নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

কুড়িয়ে পাওয়া ডায়রি

🔜🔜কুড়িয়ে পাওয়া ডায়রি🔜🔜

🔝🔝লেখাঃ অদ্রিতা 🔝🔝
🔛🔛পর্বঃ ৩য় ও শেষ 🔛🔛

জীবনে অনেকটা সময় আদিত্যর হাতে হাত রেখে কাটিয়েছি। তবে আজ যখন ও আমার হাতটা ধরলো, কেমন জানি মনে হলো।
.
মনে হলো আমি স্বর্গ হাতে পাচ্ছি। আদিত্য আমার হাত ধরে আছে আর আমি মাথা নিচু করে বসে আছি। কেউ কথা বলছি না।
.
কতক্ষন পর আদিত্য বললো,
.
: জানিস অদ্রিতা, তোর সাথে আমি যতখন কথা বলি বা থাকি, আমি ততক্ষন সব চেয়ে খুশি থাকি। আর এই খুশিটা পার্মানেন্টলি পাবো আজীবনের জন্য তা কখনো ভাবিনি। মাঝে মাঝেই ভাবতাম তোর যদি কারো সাথে বিয়ে হয়ে যায়। তুই শুশুর বাড়ি চলে যাস, তখন আমি কি ভাল থাকবো।
.
: (আমি চুপচাপ ওর দিকে তাকিয়ে আছি)
: যাই হোক আমি তোর হবো কিন্তু একটা শর্ত আছে।
: কি, তোর জন্য আমি সব করতে পারবো।
: তুই আর কখনো আমার সামনে কাদতে পারবি না। তোর চোখের পানি দেখলে আমার দুনিয়াটা মনে হয় থমকে যায়।
: ওকে, কাদবো না। আর কাদলেও তোকে বুঝতে দিবো না। কিন্তু প্লিজ তুই কখনো আমায় কষ্ট দিস না। কখনো আমার হাত ছেড়ে দিসনা।
: ঠিক আছে কথা দিলাম।
.
তারপর আমরা দুজন হাত ধরে দুলাইনে দুজন হাটতে লাগলাম। রেল গেটে এসে একটা রিক্সা নিলাম। আর সারাটা স্কুল টাইম দুজন রিক্সায় ঘুরলাম। শেষে বিকাল ৪ টার পর দুজনে বাড়ি ফিরলাম। আর এভাবেই শুরু হলো স্বপ্ন আর সুখের দুনিয়া। প্রতিটা দিন এমন ভাবে যাচ্ছিলো, মনে হচ্ছিলো যেনো আমি একটা স্বর্গের রানী আর আদিত্য আমার রাজ্যের রাজা। এই রাজ্যে শুধু আনন্দ আর আনন্দ।
.
(২৩-৯-০৭)
রোমান্টিকতা করতে গিয়ে পড়াশুনার ১২ টা বাজিযে ফেলেছি। সেটা আজকেই বুঝতে পারলাম। কারণ বার্ষিক পরীক্ষার আর ১ মাস বাকি আছে অথচ আমার তেমন কিছুই পরা হয়নি।
.
তাই সব চিন্তা বাদ দিয়ে পড়া শুনা শুরু করলাম। কারণ রেজাল্ট খারাপ করলে আদিত্য বকবে।
.
(১৫-১১-০৭)
আজ আমার জন্মদিন। কিন্তু মনেই ছিলনা। আদিত্য উইস না করলে হয়ত আমি মনেই করতে পারতাম না।
.
আদিত্য আজ আমায় এই ডাইরিটা গিফট করছে । তবে এর সাথে আজকে ও আমায় অনেক দামি একটা জিনিস দিসে। সেটার কথা বলাটা কি ঠিক হবে। নাথাক বলেই ফেলি, "আমার জীবনের প্রথম কিস "। আজ আমি অনেক খুশি। আদিত্য, আমি প্রতিবার এভাবেই আমার জন্মদিন ভুলে যাব কিন্তু তুমি কখনো ভুলে যাইয়ো না, ওকে।
!
সুখের সময় গুলো মনে হয় খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়।
.
দেখতে দেখতে নবম শ্রেনী টা চলে গেলো। আমি দশম শ্রেনীউঠলাম আমার জীবনের সব কোনাই ভালবাসায় পরিপুর্ন। কারন আমার সাথে আমার দুনিয়া আছে, আমার আদিত্য। আদিত্য আছে বলে আমার আর কোন কিছু সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে হয় না। আর আমি তা চাইয়ো না। আমি খুব জেদি মেয়ে। সেটা আদিত্য ভালভাবেই জানে।
.
তাই জীবনে কখনো আদত্যি আমায় কোন কষ্ট দেয়নি। আদিত্য মাঝে মাঝেই বলে ও আমায় নিয়ে সব সময় ভয়ে থাকে। কারণ আমার যা জেদ। আদিত্য যদি কোন ভুল করে তবে নাকি আমি ওকে ক্ষমা করতে পারবো না।
.
পাগল একটা। আমি কি কখনো ওর উপর রাগ করে থাকতে পারবো বলেন। ওর সাথে রাগ করে বা ভুল বুঝে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই আমার জন্য সহজ হবে।
.
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কদিন পর আদিত্যর ssc পরীক্ষা। তাই আমায় তেমন একটা সময় দিতে পারছে না। এতে আমার দুঃখ নেই, শুধু স্কুল যাওয়ার সময় খারাপ লাগে। কারন আদিত্য আর এখন আমার সাথে স্কুলে যায় না।
.
দেখতে দেখতে আদিত্যর পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলো। আদি আমায় আগের থেকে বেশি কেয়ার করা শুরু করলো। আমার জীবনটা আবার আনন্দে ভরে উঠলো।
.
জুন মাসের প্রথম সাপ্তাহে আদিত্যর রেজাল্ট হলো। আদিত্য A+ পাইলো। কিন্তু আমি খুশি হতে পারলাম না। আদিত্য ভালো রেজাল্ট করলে আদিত্যকে ঢাকায় ভর্তি করে দেওয়া হবে, এমনটা বলছিলো আদিত্যর বাবা। তাই ওর ভালো রেজাল্ট আমায় খুশি করার চাইতেও বেশি চিন্তায় ফেলে দিলো। ও ঢাকায় গেলে আমার কি হবে।
.
আমি তো ওকে না দেখে থাকতে পারবো না। সেই ১০ বছর থেকে একজন অন্যজনকে না দেখে মনে হয় কোন দিন কাটাই নাই। দিনে অন্ততো এক বার দেখা করছি। সেটা যতটা ব্যস্তই থাকি দুজন।
ভাগ্যের লিখন তো মানতেই হবে। আদিত্য ঢাকায় ভর্তি হলো।
সামনের মাসের ১ তারিখে ওর ক্লাশ। তাই ২৭ তারিখ ও চলে
যাবে ঢাকা।
.
কদিন থেকে ওর চলে যাবার কথা ভেবে ভেবে আমার
জীবনটা শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিছুই ভালো লাগে না। খাইতে
ইচ্ছা করে না, ঘুমাতে ইচ্ছা করেনা। আমি কি হয়ে যাচ্ছি নিজেও
জানি না।
.
খুব ইচ্ছে করছিল বলতে আদিত্য তুই যাস না। তোকে না
দেখে আমি থাকতে পারবো না। কিন্তু বলতে পারি নাই। কেন
পারি নাই আমি জানি না।
.
অবশেষে দিন শেষ হয়ে আসলো। কাল বিকালে আদিত্য
চলে যাবে । নিজের পৃথিবীটা কেমন যেন ছোট হয়ে
আসছে। আমি আর পারছিনা। শেষে রাত ১২ টার দিকে
আদিত্যকে ফোন দিলাম। নিজের কান্নাকে একটুও দমাতে
পারছিলাম না।
.
আমার অবস্থা দেখে আদিত্য বললো তুই একটু পুকুর পাড়ে
আয়। বলে আদিত্য ফোনটা কেটে দিলো। আমি কোন দিন
এত রাতে একা বাইরে বের হইনাই। কারণ আমি খুব ভীতু
টাইপের তার উপর পুকুর পাড়ে যেতে হলে একটা সুপারির বাগান
পেরোতে হবে।
.
কিন্তু আজব ব্যাপার হলো ভয় লাগলেও আমি পিছ পা হলাম না।
কোন এক আকর্ষন আমাকে নিয়ে গেলো পুকুর পাড়ে।
গিয়ে দেখি আদিত্য দাড়িয়ে আছে।
.
দৌড়ে গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরলাম। ওকে দেখে চোখের
পানি যেন আর বাধা মানছে না। আদিত্য আমার মাথায় হাত বুলিয়ে
দিচ্ছে আর বলছে তুমি এভাবে কাদলে আমি থাকবো কি
ভাবে। আর আমার মনে হচ্ছিলো হাতের বাধন আলগা হলেই
বুঝি হারিয়ে যাবে আমার আদিত্য।
.
.
অনেক আগে একটা কথা শুনেছিলাম। তিনটা জিনিস মেয়ে মানুষ
কখনো ভুলেতে পারে না।
.
=> প্রথম ভালোবাসা
=> প্রথম মানুষ (.....)
=> প্রথম সন্তান।
.
আগে আদিত্যকে আমি হয়তো একটা কারনে ভুলতে পারতাম
না, সেটা হলো ও আমার ভালোবাসা। কিন্তু আজ ও আমার
জীবনের প্রথম মানুষ হলো। বুজতেই পারিনি কখনো এতটা
আবেগ প্রবন হবো,কখনো ওকে এভাবে চাইবো।
অনেক স্বপ্ন ছিলো ফুল দিয়ে সাজানো কোন বিছানায় আমি
আমার সব কিছু আদিত্যর কাছে সমর্পন করবো। কিন্তু তা যে
এভাবে হবে আমি কখনো ভাবিনি।
.
তারপরেও এটাই সুখ, যে আমি আমার ভালোবাসার মানুষের
কাছেই সব কিছু সমর্পন করেছি। যদিও আদিত্য একবার
নিজেকে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু আমি তা
করতে দেই নাই। কারণ ও খুব কষ্ট পাচ্ছিলো। সত্যি বলতে
অনেক কষ্ট হয়েছে ওর প্রতিটা মুভমেন্ট সহ্য করতে।
কিন্তু সব শেষে ওর খুশি মুখ দেখে সব কষ্ট মুহুর্তে
আনন্দে পরবর্তিত হয়ে গিয়ে ছিলো।
.
রাত ৪ টা প্রর্যন্ত আমি আদিত্যর কাধে মাথা দিয়ে বসে ছিলাম।
আর ওকে আমার স্বপ্ন, আমার ইচ্ছার কথা বলছিলাম। চলে আসার
আগে আগে একবার বললাম আমায় ছেড়ে কেনো যাচ্ছিস।
আমি তোকে ছাড়া থাকতে পারবো না। প্লিজ যাস না।
.
আদিত্য বললো। পাগলী আমিতো যাচ্ছি তোমার আর আমার
সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য। আর একটা বছর অপেক্ষা করো, ভাল
রেজাল্ট করো, আমি আন্কেল কে বলে তোমাকে ঢাকা
নিয়ে যাবো। চলো তোমায় বাড়ি রেখে আসি।
.
ব্যথায় ঠিক ভাবে হাঠতে পারছি না দেখে আদিত্য আমায়
কোলে নিল। আমাদের বাড়ির উঠানে এসে আমার কপালে
একটা কিস করে বললো, তোমার ওজন অনেক কমে
গেছে। ঠিক ভাবে খাওয়া দাওয়া করো না মনে হয়।
.
দেখিও আমিও ঢাকায় গিয়ে না খেয়েই থাকবো। তোমায়
তো জোর করতে পারবো না ঠিক ভাবে খাওয়া দাওয়া করার
জন্য। তাই আমি নিজেই না খেয়ে থাকবো। বলে আমায়
রেখে চলে গেলো।
.
.
বিকেলে আদিত্য চলে যাচ্ছে আমি আমাদের উঠানে
দাড়িয়ে আছি । কোন কথা বের হচ্ছে না মুখ দিয়ে, শুধু কাদছি।
ও এসে আম্মু আব্বুর কাছ থেকে দোয়া নিলো। তারপর
আমার দিকে তাকালো। কিন্তু ওর চোখ দেখি একদম লাল হযে
আছে। তারমানে ও খুব কেদেছে। কিন্তু কাল রাতে
অন্ধকারের জন্য ঠিক ভাবে লক্ষ্য করি নাই।
.
আমার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বললো আসিরে
অদ্রিতা। নিজের খেয়াল রাখিস। আর দেখেশুনে রাস্তায় চলিস।
এখন তো আর আমি থাকবো না। বলেই নিজের চোখের
জল আড়াল করে চলে গেলো আদিত্য। খুব ইচ্ছা করছিলো
দৌড়ে গিযে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরি ওকে। কিন্তু ইচ্ছা টা
মনের চার দেয়ালে বন্দি হয়েই থাকলো।
আদিত্য ঢাকায় চলে যাবার ৪ মাস হলো। ওকে খুব দেখতে
ইচ্ছে করে। প্রায়ই ফোনে কান্না করি। ও চলে যাবার সাথে
সাথে কেমন যেন আমার সব হাসি আনন্দ সুখ কেড়ে নিয়ে
গেছে।
.
আমার কিছুতেই কিছু মনে হয় না। টেষ্ট পরীক্ষাতেও
রেজাল্ট ভালো হয়নি। তাই আদিত্য খুব রাগ করেছে। যতটা
খারাপি লাগুক ওর কথা ভেবে পড়ছি। আদিত্য দিনে ৪-৫ বার ফোন
দেয়। ৫-১০ মিনিট কথা বলেই ফোন রেখে দেয়। এটা হয়তবা
অন্য সবার ভালবাসার ক্ষেত্রে যথেষ্ট হলেও আমি মানতে
পারতাম না। কারণ আমার সারাক্ষন ওর সাথে কথা বলতে ইচ্ছে
করতো।
.
.
উফফ অবশেষে পরীক্ষা টা শেষ হলো। আমি এখন সারাক্ষন
ফ্রি। ভেবেছিলাম পরীক্ষা শেষ করেই আমি সারাদিন আদিত্যর
সাথে কথা বলবো। কিন্তু আদিত্য বেশি কথা বলতে চায় না
কেনো যানি। ফোন দিলেই কিছুক্ষন পর বলে রাখি, ক্লাশে
যাব, কোচিং এ যাব পরতে বসবো, মামা আছে ইত্যাদি। উফফ্ এত
অজুহাত কেনো ওর। ওতো ফোন দিলে আমি কখনো
এমনটা করিনা।
.
যত ইমপর্টেন কাজিই থাকনা কেনো আমি তো ওর কল
কখনো কাটি না। কারণ আমার জীবনের সব থেকে বড়
ইমপর্টেন মানুষতো ও। আমি কি ওর জীবনের তত বড়
ইমপর্টেন মানুষ নই। আমিতো আমার সারা পৃথিবী ছেড়ে
দিয়েছি ওর হাতে। ও কেনো আমার মত করে আমায় নিয়ে
ভাবে না উফফ্....... মাথার চুল টেনে ছিড়তে ইচ্ছে করছে।
.
আচ্ছা ওর লাইফে নুতুন কেউ আসেনিতো। ও আবার নুতুন
কাউকে ভালোবাসছে না তো। যদি তেমন টা হয় তবে ওই
মেয়েকে খুন করবো আমি। আমার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি
খেলবে আর আমি মেনে নিবো। (সন্দেহের শুরু, note
it)
.
কারো কাছেই কিছু শেয়ার করতে পারছি না। বালের জীবন।
সারা জীবন আদিত্য ছাড়া আর কারো সাথেই মিশিনি, বন্ধুত্বও
করিনি। এসব এখন আমি কাকে বলবো। আমার মনের সব কথা
কার সাথে শেয়ার করবো। নাকি কান্না করা ছাড়া আমার আর
কোন উপায় নাই।
.
.
ssc রেজাল্টের পর আব্বুকে অনেক রিকোয়েস্ট
করলাম। কিন্তু আব্বু আমায় ঢাকায় ভর্তি করে দিলো না। বলে
কিনা HSC পাস করো তারপর ভার্সিটিতে চান্স পেলে ভর্তি
করে দিবো । বাল চান্স পাবো, কেউ আমায় ভালোবাসে না।
আদিত্য, আব্বু, আম্মু কেউ না। সবাই সার্থপর। সবাই কেনো
আমার সাথে এমন করে। কেউ কি আমার খুশি বুঝবে না। উফফ্
আল্লাহ কত মানুষের মৃত্যু দাও, আমায় কেনো তুলে নাও না।
আমি না থাকলেই মনে হয় সবাই সুখি হবে।
.
.
গাইবান্ধা সরকারি মহিলা কলেজেই ভর্তি হলাম আব্বু আম্মুর চাপে।
এটা কলেজ নয়, একদম জেলখানা । জেলাখানাতেও বুঝি এত বড়
দেওয়াল থাকে না। তার উপর দুইদুইটা গেট। একটা গ্রিলের আর
একটা স্টিলের। ভেতর থেকে বাহির আর বাহির থেকে
ভেতর কিছুই দেখা যায় না। আর একবার ভেতরে গেলে ছুটি
হবার আগে বের হবার কোন উপায় নেই। ভিতরে বসার মত
কোন মাঠও নেই। এর থেকেতো আমার প্রাইমারী
স্কুলেরই মাঠ অনেক বড় ছিলো। উফফ্ জীবনের ১২ টা
বাজিয়ে দিয়েছে।
.
শুনে ছিলাম কলেজ লাইফ খুব মজার হয়। কিন্তু এখন বুঝতে
পারছি কত ধানে কত চাল। যাই হোক এই কলেজে এসে তবু
একটু একাকিত্ব ঘুচেছে। আমাদের এলাকার একটা মেয়ে আর
আমি এক সাথেই কলেজ যাই প্রতিদিন।
মানুষ বদলে যেতে সময় লাগে না। এরি মধ্যে আদিত্যর মামা নাকি আদিত্যর বাড়িতে বলেছে আদিত্য পড়া বাদ দিয়ে সারাক্ষন ফোনে কথা বলে।
.
আদিত্যর বাবা মা ওর সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করা শুরু করেদিযেছে। পরে আদিত্য চাপে পরে বলে ও আমাকে ভালোবাসে। আর মাঝে মাঝে আমার সাথেই কথা বলে।
.
আদিত্যর আব্বু আমায় আগে থেকেই খুব আদর করতো। তবে ওর আম্মুকে খুব ভয় পেতাম। কারণ ওর আম্মু খুব রাগি টাইপের মানুষ।
.
সেদিনি সন্ধ্যায় আদিত্যর আম্মু এসে আমার আম্মুকে যাতা বলে গেলো। আম্মু সব শুনে আমার কাছ থেকে ফোন কেরে নিয়ে গেলো আর আমার বাড়ি থেকে বের হবার উপর নিষেধাগ্গা জারি করলো।
.
.
৪ দিন থেকে আদিত্যর সাথে কথা বলিনা। জানিনা ওর কি অবস্থা। আমার কথা আমি ভাবিনা। কিন্তু আমায় কল দিয়ে না পেলে ওর কি হবে আমি তাই ভেবে পাচ্ছি না। তাই লুকিয়ে আম্মুর ফোন থেকে আদিত্যকে একটা মেসেজ করলাম।
.
"আদিত্য আমার ফোন বাসা থেকে নিয়ে নিসে। তুমি চিন্তা করো না, সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে । ফোন পেলেই আমি তোমায় ফোন করবো। "
.
কিন্তু এই কাজটাই হযে উঠলো আমার জীবনের ২য় কাল। কারণ আদিত্যর ফোনটা ওর মামা নিয়ে নিছিলো। আর তাই মেসেজটা ওর মামার হাতেই পরে। আর এটা নিয়ে আরেক দফা তুলকালাম হয়ে যায়। আর সবটা জানার পর আব্বু আমায় বিয়ে দেওয়ার জন্য ছেলে খোজা শুরু করে।
.
.
১৫ দিন যেতে না যেতেই আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেলো। সব কিছু কেমন যেনো চোখের সামনে ঘটে গেলো। আদিত্যর সাথে আমার একবার কথা বলা খুব দরকার। কিন্তু কি ভাবে বলবো। কোন উপায় খুজে পাচ্ছিলাম না।
.
শেষে অভিনয করতে বাধ্য হলাম। আমি সব কিছু ভুলে গেছি। আদিত্য আমার জীবনের ভুল ছিলো। আর আমি বাবা মা কে কষ্ট দিতে পারবো না। তাই তাদের পছন্দের ছেলেকেই বিয়ে করবো। ৫ দিন লাগলো আম্মুকে ব্যপারটা বোঝাতে। তারপর আম্মুর কাছ থেকে ফোনটা নিলাম। এবং সেদিন রাতেই আদিত্যর বন্ধু মিলন ভাই কে ফোন দিয়ে সবটা বুঝিয়ে বললাম। সব শুনে মিলন ভাই ওর সাথে আমার কথা বলার ব্যবস্থা করে দিতে চাইলো।
.
.
আমার বিয়ের আর ৪ দিন বাকি। আজ বিকেলে আদিত্যর কাছে সব বলছি। আদিত্য বললো দেখি কি করা যায়। একটু হলেও মন থেকে শান্তি পাচ্ছি। যে আদিত্য আমার পাশে আছে।
.
বিয়ের আর দুদিন বাকি। আদিত্য ওই ছেলেকে (যার সাথে বয়ে ঠিক হইছিল) ফোন দিয়ে বলছে ভাইয়া অদ্রতার সাথে আমার ৪ বছরের রিলেশন। এবং আমাদের মধ্যে ঘটা সব কথাই ওনাকে বলছে। এটা হয়ে গেলো ৩য় ভুল। কারণ ওই ছেলে আমার আব্বুকে ফোন দিয়ে সব কিছু বলে দেয়। এবং জানিয়ে দেয তাও সে আমায় বিয়ে করবে।
.
কোন উপায় না দেখে বিয়ের আগের দিন ভোরে আম্মুর ফোনটা আর আমার ডাইরীটা নিয়ে আমি বাড়ি থেকে পালিয়ে আসছি। আদিত্য সকাল ৮ টার বাসে আসবে বলছে। ৮ টার বাসে আসলে ১২:৩০ টা নাগাদ ও পৌছে যাবে।
.
আমি অপেক্ষা করছি ওর জন্য। ১ টার সময় ওর নাম্বারে কল দিলাম ওর ফোন বন্ধ। এরপর মিলন ভাইকে ফোন দিলাম। মিলন ভাইও ফোন ধরছে না। তার মানে আদিত্য আমার সাথে বেইমানী করলো ও আসেনি। তার মানে ও আমায় ভালো বাসে না । আমি আর ভাবতে পারছি না। এখন এই অবস্থায় আমি বাড়ি ফিরে যাব কি ভাবে। পিছেনে ফেরার যে আমার সব রাস্তা বন্ধ। আমি যে আমার বাবা মার সন্মানেরও ১২ টা বাজিয়েছি। আমি আর ফিরবো না।
.
ভালো থেকে আদিত্য। আম্মু আব্বু আমায় মাফ করে দিও। আদিত্য যদি কখনো আমার ডাইরীটা তুমি পাও তবে যত্ন করে রাখিয়ো। যেখানে প্রথম তোমায় প্রপোজ করেছিলাম। সেখানেই আজ আমি তোমায় ছেরে যাচ্ছি। আর আজ আমার জন্মদিন ছিলো,,,,, বেশ ভালই হল জন্মদিন আর মৃত্যু দিন একটাই হবে। তুমি প্রতিবছর আমার জন্মদিনটা পালন করো। ওই যে ট্রেন হুইসাল দিলো বায়.....
.
.
ডাইরীটা পড়া শেষ করে আমার মাথা টা ঘুরছে। কোন মেয়ে কাউকে এত টা ভালো বাসতে পারে? আর একটা জিনিস মনে হচ্ছিলো মেয়ে টার মাথায় নিশ্চই কোন সমস্যা ছিলো।
.
ওর পরের ঘটনাটা সবারই জানা। রেল লাইনে একটা মেয়ে কাটা পরছে। কার মেয়ে, কি কারনে মরলো কেউ জানে না। অনেকেই মজা করে ট্রেনে কাটা লাশ দেখতে গিয়েছিল। সত্যি বলতে আমিও তাদের দলে ছিলাম। দেখেছিলাম মাথাটা আলাদা হয়ে লাইনের মাঝ খানে পরে আছে। আর গলার নিচ থেকে দেহটা ২ হাত দুরে পরে আছে। পাথর গুলো রক্তে লাল হয়ে আছে।
.
.
.
গল্পটা ৩ বছর আগে এখানেই শেষ হইছিল। আমি ডাইরীটা আমার ডয়ারের এক কোনে রেখে দিয়ে ছিলাম। ইচ্ছা ছিলো যদি কখনো আদিত্যকে পাই তবে অদ্রিতার শেষ ইচ্ছা হিসাবে ডাইরী টা ওকে দিয়ে দিব।
.
মানুষ অনেক কিছুই ভুলে যায় ব্যস্ততার ঘোরে আমিও ভুলে গেছিলাম অদ্রিতা আর ওর ডাইরীর কথা।
.
(২৪-০৯-১৬)
ঢাকা ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ঢাকায় যাচ্ছি। ৩০ তারিখে C UNIT এর পরীক্ষা। আমি একটু আগেই আসলাম। মহাসিন হলে আমার কাকু থাকে, এই কদিন তার কাছেই থাকবো। ২৬ তারিখ সেই হলে থাকা গাইবান্ধার বড় ভাইদের সাথে দেখা করলাম।
.
আর সেখানেই কথা হলো আরিফুজ্জামান আরিফ ভাইয়ের সাথে যার গ্রামের বাড়ি আর অদ্রির গ্রামের বাড়ি এক গ্রামে। তাই আমি সেই ভাইয়ের সাথে কথা বলতে চাইলাম। পড়ে বিকাল বেলা আরিফুজ্জামান ভাই আমায় ফোন দিয়ে হলের মাঠে ডাকলো।
.
আমি আরুফুজ্জামান ভাইকে আমার সেই ডাইরীটা কুরিয়ে পাওয়া থেকে শুরু করে পুরো ঘটনা টা বললাম। ভাইয়া আমার সব কথা শুনে বললো হাসান,,
.
: আমি আদিত্যর চাচাতো ভাই।
: কি?
: হ্যা তুমি ঠিকি শুনছো।
: আচ্ছা ভাইয়া আপনি কি আমাকে আদিত্য ভাইয়ার ঠিকানা টা দিতে পারবেন।
: হ্যা কেনো নয় অবশ্যই দিবো। কিন্তু কি করবা।
: ওনার একটা আমানত আছে আমার কাছে। দিতে হবে।
.
: ৪ তারিখ আমি বাড়ি যাব। তুমি ফ্রি থাকলে আমার সাথে যেতে পারো।
: ঠিক আছে ভাইয়া।
পরীক্ষা শেষ তাই বাড়ি যাচ্ছি। এতো তাড়াতাড়ি বাড়ি যেতাম না। কিন্তু আরিফুজ্জামান ভাইয়ের সাথে তার গ্রামে যাব তাই আগে ভাগে বাড়ি আসলাম।
.
এসেই ডাইরীটা বের করলাম। কেমন ধুলো জমে আছে ডাইরীটাতে। ডাইরী টা ভালো ভাবে পরিষ্কার করলাম। পরের দিন মোরের দোকান থেকে গিফট পেপার দিয়ে ডাইরীটা বাধাই করে নিলাম।
.
বাস স্টান্ডে বসে আছি, আরিফ ভাই আসবে। ১১ টার দিকে তিনি আসলেন। হালকা কুশলাদি বিনিময় করে আমারা রওনা দিলাম। খুব ভাল লাগছে এটা ভেবে, আমি একজন মৃত মানুষের শেষ ইচ্ছা পুরণ করতে যাচ্ছি।
.
আরিফ ভাইদের বাসায় গেলাম। আমার আর দেরি সইছে না। আমি আরিফ ভাইকে বলছি চলুন আগে কাজটা শেষ করে আসি। কিন্তু উনি বললো একটু খাওয়া দাওয়া করে নেই।
.
ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া শেষ করার পর একটু রেষ্ট নিলাম। বিকাল ৪ টার দিকে আরিফ ভাই বললেন হাসান চলো,,, ভাইদের আঙ্গিনা পার হয়ে রাস্তার ধারে পাকা করা দুইটা কবরের সামনে এসে আমরা দাড়ালাম আমি বললাম,
.
: ভাই এখানে দাড়ালেন কেনো, চলেন যাই, সন্ধ্যা হয়ে আসছে।
: হাসান এইতো তোমার আদিত্য ভাইয়ের ঠিকানা। দাও তার কি আমানত আছে তোমার কাছে।
: ভাইয়া মজা করবেন নাতো চলেন।
.
: আমি মজা করছি না। সেদিনি আমি তোমায় সব কথা বলতাম। কিন্তু তুমি যে ভাবে এটা বিশ্বাস করেছো তাই, তোমায় এখানে নিয়ে আসলাম।
.
আদিত্যও সেইদিন অদ্রিতার কাছে আসার জন্য বের হয়ে ছিলো। কিন্তু ওর মামা ওকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয় নাই। বরং রুমে আটকে রেখে ছিলো। দুপুরে খাবার দেওয়ার জন্য রুম খুলেই দেখে আদিত্য ফ্যানের সাথে ঝুলছে ।
.
ওর টেবিলের উপর একটা চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে লেখা ছিলো,
.
" অদ্রিতা আমি পারলাম না, তোমার কাছে যেতে। তুমি নিশ্চই অনেক কষ্ট পাবে আমার না যাওয়া দেখে। কি করবো বলো, আমি যে তোমায় ভালবাসি। এ জীবন থাকতে আমি তোমাকে এত বড় কষ্ট দিতে পারবো না। আর তুমি আমার ছাড়া কারো হবে আমি তা মেনেও নিতে পারবো না। তাই চলে গেলাম। আমায় মাফ করে দিও। তোমার বাবা মার পছন্দের ছেলে কেই বিয়ে করো। আর মজার ব্যপার কি জানো, আজ তোমার জন্মদিনে আমার সব থেকে বড় উপহার আমার জীবনটা তোমায় দিলাম,,,,,, শুধু প্রতিবার তোমার জন্মদিনে আমার কথা একটু মনে করিও।
.
ইতি তোমার
আদিত্য।
.
.
আরিফ ভাইয়ের কথা শুনে কলিজাটা মোচড় দিয়ে উঠলো আর দাড়িয়ে থাকতে পারলাম না। তাই আরিফ ভাইযের কাধে হাত দিলাম। দেখলাম আরিফ ভাইয়ের চোখ দিয়ে পানি পরছে।
.
: জানো হাসান, আমার ভাইয়ের ভালবাসার স্বীকৃতি টা বেচে থাকতে না পেলেও মারা যাবার পর পেয়েছে। পাশে যে কবর টা দেখছো ওটা অদ্রিতার। অদ্রিতার কবর দেওয়ার পরের দিন ঢাকা থেকে আদিত্যর লাশ নিয়ে আসা হয়। আদিত্যর আম্মু তাদের পারিবারিক কবরস্থানেই দাফন করতে চাইছিলো আদিত্যকে। কিন্তু এলাকাবাসি তা করতে দেয় নাই। কারণ পুরো এলাকার মানুষ জেনে ছিলো কিভাবে হারিয়ে গেলো দুটি নক্ষত্র।
.
: ( আমার চোখের পানি কেনো আটকাতে পারছিনা আমি। আমিতো এদের কেউ নই তারপরো কেনো আমি কাদছি।)
: হাসান চলো তোমাকে চাচা-চাচির সাথে পরিচয় করিয়ে দেই।
.
.
আদিত্য ভাইয়ার বাবা মার সাথে পরিচিত হলাম। আদিত্য ভাইয়ার একটা ছোট বোন আছে নাম আয়েশা যে এখন ক্লাশ ৬ এ পড়ে। তারা তাকে নিয়েই সুখে থাকার চেষ্টা করছে। এরপর অদ্রিতা আপুদের বাসায় গেলাম। আন্কেল খুব অসুস্থ। পাশে আন্টি বসে আছে। তাদের সাথে কথা বললাম। ডাইরীটা আন্টির হাতে দিলাম। আন্টি খুব কাদছে দেখলাম।
.
মনে মনে ভাবলাম আপনারা যদি ভুল না করতেন তবে আজকের দিনটা আপনাদের দেখতে হতো না।রুম থেকে বেরিয়ে আসতেই একটা ছেলে সালাম দিলো। আরিফ ভাই বললো, হাসান এটা অদ্রিতার ছোট ভাই অর্নব। ,ক্লাশ ৮ এ পড়ে।
.
সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসছি বাড়ির দিকে। চলার পথে হঠাৎ মনের ভেতর আর একটা ছবি ভেসে উঠলো, একটা ছেলে একটা মেয়েকে সাইকেলের পিছনে বসিয়ে স্কুল যাচ্ছে, মেয়েটি আয়েশা আর ছেলেটা অর্নব ..........
.
.
শেষ হয়ে গেলো কুড়িয়ে পাওয়া ডাইরী।

এইটা ২০১৬ সালের
শ্রেষ্ঠ হৃদয় বিদারক বাস্তব কাহিনী।

আগের পর্ব গুলো এই গ্রুপে পোস্ট করা হয়েছে।খুজে না পেলে এসএমএস দিবেন গ্রুপ লিংক দিব।
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label