নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

চাচাতো বোনের অবহেলা ( সিজন ২)এক সাথে সব পার্ট

চাচাতো বোনের অবহেলা ( সিজন ২)
Golpo Sijon 2
চাচাতো বোনের অবহেলা ( সিজন ২) এক সাথে সব পার্ট
পর্ব:(০১)
লেখিকা: তিশা


_____
রাত নয় টা বাজে। আমি রাজ নির্জন  শহরের গলি দিয়ে একাই হেটে চলছি। আজ সামনে পা বাড়াতেও খুব ভয় হচ্ছে। ছয় মাস পর আজ জেল থেকে ছাড়া পেলাম আমি। বাসায় যাচ্ছি। জানি না আমার আপন মানুষ গুলো আমার সাথে কেমন ব্যবহার করবে। তবে এই টুকুনি জানি অনেক খারাপ ব্যবহার ই করবে। ছয় মাস জেলে থাকলাম কেউ খোজ নেয়নি আমার শুধু চাচা ছাড়া। আর কে ই নিবার আছে নিজের বউ তিশা ছাড়া। তিশা  আমাকে  ভুল  বুঝেছে সেটা আমি জানি।
তবে এই ভুল হয়তো কোন দিন আর ভাঙ্গবেও না। কারন আমার কাছে কোন প্রমান নেই। জেলে থেকে শুনেছি আমি বাবা হতে চলছি। তিশার গর্ভে আমার সন্তান।
 আর ভেবেছি তিশা রাগের মাথায় আমার সন্তানের কোনো ক্ষতি করে বসবে নাতো?

 হয়তো তিশা ওর সন্তান কে আমার সন্তান হিসেবে পরিচয় ই দিতে দিবে না। কথা গুলো ভাবতে ভাবতে বাসায় এসে গেলাম। দরজার সামনে দশ মিনিট ধরে দাড়িয়ে আছি কলিং বাজানোর সাহস হচ্ছে না। সাত পাচ না ভেবে অবশেষে কলিং বেল টা বাজালাম।

চাচি মা মানে আমার শাশুড়ি মা দরজা খুলে দিলেন। আমাকে দেখে মুখটা কালো করে চলে গেলো।

আমি চুপ করে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রইলাম। কিছুই বলতে পারছি না। চোখ দিয়ে পানি পরছে। খুব বলতে ইচ্ছে করছে মা আমি সেদিন কিছুই করিনি কেউ আমাকে ফাসিয়ে ছিলো। আর আমাকে আবির ই ফাসিয়ে ছিলো মা। কিন্তু বলতে পারছি না। একটা অজানা বাধা আমাকে আটকাচ্ছে।




আরে রাজ তুই কখন ছাড়া পেলি? । উপরে তাকিয়ে দেখলাম চাচা। চাচা আমাকে জরিয়ে দরলেন।

ভালো হইছে তুই এসেছিস যা ঘরে যা। তারপর ফ্রেস হয়ে আয় একসাথে খাবো কেমন।
হুমম।





আমি অনেকটা ভয় নিয়ে রুমে গেলাম। জানি না তিশা আমার সাথে কেমন করবে। আমি রুমে গিয়ে দেখি তিশা খাটের উপর বসে আনমনে কি যেন ভাবছে।।




কেমন আছো তিশা।

তিশা আমার দিকে তাকিয়ে এত গুলা বকা দিলো।




তুই আমার রুমে আসছিস কেন। ঐ ছোট লোকের বাচ্চা। তোর লজ্জা করে না। জেল থেকে এসে আমাকে তোর ঐ মুখ আমাকে দেখাতে??





তিশা আমাকে তুমি ভুল বুজতেছো ঐ দিন আমি কিছুই করিনি।( রাজ)




তুই একটা লুচ্চা ছেলে তুকে বিশ্বাস করে আমি অনেক বড় ভুল করছিলাম আর এখন তার মাশুল দিচ্ছি। তুই আমার চোখের সামনে থেকে দূর হ। তুকে আমি আর বিশ্বাস করতে চাই না।( তিশা)




তিশা আমাদের সন্তানের কথা টা একবার ভাবো তুমি।( রাজ)



ঐ একদম আমাদের সন্তানের কথাটা একবার ও বলবি ও শুধু তোর সন্তান আমার না। পাপ হবে বলে ওকে আজও বাচিয়ে রেখে চি। যেদিন ও পৃথিবীতে আসবে তুই তোর সন্তানকে নিয়ে চলে যাবি।( তিশা)





তিশার কথা শুনে আমি যেন আকাশ থেকে পরলাম। এমন সময় চাচি এসে যা বললেন জীবনেও ভাবতে পারিনি চাচি মা ও এমন কথা বলবে

পর্ব: (০২)



আমি তিশার কথা শুনে যেন আকাশ থেকে পড়লাম। আর চাচি মা এসে যা বললেন তা শুনার  জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।

_______________________
রাজ তুই?  তুই আমার বাসায় এসেছিস কেনো?  তোর মুখটাও আমরাও দেখতে চাই না। তুই আমাদের কাছে মরে গেসিছ। আমার মেয়ে বিধবা হয়ে গেছে। তুই বের হ আমার বাসা থেকে।



আমি চুপ করে দাড়িয়ে রইলাম। আমি সেদিন কোনো অন্যায় না করলেও সাজানোর নাটকের একটা নায়ক হয়েছিলাম। তাই চুপ করেই রইলাম। কিন্তু ঐ কথাটা  শুনতে খুব কস্ট হলো আমার মেয়ে বিধবা হয়ে গেছে। আসলেই আমি তিশাকে কস্ট দিয়ে ফেলেছি।

,

আমি সোফায় শুয়ে ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে চাচািমা ডেকে তুললেন। বললেন খেতে আয়। নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। ইনিই কি রাতে আমাকে বকা দিয়ে ছিলেন। ফ্রেস হয়ে নাশতা করে নিলাম।

,
,

আমার কোন কাজ নেই। সারাদিন বাসায় বসে আছি। তিশা আমাকে দেখলেই বকা দেয়।তাই তিশার সামনে যাচ্চি না। ছাদে বসে আছি।
,
,
,

ভাইয়া আমাকে কয়টা অংক করে দিবে?  কথাটা শুনে চমকে গেলাম। পিছন ফিরে দেখি তামিম। হুমম।যা আসতেছি।
,
,

তামিম কে অংক করাচ্ছিলাম কিন্তু অংক ও আর মিলাতে পারছি না। তারপর ওঠে আসলাম। একটু রুমে গোলাম। দেখলাম তিশা কিছু একটা খুজছে।


 কি খঁজছো তিশা?  আমাকে বলো আমি খুজে দিই।( রাজ)

,
,
,
এই ছোট লোকের বাচ্চা, লুচ্চা তুই আমার সাথে গা ঘেসে কথা বলতে আসবি না। তাহলে তোর খবর আছে।( তিশা)

,
,
,

তোমার এই ভাবে খুজতে কস্ট হবে তাই বলছি।এমন করে বকা দাও কেন হুম।আমি

আমার কষ্ট হলে তোর কি আয়ছে দরদ দেখাতে।( তিশা)

,
এবার আমার খুব রাগ হলো তাই বললাম। আমি তোমার কথা ভেবে আসিনি। আমি আমার সন্তানের কথাভেবেই আসেছি?( রাজ)
,
,
,

কি?  তোর সন্তান মানে?  ও শুধু আমার সন্তান। আমার সন্তানের দিকে হাত বাড়ালে তোর হাত আমি কেটে দিবো( তিশা)

,
,

এবার আমি খুব অবাক হলাম কি মেয়ে রে বাবা। তিশা তুমিই তো কাল কে বললে আমার সন্তান আমার মতো  খারাপ হবে। ওকে আমাকে দিয়ে দিবে( রাজ)

,

বের হ আমার রুম থেকে( তিশা)

,
,

আমিও বাড়াবাড়ি না করে বের হয়ে আসলাম।আর একটু মুচকি হেসে দিলাম। এভাবেই তিশার বকা শুনে শুনে আমার সাত দিন কেটে গেলো।
,
,
,

ভাবলাম কিছু একটা করতে হবে। তাই একটা বন্ধুর কাছে গেলাম।
,

আমাকে একটা কাজের ব্যবস্থা করে দিবে বলল।সব পেপার্স নিয়ে যেতে বলল।
,

পরের দিন ওর কথামতো গেলাম। আর কাস্টমার সার্ভিসে একটা চাকুরিও হলো।
,

চাচা আমার চাকুরির কথাটা শুনে অনেক খুশি হলেন। চাচিমা বললেন, তুই যদি কোনো দিনও চাকুরি না পাইতিস তবুও আমাদের কোনো দুঃখ ছিলো না কিন্তু আমার মেয়েটাকে দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েসিস। চাচা তিশাকে আমার চাকুরির কথাটা বলল,ও কিছুই বলল না চুপ করে চলে গেলো।
চাচিমার কথাটা শুনে অনেক খারাপ লাগলো।
,
,
,

এভাবে ই চলে গেলো একমাস। আজকে বেতন হলো আমার হাতে টাকা অনেক খুশি আমি। তখনি পুরোনো কথা মনে পরলো। রাজ সামনের মাসের টিউশনির টাকাটা দিয়ে আমাকে একটা শাড়ি কিনে দিবা?

,
,

তাই দৌড়ে মার্কেটে গিয়ে একটা নীল শাড়ি কিনলাম তিশার জন্য। তারপর বাসায় আসলাম।
,
,

তিশা জানালার কাছে বসে আছে। আমি শাড়িটা এগিয়ে দিয়ে তিশাকে বললাম, তিশা এই নাও তোমার শাড়ি।
,
,
তিশা আমার দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়ে শাড়ি টা নিলো। আমি অনেক খুশি হলাম।ভাবছিলাম।
কিন্তু আমার এ হাসি বেশি সময় রইলো না।

 তারপর শাড়ি টা আমার মুখের উপর ছুড়ে মারলো।তিশা এটা কি করলে তুমি।?( রাজ)
,
,

তুই ভাবলি কি ফকিরের বাচ্চা তোর শাড়ি আমি পরবো? ( তিশা)

আমি শাড়িটা হাতে নিয়ে রেখে দিলাম। ইচ্ছে করছিলো কষে একটা মাইর দি কিন্তু চাচা নিষেধ করছে আমি যেন তিশাকে কিছু না বলি।তাই কিচ্চু বললাম না।
,
,
,

সন্ধ্যার সময় চাচা আসলেন। চাচাকে বাকি টাকাগুলো বুজিয়ে দিলাম। এসে ঘুমিয়ে গেলাম। হঠাৎ সজাগ হয়ে কারো ঘোঙ্গরানোর আওয়াজ শুনলাম। লাইট ওন করে দেখি তিশার বেট থেকে আওয়াজটা আসতেছে। আমি তিশাকে ডাক দিলাম কোন ছাড়া নেই। আমি তিশার কাধে জাকি দিতেই তিশা আমাকে একটা থাপ্পুর বসিয়ে দিলো

ঐ ছোট লোকের বাচ্চা তুই আমাকে টাচ করলি কেন?
( তিশা)
 
তিশা তুমি কান্না করছিলে তাই।আমি আর কিছু বললাম না।
,
হইছে যা এবার( তিশা)

,
,
,

আমি এসে সোফায় শুয়ে শুয়ে পুরনো কথাগুলো ভাবতে লাগলাম। তিশা আমাকে কতটা বিশ্বাস করতো।
আমি সব নষ্ট করে দিয়েছি।
সবাই নিশ্চয় ভাবছেন কি এমন খারাপ কাজ ককরছি তাই না??
তাহলে
আসুন  ঘুরে আসি পুরনো দিনগুলো তে কি হয়েছিলো।
,
,
বিয়ের পরেও আমি টিউশনি করাতাম।তিশার বেশি চাওয়া ছিলো না।শুধু বলতো। পেমেন্ট পেলে তিশা কে একটা শাড়ি কিনে দিই আর একদিন যেন ফুচকা কিনে খাওয়াই।
,
,
বিয়ে করার আগে দেখতাম তিশা রিক্সা করে কলেজ যেত। কিন্তু বিয়ের পর আমার কাছে টাকা থাকত না বলে দুজনেই হেটেই কলেজ যেতাম।চাচা টাকা দিলেও তিশা নিতো না।
আমি তিশার এমন বিহেভ দেখে অবাক হতাম।কেননা তিশা বিয়ের আগে মাসে চাচার কাছ থেকে অনোক টাকা নিয়ে নিতো।সে আজ এত পরিবর্তন হয়েছে।
,
,
মাজে মাজে চাইতাম কোন কোম্পানিতে জব নিবো।কিন্তু তিশা চাইতো আগে স্টাডি টা শেষ করি।ওর নাকি কোন কষ্ট হয় না।
,
,
তাই পড়াশুনাই করতাম বেশি।
আমি সবাই কে নিয়ে খুব সুখেই ছিলাম।
কিন্তু এ সুখ আমার বেশি দিন রইলো না।
,
,
একদিন টিউশনি থেকে বাসায় ফিরে দেখি তিশা কাজিন আবির আসছে।
,
,
আমি ভিতরে ডুকতেই তিশা বলে ওঠলো,
__ কি এত লেইট করলে কেন? ( তিশা)
___ পরাতে পড়াতে লেইট হয়ে গেছে। ( রাজ)
তারপর তিশা সোফায় বসে থাকা ছেলেটার দিকে ইশারা করে বলল,
_______ ও আমার খালাতো ভাই আবির
আর আবির কে বলল,
এ আমার বর রাজ।
,
,
তিশা আমার একটা হাত ধরে হেসে হেসে বলছিলো।
,
আমি আবিরের সাথে অনেক কথাই বললাম।
রাতে আবির চলে গেলো।
,
,
পরের দিন তিশা বলল,
__ আমি আজ কলেজ যাবো না রাজ।তুমি যাও ( তিশা)
__ কেন। তোমার শরীর খারাপ।?  আমি তিশার কপালে হাত দিয়ে বললাম।
,
,
তিশা হেসে দিয়ে বলল,
no mr.রাজ।
আমি একদম ঠিক আছি।
}------
তাহলে কলেজ যাবে না কেন?( রাজ)
____ আম্মু,  আব্বু খালামনিদের বাসায় যাবে। আমিও যাবো।
তিশার কথা শুনে আমি তাকিয়ে রইলাম।
তিশা আবারো বলে ওঠলো,
আরে আবিদের বাসায়।
,
আমি আর কিছু না বলে কলেজে চলে আসলাম।
,
কলেজে ডুকার পর মনে হলো কেউ আমাকে ডাকছে।
আমি পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখি আবির দাড়িয়ে আছে।
,
,
প্রথমত আবির এখানে কেন?
আমি যাবো না বলে কি নিতে আসছে। নাকি তিশার সাথে দেখা করতে আসছে। প্রশ্ন গুলো আমি মনে মনে বললাম।
তারপর আবিরের সামনে গেলাম।
আপনি এখানে কেন??
___ তোমার সাথে দেখা করতে আসলাম রাজ? ( আবির)
_____ আমার সাথে দেখা করতে কিন্তু কেন?? ( রাজ)
__ আসো আমার সাথে কিছু জরুরি কাজ আছে।
বলে আবির আমাকে ওর গাড়ি তে গিয়ে বসতে বলল।
___
না ভাইয়া,  আমার ইম্পুর্টেন্ট ক্লাস আছে। অন্য দিন যাবো আপনার বাসায়।তাছাড়া তিশা তো যাচ্ছে ই।
____ হা হা হা 
আবির আমার কথা গুলো শুনে অট্টহাসিতে ভেঙ্গে পড়ল।
আমি তার হাসির কারন টা ঠিক বুজতে পারছি না।
এমন করে হাসছেন কেন?( রাজ)
____ আরে তোর কথা শুনে। তুই ভাবলি কি করে তোকে আমার বাসায় নিয়ে যাবো। আমার বাসায় একটা সোফায় বসার যোগ্যতাও তো তুর নেই।
,
তিশা যে তোকে কেন বিয়ে করলো সেটাই বুজতে পারছি না।
,
আমিও মুচকি হেসে বললাম,
আপনি বুজবেন ও না। কেন করেছে।
তো আপনার কথা বলা শেষ হলে আমি এখন যাই?
,
আবির আবার ও বলে ওঠলো,
তুই তিশার জীবন থেকে সড়ে দাড়া। আমি তিশা কে ভালোবাসি।
,
,
আবিরের কতাটা শুনে আমি জোরেই হেসে দিলাম,
কি ভাই আমি বউ কে ছেড়ে দিবো হুম।
আপনাকে ডক্টর দেখানো দরকার।
 আমি যাই
,
আমি সামনের দিকেই পা বাড়াতেই আবির বলে ওঠলো,
পর্ব:০৩
♥♥♥♥♥♥♥
আমি সামনের দিকে পা বাড়াতেই আবির বলে ওঠলো,,,
______________________

রাজ তিশা শুধু আমার। তোকে আমি ঠিক সরিয়ে নিবো। ( আবির)
______
আমি আবারও হাসি দিয়ে চলে আসলাম।
আবিরের কথাটা সেদিন পাত্তা দিলাম না। তিশা কে বলেছিলাম আবিরের সাথে কথা না বলতে।মেয়েটা অনায়েশে বলে দিলো ঠিক আছে আর বলবো না।
__________________________
 
তার একমাস পর আমি কলেজ এ গাছের নিচে বসে বই পড়ছি। তিশা মাঠে বাকি বন্ধুদের সাথে গল্প করছে।
,
আমি পুরোপুরি পড়ায় মগ্ন। এমন সময় কারো কথায় ওপরে তাকালাম।দেখলাম সাদিয়া আমার সামনে দাড়িয়ে আছে।
_________________________

কিছু বললে আমাকে সাদিয়া?( রাজ)
___ হুম।আমাকে একটু হ্যাল্প করবে রাজ?( সাদিয়া)
_____ কি হ্যাল্প বলো।কোন নোটস লাগবে? ( রাজ)
__আরে নাহ,  নোটস না।অন্য রকম হ্যাল্প ( সাদিয়া)
_____ আসলে তুমি তো জানো আমি সোহান অনেক ভালোবাসি। কিন্তু ও আমাকে পাত্তাও দেয় না। প্লিজ রাজ সোহান কে বুজিয়ে বলো না।
তুমি বললে ও ঠিক শুনবে ( সাদিয়া)
___ দেখ সাদিয়া।এটা সোহানের পার্সোনাল মেটার আমি কি করবো? ( রাজ)
_____ প্লিজ রাজ এমন করে বলো না।একটু দেখ? ( সাদিয়া কান্না করে বলল,)
____ আরে কান্না করছো কেন? ( রাজ)
____ সত্যি বলছি সোহান আমার ভালোবাসা মেনে না নিলে মরে যাবো।সত্যি বলছি আমি কিছু একটা করে ফেলবো ( সাদিয়া 😭😭😭)
________আচ্ছা আমি সোহান কে বলবো। ( রাজ)
____ তাহলে এখনি চলো রাজ।সোহান কোথায় আছে আমি জানি। আর ও এখন একা আছে। প্লিজ রাজ এই টুকুনি হ্যাল্প করো ( সাদিয়া)
_________________________


কি করবো আমি বুজতে পারছিলাম না।মেয়েটা কান্না করছে তাই যেতে রাজি হলাম।কিন্তু রাজি হওয়াটা আমার জীবনের কাল হয়ে দাড়ালো।

,
চলো তাহলো সাদিয়া,
আমি বইটা বেগে রেখে সাদিয়ার পিছু চললাম।
আর যাওয়ার আগে তিশাকে ইশারা দিলাম আমার একটু কাজ আছে।
,
,
সাদিয়া যাচ্ছে আমি তার পিছু পিছু যাচ্ছি।কলেজের ক্লাস হওয়া সব গুলো রুম ই অতিক্রম করে ফেলছি। পুরোনো বিল্ডিংটার কাছা কাছি এসে গেছি।
,
আমার কেমন জানি সন্দেহ হতে লাগলো।আমি সাদিয়া কে বললাম,
আর কত যাবে আর সোহান কোথায়? ( রাজ)
__=এই তো আরেক একটু। ( সাদিয়া)
আমি আবারও চললাম সাদিয়ার পিছু। একটু গিয়ে সাদিয়া একটা রুমের দিকে ইশারা করে বলল,
এই রুমে সোহান বসে আছে।? ( সাদিয়া)
আমার কেমন জানি লাগছিলো।সোহান এখানে কি করছে। আমি কি ভিতরে যাবো?? জায়গাটা নির্জন। কি করি এখন?  কিন্তু সাদিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখলাম,
মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ওর চোখে পানি টলমল করছে। খুব মায়া হচ্ছিলো।
আমি ভাবলাম না রুমে ডুকলাম।কিন্তু রুম টা অন্ধকার। কিচ্ছু দেখা যাচ্ছে না।
আমি একটু সামনে এগিয়ে গেলাম। আর সোহান কে ডাকতে লাগলাম,
সোহান,  সোহান, এই সোহান তুই কোথায় রে। এই অন্ধকার রুমে কি করিস?  বেরিয়ে আয় বলছি সোহান,
কোন আওয়াজ না পেয়ে আমি দরজার দিকে তাকালান অদ্ভুত দরজা বন্ধ হলো কেমন করে বুজতেছিনা তো।
,
আমি সাদিয়া কে ডাকতে যাবো তখনি রুমে লাইট জলে ওঠলো।আমি সামনে তাকিয়ে অবাক হলাম।সাদিয়া দরজা বন্ধ করে দাড়িয়ে আছে। আর মুচকি মুচকি হাসছে।
,
আমি কিচ্ছু বুজে ওঠতে পারছি না। আমি ঘুরে তাকালাম সোহান কে দেখার জন্য। কিন্তু না সোহান কোথাও নাই। আমি সাদিয়া কে প্রশ্ন করলাম।
______ সোহান কোথায়সাদিয়া??
___ সোহান তো নেই রাজ এখানে? ( সাদিয়া)
_____ সোহান এখানে নেই মানে?  আর তুমি দরজা বন্ধ করলে কেনো? ( রাজ)
____ আবির কে চিনো। আবির আমাকে পাঠিয়েছে।তোমাকে মিথ্যে বলে এখানে নিয়ে আসলাম। এখন দেখ কি করি।
বলেই সাদিয়া চেচাতে চেচাতে লাগলো।
বাচাও কেউ,  রাজ আমার ক্ষতি করো না ইত্যাদি ইত্যাদি বলে।
আমি সাদিয়ার এমন বিহেভ এ তব্দা হয়ে গেলাম। তখনি আমার মনে তিশা তো মাঠে বসে আছে। আর মাঠ থেকে এ চিৎকার শোনা যাবে।
,
,
আমি তারাতারি করে বের হতে গেলাম। কিন্তু সামনে সাদিয়া দাড়িয়ে চেচাচ্ছে। কেমন করে বের হবো আমি?
আমি যখনি সাদিয়া কে সরিয়ে বের হতে গেলাম।তখনি সাদিয়া আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো।
আমি একটা সিটের কর্নারে গিয়ে পড়লাম।আমার বেগটা একটু দূরে গিয়ে পড়লো।
আমি তারাতারি ওঠার চেষ্টা করলাম। কিন্তু আমার পা কিছু একটার সাথে আটকে গেছে। অনেক চেষ্টা করেও বের করতে পারছি না।
তখনি আমার নজর পড়ল আমার হাতে টপ টপ করে ফোটা ফোটা রক্ত পড়ছে।
আমি কপাল হাত দিলাম।
হ্যা আমার কপাল টা একটু কেটে গেছে। আমি অনেক কষ্ট করে যখনি পা টা বের করে কোন রকম ওঠে দাড়ালাম ততখনে সবাই এসে গেছে।
সাদিয়া তিশা কে ধরে কান্না করছে আর বলছে,
আ, আমি আসতে চাইনি রাজ জোর করে নিয়ে আসছি। ও বলছে আমাকে কিছু নোটস দিবে তাই আসছি।
কিন্তু জানতাম না রাজ আমার সাথে এমন টা করবে। আমি ওকে বিশ্বাস করে ছিলাম।
তিশা আমি রাজ কে আঘাত না করলে আজ অনেক বড় ক্ষতি করে ফেলতো। তুকে অনেক ধন্যবাদ তিশা ঠিক মতো এসে আমাকে বাচিয়ে দিলি।
সাদিয়া নিজেকে দুটো হাত দিয়ে ডেকে রাখছে আর কান্না করে।এক এক করে সব মিথ্যে বলে যাচ্ছে।
,
,
তিশা সাদিয়া কে আমার সামনে এসে দাড়ালো।
আমার চোখের দিকে তিশা তাকিয়ে আছে। ওর চোখে জল গড়িয়ে পড়ছে


আমি কিছু বলতে যাবো তিশা তখনি আমাকে একটা থাপ্পুর মারলো আর বললল,
____লজ্জা করে না। বউ রেখে অন্য মেয়ে কে নির্জন জায়গায় ডেকে এনে। ছি :
এই আমার ভালোবাসার মুল্য তোর কাছে? এই প্রতিদান আমার ভালোবাসার?  কি দোষ ছিলো আমার?  কিসের কমতি ছিলো।আমি তোকে কখনো দূরে সরিয়ে দিতাম।
আমার ভাবতেও ঘৃনা হচ্ছে তুই আমার স্বামী। তুই একটা খারাপ লোক।ভুল করেছিলাম আমি তোকে ভালোবেসে।তারচেয়ে বড় ভুল করেছিলাম তোকে বিয়ে করে?
____ তিশা আমি কিচ্চু করিনি। আমাকে কেউ ফাসিয়েছে?  বিশ্বাস করো?
____ বিশ্বাস করবো? 
আবার ও?
নিজের চোখের সামনে এত কিছু দেখেও। কেমন করে করবো।?বিশ্বাস আমার শেষ হয়ে গেছে? (
____ আমাকে একটা বার বিশ্বাস করো আমার কথাটা একবার শুনো।আমি কিচ্চু করিনি?
____ বাহ, বাহ,  কি অভিনেতা?
তাহলে এই ওড়নাটা এখানে আসলো কেমন করে। আমার কাছেই পড়ে থাকা সাদিয়ার ওড়নার দিকে ইশারা করে বলল,
তোর কপাল  ফেটে রক্ত বের হলো কেমন করে।
এসব কিচ্ছু মিথ্যে? ( তিশা)
___ তিশা আমি কিচ্চু করিনি। কেন বুজতে পারছো না। ( রাজ)
___ আমি আর বুজতে চাই না।তোর এই মুখ আমি আর দেখতে চাই না। বলেই সাদিয়ার ওড়না টা নিয়ে তিশা চলে গেল।
,
,
একটু পর পুলিশ এসে আমাকে ধরে নিয়ে গেলো।
,
আমার আর বুজতে বাকি রইলো না। সব ছিলো আবিরের সাজানো নাটক।
আমাকে ফাসিয়ে দিলো।আবির ঠিক আজ আমাকে তিশার থেকে সরিয়ে দিলো।
,
,
আমাকে শুধু চাচা ছাড়া আর কেউ বিশ্বাস করতে পারলো না।
অনেক চেষ্টা করেও চাচা আমাকে বার করতে পারলো না। কারন তিশা নিজে সাক্ষ্য দিলো আমি সাদিয়ার ক্ষতি করতে চাইছি।
আমার ছয় মাসের জেল হয়ে গেলো।
,
,
বাকি টা আপনারা জানেন ই।
বলতে বলতে রাজের দুচোখ জুরে ঘুম নেমে আসলো।
,
,
সকালে রাজ ওঠে অফিসে চলে গেলো।আজ কাল রাজ তিশার সামনে কম যায়।তাই তিশাও আর বেশি রাগে না।
,
,
রাজ একদিন অফিস থেকে ফিরে খুব অবাক হলো।
,
তিশা আবিরের সাথে বসে হাসাহাসি করছে।
আজ রাজের খুব রাগ হলো।কিন্তু চুপ করে থাকলো
,
,
একটু পর তিশা রুমে আসলো।
____ তুমি আবিরের সাথে বসে হাসাহাসি করছিলে কেন? ( রাজ)
____ আমার ইচ্ছে হইছে তাই করছি এর জন্য কারো কাছে আমি কইফিয়ত দিতে পারবো  না।
___ তিশার কথা গুলো শুনে আজ আমার খুব রাগ হলো।কারো কাছে মানে? 
আমি তোমার বর তাই আমি নিষেধ করছি। সো তুমি আবিরের সাথে কথা বলবা না। ব্যাস( রাজ)
____ তুকে আমি বর হিসেবে মানি না। আর কখনো মানবো ও না।? ( তিশা)
____ তিশার কথা শুনে আজ আর নিজেকে কন্ট্রোল  করতে পারলাম না।তাই ঠাসসস ঠাসস করে দিলাম দুটো থাপ্পুর।
তিশা কান্না করতে লাগলো আর বলল,
ছোটলোকের বাচ্চা আজি এ বাসা থেকে বের হবি। তোর জায়গা এখানে নেই।
_____ আর এক বার ছোটলোকের বাচ্চা বললে খবর আছে। শয়তান মেয়ে লজ্জা করে না নিজের বর রেখে অন্য ছেলের সাথে হাসা হাসি করতে। আমি কি এমন করছি। সারাখন বকা দিয়ে যাস। এবার থেকে আমি ও ছাড়বো না।ঐ আবিরের সাথে তুকে দেখলে খবর আছে।
,
আমার অনেক রাগ হয়েছিলো তাই একদমে সব গুলো কথা বলে ফেললাম।
তখনও তিশা কান্না করছিলো।
,
আমি দরজার দিকে তাকিয়ে অবাক হলাম।
চাচি মা দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে। জানি না রাগের মাথায় কি কি বলে ফেললাম।
,
চাচি মা এসেই আমাকে থাপ্পুর মারলো।
বেরিয়ে যা আমার বাসা এ বাসায় তোর আর জায়গা নেই।
অনেক জালিয়েছিস এবার দূর হ। আমার মেয়ের নামে বদনাম করিস তাই না।আবার আমার মেয়ের গায়ে হাত তুলেছিস।তুকে জেলে পচিয়ে মারার দরকার ছিল।
ছোট বেলা থেকে খায়িয়ে পড়িয়ে এত বড় করেছিলাম।
এজন্য তাই না?
যে দিন বাবা মা মারা গিয়েছিলো কোথাও তো জায়গা পাসনি?
আজ আমি জায়গা দিয়েছি বলে এত কিছু করছিস?
বেরিয়ে যা আমার বাসা থেকে।এক্কন বেরিয়ে যা।তোর মতো ছেলের কোন জায়গা নেই?
চাচি মা কথা গুলো বলেই আমার কাপড় একটা বেগে ভরে আমার মুখের উপর ছুড়ে মারলো।
আজ আমার ও খুব রাগ হলো।আর এত অবহেলা বকা সহ্য করতে পারছি না। তাই বেগ টা কাধে নিলাম।।
,
চাচি মা আমাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিলো। তারপর আমার মুখের উপর
চাচিমা দরজা বন্ধ করে দিলো।
,
,
আমি কেন জানি আর সহ্য করতে পারছি না। অনেক প্রতিবাদ করতে ইচ্ছে করছে।
না আমি আর শহরে থাকবো না। চলে যাবো গ্রামে।
,
,
,
বাসার সামনে দশ মিনিট দাড়িয়ে থেকে রওনা দিলাম বাস টপের দিকে।
,
,
,
রাতের বেলা রাস্তা দিয়ে হাটছি আর ভাবছি। আমি তো ইতিম। আর ইতিম হয়ে ও অনেক বড় স্বপ্ন দেখে ফেলেছি। এখানে থেকে আর লাভ নেই।
হয়তো চাচা এসেও একি ব্যবহার করবে। কারন তার গায়ে হাত উঠিয়েছি। মিথ্যে বদনাম দিয়েছি। কম কি করেছি নাকি।
,
,
,
যাই হোক বাসস্টপে এসে গেলাম।টিকিট কেটে ওয়েট করতে থাকলাম বাসের জন্য।
আর ভাবতে লাগলাম চাচা মনে হয় ফোন দিবে বাসায় ফিরার জন্য। কিন্তু তাও ভুল হলো।
,
,
,
আমার বাস এসে গেল। যাত্রা শুরু করলাম গ্রামে।
,
,
,
রাতে তিশার বাবা এসে সব কিছু শুনে কিছুই বললেন না।
তখনও তিশার মা অনর্গল বকে যাচ্ছে রাজ কে।
,
,
,
তিশার বাবা ছাদে গিয়ে দেখল তিশা মন মরা হয়ে দাড়িয়ে আছে। ওনি তিশার পাশে দাড়ালো। আর রাজ কে ফোন দিলো। ততখনে রাজ ফোন বন্ধ করে দিয়েছে। ফোন সুইচ অফ দেখাচ্ছে।
,
,
,
তিশা যেন মন মরা হয়ে কি ভাবছে যা তিশার বাবা ঠিক বুজতে পারছে 
,
ওর বাবার ডাকে তিশা বাস্তবে ফিরলো,
______ তিশা তুকে কিছু কথা বলতে চাই? ( বাবা)
______ বলো বাবা কি কথা? ( তিশা)
তুই রাজ কে ভুল বুজেছিস মা।ও নিদোর্ষ কিচ্চু করেনি।( বাবা)
___ বাবা তুমি কাকে নিদোর্ষ বলছো বলোতো? ( তিশা)
___ ঐ দিন সাদিয়ার সাথে যা কিছু হয়েছে সব সাজানো নাটক ছিলো।আবিরের কথায় সাদিয়া রাজকে ফাসিয়েছে।
তোর কাছ থেকে রাজ কে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। ( বাবা)
___ কিন্তু কেন?  আবির এমন কেন করবে? ( তিশা)
___ কারন আবির তোকে ভালোবাসে। ( বাবা)
____ তুমি এসব জানলে কেমন করে বাবা? ( তিশা)
___ রাজ বলেছে। তুই খুব কস্ট দিয়ে ফেললি রাজকে।ছেলেটার কেউ নেই রে মা তুই ছাড়া।
কোথায় গেল এখন কে জানে?
ফোনটাও তো অফ দেখাচ্ছে।
বলেই তিশার বাবা চলে গেলো।
,
,
,
কথাগুলো শুনে তিশার চোখ দিয়ে পানি পরছে। কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে তিশা।
কি বলবে কত খারাপ করেছে রাজের সাথে।
,
,
,
তিশা দৌড়ে রুমে গেল আর রাজ কে কল দিলো।
এবার রাজের ফোনে রিং হচ্ছে।
তিশা একটু হেসে দিলো।মনে মনে ভাবতে লাগলো রাজ কোথাও যায়নি। পরমুহুর্তেই তিশার মুখটা মলিন হয়ে গেলো। কারন রাজ ফোন কেটে দিলো
তিশা আবারও ফোন দিলো এখন ফোন সুইচ অফ দেখাচ্ছে,,,,,,,,,,,,,
♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥

পর্ব:{ ০৪}
♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥
তিশা আবার ও ফোন দিলো কিন্তু এখন ফোন সুইচ অফ দেখাচ্ছে, ,,,,,
_______________________
সারা রাত তিশা ট্রাই করে গেলো।কিন্তু রাজের ফোন বার বার অফ দেখাচ্ছে।
তিশা বুজতে পারলো রাজ আজ অনেক বেশি কষ্ট পেয়েছে । কিন্তু আবির এসব করেছে জানতে পারলে রাজের সাথে তিশা  কখনো এমনটা করতো না।
,

,
_____
রাত পেরিয়ে সকাল হয়ে গেল। রাজের ঘুম ভাঙল একটা লোকের ডাকে।
--- ও ভাই,  বাসেই থাকবেন নাকি। বাস তো এসে গেছে।
রাজ হুরমুরিয়ে ওঠলো।
বাস থেমে অটো করে চলে আসলো গ্রামে।
,
বাড়িতে ডুকতেই রাজের ছোট চাচিমা বলে ওঠলো,
কি রে রাজ তুই এত সকাল সকাল আসলি যে।
___
রাজ কিছুই না বলে ছোট চাচাতো ভাই আরমানের রুমের দিকে পা বাড়ালো।
পিছন থেকে চাচি মা আবারও বলে ওঠলো,
কি রে তিশা কোথায়। তিশা কে নিয়ে আসলি না?
,
,
রাজ এবার ও চুপ করে রইলো।
রুমে ডুকতেই আরমান যেন চমকে ওঠলো।
আরে রাজ ভাইয়া যে কখন আসলে?
,
রাজ কোন উত্তর না দিয়ে ব্যাগ রেখে বিছানায় শুয়ে পড়লো।
আরমান পড়ার টেবিল থেকে ওঠে এসে বলল,
ভাইয়া তিশা আপুও আসছে নাকি???
,
,
রাজ এবার আরমানের দিকে একটু রাগি মুডে তাকালো। আরমান আর কিছু না বলেই চলে গেলো।
,
,
ছোট চাচিমা আর আরমান বুজতে পারলো। কিছু একটূ তো হয়েছে।
আরমান চুপ করে তিশা কে ফোন দিলো।
____ হ্যালো,  তিশা আপু?
____ হুম।বল আরমান?
______ আপু বাসায়,কি কিছু হইছে।রাজ ভাইয়া আসল এখন কিন্তু কারো সাথে কথা বলছে না
__= রাজ গ্রামে গেছে?
____ হে তো একটু আগেই আসলো। আপু কিছু হয়েছে?
____ হুম। অনেক কিছু।
____ কি হয়েছে আপু বলো।
তারপর তিশা আরমান কে সব কিছু বলল,
আপু চিন্তা করো না।ভাইয়া ঠিক চলে যাবে। আমি আম্মু কে বলি তাহলে রাখি তাহলে
.

আরমান ফোন রেখে ওর আম্মু কে সব কিছু বলল।
তাহলে রাজকে কিছু বলিস না আরমান।ও চুপ করেই থাক।

,
তিশা দৌড়ে গিয়ে ওর বাবা কে বলল,
আব্বু রাজ গ্রামে গেছে।
___ ও গ্রামে চলে গেছে?  তাহলে চিন্তা করিস না। চলে আসবে।
,
,
,
কিন্তু তিশা কিছুতেই শান্তি পাচ্ছে না।আব্বু চলো গ্রামে গিয়ে রাজ কে নিয়ে আসি । আমি অনেক অন্যায় করেছি।
প্লিজ আব্বু চলো।
,
,
,
দরকার হলে আমি যাবো। তুই রেস্ট কর। একদম টেনশন করবি না। তোর শরীর টাই ভালো না।
,
,
বাবার কথা শুনে কিছুটা শান্তি পেলেও মুহুর্তেই মন খারাপ করে ফেলল।
কত বকা দিয়েছি রাজকে।নিজের সন্তান কে ও বকা দিয়েছি আমি।আমি কত নিষ্ঠুর হয়েছি।
তিশা ওর পেটে হাত দিয়ে বলল,
মাফ করে দিস আব্বু টা তোর পচা আম্মু টাকে।
,
,
__________________________

রাজ একটু ঘুমানোর পর ওঠেই চাচি কে বলল,
ছোট মা অনেক খুদা পাইছে খেতে দাও তো?
,
,
তুই রুমে গিয়ে বস আমি নিয়ে আসছি।
___ না ছোট মা রান্না ঘরে বসেই খাবো।
_এখানে বসে খাবি। তুই রুমে যা আমি টেবিলে খাবার দিচ্ছি।
___ এতিমের আবার টেবিলে খাবার দাও তো। বলেই রাজ নিচে বসে পড়লো।
ওর ছোট মা এতিম কথা টা শুনেএক দৃষ্টিতে রাজের দিকে তাকিয়ে আছে
তারপর বলল,
তুই এতিম কে বলেছে রাজ?
আমরা কি মারা গেছি?
__
খেতে দাও তো। এতিম কে এতিম বলবে না তো কি বলবে। আর এতিম শুনতে খারাপ লাগে না বরং ভালোই লাগে।শুনতে শুনতে এতিম শব্দটাই ভালো লাগে।
,
রাজ খাবার খেয়ে বেরিয়ে গেলো।
গ্রামের ছোট খাটো বাজারে গিয়ে ওর ছোট বেলার বন্ধু সজিবের সাথে দেখা করলো।
___
আমাকে কোন একটা কাজ দিবি সজিব।যে কোন ধরনের কাজ হলেই চলবে।
___ তোর মাথা খারাপ নাকি? এত পড়াশুনা করসোস। এখন এসব কাজ করবি? তোর করার মতো কাজ এখানে নাই।( সজিব)
____ তুই যে কাজ করিস তাই করবো আমি প্লিজ না করিস না( রাজ)
___ আমি ট্রাক থেইকা মাল নামাই। তুই পারবি নাকি? ( সজিব)
____ আমি পারবো।তুই আমাকে কাজটার ব্যবস্তা করে দে । আমি তোর কাছে একটু চাইচি। এই এতিম কে একটু সাহায্য কর।
___ রাজ তোর মাথা ঠিক আছে তো?  আর কি হইছে বলতো ( সজিব)
___ সব শুনলে কাজ দিবি তো?
___ হুম।দিবো। বল আগে।
___ শোন তাহলে। তারপর রাজ সজিব কে সব কিছু বলল,
সজিব কি বলবে বুজতে পারছে না।
রাজের জোরাজোরি তে কাজে নিলো।
রাজ আজ প্রথম অনেক কষ্টের কাজ করছে।সজিব ওকে বার বার না করছে । কিন্তু রাজ আর কারো বুজা হয়ে থাকতে চায় না।
,
,
সারাদিন কাজ করে রাজ পাচশত টাকা পাইলো।তা নিয়ে বাড়ির দিকে পা বাড়ালো।
,
,
,
রাজের ছোট মা সারা,দিন রাজকে খুজেছে।সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরলে তিনি খুব অবাক হলেন। রাজের গা ভর্তি ময়লা।
,
রাজ তোর এ অবস্থা কেন।সারা,দিন কোথায় ছিলি তুই?
__ আমি কাজে গিয়েছিলাম সজিবের সাথে। এই নাও টাকা।রাজ ওর ছোট মার হাতে টাকা গুলো গুজে দিয়ে।
গোসল করতে চলে গেলো।
,
,
,
গোসল করে এসে রাজ শুয়ে আছে। এমন সময় ছোট মা এসে বলল,
__________ রাজ,  তুই এমন কাজ কেন করতে গেলি।আমরা কি বলিছি তুকে কাজ করতে যেতে?(
____ রাজ হাও মাও করে কেদে ওঠলো। ছোট মা।
এ পৃথিবীতে আমার কেউ নেই। খুব এতিম আমি। আর এতিম দের কে কেউ ভালো বাসতে পারে না। সবাই বুকে তুলে নিলেও আবার অবহেলা করে দূরে সরিয়ে দেয়।
জানো ছোট মা,
আমি যে এতিম। তিশার যোগ্য নয় তা ভুলেই গেছিলাম।আমি স্বপ্নের রাজ্যে হারিয়ে গেছিলাম।
জানো কালকে চাচি মা সব মনে করিয়ে দিয়েছে।
ঘার দাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে। টাকা পয়সা খরচ করিয়ে বড় করেছে।
ছোট মা আমি এখানে থাকবো কিন্তু টাকা রোজগার করে তোমাদের কে দিবো।
আর যদি বাধা দাও তো আমি এখান থেকে ও অনেক দূরে চলে যাবো।প্লিজ ছোট মা এই এতিম টাকে দূরে সরিয়ে দিও না।
রাজ আস্তে আস্তে ওর ছোট মার কুলে মাথা রেখে কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে গেলো।
________________________

তিশাও আজ ভালো নেই।ঠিক মত খাওয়া করে না।আস্তে আস্তে অসুস্থ্য হয়ে যাচ্ছে।
এটা দেখে তিশার বাবা ছুটে চললেন গ্রামে।
,
,
তিশা রাতে রাজের ছবি টা দেখছে আর কান্না করছে।
রাজ তুমি আমাকে অনেক ঘৃনা করো  তাই না।হুম করবেই তো। একজন স্ত্রী হয়েআমি তোমাকে ভালো বাসতে পারিনি। খালি করেছি অবহেলা করেছি।সব সময় ছোট লোকের বাচ্চা বলে ডেকেছি । আমি তোমার কাছে কখন গিয়ে দাড়াতে পারবো না। কোন মুখ নিয়ে দাড়াবো বলো।আমি যে অনেক অন্যায় করেছি । আমি তোমাকে অনেক দূর থেকেই ভালোবাসবো। তোমাকে ফিরে আসতেই হবে। আমার আর তোমার সন্তানের জন্য হলেও আসতেই হবে। কত দিন ফোন বন্ধ করে রাখবে বলো?
আসতেই হবে।
,
,
পাশ থেকে তিশার মা এসে বলল,
তুই এভাবে কান্না করলে চলবে বল,
বাচ্চাটার ক্ষতি হবে তো।এবার তো কিছু খেয়ে নে। তোর বাবা গ্রামে গেছেন রাজ ঠিক চলে আসবে।
,
,
তিশার ওর মা কে জরিয়ে ধরে কান্না করে দিলো।
,
তিশা সেই বিকেলে একটু ছাদে ওঠেছে।তখনি আবির আসলো আর গিয়ে দাড়ালো তিশার পাশে।
তিশা আবির কে দেখেই রাগে ফুলতে লাগলো
তুই এখানে এসেছিস কেন শয়তান।
তুই আমার সব কিছু শেষ করে দিয়ে এখন কেন আসছিস?
তোকে মেরে ফেললেও আমার প্রতিশোধ নেওয়া,শেষ হবে না।
,
,
আবির তিশার কথা শুনে হাসতে লাগলো।
তিশা আবিরের হাসি শুনে অবাক হলো,
___ সে সুযোগ আর হবে তিশা বেবি। আগে তোমার পেটের বাচ্চা টা কে শেষ করবো তারপর ঐ রাজ কে।কথা হলো আমি তোমাকে চাই।
____
এটা তোর দুরস্বপ্ন!  কখনো পুরন হবে না।তুই আমার মনে রাজের জন্য একটু একটু ঘৃনা সৃষ্টি করেছিস।
বলেই তিশা পাশ থেকে একটা লাঠি নিয়ে যখন আবির কে আঘাত করতে গেলো।আবির তিশা কে ধরে ফেলল,
তিশার মুখে একটা রুমাল চেপে ধরল। তিশা মুহুর্তেই ঘুমিয়ে গেলো।
,
,
আবির গাড়িতে করে তিশা নিয়ে চলে গেলো তার বিশাল বর বাংলোতে।
তিশা কে নিয়ে একটা রুমে রাখা হলো।
,
,
,
তিশা যখন চোখ খুলল তখন দেখল কোন একটা অনধকার রুমে আছে। অনেক পানির পিপাসা পেয়েছে।
,
,
একটু পর ই দরজা খুলে কেউ ভিতরে প্রবেশ করলো।
তিশা স্পস্ট দেখতে পেল এটা আবির।
___ হায় তিশু বেবি কেমন আছো তুমি??
____ আবির,  আবির আমাকে কিছু খেতে দাও। আমাকে কিচু খেতে দাও। আমার বাবু টা অনেক ছট ফট করছে।আবির প্লিজ?😭😭😭😭
__________________


তিশার বাবা গ্রামে গিয়ে রাজকে অনেক বুজালো কিন্তু রাজ আসতে রাজি নয়।
রাজের কান্না সহ্য করতে না পেরে তিশার বাবা ফিরে চলল,
পিছন থেকে রাজ বলে ওঠলো,
চাচা একটা কথা ছিলো,
___
বল কি কথা?
আমার সন্তান কে দেখে রেখো।আমি কোন দিন তিশার সামনে গিয়ে দাড়াবো না।তুমি তিশা কে দেখো রেখো।
,
,
,
তিশার বাবা আর কিছু বলতে পারলো না।বলবে বা কি করে তিশা তো রাজ কে কম কষ্ট দেয়নি। তবুও বলে গেলো
,
তিশা অনেক কান্না করে। পারলে চলে যাস।তিশা এভাবে ডিপ্রেশন  এ থাকলে তোদের সন্তানের ই ক্ষতি হবে।
রাগ আর অভিমান কমলে চলে যাস।তোর জন্য আমার বাড়ির দরজা সব সময় খুলা থাকবে।
,
,
যখনি তিশার বাবা চলে আসবে তখনি তার ফোন টা বেজে ওঠলো।রিসিব করতে ঐ পাশ থেকে তিশার মা কান্না করতে করতে বলল,
তিশা কে কোথায়ও পাওয়া যাচ্ছে না।বাসায় ই তো ছিলো
এখন নেই।পুরো বাসা খুজেছি কোথাও নেই।
,

,
তিশার বাবা রাজ কে বলল,
রাজ বলল,
দেখো আছে কোথাও আবিরের সাথে?
,
,
তিশার বাবা আর কথা না বারিয়ে তারাতারি বেরিয়ে আসলেন।
,
,
রাজ রাতে শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলো তিশার কিছু হলো না তো
রাজ ওর ফোন টা অন করলো।সাথে সাথে অনেক গুলো এসএমএস আসলো।
,
,
রাজ এসএমএস গুলো পড়ে কান্না করে দিলো।প্রতিটা এসএমএস পাঠিয়েছে তিশা।

,
,
রাজের কেমন জানি খারাপ লাগছে। তাই এসএমএস গুলো না পড়েই ফোন টা রেখে দিয়ে ঘুমিয়ে গেলো।
,
,
রাতে তিশা খিদের জালায় ছটফট করচে।আবির রুমে ডুকে তিশার হাতে খাবার দিলেই তিশা খেয়ে নিলো।
,
,
আবির আমাকে ছেরে দাও প্লিজ।
___ সেটা কি করে হয় তিশু বেবি। আমি যে তোমাকে অনেক ভালো বাসি। আমি তোমাকে বিয়ে করবো ডার্লিং।
____ শয়তান তুই জানসো না বিবাহিত।আমি অন্ত: সত্বা?
তারপর কেন এমন করছিস।
____ কালকের মধ্যে তোমার এই সন্তান পৃথিবীতে আসবে বাট মৃত। আর এই অগ্রিম খবর সবার আগে জানবে তোমার বর রাজ। বলেই আবির তিশা কে একটা থাপ্পুর মারলো।
আর বলল,
তোর অবস্থা এমন করবো। যা দেকে তোর বাবা চিন্তা করতে পারবে না আবির কত টা খারাপ।
তোর বাবা আমার সাথে অনেক বড় প্রতরনা করেছে।তার মাশুল এখনি তুই দিবি। 
বলেই আবির চলে আসলো।


তিশা আবিরের কথা বুজতে পারছে না। ওর আবিরের সাথে কিসের প্রতরনা করেছে।যার জন্য আবির আমার সন্তান কে মেরে ফেলতে চায়।
তিশা আস্তে আস্তে বেশি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে।
না আমাকে সুস্ত থাকতে হবে আমার সন্তানের জন্য।
,
,
তিশার বাবা বাসায়,ফিরে অনেক জায়গায় খুজল।থানায় গিয়ে পুলিশ কেও জানালো।আবিরের খুজ নিলো।যত দূর সম্ভব জানতে পারলো আবির দেশে নেই।
চলে গেছে দশদিন আগে।
তিশার বাবা ভাবতে পারছেন না। আমার মেয়ের তাহলে কি হলো।
,
,
রাজকে সব ফোন করে জানালো।রাজ চুপ করে থেকে ফোন রেখে আবার ঘুমিয়ে গেলো।
,
,
রাতে তিশা বাংলোর পিছন দরজা দিয়ে পালালো।
অনেক টা পথ তিশা পারি দিয়েছে।তিশা আচমকা হেসে দিলো।আবির আমার সন্তানের কিচুই করতে পারবে না।
কিন্তু তিশা আর হাটতে পারছে না।পা গুলো অবশ হয়ে গেলো।
তাই একটা গাছের নিচে বসে গুমিয়ে গেলো।
যখন তিশার ঘুম ভাঙল তিশা আবিরের সেই বাংলোতে।
,
,
ওয়েলকাম মাই সুইট হার্ট।
সুপ্রভাত তিশু বেবি।
,
তিশা বুজতে পারছে না এখানে আসলো কি করে।

তুমি কেমন করে ভাবলে পালিয়ে যাবে আমার কাছ থেকে। এত সোজা না তিশু।
তুমি কখন আমার কাছ থেকে ছাড়া পাবে না।কিছু খাবার এগিয়ে
দিয়ে বলল
খেয়ে নাও আজি তোমার সন্তানের শেষ দিন
,
,
বলেই আবির চলে গেলো।

তিশা আল্লাহ কে ডাকতে লাগলো।আল্লাহ তুমি আমার সন্তান কে বাচাও।একবার রাজের কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ করে দাও।,

_____________________
রাজ সকালে ওঠে কাজে চলে গেলো

কিন্তু আজ রাজ কাজে তেমন মন বসাতে পারছে না কেমন জানি করছে। যা লক্ষ্য করেছে সজিব।
____ কি রে রাজ কিছু হয়েচে?
___ না রে।
বলেই রাজ কাজ করতে লাগলো।হঠাৎ করে রাজের ফোনে একটা এসএমএস আসলো।
রাজ এসএমএস টা দেখে থমকে গেলো।নাম্বার টা আবিরের।
আর এসএমএস টা হলো______<_____<<__<___<<<<__<_<<______





পর্ব { ০৫ ___ সমাপ্তি  }
♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥
রাজ এসএমএস টা দেখে থমনে গেলো।নাম্বার টা আবিরের। আর এসএমএস টা হলো,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
" রাজ তোর তিশা এখন আমার কাছে আর তোর সন্তানেরও শেষ সময় " পারলে ঢাকায় চলে আয়।
,
,
রাজ বুজতে পারলো তিশা কে পাওয়া যাচ্ছে না এটা সত্যি। এত দিন ভেবেছিলো রাজ হয়তো আমি যাতে ফিরে যাই তাই এসব বলছে।
,
,
,
রাজ তারাতারি করে আবিরের নাম্বারে কল দিলো।
সাথে সাথে আবির রিসিব করলো আর বলল,
মি: রাজ আপনি  ঢাকায় আসেন পরে কথা হবে। বলেই আবির ফোন কেটে দিলো।
,
,
রাজ কিচ্চু বলার সুযোগ না পেয়ে আবার কল দিলো। কিন্তু ঐপাশ থেকে বলছে।
আপনার ডায়াল কৃত নাম্বার টিতে এই মুহুর্তে সংযোগ হচ্ছে না।
,
,
রাজ ঠাসস করে পড়লো।
কাজের ফাঁকে যা লক্ষ্য করলো সজিব।
,
কি রাজ কি হইছে? ( সজিব)
রাজ সজিব কে সব কিছু বলল,
তুই আজি ঢাকায় যা ভাই। তিশা কে বাচা। আপাতত তোর সন্তান কে বাচাবি তো নাকি?
,
,
রাজ তারাতারি বাড়ি তে ময়লা কাপড় ছেড়ে। রেডি হয়ে রওনা হলো ঢাকার উদ্দেশ্যে।
,
,
গাড়িতে থেকেও রাজ অনেক বার কল দিলো আবির কে কিন্তু এখনো একি কথা বলছে।
,

,
,
তিশা ভয়ে কান্না করছে।আবির বলেছে ও আমার সন্তান কে মেরে ফেলবে।হে আল্লাহ,  তুমি আমাকে আর আমার সন্তান কে বাচাও।
,
এমন সময় আবির আসলো।
আর বলল,
ভেবেছিলাম তোমার সন্তান কে আজকেই মেরে ফেলবো। কিন্তু না। তোমার বর আসছে ঢাকায়।
আমার পাওয়া না টা আদায় করে তোকে এমন শাস্তি দিবো তিশা তুই ভাবতেও পারবি না।
বলেই তিশা কে আবির আরেক টা থাপ্পুর মারলো।
,
,
তিশা কান্না করতে করতে বলল
আমার সাথে তোর কিসের এত শত্রুতা বল। কেন এমন করসিস?
__
শত্রুতা তোর সাথে নয় তোর বাবার সাথে।উনি আমাকে ঠকিয়েছেন।আমার সাথে বিজনেস করে টাকা মেরে দিয়েছিস।আমিও টাকা আদায় করেই ছাড়বো না হলো তোকে শেষ করে ফেলবো।
বলেছিলো তোকে আমার সাথে বিয়ে দিবে সেখানেও ঠকিয়েছে।কি ভেবেছে তোর বাবা। আমি কাউকে ছাড়বো না। বলে আবির টেবিলে ঘুসি মারলো 
,
,
তিশা কান্না করছে আর বলছে আব্বু এতটা নিচে নেমে গেছে।
কেন এমন বেইমানি করলো আব্বু?
,
,
রাজ রাত দশটায় বাসায় পৌছালো।
তিশার বাবা মা রাজ কে দেখে অবাক।
চাচি মা কান্না করে বলে ওঠলো।
সত্যি তুই অনেক বেইমান। একটু কথা বলেছি তাই এভাবে চলে গেলি?
আমাকে খমা করে দিস বাবা?
,
,
চাচিমা তুমি এসব কি বলছো? ( রাজ)
___ ঠিকি। তুই আমার মেয়েকে এনে দে।তিন হলো তিশার কোন খুজ নেই।
র‍্য__
তিশা আবিরের কাছে।
কথাটা শুনে সবাই চমকে ওঠলো।
রাজ ওর চাচা চাচি মা কে সব কিছু খুলে বলল,
,
,
তখনি রাজের ফোন টা বেজে ওঠলো।
রিসিব করতেই আবির বলতে লাগলো,
রাজ কালকে সকাল দশটার মধ্যে পাচ লক্ষ টাকা নিয়ে আমার সাথে দেখা করবি আর তিশা কে নিয়ে যাবি। না হলে তোর সন্তান খতম।
,
,
এই আবির তোর কিসের এত জেদ বলতো। কেন এমন করছিস?
,
,
তোর শশুড় আমার টাকা গুলো অনায়েশে মেরে দিয়েছে। সেই পাচ লক্ষ টাকা আমি ফেরত চাই। আমি এড্রেস টেক্সট করে দিচ্চি চলে আসবি। সকাল দশটা।
,
,
আবির ফোন কাটার পর রাজ ওর চাচা কে জিগ্যেস করলো।
কিসের টাকা তোমার কাছে। যা আবির চাচ্ছে। পাচ লক্ষ টাকা দিলেই ও তিশা কে ছেরে দিবে বলছে।
,
,
আমি আর আবির এক সাথে বিজনেস শুরু করেছিলাম।
ওর কাছ থেকে আমি অনেক টাকা মেরে দিয়েছি।যার জন্য ও আমার পরিবারে একের পর জামেলা লাগিয়েই যাচ্ছে।
ঠিক আছে আমি টাকা দিবো। আমার কে ছেড়ে দিতে বল।
,
,
,
দেখেছো লোভে পাপ পাপে মৃত্যু। আজ তোমার জন্য আমার মেয়েটা না জানি কি হালে আছে।
,
,
রাজ আর কিছু বললো না। চুপচাপ ওঠে চলে গেলো ওর বন্ধু দের কাছে।
সোহান সহ সবার সাথে দেখা করে একটা প্ল্যান করলো কেমন করে তিশা কে বের করা যায়।
,
,
শোন আবিরকে তুই এখন কল দিবি। আর বলবি আমি তিশার সাথে কথা বলবো।তো ও তিশা কে দিবে। আমরা ওর নাম্বার ট্যাগ করে লোকেশন ঠিক করে নিবো।
সো কাল কে তুই যখন আবিরের সাথে দেখা করবি ঐ লোকেশন অনুযায়ি। আমরা সেখানে গিয়ে তিশা কে নিয়ে আসবো।কারন আবির তিশা কে নিয়ে তোর সাথে দেখা করবে না এটা কন্ফার্ম।
,
পরের টা পরে দেখা যাবে।
( সোহান)
সোহানের কথার সাথে সবাই একমত হলো।
,
,
রাজ আবির কে কল দিয়ে তিশার সাথে কথা বলতে চাইলো।
আবির তিশা কে ফোন দিতেই তিশা কান্না করে বলতে লাগলো।
রাজ প্লিজ আমাকে নিয়ে যাও। আমার জন্য না হলেও আমাদের সন্তানের,,   ,   
বলতেই আবির ফোন টা নিয়ে নিলো আর বলল,
ঠিক ঠিক মত চলে আসবি।কোন পুলিশ বা চালাকি যদি করেসিস তো দেখবি। আমি কত খারাপ হই।
,
রাজ ওকে বলে রেখে দিলো।
,
সোহান ইশারা দিয়ে জানালো কাজ হয়েছে।
,
,
পরের দিন সকাল দশটায় রাজ একটা বিটকেস নিয়ে দাড়িয়ে আছে আবিরের জন্য।

একটু পর একটা কালো গাড়ি করে আবির আসলো
,
__
আবির কে দেখেই রাজ বলল,
তিশা কোথায়?
__ আরে আছে। আগে।তো টাকা গুলো দে।
,
রাজ আবিরের ককথা শুনে মুচকি হাসতে ললাগলো।
রাজের ফোনে একটা এসএমএস আসলো।
সোহান লিখেছে ভাই তিশা কে পেয়ে গেছি। ও কে নিয়ে বাসায় যাচ্ছি।তুই শালাকে সাইজ কর।

,

রাজ জোরে জোরো হাসতে ললাগল তখন আবির বলল
হাসসিস কেন?
সাথে সাথে পুলিশ এসে আবির কে ধরে ফেলল।
তখনি আবির বলল
রাজ ভুলে যাস না তিশা আমার কাছে?
রাজ বলতে ললাগলো
,
তুই এখানে আসার সাথে সাথে আমার বন্ধুরা তিশাকে বাড়ি নিয়ে চলে গেছে।তিশা এখন ওর বাবা মার কাছে।
,
,
আবির রাজের কথা শুনে রাগে কটমট করতে লাগলো। পুলিশ আবিরকে নিয়ে যাওয়ার সময় আবির আবার ও বলল দেখে নিবো তোকে রাজ।
আমাকে বেশি দিন আটকে রাখতে পারবে না। আর তখন আমার সাথে করা চিটিংবাজির পুরো প্রতিশোধ নিবো। দেখবো তখন তিশা তোকে কি করে বাচায় আর তুই কি করে নিজের বউকে বাচিয়ে নিস।
পুলিশ টানতে টানতে আবির কে নিয়ে গেলো।
,
,
রাজ আবিরের কথাগুলো শুনে মুচকি হাসছিলো।
আর বলল,আরে যা না বাবা। যখন সময় আসবে তখন দেখা যাবে।
তখনি রাজের বন্ধুরা আসলো আর বলল ভাই ভাবি কে বাসায় দিয়ে আসছি।
,
রাজের একবন্ধু বলল,
দোস্ত তিশা ভাবি একদম ঠিক আছে। তুই কোনো চিন্তাই করিস না তো।
,
আরে দোস্ত তিশা ভাবি তো সেই।! 
,
কেন রে তিশা ভাবি আবার কি করলো।
,
আরে জানিস না তো তিশা ভাবি আবিরের কাছ ঢথেকে পালাইছিলো।!!
,
,
ওকে তোরা থামতো এবার ( রাজ)
ওকে,
,
,
কিন্তু দোস্ত আমাদের একটা আবদার তোকে রাখতেই হবে।
,
কি আবদার বল। আমি অবশ্যই রাখার জন্য চেস্টা করবো। তোরা আমাকে হেল্প করলি।
,
,
বেশি কিছু না দোস্ত। শুধু আমাদেরকে তোর বাড়িতে একদিন খাওয়াতে হবে তাও আবার তিশা ভাবির হাতের রান্না। তাহলেই হবে।
,
,
ঐ শালা তুই খালি খাই খাই করিস কেন?
,
আরে বুজতে পারসিস না এতে দুটো উপকার হবে।
,
,
কি উপকার হবে শুনি,?
,
,
তিশা ভাবি তো রাজের সাথে রাগ করে আছে। আমাদের কে দাওয়াত করে খাওয়ালে দুজনের মান - অভিমানটাও কমবে।
,
,
এ ই তোর বুদ্ধি আছে বটে। মানতে হবে। ওকে একদিন আমার বাড়িতে দাওয়াত দিবো।
,
,
রাজ আর তার সব বন্ধুরা মিলে হাসাহাসি করছিলো ঠিক তখনি রাজের ফোন টা বেজে ওঠলো।
,
,
রাজ ফোনটা হাতে নিয়ে দেখে চাচার ফোন। রিসিভ করা মাত্রই ঐ পাশ থেকে চাচা বলে ওঠলো।
,
,
রাজ তুই কোথায়?.  তারাতারি হাসপাতালে চলে আায়। আমরা তিশাকে নিয়ে হাসপাতালে আছি।
,
,
চাচা তিশা ঠিক আছে তো? 
,
,
হুমম, আগে তো আসবি।
হুমম,চাচা আসতেছি।
,
,
রাজ ওর বন্ধুদের নিয়ে তারাতারি হাসপাতালে গেলো। তিশার বাবা মা অটির সামনে ওয়েট করছে।
,
,
চাচা, চাচিমা, তিশা ঠিক আছে তো।
,
,
তখনি ভিতর থেকে নার্স বেরিয়ে আসলো।
,
,
মি:রাজ, আপনার জন্য গুড নিউজ আছে।
,
আপনার মেয়ে হয়ছে।

,
,
রাজের মুখে মুচকি হাসি ফুটে ওঠলো। রাজের বন্ধু রা বলল, তোকে তো আজকে ডাবল মিষ্টি খাওয়াতেই হবে। তা না হলে তোকে আর ছারছি না।
,
,
রাজ ভিতরে গিয়ে দেখলো  তিশা সুয়ে আছে। রাজ যখনি ওর মেয়েটিকে তুলে কোলে নিবে তখনি তিশা বলে ওঠলো।
,
ঐ তুই আমার মেয়েকে কোলে নিবি না। ও শুধু আমার মেয়ে। আর কারো নয়।
,
,
তিশার কথা শুনে সবার মুখের হাসি যেন এক মিনিটেই দূর হয়ে গেলো।
,
,
কি বলছিস মা। তোর মেয়ের বাবা রাজ। সব কিছু তো আবিরের জন্য হইছে। তারপর ও রাজকে অপমান করছিস কেন?  ( তিশার মা)
,
,
মা তুমি এখানে কথা বলবা না।
,
যা কিছু করার আমি করবো।
রাজ আমাদের বাড়িতে আর থাকতে পারবে না। ও গ্রামের বাড়ি চলে যাবে। সাথে সাথে আমিও যাবো আর আমার মেয়েও।
,
,
তিশা কি বলছে ঠিক কেউ বুজে ওঠতে পারছে না। রাজও আহাম্মক হয়ে দাড়িয়ে আছে।
,
,
তিশা সবার মুখের দিকে তাকিয়ে হাসছে।
সবাই ভয় পেয়ে গেলে তাই না।
,
,
তখন সবাই বুজতে পারলো তিশা সবার সাথে মজা করছে।
,
,
রাজ আর তিশার মেয়েকে একে একে সবাই কোলে নিলো।তিন দিন পর তিশাকে বাড়ি নিয়ে গেলো।
,
,
অনুষ্ঠান  করে তিশা আর রাজের মেয়ের নাম রাখা হলো রোজা। ঐ দিন রাজের সব বন্ধুদের কে দাওয়াত করে খাওয়ানো হলো।
,
,
একদিন তিশার কথা শুনে রাজ খুব অবাক হলো।
,
রাতে তিশা রাজের পায়ে পড়ে বলল,
আমাকে তুমি ক্ষমা ককরে দাও রাজ।আমি তোমাকে অনেক অপমান করেছি।
রাজ তিশা কে তুলে বলল,
আমার কিছুই মনে নেই।
তিশা রাজকে জরিয়ে ধরে ককান্না করে দিলো।
রাজ আবার তার অফিসে জয়েন্ট ককরলো।

,
রাজ তোমাকে একটা কথা বলি।
,
,
রাজ অফিস যাবার জন্য রেডি হচ্ছিলো। হুমম বলো তিশা কি বলবে।
,
,
সেদিন সাদিয়া কি বলে তোমাকে ডেকে নিয়ে গেসিলো।
,
,
রাজ অনেকটা সময় তিশার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,সোহানের কথা বলে।
,
,
ঠিক আছে তুমি অফিস যাও।
,
,
কিছু হয়ছে কি। হঠাৎ আজকে সাদিয়ার কথা বলছো।
,
,
না কিছু হয়নি।
রাজ রোজাকে কোলে নিয়ে আদর করে অফিস চলে গেলো।
,
,
এই দিকে তিশা মনে মনে হাসছে। রাজকে সাদিয়ার কথা বললেই কেমন ভয় পায়।
,
,
আর মাত্র পাচ দিন বাকি পরেই আসছে রাজ তিশার বিবাহবার্ষিকী ।
,
,
এই পাচ দিন আগে থেকে রাজের সাথে আমার ঝগরা বাধতে হবে তারপর রাজকে সাডেনলি সারপ্রাইজ  দিবো




,

,
,

,
,
তিশা সব কিছু রেডি করে রাখলো। রাজ বিকেলে বাসায় ফিরলো।
,
,
রাজ আজ তিশার  ব্যবহার দেখে খুব অবাক হলো।হঠাৎ তিশা এমন করছে কেন। রাজ বুজতে পারছে না।
,
,
রাজ খাবার খেয়ে রুমে গেলো। তিশা মুখটা ঘুমরা করে বসে আছে। রোজা কান্না করছে এই দিকে তিশার কোনো ভ্রু - খেপ ই নেই।
,
,
কি ব্যাপার তিশা রোজা কান্না করছে আর তুমি চুপ করে বসে আছো যে।
----- তাতে আমার কি। তোমার মেয়ে তুমি দেখে রাখবে।
------ আমার মেয়ে মানে। আমাদের দুজনের ই তো মেয়ে রোজা।
----- হইছে। তুমি তোমার মেয়েকে নিয়ে আমার সামনেথেকে যাও।
---+-- কি হইছে তিশা। বলবা তো। কেন এমন করছো। আমার খাবার টাও দিলে না।
----- কিছু হয়নি তো।! 
তিশা রুম থেকে চলে আসলো। আসার আগে দেখল রাজ রোজা কে কোলে নিয়ে আনমনে কি যেন ভাবছে।তিশা একটা মুচকি হাসি দিয়ে চলে আসলো।
,
,
রাজ ভাবতে লাগলো তিশা এমন করছে কেন। আমাকে তিশা অবহেলা করুক তাতে কিছু যায় আসে না কিন্তু রোজা কে অবহেলা করছে কেন।
,
রাজ রোজা কে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। তারপর চাচা কে ফোন দেয়। কারন তারা কয়দিনের জন্য গ্রামে গেছেন।
,
রাজ জেনে চাচারা কবে আসবে। তারপর রাজ শুয়ে ঘুমিয়ে গেল। সকালে ওঠে দেখলো তিশা ও পাশ ঘুরে ঘুমিয়ে আছে। রাজ বুজতে পারলো তিশা কিছু একটা নিয়ে খেপে আছে।
,
,
রাজ রোজা কে তুলে হাত মুখ ধৌয়ে নিলো। রোজা এখন একটু দাড়াতে পারে মাত্র। একটু আম্মু আর আব্বু ও বলতে পারে। রাজ তো অবাক ছোট রোজা আদো আদো করে আব্বু ডাকে।।
,

,
 তারপর রাজ তিশার কাছে রোজা কে রেখে অফিস চলে যায়।
,
তিশা রোজা কে খাবার খাইয়ে নেয়।তারপর ওর বান্ধবি নিহা কে ফোন দেয়।
,
নিহাকে নিয়ে তিশা শপিং করে। আসার সময় তিশা রাস্তায় আবির কে দেখে। আবির কে দেখে তিশা সামান্য ভয় পায়।
,
,
রাজকে আবিরের কথা বলবে ভেবে পরে আর বলে না। তিশা ওদের বিবাহবার্ষিকী  পালন করার জন্য সমস্ত আয়োজন করে নেয়। কিন্তু রাজকে কিছুই বুজতে দেয় না।
,

ঐ দিকে রাজ ভাবতে থাকে তিশা কেন এমন করছে? 
রাজ বিকেলে বাসায় যায়।আজও তিশা রাজের সাথে কথা বলে না। রাজ তিশা কে জিগাসা করে।
----- তিশা তুমি এমন করছো কেন আমার সাথে। কি করে ছি বলবা তো??
----- তুমি মনে করে দেখ। তুমি অফিসে কি করেছো। কি ভাবছো আমি কিছু জানি না। তুমি অফিসে মেয়েদের সাথে যা তা করবে আর জানবো না।
,
---- রাজ অবাক হয়ে আছে তিশার কথা শুনে। কারন রাজ অফিসে কোনো মেয়ের সাথে তেমন কথাই বলে না। তিশা তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে।
---- হইছে তোমাকে  আর ভালো সাজতে হবে না।
--- রাজ ভেবে পাচ্ছে না। তিশা কাকে নিয়ে সন্দেহ করছে?? 
এভাবেই পাঁচ দিন কেটে গেলো। তিশা ভাবছে কাল কে রাজকে সারপ্রাইজ  দিবো।
,,
,
পরের দিন তিশা রাজের  জন্য ওয়েট করতে লাগলো। কিন্তুর রাজের ফেরার নাম নেই। রাজ তো কখনো এমন করে না। তিশা রাজকে ফোন দিলো কিন্তু ফোন অফ দেখালো। তিশা এবার খুব চিন্তায় পরে। রাজ কি রাগ করলো নাকি। তিশা একের এক ফোন  দিতেই থাকলো।
,
,
তখনি কলিং বেলের আওয়াজ হলো। তিশা মুখেই আনমনে হাসি ফুটে ওঠলো। তিশা তারাতারি করে দরজা খুলে দেখলো ওর বাবা মা আসছে। তিশার মুখটা খনিকের জন্য মলিন হয়ে গেলো।
,
,
তিশার বাবা মা রোজাকে নিয়ে কথাবার্তা  বলতে লাগলো। এমন সময় তিশার ফোনটা বেজে ওঠলো। তিশা এবারও অনেক আগ্রহ নিয়ে ফোন টা দেখে আবার ও নিরাশ হয়ে গেলো। কারন আননোন নাম্বার দেখে। অবশেষে তিশা ফোনটা রিসিভ করলো।
,,
---- হায়, তিশু বেবি।how  are you? 
---- তিশার আর বুজতে বাকি রইল না। কে কথা বলছে।
---- ঐ শয়তান তুই আমাকে ফোন দিয়েসিস কেন।
---- কুল বেবি কুল। তোমার প্রানের স্বামি রাজ এখন আমার কাছে। পারলে তুমি এসে নিয়ে যাও। আমি ঠিকানাটা  text  করে দিচ্ছি। আর হে পুলিশ কে ফোন দিয়ে ভুল করবে না। কিনতু।
,
তিশা কিছু বলার আগেই আবির ফোন কেটে দিলো। সাথে সাথে একটা এসএমএস আসলো। তাতেই ঠিকানা দেওয়া আছে।
,
,
তিশার ওর বাবা মাকে সব টা বলল। তার পর রোজা কে ওর মায়ের কাছে রেখে রেডি হয়ে চলে গেলো রাজকে বাচাতে। তিশা জানে আবির তিশাকে পেলে রাজকে ছেড়ে দিবে। যাবার আগে তিশার বাবা পুলিশের কথা বললেনন।কিন্তু তিশা না করলো।
,
,
আবির তিশাকে মাত্র এক ঘন্টার মধ্যে পৌছাতে বলছিলো কিন্তু তিশা তার আগেই পৌছে গেলো।
,
তিশা দেখলো আবির রাজকে বেধে রাখছে।
---- আবির এবার রাজকে ছেড়ে দে। আমি এসেছি।

---- ছারবো কি তুমি নিয়ে যাবে।
--- তিশা তুমি এখানে কেন আসছো??
---- তিশা কোনো কথা বলচে না।
----- তিশা তুমি চলে যাও বলছি । এই শয়তানটার কাছে ধরা দিও না।
----- তিশার এবার ও রাজের কথায় কনপার্ত করছে না।
---- আজ তোর বউ কে আমি অনেক আদর করবো। যার চিৎকার তুই এখান থেকে শুনতে পাবি কিন্তু আপসোস কিছু করতে পারবি না।
---- তিশা তুমি শুনতে পাচ্ছো ও কি বলছে।
------- তিশা কি করবে বুজতে পারছে না।তবে ও আজ আবিরের কাছে হার মেনে গেলো।
তিশা রাজকে বাচাতেই আবিরের দেখানো একটা রুমে গেল।
পিছন থেকে তিশা রাজের চিৎকার শুতে পাচ্ছিলো তবুও দাড়ানোর মতো কোনো রাস্তা পেলো না।
-- রাজ মনে মনে বলতে লাগলো হে আল্লাহ তুমি আমাকে এই দিনটা দেখার জন্য আমাকে বাচিয়ে রাখ"ছো।রাজ ভাবতে  লাগলো তিশা ঐ ঘর থেকে বাচাও বলে চিৎকার করবে আর আমাকে এখান থেকে তা শুনতে হবে
,
,
তিশা যেই রুম টা আছে আবির সেই রুমে গেলো।
আর রাজ মনে মনে আল্লাকে বলল,
হে আল্লাহ তুমি আমার তিশা কে বাচাও। ঠিক সেই সময় রাজ কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলো। তবে এটা তিশার কান্নার আওয়াজ না এতো আবির কান্না করছে।
,
আবির শুধু বলছিলো ওমা বাচাও জলে গেল। রাজ কিছু বুজতে পারছে না আবির কেন কান্না করছে।
এমন সময় দেখতে পেলো ওর দুই বন্ধু রাজকে পাহারা দেয়া ছেলে গুলোকে মারছে। রাজ অবাক হয়ে শুধু দেখছে।
,
তিশা আবিরকে লাঠি দিয়ে উদম কেলাতে কেলাতে বাইরে নিয়ে আসছে।আবির ওর দুই চোখ ধরে কান্না করছে।
,
রাজের বন্ধুরা রাজের বাধন খুলে দিলো। আর বলল ভাবি দিন বেশি করে।
তিশা আবিরকে অনেক মারছে। আর আবির শুধু বলছে ও বোন ছেড়ে দাও। আমাকেৃপুলিশে দাও। আমি আর জীবনে কোন মেয়ের দিকে তাকাবো না।
,
,
আগে বল আমার আর রাজের মধ্যে বাধা হয়ে দাড়াবি কোন দিন।?
--- না বোন আর কোন দিন এমন করবো না।
তিশা তখনও আবির কে মারছে। রাজ গিয়ে তিশাকে থামালো। পুলিশ এসে আবির ও তার ছেলেদের কে ধরে নিয়ে গেলো।
রাজ এখনো বুজতে পারছে না  তিশা আবিরকে কি করলো ও ঐ ভাবে চোখ ধরে কান্না করছিলো।
তখনি তিশা বলল,
আমি বাসা থেকে মরিচের গুরি নিয়ে আসছিলাম। আবির যখন আমাকে ধরতে গেলো। আর আমি গুরিগুলো ওর চোখে মারলাম। কাজ হয়ে গেলো।
,
রাজ তিশার কথা শুনে হা করে তিশার দিকে তাকিয়ে রইল।
তিশা রাজের মুখ টা অফ করিয়ে দিয়ে বলল এবার বাড়ি চলেন।
রাজ বাসায় গিয়ে চাচা চাচিকে দেখে বলল, তোমরা এসে গেছো।
তোর কিছু হয়নি তো বাবা ( চাচা) 
রাজ হেসে দিয়ে তিশা কি আবিরকে মারছিলো তা বলল।
তারপর রাজ রুমে গেলো। রোজা ঘুমিয়ে আছে। রোজার কপালে একটা চুমু খেলো।

,
তিশাকে কোথাও দেখতে না যখনি বাইরে পা বাড়াতে যাবে তখন তিশা পিছন থেকে জরিয়ে ধরে বলল,
হেপি মেরিজ ডে,
রাজ সামনে ঘুরে অবাক হলো আজ তিশা সেই শাড়ি পরছে যা একদিন তিশা রাজকে অবহেলা করে ফেলে দিয়েছিলো। আর আজ যে ওদের মেরিজ ডে ছিলো তা মনেই ছিলো না।
তিশা এবার বলল,
আমার gift দাও।
--- রাজ কি বলবে বুজতে পারলো না। তুমি আমাকে আগে মনে করিয়ে দিবে তো।
---+ হুমম। মনে নেই বলেই তো তোমার সাথে বানিয়ে বানিয়ে ঝগরা করছে যাতে তোমাকে সারপ্রাইজ  দিতে পারি।
রাজ এখন বুজতে পারছে সব কিছু।
,
---- gift দিতে হবে না। তবে একটা কাজ করতে হবে।
--- কি কাজ।
--- আমাকে কোলে করে ছাদে নিয়ে যেতে হবে।
রাজ তিশার বলার সাথে সাথে তিশাকে কোলে করে ছাদে নিয়ে আসলো। তিশা রাজের কোল থেকে নেমে রুপালি চাদ দেখতে লাগলো।।কিন্তু রাজ কোথাও গেলো।
এমন সময় তিশা দেখলো রাজ তিশার সামনে হাটু বসে আছে। হাতে সামান্য একটা কাগজি ফুল।
,
,
তিশা আই লাভইউ। আমি সারা জীবন তোমার পাশে থাকতে চাই। বলো আর কখনো আমাকে অবহেলা করবে না।
,
তিশার রাজের কাছ থেকে ফুল নিয়ে বলল,
অবহেলা একটু করতেই হবে না হলে ভালোবাসা কমে যাবে তো।
--- আচ্ছা করিও।
হুমম, পাগলটা আমার।
--- ওকে তাহলে পাগলি টা আমার।
এভাবেই রাজ তিশা ওদের ভালোবাসার মাঝে বেচে থাকুক।

♥♥♥♥ সমাপ্ত♥♥♥,

গল্পটি কেমন হলো জানি না। ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
Share:

গল্পঃবাবার_ভালোবাসা। Golpo babar valobasa

গল্পঃবাবার_ভালোবাসা।
Golpo babar valobasa
পর্বঃ০৬

লেখাঃরাইসার_আব্বু।

- নিলয় তুমি তো জানে আমি প্রেগনেন্ট আমার গর্ভে তোমার সন্তান বড় হচ্ছে।  তুমি আমাকে রেখে অন্য আরেকটা মেয়েকে বিয়ে করতে যাচ্ছো?
- আরে আনিশা।  সুইট হার্ট আমার!  আমি তো তোমাকে বিয়ে করেছি। তুমি চাও না আমরা অনেক টাকার মালিক হয়।  সেজন্য করিম চৌধুরির মেয়েকে প্রেমের জালে ফাসিয়ে বিয়ে করে সব সম্পত্তি আমাদের নামে করে নিবো।  তারপর ডির্ভোস দিয়ে দিবো।  আর তোমাকে নিয়ে সংসার করবো বেবী।  আর এজন্য কথাকে ছুঁইয়ে পর্যন্ত দেখিনি।  যেন বুঝতে পারে ওকে অনেক লাভ করে।  'সত্যি বাবু ইউ আর গ্রেট' এ কথা বলে আনিশা নিলয়কে জড়িয়ে ধরে। 
- মুহূর্তের মাঝে কথার চোখ দু'টি ঝাপসা হয়ে আসছে।  যে নিলয়কে এতোটা ভালোবাসতো আজ সে নিলয় অন্য একটা মেয়ের বুকে। নিলয় এতোটা খারাপ জানা ছিল না। পায়ের নিচের মাটি সরে যাচ্ছে।  বারবার রাজের কথা গুলো কানে ভেসে আসছে!  ম্যাডাম নিলয় ছেলেটার চরিএ ভালো না। 
- সত্যিই সেদিন কখাগুলো বিশ্বাস না করে অনেক বড় ভুল করতে যাচ্ছিলাম।  রাজ কী আমায় ক্ষমা করবে।  না এখানে আর এক মুহূর্ত নয়। 
-  অফিস থেকে বের হয়ে সোজা বাড়ির দিকে রওয়ানা দিলো কথা।   আজ আর অফিসে যেতে মন চাচ্ছে না তার ।  তাই, অফিসে ফোন করে বলে দিলো '  আজ আর অফিসে যাবো না। 
- বাসায় এসে দেখে কথার বাবা কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছে! 
- কথা কিছু না  কিছু না বলে দু'তলায় চলে গেল।  বুকের ভেতরটা কেমন যেন খাঁ খাঁ করছে।  খুব করে কান্না পাচ্ছে কথার   হঠাৎ কে যেন বলল' বন্ধু আমি তোমাকে মম ডাকি? '
- রুমের দিকে চেয়েই দেখে কেউ নেই!  মুহূর্তের মাঝে রাইসার মায়াবী মুখটা ভেসে ওঠে!  ফোনের গ্যালারি ঘেটে দেখলাম রাইসার তিনটা পিক!  কি সুন্দর চাহনী। কথা মনে মনে ভাবছে '  আমি কেমনে করে ছোট্ট মেয়েটাকে সেদিন মারলাম।  না আমার সাথে যা হয়েছে ভালোই হয়েছে। 

-হঠাৎ ফোনটা ক্রিং ক্রিং করে বাজছে!  ফোনের দিকে চেয়ে দেখি,  নিলয় ফোন করেছে। অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ফোনটা ধরলাম' হ্যালো বেবী! তুমি কেমন আছো? তোমাকে না বড্ডবেশি মিস করছি।  জানো আজ তোমার জন্য একটা শাড়ি কিনেছি।  তুমি না নীল শাড়ি পছন্দ করো। 
- আজকে সকালে ফোন দেয়নি বলে রাজকুমারী বুঝি রাগ করেছে? আচ্ছা আমি কান ধরছি কেমন? মহারাণী এমন ভুল আর হবে না।  আচ্ছা এই অধম তোমার হাতের স্পর্শ পেতে চাই।কি হলো বেবী কথা বলছো না কেন? আমি কিন্তু এখনো লাঞ্চ করিনি ।
- চরিএহীনটার কথা আর শুনতে ইচ্ছে করছিলো না।  ফোনটা কেটে দিয়ে নাম্বারটা ব্লকে রেখে দিলাম। 
- চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছে।  বুক ফেটে কান্না আসছে।  বালিশে মুখ লুকিয়ে কাঁদছি। এমন সময় বাবা দরজায় নর্ক করে বলল' মা আসবো?
- চোখের পানি মুছে বললাম ' হ্যাঁ বাবা আসো। 
- বাবা রুমে এসেই বলল' মামনি দেখতো তোর বিয়ের কার্ডগুলো কেমন হয়েছে?
- আর শোন, তোর বন্ধু-বান্ধব কেউ যদি বাদ পড়ে তুই ইনভাইট করে দিস। 
- আমি কিছু বলছি না চোখ দিয়ে পানি পড়বে পড়বে ভাব। 
- মামনি একটা কথা বলি?
- মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সূচক জবাব দিলাম। 
- মামনি,  তুই কিছু মনে না করলে ' রাজ আর তার মেয়েকে ইনভাইট করতে চাই'! তুই রাগ করবি না তো? সত্যি বলতে রাজ ছেলেটাকে দেখলে আমি যেন কেমন হয়ে যায়।  আর ছোট্ট মেয়েটার খুঁনশুটিগুলো খুব ভালো লাগে।  মামনি তাহলে একটা কার্ড তাদেরকেও দিবে?
- আমি আর থাকতে পারলাম না।  বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলাম। 
- কি হলো মা কাঁদছিস কেন?
- বাবা আমি এ বিয়েটা করবো না।  তুমি যেভাবে হোক বিয়েটা ভেঙে দাও। 
- কি বলছিস এসব?  বিয়ের কার্ড ছাপা হয়ে গেছে। আজ বাদে কাল বিয়ে এ মুহূর্তে বিয়ে কেমনে ভাঙবো? আর তোরা দুজন-দুজনকে পছন্দ করে বিয়েতে মত দিয়েছিস।
- আমি কিছু শুনতে চাই না। আমি শুধু জানি আমি বিয়েটা করবো না বাবা। বাবা আমি মরে যাবো তাও ওই চরিএহীন নিলয়কে বিয়ে করবো না। 
- কি করেছে নিলয়?
- এই দেখ বাবা,  মোবাইলে তুলা ভিডিওটা দেখিয়ে দিলাম।  বাবা কিছু বলল না।  বুকে জড়িয়ে নিল আমায়। 
- কি হলো মা বাবার বুকে কাঁদছিস? তোর বিয়ে ওরকম লম্পট ছেলের সাথে হবে না।  এবার হাসবি তো?
- ওহ্ বাবা ইউ আর গ্রেট বাবা। 

- রাত্রে ফ্রেশ হয়ে এশার নামায পড়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে ঘুমালাম। 

- পরের দিন সকালে বাবা জানালো বিয়ে ভেঙে দিয়েছে। 
- বাবাকে জড়িয়ে ধরে বললাম' ওহ্ বাবা সত্যি তুমি অনেক ভালো।  '
- তাই বুঝি?
- হুম তাই। 

- সকাল বেলা ঘুম ভেঙে দেখি রাইসা নেই!  বুকের ভেতরটা ছ্যাঁত করে ওঠলো। কারণ প্রতিদিন সকালে ঘুম ভাঙতেই রাইসাকে বুকে খুঁজে পায়।  কিন্তু আজ নেই! তাড়াহুড়ো করে  রুম থেকে বের হয়ে বার্থরুমে দেখলাম সেখানেও নেই।  আমি বাম  পা টা ভালো করে নাড়াতে পারছি না।  সেদিন ভাঙা পায়েই ব্যাথা পেয়েছিলাম।  পা টা অনেক ফুলে গিয়েছে।  এদিকে রাইসাকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না।  কয়েকটা ডাক দিলাম তারপরও রাইসার কোন সাড়া নেই।  খুব ভয় হচ্ছে।  রাইসার কিছু হলে আমি বাঁচবো না।  হঠাৎ কিচেনে কিছু পড়ার আওয়াজ হলো।  তাড়াহুড়ো করে কিচেনে গিয়ে দেখি,  ময়দা দিয়ে কিচেনের অবস্থা শেষ।  কলিজার টুকরাটাকে দেখলাম রুটি বানানোর চেষ্টা করছে।  আমি দরজার দাঁড়িয়ে আছি এ দিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। সারা শরীর ময়দায় ছড়াছড়ি!
- রাইসা মা আমার এখানে কি করছো?
- কথা বলো না তো! দেখ না বাবাই এর জন্য রুটি বানাচ্ছি। 
- আমি রান্না ঘরে ঢুকে রাইসাকে থাপ্পর মারলাম! 
- বাবাই তুমি আমাকে মারলে?
- আমাকে না বলে তোকে কিচেনে কে আসতে বলছে? আর গ্যাসের চোলা জ্বালিয়েছিস।  যদি কোন দুর্ঘটনা হয়ে যেত।  শরীরের কি অবস্থা করেছিস।
-রাইসা গালে হাত দিয়ে অভিমানী সুরে বলল' হোক দুর্ঘটনা!  তুমি জানো না তোমার কষ্ট আমি সহ্য করতে পারি না!  তুমি কাল ব্যথা পেয়েছ আমি দেখেছি তুমি হাঁটতে পারো নি ঠিকমতো।  আর এ শরীর নিয়ে সকালে নাস্তা কিভাবে বানাবে?তাই আমি নাস্তা বানাতে এসেছি।  কিন্তু দেখ বাবাই আমি রুটি বানাতে পারছি না।
- তোকে কিচেনে আসতে বলছি? আজ যদি তোর কিছু হয়ে যেত? তাহলে আমি মরেই যেতাম।তুই যে আমার কলিজার টুকরা।  বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন!
- সরি বাবাই আর এমন হবে না।  তুমি মরার কথা বলো না প্লিজ বাবা! এই যে আমি কান ধরলাম।  এবার বুকে নিবা না বাবাই?
- রাইসাকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে।  যে গালে থাপ্পর দিয়েছিলাম সেখানে একটা চুমু দিয়ে বললাম' মা'রে তোকে থাপ্পর দিয়েছি তুই অনেক কষ্ট পেয়েছিস তাই না?
- রাইসা আমার গালে চুমু দিয়ে বলল' না বাবাই!  তুমি না আমার বাবাই।  তুমি কষ্ট পেলে আমি কষ্ট পায়।
- আচ্ছা তুমি হোমওয়াক রেডি করো আমি নাস্তা বানাই। 
- আচ্ছা বাবাই। 
- সকালে নাস্তা শেষ করে রাইসাকে স্কুলে দিয়ে যখন অফিসে যাচ্ছিলাম।  হোটেল নিউ মার্কেট জ্যামে আকটে যায়। জ্যামের মাঝে অটোতে বসে আছি।  আর ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছি। 

- আফা বকুল ফুলের মালা একটা নেন না । যা তো বিরক্ত করিস না। 
- আফা আজ সারাদিনে ফুল বিক্রি হয়নি।  আফা বিশ টাকা লাঘবো না, দশটাকা দিয়েন।  আমার ছুডো ভাইটাকে নিয়ে পাউরুটি কিনে খাবো।  দেখতো অর্পিতা কেমন লাগে! এসব টোকাই দেয় জ্বালায় রাস্তাঘাটে বের হওয়া যায় না।  যাও তো আমার ফুল লাগবে না।
- ড্রাইভার গাড়ির লুকিং গ্লাস তুলে দাও! 
- এই সাথি দেখতো অটোতে সেদিনের কথার বার্থডে পার্টিতে গান গাওয়া ছেলেটা। 
- ড্রাইভার কাঁচ নামাও তো দেখি। হুম দোস্ত রাজ।  তুই আমার গাড়ি করে যা আমি অটোতে করে যাবো।  সাথি গাড়ি থেকে নেমে পড়ল।
- এদিকে আমি গাড়িতে বসে ভাবছি,যতক্ষণ গাড়িতে বসে আছি ততক্ষণ হাঁটলেও অফিসে পৌঁছে যেতাম। 

- স্থির করলাম, হেঁটেই চলে যাবো অফিসে পাঁচ মিনিটের রাস্তা।  তাই অটো ওয়ালা ভাইকে ভাড়া দিয়ে নেমে পড়লাম।

- সাথি অর্পিতাকে ফোন দিয়ে বলল' দোস্ত আমার নার্ভাস লাগছে! 
- তর নার্ভাস লাগছে!  কথাটা হাস্যসকর মনে হচ্ছে শোন তোর গায়ককে বল,  নিরিবিলি পরিবেশে তার গান শুনতে চাস। 
- আচ্ছা দোস্ত ধন্যবাদ।  সাথি ফোন রেখে যখন আমাকে ডাক দিবে এমন সময় সাথি দেখলো ফুল ওয়ালা সে মেয়েটা আমার কাছে। 
- আমি হেঁটেই রওয়ানা দিচ্ছে।  হঠাৎ পিছন থেকে বলল ' স্যার একটা ফুল নেন না। ' ম্যাডামকে দিবেন ম্যাডাম অনেক খুশি হবে।  মাএ বিশ টাকা স্যার! 
- আমি পিছনে ফিরে দেখি একটা মেয়ে ১০ বছর হবে সাথে ছোট্ট একটা ছেলে বয়স ছয়েক হবে। মেয়েটা উষ্কো-খুশকো চুল! আমি মেয়েটাকে বললাম, আপু তোমার ম্যাডাম নেই তো! 
- স্যার নেন না দশটাকায় দিবো। আজ সকাল থ্যাইকা একটা ফুলও বিক্রি করিনি।  নেন না স্যার দশটাকা দিয়েন,  ভাইরে নিয়ে পাউরুটি খাবো। 
- সাথি রাগ হচ্ছে,  এই ঝামেলার জন্য রাজের সাথে কথা হচ্ছে না। অনেকটা দূর থেকে দেখছে রাজকে। 
-স্যার নিবেন না?
- আমি কিছু বলছি না। 
- মেয়েটা তার ছুটো ভাইকে নিয়ে চলে যাচ্ছে।  হয়তো আবার কাউকে বলবে একটা ফুল নেননা ভাই!  খুব ক্ষিদে লাগছে! 
-এই যে আপু কোথায় যাচ্ছো।  আমি ফুল কিনবো।
- মেয়েটা পিছু ফিরে তাকালো,  মুখে হাসির ঝিলিক। 
- কয়টা নিবেন স্যার?
- একটাও না! 
- মেয়েটার মুখ মুহূর্তে আষাড়ের আকাশের মতো হয়ে গেল!
- আমি মেয়েটাকে বললাম চল,  আগে তোদের খাওয়াবো তার পর ফুল নিবো।  সামনে একটা হোটেলে নিয়ে গেলাম।  উয়েটার ওদের দেখেই বললো যাও যাও এখানে কেন আসছো।  মেয়েটা তার ভাইকে নিয়ে চলে যাচ্ছে।  কি হলো খাবে না?
- এই যে ভাইয়া ওরা খেলে আপনার কোন সমস্যা? আর ওদের টাকা আমি দিব। 
- সরি স্যার! 
- খাবার মেনুটা দাও! 
- খাবার মেনুটা দেখে বিরিয়ারি অর্ডার দিলাম।  ছোট্ট মেয়েটা তার ভাইকে খাইয়ে দিচ্ছে।  আর আমি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছি।  বোনটা একবারো বিয়িরানি মুখে দেয়নি। মনে হচ্ছে ভাইয়ের খাওয়ার মাঝেই সে নিজের খাওয়ার স্বাদ ভোগ করছে ।
-আমি এক প্লেটে আরেক প্যাক বিরিয়ানি নিয়ে মেয়েটার মুখের কাছে ধরতেই দেখলাম মেয়েটার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
 - কি হলো কাঁদছিস কেন?
- স্যার আপনাকে ভাইয়া কইয়া ডাকি?
- হুম আমি তো তোর ভাইয়াই হই! আচ্ছা এবার হা কর। 
- জানো ভাইয়া জীবনের প্রথম বিরিয়ানি খাইলাম। আগে শুধু নামই শুনেছি।  তুমি অনেক ভালো মানুষ।
- এদিকে সাথি  রেস্টুরেন্টের একপাশে বসে সব দেখছে। হঠাৎ সাথি পাশে থাকা একটা মেয়ে তার বলে ওঠল তার বান্ধবীকে ' দোস্ত দেখ,প্রকৃত মানুষ।  এসব ছেলেকে যে মেয়ে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে পাবে সেই ভাগ্যবতী।
- সাথি  মনে মনে বলছে ' এই যে আপু চাইয়া থাইকা লাভ নাই!  ওটা আমার। 

- এদিকে মেয়েটা আর ছোট্ট ভাইটাকে খাইয়ে, বিল দিয়ে বের হতে সময় বললাম' আপু তোমার নাম কী?
- রিত্ত! আর আমার ছোটভাই নাজমুল। 
- আচ্ছা আপু আমার অফিসে যেতে লেট হয়ে যাচ্ছে। এই টাকা রেখ। আর তোমার বাসা যখন এখানেই আবার দেখা হবে।
- অফিসে আসতে আসতে পাঁচমিনিট লেট হয়ে যায়। 
- অফিসে গিয়ে বসতেই কথা ম্যাডাম ডেকে পাঠালো। 
- আমি একটু খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ম্যাডামের রুমে যেতেই ম্যাডাম বলল ' একি তোমার পায়ে কি হয়েছে?
- তেমন কিছু না সামান্য ব্যথা!  আর এই যে ম্যাডাম ফাইল।  সব কাজ কমপ্লিট! 
- আচ্ছা বলো না কি হয়েছে পায়ে।  আর সমস্যা থাকলে ফোন করে বললেই হতো।  অফিসে কেন আসলে।
- ম্যাডাম এটা তো সরকারি অফিস বা নিজের অফিস নয়।  কথাগুলো আপনিই বলেছিলেন। 
- কথা কিছু না বলে মাথা নিচু করে ফেলে! 
- আমি নিজের ডেস্কে এসে পড়ি। 
- কথা রুমে বসে বসে প্রজেক্টের কাজ করছে এমন সময় দেখে ফোনটা বাজছে। ফোনটা তুলতেই ওপাশ থেকে মেয়েলি কন্ঠে বলল' হ্যালো কথা চৌধুরি!  আপনার মেয়ে পরীক্ষায় ফাস্ট হয়েছে।  আপনি রাইসাকে নিয়ে যাওয়ার সময় মার্কলিস্ট নিয়ে যাবেন।  তার বাবার ফোন অফ পাচ্ছি।
- কথা ফোনটা রেখেই গাড়ি নিয়ে রাইসার স্কুলে চলে যায়।  কেমন জানি সত্যি সত্যি মা'র ফিলিংস হচ্ছে।
- কথা প্রিন্সিপাল ম্যামের রুমে বসে আছে। কথা  চৌধুরি ' আপনার মেয়েটা সত্যি হাজারে একটা!  ক্লাসে শৃঙ্খলা থেকে শুরু করে সবকিছুকেই ফাস্ট!  আমাদের স্কুলের এ বছরে শেষ্ট শিষ্টাচার পুরস্কারটা আপনার মেয়ে পেয়েছে। ছোট্ট হয়েও বেস্ট অব লাক। 

-ধন্যবাদদ ম্যাম।  রাইসা কথার কুলে বসে বসে সব শুনছে। 
- রাইসাকে নিয়ে স্কুল থেকে বের হতেই ' আন্টি আপনাকে একটা কথা বলি?'
- হ্যাঁ মামনি বলো! 
- আপনি কোনদিন আর স্কুলে আসবেন না।  আর হ্যাঁ ম্যামকে বলে দিবেন আপনি আমার মম নন।  গরীবকে করুণা করেছিলেন।  স্কুলে ম্যামকে বললে আপনি লজ্জা পেতেন।  তাই বলিনি। 
- কথা রাইসাকে অফিসে নিয়ে নামিয়ে দেয়। 
- কথা তার রুমে গিয়ে দেখে ' সাথী বসে আছে। 
- কিরে দোস্ত এখানে বসে আছিস কেন?
- দোস্ত আমাকে একটা উপকার করতে হবে?
- কি উপকার?
- প্রমিজ কর করবি?
-আগে বল কি বলবি?
- দোস্ত আমি রাজকে ভালোবাসি।  আর তুই রাজকে বলবি সাথি তোমাকে ভালোবাসে।  বল বলবি?জানিস ওকে আমি সত্যিই অনেক

চলবে''''''''''''

বিঃদ্রঃ ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
Share:

গল্পঃ— Mathe Teacher 💔

গল্পঃ—  Mathe Teacher 💔

লেখা:— Abir Ahmed Adi™✌
তন্নিদের কলেজে নতুন ম্যাথ টিচার এসেছেন।ম্যাথ টিচারের নাম জয়। প্রিন্সিপাল স্যারের ভাতিজে। তন্নি ইন্টার দিত্বীয় বর্ষে পড়ে। জয়কে দেখে কলেজের প্রায় সারা কলেজেরই ছাত্র-ছাত্রী এমনকি শিক্ষিকারা সবাই হা হয়ে গেছে। আবার অনেকে হিংসা করা শুরু করে দিয়েছে। এ পর্যন্ত অনেকের ব্রেকাপ ও হয়ে গেছে যেমন ধরুনঃ মেয়েটি তার বফকে বলছে,
মেয়েটিঃ - দেখেছো আমাদের নতুন ম্যাথ টিচার কি সুন্দর।
মেয়েটির বফঃ - রেগে গিয়ে বলল,তো যাও ওই জয় ব্যাটার সাথে গিয়ে প্রেম করো।
মেয়েটাঃ - আরে তুমি এমন করে বলছো কেনো? আর স্যারকেই বা এমন করে সম্বোধন করছো কেনো?
মেয়েটির বফঃ - কেনো স্যারকে এভাবে বলায় তোমার কষ্ট হচ্ছে বুঝি?
মেয়েটিঃ - আরে কষ্ট হবে তো জীবনের প্রথম ক্রাশ খেলাম। আর তুমি কিনা আমার প্রথম ক্রাশ কে কি বাজে ভাবে সম্বোধন করছো?
মেয়েটির বফঃ - ওও তাই। তাহলে যাও তোমার প্রথম ক্রাশ এর কাছে যাও এখানে আমার সাথে বসে আছো কেনো? তোমার এতোই শখ যদি হ্যান্ডসাম ছেলের সাথে প্রেম করবে তাহলে আমার সাথে রিলেশন করলে কেনো?
মেয়েটিও রেগে গেলো আর বলল,
মেয়েটিঃ- হ্যা,যাবো তোমার মতো ক্ষ্যাতোর সাথে এখানে বসে থাকবো না।
মেয়েটির বফঃ - আরে যা যা তর জয়ের কাছে যা। এই ক্ষ্যাতোর সাথে আর রিলেশন করতে হবে না।
মেয়েটিঃ - হুম যাবোইতো। তবে এই রিলেশন শেষ করে যাবো। আজ থেকে ব্রেকাপ।
মেয়েটির বফঃ - আরে যা ব্রেকাপ। তোর মতো থার্ডক্লাশ মাইয়ার সাথে প্রেম করে লাভ নেই।
মেয়েটিঃ - আরে যা তুই তো একটা ক্ষ্যাত মার্কা ছেলে। এই সামিয়ার সাথে অনেকে প্রেম করার জন্য হাবুডুবু খাচ্ছে। অতঃপর ঝগড়া শেষ। আর রিলেশনের ও বারোটা বেজে গেলো। মানে ব্রেকাপ হয়ে গেলো। এখন তন্নির কিছু বর্ণনা দিইঃ - তন্নি অতিরিক্ত সুন্দরি। তবে বাচ্চা স্বভাবের। বড়লোক বাবার মেয়েতো বটেই। তবে অনেকটা পাগলি স্বভাবের। জয় এম,এ দিচ্ছে। চাচ্চুর অনুরোধে ম্যাথ টিচার হিসেবের নিয়োজিত হলো এই কলেজে। বড়লোক বাবার ছেলে হয়েও কলেজে পড়াতে হচ্ছে। শুধু তার চাচ্চুর জন্য।

তন্নিদের দিত্বীয় ক্লাস জয়ের। জয় ক্লাসে ডুকলো। ক্লাসের সবার দৃষ্টি তখন জয়ের দিকে।
কেউ কেউ এক দৃষ্টিতে থাকিয়ে আছে।
জয়ঃ - গুড মর্নিং অল।
ছাত্র-ছাত্রীঃ - গুড মর্নিং স্যার।
জয়ঃ - সবাই কেমন আছো?
ছাত্র-ছাত্রীঃ - ভালো স্যার, আপনি?
জয়ঃ - আমিও ভালো। যেহেতু আমি তোমাদের নতুন টিচার আর সত্যি বলতে আমি টিচার না আমিও ছাত্র পড়াশুনা করি। যাই হোক এখন পরিচয় পর্ব শুরু করা যাক। জয় তার পরিচয় দিলো। একে সবাই পরিচয় দিলো। তন্নিও পরিচয় দিলো। যেহেতু প্রথম দিন তাই কিছু পড়ানো দরকার জয় কয়েকটা অঙ্ক করে দিলো। জয় একে একে সবার খাতা চেক করলো লাষ্ট বেঞে যেতেই দেখলো একটা মেয়ে ছবি আঁকছে। মেয়েটি তন্নিই।
জয়ঃ - এই মেয়ে তুমি ম্যাথ রেখে খাতায় এসব কি আঁকিবুঁকি করছো? জয়ের কথা শুনে তন্নি খাতা পিছনে লুকিয়ে নিলো দাড়িয়ে তোতলাতে তোতলাতে বলল,
তন্নিঃ - কিছু না স্যার।
জয়ঃ - কিছু না মানে তোমাকে খাতায় কি সব আঁকিবুঁকি করতে দেখলাম? কি লিখছিলে দেখি?
তন্নিঃ - কিছু না স্যার। কিছুই আঁকিবুঁকি করছিলাম না।
জয়ঃ - তাহলে খাতা দেখি। অঙ্ক কোথায় করেছো দেখি?
তন্নিঃ - অঙ্ক করিনি স্যার।
জয়ঃ - কেনো করনি? তোমার খাতাটা দেখি। তন্নি কিছু না বলে দাড়িয়ে আছে। জয় ধমক দিয়ে বলল,
জয়ঃ - এই মেয়ে খাতা দেখাতে বলেছি না। খাতাটা সামনে আনো। তন্নি ধমক খেয়ে মুখ কান্না-কান্না ভাব করে খাতাটা জয়ের দিকে এগিয়ে দিলো।
জয়ঃ - এটা কি এঁকেছ?
তন্নিঃ - ছবি।
জয়ঃ - বুঝলাম ছবি। কার ছবি এঁকেছ?
তন্নিঃ -...................................চুপ করে রইলো। জয় রেগে গিয়ে বলল,
জয়ঃ - কি হলো কথা বলছো না কেনো? তুমিতো ভারী বেয়াদব মেয়ে।
তন্নিঃ - আপনার ছবি। ( কান্না কান্না কন্ঠে বলল)। তন্নির কথা শুনে সবাই তন্নি আর জয়ের দিকে থাকিয়ে আছে।
জয়ঃ - পড়াশুনা রেখে দুষ্টুমি করা হচ্ছে? কান ধরো। তন্নি কেঁদে দিবো এমন ভাব করছে।
জয়ঃ - কি হলো কান ধরতে বলেছি না? কান ধরো বলছি। (ধমক দিয়ে বলল)। তন্নি কান্না করে দিলো।
তন্নিঃ - ভ্যাএএ ভ্যাএএ।
জয়ঃ - আরে আরে কান্না করছো কেনো? আমি কি তোমাকে মেরেছি নাকি?
তন্নিঃ -................................... তন্নি কথা না বলে জোরে জোরে কাঁদছে। ক্লাসের সবার কাছে এটা সাধারণ ব্যাপার তন্নিকে কেউ কিছু বললে বকা-ঝকা করলে তন্নি কেঁদে দেয়।
জয়ঃ - আচ্ছা তোমার কান ধরতে হবে না বসো। তন্নি বসে পড়লো চোখ মুচতে লাগলো।
সারা ক্লাস তন্নি একটা কথাও বলল না। মুখ ফুলিয়ে বসে থাকলো। জয় সেটা লক্ষ্য করেছে। আর তন্নি মনে মনে জয়ের গুষ্টি উদ্ধার করছে। কি খারাপ লোকটা। প্রথম দিনই আমাকে বকা দিলো। আমি কি করেছি। শুধু ওনার ছবিই এঁকেছিতো তাই জন্য আমাকে কতোগুলা বকা দিলো। এই ম্যাথ স্যার টা খুব খারাপ। উনি এতো সুন্দর তাইতো উনার ছবি আঁকছিলাম। জয়ের বাচ্চা জয়। তন্নি আবার ভাবে দূর কি বলি? উনার বাবার নাম তো জয় না যে জয়ের বাচ্ছা জয় বলব। স্যারকে জিগ্যেস করতে হবে স্যারের বাবার নাম কি? এই ব্যাটাকে কি জিজ্ঞেস করবো? পচা লোক একটা। জয় তন্নি চেহারা দেখে মুগ্ধ হয়ে গেছে। কি অপরুপ সুন্দর!! পাগলি মেয়ে একটা।
তন্নির ছবি আকা খুব ভালো। ক্লাস শেষে জয় তন্নির কাছে গেলো,
জয়ঃ - মন খারাপ করো না। তন্নি জয়ের কথা শুনে দাড়িয়ে গেলো। অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে রেখেছে। জয়ঃ - সরি!!  আসলে রেগে গিয়েছিলাম তাই তোমাকে।।  তন্নি মুখ গোমড়া করে বলল,
তন্নিঃ - আপনি খুব পচা। খারাপ লোক একটা। জয় হেসে দিয়ে বলল,
জয়ঃ - কেনো?
তন্নিঃ - আপনি আমাকে পচা পচা কথা বলেছেন।
জয়ঃ - মানে!!
তন্নিঃ - আপনি আমাকে বকা দিয়েছেন। জয় মুচকি হেসে বলল,
জয়ঃ - আচ্ছা সরি, ক্লাসে আর দুষ্টুমি করো না। তখন আর বকা দিবো না কেমন?
তন্নিঃ - পিচ্চি মেয়ের মতো বলল,আচ্ছা। আর মনে মনে বলল,যতোই ভালো কথা বলো তোমাকে আমি দেখে নিবো।
জয়ঃ - আচ্ছা তোমার ঐ পেইন্টিং টা দিবে আমাকে?
তন্নিঃ - কোন পেইন্টিং?
জয়ঃ - আমার ছবি এঁকেছিলে যে।
তন্নিঃ - আমতা আমতা করে বলল,ঐটাতো নষ্ট করে দিয়েছি। জয় অবাক হয়ে বলল,
জয়ঃ - মানে। তন্নি মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলল,
তন্নিঃ - মানে,জোকার বানিয়ে দিয়েছি আপনাকে।
জয়ঃ - দেখি ছবিটা। তন্নি খাতার ভেতর থেকে ছবিটা বের করে দিলো। জয় যা দেখলো। তার নাকের উপর একটা লাল বল,মুখের সব অংশে বিভিন্ন রঙ,চুলগুলো এলোমেলো আর মুড়ানো। জয় ছবিটা দেখে না হেসে পারলো না। জয়ের হাসি দেখে তন্নিও ফিক করে হেসে দিলো। জয় তন্নির হাসির দিকে থাকিয়ে আছে। বাচ্চামি হাসি।
জয়ঃ - ছবিটাতো ভালোই হয়েছিলো তাহলে নষ্ট করে দিলে কেনো?
তন্নিঃ - আপনি যে আমাকে কতোগুলা বকা দিলেন তাই।
জয় হাসছে।
জয়ঃ - দুষ্টুমি করলেতো বকা দিবই। আর দুষ্টুমি করবেনা আর আমিও বকা দিবো না।
তন্নিঃ - বললেই হলো। আর আমি কি দুষ্টি নাকি। ( আস্তে আস্তে)
জয়ঃ - কিছু বললে।
তন্নিঃ - না স্যার। স্যার একটা কথা।
জয়ঃ - কি?
তন্নিঃ - আপনার বাবার নাম কি?
জয়ঃ - কেনো?
তন্নিঃ - বলুন না।
জয়ঃ - আসিফ চৌধুরী। এখন বলো কেনো?
তন্নিঃ - কিছু না স্যার আপনি যান। জয় আর কিছু বলল না।
তন্নি মনে মনে বলল, আসিফের বাচ্চা জয়। হি হি। বলে নিজেই হেসে দিলো। ক্লাসের সবাই কেমন চোখে থাকাচ্ছে জয় আর তন্নির দিকে। অনেকে হিংসে চোখে থাকাচ্ছে।

( পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন)😊

(চলবে.......................)☺

#Repost

গল্পঃ—  Mathe Teacher 💔

লেখা:— Abir Ahmed Adi™✌
Share:

গল্প:পাগলি বউ আমার Pagli Bow Amar

++একটি রোম্যান্টিক, মজার গল্প,সবাই পড়বেন,অনেক  ভালো লাগবে++
     *********** গল্প:পাগলি বউ আমার***********
রান্নাটা কেমন হয়েছে..?? খাওয়া শেষ হতেই বউ আমাকে কথাটা বললো। রান্নাটা কিন্তু অনেক ভালো হয়েছে। পেট ভরে খেয়েছি। তারপরেও বউ কে রাগানোর জন্য ইচ্ছে করেই বললাম ভালো হয় নি দেখলাম বউয়ের মুখটা মলিন হয়ে গেছে। যদিও ভালো হয়নি বললাম রাগানের জন্য কিন্তু জানি মেয়েটা রাগবে না।

 খুব নরম স্বভাবের মেয়ে। বর্তমানে আপন বলতে ওর আমি ছাড়া কেউ নেই। বাবা মা একসাথে এক্সিডেন্টে মারা যাওয়ার পর আমি ওকে বিয়ে করেছিলাম। আমাদের বিয়ের প্রায় ৬ মাস হলো। ওর নাম ইভা আমার কথাটা শুনেই বউ মলিন মুখটা নিয়ে রুমে চলে গেলো। আমি নিশ্চিত মেয়ে টা এখন রুমে গিয়ে কান্না করবে। যাই হোক পরে দেখা যাবে। অফিস চলে গেলাম। অফিসে গেলে অন্যদিন কয়েকবার ফোন দিত। আজ সারাদিনে একবারো ফোন দেয় নি ইভা। একটা মেসেজও দেয়। মেয়েটা এরকমই। রাগ করলে তা প্রকাশ করবে না। কথা বলা বন্ধ করে দিবে। নাহ্,, পাগলি বউটা অনেক রাগ করেছে। ওর রাগ ভাঙ্গাতে হবে। ওর আবার বাচ্চাদের মত Dairy milk খুব পছন্দ। তাই যাওয়ার সময় একটা কিনে নিলাম। রাগ ভাঙ্গানো বলে কথা। বাসায় গিয়ে কলিং বেল চাপার অনেক্ষণ পর দরজাটা খুললো ইভা । তাই বললাম দরজাটা খুলতে এত সময় লাগে!! না মানে কথাটা বলতে বলতে দেখলাম ওর হাতে হালকা করে ব্যান্ডেজ করা।

 বিদ্যুৎ শখ খাওয়ার মত করে চমকে উঠলাম আমি। আমি দেখে ফেলেছি দেখেই ও হাটতা পেছনে লুকিয়ে ফেললো ঝট করে বললাম হাতে কি হয়েছে?? কিছু বলছে না আবার বললাম হাতে কি হয়েছে?? কিছু বলে না এবার একটু ধমকের সুরে বললাম হাতে কি হয়েছে দেখি..!! চমকে গেলো ইভা। ভয়ে ভয়ে হাতটা দেখালো আমাকে। সম্ভবত হাতটা পুরে গেছে। হাতটা নেড়ে দেখলাম অনেকটা পুরে গেছে কি করে হলো এটা?? চুপ করে আছে। মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে তাই জোরে চিৎকার করে আবার বললাম কেমনে হলো এরকম হুমম?? ভয় পেয়ে ইভা ঝট করে বলে ফেললো মোবাইলে নিয়মকানুন দেখে রান্না করছিলাম। হঠাৎ করে হাতে গরম তেল ছিটকে পরে গেছে। তোমাকে কে নিয়মকানুন দেখে রান্না করতে বলছে? তুমি তো বলেছো রান্না ভালো হয় নি তাই আমি একটা থাপ্পড় দিবো । আমি বলেছি তাই বলে এসব করতে যাবে..!! । কি থেকে কি হয়ে গেলো না..!! চলো ঘড়ে চলো ঘড়ে গিয়ে ওকে বিছানায় বসালাম । তারপর বললাম হাতের ব্যান্ডেজ টা কে করে দিয়েছে..?? পাশের বাসার আন্টি টা ঔষধ খাইছো ব্যথার.?? না। তুমি থাকো আমি ঔষধ নিয়ে আসি বাইরে আসলাম ঔষধ আনতে। পাগলী বউ একটা। কি থেকে কি করে ফেললো। আসলে ভুলটা আমারি হয়েছে।

 কেনো যে তখন বলতে গেলাম। ঔষধ নিয়ে বাসায় ফিরতেই দেখলাম বউ মনমরা হয়ে বসে আছে আমি কাছে যেতেই করুণ সুরে বললো তুমি কেনো আমাকে বিয়ে করছিলা আমি ঠিকমত রান্না পারি না। তোমার কেয়ার করতে পারি না। তুমি অন্য কাউকে বললে অনেক সুখী হতে কথাগুলো শুনেই বুঝতে পারলাম বউটা অনেক কষ্ট পেয়েছে। আর কষ্ট দেওয়া যাবে না। তাই কাছে গিয়ে আলতো করে জড়িয়ে ধরলাম। তারপর বললাম ধুরর পাগলি। কে বলেছে তুমি আমার কেয়ার করো না। তুমি আমার অনেক খেয়াল রাখো। কত খেয়াল রাখো যে নিজের প্রতি বেখেয়াল হয়ে যাও আর তোমার রান্নাটাও অনেক সুন্দর । আমি তোমাকে রাগানোর জন্য বলি ভালো হয় নি সত্যি..!! হুম সত্যি তুমি কেনো এরকম করো। তুমি তো জানো আমি তোমার প্রতি কখনো রাগ করতে পারি না হুমম জানি তো। আর কখনো এরকম করবো না। লক্ষী বউ আমার আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম পাগলি বউটাকে।

 রাত ১২ টা : ঘুম ধরছে না। বউটার কথা বার বার ভাবছি। হঠাৎ করে বউ বললো এই!! উমম.?? আমার কানের কাছে এসে ইভা বললো আজকে বাসায় ডাক্তার আংকেল এসেছিলো কি বলেছে ডাক্তার আংকেল?? বলেছে জামাইকে Dairy milk বাদ দিয়ে চাটনি আনতে বলবে কথাটা কয়েক সেকেন্ড ভাবলাম । তারপর বললাম তারমানে তুমি আমি কথাটা বুঝে ফেলেছি দেখেই বউটা লজ্জায় আমার বুকে মুখ লুকালো। আর কিছু বললাম না। মুখ টা তুলে বউটার কপালে ছোট্ট করে একটা চুমু একে দিলাম তারপর বললাম পাগলি বউ আমার হুম তোমার জন্য পাগলি।😍 ________________________________________________
<♥><♥><♥><♥><♥><♥><♥><♥><♥>
Share:

গল্পঃ ভালোবাসার আরেক নাম তুমি😍 Valobasar arek name tumi

গল্পঃ ভালোবাসার আরেক নাম তুমি😍
Valobasar arek name tumi
#Writer:ফারাবি খান

-আজ থেকে তুমি আমাকে কোব মেসেজ কোন কল করবা নাহ,,,,,আমি তোমার সাথে কোন যোগাযোগ রাখতে চাই নাহ,,,,(নয়ন)

-হুম,,,,ওকে যাও। তোমার তো কত মেয়ে আছে,,,, আমাকে দিয়ে কি করবা,,,,তাদের কাছে যাও সবাই তো তোমার জন্য পাগল,,,,(নিঝুম)

-হুম এই কথা বলবা নাহ,,,,,আসলে তুমি সবসময় আমাকে অন্য সবার সাথে তুলনা কর,,,,,,সনসময় মেয়েদের নিয়ে সন্দেহ করো,,,,,,আমাকে একটু ও বিশ্বাস কর নাহ,,,তাই তো বেশি এত জগরা লাগে,,,(নয়ন)

-ওকে যাও যাও,,,,আর বলতে হবে নাহ,,,,(নিঝুম)

-ওকে চলে যাচ্ছি আটকাবে নাহ,,,,(নয়ন)

- কেন আটকাবো,,,,,,যার কাছে যাচ্ছো সে হয়তো আমার থেকে বেশি ভালোবাসবে,,,,যাও(নিঝুম)

-হুম বুঝলাম সে আমাকে তোমার থেকে বেশি ভালোবাসবে,,,,,তবে তোমাকে আমার থেকে বেশি ভালোবাসবে কে শুনি?(নয়ন)

-চিন্তা করা লাগবে নাহ আমার,,,,,যেতে চাচ্ছো যাও এতো কথা কেন বলছো,,,,(নিঝুম)

-এত কথা এই কারনেই বলছি যাতে তুই তোর ভুলটা বুঝতে পারোছ,,,,,গাদি,,,,,শুধু জগরা করে,,,,,,তবে এটা ঠিক যেখানে জগরা বেশি সেখানে ভালোনাসাও বেশি,,আর তুই তো আমাকে অনেক ভালোবাসিস 😍(নয়ন)

- হুম,,,,(নিঝুম)

-তাহলে যেতে বলছোছ,,,,, কেন?,,,  আমাকে ছাড়া  ভালো থাকতে পারবি তাই নাহ,,,(নয়ন)

-নিঝুম কান্না করতে করতে হুম পারবো,,,,,অনেক ভালো থাকবো,,,,তুই যাহ,,,(নিঝুম)

-কিন্তু আমি তো থাকবো নাহ,,,,,আমি তোকে ছাড়া থাকতে পারবো নাহ,,,,,,তুই কেন এমন করোস,,,তুই কি বুঝতে পারোস নাহ আমি তোকে কতটা ভালোবাসি,,,,,নিজের থেকেও বেশি রে পাগলি,,,,(নয়ন)

-হুম আর আমি তো ভালোবাসি অন্যের থেকেও বেশি বুঝোস,,,,,?,,,,(নিঝুম)

-তাহলে  জরিয়ে ধর,,,,,,,আর বল আমাকে ছেড়ে যেও নাহ,,,আমি তো মাকে ছাড়া থাকতে পারবো নাহ,,,,,,,(নয়ন)

-ইস শখ কতো,,,,,,আমি কি তোকে নাহ করছি তুই ধর,,,,,? (নিঝুম)

-তুই ধরলে কি হয়,,,,,,(নয়ন)

-নাহ,,,,আমার লজ্জা লাগে,,,,তুই ধরলে লাগবে নাহ,,,,(নিঝুম)

-ওরে আমার লজ্জা বতি বধূ,,,,,,,,নতুন বউ,,,,,,যা সর,,,(নয়ন)

-ওকে যাহ,,,,, এটা বলে নিঝুম রাগ করে পিছনে ফিরে দারিয়ে গেল,,,,,

-তখনি নয়ন নিঝুম কে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরল,,,,,,আর বলল ভালোবাসি।

-নিঝুম ও বলল ভালোবাসি,,,,তবে এখন আসছোস কেন,,,,অপমান করার সময় মনে থাকে নাহ,,,,

-দেখ অপমান আমি করি নি তুই করছোস,,,,,বার বার মেয়েদের নিয়ে সন্দেহ করছ কেন,,,,আমি তোকে ছাড়া অন্য মেয়ের সম্পর্কে কখনো ভাবতেই পারি নাহ,,,,, এমনি তে আমার চরিত্র ভালো,,,,(নয়ন)

-হুম নিজের তারিফ বন্ধ কর,,,আমি জানি,,, তুই ভালো তবুও অনেক ভালোবাসি হারানোর ভয়টা সবসময় তারা করে,,,,বদলে যাবি নাহ তো,,, (নিঝুম)

-আরে নাহ,,,,,আমার কাছে ভালোবাসা মানেই সুধু তুই,,,,তুই,,,,, তুই 😍(নয়ন)

-ভালোবাসি,,,(নিঝুম)
-ভালোবাসি,,,(নয়ন)তবে আর জগরা করবি নাহ।

-১০০ বার করবো,, জগরা নাহ করলে তোর থেকে এতো ভালোবাসা পাবো নাহ,,,(নিঝুম)

-ওকে করিস,,,,অনেক ভালোবাসি পাগলি😍😘

👉👉👉👉👉👉(সমাপ্ত) 👈👈👈👈👈👈👈
Share:

গল্প : অভিমান 😎😎 Goplo Oviman

গল্প : অভিমান 😎😎
Goplo Oviman
পর্ব : ৪র্থ
লেখক : রায়হান__রাফি
.
.
ম্যাম আমার বাসার সামনে এসে নামিয়ে দিয়ে তিনি চলে গেলেন।
বাসায় ঢুকতেই আম্মু বলল,
- আজ এত তাড়াতাড়ি আসলি? (আম্মু)
- ওই ম্যাম আজকে আমাকে নিয়ে একটা সাইট দেখতে বের হয়েছিলেন। (আমি)
- ওহ। তা আজ ও কি ম্যাম কে দেখতে পারিস নি?
- হুম। কিন্তু ম্যাম এর চোখ গুলো না কেমন জানি খুব চেনাচেনা লাগলো!
- ম.মানে? (আতংকিত কন্ঠে বলল)
- মানে ম্যাম এর চোখজোড়া আমার কাছে মনে হল খুব পরিচিত।
- তোর ম্যাম এর ছবি দেখাতে পারবি?
- Google এ পাওয়া যাবে। আমাদের কোম্পানির ওয়েবসাইট এ গেলে।
- আচ্ছা। ফ্রেস হয়ে এসে দেখা।
- আচ্ছা। কিন্তু তোমার এত......
- আমি কিছু শুনতে চাচ্ছি না। যা তুই। (আম্মুর কন্ঠ চেঞ্জ হয়ে গেলো)
আমি আমার ঘর এ চলে আসলাম। আমি বুঝলাম না আম্মু এর কথা মাঝে মাঝে এমন হচ্ছে কেনো?
আমি ফ্রেস হয়ে Google থেকে আমাদের কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে ম্যাম এর ছবি নিয়ে রাখলাম। কিছুক্ষন পরে আম্মু চা' নিয়ে আসলো। এরপর আম্মু বলল,
- তোর ম্যাম এর ছবি দেখা। (আম্মু)
- হুম। এই যে.. (পিসি টা এগিয়ে দিলাম)
আম্মু ছবিটা দেখার পরপরই আম্মুর মুখটা কেমন জেনো বদলাতে শুরু করলো। ভয়ে আর আতংকে আম্মু ঘামতে লাগলো। আমি আম্মুকে প্রশ্ন করে উঠলাম,
- আম্মু? তোমার কি হয়েছে? শরির ঠিক আছে তো? (আমি)
- ত.ত.. তোই সত্যিই ঠিক দেখেছিস তো? এটাই তো ম্যাম? (আম্মু)
- হুম। এটাই। কিন্তু কেনো?
- ন.না. কিছু না। তোকে কিছু বলেছে?
- না. তেমন কিছু বলে নি। কিন্তু কেনো?
- নাহ। কিছু না। কিছু না।
আম্মু উঠে চলে গেলো। আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না। আম্মু ম্যাম এর ছবি দেখার পর এভাবে ঘামতে লাগলো কেনো? আম্মু কি ম্যাম কে চিনে?
আমি হাবিজাবি ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পড়লাম মনে নেই আমার। আমার ঘুম ভাঙলো ৯ টায়। আম্মু এর ডাকে। খাবার খেতে ডাকছে আম্মু। আমি উঠে ফ্রেশ হয়ে। খেতে গেলাম। আম্মুকে আজ অন্যরকম লাগছে। খুব বেশি চিন্তিত দেখাচ্ছে তাকে। আমি আম্মুকে জিজ্ঞাসা করলাম তার শরির খারাপ লাগছে কি না। আম্মু আমার কথার জবাব না দিয়ে মাথা নাড়িয়ে " না " করলো। তারপর আমি আর কথা বাড়াই নি।
ঘড়ির কাটায় রাত ১১ টা ছুঁই ছুঁই,
আমি আবার ছাদে এসে, দোলনায় বসে পড়লাম। আজ চাঁদ পুরোটা উঠেছে। একটা থালার মত! চাঁদের এই ব্যাপার টাকে জোছনা বলে। যদি একটু সাহিত্য এর ভাষায় বলার চেষ্টা করা হয়। তাহলে বলতে হবে, জোছনাস্নাত রাত!
হা হা হা! আনমনেই হেসে উঠলাম আমি! সাহিত্যিক হতে ইচ্ছে হচ্ছে বড্ড এখন! কিন্তু তার কারন কি? আমি তো সাহিত্য এর ধারে কাছেও যেতাম না। এইসব সাহিত্য তো আমার কাছে আগে এক বিরক্তির কারন হত? তাহলে আজ কেনো আমার এই ভ্রম হচ্ছে? আচ্ছা এটা কি শুধু ভ্রম? নাকি অন্য কিছুর ইঙ্গিত? যা আমার কাছে আসতে চাইছে। কিন্তু আমার হেয়ালির কারনে তা আমার কাছে আসতে বা পৌঁছুতে পারছে না?
কি জানি বাপু! আজকাল মাথায় বড্ড চাপ নিতে ইচ্ছে করছে! আমিও যে কি? এত উদ্ভট চিন্তা ভাবনা মাথায় কেনো যে আসছে? আর আমিও কিছু চিন্তা না করে ভাবা শুরু করে দিলাম? পাগল হয়ে যাবো আমি এভাবে আমার দিনগুলো কাটতে লাগলে।
আরও কিছুক্ষন থেকে ছাদ থেকে নেমে ঘুমিয়ে পড়লাম!
পরেরদিন সকাল বেলা,
ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে নিলাম। এরপর নাস্তা করে বেড়িয়ে পড়লাম। আম্মু আমাকে আজ কিছুই বলল না। আম্মুর চোখ মুখ দেখে মনে হল সে খুব চিন্তায় আছে। কিন্তু এটা কেনো হচ্ছে? এত কিসের চিন্তা তার?
আমি অফিস এর উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়লাম। অফিসে এসে কাজ করছি এমন সময় আমার ডাক ম্যাম এর রুম থেকে আমার পড়লো। আমি ম্যাম এর রুম এর রুমে গেলাম। ম্যাম এর রুমে যেতেই ম্যাম বলল,
- কেমন আছেন? (ম্যাম)
- আলহামদুলিল্লাহ! ম্যাম। আপনি? (একটু অবাক হয়ে আমি)
- আলহামদুলিল্লাহ! চা খাবেন না কফি?
- বুঝলাম না?
- চা খাবেন এখন না কফি?
- কিন্তু কেনো?
- যা বলছি তার উত্তর দিন আগে?
- কফি হলে ভালো হয়। একটু স্ট্রোং!
- হুম।
ম্যাম পিয়ন কে ২ কাপ কফি দিতে বললেন। তারপর ম্যাম বললেন,
- কাজ করতে কেমন লাগছে?
- জ্বী ম্যাম ভালো। যদি কিছু মনে না করেন একটা কথা বলবো? (আমি)
- হুম। বলুন!
- আসলে ম্যাম আমার অনেকগুলো ফাইল দেখা বাকি আছে। তাই যদি জরুরী কিছু হয়। তাহলে বলে দিন। আমার আবার কাজগুলো শেষ করতে হবে।
- আজকে শেষ করতে হবে না। আর আপনি আজকে শেষ করলেও আমি সাইন করবো না।
- কিন্তু কেনো ম্যাম? (অবাক হয়ে বললা।)
- ম্যাম আসবো? (পিয়ন)
- হুম । আসো। এখানে রাখো। (ম্যাম)
- জ্বী ম্যাম। (পিয়ন)
পিয়ন কফির কাপ রেখে চলে গেলো। এরপর ম্যাম বলল,
- নিন।
- জ্বী ম্যাম।
- আপনাকে ডাকলাম কাজ এর চাপ নেই বেশি। তাই একটু আড্ডা দিবো। (ম্যাম)
- আমার সাথে আড্ডা? (অবাক হয়ে)
- আমি অবাক হওয়ার মত কি বললাম?
- কিছু না ম্যাম।
- হুহ! আচ্ছা আপনি চাঁদ দেখেন? রাত এর বেলায়?
- জ্বী ম্যাম। এটা দেখা হয়! (আমি একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম এমন প্রশ্ন শুনে)
- কাল দেখেছেন? (একটু উৎসাহিত হয়ে)
- হুম। কাল জোছনা ছিলো। সাথে ছিলো ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ! প্রকৃতির ঠান্ডা হাওয়া। নিস্তব্ধ চারপাশ!
- বাহ! এখন ও মনে আছে এইগুলা? (বিড়বিড় করে)
- জ্বী ম্যাম কিছু বললেন?
- নাহ। কিছু না। ভালো বলেছেন। সাহিত্যিক হবার ইচ্ছা আছেন মনে হয়?
- ঠিক তা নয়! তবে বেঠিক বললেও ভুল বলা হবে!
- হা হা হা। (ম্যাম হেসে উঠলেন)
- আচ্ছা ম্যাম আপনার নাম কি?
- মানে? আপনি এখন ও আমার নাম জানেন না?
- জানি তবে আপনার মুখ থেকে জানতে ইচ্ছে করছে।
- মেজবাহ সুলতানা ইলা।
- সুন্দর নাম।
- ধন্যবাদ। এখন আপনি যেতে পারেন। আর ফাইলগুলো এতো তাড়াহুড়ো করে শেষ করা লাগবে না।
- জ্বী ম্যাম।
আমি ম্যাম এর রুম থেকে বের হলাম। ম্যাম এর রুম থেকে বের হতেই দেখি সবাই আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমি ঘড়ির দিকে তাকাতেই অবাক হয়ে গেলাম ১ ঘন্টার উপরে হয়ে গিয়েছে। আমি ম্যাম এর রুমে। সবার তো একটু অবাক হওয়ার ই কথা।
আমি আমার কেবিনে এসে কাজ করছি। এমন সময় এক সিনিয়র কলিগ এসে বলল,
- কেমন আছেন? (কলিগ)
- জ্বী। আলহামদুলিল্লাহ! আপনি? (আমি)
- এই তো। তা ভাই ভালোই চলছে তাহলে?
- ভালো চলছে মানে? বুঝলাম না?
- ভাই এতো অবুঝ হওয়ার দরকার কি?
- ভাই কি বলতেসেন এইগুলা?
- কি বলতেসি মানে? ম্যাম অফিসের কারো সাথে ২ মিনিট এর বেশি কথা বলে না। আর আজ তার রুমে আপনি ১ঘন্টা ছিলেন? তার উপর আবার কফির অর্ডার? তা আবার কে? ইলা ম্যাম? ভাবা যায়? আর আগের দিন কি করলো? আপনারে নিয়া সাইট দেখতে গেলো? যা ম্যাম ১ বছরে কারো সাথে করে নাই?
-....... ( ভাবছি আমি).....
- যদি কিছু থেকেও থাকে। প্লিজ ভাই কিছু করবেন না। আমি ইলা ম্যাম কে পছন্দ করি। কিন্তু কিছু বলতে পারছি না।
- ওহ। আচ্ছা।
- হুম। ধন্যবাদ ভাই। এখন আসি পরে কথা হবে।
- হুম। আসুন।
আমি ভাবছি এইগুলা কি বলে গেলো? সব কি সত্যিই? অবশ্য হতেও পারে। তাহলে আমার সাথে আজ আড্ডা দিলেন কেনো? কাজ কম ছিলো বলে?
আমি কাজ করতে লাগলাম। তারপর অফিস শেষ হলে বাসায় এসে পড়লাম। ম্যাম এর সামনে আর পড়লাম না আমি।
চলবে??
Share:

কাজের মেয়ে যখন বউ Kajer meye jokhon Bow

কাজের মেয়ে যখন বউ
Kajer meye jokhon Bow
পর্ব:২
-তাহলে বলবো ,, একটা ট্রাক এসে প্রায় মেরে
দিছিলো..........
--কি মিথ্যা বলবা কেনো,,,
--এমনেই, কারণ আপনি অনেক জোরে বাইক
চালাইতাছেন।।।।আর জোরে বাইক চালাই খারাপ
ছেলেরা।।।
-কি আমি খারাপ?
-একটু একটু খারাপ
-কেনো?
-ঐদিন আমাকে এমন ভাবে ধমক দিলেন কেনো?
-আরে ঐদিন ঘুমের ঘোরে ছিলাম তাই
-হুম জানি, আপনি ইচ্ছা করেই আমাকে ধমক দেন।
-ওকে আর ধমক দিবো না
-হি হি ওকে
-আবার হাসার কি হলো?
-কিছুনা
-হুম সামনে কলেজ আসছে নামো
-হুম নামতাছি
-আমি কি কলেজ শেষে আসব?
-আসলে ভালো হয়,আমার ঐ ছেলেগুলোরে দেখলে কেমন
জানি লাগে
-কেমন লাগে?
-বখাটের মত
-ওকে এখন ক্লাসে গিয়ে ক্লাস করো।
-ওকে
-ওকে বাই
-এই শুনেন
-কি?
-সাবধানে যাবেন কিন্তু,আর হ্যা আস্তে আস্তে চালিয়ে
যাবেন
-ওকে বাই
-বাই
বাড়িতে এসে শুয়ে থাকলাম, কতক্ষণ পরে.....
-সাব্বির (মা)
-হ্যা মা বলো
-নিলার কলেজ ছুটি হয় দুইটা বাজে
-ওকে তাহলে আর কতক্ষন পরে বের হবো
-না এখনি যা
-যেভাবে বলো যেনো নিজের কোনো আত্মীয় হয়
-হয় নাই হবে
-মানে?
-কিছুনা এখন ওর কলেজে যা
-ওকে যাচ্ছি
-হুম সাবধানে যাস, তোরা আসলে খেতে বসব
-ওকে মা
ওর কলেজে গিয়ে দেখি ছুটি হয়ে গেছে।ও কোথাই যে
গেলো?
কতক্ষণ খোজাখুজির পর কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখি
বারান্দাতে বসে আছে।
ও আমাকে দেখার সাথে বাচ্চা মানুষের মতো নাক
ফুলিয়ে মুখ অন্যদিকে নিয়ে গেছে।
- ঐ আসো
-না আমি একলা যেতে পারি এই বইলা হাটা শুরু করছে
-আরে উঠো
-না
-বলছি উঠতে
-আবারো ধমক দিয়ে কথা বলেছেন।
-আমিতো ২.১০ এ আসছি,রাস্তায় জ্যাম ছিলো তাই লেইট
হয়ছে
-ওকে
বাইকে করে বাসায় নিয়ে আসলাম
-কিরে মা আজ কেমন লাগছে?(মা)
-হুম মা ভালোই লাগছে, আজকে আর ওরা কেই পিছু
নেয়নি।
-হুম এর জন্যই তো সাব্বিরকে পাঠালাম
-মাহহহহ আমি এখানে ওর সেক্রেটারি হয়ে গেলাম?
(আমি)
-কিভাবে?
-ঐ যে ছেলেরা যেনো ডিস্টার্ব না করে তার জন্য
আমাকে পাঠায়ছো।
-বেশি বুঝবিনা বলে দিলাম,যা গোসল করে আয়।
রুমে এসে কতক্ষন রেস্ট নিয়ে গোসল করে হেডফোন দিয়ে
হাই-বলিউমে গান শুনতাছি।
হঠাৎ একটা আপেলের টুকরা আমার উপরে এসে পরল
তখন মুখ ফিরিয়ে দেখি ও হাসতাছে তখন ঠিক ইড
শেরানের পারফেক্ট গানের নায়িকার মতো অনেক
কিউট লাগতাছে।
-স্যরি(নিলা)
-কেনো(আমি)
-আপনাকে মনে হয় ১০ টার বেশি ডাক দিছি তাও শুনেন
নাই তাই ডিল দিছি।
-তাহলে রুমে এসে ডাক দিলানা কেনো?
-আপনি আমাকে বলছেননা যেনো কারো অনুমুতি না
নিয়ে রুমে না ডুকতে
-হা হা হা
-হাসেন কেনো?
-তাই বলে আপেলের টুকরা দিয়ে ডিল দিছো?
-হু
-এর জন্য হাসি পাইতাছে
-বেশি হাসলে দাত পরে যাবে
-আচ্ছা হাসবোনা
-হুমম এখন আসেন, মা অপেক্ষা করতাছে।
-ওকে চলো
খেয়ে রুমে এসে ওরে নিয়ে ভাবতে লাগলাম।ওর আমরা
ছাড়া আর কেউ নাই তাও কিভাবে হাসিমুখে থাকে।
আসলেই ও অনেক ভালো,আর নামাজ ও পড়ে।
আমি এতদিন যার অপেক্ষায় ছিলাম এটাই কি সেই
মেয়ে।
কি অদ্ভুত আবার থুতুনির নিচে তিলটাও অনেক সুন্দর
লাগে।
ওরে আমাদের ঘরে একবারে রেখে দিলে কেমন হয়?
ভালোই হবে, ও তো মেয়ে হিসেবে অনেক ভালো এবং
ধার্মিক ও।
এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে গেলাম তা নিজেই
জানিনা।
ঘুম থেকে উঠে দেখি বিকাল ৪.৩০ এর মতো বাজে।
উঠে ফ্রেশ হয়ে ওর রুমে ছাদে গেলাম , গিয়ে দেখি
ছাদের এক কোনে কান্না করতাছে।
-নিলা(আমি)
-চমকে গিয়ে বলল জি হ্যা বলেন(নিলা)
-কান্না করো কেনো?
-এমনি
-হাতে এটা কি?
-ছবির ফ্রেম
-দেখি কার ছবি এই বইলা হাতে নিয়ে দেখি ওর মা বাবা
আর ওর এক ফ্রেমে তোলা ছবি। এই মা-বাবা গত হয়েছেন
তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করো যেনো তারা
জান্নাতে যেতে পারে।
-হুম করি তো(কান্না করে করে)
-মা-বাবার কথা কি খুব মনে পড়ছে?
-হুম মা বাবারে অনেক মিস করতাছি।
-আচ্ছা এখন রুমে আসো, এই বলে ওরে রুমে নিয়ে আসছি।
কয়েকদিন পর এভাবে চলার পর একদিন বিকালে দেখি
ছাদের এক কোনে বসে আছে।
তখন ওর পাশে গিয়ে.......
-নিলা(আমি)
-হুম বলুন
-একটা কথা বলি?
-হুম বলার জন্যইতো বললাম।
-বলব?
-না বললে এখানে বসে থাকেন আমি যাই কাজ আছে
-কি কাজ?
-অনেক কাজ আছে
-কাজ করা লাগবেনা
-আমি এই বাড়ির কাজের মেয়ে, বাড়ির বউ না যে
বিকালে বসে থাকবো
-যদি বলি বউ
-মানে?
-নিলা আমি ঘুরিয়ে পেচিয়ে কিছু বলতে পারিনা,
ডিরেক্ট বলতাছি "আমি তোমাকে ভালোবাসি"
-করুনা?
-না
-তাহলে?
-সত্যিই এই কয়দিনে খুব ভালবেসে ফেলেছি
-এটা ভালোবাসা না
-তো কি?
-এটা সম্পূর্ণ করুনা
-একদম না
-আমি এই বাড়ির কাজের মেয়ে , আমার সাথে কিভাবে
আপনায় যায় বলেন?
-আমার তোমাকেই লাগবে, তোমাকে ভালোবাসছি
তোমাকেই বিয়ে করবো।
-হা হা হা আমাকে আপনি বিয়ে করবেন?আমি তো
কোনো এক রিক্সাওয়ালার বউ হব,বাই আর হ্যা আপনি আর
আমার সামনে আসবেননা।
-ওর হাতটা ধরে,নিলা প্লিজ আমাকে বুঝার চেস্টা করো
-আপনাকে বুঝার জন্য আশে পাশে আরো অনেক মেয়ে
আছে।
-সত্যিই খুব ভালোবাসি।
-হাত ছারেন
-না আগে হ্যা বলো
-হাত ছারেন
-বলছিতো উত্তর দেও
এরপর যা করলো তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম
না............
to be continued
যদি কেউ আমারর গল্প পড়তে পড়তে, পার্ট খুঁজে না পাও,, তাহলে সেটা আমাকে জানাবে, আমি লিংক দিয়ে দিবো।।।।
Share:

ওসি সাহেবের মেয়ে.... golpo Police ar meye

ওসি সাহেবের মেয়ে....
 golpo Police ar meye
প্রথম পর্ব

অভি-নীলা নীলা প্লীজ আমার কথাটা শোন....
নীলা-কোনো কথা না....
অভি- প্লীজ
নীলা-তোরে না বলছি আমার এগুলা ভালো লাগে না
অভি- আই রিয়েলি লাভ ইউ
ঠাসসসসসসসসস
নীলার হাত টা ধরতেই...
নীলা- দেখ এবার কিন্তু বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে..তোকে না কতবার করে বলছি আমি তোকে ভালোবাসি না...
অভি-কিন্তু আমি তো বাসি আর তুইও একদিন আমায় ভালোবাসবি দেখিস..
নীলা-তুই কিন্তু ভুলে যাচ্ছিস আমার বাবা কিন্তু খুলনা থানার ওসি
অভি- তো..? বিয়ে কি আমি তোর বাপ রে করব নাকি আমি তো তোকে ভালোবাসি.....
নীলা- তুই যদি আর একবারো পাগলামি করিস তাহলে কিন্তু আমি ভুলে যাব যে তুই আমার ফ্রেন্ড...
অভি-নীলা প্লীজ..আই রিয়েলি.... [ এক হাত ধরে]
নীলা- দেখ অভি এবার কিন্তু বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে..আমি কিন্তু এবার সত্যি সত্যি আব্বুকে বলে দিব[হাত ঝাড়ি মেরে ছাড়িয়ে নিয়ে]
অভি- নীলা...
একটা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে চলে গেলো ..অভি একা সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিল...
কি হলো কিছুই বোঝা গেলো না তো আচ্ছা বলছি....
অভি আর নীলা দুজনেই  কলেজ ফ্রেন্ড  ... বন্ধুত্ব টা অনেক দিনেরই ...একদিন অভি নীলাকে বলে ....
অভি-দোস্ত
নীলা- হুম বল..
অভি- আমি না একটা মেয়ে কে  ভালোবাসি রে ..
নীলা- উরিব্বাপস.. তাই নাকি ?....তো কে রে সেই মেয়েটা
অভি- আছে একজন ... কিন্তু প্রপোজ করতে পাছি না
নীলা- কেন?
অভি-আরে এর আগে কখনো প্রেম করছি নাকি ?
নীলা- হুম তাও ঠিক ...
অভি- দোস আমি তো কখনো কাউকে প্রপোজ করিনি তো ..তোকে দিয়ে একবার ট্রাই করি ....
নীলা-হুম ওকে..
অভি- ওকে
বলেই অভি নীলাকে অনেক সুন্দর করে প্রপোজ করে তার মনের কথা বলে দেয়......
নীলা- হলো.....? ...ভয় কাটলো?..যা এবার গিয়ে মেয়েটাকে প্রপোজ করে দে..
অভি-আমার ত প্রপোজ করা হয়ে গেছে
নীলা- মানে?
অভি-তুই ই তো সেই মেয়ে
নীলা-কি?
অভি-হ্যা রে...বড্ড ভালোবাসি তোকে 
নীলা- দেখ অভি আমার এসব একদম ই পছন্দ না
অভি-কিন্তু আমি তোকে ভালোবাসি সত্যি...
নীলা-but i dont love you ok? আর আর পিছু করবি না
অভি নীলার হাত ধরে আবার ভালোবাসি বলতেই নীলা অভিকে একটা চড় দেয়..আর সেখান থেকে চলে যায় 
এভাবে দুই দিন অভি বেহায়ার মতন প্রপোজ করে আর আজও প্রপোজ করল আর তার পরিনাম তো আপনারা দেখলেনই.....
এভাবে আরো একদিন চলে গেলো ...
অভি পরের দিন আবার কলেজ গেলো কলেজে যেতেই গেটের সামনে থেকে একটা লোক গাড়ি থেকে নেমে অভির কলার ধরেই বলল
- গাড়ীতে উঠ
-আরে কে আপনি?
- সেটা পরে জানলেও চলবে..মেয়েদের ডিস্টার্ব করিস তাইনা? তোকে ইভটিজিঙ্গের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে...চল ..থানায় চল..
- আরে আমি কাকে ডিস্টার্ব করলাম 
কোনো কথা না বলে এক প্রকার জোর করেই  অভিকে থানায় নিয়ে যাওয়া হলো ...থানায় সোজা ওসির সামনে নিয়ে গেলে ওসি অভিকে অনেক খারাপ কথা বলে আর বভির বাবা মাকে থানায় ডাকে ..অভি তখনও জেলে
অভির বাবা মাকে ওসি সাহেব অনেক অপমান করে...এক পর্যায়ে অভির বাবা মা অভিকে বলে তোর একটু শিক্ষা হওয়া দরকার আমরা তোকে ছাড়াবো না...বলে বাসায় চলে যায়.......
এইদিকে অভির ফ্রেন্ড রা অভির এই খবর পায় আর সাথে সাথে বড় ভাই ব্রাদার আর উকিল নিয়ে বিকালের মধ্যেই জেল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়...
জেল থেকে ছাড়িয়ে নেয় অভি জেল থেকে বের হলে ওর বড় ভাই রা জিজ্ঞাসা করে কি করবি এখন কোথায় যাবি...
-ভাইয়া আমি সোনাডাঙ্গা লেক পার্কে যাব
সবাইমিলে লেকে গেলো বড় ভাইরা সিগারেট খাচ্ছিলো আর অভি পুকুরের সামনে পানির দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে ছিলো ভাবছিলো যে আর কখনোই নীলার সামনে যাবে না ....
এমন সময় এক বড় ভাই ডাক দেয় আর ডাক দিলে অভি কোনো কথা না বলে সেই বড় ভাইয়ের হাত থেকে সিগারেট নিয়ে টানা শুরু করে আর কাশতে থাকা অবশ্য কাশা টা স্বাভাবিক কারণ  এর আগে কখনোই সে সিগারেট খায়নি....ওর ভাইরা ওর হাত থেকে সিগারেট টা কেড়ে নিয়ে বাসায় যেতে বলে আর বলে যা হয়েছে ভুলে যা নতুন করে আবার লাইফ টাকে .....আর কিছু বলার আগে অভি বলে দেয় জ্বি ভাইয়া ঠিক আছে...
অভি বাসায় চলে আসে আর আব্বু আম্মুকে বলে আম্মু আমি এখানে থাকব না এখান থেকে অন্য কোথাও চলে যাব ....
আব্বু-কোথাও যেতে হবে না ..এখানেই থাক আর ভালো হয়ে যা পড়ালেখা টা ভালোভাবে কর...
অভি চুপচাপ নিজের রুমে চলে যায় আর নিজে নিজে একটা প্রতিজ্ঞা করে আর কখনো নীলার সামনে যাবে না...যেই ভাবা সেই কাজ ...অভি পরের দিন খুলনা থেকে কুয়াকাটা চলে যায় আর সেখান থেকে গ্রামের বাড়ি চলে যায় একটানা অভি৫ দিন পর পর খুলনায় আসে .....
এদিকে নীলা খুব মিস করছিল...অভির পাগলামি গুলা....আর অনুতপ্ত বোধ করছিল.. পরের দিন অভি কলেজে গেলো ....একটু অন্যরকম ভাবে ..মানে এমনি সবসময় একটু বখাটে স্টাইলে আর এত দিন পর হটাত সুন্দর করে ভালোভাবে কলেজে যায়.... কলেজ দিয়ে ভিতরে ঢুকতেই প্রথমে নীলাকে লক্ষ্য করলো ওর বান্ধবীদের সাথে বসে আছে......দেখেও না দেখার ভান করে অন্য দিলে তাকিয়ে চলে গেলো...কিন্তু নীলা এটা বুঝেছিল যে ওর দিকে অভি একবার তাকিয়েছে.....নীলা উঠেই দৌড় দিয়ে সোজা অভির সামনে গিয়ে দাড়ালো
নীলা-অভি.. i am sorry
অভি-জি আপনি আমাকে কিছু বলছেন?
নীলা- প্লীজ মাফ করে দেনা দোস ..আমি আসলে  বুঝতে পারিনি এত..
অভি- আরে থামেন মিস..আপনার হয়ত কোথাও ভুল হচ্ছে ..আপনি অকারণে কেন আমার কাছে ক্ষমা চাইছেন?
নীলা-দেখ অভি আমি সত্যি বলছি ...মন থেকে বলছি..আমার ভুল হয়ে গেছে..
অভি-আরে মিস কি যে বলেন আপনি ...ওটা তো আমার পাওনা ছিলো ..আপনি কেন ক্ষমা চাইছেন ?  i am sorry madam..
নীলা-দেখ অভি ..
অভি-হেই দোলা..দোস্ত..
দোলা -আরে অভি কেমন আছিস দোস
অভি- এইতো ভালো চল ক্যাম্পাসে যাই
নীলা-অভি দাড়া ...আগে আমার সাথে কথা বল
অভি-জি রাস্তাটা ছাড়ুন ম্যাম ...আমায় যেতে দিন...
বলেই দোলার সাথে একসাথে ক্যাম্পাসে চলে যায় বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিতে থাকে নীলা আসতেই অভি ওখান থেকে চলে যায়....এভাবে দুদিন যাওয়ার
পরের দিন অভি আবার কলেজে গেলে নীলা একেবারে অভির সামনে দরজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলল..
নীলা-প্লিজ অভি আমার কথাটা একটু শোন ....
অভি-দেখেন ম্যাডাম ..
নীলা- দেখ অভি তুই যদি আর একবারো আপনি করে কথা বলিস তাহলে কিন্তু আমি...
অভি- কি করবেন আপনি? হা? কি করবেন?..আপনার বাবা কে বলবেন ..আর আমায় ইভটিজিঙ্গের জন্য জেলে পাঠিয়ে মজা নিবেন তাই তো ...আপনারা তো এগুলাই ভালো পারেন ... কেউ যদি সত্যি ভালোবাসে তাহলে সেইটা ছুড়ে ফেড়ে ভুল ভালোবাসার মিথ্যে সমপর্কে জড়িয়ে নিজের লাইফটাকে নষ্ট করে বলবেন সব ছেলেরা খারাপ তাইনা....
নীলা- [কান্না করে দিয়ে ]  i love you
অভি- দেখেন কান্না করবেন না আপনি কান্না করলে ভালো লাগে না আর আমার নতুন করে জেলে যাওার কোনো শখ নাই...আর আপনার এইটা ভালোবসা না এইটা জাস্ট আম্র প্রতি আপনার করুণা
নীলা- কোনো করুণা না ..প্লীজ অভি বিশ্বাস কর ভালোবেসে ফেলছি রে তোকে খুব বেশি ভালোবেসে ফেলছি তোকে...
অভি-[হালকা মুচকি হেসে দিয়ে]
নীলা- তুই এখনো আমাকে ভালোবাসিস ....
অভি- হাহাহাহা জোকস টা সুন্দর ছিল
নীলা- তুই যদি আমায় ভালো না বাসিস তাহলে আমার চোখের পানিতে তোর মুখ কেন কালো হয়ে  গেলো ...এর আগে যেদিন সজীব ভাইয়ার ডিস্টার্বের জন্য কেঁদেছিলাম তুই সজিব ভাই কে অনেক মার মেরেছিলি ...তোর বড় হওয়া স্বত্বেও ...কি মনে করেছিস আমি কিচ্ছু বুঝি না ...?
অভি-ক্লাসে যেতে হবে[ মাথা নিচু করে]
কথা টা বলেই সেখান থেকে চলে গেলো ....
নীলা সোজা বাসায় চলে যায় গিয়ে ........
.
.
.
To be continue.............
Share:

গল্প সুখের_সন্ধানে

গল্প সুখের_সন্ধানে
পর্ব ১০তম
-হ্যালো কি বলছিস! কিভাবে হলো এসব!
-বাবা আমি তোমাকে সব কথা পড়ে বলবো! তুমি ১৫ মিনিটের ভেতরে ওদের বাড়ি এসো……
রহিম চাচা! গাড়ি ঘুড়ান তাড়াতাড়ি……
ইমন বাবার সাথে কথা বলে কলটা কেটে দিলো,,!
ঠোঁটের কোণে তার মুচকি হাসি__
কিছুক্ষণ আগে যে বাড়িটাতে খুশির আমেজ ছিলো পরমুহূর্তেই সেই বাড়িটা শোকে পরিণত হলো……
এক কান থেকে আরেক কান প্রায় সবাই ই জেনে গেছে যে বিয়েটা হবে না।
নুসরাতে মায়ের পাশে বসে আছে শাহিনা বেগম মুখ চেপে কাঁদছেন,,,,
মিলি পাশ থেকে উঠে গিয়ে বাইরের অবস্থা বুঝার চেষ্টা করলো,,,,এরই মাঝে সবাই ই জেনে গেছে___
তখনি এক ভদ্র মহিলা শাহিনা বেগমের কাছে আসলেন__
-কি হইলো আপা এহনো কি বরযাত্রী আহে না?
শাহিনা বেগম কি বলবেন ভেবে পান না,,,একবার নুসরাতের দিকে তাকিয়ে শুধু বললেন,,,
-বরের গাড়ি এক্সিডেন্ট করেছে,,,তাই………
পুরো কথা বলতে না দিয়ে ভদ্র মহিলা দাঁড়িয়ে গিয়ে বলতে লাগলেন,,,,
-বাবা গো বাবা! এমন মুখপোড়া মেয়ে বিয়ের আগেই অঘটন ঘটতাছে না জানি বিয়ার পর কি হইবো,,,এই মাইয়া তো একটা অপয়া……
এই বলে গা ঝাড়া দিলেন মহিলাটি,,,,
নুসরাত নিঃশব্দে কথাগুলা হজম করছিলো……
শাহিনা বেগম- দেখুন এখানে আমার মেয়ের কোন দোষ দেখছি না! যা হয়েছে আল্লাহর হুকুমেই হয়েছে…
আর আল্লাহ এতে নিশ্চয়ই কল্যাণ রেখেছেন।
আপনারা প্লিজ যান এখান থেকে……
এরই মধ্যে কয়েকজন মহিলাও এসে গেলেন শাহিনা বেগমের ঘরে……
এর মাঝে এক মহিলা বলে উঠলেন,,,
-হ হ যামুই তো,,,আমাদের তো অপমান করনেই লাইগ্গাই আনছেন,,,হুদাই আমাদের টাইমটা নষ্ট কইরা দিলেন যত্তসব ফকিন্নির দল!
এই বলে রাগে গজ গজ করতে করতে মহিলাটি বেরিয়ে গেলেন……
.
বাড়িতে ছিমছাম নিরবতা বিরাজ করছে,,,
নুসরাত নিজের ঘরে গিয়ে আস্তে আস্তে গায়ের শাড়িটা খুলে ফেললো……
বাতরুম থেকে ওযু করে এসে দু রাকাত নামায পড়লো সে___
নামায পড়ে রান্না ঘরে গেলো নুসরাত,,,
আস্তে আস্তে বাটিতে করে খাবার নিয়ে মায়ের রুমে গেলো……
শাহিনা বেগম চোখ বন্ধ করে ছিলেন,,,কিন্তু তার চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝড়ছে……
সন্ধ্যা নেমেছে অনেক আগে,,,চারিদিক থেকে ঝি ঝি পোকার আওয়াজ আসছে,,,,
নুসরাতদের ঘরেও কোন সাড়াশব্দ নেই,,,,মিলি সেই যে রুমে ঢুকেছে বের ই হচ্ছে,,,নুসরাত কয়েকবার ডাকা স্বত্বেও না……
এখন মায়ের রুমে এসেছে মাকে খাইয়ে দিবে বলে,,,
আস্তে আস্তে মায়ের মাথার পাশে গিয়ে বসে শাহিনা বেগমকে ডাকতে লাগলো নুসরাত……
-মা..।
মেয়ের ডাক শুনে একবার চোখ খুলে তাকালেও পরক্ষণে আবার চোখ বন্ধ করে ওপাশে ফিরে শুয়ে পড়লেন তিনি……
-খাবে না মা? খাবারটা কি দোষ করলো,,,,খেয়ে নাও মা!
শাহিনা বেগম কোন উত্তর দিলেন না……
-মা টেবিলে খাবারটা রেখে যাচ্ছি! তুমি না খেলে এই ঘরে কোন সদস্যদের পেটেও খাবার যাবে না!
নুসরাত চোখ মুছে মায়ের রুম থেকে বেরিয়ে এলো……
.
আধার নেমেছে রাতটাও ঘাড়ো হচ্ছে,,,কিন্তু কারো চোখেই ঘুম নেই……
নুসরাত বালিশে মুখ গুঁজে কান্না করছে,,,,
"কি হতে কি হয়ে গেলো মাবুদ! মায়ের দিকে তাকিয়েই বিয়েটাতে রাজি হয়েছিলাম মা যেন কষ্ট না পায়! কিন্তু……
দরজায় খট করা আওয়াজে নুসরাত নিজের চোখটা মুছলো,,,
মিলি এসেছে ঘরে……
-আপু তৈরি হয়ে নে!
মিলির দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে নুসরাত!
-কি হলো তাকিয়ে আছো কেন! তৈরি হও,,
এই বলে মিলির হাতে থাকা একটা শপিং ব্যাগ থেকে কাপড় বের করে নুসরাতের কাছে দিলো

কাপড়টা চোখে ধাধা লাগানোর মতো এতো জাঁকজমক তার উপর ভারি কারুকার্যে ভরা,, এতো দামি কাপড় মিলি কোথায় পেলো……
নুসরাত প্রশ্ন করলো মিলিকে,,,
স্মৃতিহাস্যে মিলি উত্তর দিলো,,,
-আমার হবু দুলাভাই এটা এনেছেন,,,তৈরি হয়ে নাও!
নুসরাতের মাথার উপর দিয়ে যেন সব যাচ্ছে!
মিলির হাত খপ করে ধরে নিজের কাছে আনলো নুসরাত,,,
তারপর মাথায় হাত দিয়ে প্রশ্ন করলো মিলিকে,,,
-কই জ্বর তো নেই! তাহলে আবোলতাবোল বকছিস কেন?
বোনের কথায় ফের মুচকি হাসলো মিলি……
-কি হলো রে তোর,, বেশি শোকে পাগল হয়ে গেলি না কি?
মিলি উঠে বোনের হাত ধরে আয়নার সামনে দাঁড় করালো……
মিলি- এইখানে চুপটি করে দাঁড়িয়ে থাকো,,,আমি শাড়িটা পড়িয়ে দেই!
নুসরাত কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে গেলো মাকে দেখে……
শাহিনা বেগম এসেই তোরজোড় লাগালেন নুসরাতকে তাড়াতাড়ি রেডি করতে।।
নুসরাত মা আর মিলির অবস্থা দেখে কান্না করে দিলো আর মনে মনে বললো,,,
"হে আল্লাহ এ কি হলো শেষ পর্যন্ত মাও শোক সহ্য করতে না পেরে………"
শাহিনা বেগম মেয়ের কান্না দেখে নুসরাতের পাশে এসে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললেন,,,
-কাঁদিস না মা! এইসময়টা সব মেয়েদের জীবনেই আসে! আল্লাহর কাছে শোকরিয়া কর যে আল্লাহ আমাদের দিকে ফিরে তাকিয়েছেন,,,নাহলে আজকের ঘটনার পর বড় চিন্তিত ছিলাম তোকে আর বিয়ে দিতে পারবো কি না।
যে মেয়ের বিয়ের আসর থেকে বিয়ে ভেঙ্গে যায় সমাজ যে তাকে আর ভালো চোখে দেখে না রে মা!
আল্লাহ আমাদের ডাক শুনেছেন,,,,সব ঠিক হয়ে যাবে এখন!
মিলি তাড়াতাড়ি ওকে সাজিয়ে দে তো মা!
নুসরাত মায়ের কথাতে বিস্মৃত হলো…
-মায়ের কথাতে তো মাকে পাগল বলে মনে হয় না!
হে আল্লাহ এসব হচ্ছেটা কি?
মিলির হাত থেকে শাড়িটা কেড়ে নিয়ে মিলির দিকে চোখ গরম করে তাকালো নুসরাত……!
বোনের ভয়ংকর চাহনি দেখে ঢোক গিললো মিলি……
-ভালোয় ভালোয় উত্তর দে মিলি! হচ্ছেটা কি এসব?
নুসরাতের কথায় উত্তর দিলো না মিলি,,,,এইবার নুসরাত বেশ রেগে গিয়ে মিলিকে ধমক দিতে লাগলো……
মিলি-মা মায়ায়ায়ায়া!
বলে শাহিনা বেগমকে ডাকতে লাগলো,,,,
নুসরাত মিলির মুখ ততক্ষণাৎ চেপে ধরলো……
-ওকে ওকে বলতে হবে না কিছু! দে দে শাড়িটা পড়িয়ে দে……। তোরা যখন পাগল হয়েছিস আমিও হলে ক্ষতি কি……!
বিড়বিড় করে বললো নুসরাত!
বোনের সম্মতিতে ভুবনবিজয়ী হাসি দিলো মিলি!
নুসরাতকে যেই সাজানো শুরু করতে যাবে,,,
নুসরাত- এই দাঁড়া,,,যা ইশার নামায পড়ে আয়! তারপর সাজাস!
মিলি চুপচাপ রুম থেকে বেরিয়ে গেলো……মিলি চলে যেতেইই দরজা আটকে দিলো নুসরাত……
এখনো নুসরাতের মাথায় কিছুই ঢুকছেনা হচ্ছেটা কি?
সবাই কি একসাথে পাগল হয়ে গেলো না কি?
আবারো দরজায় খটখট আওয়াজ আসলো,,,
প্রচন্ড রাগ নিয়ে নুসরাত দরজা খুললো,,,,
সামনে তার দুই ভাই আমিনুল আর মোহাম্মদ হাসি হাসি মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে……
নুসরাত কোমড়ে হাত রেখে রাগি রাগি ভাব নিয়ে বললো,,,
-কি চাই! নামায কই? মসজিদে যাস নি এখনো?
আমিনুল উত্তর দিলো……
-এইতো যাব! যাওয়ার আগে তোমাকে দেখতে ইচ্ছে হলো,,,,নামায পড়ে তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নিও কেমন?
নুসরাতের রাগে শরীর কাঁপছে,,,,কি পেয়েছেটা কি এই রাত্রীবেলা সবাই কেন ওকে পাগল বানাচ্ছে……
বোনের মনের অবস্থা ঠিকই আন্দাজ করতে পেরেছে দুই ভাই,,,তাই তো মিটিমিটি হেসেই যাচ্ছে দুজন!
-ভীষণ মজা নিচ্ছিস তাই না! যা আমার চোখের সামনে থেকে তোরা! নইলে নইলে তোদের চুল ছিঁড়ে দিবো আমি!
বোনের রাগ দেখে দুই ভাই হাসতে হাসতে মসজিদের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেলো……
নুসরাত ঠাশ করে দরজা আটকে দিলো……
.
কিছুক্ষণের মধ্যেই নুসরাতদের বাড়িটা আবার প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে!
শোক শোক ভাবটা কেটে আনন্দজনক পরিবেশ তৈরি হয়েছে……♥
বাড়িতে মেহমানদের ও আনাগোনা বেড়েছে,,,,
নুসরাত এখনো কিছুই জানে না,,, নিজের রুমে চুপটি করে বসে আছে!
বাইরে শোরগোল শুনা গেলেও তেমন পাত্তা দিলো না সে……
-আপু আপু দরজাটা তাড়াতাড়ি খুল তো……!
নুসরাত ভেতর থেকে চেঁচিয়ে বললো,,,
-আজ খুলবো না আমি দরজা! সবকটি তোরা পাগল হয়েছিস, সাথে আমাকেও পাগল বানাচ্ছিস!
যা এখান থেকে!
মিলি দরজার ওপাশ থেকে বলল……
-আস্তে আপু আস্তে! বাড়ির বউরা এইভাবে চেঁচায় না কি? দরজাটা খুলো তো বরযাত্রী এসে গেছে অনেকক্ষণ হলো,,তোমার সাজটা এখনো কম্পলিটই হয় নি……!
নুসরাতের বুকটা ধ্বক করে উঠলো,,,,
"বউ বরযাত্রী" কি হচ্ছে এসব,,,নুসরাতের নিজেকে পাগল পাগল লাগছে……
আস্তে আস্তে উঠে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতে দিলো মিলিকে……
-আপু তাড়াতাড়ি আয়নার সামনে আসো তো!
নুসরাতের অবস্থা এমন যে সে এখনি কান্না করে দিবে……
.
-বাবা! মাকে কি করে রাজি করালে,,,,
আরমান সাহেবকে প্রশ্ন করলো ইমন!
ইমনকে পাগড়ী পড়িয়ে দিতে দিতে আরমান সাহেব বললেন,,,
-সে কি নিজে রাজি হয়েছে না কি! বাধ্য করেছি রাজি করাতে! তোর মা টার জিদটা দিন দিন যে এতো বেড়েছে না!
-আচ্ছা বাবা তুমি উনাদের কি বলে রাজি করালে এতো তাড়াতাড়ি রাজি হয়ে গেলেন!
-তোর বাবাকে কি এতই আকাইম্মা ভেবেছিস যে এই ছোট্ট কাজটা করতে পারবে না! আর রাজি করানো তেমন কোন বড় কাজ নয় বুঝলি,,
আমি গিয়েছি আশরাফের দোহাই দিয়েছি আর বলেছি মেয়েটা অনেক সুখে থাকবে!
-ব্যাস এই রাজি হলে গেলেন?
বাবাকে পালটা প্রশ্ন করলো ইমন……
-আরে না!
-তাহলে?
-উহু এখন চল তো পরে বলবো ……
এই কথা বলে আরমান সাহেব ছেলের দিকে তাকিয়ে রহস্যময়ী হাসি দিলেন,,,
বাবার হাসির দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিলো ইমন……
.
নুসরাতের সামনে কাজি সাহেব বসে আছেন,,,
নুসরাত যেন একটা ঘোরের মাঝে আছে,,,সবকিছু তার কাছে স্বপ্ন লাগছে……
-বলো মা কবুল!
কারো কন্ঠ শুনে নুসরাত স্তম্ভিত ফিরে পেলো……
এখনো সবকিছু ধোঁয়াশা লাগছে নুসরাতের কাছে,,,
নুসরাত আজ অনেক সুন্দর করে সেজেছে,,,কিন্তু সেই সাজটা নুসরাত সেই অপরূপ রূপটা কারো চোখে ঘুচোর হচ্ছে না……
নুসরাতের পড়নের ভাড়ি কাপড় গহনা সব আড়ালে করে তার উপড়ে পবিত্র কাপড় বোরকাটা পড়ে নিয়েছে,,,
এইকাপড়টা পড়লে নুসরাত নিজেকে অনেকটা পবিত্র মনে করে,,,,এই কাপড়টাতে যেন আছে পবিত্রতার ছোঁয়া!
.
অবশেষে নুসরাতের বিয়েটা হয়ে গেলো……
কিন্তু নুসরাত এখনো তার জীবনের সেই কাঙ্খিত পুরুষটাকে দেখেনি!
কবুল বলার সাথে সাথে নুসরাতের বুকটা যেন হাহাকার করে উঠলো,,,,
এই ঘর এই বাড়ি এতো স্মৃতি এতো আপনজন রেখে সে আজ অচেনা অজানা জায়গা অচেনাজীবনের পথে যাত্রা করতে যাচ্ছে!
নুসরাতের বুকটা যেন ধুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে……
সে চলে গেলে কি হবে এই পরিবারের? বাবাকে দেওয়া কথাটা কিভাবে পূরণ করবে সে? মাকে "সুখের সন্ধান" দিবে কি করে?
এরকম হাজারো প্রশ্ন এসে নুসরাতের মাথা দলপাকাতে লাগলো……
=================
😍😍😍😍😘😘😘😘
#চলবে_ফ্রেন্ডস...........?
ভুল ক্রটি ক্ষমার চোখে দেখবেন। আর কেমন হলো জানাবেন,
আপনাদের ভাল লাগার উপর নির্ভর করে,গল্পের #পরবর্তী_পর্ব পোস্ট করা হবে।
Share:

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label