নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

সিনিয়র বউ

সিনিয়র বউ


পর্ব_০৫

লেখক-নাঈম আহাম্মেদ হৃদয়

ছেলেটার সামনে গিয়েই ওর শার্টের কলার ছেপে ধরে ঠাসস ঠাসস ২ টা চড় বসিয়ে দেয়, ছেলেটা রাগি দৃষ্টিতে তামান্নার দিকে তাকায়, তামান্না বলতে থাকে?

তামান্নাঃ ছিহ! তোর লজ্জা করে না আমার সাথে রিলেশন করে এখন অন্য মেয়ের সাথে টাংকি মারতে?

ছেলেঃ তুমি যা ভাবছো তা নয়, আমার কথাটা একটু শুনো....

তামান্নাঃ কি শুনবো তোর কথা যা দেখার তা তো নিজের চোখেই দেখলাম।

তামান্নার কথা শুনে ছেলেটার পাশে থাকা মেয়েটা রেগে যায় তারপর সেও ছেলেটা একটা চড় দিয়ে চলে যায়। আমি আর ফাহাদ বসে বসে হাসতেছি। শালা প্লে বয় এবার ঠ্যালা সামলা,,,

মেয়েটা চলে যাওয়ার পর ছেলেটা তামান্নার গালে একটা চড় বসিয়ে দেয়। সাথে সাথে আমার মাথা খারাপ হয়ে গেলো, ইচ্ছা করছিলো ছেলেটাকে মেরে পুতে ফেলি।

কিন্তু না, তামান্নাও আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে, এবার বুঝুক ভালোবাসার মানুষ কষ্ট দিলে কেমন লাগে, বেশি আলগা পিরিত দেখালে এমনটাই হয়।

ছেলেটা তামান্নাকে বলতে লাগলো....

ছেলেঃ এই তুই আমাকে ফারিয়ার (মেয়েটা) সামনে অপমান করলি কেন?

তামান্নাঃ বেশ করেছি, তুই আমার সাথে রিলেশনে থেকে আবার অন্য মেয়ের সাথে কি?

ছেলেঃ কিহ! তোর সাথে রিলেশন? হা হা হা,,, কি করে ভাবলি আমি তোর সাথে প্রেম করতেছি?

তামান্নাঃ মানে?

ছেলেঃ মানে আমি তোর সাথে কোনো রিলেশন করিনি, যা ছিলো সেটা হচ্ছে টাইমপাস। আর তোর মতো মেয়েকে আমি আমার স্ত্রী বানাবো সেটা ভাবলি কি করে?

তামান্নাঃ কেন আমি কি করছি? পারবি না কেন?

ছেলেঃ যে মেয়ে বাসায় স্বামীর সাথে খারাপ ব্যবহার করে, বিয়ের পরও অন্য ছেলের সাথে রিলেশন করে তাকে আমার বউ বানাবো, এটা জীবনেও সম্ভব নয়।

তামান্নাঃ প্রপোজ করার সময় এটা মনে ছিলো না?

ছেলেঃ সব ছিলো, তোর সাথে জাস্ট টাইমপাস করেছি, টাকা নেওয়ার জন্য আর তোর শরীর ভোগ করার জন্য, টাকা তো খেয়েছি কিন্তু শরীরটা এখনো বাকী আছে। আর আমি বিয়ে করবো ফারিয়াকে। ওর বাবার অনেক টাকা। তোর বাবার কি আছে,,,

তামান্না সাথে সাথেই ছেলেটাকে আরো একটা চড় মারে, তারপর কান্না করতে করতে বলে...

তামান্নাঃ তোর মতো বাটপার আমি কখনো দেখিনি, তোর জন্য আমি জুয়েলকে অনেক কষ্ট দিয়েছি। আজ থেকে তোর আর আমার সম্পর্ক এখানেই শেষ। আর কখনো আমার সামনে আসবি না।

এ কথা গুলো বলে তামান্না কাঁদতে কাঁদতে চলে যায়, ছেলেটা গালে হাত দিয়ে আবুলের মতো দাঁড়িয়ে থাকে।

তামান্নার কথা ভেবে খারাপ লাগছে, বেচারি সত্যিই অনেক ভালোবাসতো ছেকেটাকে। আবার অনেক আনন্দও লাগছে যে ফকিন্নি আমার সাথে অনেক বাজে বিহেভ করেছে। এবার ঠ্যালা বুঝ। আর কিছুদিন আমিও তোরে ডিভোর্স দিবো। তখন বুঝবি তোর জীবনে এই জুয়েলের গুরুত্ব কি পরিমাণ ছিলো।

যাইহোক ফাহাদকে একটা ধন্যবাদ দিলাম, সে ছেলেটাকে না দেখলে হয়তো ছেলেটা তামান্নার সাথে শারীরিক রিলেশনও করে ফেলতো। আল্লাহ বাঁচাইছে।

আমি মোবাইলটা বের করে আমাদের বন্ধুদের মেসেঞ্জার গ্রুপে একটা মেসেজ লিখলাম,, " দুপুরে সবাই সিজলার রেস্টুরেন্ট এ আসিস, আমি ট্রিট দিবো"

মেসেজ পেয়ে সবাই লেজ উঠিয়ে ট্রাংক রোড় চলে আসলো, সবাই সেখান থেকে সিজলারে গেলাম। আমি, সানি, আয়মান, হাকিম আর ফাহাদ। সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া করলাম।

আয়মান আমাকে জিজ্ঞেস করলো, "হঠ্যাৎ ট্রিট কেন? আমি সব ঘটনা খুলে বললাম। সবাই মোটামুটি খুশি। সানিকে জিজ্ঞেস করলাম ডিভোর্স লেটার ঠিক হতে আর কয়দিন লাগবে সে বললো আর কিছু দিনের মধ্যে হয়ে যাবে।

বিকালে আর বাসায় গেলাম না। সবাই মিলে আড্ডা দিলাম, রাতে বাসায় গেলাম।

আম্মুঃ কিরে সারা দিন কই ছিলি?

আমিঃ এইতো বন্ধুদের সাথে।

আম্মুঃ এই অসুস্থ শরীর নিয়ে বন্ধুদের সাথে কি? এই তোর সাথে কি তামান্নার কিছু হইছে?

আমিঃ না, কেন?

আম্মুঃ দুপুরে এসে না খেয়ে শুয়ে আছে, অনেকবার ডেকেছি, খাবে না বলেছে, রুম থেকে বের হচ্ছে না।

আমিঃ আমি কিছু জানি না (যদিও সব জানি তবুও কিছু বললাম না)

আম্মুঃ দেখতো বাবা! মেয়েটা কিছু খাচ্ছে না। এভাবে না খেয়ে থাকলে তো অসুস্থ হয়ে যাবে। (নিজের ছেলে যে না খেয়ে আছে সেদিকে খেয়াল নেই)

আমিঃ আচ্ছা দেখতেছি।

আম্মুঃ হুম, যা ডেকে নিয়ে আয়। দুজনে একসাথে খেতে আয়।

তারপর রুমে গেলাম, দেখি তামান্না উলটো হয়ে শুয়ে আছে, আমাকে দেখেই উঠে বসলো। আমি কিছু না বলে ওয়াশরুমে চলে গেলাম, ফ্রেশ হয়ে এসে বললাম...

আমিঃ আম্মু খাওয়ার জন্য ডেকেছে, খেতে চলেন।

তামান্নাঃ আমি খাবো না, তুমি খেয়ে নাও।

আমি তো অবাক হয়ে গেলাম, যে মেয়ে আমাকে তুই ছাড়া কথা বলতো না আর সেই আমাকে তুমি করে ডাকছে।

আমিঃ খাবেন না কেন? দুপুরেও তো কিছু খাননি, আম্মু বললো। আপনার মুখে এগুলো কিসের দাগ? (যদিও সব জানি)

তামান্নাঃ কিছু মশা মারতে গিয়ে।

আমিঃ খেতে আসেন, সবাই বসে আছে,,,

আর কিছু না বলে খেতে চলে গেলাম, খাওয়া শুরু করে দিলাম কিন্তু সে আসছে না।

আমিঃ কিরে তামান্না আসছে না?

আমিঃ না।

আম্মুঃ কেন, কিছু হইছে?

আমিঃ শরীর খারাপ মনে হয়।

আম্মুঃ ও আল্লাহ! কি বলিস। ডাক্তারকে কল দে।

আমিঃ আরে ধুর তেমন অসুস্থ না, ঘুমালে ঠিক হয়ে যাবে।

আমি আর আম্মু খেয়ে নিলাম, চলে যাওয়ার সময় আম্মু বললো...

আম্মুঃ জুয়েল!

আমিঃ কিছু বলবে?

আম্মুঃ বলছিলাম কি, তুই খাওয়ারটা রুমে নিয়ে যা, ওর খিদা লাগলে খেয়ে নিবে। প্লিজ বাবা না করিস না।

কি আর করা ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও খাওয়ার গুলো রুমে নিয়ে গেলাম।

খাওয়ার গুলো টেবিলের উপর রাখলাম, তামান্নাকে বললাম...

আমিঃ ভাত নিয়ে আসছি। খেয়ে নিন।

তামান্নাঃ খাবো না, খিদা নেই।

আমিঃ না খেলে শরীর খারাপ করবে, খেয়ে নিন।

আর কিছু না বলে বালিশটা নিয়ে সোফায় শুয়ে পড়লাম, তামান্না কিছু একটা বলতে গিয়েও বললো না।

রাতের বেলা হঠ্যাৎ কিছু একটার শব্দ শুনে ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো, তাকিয়ে দেখি তামান্না পাগলের মতো খাওয়ার গুলো খাচ্ছে। আমি মুছকি হেসে মনে মনে বললাম "গরিবের কথা বাসি হলেও মিষ্টি হয়" আমি না জাগার ভান ধরে শুয়ে আছি। তামান্না একবার খাওয়ারের দিকে তাকায় আরেকবার আমার দিকে তাকায়।

তারপর ঘুমিয়ে পড়লাম, ঘুম থেকে উঠে দেখি তামান্না নিজের কম্বল টা আমার গায়ে জড়িয়ে দিয়ে কোথায় যেন চলে গেছে।

উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম, খাওয়ার টেবিলে গিয়ে দেখি পছন্দের সব খাবার, ঘটনা কি, আজকে তো বিশেষ কোনো দিন না, আম্মুকে জিজ্ঞেস করলাম আজকে এগুলো কেন? আম্মু হেসে বললো তামান্না নাকি আমার জন্য নিজের হাতে বানিয়েছে। আসলেই মেয়েদের মন বোঝা জীবনেও সম্ভব নয়, এরা কখন কি করে নিজেও জানে না।

কিছু না বলে খেয়ে নিলাম, তারপর রেড়ি হয়ে বাইরে চলে গেলাম, আজকে আড্ডা দেওয়ার জন্য যাচ্ছি না, একটা চাকরীর জন্য ইন্টার্ভিউ দিতে যাচ্ছি। বসে বসে তো অনেক খাইলাম এবার ফ্যামিলির পাশে দাঁড়ানো উচিত।

ইন্টার্ভিউ দিয়ে বন্ধুদের সাথে কিছুক্ষন আড্ডা দিয়ে রাতে বাসায় আসলাম। সবাই একসাথে খেয়ে নিলাম।

রুমে গিয়ে শুয়ে শুয়ে মোবাইল টিপতেছি এমন সময় তামান্না রুমে আসলো, আমি উঠে ছাদে চলে গেলাম, কিছুক্ষণ সেখানে বসে বসে গান শুমলাম।।

তারপর রুমে এসে দেখলাম তামান্না এখনো বসে আছে,,,,

আমিঃ কি ব্যাপার আপনি এখনো ঘুমান নি?

তামান্নাঃ ঘুমাবো পরে। একটা কথা বলতাম,,,,

আমিঃ হুম বলেন।

তামান্নাঃ আমাকে আর আপনি করে বলবে না।

আমিঃ তো কি বলবো?

তামান্নাঃ তুমি করে বলিও।

আমিঃ No Thanks (একটা হাসি দিয়ে)

তারপর খাট থেকে বালিশটা নিয়ে সোফায় ঘুমাতে যাবো, এমন সময় তামান্না আবারও বললো...

তামান্নাঃ সোফায় না ঘুমালে হয় না?

আমিঃ তো কোথায় ঘুমাবো?

তামান্নাঃ তুই এবার থেকে খাটে ঘুমাবে।

আমিঃ কেন আপনার চড় খাওয়ার জন্য নাকি অপমানিত হওয়ার জন্য? দেখেন আমারও একটা পার্সোনালিটি আছে।

তামান্নাঃ আগের সব কিছুর জন্য সরি।

আমি কিছু না বলে সোফায় ঘুমিয়ে পড়লাম, তুই কি ভাবছিস তোর নরম কথায় আমি পটে যাবো? তুই এখনো জুয়েলকে ছিনিস নি, আমিও তোকে অনেক ভালোবাসতাম কিন্তু যখনই তোর কাছে যেতাম অপমান ছাড়া আর কিছুই পাইনি?

যাক এতো কিছু ভেবে লাভ নেই, ঘুমিয়ে পড়ি। রাতের বেলা কারো গোঙ্গানির শব্দে ঘুম ভাঙ্গলো, ড্রিম লাইটের আলোয় রুমের সব কিছু হালকা ভাবে দেখা যাচ্ছে।

দেখলাম তামান্না শুয়ে শুয়ে কান্না করতেছে, কাঁদুক তাতে আমার কি? কানের মধ্যে কাঁথা চাপ দিয়ে আবারও ঘুমিয়ে পড়লাম।

সকালবেলা কারো নরম হাতের স্পর্শে ঘুম ভাঙ্গলো, হালকা চোখ খুলে দেখি তামান্না আমার মাথায় হাত বুলাচ্ছে, আমিও না জানার ভান করে শুয়ে আছি।

একটু পর সে উঠে গোসল করতে চলে গেলো, গোসল করে এসে আমাকে ডাকতে লাগলো, উঠে আমিও ফ্রেশ হয়ে নিলাম।

সকালবেলা নাস্তা করে শুয়ে শুয়ে ফেসবুকিং করছি এমন সময় আয়মান কল দিয়ে বললো, আমার চাকরিটা হয়ে গেছে। আমিও মহা খুশি। যাক অবশেষে পরিবারের হাল ধরতে পারবো।

আম্মুকে খবরটা দিলাম, আম্মুও অনেক খুশি, তামান্নাকে কিছু বললাম না। সেদিন রাতে সানি আর আয়মানের সাথে আড্ডা দিয়ে রাতে বাসায় আসলাম, তামান্না আমাকে বললো...

তামান্নাঃ Congratulation.

আমিঃ Thanks but why???

তামান্নাঃ নতুন চাকরি পাওয়ার জন্য।

আমিঃ ও আচ্ছা।

পরেরদিন তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলাম, রেড়ি হয়ে অফিসে চলে গেলাম। প্রথমদিন ভালোই লাগলো,,

এভাবে আরো ১০ দিনের মতো চলে গেলো, তামান্না আমার কাছে আসতে চায় বাট আমি তেমন একটা কথা বলি না। কারণ আগের দিন গুলোর কথা আমি এখনো ভুলি নি। তামান্নার জন্য আমি এখন প্রায় কলেজে যায় না বললেই চলে। সেদিন সবার সামনে অপমার করার পর থেকে কারো সামনে যাই না। শুধু পরীক্ষাটা দিয়ে আসি।

পরের দিন অফিসে যাচ্ছি এমন সময় আম্মু এসে বললো...

আম্মুঃ অফিসে যাচ্ছিস?

আমিঃ হুম, কিছু বলবে?

আম্মুঃ বলছিলাম কি তামান্নার আম্মু কল দিছে, সে নাকি অসুস্থ। তামান্নাকে যেতে বলেছে।

আমিঃ তো যাক।

আম্মুঃ না মানে তুই যদি দিয়ে আসতি!

তারপরেই....

চলবে....
Share:

story---সিনিয়র_আপু Writer---পিচ্চি_পণ্ডিত

story---সিনিয়র_আপু
Writer---পিচ্চি_পণ্ডিত

Part--- 02





{আমি এবার এক ছুট দিয়ে বাসায় পৌছে গেলাম, না জানি আর কিছুক্ষন থাকলে ওর ফ্রেন্ডের স্যান্ডেল গুলাও আমার দিকে ছুঁড়ে মারতো, পুরাই ইজ্জতের ফালুদা হয়ে যেতো আরো, কিন্তু ১৪৩ এর মানেটা কি? 😱😱 কিছুই তো বুঝতে পারছিনা। আমি রুমে এসে আমার এক ফ্রেন্ডকে কল দিয়ে....}
-- এই রিয়া একটা শব্দ জিজ্ঞাসা করছি সেটার মানে কি তুই জানিস?(আমি)
{রিয়া হলো আমার এক ফ্রেন্ডের নাম}
-- কি বল? (রিয়া)
-- না মানে ১৪৩ এর মানে কি?(আমি)
-- তুই জানিস না নাকি যে আমাকে জিজ্ঞাসা করছিস।(রিয়া)
-- না জানিনা বলেই তো তোকে জিজ্ঞাসা করছি।(আমি)
-- ১৪৩ এর মানে হলো I love you বুঝলি।(রিয়া)
-- হিহিহি ভাভা গো বিরাট ব্যাপার দেখছি যে।(আমি)
-- মানে?(রিয়া)
-- না না কিছু না।(আমি)
-
-
-
(ভাইরে আমার মনে তো এখন লাড্ডু ফুটছে। উফ আল্লাহ মেয়েটা আমাকে আই লাভ ইউ বললো, কি যে খুশি লাগছে বলে বোঝাতে পারবো না। 😍😍😍)
-- ওহ আচ্ছা।
-- এখন রাখি বুঝলি পেত্নি।
-- এই সিয়াম ভালো হবে না বলছি।
-- আমি আকাশ না যে তোকে ভয় পাবো।(আমি)
-- তোর থেকে আমার আকাশ অনেক ভালো। রাখ বাই।(রিয়া)
-- তা তো হবেই উনি তো তোমার হবু ইয়ে।(আমি)
-- এই চুপ কর সিয়াম তোর পাঠক ভাইয়া কি মনে করবে শুনি?(রিয়া)
-- হিহিহি, আচ্ছা বাদ দে কাল কলেজ যাবি তো।(আমি)
-- জ্বি, তুই(রিয়া)
-- হুম যাবো আর আকাশ যাই কিনা একটু জিজ্ঞাসা করে টেক্সট করে দিবি বুঝলি।
-- কেন তোর তো বেস্টফ্রেন্ড, তুই জিজ্ঞাসা কর।
-- আচ্ছা করবানে এখন রাখি।
-- আচ্ছা বাই।
[এবার ফোন রেখে দিলাম।
মানে রিয়া আকাশের গফ, আমরা সবাই এক ইয়ারেই পড়ি। মেয়েটা ছেলেটাকে অনেক ভালোবাসে আর ছেলেটাও।]
-
-
(এবার বই নিয়ে পড়ার টেবিলে এলাম, বইটাও খুললাম দেখি সেই জান্মাত আমার সিনিয়র ক্রাশের ছবি বই এর পাতায় ভাসছে, আমি চুপটি করে গালে হাত দিয়ে হা করে বসে রইলাম, এবার রাতে ডিনার সেরে ঘুমাতে গেলাম। এবার আমি আমার ঘুমের রাজ্যে রাজত্ব করতে চলে গেলাম, দেখি সেখানে সব ঠিকঠাক আছে)
-
-
(তাই আমি আবার আমার আব্বুর রাজ্যে ফিরে এলাম, সকালে ঘুম থেকে উঠে আবার রেডি হয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।
এবার কলেজে ঢুকে সেই গাছের নীচে গিয়ে বসলাম যেখানে আমার সব কুত্তা ফ্রেন্ডরা বসে আছে, আমাকে দেখে সবাই হাসছে, কি ব্যাপার রে ভাই কিছুই তো বুঝে উঠতে পারছিনা। এবার আমি সাগরের কাছে গিয়ে ওর মাথায় এক চাপড় দিয়ে....)

.
-- ওই আমাকে কি দেখে সার্কাসের জোকার মনে হয়?(আমি)
(আকাশ হেসে হেসে.....)
-- তা কেন মনে হবে শুনি?  আর মনে করার কি আছে তুই তো এমনিতেই জোকার। (আকাশ)
-- আকাশের বাচ্চা😡😡😡😡😡(আমি)
-- আচ্ছা আচ্ছা চুপ করলাম।(আকাশ)
-- এবার বল তোরা হাসছিলিস কেন?(আমি)
-- তাহলে দেখতে চাস কেন হাসছিলাম।(আকাশ)
-- জ্বি।
-- ওই দেখ কে দাঁড়িয়ে বলতো?
.............
(এবার আকাশের আঙুল তুলে যেদিকে দেখালো, সেটা দেখেই তো আমি পুরাই অবাক আর সঙ্গে সঙ্গে আকাশকে জড়িয়ে ধরলাম। উরিবাবা এতো আমার সিনিয়র ক্রাস😍😍😍, কাল আই লাভ ইউ বলেছিলো তাই মনে হয় প্রপোজ করতে এসেছে।
উফ আল্লাহ আমি তো পুরাই লজ্জায় রাঙা হয়ে গেছি।)
..........
(কিছু খুঁজে না পেয়ে আকাশের ব্যাগে হাত ভরে দিলাম কারন আকাশ প্রতিদিন রিশার জন্য গোলাপফুল নিয়ে আসে। এবার আমি ব্যাগ থেকে বের করতেই আকাশ  বলে উঠলো....)
.
-- কি ব্যাপার মাম্মা?(আকাশ)
(আমি হেসে হেসে....)
-- আরে কিছু না মামা।(আমি)
-- হুম কিছু তো আছে বল।
-- না মানে আকাশ ইয়ে ওই যে মেয়েটাকে দেখালি তাকে প্রপোজ করবো।
-- তাহলে দেরি করছিস কেন?
-- না মানে দোস্ত খুব ভয় করছে তো।
-- আরে ভাই প্যায়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া।(আকাশ)
-- তাও ঠিক, মামা আমি পারবো না মনে হয় তুই আমার সাথে চল না।
-- আচ্ছা যাইতে পারি তবে ট্রিট লাগবো, দিবা।
-- আচ্ছা দিবানে।
-- চল।


(এবার আমি হাতে গোলাপটা নিয়ে আস্তে আস্তে জান্নাতের সামনে যাচ্ছি, দেখি জান্নাত একভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে আর কি যেন ফুসুরফাসুর করে ওর ফ্রেন্ডকে বলছে। আমার হাতটা এবার কাঁপাকাঁপি শুরু করে দিলো আমার কপালে খুব ঘাম দিচ্ছে, অবশেষে গোলাপটা সামনে হাতে রেখেই নিয়ে যাচ্ছি, এবার জান্নাতের কিছুটা কাছে আসতেই আকাশ.....)


-- মামা বাঁশ খাওয়ার জন্য তৈরি থাকো।(আকাশ)
(এটা শোনা মাত্রই আমি হাতে থাকা গোলাপটা পিছনে করে নিলাম।
আমি এবার কপালে ঘাম টিস্যুপেপার দিয়ে মুছে....)

-- দোস্ত কেন ভয় দেখাচ্ছিস।
-- কই না তো।
-- তাহলে ওসব কেন বললি?
-- কই কি বললাম।
-- তাহলে হয়তো আমি শুনতে ভুল করেছি।
-- হবে হয়তো।
.....
(এবার আমি জান্নাতোর সামনে গেলাম পিছনে গোলাপ নিয়ে...  খুব লজ্জা পাচ্ছে জান্নাতের সামনে দাঁড়াতে তাই মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে...)
.
-- আপনি যেই প্রস্তাবটা রেখেছিলেন তাতে আমি মঞ্জুর। (আমি)
-- মানে?(জান্নাত)
-- না মানে কাল যেটা বলেছিলেন?
-- কি বলেছিলাম।
-- ওহ আচ্ছা আপনি লজ্জা পাচ্ছেন।
-- আরে কি বলেছিলাম যে লজ্জা পাবো।
-- আরে আমিও যে বলবো আমারো তো খুব লজ্জা পাচ্ছে হিহিহি😁
-- বেশি না বকে কি বল।
-- না মানে কাল আমায় ১৪৩ বলেছিলেন তাই না।
-- তো কি হয়েছে। ( একটু হেসেহেসে)
-- তো মানে এই নিন।
এবার আমি গোলাপ ফুলটা মিমের সামনে ধরে.....
-- I lv u jannat... আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।(ami)
-- থাবড়ারাইয়া বত্রিশটা দাঁত ফালাই দিমু।(jannat)

-- কেন?
-
(যাহ শালা কি হলো, কথাটা শুনেও কিছুটা কষ্ট হলো....)
-- কেন না আমি তোকে কাল ওসব বলিনি। ১৪৩ এর মানে হলো I ht u( জান্নাত)
-- I lv uও তো হয়য়।(আমি)
-- সেটা তোর কাছে হতে পারে কিন্তু আমার কাছে না।
এতোসব শোনার পর আমার চোখে কিছুটা পানী চলে এলো।
-- জান্নাত তোমাকে আমি সত্যি করে বলছি আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।
-- ভুলে যাসনা তুই আমার থেকে জুনিয়র।
-- হুম জানি জুনিয়র, আর এটাও জানি যে তুমি আমাকে ভালোবাসো তাই এখানে এসেছো।
--  এটা কি তোর একার কলেজ নাকি যে তুই শুধু আসবি।(কঠরভাবে বললো)
-- তারমানে তুমিও এই কলেজেই পড়ো। তাহলে তো আরো ভালো হয়, এক কলেজে দুইজনে প্রেম করতে পারবো।(আমি)

-- ওই ফাজিল পোলা চুপ।
-- জ্বি ফাজিল হতে পারি কিন্তু এই (পোলাডা খুব ভালো, দেখে নিও তোমার খুব কেয়ার করবে। প্লিজ আমাকে একটু ভালোবাসতে দাও।)
-- দেখ বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে।
আমি এবার ওর হাতটা ধরতেই...
আমার গালে একটা কষে ঠাসসসস করে থাপ্পড় মেরে....(জান্নাত)
-- তোর সাহস কি করে হয় যে তুই। আমার হাত ধরছিস?

(আমি এবার গালে হাত দিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলাম, জ্বি আমি খারাপ কাজইই করেছি কারোর পারমিশন না নিয়ে কারোর হাতে হাত রেখেছি।)

-- সরি
-- সরি। এরপর থেকে আমার চোখের সামনে আসবি না। ছি ছি একটা লম্পট চরিত্রহীন পোলা, যে সারাদিন রাস্তার মাইয়াদের লগে টাংকি মারে সে আবার আমার সাথে রিলেশনশিপ এ আসবে। যা ভাগ।(জান্নাত)

(এটা বলে জান্নাত চলে গেল আমার সামনে থেকে চলে গেলো, সঙ্গে সঙ্গে আমি হাটমুড়ে বসে পড়লাম, বসতেই আমার মাথা ঘুরতে লাগলো খুব কষ্ট হচ্ছে, আমার বুকটা হু হু করে কেঁদে উঠছে  আমার চোখ দিয়ে পানী টপটপ করে পড়তে থাকলো। এবার আমার কাছে আকাশ এসে আমাকে তুলে বুকে জড়িয়ে নিয়ে....)
-- ভাই এটা সম্ভব না, দেখ ও তোর থেকে সিনিয়র। কোনোভাবেই রিলেশন হবে না। (আকাশ)
(আমি এবার কেঁদেকেঁদে...)
..
-- আকাশ আমি ওকে খুব ভালোবেসে ফেলেছিরে এই একদিনের দেখাতে।
-- দেখ ভাই ওটা ভালোবাসা ছিলো না ওটা এক তরফা ভালো লাগা ছিলো।
-- আকাশ আমি ওকে ছাড়া থাকতে পারবো না।
-- ছাড়।

(এবার আমাকে সাগর আর রিয়ার  কাছে নিয়ে এলো, আমার এমন অবস্থা দেখে সাগর আর রিয়া হো হো করে হাসতে লাগলো। আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে আর এদের আনন্দ হচ্ছে, আজ বুঝলাম কিছু কিছু কুত্তা ফ্রেন্ড আছে তারা দুঃখের সময়েতেই হাসাহাসি করে মনে হয় এই কুত্তাগুলো এজন্যই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড, আমি ওদের এমন কান্ড দেখে রেখে আমি সোজা বাসায় চলে এলাম।)
......
(বাসায় এসে সোজা বিছানায় শুয়ে পড়লাম, বালিশে মুখ গুঁজে। চোখ দিয়ে পানী অনবরত ভিজে যাচ্ছে। আমি প্রতিজ্ঞা করলাম এবার যে, জান্নাতের সামনে আমি আর কোনোদিন যাবো না প্রমিস। কারন আমার ভালোবাসার মানুষটা যদি এতে খুশি থাকে তাহলে আমিও থাকবো।)
.....
(এভাবে কিছুক্ষন শুয়ে থাকার পর আমার প্যান্টের পকেটে থাকা মোবাইলটা যেন এক মুহূর্তের জন্য কেঁপে উঠলো তাই আমি মোবাইলটা বের করলাম আর স্ক্রিন অন করতেই দেখি একটা আননোন নাম্বার থেকে ম্যাসেজে লিখেছে.....)
-- এই ফাজিল পোলা রাগ করেছিস, খুব কষ্ট পাচ্ছিস তাই না।

(কার নাম্বার আমি বুঝে উঠতে পারছিনা তাই আমি কল দিলাম দেখি কল রিসিভ করছে না আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম যে এটা কার নাম্বার।
আবার একটু পর....)

-- এই কুত্তা 😡😡😡😡😡 রিপ্লাই দে বলছি।
আমি এবার....
-- আপনি কে যে আপনাকে রিপ্লাই দিতে হবে চিনিনা জানিনা।
-- যা বলছি তার জবাব দে।
-- আমি কারোর গোলাম না যে আপনি যা বলবেন তার সব জবাব দেবো।
-- দেখ খুব খারাপ হয়ে যাবে।
-- হোক, অসুবিধা নেই।
-- এই ১৪৩।
(ভাই আবার এটা? আমি তো বুঝে উঠতে পারছিনা আমার সাথে কেন এরকম হচ্ছে😡😡😭😭😭😭)
#waiting _for_next
নতুন আইডি তাই গল্প প্রেমিক প্রেমিকারা অ্যাড দিতে পারেন।
আগামী পর্ব আসার আগে পর্যন্ত আলহামদুলিল্লাহ সবাই ভালো থাকবেন.......
Share:

ব্ল্যাক ডায়মন্ড black daimond bangla golpo

ব্ল্যাক ডায়মন্ড 

"জান্নাতুল
তুই এটা কি রঙয়ের শাড়ি পরেছিস ? তুই এমনিতেও কালো এই নীল রঙের শাড়িতে তোকে আরও কালো দেখাচ্ছে । বাসা থেকে বের হবার আগে আয়না দেখিসনি?

- তুই না কাল বলেছিলি নীল রং তোর প্রিয়?

- হুম বলেছিলাম তো ,কিন্তু আমি কি তোকে নীল রঙের শাড়ি পরতে বলেছি?

আমি অন্য দিকে ফিরে গেলাম আমার চোখের কোনে জল জমেছে এই জল আমি আবিরকে দেখাতে চাইনা ।

- যা তুই বাসায় চলে যা ,ভেবেছিলাম তোকে আজ হাতিরঝিল দেখাতে নিয়ে যাবো ,কিন্তু তুই এমন সাজ দিয়ে এসেছিস

- আমি কান্নাটা গিলে ওর দিকে তাকিয়ে বললাম যাবো না তোর সাথে হাতিরঝিলে, তোর সাথে যেতে আমার বয়েই গেছে । বলেই আমি উঠে বাসায় চলে এলাম । বাসায় ঢুকেই মাকে বললাম এই শাড়িটা আমেনা খালাকে দিয়ে দিয়ো । মা আমার দিকে আশ্চায হয়ে তাকিয়ে বললেন - কালকেই না তুই শাড়িটা কিনলি? আমি তো তোকে বারবার ঐ গোলাপি শাড়িটা দেখালাম তুই বললি না এইটাই তোর পছন্দ । একদিনেই পছন্দ শেষ?

- উফ মা এতো কথা কেন বলছ? এমনেতেই আমার মাথা ধরেছে যাও তো আমাকে ঘুমাতে দেও।

- এখন ঘুমাবি কিরে! ভাত খেয়ে ঘুমা আর শুন মা তুই রাগ করিসনা আজ বিকেলে আমাদের বাসার সামনের কফিশপে তোকে একটু যেতে হবে ।

- মা তুমি আবার আমার জন্য ছেলে ঠিক করেছো? এই পর্যন্ত ৪ জন গেলো, কেউ আমাকে পছন্দ করেছে? এই জীবনে আমার বিয়ে হবেনা মা । আমার মত কালো মেয়েকে কেউ বিয়ে করবে না ।

- তুই এতো কালো কই মা , একটু শ্যামলা এই যা আর তুই এবার নিষেধ করেছিস বাসায় কাউকে আনতে না তাই কফিশপে আসতে বলেছি । এইবার যা মা,ছেলেটা খুব ভাল ,এইবার না হলে তোকে আর বলবনা ।

- মা আমি তোমার মেয়ে বলে তোমার এমন মনে হয় । অন্যদের এমন মনে হয় না । আর শুন এই কিন্তু শেষ।

বিকালে মায়ের পছন্দ করা শাড়ি পরে নিচে নেমে গেট দিয়ে বের হবার সময়ই দেখি আবির আমাদের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে!

- কিরে ব্ল্যাক ডায়মন্ড কার সাথে হাতিরঝিলে যাবার জন্য এতো সেজেগুজে বের হয়েছিস?

- শুন আবির সবসময় আমাকে ব্ল্যাক ডায়মন্ড বলে ডাকবি না । আর তুই আমার বাসার সামনে কি করিস?

- আমি এইখানে কি করি সেটা বড় কথা না, বড় কথা হল তুই কি আজ আবার দেখা-দেখির কাজে যাচ্ছিস নাকি?

- আমি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি পাঁচটা বেজে গেছে, পাঁচটায় ছেলেটির আসার কথা, মনে হয় চলে এসেছে । এই ফাজিলের সাথে কথা বলে সময় নষ্ট করার কোন মানে হয় না । আমি কোন কথা না বলে হাঁটতে শুরু করলাম আবিরটা এতো ফাজিল আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলল এই দাঁড়া দাঁড়া , কই যাস বলে যা

- ঐ সামনের কফিশপটাতে, মা বলেছে একটি ভাল ছেলের সাথে দেখা করতে , তোর মত ফাজিল না ছেলেটি ।

- বাব্বাহ এখন থেকেই এতো সুনাম! এই দেখ দেখ ঐযে লম্বা ফর্সা মত ছেলেটি নয়ত?

আমি সামনে তাকিয়ে দেখি কফিশপটার সামনে সবুজ গেঞ্জি পরা সুন্দর একটি ছেলে বার বার ঘড়ি দেখছে । বুঝতে পারলাম এটাই মায়ের ভাল ছেলে কারন মা বলে দিয়েছে ছেলেটি সবুজ রং পরে আসবে । আমি বললাম মনে হয় উনি । এই কথা শুনেই আবির এতো জোরে হো হো করে হেসে উঠল যে রাস্তার মানুষ ওর দিকে তাকিয়ে থাকল । ওর হাসি আর থামেইনা, আমি খুব বিব্রত হয়ে পড়লাম । বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম কি হল এতো হাসির কি দেখলি যে তোর হাসি আর থামেই না?

- এই শুন এই ছেলের সাথে তোকে একদম মানাবে নারে একদম না , ছেলের গায়ের রং দেখছিস কেমন ফর্সা ! বলেই আবার হাসতে লাগলো । আমি এইবার সত্যি সত্যি কেঁদে ফেললাম, অপমানে আমার সারা শরীর কাঁপতে লাগলো আবির আমাকে সব সময় এমন করে বলে কিন্তু এতটা খারাপ আমার আগে কখনো লাগেনি । আমি আমার শরীরের সব শক্তি দিয়ে আবিরকে কষে চড় লাগালাম । তারপর কাঁদতে কাঁদতে কফিশপের দিকে না গিয়ে বাসায় চলে আসলাম । বাসায় এসে দরজা বন্ধ করে আমি হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলাম । হ্যাঁ আমি কালো তাই বলে কি আমি মানুষ না? আমি কি নিজে আমার শরীরের রং দিয়েছি? আমাদের ক্লাসে আমি সবচেয়ে কালো মেয়ে,আবির ফর্সা দেখতে হ্যান্ডসাম । কিন্তু কোন এক অজানা কারনে ক্লাসের প্রথম দিন থেকে আবির আর আমার মাঝে খুব বন্ধুত্ব হয়ে গেছে । অন্য মেয়েরা আবিরের সাথে মিশতে চাইলেও ও তেমন একটা পাত্তা দিতো না । একদিন ওকে জিজ্ঞাসা করলাম আবির আমিতো কালো তুই এতো সুন্দর সুন্দর মেয়ে রেখে আমার সাথে ঘুরিস কেন? ও বলল এইটা কেমন কথা বললি বন্ধুত্ব হল মিলের ব্যাপার তোর সাথে আমার মিল হয়েছে তাই বন্ধুত্ব হয়েছে । সাদা আর কালো দেখে কি বন্ধু হয় ? আর তুই সব সময় শাড়ি পরে থাকিস আমার কাছে ভাললাগে । গত তিন বছর থেকে আমি আর আবির বন্ধু, আমার সব কিছুতে ও আমার পাশে আর ওর সব কিছুতে আমি ওর পাশে । ও সব সময় আমাকে ব্ল্যাক ডায়মন্ড বলে ডাকে আমার কাছে এই ডাকটা খুব পছন্দ। কিন্তু যে দিন থেকে আমার বিয়ের কথা হচ্ছে সেইদিন থেকে আমি বুঝতে পারলাম আমি আবিরকে ভালবেসে ফেলেছি । এই সেই ভালবাসা না একেবারে উথাল-পাতাল ভালবাসা। সাথে সাথে এইটাও বুঝলাম আবির যদি এই কথা বুঝতে পারে তাহলে আমাদের সব সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাবে। আবির কি আর আমার মত কালো মেয়েকে ভালবাসবে? তাই মায়ের কথা মত বিয়ের জন্য রাজি হয়ে গেলাম কিন্তু আমি রাজি হলে তো হবে না অন্য পক্ষ ওত রাজি হতে হবে ।ভালবাসি বুঝতে পারার পর থেকেই আবির আমাকে কালো বললেই আমার চোখ ফেটে কান্না আসে। আবিরকে চড় মারাটা উচিত হয়নি, ওত সত্যি কথাই বলেছিল ঐ ছেলে আমাকে কখনো পছন্দ করতনা।কিন্তু আবির হাসাতে কেন যে আমার মাথা গরম হয়ে গিয়েছিলো , মা কয়েক বার এসে দরজা ধাক্কা দিয়ে ডেকে গেছে আমি কোন জবাব দেইনি । আমি উঠে ফ্রেস হয়ে ফোনটা হাতে নিলাম আবির কে স্যরি বলার জন্য, ফোন হাতে নেয়ার সাথে সাথে আবিরের কল ! আমি রিসিভ করে চুপ করে রইলাম ওপাশ থেকে আবির বলল কিরে ঘুমাস নি?

-ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি এগারোটা বাজে, বললাম হুম ঘুমিয়েছি

-ঘুমালে তোর রুমের লাইট অন কেন?

- আমার রুমের লাইট অন তুই কিভাবে জানিস? কোথায় তুই?

- আমি তোর বাসার সামনে তাড়াতাড়ি নীচে আয় তোর সাথে মানাবে এমন একটা ছেলেকে ধরে নিয়ে এসেছি তুই যদি এখন বলিস আসবি না তাহলে কিন্তু আমি ছেলেটিকে নিয়ে তোর বাসায় চলে আসবো

- দাঁড়া তুই আমি আসছি বলেই আমি এক দৌড়ে বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় আসতেই দেখি আবির দাঁড়িয়ে আছে ।

আমি নামতেই ও হাঁটতে লাগলো আমি বললাম কই যাস?

- আয় আমার সাথে তোর জন্য যে ছেলেকে নিয়ে এসেছি ওকে ঐ কফিশপের সামনে রেখে এসেছি

-লাগবেনা আমার কোন ছেলে তুই শুন আবির তোর সাথে আমার কথা আছে

- সব কথা পরে হবে আগে তুই দেখ ছেলেটিকে তোর পছন্দ হয় কিনা । কপিশফের সামনে এসে দেখি বন্ধ। আমি বললাম এখানেতো কেউ নেই! আবির আমার পাশে দাঁড়িয়ে বন্ধ কাঁচের দরজার দিকে তাকিয়ে বলল কেন এই আয়নায় তোর পাশে যাকে দেখা যায় তাকে তোর সাথে মানায় না?

আমি আবিরের কথা শুনে কেঁপে উঠলাম তাহলে কি আবিরও আমাকে ভালবাসে? আমার দু চোখ দিয়ে নোনা জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো আমি অভিমানে মুখ ভার করে বলি কেন আমি তো ব্ল্যাক ডায়মন্ড, নীল শাড়িতে আমাকে আরও কালো লাগে ,ফর্সা ছেলের সাথে কি আমাকে মানায়? তুই তো ফর্সা বলেই আমি মুখ ডেকে কাঁদতে লাগলাম ।

আবির আমাকে বুকে টেনে নিয়ে বলে তুই তো আমার ব্ল্যাক ডায়মন্ডই , পৃথিবীর সবচেয়ে দামি হিরা । তুই আমাকে সব সময় বলতি ছেলেরা ফর্সা হলে মেয়ে মেয়ে লাগে , একটু শ্যামলা ছেলে তোর পছন্দ । তাইত তিনটি বছর আমি আমার ভালবাসার কথা তোকে বলতে পারিনি । যতো বার বলতে গেছি মনে হয়েছে তুই যদি আমাকে ফিরিয়ে দিস? তুই জানিস তোর ঐ দুই চোখে কতো মায়া । এই জন্যই তোর বাবা-মা তোর নাম রেখেছে মায়া । তুই জানিস এই তিন বছরে আমি কতো হাজারবার তোর প্রেমে পড়েছি, আমি তোর হাসির প্রেমে পড়েছি আমি তোর মায়া ভরা দুই চোখের প্রেমে পড়েছি তুই যাই করতি আমি প্রতিবার নতুন করে তোর প্রেমে পড়েছি, এইযে তুই শাড়ি পরিস আমি তোর শাড়ির প্রেমেও পড়েছি মায়া । আজ সকালে তুই যখন নীল শাড়িটা পরে এসেছিলি তোকে ঠিক পরীদের মত লাগছিল , আমার ইচ্ছে করছিল তোকে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরি। আমি ভয় পেয়ে গেলাম যদি আমি উল্টা পাল্টা কিছু করে ফেলি তাই তোকে অমন করে বলেছি যাতে তুই চলে আসিস। কিন্তু তুই যখন যেতে যেতে চোখের পানি মুছলি সেই সময় আমি বুঝতে পারলাম তুইও আমাকে ভালবাসিস । ঠিক করলাম আজ তোকে সব বলে দিবো এসে দেখি আমার ব্ল্যাক ডায়মণ্ড অন্য কারো সাথে দেখা করতে যাচ্ছে , আর কি মেজাজ ঠিক থাকে বল?তাই অমন করে তোকে বললাম যাতে তুই ঐ ছেলেটির সাথে দেখা করতে না যাস।

আমি চোখের পানি মুছতে মুছতে বললাম এমন করে সারা জীবন আমাকে বুকের মাঝে ধরে রাখবি তো?

আবির আমাকে আরও জোরে বুকের সাথে চেপে ধরে বলল ব্ল্যাক ডায়মন্ড কি সবাই পায় ? যে পায় সেকি হারাতে চায়?

# ব্ল্যাক ডায়মন্ড #

"জান্নাতুল
Share:

story:- #সিনিয়র আপু।

(নতুন একটা গল্প দিচ্ছি আসাকরি ভালো লাগবে)
#story:- #সিনিয়র আপু।
part:- 01
writee: লাল সীমানা লাল
*
*
প্রথমেই আমার পরিচয় দিয়ে দেই, আমি মনির অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র, লেখাপড়ায় খুব ভালো না হলেও ততোটা খারপো না তবে একদিক দিয়ে আমি ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট। আমার চেয়ে বেশি শয়তানি আর কেউ করতে পারবে না। বাপ মায়ের ছোট সন্তানতো তাই আদরটাও বেশি পাই আর বাদরও হয়েছি সেই হিসেবেই। আরে এটা কি করছি আমার খারাপ দিক আমি নিজেই বলছি, আপনারা আবার বিশ্বাস কইরেন না আমি ঢপ মারলাম। এখন গল্পে আসি।
'
অনেক উত্তেজনার একটা দিন আজ আমার কাছে কারন আজ আমার ভার্সিটি লাইফের প্রথম দিন, সেই ছোটবেলা থেকেই অনেক স্বপ্ন আমার ভার্সিটিতে জামু একটা প্রেম করমু, গার্ল ফ্রেন্ডরে নিয়ে পার্কে হাত ধরে জামু, আহা,এসব কথা ভাবতেই কেমন যেনো খুশি খুশি লাগতেছে। আমার ভাবনায় শুধু ভার্সিটির সুন্দর সুন্দর ময়দা সুন্দরিরা। আমি এসব ভাবছি এমন সময় মা আমার রুমে আসলো,
'
=> এই শয়তান তুই কি করছিস এখানে?
=> কিছু নাতো আম্মু, এমনি শুয়ে আছি।
=> এতো খুশি খুশি লাগতেছে কেনো তোকে?
=> কোই আম্মু নাতো।
=> জানিতো, যেকোনো শয়তানি বুদ্ধি এখন তোর মাথায় ঘুরতেছে।
=> আম্মু তুমি এটা বলতে পারলা?? আমি তোমার অনেক ভালো ভদ্র ছেলে না?=> হ্যা জানিতো তুই আমার সেই ভদ্র ছেলে। তোর জন্যইতো প্রায় প্রায় মানুষের কথা শুনতে হয় আমাদের।
=> আমিতো কিছু করিনা ওরা ভুল ভেবে আমার নামে নালিশ করে।
=> তোকে আর বলতে হবেনা আমি সেটা ভালো করেই জানি। আর শোন,
=> জ্বি আম্মু বলো।
=> আজ প্রথম ভার্সিটিতে যাচ্ছিস, কোনো রকমের শয়তানি করবি না, সিনিয়রদের সম্মান দিবি।
=> তোমায় বলতে হবে না আম্মু,আমি অনেক ভদ্র হয়ে থাকবো।
=> একই কথা তুই কলেজ লাইফেও বলেছিস আর ,,,,,,,,,,,,,
=> আম্মু তোমার ছেলে কে তুমি এভাবে বলতে পারলা?
=> এই তুই কি আমাদের মান সম্মানের কথা একটু ভাবিস না?
=> কেনো ভাববো না আম্মু অবশ্যই ভাবি।
=> তাহলে এরকম শয়তানি কাজ করিস কেনো।
=> আচ্ছা ঠিক আছে এই বললাম আজ থেকে আর কোনো দুষ্টুমি করবো না, ভদ্র হয়ে থাকবো, এবার ঠিক আছে।
=> যদিও মুখে বলতেছি ঠিক আছে কিন্তু মন থেকে সায় দিচ্ছে না।
=> আম্মু তুমি এভাবে বলতে পারলা,
=> হয়েছে এখন বেশি কথা না বলে খেতে আয় খেয়ে ক্লাশে যা।
=> আচ্ছা তুমি যাও আমি আসতেছি।
'
আম্মু চলে গেলো। আমি বুঝতে পারি না সবাই আমার নামে বাসায় বিচার দেয় কেনো। আচ্ছা ভাই আপনারাই বলেন আমি না হয় কলেজ প্রিন্সিপালের মেয়েকে একটা লাভ লেটার আর একটু হাতটা
ধরছি এটা কি কোনো দোষ হলো? পাশের বাসার রহমত আংকেলের গাছ থেকে না হয় দুইটা গোলাপ নিয়ে গিয়ে ওনার মেয়ে রুমাকে প্রেমের প্রস্তাব করেছিলাম, এটা কি কোনো দোষের কথা আপনারাই বলুন। আমার মতো একটা ডিছেন্ট ছেলের নামে ওরা এই অপবাদ গুলা কিভাবে লাগায়, আসলে আমায় সবাই জেলাস করে এই জন্যই এরকম ছোট কাহিনি নিয়ে ওরা আমার বাসায় বিচার নিয়ে আসে। না আর এভাবে থাকা যাবে না চলেন প্রথম ভার্সিটি আজ একটু তারা তারি যাই। আমি গিয়ে রেডি হয়ে খেয়ে রহনা দিলাম ভার্সিটির উদ্দেশ্যে। আজ প্রথম দিন তাই একটু ভদ্র হয়েই গেলাম। আমার চেয়ে ভালো আর ভদ্র ছেলে এই ভার্সিটিতে একটাও নেই এমন ভাব নিলাম। ভার্সিটির সামনে গিয়ে নিজেকে অনেক গর্বিত মনে হচ্ছে। আমি নিজেই নিজেকে সাব্বাস দিলাম। বিসমিল্লাহ বলে ডান পা টা দিলাম কলেজের ভেতর। আহা কি ভালো লাগছে। সব কিছু পূরন হইছে এখন একটা মাইয়া মানুষ পাইলেই হয় কিন্তু ওটা এখন করা জাবে না এখন এমন ভদ্র হয়েই কয়েকদিন থাকতে হবে। আমি ভেতরে যাচ্ছি এমন সময় একটা মেয়ের ডাক শুনলাম।আমি ডানদিকে তাকিয়ে দেখি একদল মেয়ে নামক ছেলে আমায় ডাকছে। মেয়ে নামক ছলে বলতে মানুষটা মেয়ে কিন্তু আচার ব্যবহার দিয়ে মনে হচ্ছে ছেলে। আমি ভয়ে ভয়ে কাছে গেলাম।
'
=> আসসালামু আলাইকুম আপু।
=> ওয়ালাইকুম সালাম, নাম কি?
=> জ্বি আমি মনির।
=> ফাস্ট ইয়ার?
=> জ্বি আপু।
=> আচ্ছা ঠিক আছে যা, আর শোন আমরা তোর সিনিয়র, সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি, আমাদের দেখলে সম্মান দিবি।
=> জ্বি আপু।( খারা কয়েকদিন যেতে দে তারপর দেখ কে কাকে সালাম দেয়, মনে মনে বললাম)
'
আমি ওখান থেকে চলে আসলাম। তবে মেয়েকে এরকম হলে কি হবে দেখতে কিন্তু একদম ঝাক্কাস হুরপরী। কিন্তু বড় আপু হয় তাই নজর দেওয়া যাবে না, না হলে আবার সিবালোভা কেমাতো রোগ ধরবে আমায়। আমি আর বেশি কিছু না ভেবে ভেতরের দিকে গেলাম। সোজা ক্লাশে গিয়ে ঢুকলাম। ওরে মামা কি সুন্দর সুন্দর ফুলটুসি বসে আছে। কোনটারে ছাইরা কোনটারে দেখবো, খুশির ঠেলায় আমারতো একদম করুন অবস্থা। না থাক আজকে আমি একদম ভদ্র ছেলে, এগুলার দিকে তাকানো আজকে আমার জন্য হারাম, তোরা থাক কয়েকটা দিন যাক তারপর তোদের হালাল করবো। কিন্তু ভার্সিটিতে আমি একা, তাই আগে ফ্রেন্ড বানাতে হবে। দেখতে পেলাম মাঝে বেঞ্চে একটা ছেলে একাই বসে আছে। যদিও এখনো ফ্রেন্ডশিপ হয়নি তবে মুখ দেখে বুঝতে পারলাম এই শালা আমার মতোই হারামি আছে, কিভাবে যেনো মেয়েদের দিকে তাকাচ্ছে। কিছু না বলে সোজা ওর পাশে বসলাম।
'
=> হাই, আমি মনির।
=> ও হাই আমি মিনহাজ।
=> তো কেমন আছো?
=> ওই আমি কি তোর গার্লফ্রেন্ড হই নাকি তোর........ যে আমায় তুমি করে বলতেছিস, আমরা ফ্রেন্ড সো ডিরেক্ট তুই।
=> বাহ! তোর সাথেই আমার জমবে।
=> ফ্রেন্ড?
=> ফ্রেন্ড মানে? বেস্ট ফ্রেন্ড? তুই আর আমি এক সুতোয় গেথে গেলাম।
'
এমন কথাতে ও আমার দিকে একটু তাকালো, ও মনে হয় বুঝতে পারছে যে ওর থেকে আমিও শয়তানিতে কম যাই না। হয়ে গেলাম বেস্ট ফ্রেন্ড। পরে আরো কয়েকজনের সাথে পরিচয় হলো। যাইহোক ভালোই একটা ফ্রেন্ড সার্কেল হলো।
'
=> এই মনির দেখ সামনের মেয়েটা কি সুন্দর।
=> আজকের দিনে এসব আমার জন্য হারাম, তাই দেখতে ইচ্ছা করলেও দেখতে পারবো না।
=> কেনো?
=> আম্মু বলেছে প্রথম দিন কলেজে যাচ্ছিস তাই একটু ভদ্র হতে তাই আজকে আমি ভদ্র ছেলে।
=> এহ! আসছে কি ভদ্র রে, শয়তানের বাপ তুই।
=> এই এটা তুই কিভাবে বুঝলি।
=> বন্দু রতনে রতন চেনে শুয়রে চেনে কচু, তাই শয়তানে শয়তানরে চেনে।
=> এই এটা কিন্তু তুই একদম ঠিক বলছিস।
=> বাদ দে মেয়ে দেখ আর স্যার আসছে ক্লাশ কর।
'
প্রথম দিনের ক্লাশতো তাই সেইভাবেই হলো। ক্লাশ শেষ করে আমি আর মিনহাজ বাইরে আসলাম।
'
=> এই মিনহাজ আজ আর ক্যাম্পাসে দেরি করবোনা, আজ তারাতারি বাসায় চলে যাবো।
=> কেনো রে প্রথম ভার্সিটি একটু মজা করবি না?
=> না, আজকে আমি ভদ্র পোলা।
=> আচ্ছা ঠিক আছে যা।
=> আচ্ছা বাই, কালকে দেখা হবে।
=> আচ্ছা ঠিক আছে।
'
আমি ওকে বিদায় দিয়ে বাসায় চলে আসলাম। বাসায় কলিং বাজাতেই আম্মু দরজা খুলে দিলো।
'
=> আরে আমার লক্ষি ছেলে চলে আসছে, আসো বাবা আসো।
=> হ্যা আম্মু আসছি,
=> তা আজকে কোনো বিচার আসবে না বাসায়?
=> কেনো আম্মু?
=> না তুই যেখানেই যাস সেখান থেকেই নতুন কিছু ঘটনা উৎঘাটন করিস আর আমাদের সেটা পরখ করতে হয় তাই জিজ্ঞাসা করলাম।
=> আম্মু আমি তোমার ভদ্র ছেলে না? তুমি আমার আম্মু হয়ে এভাবে বলছো?
=> ন্যাকামো বাদ দিয়ে যা ফ্রেশ হয়ে আয়।
'
না আজকাল আর একটু কান্না করেও আমার মাকে ব্লাকমেইল করতে পারি না। এখন নতুন কিছু ভাবতে হবে। আমি গিয়ে ফ্রেস হয়ে খেয়ে রুমে গেলাম। রুমে শুয়ে শুয়ে শুধু ফুল্টুসিদের কথাই ভাবছি। না কাল থেকেই আমার মিশন শুরু করতে হবে। একটু বাইরে গিয়ে ঘুরে সন্ধায় বাসায় আসলাম। বাসায় এসে খেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম। পরেরদিন সকালে এসে আম্মুর ডাক,
'
=> এই মনির তোর ক্লাশ কয়টায়?
=> দশটায়।
=> তো ক্লাশে যাবি কখন ১১ টায়? সারে নয়টা বাজে।=> কি বলো আম্মু আগে বলবানা।
'
আমি লাফ দিয়ে বিছানা থেকে উঠে তারাতারি ফ্রেস হয়ে ভার্সিটির দিকে দিলাম দৌড়। ভার্সীটির গেটে গিয়ে ভেতরে ঢুকবো এমন সময় হিট্টিস,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
*
*
*
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,
কেমন হচ্ছে জানাবেন। ভালো লাগলে সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ
Share:

গল্পঃ (কি করে বেঁচে থাকি) Ki kore bace Thaki

গল্পঃ (কি করে বেঁচে থাকি)
লেখকঃ #Asad_AF


আজ দিয়ে ৬ মাস হয়ে গেছে। পাগলীটার সঙ্গে কথা বলি নাই। কাজের অনেক চাপ ছিলো। আজকে বাসায় যাচ্ছি পাগলীটাকে সারপ্রাইজ দিবো বলে। পাগলীটার পচ্ছন্দের চকলেট কিনেছি আর অনেক গুলো চুরি কিনেছি। আরো অনেক কিছু আম্মু আব্বু বাসার সকলের জন্য অনেক কিছু কিনেছি। আজকে বাসার সবাইকে সারপ্রাইজ দিবো।
ভাবতেই কেমন যেন অন্যরকম একটা অনুভূতি হচ্ছে। পাগলীটা কত্তটা খুশি হবে তাই না? আমার পাগলটা অনেক রাগ করে বসে আছে মনে হয়! থাকবে না কেন। আমি কত্তোটা খারাপ একবার অন্তত কলও করি নাই। না খেয়ে খেয়ে শরীল খারাপ করেছে হয়তো।
বাসায় যাচ্ছি পাগলীটার কাছ থেকে সরি চেয়ে নিবো। আরে হ্যাঁ আমার পাগলী বউটার নাম রাইসা। মেয়েটা অনেক অভিমানী। একদিন না কথা বললে অনেক রাগ করে। আর আমি কিনা ৬ মাস কথা বলিনাই। অনেক রাগ করেছে হয়তো। তবে হ্যাঁ পাগলীটা আমাকে দেখলে অনেক খুশি হয়ে যাবে।
বাসায় এসে দেখি সবাই খুশি হয়ে আমার কাছে আসলো।
কিন্তু একটা জিনিস খিয়াল করলাম সবাই যেন না চাইতেও হাসার চেষ্টা করছে। সবাই বলছে কেমন আছিস। আম্মু বললো হাত মুখ ধুয়ে নে। খাবার বেরে দিচ্ছি।
আমি আম্মুকে বললাম আম্মু আম্মু রাইসা কোথায়। আম্মু কিছু না বলে বললো। রুমে যা। আমি খাবার নিয়ে যাচ্ছি।
আমি রুমে গিয়ে রাইসাকে অনেক খুজলাম পাইলাম না। আম্মু খাবার নিয়ে আসলো। রুমে।
-আম্মু রাইসাকে কোথাও দেখছি না যে। পাগলীটা কোথায় আম্মু।
-আগে খাবারটা খেয়ে নে বাবা। তারপর বলছি।
-আচ্ছা আম্মু খেয়ে দেও।
-ওকে হা কর।

আম্মু আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে। কিন্তু আম্মুর চখে জল দেখতে পেলাম। আমি জিগ্যেস করলে বললো এমনি।

-আম্মু রাইসা কোথায় বলো না।
-রাইসা নেই।
-মানে কি আম্মু। রাইসা কি শশুর বাড়ি গিয়েছে? অনেক রাগ করে আছে না।
-না রে বাবা রাইসা এই পৃথিবীতে আর নেই।
-মানে

খাবারের বাটি নিচে পরে গেলো। আমার।
-তুমি মজা করছো না আম্মু।
-যা ভাবছিস তাই।
-যানি তো। আম্মু বলো না রাইসা কোথায়।
আম্মু বললো কবরস্থানে যা।
-রাইসা কি করছে ওখানে আম্মু?
-দেখে আয় (,বলে আম্মু রুম থেকে বের হয়ে গেলো।
আমি অনেক চিন্ততত হয়ে গেলাম। এই পাগলীটা পারেও বটে। এতো রাগ কিসের। যাই দেখে আসি কবরস্থানে কি করছে।
আমার ভাইয়া কবর স্থানে নিয়ে এসে বললো। দেখ (বলে কান্না করতে লাগলো।)
-মানে কি ভাইয়া আমার রাইসা কোথায়?
-নিচে দেখ
-কি কোথায় ওটা তো একটা কবর।
-ওখানেই তোর রাইসা সুয়ে আছে।
-কি বলছো ভাইয়া। কি হয়েছে আমার পাগলীটার।
-তোর পাগলী ক্যানসারে মারা গেছে ভাই।
-কি বলছো এসব ভাইয়া (ভাইয়ার কলার ধরে)

আমি সঙ্গে সঙ্গে কবরটার কাছে গিয়ে কান্না করতে লাগলাম। ওই জানু কি হয়েছে তোমার। তুমি এখানে কেন? ওঠোই না। না হলে অনেক বকবো কিন্তু। দেখোই না তোমার জন্য কত্তগুলো চকলেট নিয়ে এসেছি। এতোটাই অভিমান আমার উপর তোমার।  রাইসা বলে চিতকার দিয়ে কান্না করতে লাগলাম। কবরে মাথা লেগে পরে আছি। ভাইয়া বলছে আর পাগলামি করিস না ভাই বাসায় চল।
-না আমি কোথাও যাবো না। আমার জানুটার কাছে থাকবো। তুমি চলে যাও।(চিতকার দিয়ে বললাম।( ভাইয়া চলে গেলো।)
আমি কান্না করতে করতে সুয়ে থেকে গেলাম ওখানে। ঘুমের মাঝে রাইসাকে দেখতে পাচ্ছি। রাইসা আমাকে বলছে ওই পাগল পাগলামি করো না। আমি তোমার সঙ্গেই তো আছি বলো। এই তো আমি। একদম কান্না করবে না। ভালো ছেলে হলে এখন বাসায় চলে যাও। নয়তো আবার অভিমান করবো কিন্তু। চখ খুলার মাত্র দেখলাম। রাইসা আর নেই। আবার কান্না করতে লাগলাম। বৃষ্টি চলে এসেছে।  বাসায় ভিজতে ভিজতে চলে আসলাম। এখন আমি প্রতেদিন। নামাজ পড়ার সময়। আমার পাগলীটার জন্য দোয়া করি।
আবেদন করি খোদার দরবারে আখিরাতে পাই যেন পাগলীটারে।
জীবনটা ডাইরির শেষ পাতা হয়ে গেছে আমার। এখন শুধু প্রহর গণতে থাকি।
রাতে আকাশের অনেক তাঁরার মাঝে রাইসাকে খুজতে থাকি। একটা ঝলমলে তাঁরা দেখতে পেলে ভেবে নেই এইটা আমার রাইসা। বলে কান্না করতে থাকি।
পাগল হয়ে পরে থাকি এখন। ভালো মতো খাওয়া হয়না। আর প্রতি নামাজে পাগলীটার জন্য দোয়া করি। কলিজাটা পুরে গেছে আমার।। পাগলীটার কাছে কবে যাবো এখন প্রহর গনি। কি করে বেঁচে থাকি পাগলীটাকে ছারা।

সমাপ্ত......

গল্পঃ (কি করে বেঁচে থাকি)
লেখকঃ #Asad_AF
___________________

(October27_2019)
___________________

ভালো লাগলে কমেন্ট করে
যানাবেন কেমন।😓😥
Share:

রাগী বর

❤রাগী বর❤

*************
জীবন কী সেটা এখনো ভালো করে বুঝি না।সবে মাএ এসএসসি পরীক্ষা দিলাম। বাবা - মা,বন্ধুদের কথা দিয়েছি,"জীবনে কখনো প্রেম করবো না"।মানুষের জীবনে কখন যে কি হয় সেটা বলা মুসকিল। জীবন  টা যতই ছোট মনে হয় আসলে এতো ছোট না।জীবনের পরিধি অনেক। যায় হোক মূল কথায় ফিরে আসি।।
পরীক্ষা দেয়ার ১৫ দিন পর আব্বুকে বলে ফোন কিনলাম। ফেইসবুক এ আইডি খুলে, ফেইসবুক ইউস করা শুরু করলাম।বন্ধুদের সাথে দিন-রাত ১করে আড্ডা দেই।এভাবেই কেটে গেল ১মাস।
হঠাৎ করে ১দিন,
           ফেইসবুকের গ্রুপে আমি যুক্ত হলাম।সেখানেই আমার প্রিয় মানুষটি ছিল, আমি জানতাম না।আগে শুনেন পুরোটা,চুপ থাকেন।😎
জুন এর ২৭ তারিখ। আমার জান এর সাথে ১ম কথা শুরু। 😍
গ্রুপ এ ডুকে টুকটাক এসএমএস করলাম।গ্রুপ এ কাউকে আমি চিনি না।বেশ কিছু্ক্ষণ কথা হলো সবার সাথে। আমার জান মেসেজ দিলো,প্রথমেই সে আমাকে নামাজ পরার কথা জিজ্ঞেস করল। আমি বললাম, না পরি নি।
জান:নামাজ পরেন না কেনো??
আমি :এমনি,আলসামিতে পরা হয় না।😑
জান:আলসামি করেন কেনো,মরার পরে আপনার আপন কে হবে, কেউ না।নামাজ ই হবে আপনার আপন।
আমি :এখন থেকে পরার চেষ্টা করবো।
জান:চেষ্টা না,বলেন পরবেন।
আমি :ওকে।
এরপর গ্রুপ আমাদের আর তেমন কথা হয় নি।সে আমাকে রিকু দিছে।আমি ভাবলাম, লোকটা ভালোই, আল্লাহর হুকুম অক্ষরে অক্ষরে পালন করে।
অতঃপর আমি রিকু একসেপ্ট করতে আর দেরি করলাম না।মেসেজ দিলাম আমি তাকে।সালাম দিয়ে আমাদের কথা শুরু হলো। সেই দিন দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত কথা চললো। কথা বলতে বলতে কখন যে ২জন গভীরে চলে গেছি বুঝতেই পারি নি।আমার মনে হলো জান কে ছাড়া আমি কিছু বুঝি না আর বুঝতেও চাই না।জান ই আমার সব।তাকে বললাম, আমাকে তুমি বিয়ে করতে পারবা??সে বললো, হুম।জান বললো, চলো এখনই করি বিয়ে। তার কথা শুনে আমি তো অবাক।মনে মনে খুব খুশি হলাম।নিজের কাছে নিজেকে খুব সুখী মনে হচ্ছিল। মুসলিম নীতি অনুযায়ী, সে আমাকে বিয়ে করল।সে ৩বার কবুল বলল আর আমিও।
এরপর থেকে সে আমাকে বউ বলে ডাকে। তার মুখে বউ ডাক শুনে আমার মনে কেমন জানি ভালো লাগছিল।মনে মনে লজ্জা পাইলাম🙈মনে হলো,আমি বউ হয়ে গেছি, খুশিতে নাচতে ইচ্ছে করছিল।☺আমার রাগী বরটা আগে কোথায় ছিল 🤔ভালোই হয়েছে,তাকে পেয়ে, যখন সে আমার জীবনে ছিল না তখন আমি তাকে অনেক মিস করেছি,ঠিক যেমনটা সবাই করে।
**********
বাকিটুকু কাল লিখবো,
জীবনে ১ম গল্প লিখলাম,তাও আবার আমার নিজের জীবনের গল্প।
Share:

দুই পৃথীবি

----দুই পৃথীবি------
--

--১ম--পর্ব--
--
# একটি মেয়ে দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আছে।পরণে তার লাল টকটকে শাড়ি,হাটু সমান লম্বা কেশ,বড় বড় দুটি চোখ,দুধে আলতা গায়ের রঙ,ঠোটের নিচে বড় একটি তিল আর গলার বেশ নিচেই ছোট আরো একটি তিল।
ছবিটা দেখেই কিছুক্ষণ এর জন্য দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল স্নেহার।এই মেয়েটি আর কেউ নয়,সে নিজে।তার নিজের এই রূপের খুঁটিনাটি বর্ণনা সে নিজে আগে কখনো খেয়াল করে দেখি নি।অথচ যে এই পোট্রেট টা করেছে সে যে অনেক গভীর ভাবে তাকে পর্যবেক্ষণ করেছে সেটা বোঝায় যাচ্ছে।
স্নেহা এই পোট্রেট টা দেখলো ফেসবুকে।নিউজ ফিডে ঘুরতে ঘুরতেই সামনে এসে পড়লো তার।সে নিজের পোট্রেট টা কিছু সময় নিয়ে দেখে খোজ করতে লাগলো এই ছবির আর্টিস্ট এর।যে ছবি টি আপলোড করেছে তাকে ম্যাসেজ দিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলো সে।নাহ!কোন উত্তর নেই।একের পর এক ম্যাসেজ করার পর অবশেষে ম্যাসেজ সিন করলো ছেলেটি।
Akramul Islam-wait wait.etto gulo msg deyar mane ta ki?
Sneha Sarkar-উপরের ম্যাসেজ গুলো পড়ুন।
২ মিনিট পর ম্যাসেজের রিপ্লাই করলো ছেলেটি।
Akramul Islam-যে পোস্ট এ আমি ক্যাপশন দিয়েছি যে 'তোমার ঠোঁটের নিচের তিলের প্রেমে পড়তে চাই' ওটা?
Sneha Sarkar-জ্বি।
Akramul Islam-Oh..I see.bt ami artist k chini na.ami pic ta 1 ta group a paici.
Sneha Sarkar-কোন গ্রুপ?আমার জানাটা খুব জরুরি।
Akramul Islam-keno?ar apnar profile pic dekhe mone hocche ami jar Thoter nicher til er preme porte chai se e apni? 
এই ম্যাসেজ টা দেখে স্নেহার মনে হচ্ছিল ছেলেটার দুই গালে দু টা থাপ্পড় বসিয়ে দিতে।অসভ্য একটা।কিন্তু স্নেহা রাগ টা কন্ট্রোল করে বললো
Sneha Sarkar-ভাইয়া প্লিজ আপনি চাইলে পারবেন আর্টিস্ট খুঁজে বের করতে।আমাকে এই হেল্প টা করুন।
Akramul Islam-seta thik j ami parbo.bt seta korle apni amk ki diben?
Sneha Sarkar-কি লাগবে আপনার বলুন?
Akramul Islam-beshi kicu na.cholun na ek din ek sathe lunch kori.
Sneha Sarkar-সিউর কিন্তু আগে আর্টিস্ট।
Akramul Islam-kal sokale janabo
স্নেহা ম্যাসেজ টা সিন করে বের হয়ে এল ফেসবুক থেকে।
রাত ১ টা।চোখে ঘুম নেই স্নেহার।বার বার শুধু ছবিটার কথা মনে হচ্ছে।কে এঁকেছে তার ছবি?এতো টা নিখুঁত ভাবে তাকে লক্ষ ও করেছে?তার সাথে দেখা না হওয়া পর্যন্ত স্নেহার ঘুম আসবে না।সে ঘড়ি দেখে রুম থেকে বের হয়ে এল বারান্দায়।তাদের বাসা টা দোতালা।পুরানো বাড়ি।স্নেহারা থাকে দোতালায়।আর নিচ তলা টা ভাড়া দেওয়া।সেখানে জামিল সাহেব নামের একজন তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে থাকে।আর উপরে থাকে সে তার বাবার সাথে।স্নেহার মা নেই।মা ছাড়াই বড় হয়েছে সে।মা নেই সেই কথা টা ও সত্যি না।মা আছে।কিন্তু তাদের সাথে থাকে না।স্নেহার যখন ৩ বছর বয়স ওই সময়েই তার মা তার বাবা কে ছেড়ে অন্য এক লোকের হাত ধরে বেড়িয়ে যায় এ বাড়ি থেকে।আর আজ তার ১৯ বছর বয়স।লালমাটিয়ায় অনার্স প্রথম বর্ষতে ভর্তি হলো সে এ বছর।তার বাবা তাকে একাই বড় করেছে।বিয়েটাও করে নি স্নেহার দিকে তাকিয়ে।সৎ মা কে জানে কেমন হবে!
সকালে আনিস সাহেবের ডাকে ঘুম ভাঙল স্নেহার।তার বাবা আনিস সরকার।ছোট্র ব্যবসায়ী।কিসের ব্যবসা সেটা স্নেহার জানা নেই।কখনো আগ্রহ করে জানতে চায় ও নি স্নেহা তার বাবার কাছে।
স্নেহা উঠে রান্না ঘরে গেল চা করতে।সকালে উঠেই বাপ বেটি মিলে বারান্দায় বসে চা খাওয়া আর আড্ডা দেওয়া অভ্যাস হয়ে দাড়িছে ওদের।চা নিয়ে স্নেহা বারান্দায় আসতেই আনিস সাহেব বললেন
-দেশের কি অবস্থা মা দেখেছিস?
-নাহ।ওগুলো আমার ভালো লাগে না এটা তুমি জানো।
-হুম।আচ্ছা তারপর বল কি খবর?
-বাবা দেখ এই ছবি টা।
স্নেহা ফোন বের করে তার বাবা কে তার নিজের পোট্রেট টা দেখালো।তার বাবা ও তার মতো কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে রইলো।তারপর বললো
-ও মাই গড।এটা আমার মেয়ে!
স্নেহা হালকা হেসে বললো
-বাবা,আমি আর্টিস্ট টাকে খুজছি।আমার এই লোক কে দরকার।অন্য অার্টিস্ট দের দেখেছি আকার পর ছবির নিচে সিগনেচার করে।বাট এই লোকটি সেটাও করে নি।
-বলদ হবে হয়তো।
-প্লিজ বাবা বলদ বলবে না।
আজ স্নেহা কলেজে যাবে না।একটু আগে সে আর্টিস্ট কে খুঁজে পেয়েছে।আকরামুল নামের ছেলেটি তাকে বের করে দিয়েছে।ভদ্র লোকটির ফেসবুক আইডির নাম 'Afsaan Abir'।স্নেহা বার বার আইডি চেক করেছে।কিন্তু তার নিজের কোনো ছবি আইডিতে দেওয়া নেই।শুধু কোথায় জব করে,কি থেকে পড়াশোনা করেছে,আর তার আকা কিছু ছবি দেওয়া।স্নেহার ছবি টি বর্তমানে তার আইডির কভার ফটো তে দেওয়া।ক্যাপশন দেয়া 'তোমাকে আঁকতে অনেক কাঠ খড় পোড়াতে হয়েছে।'কমেন্ট এ অনেকে বলেছে 'কি রে ভাবি নাকি!!'
স্নেহা রেডি হয়ে বেরিয়েছে জগন্নাথ ইউনিভারসিটির উদ্দেশ্যে।ফেসবুকের ডিটেইলস অনুযায়ী আফসান জগন্নাথের চারুকলা বিভাগে অধ্যাপনা করে।জয়েন করছে নতুন।এর আগের বছর পাস করে এই বছর অধ্যাপনা শুরু করেছে।রিক্সায় উঠার। পর স্নেহা ফোন দিল তার বান্ধবি সাফা কে।ও এই বছর জগন্নাথে ভর্তি হয়েছে।অবশ্য ও চারুকলা তে পড়ে না।কিন্তু আফসান কে খুঁজতে হেল্প করতে পারবে নিশ্চয়।
-তুই শিউর যে আফসান নাম?
-হ্যা।আফসান আবির।
-আমার একটা ফ্রেন্ড চারুকলা তে আছে।দাড়া ওকে কল করি।
স্নেহা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর সাফা বলল
-আরে পাইছি।নতুন জয়েন করছে।ক্লাস দু একটা এটেন্ড করছে।এর জন্য তেমন কেউ চেনে না।অবশেষে পাইলাম।চল।শুনলাম অফিস রুমে আছে।
স্নেহা ও সাফা অফিস রুমে এসে আফসান কে পেল না।সে নাকি চলে গেছে।কিন্তু তারা ঠিকই তার বাসার ঠিকানা জোগাড় করে ফেলল।সাফা কে বিদায় দিয়ে স্নেহা রিক্সা নিল।তার গন্তব্য আফসানের বাসা।সে আজ আফসান কে না দেখে কথা না বলে যাবে না।যে তার এত সুন্দর একটা ছবি এঁকেছে তাকে দেখার ইচ্ছা অসংগত কিছু নয়।
ঠিকানা ১৩/৬ পশ্চিম মালিবাগ।রিক্সা থেকে নেমে ভাড়া দিয়ে স্নেহা এগুলো বাড়ি টার দিকে।৪ তলা বিরাট এক বাড়ি।বাড়ির সামনে যেতেই এক লোক এল।দেখেই বোঝা যাচ্ছে এই বিশাল বাড়ির গেট খোলা বন্ধের দায়িত্বে সে কর্মরত।লোকটা স্নেহার দিকে তাকিয়ে বললো
-কারে চান?
-আফসান আবির সাহেব কি এ বাসাতেই থাকে?
-সে কি পরোফেসর?
-জ্বি,প্রোফেসর।
লোকটি তার সব দাঁত বের করে হেসে বললো
-জ্বে।সে এ বাসায় ভাড়া থাকে।
-সে কি আছে বাসায়?
-জ্বে।সে ৫ মিনিট আগেই আইছে।ভেতরে যান।৩ তলার ২ নম্বর ফ্লাটে সে থাকে।
স্নেহা এক এক করে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছে।তার সাথে বাড়ছে তার হার্টবিট।
২ নম্বর ফ্লাটের যে দরজা খুললো সেই লোকটির বয়স হয়তো ২৮/৩০ হবে।খালি গাঁ য়ে তাকে যে খারাপ লাগছে তা নয়।জিম করে হয়ত।বডি ফডি দেখা যাচ্ছে।লম্বায় ৬ ফিটের উপরে হবে হয়তো।গায়ের রঙ হালকা শ্যাম।মোট কথা যে কেউ তাকে প্রথম দেখাতেই সুদর্শন পুরুষ বলবে।আবার অনেক তরুণী হয়তো প্রেমে ও পড়বে।
আফসান হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।সে তার নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছে না।এই মেয়ে তার বাসায়!এটা কি সত্যি ঘটছে?নাকি স্বপ্ন?
-এটা কি আফসান সাহেবের ফ্লাট?
আফসান এতোটাই অবাক যে সে এখনো নিজেকে ধাতস্থ করতে পারছে না।সে যে খালি গায়ে একটা তরুণীর সামনে দাঁড়িয়ে আছে এটা তার এখনো মাথায় আসে নি।মাত্রয় বাসায় ঢুকে কাপড় ছেড়ে ফ্রেশ হয়ে বেড়িয়েছিল সে।এর মাঝেই বেল বাজতেই দড়জা খুলে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে স্নেহার দিকে সে।
-হ্যালো?এই যে??
আফসান নিজেকে কন্ট্রোল করে বললো
-জ্বি।আমি আফসান।
-ভেতরে আসি?
-আসুন।
-আসুন বলে তো দরজার সামনেই দাঁড়িয়ে আছেন?
-অহ হ্যা আসুন।
স্নেহা বাড়ির ভেতরে ঢুকে বিস্মিত চোখে তাকিয়ে রইলো।পুরো টা দেয়াল আঁকানো।গাছ,লতা পাতা,ফুল,পাখি,আর একটি মেয়ে।নৌকায় বসে পা হাটু পর্যন্ত ঢুবিয়ে রেখেছে।চুল গুলো পানিতে এসে পড়ছে।মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে সে নদীর পানির দিকে।
এই প্রথম এমন একটি বাসা স্নেহা দেখলো যে বাসায় দেয়ালে রঙ এর পরিবর্তে এতো সুন্দর করে গাছপালা আঁকানো।
স্নেহা ড্রইং রুমে বসতেই আফসান ও বসে পড়লো।তারপর তার মনে পড়লো তার গায়ে কিছু নেই।সে কিছুটা অস্বস্তির সাথে বললো
-বসুন।আমি আসছি।
একটা টি শার্ট পড়ে ঝটপট দু কাপ কফি করে আফসান নিয়ে এল ড্রইং রুমে।এতোক্ষন তার মনে চলছিল নানান প্রশ্ন।এই মেয়ে এখানে কেন,কিভাবে!
আফসান কে দেখেই স্নেহা উঠে দাঁড়াল।আফসান বসতে বসতে বললো
-বসুন।না জিজ্ঞাস করেই কফি করে আনলাম।
স্নেহা হালকা হেসে বললো
-সমস্যা নেই।
স্নেহার এই হাসি দেখে যেন আফসান এর জ্ঞান হারাবার উপক্রম হলো।সে নিজেকে সামলে নিয়ে বললো
-হাসবেন না।হাসলে ঠোঁটের নিচের তিল টা খুব বেশি এট্রাক্টিভ লাগে।
বলেই আফিসান জিভে কামড় দিল।ইস!মনের কথা টা সে জোড়ে বলে ফেলেছে!পরোক্ষণেই পরিস্থিতি সামলাবার জন্য বললো
-কিছু মনে করবেন না।ঠাট্রা করলাম।তো কিসের জন্য এলেন?
স্নেহা কি বলবে ভেবে পাচ্ছে নাহ।আফসান কে কাল থেকে দেখার আগ্রহ তার এতোটাই ছিল যে সে আজ বাসায় উপস্থিত।আর দেখার পর আরেক দফা ধাক্কা।সে কি প্রেমে পড়ে গিয়েছে আফসান নামের এই লোকটির?আরে নাহ!তা কিভাবে হয়!এক বার দেখে কি কারো প্রেমে পড়া যায় নাকি!আর এই লোকটা ও তাকে কি চিনতে পারছে নাহ!যার ছবি এঁকেছে তাকে বলছে কি দরকারে এসেছে!স্নেহা বিরক্ত মুখে বলেই ফেললো
-বাব্বাহ!যার ছবি এঁকেছেন তাকে চিনতে পারছেন নাহ?.....
.....
....
......(চলবে)........
...
...
"কেমন লাগলো জানতে ভুলবে না"
Share:

বাবার_প্রতি_ভালোবাসা

#বাবার_প্রতি_ভালোবাসা
#ছোট_গল্প
লেখকঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম রাহী
                                        (নীল চিরকুট)

কী ব্যাপার ফার্নিচার সব কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?
শামীম, এই শামীম!!
-বলুন বাবা, আপনার ছেলে তো নতুন ফ্ল্যাট টা দেখতে গেছে!
-নতুন ফ্ল্যাট ?কী বলছ বৌ মা!!
-জ্বী বাবা।আমরা নতুন ফ্ল্যাট কিনেছি।সব কাজ শেষ হয়েছে।আজ তাই সব কিছু ওখানে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
-ওহ্,আমাকে তো বললেই না!
-আপনার ছেলে বলতে নিষেধ করেছে বাবা।তাছাড়া...
-তাছাড়া কী বৌ মা?
-বাবা, আসলে আপনার ছেলে ঠিক করেছে আপনার পুরনো বন্ধু ঐ যে,আলমগীর চাচা যেখানে আছেন না,আপনাকে ওখানে রেখে আসবে।
আমিও নতুন চাকরী পেয়েছি।আপনি বাসায় একা থাকলে আমাদের চিন্তা হবে।আর ওখানে নাকি আরও অনেক লোক থাকে আপনারই বয়সের কাছাকাছি।
ভালই থাকবেন।
বিস্ফোরিত চোখে একমাত্র ছেলে শামীম এর বউ তাহমিনার দিকে তাকিয়ে আছে সরফুদ্দীন খাঁন।
সদ্য বিয়ে করেছে ছেলে তারই পছন্দ অনুযায়ী।ছেলের পছন্দ আর ভাল থাকার জন্যই বিয়ে নিয়ে তিনি কোনরকম দ্বিমত করেন নি।শেষ সময়ে এসে একটু পরিবারের পাশে থাকতে চান।
রক্তের বন্ধন এর চেয়ে শান্তি আর কোথায় থাকতে পারে?
কিন্তু এ কী শুনছেন তিনি?নিজের কানকে বিশ্বাস হচ্ছে না।
তাঁর চোখে ভেসে উঠল পুরনো স্মৃতি।আজ থেকে ত্রিশ বছর আগে শামীম এর মা যখন তাঁর নিজের মা বাবা কে সেবা যত্ন করতে অস্বীকার করছিল,বার বার ঝগড়াঝাঁটি করছিল,সহ্যের সীমা যখন ছাড়িয়ে যাচ্ছিল তখন দুই বছরের শামীমকে নিজের কাছে রেখে বুকে পাথর চেপে শামীম এর মা রুবি কে বাবার বাড়ী পাঠিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
কিছুদিন পর বাবা মা যখন রুবিকে আনতে গিয়েছিলেন তখন রুবি খুব অপমান করে ওনাদের আর শর্ত দিয়েছিল, রুবি তার স্বামীকে নিয়ে একা থাকতে চায়।
যদি ওনারা গ্রামের বাড়ী চলে যায় তাহলেই রুবি ফেরত আসবে।নয়ত না।
এসব শুনে আর স্থির থাকতে পারেননি সরফুদ্দীন সাহেব।সোজা তালাক নামা পাঠিয়ে দিয়েছিলেন বউএর বাড়ী,সাথে একটা চিরকুট যাতে লিখা ছিলো
"তুমি তোমার মত থাকো,হয়ত আর কারও ঘরণী হয়ে আবার নতুন জীবন শুরু করবে, তবে একটা অনুরোধ, এভাবে সন্তানকে বাবা মায়ের থেকে আলাদা করে ফেলার মত পাপ কাজ করার চেষ্টা আর করো না।
সব সন্তান হয়ত আমার মত করে বউ বাদ দিয়ে বাবা মায়ের হাত আগলে না ও রাখতে পারে, মনে রেখো এতে সাময়িক সুখ থাকলেও কোন রকম শান্তি নেই যে শান্তির তালাশ তুমি করছ।"
এর পর বাবা মারা গেলো কিছুদিন পর মা ও ছেড়ে গেল।
ওনারা অনেক চেয়েছেন তাকে আবারও বিয়ে করাতে কিন্তু তিনি প্রিয় সন্তানের জন্য কিছুতেই সৎ মা আনতে চান নি।
তখন টগবগে যুবক ছিলেন।
আজ তো চামড়া কুচকে গিয়েছে।দৃষ্টি ঘোলা!পা হয়ে পড়েছে নড়বড়ে!
বড্ড অসহায় লাগছিল!
চোখ ভিজে উঠল প্রচন্ড আত্মমর্যাদা সম্পন্ন এই ষাটোর্ধ ব্যক্তিটির।
চুপচাপ বসে রইলেন।
ভাবছেন, তিনি এতই কী বিরক্তিকর?
এতই কী অসহনীয় হয়ে পড়েছেন?
কী করে তিনি বৃদ্ধাশ্রম এ বাকীটা সময় পার করবেন?
একটা সময় যখন খুব একা লাগত তখন সন্তানকে বুকে চেপে রাত পার করে দিতেন!
এসময়ের একাকীত্বের সঙ্গী কে হবে?
এসব ভাবতে ভাবতেই
পায়ে সেন্ডেল দিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেলেন অজানা উদ্দেশ্যে।
ছেলে তাঁকে আড়াল করার জন্যে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসার আগে তিনিই আড়াল হয়ে যেতে চান।
বুকটা ছিঁড়ে যেতে চাইছে যেন।এমন করে চোখেরজল গড়িয়ে কেন পড়ছে?
চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছে খুব।পুরুষ হয়ে জন্ম নিয়েছেন,কাঁদলেও বড সন্তপর্ণে কাঁদতে হয়।পাছে লোকে দেখে ফেলে!!
পাঞ্জাবীর হাতায় চোখ মুছতে মুছতে সামনে চলতে লাগলেন।
কিছুদূর যেতেই শুনতে পেলেন শামীম একটু দূর থেকে বাবা বাবা করে ডাকছে!
ওফ্ তিনি ওদিকে তাকাতে পারছেন না।
বাবা ডাকটা বরাবরই ওনার কাছে স্বর্গীয় ছিল।তবে আজ খুব বিষাক্ত লাগছে।
শামীম দৌড়ে এলো বাবার কাছে,বললো,
কোথায় চলেছ বাবা?
খুব বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল সরফুদ্দীন সাহেবের,
তোদের চলার পথ থেকে একেবারে সরতে চলেছিরে!আগে একাকিত্ব কে ভয় পাই নি।তবে এখন খুব ভয় হচ্ছেরে!পাছে তোদের চোখে পড়ে যায়,পাছে তোদের সামনে ঝর ঝর করে কেঁদে না ফেলি!
সেই ভয়ে তাড়াতাড়ি অজানার উদ্দেশ্যে পথ চলছিরে!!তোকে হয়ত মানুষ করতে পারিনি সেই লজ্জা ঢাকতে চলেছি!
ইচ্ছে হলেও কিছুই বললেন না তিনি।
আস্তে করে বললেন,
একটু হাঁটতে বেরিয়েছি।বাসায় দম আটকে আসছিল।
-আচ্ছা চলো,বাসায় চলো,সন্ধ্যা হয়ে আসছে।
-হ্যা চল!
সব ঠিকঠাক।বাসায় যেন কিছুই ঘটেনি এমন করে রাতে খেয়ে সবাই যার যার রুমে চলে গেল।
হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল তাঁর,পাশের রুম থেকে শামীম এর আওয়াজ আসছে!
-তুমি বাবাকে কেন বলেছ এসব?
-তো কী হয়েছে?বাবা হিসেবে ওনার জানার অধিকার আছে, তুমি নতুন ফ্ল্যাট কিনেছ।ওনি তোমাকে অনেক ভালবাসেন।খুশীই তো হবেন।
-হ্যা, বাবা আমাকে অনেক ভালবাসেন।আমি জানি।
-আচ্ছা ঘুমিয়ে পড়ো।আগামী কাল আমরা নতুন বাসায় উঠার পথে বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে নামিয়ে দিয়ে যাব।
-আমার ঘুম আসছেনা।খাঁট ছাড়া ঘুম আসে না।সব পাঠিয়ে দিয়েছ!
-তুমি তো বাবার খাঁটটা পাঠাও নি ওখানে গিয়ে ঘুমাও যাও।
-হ্যা ঠিক বলেছ!
শামীম আজ অনেকদিন পর বাবার পাশে ঘুমাতে আসছে!ভাবতই সরফুদ্দীন সাহেব কেমন পাথর হয়ে গেলেন।খুশীতে!
শামীম চুপচাপ বাবার পাশে শুয়ে পড়ল।আর সরফুদ্দীন সাহেব বুক ভরে সন্তানের শরীরের ঘ্রাণ নিতে লাগলেন।বড়ই মধুর ঘ্রান!ভাবছেন, যদি আজই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারতেন!এভাবেই......
সকালে গাড়ী আসল,রওনা হলো সকলে, যার যার নতুন গন্তব্যে।
সরফুদ্দীন সাহেব চোখ বন্ধ করে আছেন সিটে হেলান দিয়ে।
যদি এমন হয়, তাঁকে ঘুম মনে করে শামীম না ডাকে,যদি ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়!
তিনি ভাবছেন, যদি ওরা সাথে করে নিয়ে যায় তাহলে তিনি যতটুকু সম্ভব নিজের কাজ নিজে করবেন।
তাহমিনাকে চা করে দিতে বলবেন না।সকাল সকাল পত্রিকা ও চাইবেন না।
পারলে রান্নাও করে রাখবেন।
না তা হচ্ছেনা হয়ত!গাড়ী থেমে গেলো।
শামীম ডাকল,বাবা!বাবা!
তাহমিনা বললো, কী এখানে কেন গাড়ী থামিয়েছ?
শামীম কড়া, শীতল কন্ঠে বললো-
তাহমিনা তুমি গাড়ী থেকে নামো,বাবা তুমি চাইলে ওকে শেষ বারের মত দেখে নিতে পারো।যে প্রতিটাদিন তোমার কাছ থেকে আমাকে আলাদা করতে চেয়েছে!
আমি ওকে ওর বাবার বাড়ীর সামনে রেখে আমার বাবাকে নিয়ে নতুন ঠিকানায় চলতে চাই............আমাদের যেন কেউ খুঁজেও না পায়!বাবা হিসেবেই বাবার আমি নতুন ফ্ল্যাট কিনেছি সেটা যেমন জানার অধিকার আছে সাথে অধিকার আছে সন্তানের সাথে আমৃত্যু থাকার!
সরফুদ্দীন সাহেব আজও কাঁদছেন!
খুব কাঁদছেন!
ছেলে তাঁর মানুষ হয়েছে, সেই পরম সুখে কাঁদছেন!
যা কিনা পাঞ্জাবীর হাতায় আর সন্তপর্নে মুছে ফেলতে হবে না।

💙বেঁচে থাকুক সবার ভালোবাসা❤
.
বিঃদ্রঃ গল্পটা আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে কমেন্ট করে জানাবেন।আর একটা কথা,, কেউ কোনো খারাপ মন্তব্য করবেন না।ভালো লাগলে আমাকে Friend Request  দিয়ে পাশে থাকবেন,,, আমার কিছু ভালো বন্ধু দরকার।যারা যারা গল্প পড়তে ভালোবাসেন তাদের আমি আমার Friend লিস্টে রাখতে চাই।

#রূপকথার_গল্পকথক_Saiful_Islam_Rahi#
Share:

আমার ঝগড়াটে প্রেম - পর্ব ১

আমার ঝগড়াটে প্রেম - পর্ব ১
লেখকঃ রিফাত হোসেন
সুজন: আই লাভ ইউ মায়া।
মায়া : কি?
সুজন : তুই আবার কানে কম সোনা শুরু করলি কবে থেকে?
মায়া : মুখ সামলে কথা বল সুজন।
সুজন : না বল্লে কি করবি?
মায়া : তোকে আমি।
সুজন :আমাকে কি ভালোবাসতে ইচ্ছা করছে তাইনা।
মায়া : এহ ছাগল একটা।
সুজন : কি আমি ছাগল তুই একটা পেত্নি?
মায়া : কি আমি পেত্নি, তোকে আজকে আমি খেয়ে ফেলবো।
সুজন : খেয়ে ফেলবি, তো কোথা থেকে শুরু করবি মাথা থেকে না পা থেকে?
মায়া : তুই বল। (রেগে গিয়ে),😡
সুজন : আচ্ছা কোথা থেকে শুরু করবি কোথা থেকে? আচ্ছা আমার ঠোঁট থেকে শুরু কর।😍😋
মায়া : কুত্তা, বিলাই, খবিস। আরো কয়েকটা গালি দিয়ে মায়া সুজন কে মারতে শুরু করলো।😂
- এদিকে সুজন কোন রকম ছারা পেয়ে দিলো এক দৌড় সোজা বাড়িতে আর এদিকে মায়া হাসছে আর বলতাছে পাগল একটা বুজেনা কতো ভালোবাসি আমি ওকে।😍😘😍
- এই হলো মায়া আর সুজন দুই জনে জানে জিগার দোস্ত সেই স্কুল থেকে দুই জনে এক সাথে পরে।
এখন তারা অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পরে
সুজন কলেজের স্মাট ছেলে সবাই তাকে চকলেট বয় নামে জানে।
- মায়াও দেখতে অনেক কিউট একদম পরির মতো পরি বললেও ভুল হবে।
- সুজন মায়াকে অনেক ভালোবাসে প্রতিদিন সুজন মায়াকে প্রোপজ করে কিন্ত মায়া কোন উওর দেয়না।
- মায়াও সুজন কে ভালোবাসে কিন্ত মায়া সুজনের মুখে আই লাভ ইউ সোনার জন্য সুজন কে সে উওর দেয়না
কিছুক্ষন পর মায়া সুজনকে ফোন দিলো।😎
সুজন: হ্যালো বউ।😍
মায়া: ওই কি বল্লি তুই?😶
সুজন : কেনো বউ বল্লাম।😘
মায়া : আমি তোর কোন জন্মের বউ হুম রেগে গিয়ে বললো?😡
সুজন : কেন এই জন্মের।😍
গল্পের ট্যাগসঃ #অামার_ঝগড়াটে_প্রেম #পাগলির_ঝগড়াটে_প্রেম #ঝগড়াটে_প্রেম
অাসছে ২য় পর্ব......
২য় পর্ব পেতে আমাকে তোমার বন্ধু করে নিতে পারো..।
Share:

গল্পঃ মিথ্যা মায়া

গল্পঃ মিথ্যা মায়া
লেখকঃ আনস্মর্ট বয় (নীল)

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে হয়ে যাচ্ছে আমি একটি টং দোকানে বসে আছি। সাথে এক কাপ চা। এই নিয়ে ৫ কাপ চা শেষ করে ফেললাম! আরো খাবার ইচ্ছে আছে। তবে সেটা আর হচ্ছে না! ৫ কাপ চায়ের দাম ২৫ টাকা হয়ে গেছে। এ টাকা দিতেই খবর হয়ে যাবে। টাকা টা দিয়ে সোজা হাটতে লাগলাম। একটু পরেই একটা টিউশনি আছে। ভাবছিলাম রিক্সা দিয়ে যাবো। কিন্তু চা খেয়ে ফেলায় টাকা নাই। তাই কি আর করার বাধ্য হয়ে হাটতেছি। মাসের প্রায় ২০ দিন ই হেটে গিয়ে পড়িয়ে আসি। আজ নতুন মাসের ৩ তারিখ বেতন পাওয়ার কথা, দেখি কি হয়।

.

ভাবতে ভাবতে গেলাম পড়াতে। ছাত্রীকে পড়াচ্ছি আর পাশেই ছাত্রীর মা, খালা সহ আরো অনেক লোকজন কথা বলতেছে। চিৎকারের কারনে ঠিক ভাবে পড়াতেও পারছি না। ছাত্রী কে বললাম,

আমি: ভেতরে চিৎকার করে কারা?

ছাত্রী: কাল আমরা বান্দরবান ঘুরতে যাবো তাই সবাই কথা বলছে।

আমি: ওহ।

কিছুক্ষন বাদেই ছাত্রীর মা আসলো,

আমি: আসসালামু আলাইকুম আন্টি কেমন আছেন?

আন্টি: এইতো ভালো। নীল  তুমি কেমন আছো?

আমি :জ্বী ভালো।

আন্টি: আসলে হয়েছে কি এ মাসে তোমার টাকাটা দিতে পারবো না। কাল সবাই বান্দরবান যাবো তো তাই অনেক টাকা লাগবে। তুমি কিছু মনে করো না।

আমি: আচ্ছা আন্টি।(কথাটা বলার সময় আমার মুখ শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে). কিছুক্ষন পড়িয়ে চলে আসলাম। আবার সোডিয়াম লাইটের নিচ দিয়ে হেটে মেসে ফিরছি। আর ভাবতেছি কত আজব এই দুনিয়া! এক মাসের বেতন ৩০০০ টাকা তা তারা দিবে না অথচ হাজার হাজার টাকা খরচ করে পিকনিকে যাবে। খুব প্রয়োজন ছিলো টাকাটার কিন্তু কিছুই পেলাম না। এভাবেই কাটছে জীবন। সোডিয়াম লাইটের নিচে হাটছি বেশ ভালোই লাগছে। এই সময়ে ফোন আসলো। স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে দেখি অহনার ফোন,

অহনা: কি মিঃ নীল সাহেব কেমন আছেন?

আমি: ভালো। তুমি কেমন আছো?

অহনা: ভালো। কি করো।

আমি: মেসে যাচ্ছি।

অহনা: আচ্ছা গিয়ে ফোন দিও।

আমি: ওকে।

.

অহনার সাথে আমার কিসের সম্পর্ক সেটা আমিও জানি না। একই সাথে পড়ি। তবে বন্ধুত্বের থেকেও অনেক গভীর সম্পর্ক। মেসে এসে ফ্রেশ হয়ে অহনাকে কল দিতে গিয়ে দেখি ব্যালেন্স নাই! কি আর করার এক গ্লাস পানি খেয়ে ঘুম দিলাম।

.

কেউ মনে হচ্ছে আমার গায়ে পানি দিচ্ছে। উঠে দেখি অহনা!!!

আমি: আরে অহনা তুমি আমার মেসে???

অহনা: হুম। তারাতারি ফ্রেশ হয়ে আসো। এক জায়গায় যেতে হবে।

ফ্রেশ হতে বাইরে আসলাম।

পকেটে টাকা নাই কি করবো ভাবছি। অহনাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার টাকাটা কোথায় পাবো। সামনেই দেখি ফয়সাল ভাই। তার কাছ থেকে কিছু টাকা নিলাম। অহনাকে নিয়ে ঘুরতে বের হলাম। একটি রেস্টুরেন্টে বসে আছি।

অহনা: (একটি কার্ড এগিয়ে দিয়ে) এই নেও।

আমি: কি?

: আমার বিয়ের কার্ড।

: ওহ!

অহনার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম কিছু বলছে তার চোখ। তবে সেই ভাষা বুঝার সময়, যোগ্যতা কোনটা ই আমার নেই। অহনা: আমার বিয়েতে অবশ্যই আসবে কিন্তু।

আমি: আচ্ছা।

কিছু না বলেই বেরিয়ে আসলাম। আর কিছুক্ষন থাকলে হয়তো আমার চোখ ও কথা বলা শুরু করে দিতো।

.

অহনা অনেক বার ফোন দিচ্ছে কিন্তু ফোন সাইলেন্ট করে বসে আছি। আজ অহনার গায়ে হলুদ। হয়তো যাওয়ার জন্য ই ফোন দিচ্ছে। কি আর করার নির্জন রাস্তায় একা একা হাটছি আর ভাবছি কি দরকার ওর গায়ে হলুদে গিয়ে মিথ্যে মায়া বাড়ানোর। খুব ভালো থাকবে অহনা এই দোয়াই করি। এই মাস কিভাবে চলবো সেই চিন্তাই করছি। টিউশনির টাকা মানে আমার কাছে সোনার হরিন! আপাততো সেই সোনার হরিনের পিছেই লেগে আছি। কোনো মিথ্যে মায়ায় জড়ানোর সময় নেই।
---------সমাপ্ত --------

কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।।।
অগ্রীম ধন্যবাদ।।
Share:

গল্প:ডেঞ্জরাজ মেয়ে

গল্প:ডেঞ্জরাজ মেয়ে😱😱😱😱
আমায় নিয়ে একটা গল্প লিখবেন? (মেয়ে আইডি)

: না।(আমি)

: কেনো।

: সব কিছুর কি কারন থাকতে হয়।

: হ্যা থাকতে হয়। কারণ না বললে কিন্তু,,,,,

: কিন্তু কি?

: সবাইকে বলে দিবো আমাদের রিলেশন ছিলো , কিন্তু এখন সেলিব্রেটি হয়ে অন্য ৫-৭ টা মেয়ের সাথে ডেটিং মারছেন আপনি। এবং আমাকে আর টাইম দেন না। তারপর সব ভাব একদম ফুস করে বেরিয়ে যাবে হুহ।

: কিন্তু আমি তো তেমন টা করি নাই।

: সেটা তো শুধু আপনি আর আমি জানি,,,, সবাইতো আর জানে না।

: আপনি বললেন আর সবাই বিশ্বাস করলো।

: হাহাহা,,,, প্রমাণ দিলে কেনো বিশ্বাস করবে না।

: কিসের প্রমাণ।

: হিহিহি, আপনার নামে একটা আইডি খুলে, সেটা থেকে আমার আইডিতে ইচ্ছে মত মেসেজ দিয়ে স্কিন শর্ট নিয়ে রাখবো,,,, তখন বুঝবেন কত ধানে কত চাল।

: কি ডেন্জারাস, ক্রিমিনাল মেয়েরে বাবা।

: এখনো তো কিছুই শুরু করিনি,,,,, আর হ্যা আপনার পিক দেন এখুনি,,,,,

: পিক দিয়ে কি করবেন।

: না দিলে কিন্তু কালকেই স্কিন শর্ট বের করবো।

: আপনি আমাকে এভাবে ব্লাক মেল করছেন কেনো।

: ১০০ বার করবো। এত ভাব কেন আপনার,,,,,

: উফফ্,,,,, এখন আপনাকে ব্লক দিবো, বায়।

: সেই ভুলটা করবেন না ভুলেও। তাহলে তো সবাইকে বলবো, আপনি আমায় ঠকিয়েছেন,,,, আমার সাথে ফিজিক্যাল রিলেশন করতে চাইছিলেন। আমি রাজি না হওয়ায় ব্রেকআপ করে আমায় ব্লক দিয়েছেন।

:

: নাইস পাকা টমেটো

: আমি টমেটো নই,,,,,

: আপনাকে কে বলছে।

: তাহলে কাকে বলছেন।

: ওই লাল ইমো গুলারে বলছি,,,,,

: ওহহহ

: এখন বলেন লিখবেন কিনা।

: ওকে বলেন আপনার গল্প।

: অনেক কথা, এত কথা লিখতে পারবো না।

: তাহলে আমি কেমনে জানবো,আপনার গল্প।

: আপনার নাম্বার টা দেন।

: নো ওয়ে,,,,,

: কি,,,,

: ওকে দিচ্ছি,,, ০১৫২১******

: কি জঙ্গলী নাম্বার দিলেন।

: ছিঃ, তুমি জানো এটা আমাদের গর্ব, একমাত্র বাংলাদেশী সিম।

: এহ, দেশ প্রেমিক হয়ে আসছেরে,,,,,

: তার চেয়ে বড় কথা, এটা A+ পাওয়ায়, গিফট পাইছি, টেলিটক আগামী।

: এহহ, ……… এর A+ পাইছে, তায় সবাইরে শোনায়। এবাউটে তো বড় বড় করে লিখছে, এখন আবার মেসেজেও বলছে,,, মনে হয় আর কেউ কোন দিন A+ পায় নাই।

: 😒(আমিতো বেকুব হয়ে গেলাম) আপনি এভাবে আমাকে বলতে পারলেন, খুব কষ্ট পেলাম।

: ঢং কত,,,, ঢং বাদ দিয়ে গ্রামীণ নাম্বার দেন। আমার ফোনে ১১৭ মিনিট আছে, রাত ১২ টার পর মেয়াদ শেষ হবে।

: ০১৭৭৩***** এটা

: কল দিচ্ছি, যদি ভুল রঙ নাম্বার দিয়ে থাকেন তবে আপনার ১২ টা বাজাবো।

: আপনি শুধু ডেন্জারাসেই নন, সন্দেহবাদীও।

: হুহ,,,, আমি যা খুশি তাই, আপনাকে কি বলতে বলছি।

: 😖 খাচ্চর

: কি বললেন 😡

: না মানে বললাম, আপনি খুব ভালো মেয়ে।

: আমি ভালো না খারাপ আপনাকে কে বলতে বলছে।

: [সালার, আগে পিছে দুদিকেই মরণ]

: ওকে ভালো থাকেন,,, আমি আপনাকে রাত ১০ টার পর কল দিবো,,,, কল রিসিভ না করলে কিন্তু,,,,,,

: না না, করবো,,, বায়

: বায়,,,,,

উফফ্ বাচলাম। সালার এটা কোন মেয়েরে বাবা,,,, এর সাথে যে প্রেম করবে তারতো মনে হয় ১২ টা বাজিয়েই ছারবে এই মেয়ে,,,,,,। তবে এরকম মেয়েরা একটু আবেগী হয়, যেমন রাগ তেমন একটু কিছু না হতেই কেদে ফেলে। যাই হোক দেখা যাক ১০ টার পর কল দিয়ে কোন কাহিনী করে, আর তার জীবনের কি গল্প বলে,,,,,

রাত ১০:১২ এসাইনমেন্ট রেডি করছি। সোমবার জমা দিতে হবে। মেজাজ টা একটু গরমি বলা চলে। জীবনের ১২ টা বছর বাংলা মিডিয়াম পড়ে এসে হঠাৎ ইংলিশ মিডিয়ামের সাথে কোন ভাবেই পেরে উঠতে পারছি না।

তার উপর পুরো এসাইনমেন্ট ইংলিশে লিখতে হবে। মনে মনে অর্থনীতি ডিপার্টমেন্ট এর গুষ্টি উদ্ধার করছি আর লেখার চেষ্টা করছি। হঠাৎ টেবিলকে কাপিয়ে ঘর ঘর শব্দে ফোনটা ভাইব্রেট করে উঠলো। আননোন নাম্বারের কল। মুখটা অন্ধকার করে। কলটা রিসিভ করলাম। একটা মেয়ে কন্ঠ সালাম দিলো.....

: আসসালামু আলাইকুম

: অয়ালাইকুম আসসালাম।

: চিনতে পারছেন?

: জ্বী

: কে আমি বলুনতো।

: ডেন্জারাস মেয়ে।

: কি বললেন?

: না মানে সেই ভদ্র মেয়ে টা। যাকে আমি বিকালে নাম্বার দিয়ে ছিলাম।

: কেমনে বুঝলেন?

: আমার ফোনে আননোন নাম্বার থেকে তেমন একটা কল আসে না।

: পার্ট নিচ্ছেন নাকি।

: পার্ট নিবো কেনো?

: এই যে বলছেন আননোন নাম্বার থেকে কল আসে না। এটা বলে বুঝাতে চাচ্ছেন আপনি খুব ভদ্র মানুষ, কারো সাথে ফোনে কথা বলেন না।

: আমি তো তেমন কাউকে আমার নাম্বার দেই না, আর এটাই সত্য।

: এহহহহ মিচকা শয়তান।

: আমি আবার কি করলাম?

: এসব বলে লাভ নাই। আপনাদের মত কম কথা বলে বোকা সাজার চেষ্টা করা ছেলেদের আমি হারে হারে চিনি। এরা মেয়েদের ইমপ্রেজ করার জন্য একদম নিরীহ সাজে। কিন্তু আমি ইমম্প্রেজ হচ্ছি না।

: মারডালা।

: এই সব ইনোসেন্ট সাজার চেষ্টা করা ছেলেরা সুযোগ পেলে যাতা করে ফেলে। এই টাইপের ছেলেরা লোকাল বাসে মেযেদের গায়ে হাত দেয়। এদের বিশ্বাস করা যায় না।

: আপনি এত বেশি বুঝেন কেন?

: আমি বেশি বুঝবো না কম বুঝবো সেটা আমার ব্যাপার আপনাকে নাক গলাতে বলছি নাকি। এহহ আসছে একবারে, আজাইরা লেখক।

: দেখুন আপনি কিন্তু রিতিমত আমাকে অপমান করছেন। আর আমার লেখা আপনার কি সমস্যা করছে হ্যা।

: ওরে বাবা, আপনার সাহস কি বেশি হয়ে গেলো নাকি?

: আপনি আমাকে নিয়ে যা ইচ্ছা বলুন। কিন্তু আমার লেখা কে নিয়ে কিছু বলবেন না। আর আমি কি আপনাকে পড়তে বলছি নাকি। ভালো না লাগলে পড়বেন না।

: ওই এত ভাব দেখান কেন আপনি। আমি ১০০ বার বলবো। পারলে ঠেকান।

: উফফ্ আপনার সাথে আর কথাই বলবো না। যত সব আজাইরা। বায়

: ওই ওই ফোন কাটবেন না বলে দিচ্ছি।

: ফোন কাটলে কি করবেন?

: রাজশাহিতে গিয়ে আপনাকে পিটিয়ে আসবো।

: ওকে তাই করুন। আমি দেখতে চাই আপনি কত বড় মাস্তান।

: আপনিতো আচ্ছা ঝগড়ুটে দেখছি,,,, এর জন্যই আপনার গার্লফ্রেন্ড আপনাকে ছেকা দিছে।

: আমি ঝগড়ুটে???
________________________________________________
♦সামনের পার্ট অনেকে খুজে পাননা তাই আমি টাইম লাইনে দিয়ে দিবো,আপনারা আমার প্রফাইলে গিয়ে পড়তে পারেন,গল্পটির সামনের পার্ট গুলো আমার প্রফাইলে পেয়ে জাবেন,আমাকে রিকু দিন বা বলবেন আমি রিকু দিবো,,,,,সবাইকে ধন্যবাদ,,,,,,,,,,,♠♥♣
________________________________________________
আপনারা জদি গল্পটা পড়তে ইচ্ছুক হন, তাহলে আমার প্রোফাইলে গিয়ে পড়তে পারেন
♦♦সবাইকে ধন্যবাদ♦♦
<><><><><><><><><><><>
(চলবে)
লেখক:-রাইসুল,,,,
পার্ট:-(১)
Share:

পিচ্চি_বউ

#পিচ্চি_বউ

লেখক----Marazul Islam(Sagar)
#পর্ব_৬

সিফাত----- মা,, তুমি সারাদিন এই গুলো বলো কেন?  আমার একদম ভালো লাগে না।
মা----- আচ্ছা তুই যাবি না। ঠীক আছে। তোর খালাকে তুই ফোন করে, না করে দে--

সিফাত--- আসলে খালা আমাকে খুব ভালোবাসে। খালাকে কোন কিছু না করা, আমার পক্ষে সম্বভ না।আর সেটা মা ভালো করে জানে। সেই কারনে এবার খালাকে আমার পিছে লাগিয়েছে।মা আমি যাইতে পারি, শর্ত হল বিয়ার ব্যাপারে আমাকে কোন জর করতে পারবে না।

মা--- ঠীক আছে বাবা,, মা মিন মিন করে বলছে।আমার কপালে
নাতি,নাতীন তো দূরের কথা। ছেলের বউ মনে হয় দেখা হবে না

সিফাত শুধু পাইচারি করছে। একবার এদিক,একবার সেদিক।
মাথার ভিতর একটাই চিন্তা, রিমির কি হল? ওরা কি এসেছে?
নাকি বিয়াটা হয়ে গেল? কি ভাবে খবর নিব?  দূর সিহানকে বলি। ফোনটা হাতে নিয়ে সিহানের কাছে ফোন দেয়।

সিফাত-----হ্যালো সিহান,দোস্ত আমার। একটা উপকার কর না।
প্লিজ দোস্ত
সিহান -----আরে, সিফাত এমন ভাবে বলিস কেন?
সিফাত----- দোস্ত,, আমার তো--- রিমিকে খুব পছন্দ।
সিহান-- কোন রিমি??
সিফাত-- আরে ওই সিংগাম লাগাইছিল
সিহান ---- সালা গরধব,, অন্য কোন মেয়ে পেলি না
সিফাত ---আরে দোস্ত,, প্রেম কি এতো কিছু ভেবে আসে? 
সিহান---- আমি তো এতো কিছু বুজি না।। কি করতে হবে এটা বল
সিফাত--- তুই রিমিদের বাড়িতে যাবি। রিমিকে কারা যেন দেখতে আসবে।ওরা এসে যদি রিমিকে আংটি পরায়?  তাহলে তো আমি শেষ। তুই যে ভাবে হক, ওদের আটকাবি।
আমি মাকে বুজিয়ে,, একটা কিছু করব।

সিহান---- ঠীক আছে, তুই চিন্তা করিস না। এটা আমার এক চুটকিতে হয়ে যাবে। তুই শুধু ঠীকানাটা দে।

সিফাত------ আমি বলছি------------ উল্লাপাড়া-সলংগা.......

সিহান--- ওকে।।।
সিহান বাইক নিয়ে সাথে আরো দুইজন বন্ধু সহ রিমিদের এলাকায় যায়।

এদিকে সিফাত বিষন্ন মন নিয়ে, মা,খালার সাথে পাত্রী দেখতে যায়। আর মাঝে মাঝে সিহানের  কাছে ফোন করে জানতে চায়-+সিফাত, ওরা কি এসেছে?

এদিকে মা, তার ছেলের অস্বাভিক আচরণ দেখে বেশ চিন্তায় পরে যায়।খালাও বার বার খিয়াল করছে। সিফাত অন্য কোন খিয়ালে।
সিফাতকে পাত্রি দেখাতে যায়,, সবাই মেয়ে দেখার জন্য বসে
আছে

। কিন্তু সিফাত,, একদম এখানে খিয়াল নেই। বারবার বাহিরে যায় আসে,,,
মা চিন্তা করছে, কি হল সিফাতের?ছেলেটাকে নিয়ে আর পারি না।
এদিকে মেয়ে লাল টুক টুক শাড়ী পরে হাজির। সাদসমাটা একটা মেয়ে। মেয়েটা খুব সুন্দরী। মেয়ের বাবা বেশ টাকা পয়সা ওয়ালা সব দিক মিলে, মেয়েটিকে খিব পছন্দ হয় সিফাতের মায়ের। সিফাতের মা,,সিফাতের জন্য অপেক্ষা করছে।
কিন্তু সিফাত বাহিরে ব্যস্ত ফোন নিয়ে। কয়েকবার ডাকও দিয়েছে। সিফাতেরর কোন সারা নাই,
সিফাতের মা কিছুক্ষণ সিফাতের জন্য অপেক্ষা করে।
নিজেই সিদ্ধ্যান্ত নেয় যে, এই মেয়েকেই তার ছেলের বউ করবে।
সিফাতের মার ধারণা, সিফাত তার অবাধ্য ছেলে না।
মেয়েটির নাম--নিলি। নিলির হাতে আংটি পরিয়েদেন সিফাতের মা।


এদিকে,, সিহান অপেক্ষা করছে। রিমি সেই পাত্রপক্ষের। এবং সিফাত ফোনে ফোনে আছে সিহানের সাথে।
সিহান জানালো এই মাত্র, কিছু লোক দেখা যাইতেছে।
মনে হয় এরাই হবে,, সিহানরা তিন বন্ধু মিলে তাদের পথ অবরোধ  করে। এবং তাদের পরিচয় জানতে চায়, কেন এসেছে
সেটাও জানতে চায়?
তারা জানায় পাত্রী দেখতে এসেছে। সিহান জানায় তাদের,পাত্রী তো বিয়া হয়ে গিয়েছে। আমার বন্ধুর সাথে। কিন্তু তারা তাদের পরিবারকে জানাতে পারে নাই। প্রথমে তারা বিশ্বাস করতে চায় নাই। কিন্তু সিহান তাদের শেষমেষ ভয় দেখিয়ে তারিয়ে দেয়।
এদিকে রিমির মা, বড় যত্ন করে রান্না করেছেন। মেয়ে রিমিকে খুব দারুন করে সাজিয়েছে। অপেক্ষা করছে। কিন্তু সময় পার হয়ে যায়। তাদেরর কোন খবর নাই।

 সিফাত খুশি মনে যখন, তার মায়ের কাছে আসে। দরজায় দাড়িয়ে অবাক হয়ে যায়। নিলিকে তার মা কাছে বসিয়ে। বউমা বউমা বলে ডাকছে। এটা দেখে সিফাতের মাথা পুরাই হিট হয়ে যায়। সিফাতের মা, সিফাতকে ডাক দিয়ে বলে,, সিফাত এদিকে আয়। তোরা দুজন একটু পাশাপাশি বস, আমি দেখি তোদের কেমন লাগে?  সিফাত যেন হঠাৎ নিরব দর্শক হয়ে যা।
কি করবে?
এদিকে,, রিমির বিয়ে ভেংগে তো একটা ক্ষতি করছি।
এখুন যদি রিমিকে  বিয়া করতে না পারি???
দূর কিছুই ঢুকছে না।
নিরবে সব কিছুই চোখের সামনে ঘঠে যাইতেছে। আর চুপচাপ সবার আদেশ পালন করছি।নিলি বেশ খুশি। আমার সাথে এমন আচারণ করছে যেন আমরা ছোট বেলায় থেকে পরিচিত। আর মা,, তার খুশি কে দেখে? 

সবাই খুশি, শুধু আমি না। আমার চিন্তা শুধু রিমিকে নিয়ে।

এর মাঝে রিমির মা অপেক্ষা করতে করতে সময় পেরিয়ে গেল।
কিন্তু ছেলে পক্ষের কোন খবর নাই। শেষে ফোন করে রিমির মা,, ছেলে পক্ষের কাছে।
তারা জানায় আপনের মেয়ে ভালো না। ভাগ্য ভালো,আমরা আপনেদের বাড়িতে যাই নাই। এই ছোট একটা মেয়ে, সে নাকি গোপণে বিয়া করেছে। এই কথা শুনে তো রিমির মার মাথার উপর আকাশ ভেংগে পরার মত।।।

চলবে,,,,,,,,,
Share:

রাগি আপু v/s বখাটে ছেলে

❤❤রাগি আপু v/s বখাটে ছেলে❤❤

পর্বঃ০১

এই ছেলে প্রত্যেকদিন স্যার ম্যাডামদের সামনে  ক্যাম্পাসে সিগারেট খাস কেনো বাবা -মা ভদ্রতা শিক্ষায় নি,,,
ক্যাম্পাসে বসে সিগারেট খাচ্ছিলাম,,,, তখুনি একটা মেয়ে এসে বললো,,,,
চুপচাপ হয়ে সিগারেট খাইতে লাগলাম,,,
কি হলো তোকে আমি কিছু বললাম।। ((মেয়েটি))
চুপচপ,,,
এভাবে হবে না তোর আব্বুর নাম্বার দে ((মেয়েটি))
ফোন নাম্বার বন্ধ ((আমি))
আম্মুর নাম্বার দে ((মেয়েটি))
013151562++((আমি))
মেয়েটি ফোন দিলো,,, আমার পকেটের ফোনটা বেজে উঠলো
ফোনটা বাইর করে কেটে দিলাম,,,
নিজের নাম্বার দিলি কোনো ফাইজলামি করিস ((মেয়েটি))
এটাই আম্মুর নাম্বার  আব্বু আম্মু মারা যাওয়ার পর এটা আমার কাছে ((আমি))
মেয়েটা চুপ হয়ে গেলো,,,,
কিছুক্ষন দুজনের মধ্যে নিস্তব্ধতা চললো,,,
নাম কি ((মেয়েটি))
ইমন ((আমি))
শুধু ইমন আর কিছু নেই ((মেয়েটি))
আছে কিন্তু যাদের দেওয়া ছিল তারা না থাকায় ব্যবহার করার প্রয়োজন মনে করি না ((আমি))
বাসায় কে কে আছে ((মেয়েটি))
কেউ নেই ((আমি))
মানে ((মেয়েটি))
একা থাকি কেউ নেই আমার ((আমি))
 থাকিস কোথায়((মেয়েটি))
 কলেজের পিছনে একটা বাসায় থাকি ((আমি))
 পড়ালেখা কেমন করে চলে ((মেয়েটি))
 ফ্রিল্যান্সিং করি ওটা দিয়েই চলে যায় ((আমি))
 কোন ইয়ারে ((মেয়েটি))
 সেকেন্ড ইয়ারে ((আমি))
 মেয়েটা কিচ্ছুক্ষন চুপচাপ দারিয়ে রইলো,,,,
 আপনার সব জানা হয়ে গেলে এখন আসি,,, ((বলেই চলে আসতে লাগলাম,,))
 আমার পরিচয় জানতে চাইবি না ((মেয়েটি))
 প্রয়োজন মনে করি না ((আমি))
 কিন্তু আমার প্রয়োজন আছে,,,
 আমি হিয়া,,, অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পরি ((মেয়েটি))
 আচ্ছা এখন আসি ((আমি))
 আচ্ছা যা৷ ((হিয়া))
 ওখান থেকে চলে আসলাম,,,
 মেয়েটাকে আমি চিনি,,,
 এমনকি কলেজের সবাই চেনে,,,
 কলেজের ক্রাস দের মধ্যে হিয়া আপু একজন।।যেমন সুন্দর দেখতে তেমন রাগি,,, কলেজের কত ছেলে তার হাতের জন্য হাসপাতালে গেছে তার হিসাব নেই,,,
 হিয়া আপুর ভাই পুলিশ কমিশনার তাই সবাই তাকে ভয় করে চলে।।
 কলেজে যেদিন প্রথম তাকে দেখেছিলাম
 কেমন জেন ভালো লেগেছিলো,,, কিন্তু সেটাকে আমি পাত্তা দেই নি,,, কারন এসব মায়া জড়ানো আমার পক্ষে সম্ভব না,,,
 এসব ভাবতে ভাবতে বাসায় আসলাম,,,,,
ফ্রেশ হয়ে রান্না করলাম,,,,
তারপর খেয়ে ঘুমিয়ে পরলাম,,,,
কারন খুব কম রাতেই আমি ঘুমাই,,, কাজের জন্য জেগে থাকতে লাগে,,,,,
সন্ধ্যায় ঘুম থেকে উঠে বাইরে গেলাম,,,,
এক প্যাকেট সিগারেট কিনে নিয়ে আসলাম,,,,
সারা রাত জেগে কাটানোর জন্য বক্সে গান আর এই সিগারেট এটাই আমার সাথি,,,
এরপর দুদিন কলেজে গেলাম না,,,,
এমনিতেই আমি ওতটা কলেজে যাই না,,,
যেদিন বাসায় বোরিং লাগে সেদিন কলেজে যাই,,,,
আমার তেমন কোনো ফ্রেন্ড নেই,,,,
একা থাকতে ভালো লাগে,,,,
অনেকে আমাকে নিজের বন্ধু ভাবলেও,,,, আমি ভাবি না,,,
কারন আমার সময় সময় মনে হয় আমি আমার নিজেরি না অন্য কারো কেমন করে ভবো,,,,
এক সপ্তাহ পর,,,,, ⏰⏰
রাস্তা দিয়ে হাটছিলাম,,,
হটাৎ কারো ডাক শুনতে পেলাম,,,
পিছনে তাকিয়ে দেখি
হিয়া আপু,,,
ওই শুন ((হিয়া আপু))
জি বলেন ((আমি))
কলেজে আসিস না কেন ((হিয়া আপু))
ভালো লাগে না  কলেজে আর কিসের জন্যই বা যাবো((আমি))
কেন বন্ধু বান্ধব দের সাথে আড্ডা দিতে যাবি ((হিয়া আপু))
আমার একা থাকাটাই পছন্দ তাই বন্ধু বান্ধব পাতাই না ((আমি))
খুব অদ্ভুত কথা বলিস তো দেখছি ((হিয়া আপু))
আমি এমনি,,,
কাল কলেজে আসবি (হিয়া আপু))
দেখি ((আমি))
দেখি না আসবি,,, আর তোর নাম্বার আছে না আসলে ফোন দিয়ে আনব,,, দরকার হলে বাসা থেকে টেনে আনব((হিয়া আপু))
আচ্ছা যাব।। কিন্তু কেন যাব সেটা বলেন ((আমি))
এমনিতেই আসবি ((হিয়া আপু))
আমি কারন ছাড়া  কারো কথা মানতে পারব না ওটা আমার অভ্যাস না।। আপনি যদি কোনো কারনে ডাকেন তাহলে আমি যাব কিন্তু অহেতুক বিনা কারনে ডাকলে আমি যেতে পারব না ((আমি))
আসবি না মানে,।।। তোকে আসতেই হবে ((চোখ দেখিয়ে))
আচ্ছা আমি যাব।। ((আমি))
হুম এইতো ভালো ছেলের মতো কথা ((হিয়া আপু))
আচ্ছা আমি এখন আসি ((আমি))
কই যাবি আমি নামিয়ে দিচ্ছি আয়((হিয়া আপু))
ধন্যবাদ বলার জন্য কিন্তু আমি হেটেই চলে যেতে পারব ((আমি))
আচ্ছা যা ইচ্ছে কর। কিন্তু কাল জেনো কলেজে তোকে দেখি((হিয়া আপু))
আমি যখন বলেছি নিশ্চয়ই যাব((আমি))
হুম মনে থাকে জেনো।।(+
কথাটা বলেই হিয়া আপু চলে গেলো,,,
আমিও বাসায় চলে আসলাম,,,
রাতে খেয়ে ঘুমিয়ে পরলাম,,,
কারন আজ কোনো কাজ নেই,,,
এমনিতেও আমি কাল কলেজে যেতাম,,,
বাসায় ভালো লাগছিলো না ,,
সকালে ঘুম থেকে উঠে  ফ্রেশ হয়ে ব্যাগটা ঘারে নিয়ে বেরিয়ে পরলাম,,,,
কলেজে ঢ সামনে একটা চায়ের দোকান পরে ,,,
ওখানে গিয়ে চায়ের অর্ডার দিয়ে সিগারেট ক্ষেতে লাগলাম,,,,
চা খেয়ে কলেজের ভিতরে গেলাম,,,
একটা ক্লাস করে বের হয়ে আসলাম,,,,
বাইরে আসতেই হিয়া আপু সামনে  এসে দারালো,,,
আপনি,,,,
আয় ((হিয়া আপু))
হিয়া আপুর পিছন পিছন  যেতে লাগলাম,,৷
কি জানি আবার নিজের ভাইকে ডাক দিলো নাকি,,,
যদি আবার জেলে দিয়ে দেয়  কলেজের আইন ভংগো করার জন্য ।।
এই যে আপু কই যান ((আমি))
হিয়া আপু আমার দিকে একবার তাকিয়ে  আবার হাটতে লাগলো,,,
তারপর মাঠের এক কোনায় গিয়ে বসলো,,,
আমি গিয়ে পাশে দারিয়ে রইলাম,,,
কি হলো বস,, ((হিয়া আপু))
আমি একটু দূরত্ব বজায় রেখে বসলাম,,,,
এত দূরে গিয়ে বসলি কেন কাছে এসে বস ((চোখ দেখিয়ে))
না ঠিক আছে ((আমি))
আমার ঠিক নেই কাছে এসে বস ((হিয়া আপু))
তারপর একটু কাছে গিয়ে বসলাম,,,
সকালে খেয়েছিস ((হিয়া আপু))
হুম খেয়েছি ((আমি))
দেখলাম তো কলেজের সামনের দোকানে কি খেলি (হিয়া আপু))
আমার সকালে খাওয়া লাগে না  ওই দুটো জিনিস দিয়েই সকাল পার হয়ে যায় ((আমি))
তোর বাসায় রান্না করে কে ((হিয়া আপু))
আমি করি ((আমি))
তুই রান্না করতে পারিস ((হিয়া আপু))
হুম ((আমি))
যাক ভালোই হলো((হিয়া আপু))
কেন বলুন তো((আমি))
আমি তো রান্না করতে পারি না ((হিয়া আপু))
তাতে ভালোর কি হলো ((আমি))
ওতো বুঝতে হবে না,, ((হিয়া আপু))
তারপর দুজনে কিছুক্ষন চুপচাপ রইলাম,,,
আচ্ছা তুই এমন এলোমেলো থাকিস কেন((হিয়া আপু))
এলোমেলো থাকাটাই ভালো লাগে,, কার জন্য গুছিয়ে থাকবো ((আমি))
তোর কথার মধ্যে কোনো রসকষ নেই ((মুখ বেকিয়ে))
সকলের মন যোগানো কথা আমি বলতে পারি না।। তাই হয়তো সবার আমার কথা ভালো লাগেনা((আমি))
আচ্ছা বাদ দে চল ((হিয়া আপু))
কোথায়,,,,
সকাল থেকে কিছু খাই নি ক্ষুদা লাগছে চল কিছু খেয়ে আসি ((হিয়া আপু))
আপনি যান আমি বাসায় যাব ((আমি)).
আমি বাসায় নামিয়ে দিয়ে আসব এখন চল ((হিয়া আপু))
না আমার ক্ষিদে নেই ((আমি))
আরেকটা কথা বললে তোর খবর আছে ((রাগ দেখিয়ে))
তারপর হিয়া আপু হাত ধরে টানতে টানতে ওর গাড়িতে নিয়ে গেলো,,,,
গাড়ি চালিয়ে  একটা বড় রেস্টুরেন্ট আসল,,,,
দুজনে ভিতরে গেলাম,,,,
কি খাবি বল((হিয়া আপু))
আমি কিছু খাব না ((আমি)।
(সব সময় গল্প গ্রুপে দেয়া সম্ভব হয় না তাই add দিয়ে সাথে থাকবেন)
মেজাজ খারাপ করাবি না বলে দিলাম ((হিয়া আপু))
আমি কিছু না বলে চুপচাপ বসে রইলাম,,,
হিয়া আপু নিজেই খাবারের অর্ডার দিলো,,,
কিচ্ছুক্ষন পর খাবার চলে আসলো,,,
আমি শুধু খাবার নাড়াচাড়া করতে লাগলাম
কারন খাওয়ার কোনো ইচ্ছেই আমার নেই,,,
সেটা হয়তো হিয়া আপুর চোখে পরছে,,,
হিয়া আপু আমার দিকে রাগি লুক নিয়ে তাকালো,,,
কি হলো খাচ্ছিস না কেনো((হিয়া আপু))
ইচ্ছে নেই ((আমি)
ইচ্ছে নেই কেনো ((হিয়া আপু))
জানিনা ((আমি))
তারপর হিয়া আপু আমার কাছে এসে আমার মুখের সামনে খাবার ধরলো,,,,
নে খেয়ে নে ((হিয়া আপু))
করুনা করছেন ((আমি))

চলবে 🔛🔛🔛🔛

ধন্যবাদ 🙏🙏🙏🙏🙏
Share:

পাগলী প্রেমিকা

পাগলী প্রেমিকা
লেখক : রাজু ইসলাম সাগর(রাজকুমার মেঘ)
পর্ব : --১
রাজু তার বাবা মায়ের বড় ছেলে। তার একটি ছোট বোন আছে। রাজু  এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর তার বাবা মারা যায়। এরপর  রাজু আর লেখাপড়া করতে পারে নি সংসারের দায়িত্ব নিতে হয়। যদিয় এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করে। রাজুর ছোট বোন এবার দশম শ্রেণীতে পড়ে।
রাজু ২ বছর ধরে কাজ করে সংসার চালচ্ছে। রাজু নিজের ওয়ার্কশপ আছে। নিজের স্বাধীনতায় কাজ করে সে।অবসর সময়ে
রাজু ফোসবুকে গল্প লিখে। অনেকেই তার গল্প পড়ে।

সকাল বেলা রাজু  ঘুমথেকে উঠে তার বোন হাবিবার ডাকে। ফ্রেশ হয়ে রাজু খেতে যায় খাবার টেবিলে।
তখন রাজুর মা বলে।

মা : বাবা কিছু বাজার লাগবে।
রাজু : বাজারের লিস্ট লিখে দাও রিমন(রাজুর ওয়ার্কশপের কর্মচারী) কে দিয়ে পাঠিয়ে দিবো।
মা : আচ্ছা।
খাবার খেয়ে রাজু বের হতে যাবে আবার ঘরে আসে।
রাজু : হাবিবা এদিকে আসতো।
হাবিবা : (ঘর থেকে বের হয়ে) হুম বল।(হাবিবা রাজুর আদরের ছোট বোন তাই হাবিবা ছোটবেলা থেকে আবিরকে তুই করেই ডাকে)
রাজু : এইনে স্কুলে খরচ করিস (৫০ টাকা দিয়ে)
হাবিবা : আচ্ছা।
রাজু: আর কিছু লাগবে?
হাবিবা : আসার সময় আইসক্রিম নিয়ে আসিস।
রাজু : আচ্ছা আনবো।
হাবিবা : সাবধানে যাস।
রাজু : মা আমি যাই।
মা : (ঘর থেকে)সাবধানে যা বাবা।
তারপর রাজু তার দোকানে যায়।
বাজার গুলো পাঠিয়ে দিয়ে কাজ শুরু করে। এমন সময় রাজুর মোবাইলে কল আসে। প্রথম বার কল ধরতে পারেনি। দ্বিতীয় বার কল আসার পর রাজু  পকেট থেকে মোবাইল খুলে দেখে বিদেশি নাম্বার থেকে কল আসছে। রাজু ভেবেছে তার বন্ধু কল করেছে।কল রিসিভ করে বলল।

রাজু : হ্যালো।
ওপাশ থেকে মেয়েলি কন্ঠে বলল।
মেয়ে : হ্যালো রাজু বলছেন।
রাজু : জী রাজু বলছি। আপনি কে?
মেয়ে : আমার পরিচয় জানাটা জরুরি না। আমি আপনার সাথে কথা বলবো।
রাজু : কেন আমি আপনার সাথে কথা কেন বলবো।
মেয়ে : আপনাকে বলতেই হবে।
রাজু : দুর এখন কাজ করছি কল রাখেন।
মেয়ে : আচ্ছা কাজ শেষ হলে কল দিয়েন।
রাজু: (কল কেটে দেয়)
রাজু ভাবছে মেয়েকি পাগল নাকি। তারপর কাজে মন দেয় রাজু। দুপুরে রাজু বাসায় গিয়ে খেয়ে আসে। কাজ করে রাত হয়ে যায়।
দোকান বন্ধকরে হাবিবার জন্য আইসক্রিম নিয়ে বাসায় যায়।

বাসায় গিয়ে হাবিবাকে আইসক্রিম দিয়ে,খেয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে এমন সময় মোবাইল বেজে উঠে।
রাজু মোবাইল হাতে নিয়ে দেখে সকালে মেয়ের নাম্বারে কল আসছে।
রাজু ভাবছে বিদেশি নাম্বারে কল দিয়ে বাংলায় কথা বলে। কে হতে পারে এই মেয়ে। এটা ভাবতে ভাবতে কল কেটে যায়। আবার কল আসে। রাজু  কল ধরার সাথে সাথে।
মেয়ে : আপনি আমাকে মিডস কল দিয়েছেন না কেন।
রাজু : আমার কোনো ইচ্ছা নেই আপনার সাথে কথা বলার।
মেয়ে : আপনাকে বলতেই হবে।
রাজু: না বললে আপনি কি করবেন?
মেয়ে : আপনার ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক করেছি। বাজে পিক ছারবো যদি কথা না বলেন।
রাজু: বিশ্বাস করি না।
মেয়ে :  তহলে দেখুন একটি পোষ্ট অনলি মি দেওয়া আছে পাবলিক করে দিবো।

তারপর রাজু কল কেটে ফেসবুকে গিয়ে দেখে সত্যিই পোষ্ট করানো।
রাজুর তো মাথা ঘুরছে কে হতে পারে এই মেয়ে।
মেয়ে  আবার কল করে বলে......................(চলবে)

ভুলত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন।
Share:

নাম:(F.S.B.M)... পর্ব:১

নাম:(F.S.B.M)... পর্ব:১

লেখক:মোঃসাগর

কোনো দেশে এক সরকার যেমন চিরকাল থাকে না, তেমনি মানুষের জীবন ও এক ভাবে থাকে না। এক সময় অনেক আনন্দে ছিলাম, এখন কষ্টে আছি ২০১৬ গেলো ভাবছি ২০১৭ ভালো যাবে,,কিন্তু না ২০১৭ গেলো ভাবছি ২০১৮ ভালো যাবে,, কিন্তু না ২০১৮ গেলো ভাবছি ২০১৯ ভালো যাবে,,কিন্তু না ২০১৯ ও যাচ্ছে কিন্তু সময়টা তো এখনো ভালো যাচ্ছে না। যত দিন যায় সময়টা ধীরে ধীরে ততটাই কঠিন হতে থাকে। পারবো কি কোনো দিন সেই আগের মতো  করে জীবনটাকে চালাতে, কাছে পাবো কি আপন মানুষ গুলো আগের মতো করে, হতে পারবো কি সেই আগের সাগর, থাকতে পারবো কি কোনো নেসা ছাড়া বেচে থাকতে, হতে পারবো কি সেই ক্লাসের ভদ্র ছাএ টা, সময়ের সাথে সাথে আপন মানুষ গুলোও পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে, ভাগ্যটা কি সারাজীবন এমনি থাকবে, ভাগ্যটা কি ভাবে বদলাবে? ভাগ্যটা তো ২০১৬ থেকেই খারাপ হওয়া শুরু করছিল, কারন ২০১৬ সালেই তো 'বাবা' টা দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছিলো, তার পর থেকেই শুরু করলাম বাস্তব দুনিয়াটাকে দেখতে,বাবা না থাকলে জিবনটা যে কতোটা কঠিন সেটা বুঝতে শুরু করলাম, চলে এলো ২০১৭ তখন আমি নবম শ্রেণিতে, বিভিন্ন ধরনের বন্ধুদের সাথে থাকতে থাকতে কখন যে কোন খারাপ কাজ টা করতাম নিজেই বুজতে পারতাম নাহ, বাস্তব জীবন টা আরো কঠিন হতে লাগলো, চলে এলো ২০১৮ মোটামুটি ভালোই যাচ্ছিলো কোথাথেকে চলে এলো এক স্বপ্নের রাজ কুমারী মুখে মুখস পরা অবস্থায় এসে আমার হৃদয় থেকে কি জানো নিয়ে গেলো তখনি প্রথম বারের কোনো মেয়েকে না দেখাই পরেগেলাম তার মায়াবী চোখের প্রেমে, স্বপ্ন বেশ ভালোই দেখছিলাম কিন্তু সরল মন গুলো বুঝার তো কোনো মানুষ নেই, বাস্তবতার সমনে নিরব হয়ে গেলাম চলে এলো ২০১৯ ভেঙ্গে গেলো সেই সাজানো স্বপ্ন গুলো। কুরে কুরে শেষ হয়ে যাচ্ছিরে স্বপ্ন ভাঙা যন্তনায়,  এখনো তোকে নিয়ে  অনেকটা ভাবি (সুমাইয়া বৃষ্টি মাধুরি) , সেটা তুই কোনো দিনই বুঝলিনারে। দিন যতোই যাচ্ছে সময়টা ততোটাই কঠিন হচ্ছে। বাস্তব তো এটাই প্রথম ভালোবাসা সত্যিকারের হয়, সেটা ভুল সময় ভুল মানুষের সাথে,,,
Share:

পাগলির_পাগল

গল্প #পাগলির_পাগল😍😘😘
--শুনলাম তোর নাকি বিয়ে ঠিক হয়েছে?🤔
--হুম🤭
-- এতে বড় কথাটা আমার থেকে লুকাতে পারলি?
--হ্যা,পারলাম।
--তুই না আমাকে ভালবাসতি।
--কই,না তো।🙄
---তুই না বলতি, তুই আমার বউ হবি।
--আরে,ওসব তোহ মজা করে বলছি।
--তোকে না আমি খুন করে ফেলবো,দেখিস তুই।
--উফ; তুই বুঝিস না কেন,আমি তোকে শুধু জাস্ট ফেন্ড ভাবি।
--আচ্ছা,বলতো তোর হবু বরের মধ্যে কি এমন আছে,যা আমার মধ্যো নেই,আমি তোর কোন দিক দিয়ে অযোগ্য
--তুই না,আমি তোর অযোগ্য।
--ফালতু কথা বলবি না বলে দিলাম।
--বললে কি করবি?
--তোকে যে বিয়ে করতে আসবে তার ঠাং ভেঙ্গে দিবো।
--পাগল হইলি না কি, কি বলিস এসব।
--হ্যা,, আমি তোর পাগল।
--আমি কোন পাগলের বউ হতে পারবো না,তুই কি করবি?
--তোকে ন্যাড়া করে দিবো।
--এমা,কি সব বলিস,পাগল কোথাকার।
--তুই বুঝিস না কেন? এই পাগলটা তোকে খুব ভালোবাসে, তোর জন্য সব করতে পারবো।
--সব করতে পারবি?
--হুম
--আমার জন্য মরতে পারবি?
--না,
--হাত কেটে আমার নাম লেখতে পারবি?
--না,
---আমাকে চাঁদ এনে দিতে পারবি?
--না,
---খুব তো বললি সব পারবি,আমি বুঝে গেছি তুই আমাকে ছাই ভালবাসিস।
--তোর জন্য মোরতে পারবো না,কারন আমি মরলে তোকে কে ভালবাসবে,তোর জন্য হাত কাটতে পারবো না,কারন তোর নাম আমার হৃদয়ে লিখেছি,তোকে চাদ এনে দিতে পারবো না,কিন্তু আমার ভালবাসার আলো দিয়ে তোর চার পাশ জোৎসা করে রাখবো।
--এমনন ভাবে বলিস না,প্রেমে পরে যাবোতো।
--কে মানা করছে, ভালবাসিস আমাকে?
--হ্যা
--কি হ্যা?
-ভালবাসি,
--সত্যি
--হুম সত্যি, সত্যি তিন সত্যি। আমাকে ছেড়ে কখনো যাবি না তোহ কথা দেয়।
--যত বাধা আসুক তোর হাত কখনো ছাড়বো না।
--পাগল কোথাকার,
--হুম,পাগলির পাগল।
Story টা কেমন লাগলো কমেন্ট এ জানাবেন কিন্তু নেক্সট আরো গল্প পেতে ফ্রেন্ড request দিয়ে সাথে থাকবেন....
👎👎
✍️রিফাত✍️
Share:

ইসলামিক গল্প এক_মুঠো_ভালোবাসা পর্ব_০১ .

ইসলামিক গল্প
এক_মুঠো_ভালোবাসা
পর্ব_০১
.

মাত্রই শ্বশুর বাড়িতে এসেছি, হঠাৎ করে মেসেঞ্জারে মেসেজ। দেখতে পাচ্ছি না নতুন বউ, চারদিকে মেহেমান, নতুন বউ মোবাইল হাতে ব্যপারটা ভালো দেখায় না। তারউপর যার সাথে আমার বিয়ে হয়েছে মানে আমার হাজবেন্ড, তিনি আমার পাশে নেই।
একটু সুযোগ পেয়েছি, দেখে নিলাম মেসেজটা,
"তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে, গাঢ় মেরুন রঙয়ের শাড়িতে তো তোমাকে দারুণ লাগে"
আমি তো অবাক, ইনি কীভাবে আমাকে দেখতে পেলো। চারদিকে দেখতে লাগলাম, না তেমন কাউকেই দেখতে পেলাম না।
আমি মেসেজটা দেখে মোবাইল বন্ধ করে দিলাম, কোন রিপ্লে দিইনি। জিজ্ঞাস করার প্রয়োজনও মনে করিনি।
কখনো দিইনি।
বিয়ে বাড়ির কোলাহল ভালো লাগছে না, অনেক ক্লান্ত। কখন একটু বিশ্রাম নিব সেই চিন্তায় বিভোর। হঠাৎ আবার মেসেজ,
" চেহারা এমন মলিন দেখাচ্ছে কেন?"
কী আশ্চর্য, ইনি কী আমার বরের পরিচিত কেউ? আমি আঁৎকে উঠলাম! যদি বরের পরিচিত হয়, অনেক বড় ঝামেলায় পড়ে যাবো।
যখন যে পরিস্থিতি আসবে দেখা যাবে। শুধু শুধু ফালতু চিন্তা করে মেজাজ খারাপ করার কোন মানে হয় না।
ফাইনালি সেই ক্ষণ টা আসলো, সবাই আমাদের একা করে দিয়ে চলে গেলো। ওহ হ্যা বলা হয়নি, আমার বরের নাম ইয়াসির। সে বললো,
: তুমি তো আধুনিক মানসিকতার মেয়ে, আমাকে বিয়ে করতে রাজি হলে কীভাবে? যদিও হিজাব পরো। কিন্তু তা প্রপার পর্দা হয় না।
--তাই নাকি? তো শুনি কীভাবে প্রপার পর্দা করে? আপনিই বা আমাকে বিয়ে করতে রাজী হলেন কেন? আপনি চাইলেই বিয়ে না করতে পারতেন! আপনি দাঁড়িওয়ালা হুজুর হয়ে একজন আধুনিক মানসিকতার স্মার্ট মেয়েকে বিয়ে করতে রাজী হলেন কেন?
: সেটা তো তুমি জানোই,
-- না আমি জানি না, আমাকে জানানো হয়নি।
: তাহলে তোমার আব্বু থেকেই জেনে নিও।
--জানার দরকার নেই। জানতে চাই না। আরেকটি কথা কখনো আমার কাছেও আসার চেষ্টা করবেন না। আমাকে ছুঁয়ে দেখারও চেষ্টা করলে অনেক বড় অসুবিধা হয়ে যাবে।
: যাক বাবা, আমি আমার বিয়ে করা বউকে ছুঁতেও পারবো না। এ কেমন শাস্তি!!
-- হ্যা ছুঁতে পারবেন না। আপনি ফ্লোরে ঘুমাবেন আর আমি খাটে। খবরদার খাটে একদম আসবেন না!!
:: সকালে হালকা ঠান্ডা পরে তো। হেমন্তের লাস্টে ভালই শীত পরে, কতদিন এভাবে ফ্লোরে ঘুমাতে হবে। কয়দিন পরে ঠান্ডায় জমে যাবো।
এতক্ষণ এত কথা বলতেছি কিন্তু একবারও ইয়াসিরের দিকে তাকায়নি, এমনকি লোকটা কেমন সেটাও জানি না। মনে হলো একটু দেখি, সে দেখতে কেমন!! পরিপূর্ণ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালাম।
মন্দ নয়, চাপ দাঁড়ি, জোড়া ভ্রু, চওড়া বুক, উজ্জ্বল শ্যামলা বর্ণ, হাসিটাও চমৎকার। কিন্তু দাঁড়িটা না হলে খুবই ভালো হতো। আবার প্যান্টটাও পরেছে কেমন ক্ষেত মার্কা টাকনুর উপর।
সে আমার দিকে তাকানোর সাথে সাথে চোখ নামিয়ে নিলাম।
আমাকে তার দিকে তাকাতে দেখে বললো,
: ক্ষুধা পেয়েছে? সারাদিন মনে হয় রাগে কিছুই খাওনি। কিছু খাবে? একটু পরে অবশ্য রাতের খাবার খেতে নীচে নামতে হবে।
-- না আমি কিচ্ছু খাব না, আমার ক্ষুধা নেই।
: আচ্ছা তাহলে, আমি এশার নামাজটা পড়ে নিই, তুমিও কাপড় চেঞ্জ করে অযু করে আসো।
আমি কাপড় চেঞ্জ করেছি, কিন্তু অযু করিনি। মুখ হাত ধুয়ে ফেলেছি।
তারপর বিছানায় আধশোয়া হয়ে প্রিয় লেখকের গল্প পড়তে লাগলাম।
মোবাইলটা এমন হয়ে গেছে, যেন মোবাইল ছাড়া চলেই না।
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে একবার প্রিয় লেখকের আইডি থেকে ঘুরে আসি, সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল হাতে নিই।
যদিও বা তিনি ধর্মীয় গল্প লেখেন, আমি আধুনিক হলেও উনার গল্পগুলো আমাকে বেশ টানে। বেশ ভাল লাগে! উনার অসাধারণ আল্লাহ প্রদত্ত লিখনি।
গল্প পড়া শেষ না হতেই ইয়াসির মানে আমার স্বামী বললো,
:চল ভাত খেয়ে আসি। মাঝরাতে ক্ষুদা লাগবে কিন্তু।
--না আমি খাব না। নীচেও যাব না।
: লুকিয়ে নিয়ে আসবো?
-- না নিয়ে আসতে হবে না, আমার হাত পা সবই আছে।
: ঠিক আছে তাহলে, আমি খেতে যাচ্ছি।
আমি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে গল্প পড়ায় মনযোগ দিলাম।
তিনি এসে ফ্লোরে বিছানা করে ঘুমিয়ে পড়লেন। কেউ একবার ভাত খেতে ডাকতেও আসেনি। জানি না সে নীচে গিয়ে সবাইকে কী বলেছে?
আমিও শুয়ে পড়লাম, কিন্তু ঘুম আসছে না। এত তাড়াতাড়ি কী ঘুম আসে? এই বাড়ির মানুষগুলোও কেমন জানি, ১১ টা বাজার আগেই পুরো বাড়ি মৃত্যুপুরীতে পরিণত। অবশ্য শহরের বাহিরের দিকেই বাড়িটা। কিছুটা গ্রাম গ্রাম ভাবও আছে। শুনেছি আমার বরের বাবা মা গ্রামেই থাকে। গ্রামে বিশাল সম্পদের দেখাশুনা করে। এখানে শুধু ইনিই থাকেন একজন কাজের মানুষসহ। আমার মাথায় আসে না পুরুষ মানুষ কী কাজ করবে!!! অবশ্য ইনার বাবা মা মাঝেমাঝে এসে কিছুদিন থেকে যান।
সারাদিন কী কী হয়েছে আমার সাথে ভাবতে ভাবতে হঠাৎ ক্ষুধা লেগে উঠলো। কিন্তু কী করবো? নতুন বাড়ি, নতুন বউ , কোথায় কী আছে জানি না। কী খাব? এত রাতে নীচে কীভাবে যাই, নীচে গেলেই কে কী বলবে, যদি কেউ দেখে ফেলে।
একবার কী ইয়াসিরকে ডাকবো? না না ডাকবো না উনি তো খেতে বলেছিলেন, আমিই খায়নি আবার উনাকে কীভাবে ডাকবো। আমারও না এত ক্ষুদা লাগে?
আস্তে আস্তে উনার পাশে গেলাম,
--এই যে শুনছেন? শুনুন? শুনুন না!
উফফ বিরক্তিকর এতবার ডাকার পরও কেউ কীভাবে এত এত ঘুমায়।
অনেক ডাকাডাকির পর অবশেষে উনি।চোখ তুলে তাকালেন,
: কী হয়েছে?
-- না মানে ঘুম আসছে না, ভালো লাগছে না। বই হবে?
: কী ধরণের বই?
--থ্রিলার টাইপের।
উনি অন্য রুম থেকে "সাইমুম ১ " নামে একটা বই এনে দিলেন। বইটা দিয়েই উনি আবার ঘুমাতে চলে যাচ্ছেন।
ক্ষুধার কথা বলতে গিয়েও বলতে পারলাম না। উনি আবার নাক ডাকা শুরু করলেন। মোটা মানুষেরাই নাক ডাকে, ইনার ওয়েট তেমন নয় তাও নাক ডাকে? আমি আবার ডাকতে গেলাম,
--শুনছেন, এই যে শুনুন!
উফ! উঠে না। একটু আধো আধো চোখ খুলেই বললো,
: আবার কী হলো?
-- শার্লক হোমস আছে?
: হু
শার্লক হোমস এনে দিলো। আমি উনার দিকে তাকিয়ে আছি,
: কিছু বলবে?
-- না মানে?
: ক্ষুদা লেগেছে?
যাক বাবা, কীভাবে যেন বুঝে গেলো! নীচের দিকে তাকিয়েই বললাম,
-- হুম,
: আস, নীচে যাই।
নীচে গিয়ে, আমি ডাইনিংয়ে বসে আছি, উনি ফ্রিজ থেকে খাবার নিয়ে ওভেনে গরম করে নিয়ে আসলেন, আর আমি গপাগপ খেয়ে যাচ্ছি।
লক্ষ্য করলাম উনি তৃপ্তি নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। মনে মনে বললাম,
"ইনি ধার্মিক হলেও ভালো মানুষ, কেয়ারিং। কিন্তু শুনেছি দাঁড়িওয়ালা হুজুরেরা ভালো হয় না। হয়তো ভালো মানুষের অভিনয় করছে, আমাকে পাওয়ার জন্য"
যাই হউক, এভাবে তাকিয়ে থাকলে কীভাবে খাব? বললাম
-- এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন? আপনি খাবেন?
: তুমি তো জিজ্ঞাসই করনি আমি খেয়েছি কি না?
-- জিজ্ঞাস করার কী আছে, আপনি তো খাওয়ার জন্যই নীচে এসেছিলেন।
তিনি কিছু না বলেই মুখটা মলিন করে চুপ হয়ে থাকলেন। কেন জানি না খুব মায়া হলো, বললাম,
--খাননি?
এবারও কিছু বললেন না,
-- আসুন আপনিও খেয়ে নিন!
এবার উনি সহাস্যে প্লেটে খাবার নিলেন, বুঝতে পারলাম সত্যিই উনি খাননি।
-- খাননি কেন?
: আমার মিষ্টি বউটাকে রেখে কীভাবে খাই?!
--খবরদার আমাকে বউ বলবেন না।
: তো বউকে বউ না বলে কী বলবো?
আমি আর কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ খেয়ে উপরে চলে আসলাম।
:
;
চলবে,,,।
কেমন হলো কমেন্ট বক্সে যানাবেন।
২য় পর্ব দেখতে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট অথবা ফলো করে রাখবেন।
Share:

লাইফ_পার্টনার💞 #Life__Partner💞 #Part_1

#লাইফ_পার্টনার💞
#Life__Partner💞
#Part_1
#Writer__Nupur

🕟🕜সকালবেলা ঘুম ভাঙল এলার্মের শব্দে। পৃথিবীর সবচেয়ে বিরক্তিকর শব্দ হচ্ছে এই এলার্মের শব্দ। মনে হয় এইতো সবেমাত্র এলার্মটা সেট করে ঘুমানোর জন্য চোখ বন্ধ করতে না করতেই এলার্ম বেজে উঠল। আমার যখন উঠতে হয়, তার আধা ঘন্টা আগের এলার্ম সেট করে রাখি। কারণ, আর ৫ মিনিট আর ৫ মিনিট করতে করতে আমার আধা ঘন্টা লেগেই যায় বিছানা ছেড়ে উঠতে। আবার, সকাল সকাল উঠতে এতটাই আলসেমি লাগে যে, ফোন বা ঘড়িতে এলার্ম সেট করে দূরে রেখে দেই যাতে এলার্ম বন্ধ করতে উঠে যেতে হয়। আর এই ফাঁকে ঘুমটাও ভেঙে যায় কিছুটা।

যাই হোক বহুত হলো এলার্মের কাহিনী।


এখনও বিছানায় শুয়ে আছি। ভাবছি কোন বাহানায় আজকে কলেজে যাওয়াটা ভেজতে দেওয়া যায়। কলেজে গেলেও মজা লাগে কিন্তু আজকে যেতে মন চাইছে না। চুপচাপ শুয়ে আছি। আমি না হয় চুপচাপ থাকলাম, এলার্ম বাবাজিকেও না হয় ডান্ডা দিয়ে ঠান্ডা করে দিলাম। কিন্তু আমার মাতা শ্রী!! ওনাকে চুপ কে করাবে?? এক গলায় ডেকেই চলেছে। ধুর, ভাল্লাগেনা!!


আম্মু: অরি! এই অরি!


নাম আমার #অরিয়ানা_আজরিন... সবাই অরি বলেই ডাকে। আম্মুর চেঁচানো আর সহ্য করতে না পেরে উঠে ডাইনিং রুমে গেলাম।

আম্মু: কি রে অরি! ৭:৩০ বাজে, এতক্ষণ লাগে উঠতে? এলার্ম দিয়ে রাখিসনি?
.
আমি: এলার্মের কি দরকার? তোমার চেঁচানোই তো যথেষ্ট। আচ্ছা আমি কি ঠশা? এতোবার ডাকা লাগে?
.
আম্মু: আহা! এতই শ্রবণশক্তি আপনার তো এতক্ষণ লাগলো কেনো উঠে আসতে?
.
আমি: আসলে আমি ভাবছিলাম...
.
আম্মু: কলেজে যাবিনা। এই তো? এতো ভাবনা চিন্তা বাদ দিয়ে তারাতারি যা রেডি হ। ৮:৩০ এ তোর ফিজিক্স প্রাইভেট আছে। তারপর কলেজ করে বাসায় ফিরবি।
.
আমি: আজকে না হয় না যাই প্লিজ!!!!
.
আম্মু: মার খাওয়ার আগে তারাতারি যা। আর এই তুই অনিকের শার্ট পড়ছিস আবার? কি আবোলতাবোল জিনিস পড়ে থাকিস এগুলো? তোকে আমি জামাকাপড় কিনে দেই না?
.
আমি: শার্ট পড়তে মন চাইছিলো তাই পড়ছি। আমার ভাইয়ের শার্ট আমি পড়ছি। বাই দ্য ওয়ে,, নবাবজাদা কই?
.
আম্মু: আমার ছেলে তোর মতো কুঁড়ে হয়। অনিক মর্নিং ওয়াকে গেছে। এখন তুই বকবক না করে তারাতারি যা তো। তোদের সবকিছু রেডি করে দিয়ে আমারও ক্লিনিকে যেতে হবে।


আমি আমার রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। সাইন্স নিয়ে পড়তে পড়তে জীবনটা তামা তামা হয়ে গেলো। আম্মু নিজে ডাক্তার, তাই আমাকেও বানাতে চায়। কিন্তু আমার মেডিকেল পড়ার প্রতি আগ্রহ নেই। ইন্টারমিডিয়েটে সাইন্স পড়তেই তো বেহাল অবস্থা। দুই মাস পর ইয়ার চেন্ঞ্জ পরীক্ষা। তাই পড়ালেখার বেশ চাপ। ফ্রেশ হয়ে, রেডি হয়ে, ব্যাগ নিয়ে নাস্তা করতে গেলাম।


অনিক: গুড মর্নিং, আপি!
.
আমি: মর্নিং মর্নিং! কি খাস?
.
অনিক: বয়েল্ড এগ আর ভেজিটেবল স্যালেড। খাবা?
.
আমি: ধুর! সরা তোর ভেজিটেবল। আম্মু আমার পরোটা আর চা দাও।
.
অনিক: তুমি প্রতিদিন এই পরোটা আর চা তে কি পাও? পরোটাতে কত্ত তেল থাকে আর তুমি তো ইচ্ছা মতো চিনি দিয়ে চা কে শরবত বানাও। সকাল সকাল এইসব খাওয়া ঠিক না, আপু।
.
আমি: তুই তোর ঘাসপাতা গিল। তুই কি বুঝবি পরোটা চায়ের মজা??
.
আম্মু: এই নে অরি, তোর চা আর পরোটা। চুপচাপ দুইজন খেয়ে নাও।


আমি খাওয়ার পর বেরিয়ে পড়লাম। পকেটে অনেকগুলো বাদাম নিলাম। সারা রাস্তা খাবো আর যাবো। প্রাইভেট শেষ করে, কলেজে গেলাম। একটার পর একটা বোরিং বোরিং ক্লাস এ্যাটেন্ড করলাম। ৪র্থ বেন্ঞ্চে বসি আমি,নিলিমা(নিলি),ঝুমুর(ঝুম) আর ইরা। প্রতিদিন আমরা ৪ জন একসাথে বসি। অনেক মজা করি। আমাদের ৪ জনের বন্ধুত্ব অনেক গভীর।

কলেজ শেষ করে, ৪ জন একসাথে গল্প করতে করতে বের হলাম। সোজা গেলাম চটপটির দোকানে। চটপটি ছাড়া দিনই অসম্পূর্ণ। চটপটি খেতে খেতে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে যার যার বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। বেশ ভালোই কড়া রোদ পড়েছে আজ। আমি বাস স্ট্যান্ডের কাছে এসে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। রাস্তার সাইড দিয়ে ছোট্ট একটা বিড়ালের বাচ্চা হাটছে। " Aww" কত্ত কিউট একটা বিলাই😍😍


আমি এক দৃষ্টিতে বিড়ালের দিকে তাকিয়ে আছি। বিড়ালটা হাঁটতে হাঁটতে রোডে চলে গেলো। রাস্তাও অবশ্য ফাঁকা, কিন্তু যদি কোনো গাড়ির নিচে চাপা পড়ে? তাই আমি বিড়ালটিকে রাস্তা থেকে সরাতে যাচ্ছিলাম। যাওয়া শুরু করতেই কোথা থেকে যেনো একটা কালো কার স্পিডে চলে আসছিলো। আমি দৌড়ে গেলাম বিড়ালটিকে তুলতে। বিড়ালটিকে দ্রুত হাতে তুলে সরে এলাম। আর একটু হলেই গাড়িচাপা পড়তো। মেজাজটা তো খারাপ হয়ে গেলো। গাড়িটা অল্প একটু সামনে গিয়েই থেমে গেলো। কিন্তু কেউ গাড়ি থেকে নামছে না।

ভাবলাম দাঁড়া ব্যাটা আজকে তোকে মজা দেখাচ্ছি। বিড়ালটিকে হাতে নিয়েই আমি গাড়ির দিকে এগোচ্ছিলাম।


...(next part Pete add diye sathei thakun)
.
.
বিড়ালটা হাতে নিয়েই গাড়ির দিকে এগোচ্ছিলাম। আজব! কেউ গাড়ি থেকে নামছে না! একটু উঁকিও তো মানুষ দেয়, নাকি?
গাড়িটা পুরো ব্ল্যাক কালারের। কিছুই দেখা যাচ্ছেনা ভালোমতো। আমি গাড়িটির সামনে দাঁড়িয়ে জানালায় নক করলাম। নক করার পরেও জানালার গ্লাসটা একটু নামালো না আর গাড়ি থেকেও কেউ বের হলো না। কেমন অভদ্র মানুষ! আমি আরেকবার জানালায় নক করতেই, গ্লাসটা একটুখানি নামালো। তারপরেও কিছুই দেখতে পাচ্ছিনা। এমনভাবে গ্লাসটা খুলল যে, ভেতর থেকে আমায় দেখতে পাচ্ছে কিন্তু আমি পাচ্ছিনা।

আমার কিছুই যায় আসেনা। ভেতরে কে আছে সেটা দেখার জন্য তো আর গাড়ির জানালার সাথে বানরের মতো ঝোলাঝুলি করতে আসিনি আমি। আমি এসেছি কথা শোনাতে। দেখা গেলেই কি আর না গেলেই কি।


আমি : ও হ্যালো মিস্টার! গাড়িকে কি উড়োজাহাজ মনে করেন নাকি? এত্ত সুন্দর একটা বিলাইয়ের বাচ্চা চোখে পড়ে না? নাকি কাইল্লা মার্কা গাড়িতে থাকতে থাকতে চোখে ছানি পড়ছে??


আমি কথা বলেই যাচ্ছি। কিন্তুু অপাশ থেকে কোনো শব্দই আসছে না। আরও কিছু বলার জন্য মুখ খুলতেই, হঠ্যাৎ গ্লাসটা আবার বন্ধ করে দিলো। গাড়ি নিয়ে সোজা চলে যাচ্ছে। আমি হা করে যাওয়া দেখছি। কত অভদ্র মানুষ! মনে মনে বলছি, শয়তান লোক মাঝ রাস্তায় যেন তোর গাড়ি খারাপ হয়ে যায়!

বিড়ালটিকে ফুটপাতের একটা সাইডে ছেড়ে দিয়ে রিকশা নিলাম। ফুপির বাসায় যাচ্ছি ডিরেক্ট। দাদীও আমাদের সাথেই থাকে। দুইদিনের জন্য ফুপির বাসায় গিয়েছিলো। আজ আমার দাদীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা। আমার নিজের বাড়ির পর সবচেয়ে বেশি ভালো লাগার জায়গা হলো ফুপির বাসা। প্রায় সময় তো আমার ফুপির বাসায়ই কাটে।
আমার যখন ৭ বছর বয়স, তখন আব্বু মারা যান। দাদী গ্রামে থাকতেন।আব্বু মারা যাওয়ার পর আমাদের কাছে চলে আসেন। আম্মুও সারাদিন ক্লিনিকে ব্যস্ত থাকে। ফুপি আর ফুপা আমাকে আর অনিককে নিজের সন্তানের থেকে বেশী আদর করে। আমার আর ফুপার বন্ডিংটা বেস্ট। ফুপা সবসময় বলে, "অরি হলো আমার বড় মেয়ে"...যেকোনো ধরনের কথা আমি ফুপার সাথে শেয়ার করতে পারি। একদম বন্ধুর মতো।

রিকশার ভাড়া মিটিয়ে ফুপির বাসার ভিতর ঢুকতেই আমার জান দুইটা আমার কাছে এসে আমায় জড়িয়ে ধরলো। প্রিয়া আর প্রীতি আমার জমজ দুইটা আদরের ফুপাতো বোন। অনিকের সমান একটা ফুপাতো ভাইও আছে, পিয়াস। পিয়াস আর অনিক একই ক্লাসে একই স্কুলে পড়ে। আমি ব্যাগ খুলে পিচ্চি দুইটার দিকে চকলেট এগিয়ে দিতেই হাত থেকে নিয়ে দৌড় দিলো।


দাদী: কি রে অরি! এতো দেরি কেনো? আমি কখন থেকে রেডি হয়ে বসে আছি তোর জন্য।
.
আমি: কেনো গো, দীদা? তোমার মেয়ে বুঝি তোমায় খেতে দেয় না! তাই আমার পথ চেয়ে বসে আছো?


পেছন থেকে ফুপি এসে কানটা টেনে ধরলো।
.
.
ফুপি: খালি পাকা পাকা কথা, তাই না? যা ফ্রেশ হয়ে এসে লান্ঞ্চ কর তারাতারি।
.
আমি: এই যে তুমি আমায় নির্যাতন করছো, তো? ফুপাই শুধু আসুক। সব বলে দিবো।
.
ফুপি: ওরে আমার ফুপাই এর ভাতিজি রে! তারা তারি লান্ঞ্চ কর তো। পিচ্চি দুইটাকেও সাথে নিয়ে বস। তখন থেকে বলেই যাচ্ছে, আপুণি এলে খাবো। তোর কথা ছাড়া এখন আর কারও কথাই শুনবে না।


আমি ব্যাগ রেখে ফ্রেশ হয়ে পুচকিগুলোর কাছে গেলাম।

আমি: দিলবারস!! আসো বেবি..খাবানা?
.
প্রীতি: অরিপু, আমায় কোলে নাও।
.
প্রিয়া: না অরিপু! আমায় কোলে নাও।


আমি আমার দুই দিলবারকেই কোলে করে এনে প্লেটে ভাত বেড়ে নিলাম। তারপর মাছের কাঁটা বেছে বেছে ওদেরও খাইয়ে দিলাম আর নিজেও খেয়ে নিলাম। কিছুক্ষণ পরই দাদীকে নিয়ে বাসায় ফিরলাম।

আম্মু রান্না করে রেখেই গেছে। আমরা তো খেয়েই এসেছি। শুধু অনিক ফিরলে খাবে।

রাতে আম্মু ফিরার পর সবাই একসাথে ডিনার করে, যার যার রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।

পরের দিন ঐ একইরকম প্রাইভেট, কলেজ চলল। কলেজ শেষে আমি,নিলি,ঝুম আর ইরা চটপটির অর্ডার দিয়ে চুটিয়ে আড্ডা মারছি। একটু পরেই খেয়াল করলাম, রাস্তার এক সাইডে কালো একটা গাড়ি দাড় করানো।

কৌতুহল জাগলো মনে। কিছুক্ষণ ভালো মতো চেয়ে থেকে বুঝলাম, এইটা তো কালকের ঐ মিস্টার অভদ্রর সেই কাইল্লা গাড়িটা। আজকেও এখানে কি করে? ধুর! যা মন চায় করুক। আমার কি?

চটপটি খেয়ে ওরা তিনজন চলে গেলো। আমি রিক্সার জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু একটা রিক্সাও পাচ্ছিনা। রোদও পড়েছে খুব। আরেকবার তাকিয়ে দেখলাম গাড়িটা এখনও ওখানেই দাঁড়িয়ে আছে। রোদের তাপ আর ভালো লাগছে না। রিক্সা না পেয়ে লোকাল বাসেই উঠে পড়লাম। বাসে উঠতেও আমার বেশ লাগে। বাসে উঠলে নিজেকে বড় বড় মনে হয়। ভাড়া দিতে গিয়ে ঝগড়া করি ইচ্ছা করে। মজা লাগে।

বাসে উঠার পর বাসের জানালার বাহিরে হাত বের করে পানি দিয়ে হাত ধুচ্ছিলাম। হঠ্যাৎ কিছুটা পেছনে নজর পড়তেই, চোখ ছানাবড়া হয়ে গেলো। এই কাইল্লা গাড়ি বাসের পিছু পিছু আসে কেনো? নাহ! হয়তো একই রাস্তায় যাওয়া দরকার তাই হয়তো।

কিছুক্ষণ পড়ে দেখি, তাও গাড়িটা বাসের পেছনে। সেদিন তো বিলাইকে উপেক্ষা করে খুব স্পিডে গাড়ি চালাচ্ছিলো। এখন বাসকে ওভারটেক করে যায় না কেনো? সেদিন মনে মনে বলেছিলাম, এই গাড়িটা যেন খারাপ হয়ে যায়। সেই কথাটা সত্যি হয়ে আবার গাড়ির স্পীড কমে গেলো নাকি? এমনটা হলে একদম ঠিক হয়েছে।

বাদাম চিবোতে চিবোতে বাকি রাস্তা কেটে গেলো। বাস থেকে নেমে, গলি তে ঢোকার আগেই দেখলাম, গাড়িটা না থেমে আমার সামনে দিয়ে চলে গেলো।
আমিও আর এই বিষয় নিয়ে কিছু ভাবলাম না। সোজা বাসায় চলে আসলাম।

বাসায় এসে দেখি দীদা ঘুমুচ্ছে। আমি গোসল করে খেয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। খুব ক্লান্ত। আজ আবার ডান্স ক্লাসও আছে। আমি,ইরা,ঝুম আর নিলি মিলে একটা ডান্স ক্লাস চালাই। ছোট থেকেই আমার নাচের প্রতি খুবই ঝোঁক। ছোট থেকেই শিখেছি। এখন নিজে শিখছিও আর অন্যদের শিখাচ্ছিও। আমি আর ঝুম মূলত নাচ শিখাই। নিলি আর ইরা অন্য কাজ করে। একটা মেডামও আছে আমাদের সাথে। আমি নাচ শেখাই সপ্তাহে তিনদিন। শনি,সোম,বুধ। বাকি দিন ঝুম। আজ সোমবার।

এক ঘন্টা ভালোই ঘুম দিয়ে উঠলাম। পরে ডান্স ক্লাসের জন্য রেডি হয়ে নিলাম। অনিকও ফিরে এসেছে। দীদা আর অনিককে রেখে আমি বেরিয়ে পড়লাম।
ডান্স ক্লাসে পৌঁছে ক্লাস শুরু করে দিলাম। বদ্ধ ঘরে নাচতে ভালো লাগে না। তাই গার্ডেনে চিলেকোঠার মতো কিছুটা দেখতে একটা জায়গা ভাড়া নিয়েছি। ওখানেই নাচ শেখাই।

কিছুক্ষণ প্র্যাকটিস করানোর পর ১০ মিনিটের বিরতি দিলাম। পানির বোতল হাতে আমি আর নিলি একটা সাইডে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। কথা বলতে বলতে কিছুটা সামনে চোখ পড়তেই অবাক হলাম। আবার সেই কালো গাড়ি! না না, একইরকম দেখতে তো অনেক গাড়িই থাকতে পারে। সেদিন কলেজের সামনে গাড়িটার আগা গোড়া পর্যবেক্ষণ করতে করতে গাড়ির নাম্বার মুখস্থ হয়ে গেছে। একটা স্টুডেন্টকে পাঠালাম গাড়ির নাম্বার টা দেখে আসতে। মেয়েটা দেখে এসে নাম্বার টা বলতেই দেখি নাম্বার টা ঐ গাড়ির সাথে সম্পূর্ণ মিলে গেলো। এই গাড়ি এইখানে কি করে? আগে তো কখনও দেখিনি। কেয়িনসিডেন্স না হয় একবার হয়। তাই বলে বার বার? নিশ্চয়ই কোনো না কোনো ঘাপলা আছে।

একটু পরে দেখলাম, গাড়িটা চলে গেলো। বিরতি শেষ হওয়ার পর বাকি ক্লাস নিয়ে বাসায় ফিরলাম। গাড়ির ব্যাপারটা মাথা থেকে নামছেই না।


......চলবে......

Share:

10 টি মজার ঘটনা ।

10 টি মজার ঘটনা ।

.
.
.
.
1/ তুমি সাবান দিয়ে চোখ পরিষ্কার করতে
পারবেনা ।
2/ তুমি তোমার চুল গুনতে পারবেনা ।
3/ তোমার জীব্বাহ বাহিরে থাকা অবস্থায়
নিষ্শাস নিতে পারবেনা ।
4/ তুমি এখন 3 নাম্বারটা চেষ্টা করছ ।
6/ যখন তুমি 3 নাম্বারটা চেষ্টা করছ তখন
দেখলে তুমি স্বাশ নিতে পারছ ।
আর তোমাকে কুকুরের মত লাগছে ।
হা হা হা হা হা।
7/ এখন তুমি হাসছ ।
কারন তূমি বোকা হলে ।
8/ তুমি পাঁচ নাম্বারটা মিছ করছ ।
9/ এখন তুমি দেখছ সত্যি 5 নাম্বারটা আছে
নাকি ।
10 এখন তুমি অনেক মজা পাইছ,,
Share:

বেশ্যার আত্মচিৎকার

#বেশ্যার আত্মচিৎকার
#পর্ব ১
#রায়হান রাফী 


10 বছর বয়সে রোড এক্সিডেন্ট মারা যায় কনকের মা বাবা।
মা বাবা মারা যাওয়ার পরে কনক সম্পূর্ণ একা হয়ে যায়।
ককিছুদিন তার এক দুঃসম্পর্কের চাচার বাড়িতে থাকে,,,
কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই চাচার কামুক দৃষ্টি রানীর উপরে পড়ে।
হঠাৎ একদিন রানীকে বাসায় একা পেয়ে চাচা তার কামুক দৃষ্টি সমঝোত করতে পারেনি।
হায়নাদের মতো লেলিয়ে পরে ছোট রানীর উপর।
রানী তো খুব ছোট চাচা কি করছে রানী বুঝে উঠতে পারছে না।
রানী - চাচা আমার ব্যাথা লাগে।
চাচা - একটু আদর করি।
রানী -এভাবে কিভাবে আদর করে,,,খুব কষ্ট হইতাছে চাচা।
চাচা - একটু কষ্ট কর,,,তোকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিব,,,তুই পড়ালেখা করবি।।
রানী - হাচা আমি আবার পড়ালেখা করমু।
চাচা - আরে হ এহন একটু কষ্ট কর।
রানী - আচ্ছা।

কিছু দিন পর ছোট রানীর ভমি ভমি ভাব হতে শুরু করে মাথা ঘুড়ায় পেটের আকার
টাও পরিবর্তন হতে থাকে।।
চাচা বুঝতে পারছে অলরেডি রানী প্রেগন্যান্ট হয়ে গেছে।।
চাচার তো মাথায় হাত এইবার যেই ভাবেই হউক ছোট রানী টাকে ঘর থেকে
বের করতেই হবে।
চাচা শহরের এক নারী খদ্দেরের সাথে কথা বলে।
২০ হাজার টাকা দিবে রানী কে তাদের কাছে দিয়ে দিতে বাকি টা উনারা বুঝে নিবে।।
চাচা খদ্দেরের কথায় রাজি হয়ে যায়।।

চাচা - রানী চল তোকে শহরে বড় স্কুলে ভর্তি করাবো।
তুই বড় স্কুলে লেখাপড়া করবি।।
রানী - হাচা চাচা আমি অনেক অনেক খুশি।
চাচা - তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে ঝা।
রানী - আচ্ছা চাচা।

এতোক্ষন যেই চাচার কথা বলছি উনার নাম করিম মাতাব্বর,,,,
উনার বউয়ের নাম হাজেরা বেগম।।।
হাজেরা বেগম রানী কে প্রচন্ড ভালোবাসে।
কারন রানী দেখতে পরীদের মতো,,,মায়াবি চেহারা মিষ্টি হাসি,,,হরিনি চোখ।
সব মিলিয়ে অসাধারন।
খুব মিষ্টি করে কথাও বলে রানী।
রানী কে শহরে পাঠাবে শুনে হাজেরা বেগম করিম মাতাব্বরের কাছে
জানতে চায় ঢাকা কেন পাঠাবে রানী কে।

করিম মাতাব্বর - নিজে খাইতো পারো পরের মাইয়া খাওইবা?
হাজেরা বেগম - আমরা ঝা খাই আমাদের সাথে দু মুঠো খেয়ে থাকবে।
করিম মাতাব্বর - তোর মতো মহিলা বিয়ে করায় আজ আমার এই অবস্তা।
ওকে বিক্রি করে দিব ২০ হাজার টাকা দিব আমারে।।
একটা কথা তাও বলবি না তাহলে তোকেই ডিভোর্স দিয়ে দিব।।
হাজেরা বেগম - ছিঃ আপনার মতো লোক আমার স্বামী আমার ঘৃনা লাগে।
আসলে আমার কপাল টাই খারাপ।
করিম মাতাব্বর - একটা কথাও বলতে বারন করছি তোরে আমি।
রানী - ও চাচা আমি প্রস্তুত হইছি বের হইবেন না?
আমার পূরনো বই গুলো নেয়া লাগবো নি চাচা?
করিম মাতাব্বর - নানা ওরা নতুন বই দিবে তোরে।।
রানী - আমরা বের হবো কখন?
করিম মাতাব্বর - এইতো এখন ই।
রানী - আমি চাচি কে বলে আসি?
করিম মাতাব্বর - না তোর চাচি অসুস্থ এখন যাওয়া লাগবে না তোর চাচির কাছে।।
রানী - চাচা কি হইছে চাচীর?উনারে অসুস্থ রেখে আমরা বের হবো?
করিম মাতাব্বর - আরে তোরে শহরের বাবুরা স্কুলে নিবনা তো দেরি করলে।
রানী - ও আচ্ছা।
করিম মাতাব্বর - হ বের হ আমি আসতেছি।
রানী - আমি বাড়ির সামনে গিয়া দাড়াই।
করিম মাতাব্বর - হ

#করিম মাতাব্বর হাজেরা বেগমের রুমে ডুকে শাষিয়ে দিয়ে আসলো ঝাতে কেউ
রানীর ব্যাপারে জানতে চাইলে বলে শহরে স্কুলে ভর্তি করাইতে নিচি।
যদি উলটা পালটা বলে তাহলে হাজেরা বেগম কে ডিভোর্স দিয়ে দিব।
তারপর রানী এবং করিম মাতাব্বর দুজনে লঞ্চ যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
গোটা এক রাত লঞ্চের কেবিনেও করিম মাতাব্বর ছোট রানীর শরীর টা
হায়নার মতো উপভোগ করে।
সকালে ঘুম হীন ফেকাসে মুখের রানী কে নিয়ে খদ্দেরের উদ্দেশ্য রওনা হন
করিম মাতাব্বর।
সেই খদ্দেরের বাসা উত্তর বাড্ডা হোসেন মার্কেট করিম মাতাব্বর এবং রানী সুপ্রভাত
সিটিং সার্ভিস বাস যোগে উত্তর বাড্ডা এসে নামেন।
তারপর সোজা খদ্দেরের বাসা।
রানীর বয়স কম হলেও দেখতে লাম্বা সুন্দর মুখ টা বাটার মতো গোল চোখ গুলো
হরিনী এক কথায় অসাধারণ।
রানী কে দেখেই ওই মহিলার পছন্দ হয়ে যায়।
এতোখন যেই মহিলার কথা বলছি উনি উওর বাড্ডা নারী দেহ ব্যবসার মূল হোতা।
উনার নাম সেফালী বেগম।

রানী - চাচা আমাকে এখানে কেন এনেছেন?
করিম মাতাব্বর - উনি তোরে স্কুলে পড়াইবো।
রানী - ও আমি কি এইখানেই থাকমু?
করিম মাতাব্বর - হ
সেফালী বেগম - হ তুই এইখানেই থাকবি।

#চলবে
.........💙💚💛💜.........
   গল্পটি পরে কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবেন
....................................................................................
💗💖💕চাইলে ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট পাঠাতে পারেন 💚💙
❤💓💔💕💖💗💙💚💛💜💝💞💟❣🖤💌
Share:

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label