নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

আত্মার ভালোবাসা Golpo

#আত্মার ভালোবাসা
.

(চার এবং শেষ)
.
লিখা: Prince Taj
.
.
বাসায় এসে সেই আত্মার কথা মত ঘরে একটা ডিম লাইট জ্বালিয়ে দেয়। তারপর রাত ১০টায় রাড়িয়ালার ঘর থেকে খেয়ে এসে শুয়ে অপেক্ষা করতে থাকে সেই আত্মার। যত সয়ম যাচ্ছে তাজের অস্থিরতা তত বাড়ছে। রাত ১২টায় সেই ছায়া মূর্তি জানালায় এসে টোকা দেয়। তাজ তাকে দেখে মনে হয় অনেকটা খুশি হয়েছে। তাই আত্মা মেয়েটা আসতেই বলে....

-- আজ জানালার ওপাশে কেনো? আজ তো এপাশে থাকবেন বলছিলেন!

-- হ্যাঁ, আসবো তো, এতো তাড়াহুড়া কিসের?

-- সত্যি বলতে আমি অপেক্ষা সহ্য হচ্ছে না!

-- তাড়াহুড়োর কাজ শয়তানের হয়! আমাকে দেখে ভয় পাবেন বলছি!

-- আরে আমি একদমই ভয় পাবো না আপনি আসেন তো!

-- আচ্ছা, আপনি চোখ বন্ধ করেন, আমি খুলতে বললে খুলবেন।

-- আচ্ছা।

আচ্ছা বলে তাজ চোখ বন্ধ করে ফেলে, আর মনে মনে ভাবতে থাকে, আজ আমি নিজ চোখে আত্মা দেখবো, যা কখনো বিশ্বাসই করতাম না সেটাই আজ দেখবো। এসব ভাবতে ভাবতে তাজ খুব অস্থির হয়ে উঠে। কিছুক্ষন পর সেই আত্মা চোখ খুলতে বলে, তাজ চোখ খুলেই আর নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছে না।

কারণ তার সামনে যে দাড়িয়ে আছে তার মুখটা খুব ভালো করে তাজ চিনে। কারণ তাজের সামনে যে দাড়িয়ে আছে, সে হলো তাহা। যার সাথে তাজের ২ বছরের রিলেশন। যদিও রিলেশনটা ভার্চুয়ালে হয়েছে। কিন্তু রিলেশনটা প্রবিত্র ছিলো।কিন্তু হঠাৎ ই তাহা তাজ কে কিছু না জানিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। তাজ বার বার চেষ্টা করেও কোনো যোগাযোগ করতে পারে না। তবুও তাজ তাহার জায়গাটা কাওকে দিতে পারি নাই। তাই তো আজো সে তাহাকেই ভালোবাসে। কিছুক্ষন চুপ থেকে তাজ বলে....

-- তাহা তুমি? ( কান্না ভেঁজা কন্ঠে)

-- চিনতে পেরেছো, নাকি খুব ভয় পাচ্ছো?

-- তুমি! এতোদিন কোথায় ছিলে তুমি? আমাকে কি একবারও মনে পড়লো না তোমার। ( কান্না করে)

-- খুব মনে পড়ছেরে পাগল, কিন্তু আমার যে তোমার কাছে যাওয়ার কোনো রাস্তা ছিলো না।( কান্না ভেঁজা কন্ঠে)

-- কেনো, কেনো এমন করলে তুমি?

-- একদিন রাতে বাসায় ফিরতে আমার একটু দেরি হয়ে যায়, কিন্তু সেদিনই রাস্তায় কিছু মানুষ নামক কুকুরের শিকার হই আমি, কিন্তু কুকুর গুলো যা করেছিলো তার থেকে বেশি করতো এ সমাজের মানুষের মুখোস পড়া কুকুররা। সবার কাছেই আমি নষ্টা মেয়ে হয়ে যাই। তারপর আবার এ মুখ নিয়ে তোমার কাছে কিভাবে দাড়াতাম বলো? ( কান্না করে)

-- আমি কি তোমার শরীরকে কোনো দিন ভালোবাসতাম! কেনো এমন করলে তুমি। তোমার জায়গাটা আমি আজো কাওকে দিতে পারলাম না, তবুও তুমি আমাকে ছেড়ে একা যেতে পারলে। ( কান্না করে)

-- আচ্ছা এখন আর কোনোদিন তোমাকে ছেড়ে যাবো না রে পাগল, এবার আর কান্না করে আমাকে কষ্ট দিয়ো না

তাজ কিছু বলছে না, চুপ করে তার বিছানায় বসে থাকে। আর কান্না করতে থাকে। তাহা এসে তার পাশে বসে তাজের কাধে মাথা রেখে সেও কান্না করে। দুজনে অনেক্ষন কান্না করে তারপর তাজ বলে....

-- বলো আর ছেড়ে যাবে না!

-- হুমম আর ছেড়ে যাবো না।

-- এবার ছেড়ে গেলে কিন্তু নিজেকে....

বলতে না বলতেই তাহা তাজের মুখ চেপে ধরে। তারপর বলে...

-- এসব কখনো বলবি না তুই! এসব বললে মেরেই ফেলবো।

-- তুই ছেড়ে না গেলে আর কখনো বলবো না।

-- বললাম তো আর যাবো না!

বলেই তাহা তাজকে বুকে জরিয়ে নেয়। তাজের অনুভব হচ্ছে কার বুকে কেউ জরিয়ে আছে। কিন্তু চোখে তাহাকে দেখলেও আয়নায় দেখলে কেউ থাকে না। এভাবেই আস্তে আস্তে ১মাস কেটে যায় আরো। এখন তাজ আর তাহাকে ভয় পায় না। একদিন তাহা হঠাৎ করেই বলে...

-- তাজ! তোমাকে আমার আরো কাছে পেতে ইচ্ছা করছে।

-- কাছেই তো আছে আর কতটা কাছে চাও?

-- তোমাকে আমি নিজের করে পেতে চাই।

-- মানেটা ঠিক বুঝি নি। বুঝিয়ে বলো?

-- মানে তুমি একটা বিয়ে করো?

-- মানে, তোমাকে ভালোবাসছি অন্য কাওকে বিয়ে করার জন্য?

-- কিন্তু এভাবে কি আমাকে বিয়ে করতে পারবে?

-- তাহলে?

-- তুমি দুদিনের একটা লাশের ব্যবস্তা করো। আমি সেই লাশে ডুকে যেতে পারবো।

-- কাজটা সহজ হবে।

-- এছাড়া কোনো রাস্তা নেই তাজ।

-- আচ্ছা।

বলে কিছুক্ষন চিন্তা করে, চিন্তা করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে যায় বলতে পারে না। সকালে উঠে একটা প্রাইভেট ক্লিনিক এ যায়। তারপর খুব চেষ্টা করলে একটা মেয়ের লাশ খুব কষ্ট করেন নিজের বাসায় নিয়ে আসে। এসেই তাহাকে দেখে বসে আছে। তাজ কে দেখেই তাহা বলে...

-- এসোছো?

-- হুম, তুমি যেমনটা বলেছো ঠিক সেভাবেই এনেছি।

-- আচ্ছা।

বলেই তাহা ধোয়ায় পরিনিত হয়ে সেই লাশটার ভিতর ডুকে যায়। কিছুক্ষন পর সেই লাশটা চোখ খুলে। এসব দেখে তাজ নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না, তবুও সে ভালোবাসায় অন্ধ থাকায় সে এগুলো মেনে নিতে দ্বীধাবোধ করে না। সে রাতেই তাজ তাহাকে নিয়ে নিজের গ্রামের বাড়ি ফিরে আসে। তাজের মা তাকে দেখে একটু অভাক হয় কিন্তু একমাত্র ছেলে হওয়ায় মেনে নেয়। তাজ তাকে বিয়ে করে আবার সে বাসায় ফিরে আসে। বাড়িয়ালা রাও তাহাকে নিজেে মেয়ের মত করে দেখে এখন।

তাজের বিয়ে হয়েছে আজ ৩মাস। তাদের বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে ভালোবাসার কোনো অভাব হয় না। সবাই তাদের কে স্বামী স্ত্রী মনে করলেও তাজ জানে, সে একটা আত্মার সাথে সংসার করছে। মাঝে মাঝে তাজ তাকে আত্মা বউ বলে ডাকে। এমনই দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসায় চলতে থাকে তাদের জীবন।

________ সমাপ্ত

[ ভুলক্রটি ক্ষমা করবেন। আর এটা শুধুই কল্পনিক একটা গল্প। গল্পটার বাস্তবে কোনো অস্থিত নেই। কাও বাস্তব মনে করবেন না। আর কেমন লাগলো অবশ্যই যানাবেন]
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label