নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

ভিলেন_বর Part_10

#ভিলেন_বর
#Writer_Sinthiya_Simthi
#Part_10

ইশরা খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে। তারপর সবার পছন্দ অনুযায়ী ব্রেকফাস্ট তৈরি করতে লাগলো।
এতো সকালে ইশরাকে দেখে অবাক হয়ে যায় আদ্রর আম্মু।

আদ্রর আম্মুঃ-তুই এতো সকালে কি করছিস.?

ইশরাঃ-তেমন কিছুই না আম্মু।

আদ্রর আম্মুঃ-কিছু তো একটা করছিস.?

ইশরাঃ-সকালের নাস্তা তৈরি করছিলাম।

আদ্রর আম্মুঃ-তুই সর তোর করা লাগবে না আমি নিজেই করে নিবো।

ইশরাঃ- না আজ আমি করবো।

আদ্রর আম্মুঃ-আচ্ছা কর কিন্তু ময়না তোকে হেল্প করবে।

চলে গেল আদ্রর আম্মু।
ইশরা আদ্রর আব্বু-আম্মুর জন্য চা ময়নাকে(কাজের মেয়ে)দিয়ে পাঠিয়ে দিলো তাদের রুমে।
.
.
নাস্তা তৈরি শেষে ইশরা ফ্রেশ + অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হতে রুমে চলে গেল।
গিয়ে দেখে আদ্র এখনো ঘুমে মগ্ন।
আদ্রকে অনেক বার ডাকলো কিন্তু আদ্র কোনো সাড়াশব্দ করলো না।
তাই বাধ্য হয়ে কয়েকবার ইশরা আদ্রকে হালকা ধাক্কা দিলো।কিন্তু ফলাফল শূন্য।
এবার ইশরা আদ্রকে জোরে ধাক্কা দিবে পরিকল্পনা করে যেই ধাক্কা দিবে তার আগেই ইশরার হাত ধরে টান দিয়ে আদ্রর পাশে শুইয়ে দিলো ইশরাকে।

ইশরা অবাক চোখে আদ্রকে দেখছে।হঠাৎ করেই আদ্র ইশরাকে কোলবালিশের মতো জড়িয়ে ধরলো। এক পা ইশরা গায়ের ওপর আর একটা হাত পেটের ওপর।

ইশরাঃ- আম্মম্মম্মু গোওও

ইশরার চিৎকার শুনে ধড়ফড় করে উঠে যায় আদ্র।

আদ্রঃ-কি হয়েছে তুমি এভাবে চিৎকার দিলে কেনো.?

ইশরাঃ-একটা মস্ত বড় হাতি আমার ওপর পড়েছিল।

আদ্রঃ-হাতি এই রুমে.?তুমি কি আমার সাথে মজা করছো.?

ইশরাঃ-আজ্ঞে না জাহাপনা আমি আপনার সাথে মজা করছি না।

আদ্রঃ-তবে.?

ইশরাঃ-অনুগ্রহ করে যদি আপনি আপনার চরণ আমার ওপর থেকে প্রস্থান করিতেন তাহলে আমি খুবই উপকৃত হইতাম জাহাপনা।

আদ্র এতোক্ষণে খেয়াল করলো যে ওর পা ইশরার ওপরে।সাথে সাথে সরিয়ে নিলো।

আদ্রঃ-তা মহারানী আপনি যে আমার পায়ের ওজনটুকু সহ্য করতে পারেন না আমাকে করবেন কিভাবে.?

ইশরাঃ-কি যাতা বলছেন.?

আদ্রঃ-আমি বললেই যাতা হয়ে যায়.?আর তুমি বললে.?

ইশরাঃ-আমি কি বলেছি.?

আদ্রঃ-একটু আগে মনে নেই.?

ইশরাঃ-আমি কখন বাজে কথা বললাম.?

আদ্রঃ-মস্ত বড় হাতি এটা নিশ্চয়ই ভালো কথা না.?

ইশরাঃ-দেখুন আপনি কিন্তু আমার কথাগুলোকে বাজে বলতে পারেন না?তাছাড়া হাতি বলেছি এটা কি কোনো বাজে কথা.?

আদ্রঃ-সকাল সকাল দেখাবে।নট বেড আমি রাজি দেখতে।

ইশরাঃ-দূর আপনার সাথে কথা বলাই বেকার।

বিরক্ত নিয়ে ইশরা চলে গেল ফ্রেশ হতে।

আদ্রঃ-আজ হোক বা কাল তুমি দেখাবে আর আমি দেখবো।(জোরে জোরে)

ইশরাঃ-সেগুড়ে বালি।ঐ উদ্ভট কল্পনা বাদ দিন।(ওয়াশরুম থেকে চেঁচিয়ে)

আদ্রঃ-____কল্পনা বাস্তবের অভাব পূরন করে।
উদ্ভট কল্পনায় মন ক্যাঙ্গারুর মতো লাফিয়ে লাফিয়ে চলে।
________(আব্দুর রহমান শাদাব)
.
.
ওরা সবাই মিলে ব্রেকফাস্ট করছে তার মধ্য থেকে আদ্রতা বলে উঠলো

আদ্রতাঃ-ভাবি ভাইয়া তোমাকে কি গিফট দিয়েছে?

ইশরা খাচ্ছিল ওর কথা শুনে খাওয়া বন্ধ করে আদ্রর দিকে তাকালো।আদ্র পানি খাচ্ছিল আদ্রতার কথা শুনে মুখের সবটুকু পানি ইশরার গায়ে ফেলল।
আজ ইচ্ছে করে পানি ফেলে নি।আসলে ইশরা আর আদ্র পাশাপাশি বসেছিল।আদ্র মুখে পানি নিয়ে ইশরার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে ছিলো তখনি আদ্রতা এই কথা বলেছিল।ব্যাস হয়ে গেল।

ইশরাঃ-আমি চেঞ্জ করে আসছি।(বলেই চলে গেল)

আদ্রর আম্মুঃ-দিলি তো মেয়েটাকে  খাওয়া থেকে উঠিয়ে। এখন আর খাবে না।আবার কখন খাবে কে জানে.?

আদ্রতাঃ-কি রে ভাইয়া বল না

আদ্রঃ-শাড়ি!  হ্যাঁ একটা শাড়ি দিয়েছিলাম।

আদ্রতাঃ-তুই কি রে.?বউকে কেউ প্রথম শাড়ি দেয়.?

আদ্রঃ-তুই তোর জামাইকে শাড়ি দিস.?যত্তসব দূর
(মিথ্যে রাগ দেখিয়ে চলে গেল।)

আদ্রতাঃ-ঐ তোর মাথা ঠিক আছে.?ছেলেরা কি শাড়ি পড়ে নাকি যে আমার জামাই শাড়ি পড়বো.?আর আমি দিবো.?

আদ্র শুনতে পেল না চলে গেছে.

আদ্রর আব্বুঃ-কিসের শাড়ির কথা বলছে আদ্র.?

আদ্রতাঃ-আরে আব্বু ঐদিন ভাইয়াকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম কি দিয়েছে.?কিন্তু ভাইয়া বলে নি।বলবে কি করে ভাইয়া তো ভাবিকে তখন কিছু দেয় নি।কিন্তু পরে ভাইয়াকে দেখলাম একটা গিফট বক্স নিয়ে যাচ্ছে।তাই জিজ্ঞাসা করলাম আর তোমার হনু ছেলেটা বললো শাড়ি দিয়েছে।আমার মনে হয় কি ভাইয়া ভাবিকে অন্য কিছু দিয়েছে কিন্তু আমাদের কাছে বললো না লুকিয়ে গেলো।

আদ্রর আব্বুঃ-স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপার আমাদের না ঢুকাই ভালো।

আদ্রর আম্মুঃ-অবশেষে ওদের সম্পর্কটা ঠিক হলো।
_____________________________________________
আদ্র গাড়িতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ইশরার জন্য অপেক্ষা করছে।

অনেকক্ষণ পরে ইশরা এলো।

আদ্রঃ-কতোক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছি জানো.?যাও গিয়ে  গাড়িতে বসো.?

ইশরাঃ- আমি আপনার সাথে যাবো না।

আদ্রঃ- চুপচাপ  গিয়ে গাড়িতে বসো।

ইশরা কিছু না বলে আদ্রর পাশ কাটিয়ে রিকশা দিয়ে চলে যায়।

আদ্রঃ-বলেছিলাম আমার সাথে চলো। কিন্তু তুমি তো শুনলেই না। শুনবে আমার সব কথা শুনবে ওয়েট.?

ইশরাঃ- কালকে আব্বু বলেছিল আমাকে নিয়ে যেতে কিন্তু আপনি নেন নি।তাই আমি আর কোনোদিন আপনার সাথে যাবো না।(মনে মনে)

%%%%%%%%

ইশরা অফিসে গিয়ে জেসিয়ার সাথে অনেকক্ষণ কথা বললো। তারপর নিজের কেবিনে গিয়ে বসতে না বসতেই আদ্র ফোন দিয়ে বললো ওর কেবিনে যেতে।

ইশরা ভদ্র মেয়ের মতো আদ্রর কেবিনে চলে গেল।

আদ্রঃ-বসের কেবিনে আসতে হলে অনুমতি লাগে এটা নিশ্চয়ই আপনাকে মনে করিয়ে দিতে হবে না।

ইশরাঃ-সরি স্যার

আদ্রঃ-সরি বললেই সব ঠিক হয়ে যায় না মিস ইশরা.?

ইশরাঃ-কি করতে হবে এখন আমাকে.?

আদ্রঃ-অনুমতি নিয়ে আবার আসতে হবে.?

ইশরা রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে।গতকালও তো এসেছে কই তখন কিছু তো বলে নি যত্তসব। মনে মনে আদ্রর চোদ্দগুষ্টি উদ্ধার করছে।

ইশরাঃ- মে আই কাম ইন স্যার

আদ্রঃ-কাম ইন

ইশরাঃ-বলুন স্যার আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি.?

আদ্রঃ- জনসেবার সার্ভিস দিচ্ছেন নাকি.?

ইশরা কোনো কথা বললো না।

আদ্রঃ-আচ্ছা শোনো এই চেয়ারটা দেখছো.?

ইশরাঃ-হুম দেখেছি।আর এটা রোজ দেখি আপনি ঐ চেয়ারটাতে বসেন।

আদ্রঃ-হুম ওটা তোমার বসের চেয়ার। এখন তোমাকে একটা কাজ করতে হবে.?

ইশরাঃ- বলুন

আদ্রঃ-চেয়ারটাতে অনেক ধূলো জমেছে ওটা পরিষ্কার করো।

ইশরাঃ-আচ্ছা আমি করিয়ে দিচ্ছি (ইশরা চলে যেতে নিলো)

আদ্রঃ-করিয়ে দিচ্ছি বললে হবে না।তোমাকে করে দিতে হবে।

ইশরাঃ-আ,,,,আমাকে(অবাক হয়ে)

আদ্রঃ-জ্বি তোমাকে।তুমি অবাক হচ্ছো কেনো.?একটা সামান্য চেয়ারই তো।একজন এমপ্লয়ি হয়ে বসের জন্য এটা করতে পারবে না?

ইশরাঃ-আমি পারবো না।

আদ্রঃ-ভেবে বলছো?

ইশরাঃ-হুম

ইশরা তাকিয়ে দেখছে আদ্র ওর দিকে এগিয়ে আসছে।আদ্রকে এগিয়ে আসতে দেখেই ইশরা জোরে বলে উঠলো।

ইশরাঃ- স্টপ আমি করে দিচ্ছি।
জোরে জোরে নিঃশ্বাস ছাড়ছে ইশরা।

আদ্রঃ-কুল ডাউন ইশরা।এমন করতে থাকলে তো তোমার এই বয়সেই হার্ট অ্যাটাক হবে।

ইশরা কোনো কথা না বলে আদ্রর চেয়ারের ধূলো পরিষ্কার করতে লাগলো।

পরিষ্কার করা শেষ করেই ইশরা চলে যেতে নিলো।আদ্র ইশরার হাত ধরলো।

ইশরাঃ-বস হয়ে এমপ্লয়ির হাত ধরা ঠিক না।আমি তো সাধারণ এমপ্লয়ি তাই বসের উচিত আমাকে আদেশ দেয়া হাত ধরা না।

আদ্র ইশরার হাতে একটা ফাইল দিয়ে বলল,,,

আদ্রঃ-বসের উচিত তার এমপ্লয়িদের হাত ধরে শেখানো।আর আমি তোমাকে ফাইল দেয়ার জন্য হাত ধরেছি কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে না।তাই এই উদ্ভট কথা বন্ধ করো।

ইশরাঃ- ওহ
চলে যাচ্ছিল ইশরা পিছন থেকে আদ্র বলে উঠলো।

আদ্রঃ- দু ঘন্টার মাঝে ফাইলটা আমার চাই।

ইশরাঃ- এতো কম সময়ে আমি কিভাবে আপনাকে ফাইল ব্যাক করবো?

আদ্রঃ-আই ডোন্ট নো।

ইশরা রাগে দুঃখে আদ্রর কেবিন থেকে নিজের কেবিনে চলে গেল।

আদ্র মুচকি হাসি দিয়ে কাজে মনোযোগ দিলো।
.
.
দুইঘন্টা পর আদ্র ইশরার কেবিনে গেল। গিয়ে দেখলো ইশরা ফাইলের ওপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে।

আদ্রঃ-উফফ এই মেয়েটা এতো ঘুমায় কেনো.?

আদ্র ইশরার মাথার নিচ থেকে ফাইলটা নিয়ে চলে যায়।
ফাইলটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
.

ইশরা ঘুম ভেঙ্গে যায়।

ইশরাঃ- ও নো ৩:৫৬ তারমানে পুরো চার ঘন্টা ঘুমিয়েছি।না জানি স্যার ফাইলের জন্য কি বলবে.?
অফিস ছুটির সময় হয়ে গিয়েছে।আমাকে বাসায় যেতে হবে আর আকাশটাও মেঘলা।মনে হচ্ছে এখুনি বৃষ্টি হবে।ছাতাটাই তো নেই এখন আমি যাবো কি করে.?

এসব ভাবতে ভাবতে ইশরা আদ্রর কেবিনের সামনে এলো।

ইশরাঃ- মে আই কাম ইন স্যার.?

কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ইশরা আবার বললো

ইশরাঃ-মে আই কাম ইন স্যার.?

কিন্তু এবারও সাড়াশব্দ পাওয়া গেল না।
ইশরা কেবিনে ঢুকে অবাক হয়ে যায়।
কারণ আদ্র কোথাও নেই।

ইশরাঃ-তুই একটা বুদ্ধু কেউ নেই তবুও দু দুবার মে আই কাম ইন স্যার বলছিস(নিজের মাথায় নিজের বাড়ি দেয়)

কেবিন থেকে বেড়িয়েই ইশরারা মাথাটা গরম হয়ে যায়।
আদ্র এনির সাথে কথা বলছে আর এনি হেঁসে হেঁসে উত্তর দিচ্ছে।মাঝে মাঝে এমন হেসে কুটিকুটি হচ্ছে যে  আদ্রর গায়ের ওপর ঢলে পরে যায়।

আদ্রঃ-ইয়াহ এনি ইউ আর রাইট। এটা আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা।

এনিঃ-আমার  সাথে থাকলে আরও অনেক অজানা অচেনা কিছু জানতে এবং চিনতে পারবেন।

আদ্রঃ-কথা ভুল বলো নি।

ইশরা নিজের রাগ সামলে চলে যেতে নিলে আদ্র বলল,,,,,

আদ্রঃ-আরে ইশরা এখনো বাসায় যাও নি.?

ইশরাঃ-আমি তো বাসায় যাচ্ছি আপনি যাবেন না(দাঁতে দাঁত চেপে)

আদ্রঃ-আরো পরে যাবো তুমি যাও।

ইশরাঃ-কেনো.?

আদ্রঃ- নান ওফ ইউর বিজনেস

ইশরার মাথা গরম হয়ে গেল জোরে হেঁটে অফিস থেকে বেড়িয়ে গেলো।

ইশরাঃ-আই উইশ আমি গাড়ি/রিকশা পাওয়ার পর যেন এই বৃষ্টি নামে।

আল্লাহ ওর উইশ পূরণ করলেন না।কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বৃষ্টি এসে গেল।

হঠাৎ কে যেন ইশরার মাথায় ছাতা ধরলো।ইশরা ভাবলো হয়তো আদ্র কিন্তু

ইশরাঃ- তু,,,,,,,,,,,,,,,

Be continue,,,,,,,,,,,,,,,
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label