নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

নতুন ভুতের গল্প নিশির_ডাক

নতুন ভুতের গল্প
হরর_গল্প
নিশির_ডাক
 -রায়হান আলিফ


এক.
একদিন দুপুরবেলা তপুর মন খুব খারাপ হয়ে গেল। বর্ষাকাল ছিল সেদিন, টানা পনেরো দিন পর তপুদের সুবর্ণপুর গ্রামে দুপুরের দিক রোদ উঠেছে। একদিন ছিল ঘোর বৃষ্টি। সূর্যের মুখ দেখা যায় নি। থেকে থেকে মেঘ ডেকেছে। গ্রামের চারদিকে ছিল বর্ষার জল।
রবিনদের বাড়িটা কয়েক দিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। সেদিন কি কারণে জানি, রবিনরা চলে যায় গ্রাম থেকে শহরে। তারও এক হপ্তা আগে রবিনের দাদা পরলোক গমন করে।
তাদের গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে রঙ্গনা নদী। রঙ্গনা নদীর ঘাটে রবিনের দাদাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তপু কয়েকবার জিজ্ঞাস করেও রবিন থেকে কিছু জানতে পারেনি। কি করে মারা গেল তার দাদা।
বুড়ো মানুষ মারা যেতেই পারে এটা ভেবে আর কাউকে জিজ্ঞেস করেনি তপু।

শুক্রবার, দুপুরের সূর্য খাড়া ভাবে চারদিকে কিরণ দিচ্ছে।
চারদিকে পানিও কমে গিয়েছে। রাস্তা দিয়ে সঙ্গী ছাড়া হেঁটে যাচ্ছে তপু। রাস্তার ধারে কানাইদের উঠানে গ্রামবাসীরা শোরগোল করছে। তারা গোল করে বৃত্তের মতো দাঁড়িয়ে আছে। তপুও যোগ দেয় কি হয়েছে তা দেখার জন্য।
সবার মাঝে সাদা কাপড় দ্বারা কি যেন একটা ডাকা রয়েছে। কে যেন শুয়ে আছে। তপু চমকিয়ে ওঠলো, কানাইয়ের চাচার দেহ সাদা কাপড় দ্বারা ডাকা রয়েছে, শুধু মুখটা উন্মুক্ত   রয়েছে।
বৃত্তের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কান্না করছে কানাই।  কানাইয়ের দাদী ও চাচী তার চাচার নাম নিয়ে বিলাপ করছে।
তাদের বিলাপ ও কানাইয়ের চোখে জল দেখে তপু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়।
তারপর টের পায় নিজের চোখও জলে ভরে আসছে তার। তপু ছেলেটা এই রকম। কারো চোখের জল সইতে পারে না।
বাবা-মা মারা যাবার পর এই ভূবনে তার আপন কেউ নেই বলে, এই গ্রামের সবাই তার আপন।
তপু একা তার বাড়িতে থাকে। বয়স তেরো কি চৌদ্দ হবে। সে গ্রামের একটি লাইব্রেরীতে চাকরি করে।
কানাই হাতের কনুই দিয়ে চোখ মুছতেূ মুছতে বললো," তপুরে রতন চাচা আর নেই"। রতন চাচার জন্য তপুরও খুব খারাপ লাগছে।
কীভাবে এসব হলো তপু জানতে চাইল।
"ফজরের নামাজের জন্য চাচা বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি মসজিদে যায় নি। নামাজ শেষ করে মুসল্লিরা যখন বাড়ি ফিরছিলেন তখন তারা রতন চাচার দেহ রাস্তার পাশের ঝোপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখেন" কানাই বলল।
বিকেলের মধ্যে পড়শিরা রতন চাচার দেহ সমাধি করেন।
সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে আসে তপু। তাদের বাড়িতে তিনটি ঘর, দুটো ফাঁকা আর অন্যটায় তপু একা থাকে। ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে গল্পের বই পড়তে বসে তপু। বাবা-মা বেঁচে থাকাকালীন তপু প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেছিল।
রতন চাচার কথা খুব মনে পড়তে লাগলো তার। বই নিয়ে কিছুক্ষণ পাতা নাড়াচাড়ার পর রেখে দিলো।
রাত আট'টার সময় রাতের খাবার খেয়ে নিলো। বাসনপত্র পরিষ্কার না করে তা সকালবেলার জন্য রেখে দিলো।
গ্রাম অঞ্চলে আবার রাত নয়টার পর বিদ্যুৎ থাকে না। তপু নয়টার আগেই ঘুমিয়ে পড়লো।
হঠাৎ দরজায় ঠক ঠক শব্দ হলো। তপুর চোখ থেকে ঘুম কর্পূরের মতো উড়ে গেলো। আবারও দরজায় ঠক ঠক শব্দ হলো।
কে?
বাহির থেকে কোনো উত্তর এলো না। কিছুক্ষণ পর আবারও দরজায় শব্দ হলো। অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে তপু দরজার ধারে পৌছল। দরজার নিচ দিয়ে আলো আসছে। বুঝা যাচ্ছে বাহিরে চাঁদ উঠেছে। একটানে খুলে ফেলল দরজা।
তপু অবাক হলো। দরজার সামনে কেউ নেই। বৃষ্টি হয়েছিল তাই উঠানে কাঁদা জমে গিয়েছিল। যদি কেউ এখানে আসতো তাহলে তাকে উঠান দিয়ে আসতে হতো এবং তার পায়ের ছাপও থেকে যেতো। তপু মনের ভুল ভেবে বিষয়টাকে মন থেকে বিতাড়িত করলো। এই ঘুটঘুটে অন্ধকারে ভালো লাগছিল না তপুর। দরজা বন্ধ করে জানালার ছিটকিনি তুলে দিলো।
জানালা দিয়ে জোৎস্না ঘরে ঢুকেছিল বলে রক্ষে। না পড়া বইটার কিছু পাতা পড়লো সে। তারই মধ্যে এক টুকরো কালো মেঘ এসে চাঁদটাকে আড়াল করে দেয়। জানালা খোলা রেখে তপু শুয়ে পড়ে। এক ঘুমে সারা রাত শেষ।
সকালে দরজায় তালা দিয়ে বেরিয়ে যায় তপু। সকালের খাবারটা সে দোকানেই সাড়লো। দশটার সময় তাকে লাইব্রেরীতে থাকতে হবে। দেরি না করে লাইব্রেরীতে চলে আসে। লাইব্রেরিয়ানের ছেলে নাকি অসুস্থ। লাইব্রেরী বন্ধ  হওয়ায় তপুকে আর সেদিন থাকতে হলো না।
সারাদিন কোনো কাজ না থাকায় তপু ঠিক করলো কানাইয়ের কাছে যাবে।
রাস্তায় পারুল চাচীর সাথে তপুর দেখা হয়। পারুল চাচী তপুর মতো একা মানুষ। তার স্বামী মারা যায় অনেক আগে আর কোনো ছেলে সন্তানও ছিলনা তার। কানাইয়ের বাড়ির পাশে পারুল চাচীর বাড়ি।
"কীরে তপু, কোথাও যাচ্ছ নাকি,"পারুল চাচী বলল।
"হ্যা, কানাইদের বাড়িতে যাচ্ছি।
"
"ভালো, ভালো খুব ভালো, তো হেরে ভালো আছিস তো।"
"হুম, ভালো আছি।"
"আচ্ছা তুই যা বলেই পারুল চাচী হনহনিয়ে চলে গেলেন।"
তপু কিছুই বুঝতে পারলো না। তপু আবার হাঁটতে থাকে কানাইদের বাড়ির দিকে। কানাই কালো মুখ করে বাড়ির সামনের বেঞ্চিতে বসে ছিল।

"কিরে, কানাই কি খবর তোর, অসুস্থ নাকি" তপু জিজ্ঞাস করলো।
"না ভালোই আছি, মুখ কালো করে বললো কানাই।"
"ও বুঝেছি রতন চাচার জন্য মন খারাপ করছে। মানুষ মরণশীল, একদিন সবাইকে মরতে হবে।"
"তা তো জানি কিন্তু চাচার মৃত্যুটা স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না।"
কেন রে?
"রতন চাচার আঙ্গুল গুলো দেখেচিস?"
"না, তা তো দেখি নাই।"
"শুন, রতন চাচার আঙ্গুল গুলো ছিল না, "কানাই বললো।
"আজব ব্যাপার মানুষের কিডনি, লিভার চুরি হয় শুনেছি কিন্তু পায়ের আঙ্গুল চুরি ভারি অবাক করার বিষয়," তপু বললো।

"আচ্ছা চল নদীর পাড় থেকে ঘুরে আসি বলেই তপু হাঁটতে লাগলো।"
"পারুল কাকিকে তো চিনছ, ঐ যে আমাদের বাড়ির পাশের বাড়ি। তার লাশ নাকি আজ সকালবেলা তার ঘরের সামনে পাওয়া গিয়েছে। অবাক করার বিষয় হলো কাকি নাকি গতকাল ঢাকায় গিয়েছিল", কানাই বলল।
তপু রাস্তায় দাঁড়িয়ে গেল, যেন সে একটা পাথরের মূর্তি। তার চোখ-মুখ কিছুই নড়ছে না এমনকি তার শ্বাসও খুব ধীরে ধীরে পড়ছে। হঠাৎ
Continue....
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label