নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

❤ত্রিমাত্রিক ভালোবাসা❤ Balobasa Golpo Three-dimensional love


❤ত্রিমাত্রিক ভালোবাসা❤
Balobasa Golpo Three-dimensional love 
-ধুর,সারাদিনটাই বৃথা -ধুর,সারাদিনটাই বৃথা গেলো।
গার্লফ্রেন্ড এর সাথে দেখা করে এসে সাকিব বলতে লাগলো।
-কি হইছে?
গিয়েছিলি তো অধরার সাথে দেখা করতে।
তাইলে আবার বৃথা গেলো কিভাবে! (আমি)
-আরে কি বলব!
আমার রেকর্ড ভেংগে গেলো।
চ্যটিং এ ভদ্র ছিলো ভাবছিলাম দেখা হলে ওরকম থাকবে না।
কিন্তু আসলে তা না।
বাস্তবে আরো হুজুরী টাইপের মেয়ে।
দুইদিন মিট করার পর আমি আমার সব গার্লফ্রেন্ড দের সাথে নেক্সট মিট এ রুম ডেট করে ফেললাম কিন্তু আজ এই মেয়েরে স্পর্শ ও করতে পারিনি।
হাতটা ধরতে গেলাম তাও বলে এখন না।
এখন যদি স্পর্শ করি তাইলে বিয়ের সময় প্রথম যে স্পর্শ সেটা নাকি ফীল হবে না।
আসলো দেখা করতে তাও আবার বোরখা,মুখোশ দেয়া।
আরো গল্প পড়ুন বেয়াদব ছেলে Bangla Kharap Golpo
-কি বলিস!
এত্ত ভদ্র!
-আরে কি বলব!
চেহাড়াটাও দেখতে পারিনি।
-
ফোন থেকে সিমটা খুলে রাগে ভেঙ্গে দিলো,আইডিটা ডিলিট করে দিয়েই বল্লো।
ব্রেকাপ এর সাথে।
-
-আরে তুই নাহয় কথা না বললি আমার সাথেও তো ফেসবুকে এড আছে।
আমি কি বলব!
-জিজ্ঞাস করলে বলে দিবি যে আমি হঠাৎ বাড়ি চলে গেছি।
-আচ্ছা।
-
এতক্ষন কথা বলতেছিলাম আমার রুমমেট সাকিব এর সাথে।
সুন্দর,স্মার্ট ছেলে।
অবশ্য আরো একটা পরিচয় দেয়া যায়,
প্লে বয় সে।
প্রতি মাসে একটা করে মেয়ের সাথে রিলেশন করে,দেখা করে,রুমডেট করে তারপর ব্রেকাপ করে ফেলে।
আর ও কথা বলতেছিলো অধরা কে নিয়ে।
ভার্চুয়ালে পরিচয়।
একই শহরের মেয়ে।
ওর ক্ষানিকক্ষন আগের প্রেমিকা আর বর্তমানের প্রাক্তন।
এর সাথেও একই উদ্দেশ্য নিয়ে দেখা করতে গিয়েছিলো কিন্তু মেয়েটা নাকি স্পর্শ করতেই দিলো নাহ।
মেয়েটাকে নিয়ে ভাবছি আর অবাক হচ্ছি।
রাকিব এর ফাঁদে পা দিলো না মানে আসলেই ভালো মেয়েই হবে।
-
দিন দুয়েক গেলো।
অধরার কোনো খোজ নেই।
সাকিব এর সাথে তো যোগাযোগ নেই আর আমায় ও জিজ্ঞেস ই করলো না সাকিব এর ব্যাপারে।
-
সকাল বেলা নামায পড়ে ডাটা টা অন করা মাত্রই অধরার ফোন মেসেঞ্জারে।
ভাবলাম হয়তো ভুলে আসছে।
রিসিভ করাটা ঠিক হবে না।
কিন্তু আবার দিলো।রিসিভ করা মাত্রই...
-আসসালামু আলাইকুম
-ওয়া-আলাইকুমুস সালাম।
-সাকিব কই?
ওরে পাচ্ছিনা।
দুই দিন ধরে আমি কত্ত সমস্যায় আছি একবার খোজ ও নেয় নি।
অনেক দরকার এখন আমার ওকে।
-এক নিঃশ্বাস এ পুরোটা বল্লো।
সাকিব তো হঠাৎ করেই বাড়ি চলে গেলো।
-উফ,খুব দরকার ছিলো এখন।
-আচ্ছা,
যদি কোনো ব্যক্তিগত ব্যাপার না হয় আমি কি জানতে পারি?
-হ্যা।
আসলে গত পরশু দিন আপু হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে গেলো।
আপু প্রেগন্যান্ট।
আজ সিজার করতে হবে নাহলে খুব সমস্যা হবে।
O- রক্তের খুব দরকার।
ব্লাডব্যাংক এ পাচ্ছিনা।
সাকিব থাকলে তো অন্তত খুজে দিতে পারতো।
-
-আমার মনে হয় আমি হেল্প করতে পারবো।
আমার রক্তের গ্রুপ ও সেইম।
তুমি কাজ করো তোমার লোকেশন আমায় পাঠিয়ে দাও আমি চলে আসতেছি।
-আলহামদুলিল্-আলহামদুলিল্লাহ।
আলহামদুলিল্লাহ।
আমি পাঠিয়ে দিচ্ছি একটু তারাতারি করবেন প্লিজ।
-
অধরা লোকেশন আর ফোন নম্বর পাঠিয়ে দিলো।
আমি সাকিবকে ঘুম থেকে উঠিয়ে সব বললাম,
সাকিব এর কথা একটাই।
-ব্রেকাপের পর আমি আর কারোর খোজ রাখিনা।
সে আমার লাইফ থেকে 'ডিলেটেড'
-
কি আর করার!
বন্ধুর প্রাক্তন হিসেবে না হয় সাহায্য না করলেও চলে কিন্তু মানবিকতার খাতিরে একজন মা হতে যাওয়া মহিলার সাহায্য তো করতেই হবে।
আমি বের হয়ে গেলাম অধরার উদ্দ্যেশ্যে।
-
ঘন্টাখানিকের মধ্যে পৌছে গেলাম ওর দেওয়া লোকেশনে।
পৌছে ফোন দিলাম।
আসছি বলে কেটে দিলো।
আরো গল্প পড়ুন বেয়াদব ছেলে Bangla Kharap Golpo
একটা মেয়ে এসেই আমার হাত ধরে জোরে হাটা শুরু করল।
এটাই কি তাহলে অধরা!
জিজ্ঞাস করলাম,
-অধরা তুমি?
-হ্যা,বাকি কথা পরে হবে।
তারাতারি রক্ত লাগবে।
-
লাইফে আমি অত্ত জোরে হাটিনি।
মনে হচ্ছিলো আমায় টেনে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
আমার মাথায় একটা প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে যে,
-আমায় চিনলো কিভাবে!
-
জোরে হাটার কারনে মাথার তার ছিড়ে গেছে।
আমায় তো চিনবেই।
ফেবুতে কত্ত কত্ত পিক আপ্লোড দেই না চিনে পারবে কিভাবে!
-
এনে বেডে বসিয়ে দিলো।
নার্সরা এসে শোয়ালো।
আমার ব্যাপারে একটা গোপন কথা বলি।
কাউকে বলবেন না প্লিজ
এত্ত বড় হইসি তাতে কি!
ইনজেকশন এর সুই দেখলেই আমি শেষ।
মনে হয় আত্মাটা বুঝি এই দেহত্যাগ করবে।
-
যদিও আজকে সাহসী দেখানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি কিন্তু মন আর মানেনা।
অধরা বুঝতে পারলো ব্যাপার টা।
পাশে এসে হাতে হাত রাখার পর আমি স্বাভাবিক।
হাত টা এখন কেটে নিয়ে গেলেও মনে হয় আমার কিছুই ফীল হবেনা।
-
আচ্ছা,
অধরার সম্পর্কে তো বলাই হলো না।
টেনশনে,সমস্যায় স্বাভাবিক ড্রেসই পরে আছে।
বোরখা কিংবা মুখোশ নেই।
-
আমি বুঝতেছিলাম নাহ কিভাবে আমি ওর রুপ বর্ননা করবো।
বর্ননা করার জন্য নতুন কিছু বিশেষন আবিষ্কার করা দরকার আমার।
-
চুলগোলো লম্বা।
কোমড়ের নীচ অবধি পরে,
লম্বা হবে ৫'৩"-৪"
ওজন আনুমানিক ৪৫-৫০।
চেহারাটা একদম গোল।
ঠোটে একটা ছোট্ট তিল,
গালে টোল পরে,
আর নাক ঘামে হাল্কা হাল্কা।
চেহাড়ায় আলো পরলে বিন্দু বিন্দু ঘাম গুলো এমন উজ্জ্বল হয় মনে হয় যেনো মুক্তো ছড়ানো চেহাড়াতে।
এক কথায় রবীন্দ্রনাথের সকল বিশেষনই তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
-
ভাবছিলাম এত্ত সুন্দরী একটা মেয়ে কিভাবে আমার বন্ধুর প্রেমে পরলো।
এটার উত্তর টাও সহজেই পেলাম।
যেটা সবারই জানা আছে।
'সুন্দরীরা সব সময় ই বাজে ছেলেদের প্রেমে পরে।'
আর তারপর ছ্যাকা খেয়ে বাঁকা হয়ে সব ছেলেদের দোষারোপ করে।
-
এতক্ষন ওর দিকে তাকিয়ে থাকা দেখে নার্স জিজ্ঞাসা বললো,
-গার্লফ্রেন্ড?
সেই মানাবে দুজনকে।
আমি মুচকি হাসলাম।
-
রক্ত দেওয়া শেষ।
উঠতে গেলাম কিন্তু যেহেতু প্রথমবার খারাপ লাগতেছিলো।
মাথা ঘুরাচ্ছিলো।
অধরা ধরে নিয়ে এসে গাড়িতে তুলে বেশ কিছু ফল,জুশ ইত্যাদি কিনে দিলো।
নেওয়ার ইচ্ছা না থাকলেও নিতেই হলো।
বাসায় চলে আসলাম।
-
এরপর আরো দুইবার গেছিলাম আপুর বাচ্চা হওয়ার পরে।
অধরার সাথে ভালোই বন্ধুত্ব হয়ে গেলো।
সাকিব তো নেই।
তাই সারাক্ষন আমার সাথেই কথা হতো।
বেশ ভালোই কাটতেছিলো দিনগুলো।
-
মাস খানিক কেটে গেলো।
মাঝে মাঝে সাকিব এর কথা জিজ্ঞাসা করলেও কখনোই এমনটা মনে হয়নি যে ও খুব ভালোবাসতো সাকিবকে।
আমার তো মনে হচ্ছিলো সাকিব এর থেকে আমায় বেশী ভালোবাসে।
সারাক্ষনই কথা বলে,
অনলাইনে না পেল ফোন দেয়।
দেখাও করতে চেয়েছিলো আমিই ইচ্ছা করে করিনি।
আমি চেয়েছিলাম কিছুদিন পরে দেখা করে একসাথে প্রপোজ করে ফেলবো।
-
আরো বেশ কিছুদিন চলে গেলো।
মনে মনে ঠিক করলাম কালকেই প্রপোজ করবো।
সাকিব এতদিনে একবার ও অধরার কথা বলেনি।
সে তো অন্য প্রেমিকাদের নিয়ে ব্যস্ত।
অধরার পরে তার আরো ৫টা প্রাক্তন জমে গেছে প্রাক্তনের লিষ্টে।
তাই আমি যদি অধরার সাথে রিলেশনে যাই অবশ্যই ওর কিছু আসবে যাবে নাহ।
-
একা একা ভাবতেসিলাম কিভাবে কি করব।
প্রপথমবার,বেশ ভয় লাগছে।
সাকিব এতক্ষন বাসার বাইরে ছিলো।
বাসায় এসে ফ্রেশ হয়েই আমার কাছে এসে বল্লো,
-
-তোর কাছে অধরার নম্বর টা আছে?
আমিতো ডিলিট দিয়েছিলাম।
এখন লাগবে দে তো।
-
কথাটা শুনে নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম নাহ।
তাহলে কি আবার আমার স্বপ্ন ভেঙ্গে যেতে চলেছে....!
-
চলবে....
-আল ফাহাদ।
আরো গল্প পড়ুন বেয়াদব ছেলে Bangla Kharap Golpo
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label