নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

রূপ বদল Bangla Golpo Rup Bodol

রূপ বদল
Bangla Golpo Rup Bodol
লেখকঃ ইমরান
.
রাত তখন ১২ টা।  মোবাইলের ডিসপ্লেতে ইসিতা নামটা ভেসে উঠলো।
-একটু দেখা করো, প্লিজ!  খুব দেখতে ইচ্ছে করছে তোমাকে।  (ইসিতা)
-তাই বলে এতো রাতে? (আমি)
-প্লিজ আসো না,  আমি তুল পারে আসতেছি ।
ইসিতা মোবাইল রেখে দিলো।
ইসিতার সাথে রিলেশন শুরু হলো দুই দিন।   তারি ভিতর পাগলামি শুরু।
তুল পার বেশি দূর না।  হেটে যেতে 12 মিনিট লাগবে। ইচ্ছা না থাকলেও যেতে হবে। নতুন রিলেশন যদি কিছু হয়ে যায়?
আমি তুল পারে পৌছাতে 12:20 বেজে গেলো।  ইসাতে তখনো আসে নি।  কিছুক্ষন ওয়েট করা যাক।   জনশুন্য এলাকাটা৷  হঠাৎ তিন জন লোক আমাকে ঘিরে ধরলো।  বুঝতে বাকি রইলো না ছিনতায় কারির মুখে পরছি৷ হাতের মোবাইলটা নেওয়ার আগে ইসিতাকে একটা ফোন দেই।
- হেল্লো,  ইসিতা তুমি এখানে এসো না প্লিজ,  যত সম্ভম বাসায় চলে যাও৷ (আমি)
ইসিতা  আর কি বললো কিছু শুনতে পারি নি।  মাথার পিছনে কে যেন লোহা দিয়ে বিকট ভাবে আঘাত করেছে। মোবাইলটা হাত থেকে পড়ে গেলো। মুখ দিয়ে রক্ত পড়তে লাগলো।  পিছনে ঘুরে একহাজার ভোল্টের সকট খেলাম।  ইসিতা!!
হাতে একটা লোহার  পাইপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।  তখন বুঝে উঠলাম ওরা ছিনতাইকারী না,  ইসাতার গ্যাং এর লোক। কিন্তু ইসিতা আমার সাথে এরকম কেনো করছে? 
-ইসিতা তুমি??
ইসিতা কিছু না বলেই   আবার লোহার আঘাত  করলো।  মুহূর্তে মাটিতে ঘরিয়ে পরলাম৷ মাথা ফেটে চৌচির৷ রক্ত সাদা শার্টটা লাল হয়ে গেলো৷ 
-ওই শোন,  ওকে আর মারা লাগবে না।  এই অবস্থায় হাত পা বেঁধে নদীতে ভাসিয়ে দে।  পীঁপড়া মেরে হাত নষ্ট করার প্রয়োজন নেই।  আর শোন যদি একটু এদিক সেদিক হয় তাহলে তোদের তিন জনের লাশ কুকুরকে খাওয়াবো। এই সালা যেন কোনো মতেই বাঁচতে না পারে। (ইসিতা)
আমি মাথাই সজা করতে পারি না।  মরার মত পরে আছি।  ইসিতার কথা গুলো শুনে।  বুকটা ফেটে চৌচির।  কাকে এতো ভালবাসছি?  ইসিতা  আদো কি মানুষ নাকি মানুষ রুপি জানোয়ার? আমাকে কেনো মারবে।
আরো গল্প পড়ুন ভালো লাগা থেকে ভালোবাসা Valobasar Golpo Bhalo laga Thake Balobasa
আমার হাত পা  বাঁধা, ইসিতা চলে গেলো তাদেরকে প্লান মুতাবেক বুঝিয়ে৷ একটা গাড়িতে উঠালো।  আমার জীবনটা এখানেই শেষ?  নিজেকে নিজে প্রশ্ন করলাম।  চিৎকার করবো?  মুখতো বাঁঁদা, ।  দৌড়ে পালাবো? না তাও পারবো না।  আমাকে গাড়ির পিছনের ডেকে রাখা হলো।
কিছুক্ষন পর গাড়ি ছেড়ে দিলো।  নাহ কিছু একটা  করা দরকার,  যেভাবেই হোক বাঁচতে হবে।  মোবাইলটা তুল পারে পরে আছে   ।  পিছনের সিটের স্টিল একটু বের হয়ে আছে তার সাথে হাতের বাঁধনটা কাটার চেষটা করলাম।  কিন্তু পারছি না।  অনেক ট্রাই করে  সফল হলাম ,  ভাঙ্গা হৃদয়ে একটু বাঁচার সাহস আসলো।  হাতের চামরা উঠেগেলো দড়ির সাথে।  এবার নিজের হাতে পায়ের বাঁধন খুলতে যাবো তখনি গাড়ি ব্রেক কষলো৷ বুঝছি তারা চেক করতে আসছে।  আমি আবার আগের মত শুয়ে পরলাম।
তারা ডেকের ডাকনা উঠিয়ে আমাকে আগের মত দেখে

চলে গেলো৷ ডেকটি  যেনো  পুরোপুরি আটকাতে না পারে তার জন্য হাতের দড়িটা  ডেকের ডাকনার নিচে রেখেছি।
গাড়ি পুনোরায় চলতে লাগলে।  হাত দিয়ে পায়ের বাঁধন খুলে নিলাম।  আমি সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ডেক  থেকে লাফিয়ে পড়ে গেলাম।  চলন্ত গাড়ি থেকে লাভ দেওয়ায় ডান হাত পুরোটাই রাস্তার সাথে আছরে গেছে।  মুখের ডান পাশটাও।  চোখে একটু ব্যাথা পেয়েছি৷  এতো কিছুর দিকে নজর দিয়ে লাভ নাই।  তারা আবারো রিটার্ন করবে।  এক্ষুনি পালাতে হবে।  এই রাতের আড়ালে কোথায় যাবো। 
তুল পার গিয়ে পোরে যাওয়া মোবাইলটা খুজে পেলাম।  স্কিনে ইসিতার ছবিটা এখনো ঝলঝল করছে।
আমি এক দৃষ্টি তাকিয়ে ছিলাম।
-কি ক্ষতি করেছি তোর যার জন্য তুই আমাকে মারার প্লান করলি? তোর ভালোবাসার আড়ালে রক্ত পিপাসার লোভ কেন জাগলো।  আমিও একদিন এর প্রতিশোধ নিবো।
.
রাত তখন দুইটা।
মাথা থেকে পা পর্যন্ত ব্যাথায় টন টন করছে।  আর কত  রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবো।  শরীরটাও দুর্বল হতে চলছে।  কোনো দিন ভাবি নি এমন একটা পরিস্থিতে পরবো। 
মেচে  যাওয়া যেবে না।  হওতোবা ইসিতা আমার পালানোর খবর পেয়ে সেখানেও লোক ঠিক করে রেখেছে।
কিছু দূরে হাসানের বাসা।  সেখানে গেলাম দড়জায় নক করলাম?  মনে হয় সবাই ঘুমায়।  মোবাইলে কল দিলাম।  অনেক্ষন পর কল ধরলো।
-বন্ধু দড়জা খোল? (আমি)
-  বন্ধু তোর এই অবস্থা কেনো?  কি হয়েছে তোর? (হাসান)
- চলন্ত গাড়ি থেকে লাভ দিছি?  (পুরো সত্য না বলে আংশিক সত্য বললাম)
কোনো ভাবেই হস্পিটাল যাওয়া যাবে না। বিপদ এখনো কাটেনি।
সুস্থ হলে হাসানকে সব জানাবো।
রাত গড়িয়ে সকাল হলো।  হাসান কাছের ক্লিনিক থেকেই ডক্টর এনে ট্রিটমেন্ট করলো।  মাথার চার চার করে আটটি সিলাই লাগলো। ডান হাতটা পুরোটাই বেন্ডেজ।  মুখ চোখ দুইটাও।  হাসানকে বলে দিসে আমি যে তোর বাসায় আছি তা কোনো দিন কাউকে বলবি না।
দিন পার হতে লাগলো।  এরে মধ্যে খবর পেলাম ইসিতার অন্য একটা অন্তরঙ্গ হয়েছে।  আজ হাসান দুই জনকে এক সাথে রেস্টুরেন্টে দেখেছে। 
 (চলবে,,,,,,)
(ভুল ত্রুটি মার্জনীয়)

আরো গল্প পড়ুন ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা Valobasar Golpo Bhalo laga Thake Balobasa
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label