নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

ভিলেন_বর

#ভিলেন_বর
#Writer_Sinthiya_Simthi
#Part_09

ইশরার আনন্দ দেখে আদ্রর অনেক ভালো লাগলো।ঠোঁটের কোণে আপনা-আপনি হাসির রেখা ফুটে উঠলো।শেষ কথাটা বলেই আদ্রকে একদফা অবাক করে দিয়ে ইশরা আদ্রকে জড়িয়ে ধরলো।
.
ইশরা আদ্রকে ছেড়ে দেয়।

ইশরাঃ-সরি।আমার কেবিন এটা কেনো.? আমি তো আপনার পিএ না তবে কেনো.?আর আমার কি কাজ এ অফিসে.?প্লিজ বলুন তো বুঝিয়ে।আমার মাথায় কিছু ঢুকছে না

আদ্রঃ-এ ছোট মাথায় কিছু ঢুকবেও না(ইশরার মাথায় টোকা দিয়ে)

ইশরাঃ-কি বলতে চান.?

আদ্রঃ-বেশি না শুধু এই টুকু বলতে চাই যে তোমার ছোট মাথাটাকে এ বিষয়ে না ভাবালেও চলবে।

ইশরাঃ-আরে,,,,(আদ্র চলে গেল)

 (আদ্রর বাবার সকল সম্পত্তির ৪০% আদ্রর বউ পাবে।ইশরা যেহেতু আদ্রর বউ সেই অর্থে আদ্রদের সম্পত্তির ৪০% ইশরা পাবে।গতকাল সকালে আহনাফ চৌধুরী আদ্রকে বারন করেছে  ইশরাকে পিএ-এর কাজ করতে দিতে। তাই আদ্র আজ ইশরার জন্য নতুন কেবিন ব্যবস্থা করেছে।কিন্তু ইশরাকে এ বিষয়ে আদ্র কিছু জানতে দেয় নি।)

ইশরার কোনো কাজ নেই।ইশরার এভাবে বসে থাকতে ভালো লাগছে না।তাই কোনো কিছু না ভেবে আদ্রর কেবিনে যেতে লাগলো।ইশরার কেবিনের দরজা ধাক্কা দিতে  যাবে তার আগেই দরজা খুলে গেল।

ইশরাঃ-(বাহ আমি আসবো ভেবেই দরজা খুলে দিলো। ইশরা তুই তো মহারানী হয়ে গেছিস)
এসব ভেবে যেই কেবিনে ঢুকতে গেল ঠাস করে কারো বুকের সাথে ধাক্কা খেয়ে তাল সামলাতে না পেরে তাকে নিয়েই পরে গেল।

ইশরাঃ-(চোখ বন্ধ করেই)আমি ইচ্ছে করি নি বিশ্বাস করুন।আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। ইশরা ভেবে না পারলে কপিলার ছোট বউ মনে করে ক্ষমা করে দিবেন।সেটাও না পারলে কবুতরের বোন ভেবে ক্ষমা করে দিবেন।তবুও ক্ষমা করে দেন প্লিজ।

আদ্র ওর বলা কথা শুনে হাসবে না কাঁদবে কিছুই বুঝতে পারছে না আসলে কি রিয়েক্ট করা উচিত সেটাই ভুলে গেছে।

আদ্রঃ- মহারানীর যদি দয়া করে আমার ওপর থেকে উঠতেন তবে আমি নিজ দায়িত্বে আপনাকে ক্ষমা করে দিতাম।

ইশরা চোখ খুলে দেখে এটা আদ্র।সঙ্গে সঙ্গে ইশরা আদ্রর উপর থেকে উঠে যায়।আদ্র বেচারাও আস্তে আস্তে ওঠে।

আদ্রঃ-দেখে শুনেও তো একটু হাঁটতে পারো.?সব কিছু কি আমাকে শিখিয়ে দিতে হবে।

ইশরাঃ-কি বলতে চান আমি কিছু পারি না।আপনি আমাকে সব কিছু শিখিয়ে দেন।

আদ্রঃ-কে বলেছো পারো না।এই দেখো সহজ কথাটা কত সহজেই বুঝে গেছো।

ইশরাঃ-দেখুন স্যার

আদ্রঃ-হু তুমি দেখাও আমি দেখছি।

ইশরাঃ- ছিঃ আপনি এতো খারাপ।

আদ্রঃ- আজিব তো তুমিই তো বললা দেখাবা।এই তুমি বলো নি এই কথা.?সত্যি করে বলো বলছি.?

ইশরাঃ-হুম বলেছি।কিন্তু আপনি যেটা মিন করেছেন সেটা মিন করে বলি নি।

আদ্রঃ-এই কথা বললে মানবো না।কি দেখাতে চাও তাড়াতাড়ি দেখাও

ইশরাঃ-দেখুন এটা মোটেও,,,

ইশরাকে বলতে না দিয়ে,

আদ্রঃ- সেই কখন থেকে বলে যাচ্ছো দেখুন দেখুন কিন্তু কোনো কিছুই তো দেখাচ্ছো না।ফাজলামোর একটা লিমিট থাকে কিন্তু দেখাবে বলে দেখালে না এটা কেমন ফাজলামো শুনি.?

ইশরাঃ-দেখুন স্যার এটা বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে.?

আদ্রঃ-আবার দেখুন বলছো এবার যদি তুমি না দেখাও তবে আমি নিজেই দেখবো বলে দিলাম

ইশরাঃ-নাআআআআ

আদ্র কিছু বলতে যাবে তার আগেই এনি এসে বলল,,,

এনিঃ-স্যার ফাইল রেডি চলুন

ইশরাঃ-কোথায় যাচ্ছেন.?

এনিঃ-একটা মিটিং আছে সেখানেই।এতো কথা তুমি জিজ্ঞাসা করছো কেনো.?

ইশরাঃ-তোমাকে জিজ্ঞাসা করি নি।তুমি কোনো কথা না বললেই খুশি হবো।

এনিঃ-আমি বলা আর আদ্র স্যার বলা একি তো।

আদ্র এনির দিকে তাকালো।

এনিঃ-ইয়ে,,,মানে উত্তর তো একি হবে তাই না(জোরপূর্বক হাসি দিয়ে)

আদ্রঃ-এনি তুমি ফাইল গুলো নিয়ে এগিয়ে যাও আমি আসছি।

এনিঃ-ওকে।

এনি চলে গেল।

ইশরাঃ-আপনি কোথাও যাবেন না।

আদ্রঃ-হোয়াট.?

ইশরাঃ-হোয়াট হুয়েট পরে শুনবো আপনি এই মুহুর্তে  কোথাও যাবেন না।আর ঐ এনির সাথে কোনো মতেও না।

আদ্রঃ-জরুরি মিটিং যেতেই হবে।

ইশরাঃ-বেশ আমিও যাবো।

আদ্রঃ-তুমি কোথায় যাবা.?

ইশরাঃ-কেনো.?আপনাদের সাথে.?আমাকে নিতে সমস্যা হলে কোথাও যেতে পারবেন না।

আদ্রঃ-মিটিংয়ে আমাকে এটেন্ড থাকতে হবে আর এনি আমার পিএ তাই ও সাথে যাবে সেখানে তুমি গিয়ে কি করবে.?

ইশরাঃ-আমি কি করবো সেটা পরে ভেবে দেখবো এখন আমি যাবো মানে যাবো।

আদ্রঃ-অধিকার ফলাচ্ছ.?

ইশরাঃ-যদি বলি তাই.?

আদ্রঃ-ভুলেও সেটা করতে এসো না।আদ্র চৌধুরী তার নিজের মর্জিতে সব করে। তার ওপর অধিকার ফলাতে এসো না।ইউ ডোন্ট ডু দিস

আদ্র চলে গেল।
ইশরা রাগে দুঃখে অফিস থেকে বেড়িয়ে গেলো।
হেঁটে হেঁটে বাসায় চলে গেল।কারো সাথে কোনো কথা না বলে রুমে চলে গেল।

তারপর রুমটা অগোছালো করে নিজের রাগ কমায়।
ইশরা বেশ ক্লান্ত হয়ে যায়। তাই ঘুমিয়ে পরে।

অনেকটা রাত করে আদ্র বাসায় আসে।
ইশরা পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে।
আদ্রর রুমের অবস্থা দেখে চোখ কপালে।

আদ্রঃ-এই ইশরা(ধাক্কা দিয়ে)

আদ্রঃ-গেট আপ ইশরা উঠো নাহলে পানি মারব আমি

ইশরাঃ-কেয়া ইয়ার সোনে দো না মুঝে

কিসব বকছে ইশরা বুঝেছি,,,,,,,,,৷

আদ্রঃ-তোমাকে পানি মেরে হুসে আনতে হবে.?

ইশরাঃ-নো প্লিজ পানি না খুব ঠান্ডা।(চোখ বন্ধ করে কথা গুলো বলে আবার ঘুমানোতে মনোযোগ দিলো)

আদ্র উপায়ন্তর না পেয়ে পানি এনে মেরে দিলো ইশরার ওপর।

ইশরাঃ- What the এএএএ আপনি এমন কেনো মারছি বলেই মেরে দিলেন পানি.?

আদ্রঃ-বেশ করেছি আপনাকে অনেকবার ডেকেছি,কিন্তু আপনি উঠেন নি।পানি না মারলে হয়তো আপনি আরো কয়েক রাকাআত ঘুমাতেন

ইশরাঃ-What rubbish কয়েক রাকাআত ঘুমাতাম মানে.?

আদ্রঃ-জ্বি আপনি আবার কুম্ভকর্ণের মতো পড়ে পড়ে ঘুমাতেন।

ইশরাঃ- শুনুন আপনাকে আর আমার ঘুম নিয়ে পিএইচডি করতে হবে না।

আদ্রঃ-সকালে দেখাচ্ছো আর এখন শোনাচ্ছ। আমি কিন্তু খুব উপভোগ করছি।

ইশরাঃ-আপনি না খুব খারাপ। একটু না অনেকটা খারাপ। আপনিইইই,,,,,,দূর কি বলবো ভেবে পাচ্ছি না কেনো.?

আদ্রঃ-থাক ভাবতে হবে না আমি বলছি।আমি এতোটাই খারাপ যে মিসেস আদ্র চৌধুরী ভাষায় প্রকাশ করতে পারছে না।

ইশরাঃ- এটাই এটাই বলতে চেয়েছিলাম।

আদ্রঃ-তাহলে আর একটু খারাপ হই।

ইশরাঃ-মা,,,,,মানে.?

আদ্র কিছু না বলে ইশরার অনেকটা কাছে চলে যায়।

ইশরাঃ-কি করছেন আপনি.? কিছু করবেন না কিন্তু করলে খারাপ হয়ে যাবে আমি বলে দিলাম।

আদ্র কোনো কথার উত্তর না দিয়ে ইশরার পিছন যায় তারপর পিছন ইশরাকে থেকে জড়িয়ে ধরে।ইশরা জমে ফ্রিজড হয়ে গেছে।ইশরার কানের কাছে মুখ নিয়ে স্লো ভয়েসে  বলল,,,

আদ্রঃ-সব সময় মাথার মধ্যে কেনো উল্টা-পাল্টা ভাবনা থাকে.?ভালো কিছুও তো ভাবতে পারো।আমি ফ্রেশ হয়ে এসে যাতে  রুম সম্পূর্ণ গুছানো দেখি।

 আদ্রর নিঃশ্বাস ইশরার ঘাড়ে পড়ছে।ইশরার কাঁপা-কাঁপি শুরু হয়ে গেছে।

আদ্রঃ-এতো কাঁপছো কেনো.? এখনো তো কিছু করি নি। ফ্রেশ হয়ে যদি রুম গুছানো না পাই তবে বুঝবে কাঁপা-কাঁপি কতো প্রকার ও কি কি

কথাগুলো বলে আদ্র ওয়াশরুমে চলে গেল

ইশরাঃ-(এই সামান্য কথাগুলো তো দূর থেকেই বলতে পারতো.? এতো কাছে আসার কি দরকার ছিলো.?ভিলেন একটা আবার বলে কাঁপছো কেনো.?আরে জামাই তুই কি জানিস তুই কাছে এলে কি রকম ফিলিংস কাজ করে.?তোর কাছে আসাটা দেখলেই তো আমার দম বন্ধ হয়ে যায়)

আদ্রঃ-আমার চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করা হলে রুম গুছানো শুরু করো নয়তো আবার কাঁপা-কাঁপি শুরু হয়ে যাবে।

ইশরা এগিয়ে কিছু বলতে যাবে আদ্র ওয়াশরুমের দরজা ধড়াম করে বন্ধ করে দেয়।

ইশরাঃ-(ভিলেনটার জন্য মনে মনে কিছু বলেও শান্তি পাই না। ইশরা কাজে লেগে পড় মা নয়তো ৩৬০° ভোল্টেজে ভিলেনটা কাঁপাবে)

রুম গুছানো শুরু করে দিলো ইশরা।
আদ্র ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে।

আদ্রঃ-বাহ সব কিছুই তো করা শেষ।

ইশরাঃ-,,,,,,,,,,,,,,,৷

আদ্রঃ-ইশরা.?

ইশরাঃ-বলুন জাহাপনা

আদ্রঃ-কি বললে তুমি.?

ইশরাঃ-জাহাপনা আপনি খাবার খাবেন না।নাকি না খেয়ে ঘুমিয়ে যাবেন।ইটস গুড ফর হেলথ্

আদ্রঃ- আব্বু-আম্মু আর আদ্রতাকে খেতে ডাকো.?

ইশরাঃ-কেউ নেই হারিয়ে গেছে।

আদ্রঃ-হারিয়ে গেছে মানে.?

ইশরাঃ-এতো রাতে আবার কোথায় হারাবে.? অব্যশই ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেছে।

আদ্রঃ-সেকি ওরা না খেয়ে ঘুমিয়ে গেছে.?

ইশরাঃ- আজ্ঞে না জাহাপনা তারা খেয়েই ঘুমিয়েছে। আমিও তো ঘুমিয়েছিলাম কিন্তু আপনার এই ক্ষুদ্র প্রজার ওপর মায়া হলো না।তাই ঘুম ভাঙ্গিয়ে নির্যাতন শুরু করে দিয়েছেন

আদ্রঃ- আমি কি তোমাকে নির্যাতন করেছি.?

ইশরাঃ-একদম নাটক করবেন না।একটা বাচ্চা মেয়েকে ঘুম থেকে উঠিয়ে আবার বলা হচ্ছে.?আমি কি তোমাকে নির্যাতন করেছি.?(আদ্রকে কপি করে)

আদ্রঃ-কপি করছো কেনো আমাকে.?

ইশরাঃ-ফুলকপি পাতাকপি আমি তো এমন কোনো শব্দ মুখেও আনি নি।যান টেবিলে খাবার রাখা আছে খেয়ে আমাকে উদ্ধার করুন।

আদ্রঃ-যাও এখানে নিয়ে আসো।

ইশরাঃ-নিজের হাত-পা সবই তো নিজের কাজ নিজে কর‍তে পারেন না।

আদ্রঃ-শুধু হাত-পা না। হাত-পায়ের সাথে যথেষ্ট শক্তিও আছে।দেখবে নাকি.?

ইশরাঃ- আপনি কি আমাকে মারবেন তার হুমকি দিচ্ছেন.?

আদ্রঃ-ছিঃ আমি এটা করতে পারি।পায়ের ওপর ভর করে ঐযে বাক্সটা দেখতে পাচ্ছো সেখানে যাবো।

ইশরাঃ-সেখানে গিয়ে কি হবে.?

আদ্রঃ-এই যে হাত দেখছো এই হাত দিয়ে বাক্সটা খুলবো।বাক্সের মধ্যে তেলাপোকা এখনও আছে কিন্তু,,,,,

ইশরাঃ-যাচ্ছি তো এতো কথা বলার কি আছে.?আমি যাচ্ছি না খাবার আনতে যাচ্ছি তো।আপনি এখানে বসে থাকেন।
.
.
ইশরা খাবার এনে আদ্রকে দিলো।আদ্র খাবার খেয়ে মোবাইল নিয়ে কি যেন করতে লাগলো আর ইশরা সব গুছিয়ে রাখতে গেল।
.
.
ইশরা সব গুছিয়ে এসে দেখে আদ্র ঘুমিয়ে পরেছে। ইশরাও আদ্রর এক পাশে শুয়ে ঘুমের রাজ্যে পাড়ি দিল।
আদ্র চোখ খুলে দেখে ইশরা ঘুমিয়ে গেছে।

আদ্রঃ-মেয়েটা এতো ঘুম কোথায় পায় কে জানে.?ঘুম পাগলি(মুচকি হাসে)

অতঃপর আদ্রও ঘুমের রাজ্যে পাড়ি দেয়।😴😴

Be continue,,,,,,,,,,,,
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label