নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

সেই_পিচ্ছি_মেয়েটা

সেই_পিচ্ছি_মেয়েটা
#আরিয়ান_ইসলাম_নাঈম


আচ্ছা ফুফুমনি আমি কি দেখতে বেশি খারাপ?আমি কি দেখতে একে বারেই পচা?

-না, একদমই না।আমার মেয়েটা খুব সুন্দর, রুপবতি,মায়াবী।
হঠাৎ এই প্রশ্ন?

-আচ্ছা ফুফুমনি আমি যদি তুমাকে ফুফু আম্মু বলে ডাকি তাহলে কি তোমার কোন সমস্যা হবে,জড়িয়ে ধরে আদুরী গলায়  পরী কথাটা বলে উঠল.......

-তুই আমাকে যেটা বলে ডাকবি আমি সেইটা শুনতে প্রস্তুত।

-আচ্ছা তুমি কি আমাকে সারাজীবন তুমার কাছে এই ভাবে আগলিয়ে রাখবে,আমাকে অন্য কোথাও পাঠিয়ে দিবে না তো।

-না তুকে আবার কোথায় পাঠাবো, তুই সারাজীবন আমার কাছে থাকবি.....

-তাহলে তোমার ছেলের সাথে আমার বিয়ে দিয়ে দেওনা(খুব তারাতারি কথটা বলে জিব্বা কামড় দিয়ে লজ্জায় মাথাটা নিছে নামিয়ে নিলো)

অনন্যা বেগম না হেসে পারলেননা, উচ্চস্বরেহেসে দিয়ে বললেন, পাগল মেয়ে বলে কি!!
এতই পছন্দ করিস বুঝি আমার ছেলেটাকে।
হয়েছে আর লজ্জা পেতে হবে না,
এখন গিয়ে উনাকে ডেকে আসেন।
পরে দেখা যাবে,
আগে আপনি আরো বড় হন!!!!!!!

পরী অনন্যা বেগমকে ছেড়ে দিয়ে দৌড়ে এখান থেকে চলে গেল।এতক্ষন যাদের মধ্যে কথা হলো তাদের একজন আরিয়ানের মা, আরেকজন আরিয়ানের মামাতো বোন পরী।
নামটা যেমন, পরী দেখতেও ঠিক তেমনি পরীর মত সুন্দর।
পরীর জন্মের সময় পরীর মা মারা যায়। পরীর বাবা পরীর মাকে হারিয়ে কেমন যেন দিশেহারা হয়ে গিয়েছিল।তাদের বিয়েটা হয়েছিল ভালোবেসে অর্থাৎ লাভ মেরেজ। অনন্যা বেগম ভাইয়ের এই খারাপ অবস্থা দেখে তাকে বিয়ে দিতে চেয়েছিল কিন্তু পরী বাবা বিয়ে করতে রাজি হয়নি। পরে অনন্যা বেগম তার একমাত্র ভাইজি কে নিয়ে চলে আসে তার কাছে।

পরী আস্তে আস্তে বড় হতে লাগলো।
পরীর বয়স এখন 15।
এবার ক্লাস নাইনে পড়ে। খুব মেধাবীর অধিকারী এই মেয়েটা।
পৃথিবীর অনেক কিছুই সে বোঝে এখন। আরেকটা মজার ব্যাপার হল যে পরী এই বয়সে প্রেমে পড়েছে।
এ বয়সে প্রেম ভাবটাও তার ভিতরে চলে আসবে এটা স্বাভাবিক কারণ এখন তার উঠতি বয়স।
এই বয়সে তার আবেগ বেশি কাজ করবে। শুধু তার না এই বয়সে সকল ছেলে মেয়েদের আবেগ একটু বেশি কাজ করে।
পরীও সে পথের পথিক। সে অন্য কারো নয় বরং সে প্রেমে পড়েছে তার একমাত্র ফুফাতো ভাই আরিয়ানের উপর।

অহহহ....  আপনাদেরকে তো বলাই হয়নি আরিয়ান টা আবার কে?আরিয়ান হল এই গল্পের নায়ক। এবার অনার্স সেকেন্ড ইয়ার পড়ে সে।পরীর থেকে প্রায় ৫-৬ বছরের বড় হবে।

পরী অনেক ভাবে আরিয়ানকে বুঝাতে চায় যে সে তার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে কিন্তু আরিয়ান বুঝেও না বুঝার ভান করে চলে।

এবার মূল গল্পে আসা যাক...... ....

পরী আস্তে আস্তে পা টিপে আরিয়ানের রুমে প্রবেশ করলো
- ইস কি সুন্দর দেখতে। ঘুমের ভেতর ওর মুখটা খুব মায়াবী লাগছে মনে হয় হাজারো মায়া বর করে বসে আছে আমার.........
  চশমাটা পরলে আরো অনেক কিউট লাগতো।
 সবচেয়ে ভালো লাগে ওর খাড়া বোচা বোচা নাক টা। একটু সামনে গিয়ে ভালো ভাবে খেয়াল করে নিল আরিয়ান জেগে আছে কিনা, না এখনো গভীর ঘুমে বিভোর।

 পরী জানে আরিয়ান ঘুমালে মরার মতো ঘুমায় এত সহজে ওঠে না। তাই পরী ঝোপ বুঝে কোপ মারতে চাইল অর্থাৎ সুযোগের সৎ ব্যবহার করতে চাইল।
পরী আস্তে করে আরিয়ানের নাকে আলতো করে চুমু খেলো.
ইচ্ছে করে  নাকে আলতো ভাবে কামড় বসিয়ে দিল। কামড় দেয়াতে আরিয়ান কিছুটা নড়ে উঠলো।

 পরী স্বাভাবিক  ভাবে দাঁড়িয়ে আরিয়ানের শরীরে ধাক্কা দিতে লাগলো।
- ভাইয়া  উঠনা  আম্মু তোমাকে ডাকছে।

আরিয়ানের ঘুমটা ভেঙ্গে গেল........

-এই তোর কোন কাজ নেই খেয়ে দেয়ে, শুধু শুধু আমাকে বিরক্ত করছিস কেন? কিছুটা বিরক্তিভাব নিয়ে বললো।

-আমি কি আর সাদে আইছি আম্মু তো আমাকে পাঠালো তোমাকে ডাকতে।এই রাখ, রাখ,,, তুই কি বললি? তোর আবার আম্মু আসছে কোথায় থেকে?কিছুটা অবাক হয়ে আরিয়ান বললো।

-কেন আবার,বাহরে ফুফুমনিই তো আমার আম্মু!

- আইছে আবার আম্মু বলতে, তোরে তো রাস্তার থেকে পাইয়া আনছে। তুইতো  রাস্তার মাইয়া। আবার আইসোস আমার আম্মুরে আম্মু বলতে।তোর তো সাহস কম না।

-এ্যা,,,,, নিজের আম্মু। তোমার তো সাহস কম না..... আমি 100 বার বলবো হাজার বার বলবো এইটা আমার আম্মু।কোমরে হাত দিয়ে আঙ্গুল নাচিয়ে নাচিয়ে বলল।

-এই তুই আমারে কি বললি?

- কই? কি আবার বললাম?

- এইতো একটু আগে তুই আমারে  কি বলে ডাকলি?

- কেন তুমি করে বলছি,একটু ভাব নিয়ে...

- তোরে কতবার বলছি যে তুই আমারে আপনি করে ডাকবি, আর তুই আপনি করে না বইলা, তুমি কইরা বলছ...... 
তুুরতো সাহস কম না, তুরে থাপড়াইতে থাপড়াইতে  তোর দাঁত সব ফালাই দিমু। তুই আমারে চেনোস। রেগে গিয়ে আরিয়ান বললো।

-আমি  আপনি করে বলতে পারবোনা আমি  তুমি করে বলবো তুমি......... তুমি........ তুমি...... তুমি
একশ বার বলব তুমি.....  তুমি........ তুমি। চিৎকার করে বলল তুমি...

- তুই এখান থেকে গেলি। চোখ মুখ লাল করে চিৎকার করে বললো।

-আমার ঠ্যাকা পড়ছে এখানে থাকতে আর আমি নিজের ইচ্ছাতে আসি নাই, এখানে আম্মু পাঠাইছে দেইখা আসছি।আর কয়দিন পরে তুমি এমনি আসতে বলবা কারন এটা আমার রুমও হবে কয়দিন পর।

- এই তুই কি বললি,তুর রোম মানে? দাঁড়া দাঁড়া পরী দাঁড়া বলছি, কই যাস?
আরিয়ান খাট থেকে উঠতেই পরী আর এখানে নেই, পরী  উদাও।
আরিয়ান ফ্রেশ হতে চলে গেল।

- কিরে পরী রেগে আছিস কেন, অনন্যা বেগম বলে উঠলো।

- তোমার ছেলেটা এমন কেন একটু ভালোভাবে কথা বলতে পারো না, ধুর ভালো লাগে না কথাটা বলে পরী রেগে রুমে চলে গেল।

-এই পরী নাস্তা করে যা, কে শুনে কার কথা চলে গেল মেয়েটা।

কিছুক্ষণ পর আরিয়ান এসে বলল মা তাড়াতাড়ি নাস্তা দাও খিদে পেয়েছে।
- এইতো বাবা দিচ্ছি।
নাস্তার টেবিলে সবাই বসে আছে শুধু একজন নেই আর সে হল পরী!!!

-পরী কই?আরিয়ানের বাবা বলে উঠলো।

-জানিনা আরিয়ানের রুম থেকে বের হয়ে এসে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে নিজের রুমে চলে গেছে।আরিয়ানের মা বললো।

-পরী..পরী...এই পরী নাস্তাটা করে যানা মা, আরিয়ানের বাবা বলে উঠলো।

-আমি খাব না ভাইয়া আমাকে শুধু শুধু বকা দেয়। আগে সরি বলতে বলো, রুমের ভেতর থেকে জোরে কথাটা ভেসে ডাইনিং রোমে আসলো।

- কি ব্যাপার এভাবে আমার দিকে  তাকিয়ে আছো কেন? ঠিক আছে যাচ্ছি কথাটা বলে দাঁতে দাঁত লাগিয়ে কিড়মিড় করতে করতে চলে গেল পরীর রুমে আরিয়ান।

আফজাল সাহেব হলেন আরিয়ানের বাবা। অনন্যা বেগম এবং  আফজাল সাহেব পরীকে নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসে।নিজের মেয়ের মত।  কারণ তাদের কোনো মেয়ে নেই। এটাই তাদের একমাত্র মেয়ে।
তারা দুজনেই ঠিক করে রেখেছেন পরী আরেকটু বড় হলে আরিয়ানের সাথে বিয়ে দিয়ে দেবে কিন্তু আরিয়ান তা জানে না।

অনন্যা বেগম ও আফজাল সাহেব জানেন যে পরী কি রকম পছন্দ করে, কতটা পছন্দ করে, কতটা ভালোবাসে আরিয়ানকে।

 কিন্তু আরিয়ান তার বিপরীত আরিয়ান দুচোখেই পরীকে দেখতে পারে না তাছাড়া আরিয়ানের গার্লফ্রেন্ড  আছে।
তারা দুজনকে দুজন খুব ভালোবাসে.....

#সেই_পিচ্ছি_মেয়েটা

#আরিয়ান_ইসলাম_নাঈম

চলবে......
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label