমি কি চাও বলতো।
আর কে বলেছে আমি তোমাকে ভালোবাসি। একটুও তোমাকে ভালোবাসি না।আর শুনো তুমি আমাকে করা অপমান গুলো ভুলে গেলেও আমি ভুলে যাইনি।

তোমাকে নিয়ে ডায়রিতে লিখতাম ঠিক আছে। বাট তোমার করা অপমানে সব ভালোবাসা চলে গেছে।তোমার জন্য আমার কোন ভালোবাসা নেই।যা আছে সব ঘৃনা। তুমি আমাকে ভালোবাসলেও আমি তোমাকে ভালোবাসি না।যতটা ভালোবাসতাম তার চেয়ে বেশি ঘৃণা করি এখন।


তুমি কখনো ভালোবাসি কথাটা নিয়ে আমার কাছে আসবা না।আর চাচা তোমার বিয়ে ঠিক করেছে তাকেই বিয়ে করো। আর যদি তোমার বাবা কে মৃত দেখতে চাও তাহলে যা খুশি করো।তবে আমি চাচা কে অনেক ভালোবাসি। কোন দিন সে আমাকে ছোটলোকের বাচ্চা বা ফকিন্নির বাচ্চা বলিনি।


তুমি আমাকে ভালোবাসো না রাজ? ( তিশা)
_____ না ( রাজ)
___ তাহলে ঐ ডায়রির লেখা গুলো মিথ্যে??( তিশা)
তিশার উপর আমার খুব রাগ হলো।।
দিলাম ঠাসসস করে এক থাপ্পুর।
আর এক বার যদি বলো ঐ ডায়রির কথা তাহলে আমার চেয়ে খারাপ আর কেউ হবে না।এই রাজ এতো দিন সব সহ্য করলেও এখন আর মানবো না।

আমার চোখের সামনে থেকে

তুমি যাও।আর কখনো এই এতিম ছোট লোকের বাচ্চার কাছে আসবা না।


তিশা রাজের কথাগুলো শুনে আজ শুধু কান্না করছে।
রাজ বাজারে চলে গেলো।
রাজও খুব কষ্ট পাচ্ছে।
রাজ ঠিক করে নিলো।
না আমাকে এখান থেকে চলে যেতে হবে।


বিকেলে আবিরের বাবা মা তিশা কে দেখতে আসলো।
তারা বিয়ে ঠিক করে গেলো।।


একমাস পর বিয়ে হবে। তিশা বসে বসে কান্না করছিলো।
রাজ সকল আত্মীয় দের আপ্যায়ন  করে যাচ্ছে


তিশা মনে মনে বলছে,
রাজ তুই এতটা পাশান হলি কি করে। কত হাসি খুশি তুই। সব কাজ করে যাচ্চিস।

সব অতিথি চলে যাবার পর রাজ শুয়ে পড়লো।
রাতে তিশা রাজের রুমে ডুকে বলল,
রাজ বিশ্বাস কর আমি তোকে অনেক ভালোবাসি। আমি তোকে ছাড়া বাচবো না।প্লিজ রাজ।

তিশা তোমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে এসব তুমি কি বলচো।
আর এত রাতে কেন আমার রুমে আসছো। বের হও তিশা।


একদিন আমি তোকে অবহেলা করতাম আর আজ তোকে ভালোবাসি । কিন্তু তা মেনে নিচ্ছিস না।রাজ আমি নিজেকে শেষ করে দিবো তবুও আবির কে বিয়ে করবো  না। কথা টা,মনে রাখিস। তিশা যা বলে তাই করে।


বলেই তিশা চলে গেলো। আমি কি করবো তিশা আমিও যে তোমাকে  অনেক ভালোবাসি।
তবুও বার বার ফিরিয়ে দিচ্ছি 



আমার ভাবনায় ছেদ পরলো চাচি মার কথায়।
,
রাজ তুকে একটা কথা বলতে চাই??
<<<

____ জি,  বলো? ( রাজ)
____ আমি তোকে মায়ের মতো আদর করি। তুই এ মায়ের কথা শুনবি তো।
___চাচি মা বলো কি কথা। আমি সব শুনবো।
__ তুই আমার বাড়ি থেকে চলে যা।আর কখনো আসবি না।আমি তিশার সব কথা শুনেছি। আমার মেয়ে কে আমি সামলে নিবো। যত তারাতারি সম্ভভ চলে যা,।
আর তোর চাচা জেন এসব না জানতে পারে।


চাচিমার কথা গুলো শুনে নিজেকে খুব অসহায়,লাগচিলো।
তবুও বললাম হুম।
আমি চলে যাবো। তুমি নিশ্চিত  থাকো।

সে রাতে একটু ও ঘুমাতে পারলাম না।সারা,রাত চোখ দুটো ভিজে আসছে।


আমার কাজ গুলো নিয়ম মাফিক চলছিলো।আর তিশার বিয়ের ডেইট টাও এগিয়ে আছসে। চাচি মা আর আগের মতো নেই।আমার সাথে তেমন ভালো করে কথা বলে না।


তিশার বিয়ের ঠিক দশ দিন আগে আমি চাচার সামনে গিয়ে দাড়ালাম।

মিথ্যে একটা অযু হাত নিয়ে।
_____ চাচা আমি কালকে গ্রামে চলে যাবো।
চাচা আমার কথা শুনে অবাক চোখে তাকিয়ে বলল,
____ গ্রামে চলে যাবি মানে??
___= হে,  ঐ খানের একটা স্কুলে আমার জব হয়েছে। পরশু জয়েন্ট  করতে হবে। আর আমি ঐখানেই থাকবো।
____ তোর জব হলো একবার ওতো বললি না? 
__ আসলে চাচা সারপ্রাইজ  দিবো বলে যানায়নি।
____ তা না হয় মানলাম বাট তিশার বিয়ে তুই চলে যাবি।?  এটা কি করে হয়। আচ্চা শুন রাজ বিয়ের ঠিক দুদিন আগে চলে আসবি কেমন।।


আমি মাথা নারিয়ে হ্যা জবাব দিলাম।কখনো ভাবতে পারিনি। চাচা এত সহজে রাজি হয়ে যাবে।


আমি রাতেই টিকিট  কেটে নিয়ে আসলাম।সকাল সাতটায় বাস।তাই তারাতারি করে এসে সব গোচাতে লাগলাম।


তখনি তিশা এসে বলল,

____ মিথ্যে বাহানা দেখিয়ে চলে যাচ্ছিস তাই না।
___ আমি কিছুই বললাম না চুপ করে রইলাম।
_____ তিশা আবার ও বলল,
ঠিক আছে যা মুক্তি দিলাম।তবে বিয়ে আমি করবো না।দরকার হলে মরে যাবো।

আমি কিছু বলার আগেই তিশা চলে গেলো।
আমি আবার কাপড় গোচাতে মনোযোগ দিলাম।


রাতে একবার ছাদে গেলাম। এই ছাদে তখনি আসতাম যখন তিশা আমাকে বকা দিতো।
একটু বসে থেকে চলে আসলাম।তারপর ঘুমিয়ে গেলাম।


সারা রাত তিশা কান্না করলো।ও জানে রাজ সত্যি চলে যাবে।

সকালে ওঠে রাজ সবার কাছ থেকে বিদায়,নিয়ে বেড়িয়ে গেলো।
রাজের আজ খুব কষ্ট হচ্ছে যাদের বাবা মা ভাবতো তারাও পর হয়ে গেললো।



রাজ বাসে বসে বসে কান্না করছে। আর ওর ভিতরটা জেন ফেটে যাচ্ছে।
ফোন টা বের পালিয়ে তুলা তিশার পিক গুলো দেখছে আর চোখের পানি মুচতেছে 


হঠাৎ রাজের ফোনটা বেজে ওঠলো।রাজ দেখল ওর চাচার ফোন।
রাজ রিসিব করতেই ঐ পাশ থেকে বলতে লাগলো,
রাজ তুই কোথায়??
<___ চাচা আমি বাসে বসে আছি।
___ বাবা তুই তারাতারি হাসপাতালে চলে আয়?
____ কেন চাচা কি হয়েছে?
____ কথা না বাড়িয়ে তারাতারি আয় বলছি।


আমার খুব ভয় হচ্ছিলো তিশা কিচ্চু করে বসলো না তো আবার?
আমি বাস থেকে নেমে একটা সিএনজি করে তারাতারি করে হাসপাতালে গেলাম।
আমাকে দেখেই চাচা এসে একটা
ঠাসসসসসসসশ করে মারলো আর বলল,
আমার মেয়ে যদি মরে তোর খবর আছে। খায়িয়ে পরিয়ে তোকে কাল সাপ পুসে ছিলাম।
আমার মেয়ে আজ মারা যাচ্ছে তোর জন্য।মিথ্যে আজ চলে যাচ্ছিস।


চাচা তিশার কি হয়েছে?
__< চুপ একদম চুপ থাকবি?
চাচার কথা শুনে আমি  চুপ হয়ে গেলাম।

একটু পর ডক্টর এসে বলল,।
ভয় নেই তিশা সুস্থ্য হয়ে যাবে।

চাচি মা বলল,
তুই চলে যাবার পর ও অনেক গুলো ঘুমের ঔষধ খেয়ে পড়ে যায় পড়ে হাসপাতালে নিয়ে আসি।


আমি তিশার কাছে যেতেই তিশা অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলো।।

এসব কি করলে তুমি তিশা । আজ যদি কিছু হয়ে যেত?
___< হলে হতো তাতে তোর কি।
এখন আসছিস কেন।
তুই একটা ছোটলোকের বাচ্চা।অসভ্য।তুই একটা অসহ্য।।


আমার চোখের সামনে তেকে দূর হ।

আমি তিশার কথা শুনে মুচকি হাসচি। তিশা কান্নার জ্ন্য ঠিক করে কথাও বলতে ও পারছে না


আচ্চা মরার জন্য তো অনেক সিস্টেম ছিলো।ঘুমের ঔষধ কেন।?

আমার ইচ্চে তাই।
তুই কেন আছিস।চলে যা বলছি। বলেই তিশা আমাকে মারতে লাগলো।


আমি তিশা কে জরিয়ে ধরে বললাম,
হবে এই ছোট লোকের বাচ্চার বউ!?
কথা দিচ্চি সুখে রাখবো।

না আমি তোর বউ হবো না।এখন তুই আমাকে ভালোবাসি কথাটাই বলিস নি।


সব কথা বলতে নেই কিচু কতা বুজে নিতে হয় মেম??
আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।
তিশা আমাকে জরিয়ে ধরলো আর বললো আমিও অনেক ভালোবাসি তোমাকে।

আমি তিশার কানে কানে বললাম,
আরেক বার যখন মরার ইচ্ছে হবে আমাকে বলিও আমি একটা  হারপিক কিনে দিবো কেমন।
তিশা শুনেই আমার দিকে রাগি ভাবে তাকালো।।আর আমি হাসতে লাগলাম।

একটু পর চাচা আর চাচি মা আসলো।
<____ তিশার মা এই শয়তান টার বিয়ে দিতে হবে। আমি আবিরের বাবা কে বুজিয়ে না করে আসি। আর আজ তুই রাতে তিশা কে নিয়ে বাসায় চলে যাস।


চাচা চাচি চলে যাবার পর তিশা বলে ওঠলো।দেখলি কেমন মরার অভিনয় করে বিয়ে টা ঠিক করে দিলাম।


তারপর চাচা আবিরের বাবাকে বুজিয়ে আমাদের বিয়ে ফাইনাল হলো।


কাল আমাদের বিয়ে। আজ জানি কেমন খুশি খুশি লাগছে।
জীবনে ভাবতে পারি নি। তিশা কে আমি পাবো 


যথারীতি আমাদের বিয়ে হয়ে গেলো।
আমি বাসর ঘরে ডুকতেই তিশা বলে ওঠলো,
এত দেরি করলি কেন??

এমন বউ জীবনে আর দেখিনি বর কে তুই করে বলছে( রাজ)
___ বলবো একশ বার বলবো। তোর কোনো সমস্যা।( তিশা)
___ না গো কোন সমস্যা নেই ( রাজ)
___ লেট করলি কেন? ( তিশা)
____ আরে বন্ধুরা ছিলো তাই আরকি বলে আমি খাটে বসতে যাবো  তখনি তিশা বলে ওঠলো।
এই বসবে না। আমাকে আজকে প্রোপজ করতে হবে। তাও আবার হাতে গোলাপ নিয়ে।
আচ্চা মুশকিল এত রাতে গোলাপ কই পাবো।

____ তা তো আমি জানি না।
আমাকে গোলাপ দিয়েই প্রোপস করতে হবে।
__== প্লিজ লক্ষ্মি টি রাগ করে না।অন্য দিন করি কেমন।
___ না এখনি করতে হবে। না হলে অন্য শাস্তি হবে।
___ বলো তিশা কি শাস্তি??
____ আমাকে এখন কুলে করে ছাদে নিয়ে যেতে হবে।
____ ওকে।বলেই আমি তিশা কে  কুলে নিয়ে ছাদে ওঠলাম।ছাদে গিয়ে আমি খুব অবাক হলাম।ছাদ টা সুন্দর করে সাজানো তাতে হাজারো গোলাপ ও আছে।
তিশা হঠাৎ বলে ওটলো
" Happy birthday raj
আমি চমকে ওঠলাম। আজ আমার জন্মদিন ছিলো আর আমারি মনে ছিলো।
তিশা আমার হাতে একটা কালারফুল মুরানো গিফট বক্স দিলো।


আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম।তিশা ইশারা দিলো খুলতে।
আমি খুলে আরো বেশি অবাক হলাম।


তাতে একটা গ্লোড বলের ভিতরে দুটো লাভার এক সাথে বসে আচে।

তিশা বলে ওঠলো থাকবে তো সারা জীবন আমার পাশে এভাবে।

আমি পাশ থেকে একটা গোলাপ নিয়ে হাটু ভেঙ্গে বসে বললাম,
হায় প্রেয়সি আমি সারা টা জীবন শুধু তোমাকেই চাইবো।
I love you.
.
..
তিশা চোখের জল মুছতে মুছতে আমাকে জরিয়ে ধরলো।
আমি মনে মনে বললাম সারা জীবন তোমাকে এবাবেই বুকে জরিয়ে রাখবো।


সমাপ্ত।
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label