নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

গল্প বাড়িওয়ালার রাগী মেয়ে Balobasar Golpo Bariwalar Ragi meye

গল্প বাড়িওয়ালার রাগী মেয়ে
Balobasar Golpo Bariwalar Ragi meye
লেখক রাকিব হোসেন
(পার্ট৭)
,
,
,
[আমি আজ অনেক অসুস্থ,, তাই আমি আজ একটু আগে গল্পটি দিলাম ]
,
,

- আরে এ যে দেখছি মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি
- বাবা এভাবে বলছ কেন ??
- এছাড়া আর কি বলবো । যাকে আমি ধরে বেঁধে ও আনতে পারি না সে আজ নিজেই চলে এসেছে ।
- এভাবে বললে কিন্তু আমি চলে যাব ।
- ওরে বাবা ছেলে এখন বড় হয়েছে তার সাথে একটু ফান ও করা যাবে না দেখছি ।
- দূর বাবা তুমি যে কি বল না । তুমি আর মা ছাড়া আমার আর কে আছে?? তোমরাই তো ফান করবে ।
- কেন একটা বিয়ে করে ফেললেই তো হয় ।তোমার মা ও কাল বলছিল । কি কাউকে পছন্দ আছে নাকি??
- বাবা তুমি খালি আমাকে লজ্জা দাও ।
- হা হা হা । আচ্ছা বাদ দাও । লাঞ্চ কি করে এসেছো নাকি আমার সাথে করবে??
- নাহ বাবা তোমার চিন্তা করার কিছু নেই। আমি করে নিবনে। তুমি করে নাও । আমি একটু অফিসটা ঘুরে দেখে আসি ।
- হ্যা তোমার অফিস । তোমাকেই তো দেখতে হবে । আমি আর কয়দিন ।
- বাবা এসব শুনতে আমার একদম ভালো লাগে না । তোমার কিছু হবে না ।
- আচ্ছা যাও আর হ্যা শিমা নামের মেয়েটাকে আমাদের মার্কেটিং সেকশন এ জব দিয়েছি ।
- অনেক ধন্যবাদ বাবা ।
আমি ঘুরে ঘুরে অফিস দেখতে লাগলাম। মার্কেটিং সেকশন এ আসতেই আমার চোঁখ পরল শিমার দিকে ।
- কেমন লাগছে জব ??
শিমা মুখ তুলে তাকাতেই দেখতে পেল আমি ওর সামনে দাড়িয়ে আছি । ও নিজের চেয়ার ছেড়ে দাড়িয়ে মুখে
অপ্রস্তুত একটা হাসি দিয়ে বলল -
- আরে তুমি সরি স্যার আপনি ?? বসুন..
নিজের চেয়ারের দিকে দেখিয়ে আমাকে সেখানে বসতে বলল শিমা ।
- নাহ নাহ !! এটা তোমার চেয়ার । আমি কেন বসবো আর হ্যা আমাকে স্যার বলার দরকার নেই । আমি এই অফিসের কিছু না।
- তবুও !!
- কোন তবুও না । যখন আমি অফিসের কিছু হব তখন স্যার বল। জব কেমন লাগছে বললে নাতো??
- জি বেশ ভালো । সবাই অনেক ভালো । আমাকে অনেক হেল্প করে ।
- গুড!! ভালমতো কাজ করো । কোন সমস্যা হলে আমাকে বল ।
- আচ্ছা বলবো ।
- লাঞ্চ এর সময় হয়েছে । খাবার কি বাসা থেকে নিয়ে আসো নাকি এখানে করো ??
- নাহ এখানেই করি । বাবাকে খাইয়ে আসতে আসতে নিয়ে আসার সময় হয়না। তুমি করেছ ??
- নাহ করিনি । যদি সমস্যা না থাকে চল একসাথে খাই ।
- কেউ কিছু মনে করবে নাতো??
আরে দূর নাহ । কে কি মনে করবে । চল তো ।
আমি আর শিমা খাচ্ছি । তবে আমি খাবার থেকে শিমাকেই বেশি দেখছি । কি সুন্দর আস্তে আস্তে খাচ্ছে মেয়েটি । আমার দিকে তাকাতেই শিমা লজ্জা
পেয়ে গেল ।
- কি হল খাচ্ছ না যে??
- কই খাচ্ছি তো । ভাল কথা আঙ্কেল কেমন আছে ??
- হ্যা বাবা একটু ভালো । তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ!!
- কেন ??
- এই যে জব দিয়ে দিলে । অনেক বড় একটা উপকার করলে আমার।
- আরে না না । এটা আর এমন কি !! এসব তো সবাই করতে পারে ।
- হ্যা পারে কিন্তু তোমার মত কেউ করেনা।
- আচ্ছা বাদ দেই। বিয়ে কবে করছ ??
- হা হা হা । বিয়ে সেটা মনে হয় আমার কপালে নেই । না হলে কি বিয়ে ঠিক হয়েও সেটা ভেঙ্গে যায় ।
- যা গেছে সেটা নিয়ে আর চিন্তা না করি। নতুন কাউকে খুজছ নাকি কেউ আছে?? তাইলে বিয়ে করে ফেল ।
আমাকে দাওয়াত দিও কিন্তু । অনেকদিন বিয়ে খাইনা ।
- এই যে মিঃ আপনি যে আমার বিয়ের কথা বলছেন তা নিজে
কবে করছেন হ্যা । জিএফ তো অবশ্যই আছে । নাম কি ??
আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দিবে না??
- হ্যা আছে তো । নাম শিমা। এই যে আমার সামনে বসে খাচ্ছে । হা হা হা!!
কথা শুনে শিমা লজ্জা পেয়ে আর তাড়াতাড়ি নিজেকে সামলে নিয়ে বলল -
- আমার সাথে মজা করা হচ্ছে তাই না । দেখাবে না বললেই হয় ।
- আরে বাবা থাকলে না দেখাব। নেই তো।
- হইছে আর বলা লাগবে না। কয়টা আছে আল্লাহই জানে?? তাড়াতাড়ি খাবার শেষ করো । অফিস এ দেরি হয়ে যাবে
আর হ্যা বাবা তোমাকে ধন্যবাদ দিতে বলেছে আর দোয়া করেছে তুমি যেন খুব সুন্দর একটা বৌ পাও ।
- ইস !! আঙ্কেল এই দোয়া করেইনি । এটা তুমি বানিয়ে বলেছ ।
- আহারে আঙ্কেল দোয়া করেনি বলে ছেলেটার কি কষ্ট । আফসোস !!
- মজা কম, চল উঠি ।
- হ্যা চল ...
আমি আর শিমা খাবার শেষ করে অফিস এর দিকে হাটা শুরু করলাম । মোবাইল এর শব্দ শুনে আমি মোবাইল হাতে নিয়ে দেখলাম নীলিমার এসএমএস -
- কই আপনি , আমার সাথে একটু দেখা করা যাবে ...??
................. ................... .....................
- শুনলাম আপনি নাকি বাসা ছেড়ে দিয়েছেন ??
- হ্যা গত সপ্তাহে ছেড়ে দিলাম । বাবা - মার সাথেই এখন আছি।
- আমাকে একবার জানানোর প্রয়োজন মনে করলেন না??
- আসলে কাউকেই জানাই নি আর সময় হয়ে উঠছিল না ।
- ইচ্ছা থাকলে আপনি ঠিকই জানাতেন।আপনার ইচ্ছা ছিল না
আমি জানি । গত কয়েকদিন ধরে আপনার রুমে কাউকে দেখছিলাম না আর গান ও শুনতে পারছিলাম না তাই গতকাল নীলাদের বাসার কাজের মেয়েকে জিজ্ঞেস করলাম সে বলল আপনি নাকি বাসা ছেড়ে দিয়েছেন ।
- আচ্ছা বাবা ভুল হয়েছে । আমি সরি । কিছু বলবে??
- আমি কিন্তু আমার উত্তর এখনো পাইনি।
- কি উত্তর??
- ওই যে ওইদিন বললাম । ভুলে গেছেন নাকি আজ আবার বলবো???
- আরে নাহ নাহ !! ভুলিনি । আমি একটু বিজি ছিলাম এই কয়দিন এটা নিয়ে ভাবার সময় পাইনি ।
- রাকিব আমার মনে হয় এটা নিয়ে ভাবতে তো মনে হয় এত সময় লাগার কথা না । আপনি আমাকে ভালোবাসেন না এটা
বলে দিলেই পারেন??
- না আসলে ব্যাপারটা তেমন না । আমি ঠিক বুঝতে পারছি না কি করবো।
- আচ্ছা আপনার বুঝা লাগবে না আর কিছু বলাও লাগবে না ।
আপনার সাথে কথা বলতে আমার ভালো লাগে , আপনাকে দেখতে ভালো লাগে । আমাকে শুধু এই সুযোগ দিলেই হবে ।
- কিন্তু নীলিমা.....
- কি দিবেন না??
- বাদ দিন । এই নিয়ে আমরা পরে কথা বলি । চলুন বাসার দিকে যাওয়া যাক ।
নীলিমা আর আমি হাঁটছি । মাঝে মাঝেই নীলিমার আঙ্গুলের সাথে আমার আঙ্গুলের টাচ লাগছে ।
নীলিমার খুব ইচ্ছে করছে আমার হাত ধরে হাটতে আর আমি !! আমি ভাবছি , আমি কি করবো।
সত্যি আমি আসলে কাকে ভালোবাসি ......??
,
,
,

** চলবে **
,

,
,

বিঃদ্রঃ ৮ম পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label