নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

Story:-বউয়ের অবহেলা [Season 2] Part:-1

Story:-বউয়ের অবহেলা
          [Season 2]

Part:-1

Witter:-Johny Ahmed.
[বিঃদ্রঃযারা "বউয়ের অবহেলা"গল্পটি পড়েন নাই তারা দয়া করে পড়ে নিবেন।না হয় এই গল্পটা বুঝতে পারবেন না]
হাসপাতাল থেকে মুক্তি পেলাম চার মাস পর।ভাবতেই অবাক লাগে এতো গুলোদিন কি ভাবে ছিলাম হাসপাতালে?ঈশিতা একটি বারের জন্যও খোঁজ নেয়নি?ডাক্তারের কাছ থেকে জানতে পারলাম চার মাসে ধরে এই হাসপাতালে ছিলাম।তার মানে ওই এক্সিডেন্ট এ আমার মৃত্যু হয়নি?কেনো বেঁচে গেলাম।আল্লাহ কেনো নিলো না?না জানি আরও কতো অবহেলা সহ্য করতে হবে?কতো অপমানিত হতে হবে?আর কতো কষ্ট সহ্য করতে হবে?ভাগ্যে কি এইটাই লেখা ছিলো?রাস্তা দিয়ে হাঁটতেছি আর কথা গুলো ভাবতেছি।পুরো শরীর ব্যাথা করতেছে।ব্যাথার কারনে ঠিক মতো হাঁটতে পারতেছি না।একটু পরপর মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠছে।মাথা ব্যাথাও ভীষণ বেড়ে যাচ্ছে।জীবনে চারটি মাস অতিবাহিত হয়ে গেলো কোমায় থেকে!কিন্তু ঈশিতা একবারের জন্যও আমার খবর নিলো না?তাহলে কি ওর মনে আমার জন্য বিন্দু মাত্র ভালোবাসা নেই?ওর জীবনে কি আমার জন্য একটুও জায়গায় নেই?আর জায়গা থাকবেই বা কেনো?আমি তো ছোটলোক।হয়তো ঈশিতা এখন নতুন কাউকে নিয়ে শুখে আছে।পাওয়া হলো না আর ঈশিতার ভালোবাসা।এইদিকে সন্ধ্যায় হয়ে আসছে।কোথায় যাবো কি করবো?আমার কাছে একটি টাকা ও নেই যে কিছু খাবো।প্রায় গভীর রাত হয়ে এসেছে।বসে আছি পেটের ক্ষুধা ও ব্যাথার্থ শরীর নিয়ে একটা ল্যামপোস্টের নিচে।ভাবতেই পারিনি জীবনে এমন দিনও পার করতে হবে।সবই নিয়তির খেলা। আনমনে বসে আছি আর আকাশের তারা গুলো দেখছি।আজকে তারাদেরকে ও একা লাগছে।আকাশে চাঁদটা ঠিকই উঠেছে কিন্তু আমার মনের আকাশটা আঁধার হয়ে আছে। হঠাৎ খেয়াল একটা গাড়ি এইদিকে আসতেছে।একবার ভাবলাম সাহায্য চাইবো আবার বসে পড়লাম।গাড়িটা আমার সামনে এসে থামলো।কি  ব্যাপার?গাড়িটা আমার সামনে দাঁড়ালো কেন?হয়তো ওদের কোনো কাজে দাঁড়িয়েছে।আমি গাড়ির দিকে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা করছি।চেনা চেনা মনে হচ্ছে।গাড়ি থেকে একজন লোক নেমে আসলো।আরে এতো আংকেল!চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো।দেখলাম আংকেল এর চোখে পানি।হয়তো কতগুলো দিনপর দেখা হলো তাই।আংকেল এসে আমার পাশে এসে চুপ করে বসলেন।আমি ও চুপচাপ বসে আছি।হঠাৎ নিরবতা ভেঙ্গে আংকেল বললেন.....
~কেমন আছো জনি?
-হুমমম আংকেল ভালোই আছি।যতোটা ভালো থাকলে মৃত্য ব্যক্তি মতো জীবন যাপন করা লাগে?
~কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বললেন"এতোদিন কোথায় ছিলে?
-এইতো আংকেল এক বন্ধুর বাসায়।তা বাসার সবাই কেমন আছে?(মিথ্যা বললাম।কারন সত্যি টা বলা যাবে না)
~হুমমম সবাই ভালো আছে।কিন্তু তোমার এ অবস্থা কেনো?কি রকম শুকিয়ে গেছো?ঠিক মতো খাও না নাকি?একদম বদলে গেছো?আর তোমার কপালে,হাতে এগুলা কিসের দাগ?মনে হয়তো কোনো কাটার দাগ।কি হইছে বলো তো।
-আমার কথা না হয় বাধদেন।ওই দিন সিড়ি দিয়ে নামার সময় পা পিছলে পড়ে গেছি।তাই একটু কাটা গেছে।ঈশিতা কেমন আছে???
~তোমার চলে যাওয়াতে সব চাইতে ভালো আছে ঈশিতা।[কথাটি শুনে অনেকটা কষ্ট পেলাম।এতো দিনেও আমার জন্য তার হৃদয়ে একটু ও মায়া জন্মালো না?]
 জানো তুমি যখন বাড়ি থেকে চলে গেছো তোমার আন্টির হার্টস্টোক হইছে!
(কথাটি শুনে ভীষণ কষ্ট পেলাম।আজকে আমার জন্য সব কিছু হয়েছে।সবকিছুর জন্য আমি দাই।
-আন্টি এখন কেমন আছেন?
~হুমমম আছে মোটামুটি।কিন্তু তুমি যদি না ফিরে যাও তাহলে তোমার আন্টির খারাপ কিছু একটা হয়ে যেতে পারে।
তুমি প্লিজ আমার সাথে চলো।

চুপ করে বসে রইলাম।কিভাবে যাবো আমি ওই বাড়িতে?আমি তো ঈশিতাকে কথা দিয়েছি আর কখনও ওর সাথে দেখা দিবো না।কিন্তু নিয়তি কেনো বারবার পরীক্ষার মুখে ফেলে আমাকে?আবার ঈশিতার সম্মুখীন হতে হবে।চাই না নতুন করে অবহেলা পেতে,চাই না নতুন করে কষ্ট পেতে।কিন্তু আন্টির জন্য ও যেতে হয়।কারন তিনি আমাকে নিজের ছেলের মতো আদর করতেন।আবার ও একটা কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হলাম।

~কি হইছে জনি?চুপ করে বসে আছো কেনো?প্লিজ চলো আমার সাথে।
-কিন্তু আমি তো যেতে পারবো না,আমি ঈশিতাকে কথা দিয়ে এসেছি আর কোনো দিন ওর সামনে যাবো না।
~তুমি কি তোমার কথা রাখতে গিয়ে তোমার আন্টিকে হারাবে?
পড়ে গেলাম আরেক চিন্তায়।ছোটবেলায়
আব্বু-আম্মুকে হারালাম কিন্তু আব্বু-আম্মুর অভাব টা আমাকে বুঝতে দেয়নি তারা,তাহলে আজকে কেনো আমার জন্য মরতে বসবে?এইটা হয় না।
-হুমমমম আংকেল আমি রাজি।
~এইতো আমার লক্ষী ছেলে,চলো।
এইটা বলে আমার কপালে একটা চুমু দিলেন আংকেল।আমি মুচকি হেসে গাড়িতে উঠলাম।গাড়িতে উঠে অবাক হয়ে গেলাম!ঈশিতা ও গাড়িতে রয়েছে!তার মানে কি ঈশিতা আমার সব গুলো কথা শুনে নিয়েছে?
আমি কিছু না বলে গিয়ে গাড়িতে বসলাম।শরীরের ব্যাথার জন্য ঠিক মতো বসতে পারছি না।খুব ব্যাথা করছে।তবুও কষ্ট করে বসে পড়লাম।চুপচাপ বসে রইলাম।আবার অনেক দিনপর ঈশিতার সাথে দেখা হলো।মনে পড়ে সেই দিনটার কথা যেইদিন ঈশিতা কলেজে সবার সামনে আমাকে জুতা দিয়ে মেরেছিলো।ওইদিন ঈশিতার সাথে কলেজে গেলাম।সিড়ি দিয়ে ওঠার সময় হঠাৎ ঈশিতার এক বান্ধবীর সাথে ধাক্কা লাগে আমার।আমি মেয়েটিকে সরি বললাম,মেয়েটি আমাকে কিছু না বলে চলে গেলো।কিন্তু কোথায় থেকে ঈশিতা এসে আমাকে ওর পায়ের জুতা খুলে আমাকে মারতে লাগলো।ঈশিতা তার পায়ের হিলওয়ালা জুতা গুলো দিয়ে  মারতে মারতে আমার শরীর রক্তাক্ত করে দেয়,কিন্তু আমি জায়গা থেকে সামান্য সরে দাঁড়ায়নি।ওই সময় শুধু চোখ দিয়ে পানি জড়েছে।ঈশিতার বান্ধবী এসে ঈশিতাকে বলল"ওর কোনো দোষ নেই,আসলে আমি অনেক তাড়াহুড়োতে ছিলাম ভালো ভাবে খেয়াল করিনি তাই ধাক্কা লাগলো।আর জনিতো নিজে থেকে আমাকে ধাক্কা দেয়নি তাহলে তুই ওকে শুধু শুধু শাস্তি দিচ্ছিস কেনো ঈশিতা?
>আমি জানি ওই ছোটলোক নিজে থেকে তোকে ধাক্কা দিয়েছে দিশা(ঈশিতার বান্ধবীর নাম দিশা)।এই বলে আবার মারতে থাকে আমাকে।প্রায় আধমরা হয়েগেছি ওই দিন।ওই সময় ১৬ দিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছে আমাকে।
শুধু মাত্র একটা ভুলে জন্য সবার সামনে আমাকে অপমানিত করলো।সবার সামনে আমাকে মারলো।কথা গুলো ভাবতে ভাবতে চোখে পানি চলে এসেছে।আমি কান্না করতেছি ঈশিতা বুঝে পেলে,তাই আমি তাড়াতাড়ি চোখ মুছে নিলাম।
এইসব কথা ভাবতে ভাবতে গাড়ি এসে থামলো ঈশিতাদের বাড়িতে।আমি দৌড়ে গেলাম আন্টির কাছে।আন্টি শুয়ে আছে।কি রকম শুকিয়ে গেছেন।মনে হয় ঠিকমত খায় না।ঠিকমত ঘুমায় না,ঠিক মতো ওষুধ ও খায় না।আমি গিয়ে আন্টির পাশে বসলাম এবং মাথায় হাত রাখলাম।আমার হাতের স্পর্শ পেয়ে আন্টি জেগে গেলেন।আমাকে দেখে আন্টি   অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন আমার দিকে।আন্টির চোখ ছলছল করছে,,,আমাকে আন্টি পাগলের মতো চুমু দিতে লাগলেন।
-কেমন আছ আন্টি?
=আগে ভালো ছিলাম নারে।তুই এসে গেছিস আমি এখন খুব ভালো আছি।কিন্তু তোর এই রকম অবস্থা কেনো?কপালে কাটার দাগ,হাতেও অনেক বড় কাটার দাগ রয়েছে।
-ওই টা আন্টি তেমন কিছু না,,,সিঁড়ি দিয়ে নামতে পড়েগেছি তাই একটু কেটে গেছে।
=আমার কেনো যানি বিশ্বাস হচ্ছে না তোর কথা।কেনো জানি  তোর কথা মানতে পারছি না।
-না আন্টি ওই রকম কিছুই না।
=আচ্ছা তুই ফ্রেশ হয়ে আয় আমি তোকে খাবার দিচ্ছি।
-আচ্ছা আন্টি।
আমি চলে যেতে লাগলাম।আন্টি আবার আমাকে পিছন থেকে ডাক দিলেন।
-জ্বী আন্টি বলো।
-এই দিকে আয় তো।তোকে জড়িয়ে ধরি না অনেক দিন হইছে।
আমি মুচকি হেসে আন্টির কাছে গেলাম। আন্টি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন।ঠিক তখনই আমি ব্যাথায় আহহহহ করে চিৎকার দিয়ে উঠলাম।আমার চিৎকার শুনে সবাই ভয় পেয়ে গেলো।
=কি হইছে জনি?
-আন্টি হঠাৎ পিঠে ভীষণ ব্যাথা করে উঠলো।
=কই গেখি?
আমার পরনের টি-শার্ট টা উল্টিয়ে আন্টি
বড়সড়ো একটা ধাক্কা খেলেন বুঝতে পারলাম।সাথে সাথে আংকেল আর ঈশিতা ও।কিন্তু কি এমন হইছে বুঝতে পারলাম না।
=সত্যি করে বল জনি তোর কি হইছে?তুই আমাকে মিথ্যা কথা বললি কেনো?
-আরে আন্টি মিথ্যা বলবো কেনো?আমি তো সত্যি বলতেছি।
=তুই সত্যি বলছিস তাই না?এক থাপ্পড় দিবো?তোর পিঠে ওইটা কিসের দাগ?
-কই কিসের দাগ?
আমি আয়নার সামনে দিকে দেখতে লাগলাম।দেখে আমি নিজেই অনেক বড় ধাক্কা খেলাম!আমার পিঠের প্রায় অর্ধেক টা কাটা।তার মানে ওই এক্সিডেন্ট এই রকম হইছে?কিভাবে বেঁচে গেলাম?এতো বড়ো আঘাত হওয়ার পরেও বেঁচে গেলাম?
=জনি তোকে আমার কছম সত্যি করে বল কি হইছে?
কি করি এখন?সত্যি টা তো বলতেই হবে।
-আসলে আন্টি আমার এক্সিডেন্ট হইছে!ওই দিন বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটা গাড়ির সাথে ধাক্কা লাগে আমার।আমি এতোদিন ধরে আমার কোনো বন্ধুর বাসায় না হাসপাতালে কোমায়  ছিলাম।আর আজকে চারমাস পর জ্ঞান ফিরেছে।
এইবার আন্টি হাউমাউ করে কেঁদে দিলেন।আমি গিয়ে আন্টিকে সান্ত্বনা দিতে লাগলাম।কোনো মতে আন্টিকে ঠান্ডা করলাম।এরপর আন্টিকে বুঝিয়ে-সুজিয়ে চলে আসলাম আমার রুমে।ফ্রেশ হতে গেলাম,ঠিক মতো কিছু ফ্রেশ হতে পারছি না।কোনো মতে ফ্রেশ হয়ে নিচে চলে আসলাম খাওয়ার জন্য।আন্টি আমাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিলেন।তবে একটা জিনিস খেয়াল করলাম ঈশিতা আজকে আমার সাথে এক টেবিলে বসে খেলো।অনেকটা খুশি হলাম।এরপর খাওয়া-দাওয়া শেষ করে রুমে চলে আসলাম।একটু ঘুমানোর চেষ্টা করলাম।কিন্তু পিঠ ব্যাথা জন্য পারছি না।তবুও কোনো মতে চিত হয়ে শুয়ে পড়লাম।

#চলবে?

(বিঃদ্রঃভুলত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন।আর গল্পটা কেমন হচ্ছে জানাতে ভুলবেন না কিন্তু।আর কপিবাজ রা একটু দূরে থাইকেন।ধন্যবাদ সবাইকে।)
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label