নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

বাংলা গল্পঃ শত্রু_থেকে_বউ Bangla Balobasar Golpo Sottru Thake Bow


বাংলা গল্পঃ শত্রু_থেকে_বউ
পর্ব : ০১
লেখক:- আরিয়ান চৌধুরী
-দোস্ত তোরা সবাই দেখ আমাদের ভার্সিটির মফিজ টা আজকে আসছে(নিশি)
-আরে ও মফিজ না তো, ও আবুল।
-ঐ একই কথা
এসব বলে সবাই হাসাহাসি করতাছে।
আরো গল্প পড়ুনঃচালাক বউ এর সাথে প্রথম রাত
ওরা যাকে মফিজ বলল সে হলো তাদের ভার্সিটির সবচেয়ে বাজে স্টুডেন্ট, নাম তার ফারহান। মা-বাবার টাকা আছে তাই প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি করিয়েছে। ফারহানের বাবার ইচ্ছা সে একদিন অনেক বড় হবে কিন্তু সে পড়ালেখায় বেশি ভালো না।
সবার সাথে কথা কম বলে আর একা একা চলতে পছন্দ করে।
১ম সেমিষ্টার পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে ক্লাসে যেদিন রেজাল্ট ঘোষনা করছে সেদিন ফারহানের পরীক্ষার খাতা গুলো নিয়ে আসে।
-ফারহান কে?(স্যার)
-জ্বি স্যার আমি(ফারহান)
-দাড়াও
-ফারহান তখন দাড়ায়
-ইন্টার পরীক্ষা কিভাবে পাশ করছো?
-ফারহান চুপ হয়ে আছে
-এগুলো তুমি কি লিখছো? মানুষ স্টুডেন্ট হিসাবে খারাপ হয় কিন্তু এতটা খারাপ আমি আমার জীবনে দেখি নাই বলে খাতা গুলো সবার সামনে তুলে ধরে।
সবাই খাতা দেখার পর ক্লাসে একটা হাসির রুল পরে গেছে।
তখন থেকেই সবাই ফারহানকে মফিজ আর আবুল বলে ডাকে।
কয়েকদিন পরে ক্লাস টিচার ফারহানকে সামনে নিয়ে বলে এটা সবাইকে বুঝিয়ে দাও।ফারহান তখন মার্কার কলম হাতে নিয়ে কাপাকাপি শুরু করে। এসব দেখে ক্লাসের প্রায় সবাই হেসে দেয়।
ক্লাস শেষে ফারহান মন খারাপ করে বেড় হয়। নিশি আর তার বান্ধবীরা ও ফারহানের সাথে সাথে বের হয়।
-কি রে অাবুল তুই এমন কেনো?(নিশি)
-আরে ও অাবুল না তো মফিজ(জান্নাত)
-বাড়িতে পড়ালেখা করিস না?(নিশি)
-আমার পড়তে ভালো লাগেনা
-কি করতে ভালো লাগে?
-ঘুমাতে
-তোরে নিয়ে যে সবাই এত হাসাহাসি করে তাতে কি তোর লজ্জা হয় না?
-তাদের ভালো লাগে তাই হাসে
-ওহহহ তার মানে তোর মনে কিছু আসে যায় না?
-প্রথম প্রথম মন খারাপ হতো এখন আর হয় না বলে ফারহান হাটা শুরু করে।
পরেরদিন ভার্সিটিতে আসার পরে নিশিদের আরেক বন্ধু ফারহান কে ডাক দেয়।
ফারহান তখন তাদের কাছে এসে বসার পরে
-এই দাড়া(নিশি)
-কেনো?(ফারহান)
-কানে ধর
-কানে ধরবো কেনো?
-এখানে সবাইকে সালাম দিছিস?
-নাহ
-এখানে বসার জন্য কারো থেকে অনুমতি নিছিস?
-নাহ
-এখানে কানে ধর
-তোমরা তো আমার ব্যাচমেট তোমাদের সালাম আর এখানে বসার জন্য অনুমতি নিবো কেনো?
-যা বলছি তা কর
-ফারহান চুপচাপ দাড়িয়ে আছে
-কথা শুনিস না? কানে না ধরলে কিন্তু প্যান্ট খুলে সারা ক্যাম্পাস ঘুরাবো
-ফারহান এসব কথা শুনে কানে ধরে ফেলে
-নিশিরা তখন সবাই হাসিতে মেতে উঠে
-ফারহান হঠাৎ একটু শব্দ করে কান্না করে দেয়। তখন ভার্সিটির সব স্টুডেন্ট তাদের দিকে তাকিয়ে দেখে এটা ফারহান।তখন পুরো ক্যাম্পাসের সবাই হাসতে থাকে।
সেদিন ফারহান ক্লাস না করে বাসায় চলে যায়।
২-৩ দিন পরে ফারহান কলেজে আসার পরে....
-মুরগি টা আসছে রে(জান্নাত)
-ঐ ফারহান এদিকে আয়(নিশি)
ফারহান তাদের কোনো কথা না শুনে ক্লাস রুমে চলে যায়।
কতক্ষণ পরে তারা সবাই ক্লাসে আসে।
ক্লাসে আসার পরে নিশি আর তার সাথে ৪-৫ জন ফারহানের সাথে বসে।
-গোসল কয়দিন হয় করিস না?(নিশি)
-সকালেই করে আসছি
-তাহলে তোর শরীরে এমন বাজে গন্ধ কেনো?
-ক্লাসে তো শুধু তুমি না, আশে পাশে আরো অনেক ছেলে মেয়ে আছে তাদের নাকে কি বাজে গন্ধটা যায় না?
-ওদের মনে হয় তোর মতো সর্দি লেগে আছে তাই ভালো খারাপ কিছু বুঝতেছেনা
-ওহহ তাহলে তুমি নাকে সরিষা তেল লাগিয়ে বসে থাকো
-এই এই দেখ আমাদের মফিজ তো কথা শিখে গেছে বলে হাসতে শুরু করে।ফারহান তখন ক্লাস রুম থেকে বের হয়ে যায়।
এর পরেরদিন ফারহান ভার্সিটিতে আসার পর নাঈম নামের একটা ছেলে যেটা নিশির বেস্টফ্রেন্ড হয়,সে ফারহানকে কাছে ডেকে আনে।
-তোকে একটা কাজ করে দিতে হবে(নাঈম)
-কি কাজ?(ফারহান)
-পকেট থেকে একটা কাগজ বেড় করে, যা এটা দিয়ে আয়
-আমি কেনো দিতে যাবো?
-ঐদিনের কথা মনে আছে?
-কোনদিনের কথা?
-সেদিন যে কানে ধরে দাড়া করিয়ে রাখছিলাম
-কাকে দিতে হবে বলো?
-ঐ যে নেবি ব্লু ড্রেসটা পরে রাখছে তাকে দিয়ে আসবি
-ও তো আমাদের ভার্সিটির সিনিয়র
-এই তোরে এত কথা বলতে বলছি?(নিশি)
-যা দিয়ে আয়(নাঈম)
ফারহান তখন খোলা চিঠি টা নিয়ে সবার সামনেই ঐ মেয়েটিকে দিয়ে আসে।
মেয়েটি তখন চিঠিটা খুলে দেখে আজেবাজে কতগুলো লিখা আর নিচে দেওয়া ইতি তোমার ফারহান।
এসব দেখে মেয়েটি সবার সামনেই ঠাস ঠাস করে কয়েকটা থাপ্পড় মেরে দেয়।
ফারহান তখন কান্না করে দেয়।
আর নিশিরা সবাই হাসতে হাসতে পেট ব্যথা হয়ে যাওয়ার মতো।
ফারহান সেদিন কান্না করতে করতে সবার সামনে দিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করে।
তারপরে
দুইমাস হয় ফারহান ভার্সিটিতে আসে না।
সবাই মনে করছে আর পড়ালেখা করবে না তাই হয়তো ভার্সিটিতে আসে না।
২য় সেমিষ্টার এর পরীক্ষা যখন শুরু হয় তখন ফারহান ভার্সিটিতে আসে।
ফারহানকে দেখতে পেয়ে সবাই হাসতে থাকে।
২য় সেমিষ্টার পরীক্ষা দেওয়ার পর ক্লাসে যখন রেজাল্ট প্রকাশ করবে তখন সবার আগে ভার্সিটির ভিসি তাকে দাড় করায়।
সবাই তখন ভাবতে থাকে এবার হয়তো ও খাতায় কোনো লেখা ই লেখেনি।
-তুমি গত দুইমাস ক্লাসে আসো নাই কেনো?(ভিসি)
-এমনি
-পরীক্ষায় কি কোনো নকল করছো?
-না স্যার
-ওকে বসো।
ভিসি রেজাল্ট কার্ড নিয়ে যখন বলে যে এবার আমাদের ভার্সিটির সেরা রেজাল্ট করেন মো.ফারহান চৌধুরী।
সবাই তখন অবাক হয়ে যায়।নিশি তো তখন চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকে।
রেজাল্ট ঘোষনার পর সব স্যার তাকে অভিনন্দন জানায়।
ক্লাস রুম থেকে বের হওয়ার পরে ফারহান নিশিকে সামনে দেখতে পেয়ে..............
চলবে


(গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক, ভূল ক্রটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন) ধন্যবাদ
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label