নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

এমপির মেয়েকে পালিয়ে বিয়ে Bangla balobasar Golpo Mpir meyeke paliye biye

এমপির মেয়েকে পালিয়ে বিয়ে
Bangla balobasar Golpo Mpir meyeke paliye biye
লেখকঃমাহামুদুল হাসান মহাব্বত
-এক চায়ের দোকানে বসে,বড়
ভাইদের সাথে চা খাচ্ছিলাম।
-মহল্লার বড় ভাই,অতি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক
তাদের সাথে।
-পড়াশুনা শেষ হয়ে গেলে যখন
চাকরি পাচ্ছিলাম না,তখন থেকেই
তাদের সাথে উঠবস আমার।
-( তাদের প্রত্যেকের অত্যন্ত আদরের
ছিলাম)
-চা খেতে খেতে,হঠাৎ এক বড় ভাই
বলে উঠলো.......
-কাল শহরের ৩ মাথা থেকে পৌর
রাস্তা পর্যন্ত মোটরসাইকেলের শো
ডাউন(মোহড়া)দিতে হবে।
-প্রেটোল খরচ,খাবার খরচ ও বকশিস
সবকিছুই নেতা দিবে।
-বলে রাখা ভাল যে,এ ধরনের
অফারের জন্যই আমরা সবসময় অপেক্ষা
করতাম।
  আরো গল্প পড়ুনঃরুপ বদল
-যেই কথা সেই কাজ,আমাদের
প্ল্যানিং মাফিক কাল বিকাল ৩
টায় যে যার মোটর সাইকেল নিয়ে
শহরের ৩ মাথা মোড়ে উপস্থিত
হবো।
-পরের দিন বিকালে আমার বাইক
নিয়ে ৩মাথা মোড়ে পৌছালাম।
---অনেকক্ষন থেকে বসে আছি
--তারপর একটা দুইটা করতে করতে
প্রায় ২০০-২৫০ টার মতো বাইক নিয়ে
সবাই পৌছালো।
-কিন্তু আমাদের নেতা এখনো
আসলো না।
-তার কাছে,একের পর এক কল দিতে
শুরু করলো আমাদের বড় ভাইগুলো।
-একপর্যায়ে আমাদের নেতা বাইক
নিয়ে আমাদের দিকে আসতে
লাগলো।
-সবার চোখ যেন, নেতার দিকেই।
-আজ নেতা একা আসেনি,এসেছে
পিছনে কোনো একটা সুন্দরী
মেয়েকে বসিয়ে নিয়ে।
-অত্যন্ত সুন্দর সে।তার চোখের
চাহনী টাও অন্যরকম।
-মনে হলো,অনেক মায়া তার ওই
চোখ দুটোতে।
-আমি এভাবে বেশ কিছুক্ষন
তাকিয়ে থাকতেই,মেয়েটা আমার
দিকে চেয়ে আছে।
-আমি অন্যদের কথা ভেবে,নিজে
থেকেই চোখটা সড়িয়ে নিলাম।
-পরে জানতে পারলাম,নেতার
মেয়ে।
-সেও নাকি আমাদের সাথে শো
ডাউনে যাবে।
-যেই কথা সেই কাজ,সবাই মোটর
সাইকেল স্টার্ট দিলো,নেতা আগে
আগে যেতে লাগলো, আর তার পিছন
পিছন আমরা যেতে লাগলাম।
-আমার বাইকে আমার একটা বড় ভাই
উঠেছিল।সেটা নাকি নেতার
শালা বাবু।
-তারপর প্রত্যেকেই স্লোগান দিয়ে
সামনের দিকে এগিয়ে যেতে
লাগলো........
আরো গল্প পড়ুন ঃ রুপ বদল
--পুরো শহর মহড়া দেওয়ার পর,আমরা
প্রায় কাছাকাছি এসেছি,
একটা মোড় ঘুরতে হবে,সেটা ঘুরতেই
নেতা আর নেতার মেয়ে বাইক
থেকে পড়ে যায়।
-সবাই সবার বাইকে খুব জোরে ব্রেক
কষে বসলো,
-অনেকে অনেকের বাইকের সাথে
ধাক্কাও খেলো।
-তারপর প্রত্যেকেই, বাইক থেকে
নেমে নেতার বাইকের দিকে
দৌড়াতে লাগলো।
-নেতার কনুই থেকে অল্প কিছু রক্ত
ঝড়ছে,আর তার মেয়ে বাইকের
নিচে পড়ে আছে।
-আমি তাড়াহুড়ো করে, তার উপর
থেকে বাইকটা সড়ালাম।তারপর
দেখি,তার অবস্থা খুব খারাপ।
-কপাল থেকে প্রচন্ড রক্ত ঝড়ছে।
- হাত -পা থেকে সামন্য রক্ত ঝড়ছে।
আর সেখানে সাদা মাংসগুলো
দেখা যাচ্ছে।
-পাশেই একটা হাসপাতাল ছিল,
তাই আমরা ধরাধরি করে,নেতা আর
নেতার মেয়েকে হাসপাতালে
নিয়ে যায়।
-একমুহুর্তে যেন,পুরো হাসপাতাল
আমাদের লোকজন দিয়ে ভরে গেল।
-ইতিমধ্যে সাংবাদিকরাও এসে
ভিড় জমিয়েছে।
তাই নেতার শালা বাবু সবার
উদ্দেশ্য বলতে লাগলেন,
-আপনারা সবাই হাসপাতাল থেকে
চলে যান,অনেক হৈ চৈ সৃস্টি হয়ে
গেছে।
হাসপাতালে থাকা অন্যান্য
রোগিদেরও ইতিমধ্যে সমস্যার সৃস্টি
হচ্ছে।
-তাই,আমরা প্রত্যেকেই চলে যেতে
লাগলাম।
-হাসপাতালে শুধু ৮-১০ -হাসপাতালে শুধু ৮-১০ জন এর মতো
ছিল।
-সেখানে মহল্লার বড় ভাইটাও ছিল।
-যায় হোক, আমরা সবাই বাইক নিয়ে
বাজারে গিয়ে খাওয়া দাওয়া
সেড়ে,যে যার মত বাসায়
পৌছালাম।
-খুব ক্লান্ত,তাই বিছানায় শুয়ে
আছি।
-মা বললো,
কিরে বাবা,শুয়ে আছিস যে।
-আমি বললাম এমনিতেই মা।
মা আমার কথা শুনে বুঝতে পারলো,
কিছু একটা হয়েছে।
তারপর,মা রুম থেকে চলে গেল

-আমি চোখটা বন্ধ করতেই,
-হঠাৎ আমার মোবাইলে কল বেজে
উঠলো।
মোবাইলটা হাতে নিতেই
দেখি,মহল্লার সেই বড় ভাইয়ের
নাম্বার থেকে কল এসেছে।
যে বড় ভাইকে হাসপাতালে রেখে
এসেছিলাম।
-কল রিসিভ করলাম।
বড় ভাই বললো,কিরে পলাশ তুই
কোথায় এখন?
আমি বললাম, কেন আমিতো
বাসাতে।
বড় ভাই বলল,একটা সমস্যায় পড়েছি
রে?
আমি বললাম,কি সমস্যা?
-বড় ভাই বলল,নেতার মেয়ের জন্য রক্ত
লাগবে।হাসপাতালে অনেক
খোজাখুজি করলাম কিন্তু কোথাও
পেলাম না।
-আমি বললাম,রক্তের গ্রুপ কি?
বড় ভাই বলল,
(ও পজেটিভ) রক্ত।
-আমি বললাম,ভাই আমারি তো (ও
পজেটিভ) রক্ত
-বড় ভাই বলল,কি?
তোর (ও পজেটিভ) রক্ত?
-আমি বললাম,হ্যা।
-বড় ভাই বলল,আরে ভাই আগে বলবি
না।এই রক্ত কখন থেকে খুজতেছি,
পাইতেছি না।
কিন্ত........
-আমি বললাম,কি কিন্তু ভাই?
-বড় ভাই বলল,তুইনা ২ সপ্তাহ আগেই
কাকে জানি রক্ত দিলি।
-এত তাড়াতাড়ি রক্ত দিলে,সমস্যা
হবে নাতো?
-আমি বললাম,ধুর ভাই।কিসের সমস্যা।
কোনো সমস্যা নাই।
আমি আসতেছি।আমিই রক্ত দিবো।
আমাদের নেতার মেয়ে বলে কথা।
-এটা বলেই,মোবাইল কেটে দিয়ে,
বাইক নিয়ে দিলাম এক টান।
-একটানে হাসপাতালে এসে
পৌছালাম।
-তারপর বড় ভাই আর নেতার শালা
বাবুর সাথে দেখা করে রক্ত
দেওয়ার জন্য রুমের দিকে গেলাম।
-রুমে ঢুকেই দেখি,নেতার মেয়ের
নিস্তেজ শরীরটা হাসপাতালের
বেডে পড়ে আছে।
-সুন্দর চেহেরাটা যেন,একদম
ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।
-মুখে কোনো কথা নেই,একদম নিরব।
-বুঝতে আর বাকি রইল না,
সে অজ্ঞান হয়ে গেছে।
এই রুমে দুইটা বেড।
-একটা বেডে নেতার মেয়ে শুয়ে
আছে,আর একটা বেড একদম ফাকা।
-রুমে ৩ জন নার্স আরেকজন ডাক্তার।
-তারা আমাকে ফাকা বেড টাতে
শুতে বলল।
-আমি বেডটাতে শুয়ে পড়লাম।
-পাশাপাশি দুইটা -পাশাপাশি দুইটা বেড।
-একটাতে আমি আরেকটাতে
নেতার মেয়ে।
-তারপর ডাক্তার আমার হাতে একটা
সুচ ঢুকিয়ে দিলো,আরেকটা নেতার
মেয়ের হাতে।
-এর আগেও অনেকবার রক্ত দিয়েছি।
কিন্তু এভাবে কখনো দেওয়া হয়নি।
-তাই এই পদ্ধতিটা খুব উপভোগ
করছিলাম।
-আর মাঝে মাঝে, নেতার মেয়ের
দিকে তাকাচ্ছিলাম।
-ততক্ষনেও নেতার মেয়ের জ্ঞান
ফিরেনি।
-এক পর্যায়ে রক্ত দেওয়া শেষ
হলে,রুম থেকে বের হয়ে বড় ভাইয়ের
কাছে গেলাম।
-বড় ভাই বলল,কিরে তুই ঠিক আছিস
তো।
-আমি বললাম,হ্যা ভাই।
-আমি ঠিক আছি।
-তারপর দেখি,নেতা আমাদের
দিকেই আসতেছে।
-এসেই জিজ্ঞাসা করলো,কিরে
নবাব রক্ত পেয়েছিস?
-নবাব ভাই বলল,হ্যা বড় ভাই
পেয়েছি।
-তারপর নেতা জিজ্ঞাসা
করলো,কে রক্ত দিয়েছে?
-নবাব ভাই বললো,এই যে আমার
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এই
ছেলেটা দিয়েছে।
-নেতার আমার দিকে
তাকাতেই,আমি একটু ইস্তত্ববোধ
করলাম।
-নেতা আমাকে বলল,অনেক ধন্যবাদ
বাবা।এই রক্তটা কোথাও খুজে
পাওয়া যাচ্ছিলো না।
আল্লাহ তুমার মঙগল কামনা করুক।
-এই বলে,তিনি তার পকেট থেকে ২
হাজার টাকা বের করে আমার
হাতে দিতে লাগলেন।
-আমি বললাম,একি করছেন নেতা?
আমি কেনো টাকা নিতেউ
যাবো?
তারপর নবাব ভাই নেতাকে
বললো,বড় ভাই
এই ছেলেটা আপনারি দলের লোক।
আর আমার পরিচিত ছোট ভাই।
-তাই টাকা দিয়ে ওকে ছোট করবেন
না।
-তারপর নেতা,আমার দিকে
একদৃস্টিতে তাকিয়ে রইল
-একটু পর বলল,তুমার নাম কি বাবা?
-আমি বললাম,আমার নাম পলাশ।
-তারপর নেতা বলল,এখন কি করো?
-আমি বললাম,কিছু করিনা,বেকার।
-লেখাপড়া শেষ করেছি অনেক
আগে।
-নেতা আমার কথা শুনে,তার একটা
কার্ড বের করে দিয়ে বলল,কখনো
দরকার হলে আমার বাসায় চলে
এসো।
-আমি মাথা নাড়িয়ে
বললাম,আচ্ছা ঠিক আছে নেতা।
-এই বলে,নবাব ভাইকে সাথে নিয়ে
বাসায় ফিরে এলাম।
-বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া
দাওয়া সেড়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।
-তারপর ৩ দিন পর,সন্ধ্যাবেলায় চা
দোকানে বসে বড় ভাইদের সাথে
চা খাচ্ছিলাম।আর বিভিন্ন গল্পে
মেতে উঠেছিলাম।
-এমন সময়ে হঠাৎ, নবাব ভাইয়ের
মোবাইলে নেতার কল চলে আসলো।
-নবাব ভাই,সালাম দিয়ে নেতার
সাথে কথা বলতে লাগলো।
-কথা শেষ হলে,নবাব ভাই আমাকে
বলল
কিরে পলাশ তোর তো কাম বাইজা
গেছে
আমি বললাম,কেন ভাই কেন?
কি হইছে?
-নবাব ভাই বলল,নেতার মেয়ে
তোকে দেখতে চাই?
-আমি একটু চিন্তাস্বরে বললাম,কেন
আমারে কেনো দেখতে চাই?
-নবাব ভাই বলল,ওই যে তুই সেদিন রক্ত
দিয়েছিস,সেই জন্য।
-আমি বললাম, ও আচ্ছা।
-নবাব ভাই বললো,যা যা দেখা করে
আয়?
-আমি বললাম,না ভাই।
আমি একা একা যেতে পারবো না।
আপনাকেও সাথে যেতে হবে।
-নবাব ভাই বলল,ধুর বে,রক্ত কি আমি
দিয়েছি নাকি,তুই দিয়েছিস তুই
যা।
কাল সন্ধ্যাই যেতে বলেছে।ভালই
ভালই চলে যাস।নইলে আমার খবর
করবে নেতা।
-আমি মাথা নেড়ে বললাম,আচ্ছা
ঠিক আছে।
-পরেরদিন সন্ধ্যাই,অধির আগ্রহ নিয়ে
নেতার বাড়িতে বাইক নিয়ে চলে
গেলাম।
-নেতার বাড়িতে ঢুকতেই, দুজন
সিকিউরিটি গার্ড আমাকে
দাড়াতে বলল।
-আমি বাইক নিয়ে দাড়ালাম।
-তারা জিজ্ঞাসা করলো,কার
কাছে যাবেন?
-আমি বললাম,নেতার কাছে যাবো।
-তারা বলল,কার্ড দেখি?
-আমি বললাম,কিসের কার্ড
আমার কাছে তো কোনো কার্ড
নেই।
-তারপর তাদের একজন নেতাকে কল
দিলো,তারপর কথা বলা শেষে
-আমাকে ভিতরে যাওয়ার অনুমতি
দিলো।
-গেটের ভিতরে যেয়েই
দেখি,অনেক মানুষজন।
-পুরো বাড়িতে আলোয়
আলোকিত,ঝারবাতি দিয়ে
সাজানো পুরো বাড়িতে।
-পরে একজনের কাছ থেকে জানতে
পারি,
আজ নাকি নেতার মেয়ের জন্মদিন।
তারপর চলবে.........
ভাললা
আরো গল্প পড়ুন : রুপ বদল
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label