নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

গল্প-রক্ত

আম্মু আম্মু স্কুলের ম্যাডাম
 Homework দিয়েছে।
আব্বু আম্মুর নাম লিখতে বলেছে।।
তোমার নামতো লিখেছি কিন্তু
কোন আব্বুর নাম লিখবো?
নতুন আব্বুর নাকি পুরান আব্বুর?
.
ছেলেটার প্রশ্নের কি জবাব দিবো ভেবে পাচ্ছি না,
কি বলা উচিৎ ভাবতে ভাবতে মাথা ঝিম ঝিম করছে।
ছেলেটাইবা কি করবে, যেখানে আমাদেরই কিছু করার ছিলো না।। তাছাড়া ও জানলইবা কিভাবে?
.
সেদিন পড়ানো বাদ দিয়ে  বাবলুকে ঘুম পাড়িয়ে দিলাম।
ছেলেটা বেশ ওর বাবার মত,
ঘুমাবেতো ঘুমাবে আমার আচলটা জড়িয়ে ধরে ঘুমাবে। ওর বাবাও তাই করতো, অর্থাৎ আমার প্রথম উনি।।
.
সব কিছু ভালই ছিলো,  ভালবেসে বিয়ে না ঠিক কিন্তু ভালবাসার কোন কমতি ছিলো না আমাদের।।
সবকিছু ঠিক ঠাক মতই চলছিলো, কিন্তু যখন
বাচ্চা নিতে যাই তখনই কালো আধার নেমে আসে আমাদের জীবনে।
৮ বছর বৈবাহিক জীবনে কোন সন্তানাদির মুখ দেখা হয় নি।
কোন ডাক্টার, কোন কবিরাজ বাদ দেওয়া হয় নি।।
.
সমস্যটা ওর থাকলেও, কেন জানি নিজেকেও অপরাধি মনে হচ্ছিলো।।
.
পাঁচ লোকের এক কথা,আর তা সন্তান না হওয়ার।। সমস্যটা ওর থাকায় আমার পরিবার
থেকেই ডিভোর্সের পেপার পাঠায়।।
ডিভোর্স পেপারটা পেয়ে মানুষটা আমাকে ফোন দেয়।।।
.
--হ্যালো রীতা,,,
.
--হুম বলো,,
.
--তোমার কষ্টটা আমি বুঝি,  আমিওতো বাবা হতে পারিনি বলো।।
তুমি ডিভোর্স পেপার পাঠিয়েছো তাতে আমার কোন আফসস নেই। তবে একটা রুকুয়েষ্ট আবদার, অধিকার যাই বলো আমি করছি।।
.
--কি আবদার?
.
--আমরা কি শেষ বার চেষ্টা করে দেখতে পারি না?
.
--৮ বছরতো দেখলাম।। কিছুই হলো না, এখন এসব বলে লাভ নেই।।
.
--এটা তোমার কাছে আমার শেষ দাবী। কথাদিচ্ছি  যদি এবারও না হয় তবে আমি ডিভোর্স পেপারে সাক্ষর করে দিবো।। প্লিজ না করো না।।
.
কি বলা উচিৎ বুঝতে পারছিলাম না। কারন আমিওযে তাকে বড্ড বেশি ভালবাসি।
৮বছরের মায়া কিভাবে কাটিয়ে ওঠি।
তাই ওর প্রস্তাবে রাজি হয়ে যাই।।
.
--আচ্ছা ঠিক আছে,  কাল দুপুরে  আমি মারকেটের কথা বলে বাসায় আসবো। তুমি আম্মাকে কোথাও পাঠিয়ে দিয়ো।।
.
--আচ্ছা তুমি চিন্তা করো না, আমি সব ব্যাবস্থা করে রাখবো।।
.
পরদিন দুপুরে মাকে বুঝিয়ে বাড়িতে চলে যাই, আজ মানুষটা একটা সাদা পান্জাবি পড়েছে।
রুমে ঢুকেই দেখতে পেলাম সেই ঘড়টি আজ আবার ফুলদিয়ে সাজানো হয়েছে।। প্রথম বাসর রাতের মত।
মানুষটা বড়ই আবেগী, সারারাত হয়তো ঘুমাইনি তা চোখ দেখে বুঝা যাচ্ছে। কোন কথা বলছে না আজ, বেশ চুপ হয়ে আছে।.
.
দেখতে দেখতে দুপুর গড়াতেই আসার জন্য প্রস্তুত হই।
মানুষটা আমাকে ধরে অনেক কেঁদেছিলো,  ওর কান্না দেখে আমিও কেঁদেছিলাম।।।
.
--এই তুমি কাদো কেন? (আমি)
.
-- না এমনি।।
.
-- তাহলে ডিভোর্স কেনসেল করে দেই?
.
--না, তুমি আমার জন্য তোমার লাইফটা নষ্ট করবা কেন।
.
--না তবুও, আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না।।
.
--দুর পাগলী,  যখন অনেকটা ব্যাস্ত থাকবা, যখন তোমার সন্তান হবে তখন আর আমাকে মনে পড়বে না।।
.
--আমি জানিনা। কিছু জানিনা।। কেনইবা আমাদের সাথে এমন হলো।।
.
-- আমার একটা শেষ আবদার রাখবা? (কাঁদো কাঁদো সুরে)
.
--বলো।।
.
--জানি বলার কোন অধিকার নেই তবুও আমরা যে নামদুটো ঠিক করেছিলাম, ছেলে হলে বাবলু আর মেয়ে হলে বিন্তি। তোমাদের বাচ্চা হলে  নাম দুটো রেখো।।
.
বলতে বলতেই কেঁদে দেয়, কান্নায় হয়তো কোন শব্দ নেই, কিন্তু একরাশ কষ্ট আর অনেকটা ব্যার্থতা ফুটে উঠছে।।
.
  আমি চলে আসতে যাবো আর কয়েকবার ডাকে।
.
-- রীতা
.
--হুম বলো,,
.
--আর একটা আবদার
.
--বলো
.
--আমি মরে গেলেতো আমার খাটিয়া ধরার রক্তের কেও থাকবেনা। তোমার যদি ছেলে হয় তবে খাটিয়াটা একবার ধরতে বলো।।
.
বলেই লোকটা চলে গিয়ে দরজা লাগিয়ে কাদতে থাকে।।
বার বার ডাকলেও,  দরজাটা খুলে না।
চোখের জ্বলটা মুছতে মুছতে চলে আসি।।
.
৩ দিন পর কেও এসে সাক্ষরিত ডিভোর্স পেপারটা
দিয়ে যায়।।।
.
অন্যদিকে বাবার বন্ধুর ছেলের সাথেই বিয়ে ঠিক হয়ে যায়।
বাবার বন্ধুর ছেলে বিদেশ থাকে তাই সপ্তাখানেকের মধ্যেই ফোনে বিয়ে পড়ানো হয়।।।
৩ চাচার ১ মেয়ে,  আর তাই  নাতির মুখ দেখতেই এতদ্রুত আয়জোন।।
.
ওদিকে মাস  দুয়েক হয়ে যায় মেনস হচ্ছে না, তাই গাইনি ডাক্টার দেখাতে যাই।
ডাক্টারের কথা শুনে চোখ উপরে উঠে যায়।।

(২য় পর্ব দ্রষ্টব্য।।)
.
গল্পআম্মু আম্মু স্কুলের ম্যাডাম
 Homework দিয়েছে।
আব্বু আম্মুর নাম লিখতে বলেছে।।
তোমার নামতো লিখেছি কিন্তু
কোন আব্বুর নাম লিখবো?
নতুন আব্বুর নাকি পুরান আব্বুর?
.
ছেলেটার প্রশ্নের কি জবাব দিবো ভেবে পাচ্ছি না,
কি বলা উচিৎ ভাবতে ভাবতে মাথা ঝিম ঝিম করছে।
ছেলেটাইবা কি করবে, যেখানে আমাদেরই কিছু করার ছিলো না।। তাছাড়া ও জানলইবা কিভাবে?
.
সেদিন পড়ানো বাদ দিয়ে  বাবলুকে ঘুম পাড়িয়ে দিলাম।
ছেলেটা বেশ ওর বাবার মত,
ঘুমাবেতো ঘুমাবে আমার আচলটা জড়িয়ে ধরে ঘুমাবে। ওর বাবাও তাই করতো, অর্থাৎ আমার প্রথম উনি।।
.
সব কিছু ভালই ছিলো,  ভালবেসে বিয়ে না ঠিক কিন্তু ভালবাসার কোন কমতি ছিলো না আমাদের।।
সবকিছু ঠিক ঠাক মতই চলছিলো, কিন্তু যখন
বাচ্চা নিতে যাই তখনই কালো আধার নেমে আসে আমাদের জীবনে।
৮ বছর বৈবাহিক জীবনে কোন সন্তানাদির মুখ দেখা হয় নি।
কোন ডাক্টার, কোন কবিরাজ বাদ দেওয়া হয় নি।।
.
সমস্যটা ওর থাকলেও, কেন জানি নিজেকেও অপরাধি মনে হচ্ছিলো।।
.
পাঁচ লোকের এক কথা,আর তা সন্তান না হওয়ার।। সমস্যটা ওর থাকায় আমার পরিবার
থেকেই ডিভোর্সের পেপার পাঠায়।।
ডিভোর্স পেপারটা পেয়ে মানুষটা আমাকে ফোন দেয়।।।
.
--হ্যালো রীতা,,,
.
--হুম বলো,,
.
--তোমার কষ্টটা আমি বুঝি,  আমিওতো বাবা হতে পারিনি বলো।।
তুমি ডিভোর্স পেপার পাঠিয়েছো তাতে আমার কোন আফসস নেই। তবে একটা রুকুয়েষ্ট আবদার, অধিকার যাই বলো আমি করছি।।
.
--কি আবদার?
.
--আমরা কি শেষ বার চেষ্টা করে দেখতে পারি না?
.
--৮ বছরতো দেখলাম।। কিছুই হলো না, এখন এসব বলে লাভ নেই।।
.
--এটা তোমার কাছে আমার শেষ দাবী। কথাদিচ্ছি  যদি এবারও না হয় তবে আমি ডিভোর্স পেপারে সাক্ষর করে দিবো।। প্লিজ না করো না।।
.
কি বলা উচিৎ বুঝতে পারছিলাম না। কারন আমিওযে তাকে বড্ড বেশি ভালবাসি।
৮বছরের মায়া কিভাবে কাটিয়ে ওঠি।
তাই ওর প্রস্তাবে রাজি হয়ে যাই।।
.
--আচ্ছা ঠিক আছে,  কাল দুপুরে  আমি মারকেটের কথা বলে বাসায় আসবো। তুমি আম্মাকে কোথাও পাঠিয়ে দিয়ো।।
.
--আচ্ছা তুমি চিন্তা করো না, আমি সব ব্যাবস্থা করে রাখবো।।
.
পরদিন দুপুরে মাকে বুঝিয়ে বাড়িতে চলে যাই, আজ মানুষটা একটা সাদা পান্জাবি পড়েছে।
রুমে ঢুকেই দেখতে পেলাম সেই ঘড়টি আজ আবার ফুলদিয়ে সাজানো হয়েছে।। প্রথম বাসর রাতের মত।
মানুষটা বড়ই আবেগী, সারারাত হয়তো ঘুমাইনি তা চোখ দেখে বুঝা যাচ্ছে। কোন কথা বলছে না আজ, বেশ চুপ হয়ে আছে।.
.
দেখতে দেখতে দুপুর গড়াতেই আসার জন্য প্রস্তুত হই।
মানুষটা আমাকে ধরে অনেক কেঁদেছিলো,  ওর কান্না দেখে আমিও কেঁদেছিলাম।।।
.
--এই তুমি কাদো কেন? (আমি)
.
-- না এমনি।।
.
-- তাহলে ডিভোর্স কেনসেল করে দেই?
.
--না, তুমি আমার জন্য তোমার লাইফটা নষ্ট করবা কেন।
.
--না তবুও, আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না।।
.
--দুর পাগলী,  যখন অনেকটা ব্যাস্ত থাকবা, যখন তোমার সন্তান হবে তখন আর আমাকে মনে পড়বে না।।
.
--আমি জানিনা। কিছু জানিনা।। কেনইবা আমাদের সাথে এমন হলো।।
.
-- আমার একটা শেষ আবদার রাখবা? (কাঁদো কাঁদো সুরে)
.
--বলো।।
.
--জানি বলার কোন অধিকার নেই তবুও আমরা যে নামদুটো ঠিক করেছিলাম, ছেলে হলে বাবলু আর মেয়ে হলে বিন্তি। তোমাদের বাচ্চা হলে  নাম দুটো রেখো।।
.
বলতে বলতেই কেঁদে দেয়, কান্নায় হয়তো কোন শব্দ নেই, কিন্তু একরাশ কষ্ট আর অনেকটা ব্যার্থতা ফুটে উঠছে।।
.
  আমি চলে আসতে যাবো আর কয়েকবার ডাকে।
.
-- রীতা
.
--হুম বলো,,
.
--আর একটা আবদার
.
--বলো
.
--আমি মরে গেলেতো আমার খাটিয়া ধরার রক্তের কেও থাকবেনা। তোমার যদি ছেলে হয় তবে খাটিয়াটা একবার ধরতে বলো।।
.
বলেই লোকটা চলে গিয়ে দরজা লাগিয়ে কাদতে থাকে।।
বার বার ডাকলেও,  দরজাটা খুলে না।
চোখের জ্বলটা মুছতে মুছতে চলে আসি।।
.
৩ দিন পর কেও এসে সাক্ষরিত ডিভোর্স পেপারটা
দিয়ে যায়।।।
.
অন্যদিকে বাবার বন্ধুর ছেলের সাথেই বিয়ে ঠিক হয়ে যায়।
বাবার বন্ধুর ছেলে বিদেশ থাকে তাই সপ্তাখানেকের মধ্যেই ফোনে বিয়ে পড়ানো হয়।।।
৩ চাচার ১ মেয়ে,  আর তাই  নাতির মুখ দেখতেই এতদ্রুত আয়জোন।।
.
ওদিকে মাস  দুয়েক হয়ে যায় মেনস হচ্ছে না, তাই গাইনি ডাক্টার দেখাতে যাই।
ডাক্টারের কথা শুনে চোখ উপরে উঠে যায়।।

(২য় পর্ব দ্রষ্টব্য।।)
.
গল্প-রক্ত।
_____Rifat Hasan
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label