নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

মজার গল্প রাঙা বউ bangla Golpo Ranga Bow পর্ব ০১ লেখাঃরুপা ইসলাম


মজার গল্প রাঙা বউ
bangla Golpo Ranga Bow
পর্ব ০১
লেখাঃরুপা ইসলাম

বাবার দেওয়া কথা রাখতে বিয়ে করতে বাধ্য হই।বিয়েতে একেবারেই মত ছিলো না।প্রথমত,আমি ভালোবাসতাম তনু নামের এক মেয়েকে। দ্বিতীয়ত,শুনেছি মেয়েটি কালো। এ কথা শোনার পর প্রথমেই মাথায় আসলো বন্ধুদের কথা।তারপর অফিসের সহকারীদের কথা।আমি সুদর্শন পাত্র।গায়ের রঙ ফর্সা। কালো বউ নিয়ে কোনো অনুষ্ঠানে গেলে লজ্জায় আমার মাথা কাটা যাবে।আত্মীয়-স্বজনরাও কথা শোনাতে ছাড়বে না।আসলে আমরা লোকে কি বলবে সেটা নিয়ে বেশি ভাবি কিনা!বউ এর সাথে সুন্দরী বিশেষণটা যোগ হলে আমাদের অহংকার বেড়ে  যায়।আর কালো বিশেষণটা যোগ হলে মাথা নিচু হয়ে যায়।

বাবা যখন কাঁদো কাঁদো কন্ঠে এসে বললেন,
তুই কি চাস আমার বন্ধুর কাছে আমি ছোট হয়ে যাই??

 আমি আর না করতে পারিনি।তাছাড়া  বাবার কথা অমান্য করার সাহস আমাদের পরিবারে কারোরই নেই।আমারও নেই।বাবার সামনে গেলেই আমার দম ফুরিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে যায়।তাই মনের অমতে হলেও বিয়েতে মত দেই।তবে মন থেকে বিয়েটা মানতে পারিনি।বিয়ের কোনো নিয়ম কানুনও ভালো করে পালন করিনি।মেয়ের ছবিটাও দেখিনি।

   আমার এমন অবস্থা দেখে বিয়েটা ধুমধাম করা হয়নি।বউ এর প্রসাধনী আর বেনারসিটাও মানস্মত কিনিনি আমি।মনে মনে বললাম," যা কিনেছি তাই ঢের।ভালো কিছু তাকে শোভা পাবে নাকি?সে তো কালো! "

হাতে গোনা কয়েক জন মানুষ নিয়ে বিয়ে বাড়ি যাই।বাবা না থাকায়  দেনমোহর নিয়েও ঝামেলা করলাম।যেখানে বর্তমানে আট লাখ থেকে দশ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য  হয় কখনো কখনো এর বেশিও ধার্য হয় সেখানে মেয়ের বাবা মাত্র পাঁচ লাখ টাকা দাবি করলো।তবুও আমি রাজি হইনি।অবশেষে দুই লাখ টাকা কাবিননামায়  লিখা হলো।

কাবিননামায় স্বাক্ষর করার সময় দেখলাম মেয়েটির নাম রুপা।মনে মনে বললাম, "রুপ নাই, নাম তার রুপা।"

সুন্দরী কোনো মেয়ের বাবা হলে নিশ্চিত বিয়েটা ভেঙ্গে দিতেন কারণ  শুরু থেকেই আমরা ভালো ব্যবহার করিনি।হয়তো রুপার বাবা খুব অপমানিত হয়েছে। হয়তো  রুপা লজ্জায় খুব কেঁদেছে।হয়তো কান্না করতে করতে আল্লাহকে বলেছে,"হে আল্লাহ, কেন আমি বিয়ের উপযুক্ত হওয়ার আগে মরে গেলাম না?তাহলে আজ আর আমাকে নিয়ে  আমার পরিবারকে এতো বিড়ম্বনায় পরতে হতো না।"

বিয়ের কাজ সম্পন্ন করে বাড়ি ফিরলাম রাত ৯ টা নাগাদ।শহর থেকে দূরে হওয়ায় বেশ সময় লেগে গেল। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম, "শশুর বাড়ি আর যাব না।"

বাড়ি ফিরতেই বাবার মুখটা খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠলো।নিজেই কাছে এসে মাথায় হাত রেখে বলে উঠলো," বেঁচে থাক বাবা।তুই আমার মুখ রাখলি।"

কিভাবে তার মুখ রাখলাম আমি কিছুই বুঝছি না।
কেনই যে সে অত দূরে তাও আবার কালো মেয়ের সাথে বিয়ে ঠিক করলো কিছুই মাথায় আসছে না।
মনে মনে রাগ হচ্ছে খুব।

বাড়িতে  যারা নিকট আত্মীয় ছিলেন সবাই বউ দেখতে ছুটে এলো।

বড় ফুপু মুখ বাকিয়ে বললেন,
ও তুহিনের আব্বা শেষ পর্যন্ত এই বউ আনলি ছেলের জন্য?

বাবা কোন উত্তর দিলেন না।

আমার নানি  বেশ দুঃখ করে বললেন,
-আমার রাজপুত্র নানাভাইটার সাথে এই মেয়ে মানায় কোনদিন?

ভাবিরা যা নয় তাই বললেন।প্রতিবেশীরাও কথা শোনাতে ছাড়ল না।

 এসব কথা রুপার আড়ালে হয়নি।বরং তাকে শুনিয়ে শুনিয়ে সব বলা হচ্ছিল।লজ্জায় আমারই মাথা নিচু হয়ে যাচ্ছিল।

হয়তো রুপা খুব অপমানিত হয়েছে।অপমানে জর্জরিত  হয়ে মাথা নিচু করে কয়েক ফোঁটা চোখের পানি ঝরিয়েছে!
কে খোঁজ রেখেছে তার!
সে তো কালো!

তবে আমার দাদা-দাদি কোন অভিযোগ করেনি।বাবার উপর তাদের ভরশা ছিল।মায়েরও কোন আপত্তি শুনিনি।আসলে দাদি আর মাও তো একদিন এভাবেই এই বাড়িতে পা রেখেছিল।নতুন বউয়ের সামনে তার রুপ নিয়ে কথা বললে বউটার কত দুঃখ হয় তা বিচক্ষণ মহিলারা ঠিকই বোঝে।

প্রতিটি মেয়েরই বিয়ে নিয়ে অনেক স্বপ্ন থাকে।ঘুমানোর আগে নিজের স্বপ্নের রাজ্যে  শশুর বাড়ি নিয়ে কল্পনা করতে ভালোবাসে।তার স্বামীর সাথে কিছু ভালো মুহুর্ত নিয়ে মনের সংগোপনে স্বপ্ন বুঁনে। মানুষের মন ভেদে স্বপ্নগুলো আলাদা হয়ে থাকে। কারো চাওয়া বড় কারো চাওয়া খুব সামান্য। তবে প্রত্যেকের একটা সাধারণ চাওয়া হচ্ছে স্বামীর ভালোবাসা পাওয়ার তীব্র ইচ্ছা। সে মানুষ হিসেবে যেমন হোক বা দেখতে যেমনি হোক না কেন সে চায় তার স্বামী শুধু তাকেই ভালোবাসবে;সে তার স্বামীর কাছে বিশেষ মানুষ হয়ে থাকবে।বিয়ের প্রথম দিন ভালোবেসে  কোন উপহার দিবে।এটা একদিকে  লোভ না হলেও অন্যদিকে লোভ।সেটা হচ্ছে ভালোবাসা পাওয়ার লোভ।উপহার দামী বা কম দামী যেটাই হোক তার সাথে লেগে থাকে ভালোবাসা;ভালোবাসার মানুষের ছোঁয়া।যে উপহার পায় সে ভাবে, তারমানে আমাকে নিয়ে সে ভাবে,আমাকে অনুভব করে।আমার জন্য দোকানে দোকানে ঘুরে এই উপহারটা সে নিজে পছন্দ করে কিনে এনেছে বা সময় নিয়ে তৈরি করেছে। নিশ্চয়ই এই সময়টুকু সে আমায় এক মুহুর্তের জন্য ভুলে যায়নি।মনটা তার খুশির হাওয়ায় ভাসতে থাকে!

অতঃপর বাসর ঘরে ঢুকলাম।দেখলাম বউ ঘোমটা দিয়ে মাথা  নিচু করে বসে আছে।
সে হয়তো ভেবেছিলো আমি তার ঘোমটা খুলে মুখ দেখব আর সে লজ্জায় কুঁকড়ে  যাবে।পরক্ষনে হাতটা ধরে একটা আংটি পরিয়ে দিব বা কোনো উপহার দিব।

না! আমি তার কিছুই করিনি।কিছুই উপহার দেইনি।তবে কিছু কথা শুনিয়ে দিয়েছিলাম।কথাগুলো  ছিল এমনঃ
-দেখুন আমি আপনাকে কোনো দিন বউ এর মর্জাদা দিতে পারব না।শুধু মাত্র বাবার কথা রাখতে বিয়েটা করেছি।একটা কালো মেয়ে নিয়ে আমি সারাজীবন সংসার করতে পারব না।আমার পাশে আপনাকে মানায় না। আপনি বেমানান। বাবা যে কেন আপনাকেই বউমা করতে উঠে পড়ে লাগলেন সেটা এখনও আমার কাছে রহস্যই রয়ে গেলো।
   এটা বললাম না যে আমি অন্য কাউকে ভালোবাসি।সব দোষ তাকে দিয়ে যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলাম।
   কথাগুলো শুনে সে কিছুই বলল না।হয়তো কান্নায় বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল।চুপচাপ বিছানা থেকে নেমে ওয়াশরুমে চলে গেল।
হয়তো কলের ট্যাপ ছেড়ে খুব কান্না করেছে।
তার খোঁজ কে রেখেছে!
সে যে কালো!

  আমি আর কিছু না ভেবে বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। সারাদিনের ক্লান্ত শরীর বিছানা খুঁজে পেতেই রাজ্যের সমস্ত ঘুম চোখে ভর করলো।সে ওয়াশরুম থেকে ফিরে এসে কখন, কোথায় ঘুমিয়েছে আমি জানি না।

   পরদিন সকালে ঘুম ভাঙ্গলো কুরআন তেলাওয়াতের শব্দে। আহা!কি মধুর সুর।চোখ খুলে দেখি রুপা কুরআন তেলাওয়াত করছে।
সহীহ্-শুদ্ধ ভক্তিভরে  মিষ্টি কন্ঠে  তেলাওয়াত করে যাচ্ছে।মনটাই ভালো হয়ে গেলো।আল্লাহর প্রতি একটা ভয় কাজ করল।নিজেও অযু করে নামাজ পড়ে নিলাম।ততক্ষণে রুপা রুম থেকে বেড়িয়ে  গেছে।কোথায় গেছে তা নিয়ে মাথা ঘামালাম না।

   নামাজ শেষ করে কোনকিছু না ভেবে ছাদে চলে গেলাম। সকালটা এত সুন্দর আগে জানতাম না।চারদিকের পরিবেশ খুব নির্মল লাগছে।আকাশের দিকে তাকাতেই লক্ষ্য করলাম এক ঝাক পাখি উড়ে যাচ্ছে।যতদূর চোখ যায় তাকিয়ে থাকলাম।এক সময় মিলিয়ে গেল।সকালের ঠান্ডা বাতাস মনটা ফুড়ফুড়ে করে দিলো।ভাবছি এই পরিবেশটা মনভোরে উপভোগ করতে হবে।

কি করা যায়,কি করা যায় ভাবছি!এমন  সময় কারো পায়ের আওয়াজ পেয়ে পিছনে তাকাতেই দেখি রুপা চায়ের কাপ হাতে এগিয়ে আসছে। তখনো তার মাথায় ঘোমটা।ঘোমটাটা এতটা লম্বা করেছে যতটা করলে মুখ দেখা না  যায়। বুঝতে পারলাম খুব অভিমান হয়েছে তার।রাতের ব্যবহারের জন্য লজ্জা লাগছে।

  সে নিঃশব্দে চায়ের কাপটা এগিয়ে দিল।কাপটা নেওয়ার সময় তার  হাতে ছোঁয়া লাগতেই তার হাতটা  মৃদু কেঁপে উঠলো। তার অন্য হাতে একটা বই ছিল। সেটা পাশের টেবিলের উপর রেখেই দ্রুতপদে চলে গেলো।

আর আমি আমার হাতের দিকে তাকিয়ে আছি।অনুভূতিটুকু বেশ ভালোই লাগছে।এই অনুভূতির কোনো ব্যাখ্যা নেই আমার কাছে।

চায়ের কাপে চুমুক দিতেই একটা তৃপ্তি অনুভব হলো। বলতেই হয় ভালো চা করে।চায়ের কাপে দ্বিতীয় চুমুক দিয়ে বইটা হাতে নিতেই দেখলাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নৌকাডুবি।এরকম একটা মনোরম সকালে এমন এক কাপ চায়ের সাথে রবী ঠাকুরের বই পড়া বেশ ভালো অনুভূতি হচ্ছে। বুঝতে পারলাম মানুষের মন বোঝার এক অদ্ভুত ক্ষমতা আছে তার।বইটা যেহেতু আগে পড়া হয়নি তাই বইয়ের মধ্যে ডুব দিলাম।

এভাবে ঘন্টা দেড় যাওয়ার পর আমার ছোট বোন পিহু আমাকে ডাকতে ছাদে এলো।কাছে এসে হাত ধরে বলল,
- ভাইয়া চলো।টেবিলে নাস্তা সাজানো হয়েছে।

আমি বইয়ে মুখ গুজে বিরক্ত স্বরে  বললাম,
-উহু!তুই কাপটা নিয়ে যা।আমি এই পৃষ্ঠা শেষ করেই আসছি।

পিহু কাপ হাতে চলে গেলো।সে দেখতে খুব সুন্দর হলেও পড়াশোনায় ভালো না।এবার এসএসসি পরীক্ষা দিবে।আশা নাই পরীক্ষায় উত্তির্ন হবে।

আমি দ্রুত পৃষ্ঠার নিচের অংশ পড়ে সেই পৃষ্ঠা ভাজ করে বইটা বন্ধ করে নিচে নেমে গেলাম।

নিচে নামতেই খাবারের সুঘ্রাণ আমার নাকে চলে আসলো। বুঝতে বাকি রইল না আজ খাবারটা বেশ মজার হয়েছে। কারণ খাবারের গন্ধ শুকেই বলা যায় খাবার কেমন হয়েছে।খাবারের গন্ধটা একদম নতুন।তার মানে নতুন সদস্যই রান্না করেছে।

খাবার রুমে গিয়ে দেখি অতিথি যারা থেকে গিয়েছিল তাদের খাবার পরিবেশন করে দিচ্ছে রুপা।সঙ্গে দাদা-দাদিও ছিল।অতিথি হচ্ছে আল্লার রহমত।তাদের সেবায় যে সে ত্রুটি করে না এটা তার আদবের সাথে পরিবেশন করা দেখেই বোঝা যাচ্ছে। দাদা-দাদি গুরুজন।বয়স হয়েছে  তাই হয়তো তাদেরকেও জোর করে বসিয়ে দিয়েছে।বেশ তৃপ্তি নিয়েই খেলো সবাই।আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি।

অতিথিরা উঠে যাওয়ার পর আমার ভাইয়া-ভাবি,ভাতিজা সাব্বির, ছোট বোন পিহু যার যার চেয়ার টেনে বসল।আমি টেবিলে গিয়ে চেয়ার টেনে বসতেই আমার সামনে একটা প্লেট এগিয়ে দিলো রুপা।ততক্ষণে বাকিরা খাওয়া শুরু করে দিয়েছে।বেশ তৃপ্তি নিয়েই খাচ্ছে সবাই। আমার প্লেটে রুপা দুইটা ঘীয়ে ভাজা পরোটা দিল।তবে এই পরোটা অন্যদিনের চেয়ে ব্যতিক্রম। চারকোনা পরোটা যা কয়েক ভাজ করে বানানো হয়েছে।বেশ নরম তুলতুলে পরোটা।আলু ভাজির মধ্যে দুইটা ডিম ভেঙে দেওয়াতে তার স্বাদও বেড়ে গেছে কয়েকগুন।রুপা যখন সবাইকে খাবার পরিবেশন করছিলো আমি লক্ষ্য করলাম তার হাত ফর্সা না হলেও কালো নয়।যাকে বলে শ্যাম বর্ণ।রীতিমতো চিন্তায় পরে গেলাম।তবে কি অযথা তাকে কালো বলে ছোট করলাম?অন্যরা যে বললো কালো তবে কি বাড়িয়ে বলেছে! যাই হোক তৃপ্তি করে খেয়ে উঠে গেলাম।

সবার খাওয়া হয়ে গেলে মা-বাবা আর রুপা খেতে বসেছে।বাবার হয়তো রুপার সাথে কথা আছে তাই  সবার পরে বসেছে।অবশ্য রুপা আগেই খেতে বলেছিল।বাবা রাজি হয়নি।

ঘরে এসে ভাবছি মেয়েটির রান্নার হাত বেশ ভালো। ধর্মে মন আছে।নামাজ পড়ে। কুরআন পড়ে।গল্প উপন্যাসও পড়ে। কার কি প্রয়োজন বোঝার ক্ষমতা আছে।তবুও তার একটা  দুর্বলতা নিয়ে আমরা পরে আছি।এসব ভাবনার মাঝে হঠাৎ  আমার নানি এসে হাজির।নানিকে বেশ হাস্যজ্বল লাগছে।

আমি চিন্তিত মুখে বললাম,
-কিছু বলবে?
-মন খারাপ করিস না নানাভাই।তোর বউয়ের মেলা গুন।মানুষরে অনেক দাম দেয়।আদব কায়দা জানে।হাতের রান্না কত ভালো দেখছোস তুই!আল্লাহ সবাইরে সব দিক দিয়ে দেয় না।তোর বউ কালো হইলেও মনটা ভালো।আর মুখে যে কি তার মায়া!তোরে সুখে রাখবে।সব কথা মান্য করে চলবে।ভালো থাকবি তুই।

আমি কোন জবাব না দিয়ে অবাক হয়ে ভাবছি, এইটুকু সময়ে নানির মন জয় করে নিল!

সারাদিন খেয়াল করে দেখলাম সব কিছু স্বাভাবিক গতিতেই চলছে।অন্তত ঘরের মানুষের কাছে রুপ নিয়ে কোন কথা শুনেনি সে।

কয়েকদিন পর লক্ষ্য করলাম, তার হাতের ছোঁয়ায় বাড়ির সমস্ত কিছু নতুন করে সেজেছে। কোথাও কোন ধুলোবালি নেই।সবার রুম ঝেড়ে মুছে পরিষ্কার করে দিয়েছে।ঘর গুছানোতে তার  জুড়ি মেলা ভার।প্রতিবেশীদেরও কোন কটু কথা বলতে শুনি না।কোন প্রতিবেশী আসলে সে সালাম দিয়ে বসতে বলে। আন্তরিকতার সাথে আপ্যায়ন করে।
ইতিমধ্যে সবার মন জয় করে নিয়েছে সে।পিহু আর ভাবির সাথে তার গলায় গলায় ভাব।ওর কাজে তারা সাহায্য করে হাসিমুখে।

আমারও আজকাল তার মুখ দেখার খুব ইচ্ছে হয়।কাছাকাছি থাকলে আড় চোখে দেখার চেষ্টা করি।দূরে থাকলে লুকিয়ে দেখি।সে আমার দিকে ঘুরে তাকালেই আমি ততড়িঘড়ি করে অন্য দিকে ফিরে তাকাই।এই লুকোচুরি আমার হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেয়।

আজকাল পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি।নামাজ পড়লে মনটা হালকা লাগে।বাড়ির অন্যরাও নামাজ পড়ে।

এদিকে ছুটি ফুরিয়ে  অফিস জয়েন করার সময় হয়ে গেছে। আমার পরিবার আমার শহরে থাকলেও আমি চাকরির সুবিধার্থে ঢাকায় থাকি।প্রত্যেক বৃহস্পতিবার অফিস শেষ করে বাড়ি চলে আসি।যাই শনিবার সকালে।

 অবশেষে চলে আসলাম ঢাকায়।বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মনটা কেমন যেন ফাকাফাকা লাগছিল। আরও কিছু দিন থেকে যেতে পারলে ভালোলাগতো হয়তো।আমার চলে যাওয়া সে ছাদে দাঁড়িয়ে থেকে দেখেছে।হয়তো সেও চায়নি আমি চলে যাই।এখন সেই দৃশ্যই আমার চোখে ভাসছে।

 অফিস শেষ করে বাসায় এসে রাতের খাবার খেয়ে বিছানায় শুয়ে পরলাম।চোখ বন্ধ করলেই ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা রুপার ঘোমটা দেওয়া মুখটা ভেসে উঠে। হঠাৎ মনে পড়ল তনুর  কথা।এই কয়েকদিনে তার কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। নাহ!একটা ফোন করা যাক।এই ভেবে ফোন দিলাম,
-হ্যালো তনু।

সে কিছুই বলছে না।

আমি আবার বললাম,
-কথা বলবে না?

এবার সে মৌনতা ভেঙ্গে উত্তর দিলো,
-এখন আর কথা বলে কি হবে?

-তনু আমি এখনো তোমাকেই ভালোবাসি। বিয়েটা একটা এক্সিডেন্ট ধরে নাও।রুপা মেয়েটার মন খুব নরম। বোকাসোকাও বলা চলে। আমি বললেই সে ডিভোর্স দিয়ে দিতে রাজি হয়ে যাবে।

চলবে

বিঃদ্রঃ গল্পের নাম কেন রাঙা বউ রাখা হলো আশা করি পরবর্তী পর্বে বুঝতে পারবেন।

ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
ধন্যবাদ।
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label