নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

বালোবাসার গল্প রোমান্টিক প্রেম Balobasar Romantic Golpo


বালোবাসার গল্প রোমান্টিক প্রেম
 Balobasar Romantic Golpo
লেখক--S Kabir
আনমনা হয়ে বসে আছি হঠাৎ একটি পিচ্চি এসে পিছনে একজন কে ইশারা করে বলল ভাইয়া ওই আপুটা তোমাকে ডাকছে। পিছনে ঘুরে দেখলাম একটি মেয়ে খুব চেনা চেনা লাগছে কিন্তু চিনতে পারলাম না। ওর দিকে একটু এগিয়ে যেতে মনে পড়ল আরে এতো সাদিয়া। চেহারার অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে অবশ্য আগের থেকে অনেকটা কিউট দেখতে হয়েছে। আমি এগিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করলাম
আমি------ কি খবর কেমন আছ?
সাদিয়া---  আলহামদুলিল্লাহ্‌,  তুমি?
আমি------ হুম ভালই আছি। তুমি এখানে যে?
সাদিয়া---- আমাদের বাড়িতে তো আমিই
                থাকব তাই না.? ( একটু হেসে)
আমি------ ওহ তাহলে এটা তোমাদের বাড়ি.!
                তার মানে কনে তোমার বোন.?
সাদিয়া---- হুম। আর তুমি নিশ্চয় বরপক্ষের
               লোক.?
আমি------- হুম আমার ভাইয়ার বন্ধু বর।
সাদিয়া---- অহহ। তোমাকে তো চেনায়
               যাচ্ছেনা, অনেক পরিবর্ত দেখছি।
                কি বেপার হুম.?? প্রেম ট্রেম
               করতেছ নাকি.??
আমি------- আরে নাহ। তবে তুমিও অনেক
               পাল্টে গেছ!
সাদিয়া----- তাই নাহ আসলে.....  (বলতেই কে যেন সাদিয়া সাদিয়া ডাকতে এদিকে এসে বলল তুই এখনো এইখানেই আছিস আর ওদিকে তো তোর মামা তোকে খুজছে বলেই হাত টা ধরে টেনে নিয়ে গেল) আমি আবার একটা চেয়ার টেনে নিয়ে বসে পরলাম। ওহহ আমার পরিচয় টাই তো দেয়া হয়নি। আমি ফাহিম, ইন্টার ফাস্ট ইয়ার এ পড়ি।আমরা দুই ভাই। আজ আমার ভাইয়ার বন্ধুর বিয়েতে এসেছি। এসেই তো সাদিয়ার সাথে দেখা তারপর তো সব জানেন ই। গত বছর ক্লাস টেন এ থাকা কালীন আমাদের স্কুল থেকে একটা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য আমি সহ আরো ৩ জন রংপুর এ গেছিলাম। সেখানে সাদিয়া ও এসেছিল তার স্কুল থেকে। তখন সে নাইন এ ছিল আর এখন টেন এ। মানে আমার থেকে এক বেচ জুনিয়ার। বিয়ে প্রায় শেষ তার সাথে আর দেখা হল না। একদম শেষে চলে যাওয়ার সময় দেখলাম তার বনের গলা ধরে কাদছে। তখন কথা বলার মত অবস্থায় ও ছিল না বলে আর কথা না বলে চলে আসলাম কনের বাড়ি থেকে ভাইয়ার বন্ধুর বাড়ি। অনেক রাত হয়ে গেছে তাই সেখানেই থেকে গেলাম। আমাদের বাড়ি অবশ্য ভাইয়ার বন্ধুর বাড়ি থেকে একটু দূরে।ভাইয়ার বন্ধুর ছোট ভাই আর আমি খুব ভাল বন্ধু।তার নাম রনি।পরের দিন রনির সাথে আড্ডা দিতে দিতে তাকে সাদিয়া এর কথা বললাম।গত বছর সেই প্রতিযোগিতা থেকে ফিরে রনিকে অনেকবার বলছিলাম সাদিয়ার কথা। রনিতো শুনেই ফাইজলামি করে বলতে লাগল,
--ট্রিট দে মামা একবছর পর এইভাবে তোর প্রিয়তমা কে খুজে পেলি।
--কিসের প্রিয়তমা রে? 😠(কিছুটা রেগে)
--তুই চুপ থাক আমি জানি তুই অকে কতটা লাইক করিস!
--কে বলল তোকে? আজাইরা!
--হাহাহা আমি জানি রে বৎস এত ভাব নিতে হবেনা।
--তরে তো আজ খাইছি(বলেই ওকে ধরার যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলাম)
--চিন্তা করিস না দস্ত তোদের ব্যাপার টা আমি দেখতিছি।(বলতে বলতে পালাল)
ওকে আর ধরা যাবেনা। এদিকে ভাইয়া এসে বলল তার নাকি কি কাজ আছে বাড়ি যেতে হবে।কিছুক্ষণ পর বাড়ি চলে আসলাম। রাতের দিকে রনি মেসেজ দিল
--দস্ত দেখা করতে পারবি এখন?
--জরুরি দরকার কি?
--না তেমন জরুরি না পরে হলেও হবে।
--আচ্ছা দস্ত কাল আড্ডায় আসিস দেখা হবে। ক্লান্ত ছিলাম তাই কিছু খেয়ে ঘুমিয়ে পরলাম।পরদিন আড্ডায় গেলাম। রনি এসে বলতে লাগল
--মামা তোর জন্য হেব্বি জিনিস আছে।
--হেব্বি জিনিস!(কিছুটা অবাগ হয়ে)
--হুম হেব্বি জিনিস। বলত কি সেটা?
--বুঝতেছিনা দস্ত তুই কিসের কথা বলতেছিস!(ভাবুক ভঙিতে)
--হাহা নাম্বার মামা নাম্বার।
--নাম্বার!😕 তুই কি বলবি ভাল করে বল। মাথা নষ্ট করিস না তো আমার।
--আরে কাল কে সাদিয়ার কাছ থেকে তার ফোন নাম্বার টা নিছি।
--সাদিয়ার ফোন নাম্বার!(আনন্দের সুরে)
--এত খুশি হইস না ভাই আমিতো ফ্রি তে তোকে এই নাম্বার দিবনা।
--তা আমি ভাল করেই জানি তোর মত নাছরবান্দা কি আর ফ্রি তে কিছু করে বল।(রনিকে ক্ষেপানোর চেষ্টা, যাতে নাম্বার টা দিয়ে দেয়)
--আমাকে ক্ষেপায় লাভ নাই কি খাওয়াবি বল।
--ঠিক আছে চল রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ করি।
--হুম চল।
লাঞ্চ সেরে রনির কাছ থেকে নাম্বার টা নিলাম তারপর একটু আড্ডা মেরে বাড়ি চলে আসলাম। বিকালের দিকে হাতে ফোন টা নিয়ে ভাবতিছি কি করব! ফোন দিব নাকি দিব না। দূর ওতো ভেবে লাভ নাই ফোন দিয়েই দিলাম। ফোন দেয়া মাত্রই ওপাস থেকে ফোন ধরে
সাদিয়া--কি মিস্টার এতো টাইম লাগে ফোন দিতে।
আমি--মানে কি? বলতো আমি কে? (কিছুটা অবাগ হয়ে)
--কে আবার ফাহিম..!
--বুঝলা কি করে এটা আমার নাম্বার?
--কালকে রনি ভাইয়ার কাছ থেকে নিছি আর আমার নাম্বার টা তাকে দিয়ে আসছিলাম তোমাকে দেয়ার জন্য।
--ওহহ,
--হুম। তা কি করছ শুনি।
--তোমার কথাই ভাবতিছিলাম।
--তাই নাকি.! তা কি ভাবা হচ্ছিলো আমায় নিয়ে?
--এই যে তোমাকে ফোন দিব নাকি দিব না।
--তাইতো ভাবি এতো দেরি কেন হচ্ছে।
--হুম তা তুমি কি করছ?
--এইযে তোমার সাথে প্রেম করি!!
--কিহহ...!(সখ খেলাম যেন)
--Just kidding ইয়ার।(একটু হেসে)
--তাই বল।(কিছুটা সান্ত হয়ে)
--হাহাহা আচ্ছা এখন আমার প্রাইভেট আছে যেতে হবে বাই।
--ওকে দেখে শুনে যেও বাই।
এভাবেই শুরু তার সাথে আমার কথা বলা। প্রতিদিন ফোনে কথা হয় চ্যাটিং হয় মাঝে মাঝে দেখাও করি।অনেক দিন হয়ে গেছে। সাদিয়া যেন আমার হৃদয়ের কোনে সর্বদাই থাকে। কিন্তু এতদিনেও তাকে সেই মুল্যবান বানি টা বলা হয়নি। দুজনের প্রতি দুজনের অনুভূতি টা কেও কোনো দিন প্রকাশ করতে পারিনি। কিন্তু আর এভাবে চেপে রাখতে পারছিনা। এবার তাকে প্রপোজ করতেই হবে। যেই ভাবা সেই কাজ। প্লেন করলাম তাকে প্রপোজ করার। বন্ধুদের মেনেজ করে সন্ধার দিকে এক নির্জন রোমান্টিক পরিবেশের ব্যাবস্থাও হয়ে গেল। চার পাশে মৃদু লাল নীল আলো জ্বলছে। ভাগ্যক্রমে মৃদু বাতাস বইছিল আহহ প্রাণ জুরানো পরিবেশ। সাদিয়া কে সন্ধায় সেখানে আসতে বললাম। একি সাদিয়াও আজ নীল শাড়ি পরে কি সুন্দর সেজে এসেছে কি ভারি সুন্দরই না লাগছে তাকে সে যেন জানত আমি আজ তাকে সেই না বলা কথা টা আজ বলব। সাদিয়া আসতেই ডান হাত টা পেছনের দিকে করে তার সামনে গিয়ে হাটু গেরে বসে স্লো-মোশনে ফুলের তোরা সহ ডান হাতটা সামনের দিকে দিয়ে তারপর বললাম
আমি---তোমাকে সেই কম্পিটিশনে দেখেই এক অজানা ভালোলাগা অনুভাব করেছিলাম।সেদিন বুঝিনি কিন্তু যখন সেখান থেকে চলে গেলাম তখন খুব ভাল করেই বুঝতে পেরেছি আমি তোমাকে ১ম দেখাতেই ভালবেসে ফেলেছিলাম। সেদিনের পর থেকে প্রতিটা দিন তুমি আমার কল্পনায় ছিলে। তারপর প্রায় ১ বছর পর তোমাকে খুজে পেয়ে আবার আশার আলো দেখেছিলাম। আমি তোমাকে ভালবাসি সাদিয়া, তুমি কি আমার হবে?
সাদিয়া---( রাগি লুক দিয়ে তাকিয়ে আছে)
আমি---(আমি তো জানতাম সাদিয়া ও আমাকে ভালবাসে তাহলে এমন রাগি লুক নিয়ে আছে কেন! ভাবতেই আমার বুকের ভিতরে ঝড় বয়ে যাচ্ছে মনে মনে ভাবছি)
সাদিয়া---তো মিস্টার আপনি.............



(আপনাদের মতামত পেলে নেক্সট পার্ট লিখব)
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label