নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প ও কবিতা পেতে আমাদের পাশেই থাকুন।

খালাতো বোন যখন বউ

খালাতো বোন যখন বউ
লেখকঃরাশেদ
আজ অনেক দিন পর খালাদের বাসায় যাচ্ছি।।।
হবে তাও দেড় বছর
পড়ার চাপে খালাদের বাসায় তেমন যাওয়া হয়না।।
আর খালাদের বাসায় এমনিতেও যেতে ভালো লাগে না।।
আছে একটা ভুত খালাদের বাসায়,,আগে সারাদিন পিছনে লেগে থাকতো।।
তাই এক প্রকার বিরক্ত বোধ নিয়েই খালাদের বাসায় যাওয়া বাদ দিয়ে দিছিলাম।।।
কাকে ভুত বললাম জানতে ইচ্ছা করছে তাই না
আমার খালাতো বোন তন্বী কে।।
আমি মামুন কিছুদিন আগেই পড়ালেখা শেষ করেছি
এখন বেকার।
আম্মু সকালে বললো যে মামুন অনেক দিন হলো তুমি খালাদের বাসায় যাও না এবার গিয়ে একটু ঘুরে আসো ভালো লাগবে।।।
আমি বলেছিলাম আম্মু খালাদের বাসায় যেতে আমার ইচ্ছা করে না।।আমি যাবো না কিন্তু আম্মু আমাকে একপ্রকার জোড় করেই পাঠিয়ে দিলো।।
আমি আম্মুর মুখের উপর আর কিছু বলতে পারলাম না।।
ট্রেনে করে যাচ্ছি
যেতে হবে কুমিল্লা।।
অনেক দিন পর যাচ্ছি তাই খালাদের বাসা থেকে নাকি কেও একজন আমাকে নিতে আসবে
কে নিতে আসবে আমি জানি না।।
ট্রেনে ভ্রমন ভালোই লাগছে।।।
কুমিল্লা পৌছে আম্মুকে ফোন দিলাম।
আমিঃআম্মু কে নিতে আসবে আমি তো পৌছে গেছি
আম্মুঃতন্বী তকে নিতে গেছে তো দেখ
আমিঃকি বলো অই পেত্নী টা
আমিঃ তাহলে এখনি ঢাকা চলে যাবো।ম
আম্মুঃআরে বাবা তুই রাগ করিস কেনো।।
তোর খালাই তকে আনতে যেতো কিন্তু তোর খালার কাছে এতো সময় ছিলো না তাই তকে আসতে পারে নাই।।
বাবা তুই রাগ করিস না
তুই যাবি বলে তোর খালা খালু কত খুশি হয়েছে তুই জানিস??
আমিঃআচ্ছা আম্মু তন্বী কোথায় দেখছি না তো??
আম্মুঃ তন্বীকে একটা ফোন দে তাহলে
আমিঃনাম্বার নাই আমার কাছে
তুমি তন্বীকে আমার নাম্বার দিয়ে আমাকে ফোন দিতে বলো।।
আম্মুঃআচ্ছা বাবা ঠিক আছে
আমি এক্ষুনি বলছি।।রাখছি এই বলে আম্মু ফোন কেটে দিলো,,
কিছুক্ষণ পর একটা অচেনা নাম্বার থেকে কল আসলো
আমি রিছিভ করলাম
হ্যালো কে
আমি তন্বী অহ
তুই
তা তুই কোথায় আছোস আর শুন আমি কিন্তু একাও যেতে পারবো।।
তোর আসতে যেহেতু এতো দেরি হচ্ছে।।
তন্বীঃআমি তো সেই তখন থেকে তোমার জন্য অপেক্ষা করে আছি??
তুমি কোথায় সেটা বলো
আমি বললাম তুই কি রঙ এর জামা পরে আছিস রে।।
তন্বী বললো গোলাপি
আমি দেখলাম আমার থেকে কিছু দুরেই
গোলাপি রঙ এর জামা পরে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে কার সাথে যেনো কথা বলছে।।।
আমি বললাম তোর হাতে কি একটা পানির বোতল
তন্বীঃহ্যা তুমি জানলে কিভাবে??
আমিঃতুই দাড়া আমি আসতেছি!!
এই বলে আমি তন্বীের সামনে গেলাম।।
তন্বীকে দেখে তো আমি বড় সর একটা ক্রাশ খেলাম।।
আরে এটা তন্বী নাকি অন্য কেও।।
আগে তো ছিলো একটা পেত্নী
এই দেড় বছরে এতো আধুনিক হলো কি করে।।
আরে ওভাবে হা করে কি দেখছো
তন্বীর কথা শুনে আমি বাস্তবে ফিরলাম।।
আমি কিছুতা লজ্জা বোধ করলাম
বললাম আচ্ছে তুই তন্বী নাকি অন্য কেও???
তন্বী হেসে উত্তর দিলো কেনো চিনতে সমস্যা হচ্ছে নাকি??
আমি বললাম দেড় বছর আগে তো আমি অন্য এক তন্বীকে দেখেছিলাম
কিন্তু তুই তো সে না।।
তন্বীঃশুনো সময়ের সাথে অনেক কিছুরি পরিবর্তন হয়,,,
ধরে নাও না আমারো পরিবর্তন হয়েছে।।
আমি আর কিছু বলতে পারলাম না,,কেনো বলতে পারলাম না সেটা একটু পরে বলি,,,,
তন্বীঃআচ্ছা এবার চলো আর কতক্ষণ এভাবে এখানে দাঁড়িয়ে থাকবে।।
আমিঃঅহ হ্যা চল
তন্বী আমার আগে আগে হাটা শুরু করে দিয়েছে
আর আমি তন্বীর পিছু পিছু হাটা শুরু করে দিয়েছি
কিছুক্ষণ পর আমরা একটা রিকশা নিলাম।।
কিন্তু আগে আসলে তন্বী আমার সাথে রিকশা করে যাবার সময় যেভাবে কথা বলতো কিন্তু এই বার আমার সাথে ভালো করে কথাই বলছে না।।
আমিও কিছু বললাম না।।বাসায় আসার পর খালা আমাকে দেখে কিছুটা অভিমান নিয়ে বললো আমাদের তো একেবারেই ভুলেই গেছিলি
এতো দিন পর আমাদের কথা মনে পরলো।।।
তখন তন্বী বললো আম্মু ও এতো দূর থেকে এসেছে তুমি
কথা পরে বলে
আগে ওকে বিশ্রাম নিতেদাও।।
খালা তন্বীর কথা শুনে বললো
যা মামুনকে ঘরে নিয়ে যা...
তন্বী আমাকে ঘরে নিয়ে গেলো।
রাস্তায় আসার সময় কোনো কথা হয়নি।।
ঘরে গিয়ে জিজ্ঞাস করলাম কেমন আছো।।
যদিও এর আগে কখনো তন্বীকে তুমি করে বলি এই
কেনো জানিনা এইবার বেড়িয়ে গেলো।।।
তন্বী শুধু উত্তর দিলো
ভালো আছি,,,,কিন্তু একবারো জিজ্ঞাস করলো না
আমি কেমন আছি।।
এর আগে যখন এসেছি তন্বী তো কথা বলতে বলতে আমার কান ঝালা পালা করে দিতো।।
আর এইবার একটাও কথা বলছে না,,
বলবেই বা কেনো এর আগে আমি কি কম অপমান করেছি
আসুন একটু অতিত নিয়ে কথা বলা যাক।।
খালাদের বাসায় এসে শুয়ে আছি তন্বী তখন এসে বললো এই শুনছো চলো ঘুরতে যাবো।।
আমি বললাম তুই একা যা আমি যেতে পারমু না।।
তন্বী অনেক জোড় করার পর আমি রাজি হলাম
গ্রাম টা ঘুরে দেখার আমারো ইচ্ছা ছিলো
তাই রাজি হয়েছিলাম।।
ঘুরছি হঠাৎ তন্বী বলে মামুন তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।।
আমিঃহ্যা বলো কি বলবে???
তন্বীঃজানিনা তুমি কি ভাববে তবে আমাকে বলতেই হবে,,,,
মামুন আমি তোমাকে ভালোবাসি,,,
নিজের খালাতো বোনের মুখে ভালোবাসার কথা শুনে অনেক অবাক হয়ে গেলাম।।
বললাম আরে তুই পাগল হয়েছিস
তুই কাকে কি বলছিস আমি তোর নিজের খালাতো ভাই।।
আর তুই আমাকে ভালোবাসিস।।
তন্বী বললো খালাতো ভাই তো কি হয়েছে
আমি তোমাকে ভালোবাসি এটাই বড় কথা।।
প্লিজ তুমি আমাকে ফিরিয়ে দিও না।।
অনেক ভালোবাসি তোমাকে।।।
আমিঃকিন্তু আমি তোর মত মেয়েকে ভালোবাসতে পারবো না।।
আপনারা ভাবছেন তন্বী দেখতে খারাপ।
না একদম না তন্বী দেখতে অনেক সুন্দর
তবে গ্রাম্য মেয়েদের মত থাকে তাই আমার ভালো লাগে না।।
আমি যাকে ভালোবাসবো সে আধুনিক হবে
আমার মনের মত চলবে।।
তন্বী আমার কথা শুনে কান্না করতে করতে বললো
তুমি যেভাবে বলবে আমি সেই ভাবেই চলবো আমাকে ফিরিয়ে দিও না প্লিজ,
আমি বলেছিলাম আমার পক্ষে সম্ভব না।।
তুই এই সব মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দে।।
এরপর থেকে তন্বীকে কেনো জানিনা আমার অসহ্য লাগতে শুরু করে।।
তারপর থেকে আমি খালাদের বাসায় বেশি যেতাম না
গেলেই তন্বী ভালোবাসি ভালোবাসি বলে কানের পোকা নাড়িয়ে দিতো।।
লাস্ট আমি বলেছিলাম তুই যদি নিজেকে পরিবর্তন করতে পারিস তবেই তকে ভালোবাসবো।।
এই কথা বলে আমি খালাদের বাসা থেকে সেই চলে আসছিলাম।।
আর কতদিন পর গেছি তা তো আপনারা জানেন।।
এই সব ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পরেছিলাম জানা নাই।।
বিকেলে ঘুম থেকে উঠে খেয়ে নিলাম।
দেখলাম তন্বী খুব সুন্দর করে সেজেছে
মেয়েটা একদম পালটে গেছে।।
আগে সারাদিন আমার সাথে সাথে লেগে থাকতো কিন্তু এখন তার কোনো খোজ খবইর পাওয়া যায় না।।
আমি তন্বীকে বললাম চলো ঘুরে আসি।।
তন্বী উত্তর দিলো তার নাকি কোনো এক কাজ আছে সেই কাজ নাকি করবে।।
আমিও আর জোড় করলাম না।।কিন্তু আমি আগে থেকেই তন্বীকে ভালোবাসি শুধু তন্বীর চলাফেরা আমার পছন্দ হতো না।।।
তাই আমকে তখন তন্বীকে গ্রহন করেনি।।।
কিন্তু এখন তো তন্বীকে ভালোবাসতে ইচ্ছা করছে
সরি
শুধু ভালোবাসতে না তন্বীকে খালাতো বোন বানাতে ইচ্ছা করছে।।।
কিন্তু কিভাবে কি বলি রাতে শুয়ে আছি ঠিক তখন তন্বী পিছন থেকে এসে বললো
কি করো
দেখতেই তো পাচ্ছো শুয়ে আছি
আমি বললাম তন্বী আমি তোমাকে ভালোবাসি
তুমি কি আমার বউ হবে।।
তন্বী বললো সরি অনেক দেড়ি হয়ে গেছে।।
আর তুমি আমার বড় ভাইয়ের মত আমি তোমাকে ভালোবাসতে পারবো না কথাটা শুনে কি যে কষ্ট হয়েছিলো সেটা শুধু আমি জানি।।
কিন্ত আমি হাল ছাড়ছি না
তন্বীকে যে করেই হোক আমার বউ করেই ছাড়বো খালাতো বউ
সেদিন খাওয়ার সময় আমি বললাম খালা আমাকে তোমার কেমন লাগে।।
মানে ধরো তোমার মেয়ের সাথে আমার বিয়ে হলো তাহলে আমাদের দুইজনকে কেমন মানাবে।।
খালা বললো বেশ দারুন লাগবে।
হায় হায় আমি তো তন্বীকে রাগাতে চাইছিলাম কিন্তু একি তন্বী রাগ না করে উল্টো হাসছে কেনো।।
আমি তন্বীকে রাগাতে খালার সামনেই তন্বীকে জিজ্ঞাস করলাম অই তন্বী আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই তোমার মেয়ের আব্বু হতে চাই তুমি রাজি হবে।।।
হায় হায় আমি হাসার মতো কি বলছি সবাই পাগলের মতো হাসছে কেনো??
আমি তো রাগানোর জন্য বলেছিলাম।।
থাক আমি আর কিছু বলমু না সবাই আমাকে নিয়ে হাসি তামাশা করে।।
তারপর দিন বিকালে আবার তন্বীকেকে বললাম
তন্বী চলো ঘুরে আসি
তন্বী বললো না আজ না অন্য দিন
আমি আর কিছু না বলে একাই গ্রাম ঘুরতে বের হলাম।।
ঘুরে বাসায় আসবো ঠিক সেই সময় তন্বীকে দেখি একটা ছেলের সাথে গল্প করছে।।
আমি তো অবাক কিছু না ভেবেই আমি পিছন দিয়ে গিয়ে তন্বী এর চুল ধরে টান দিলাম তন্বী কিছু না ভেবেই পেছন ঘুরেই একটা কষে চড় বসিয়ে দিলো
আমি জিজ্ঞাস করলাম ছেলেটা কে
আর এখনানে কি করছো
তন্বী বললো এটা আমার বয়ফ্রেন্ড
আর এখানে আমরা প্রেম করছি
কথাটা শোনা মাত্রই মাথাটা হালকা গুরে গেলো।।
আমি আর কিছু না বলে সোজা চুপচাপ চলে আসতে লাগলাম
তন্বী পেছন থেকে অনেক ডেকে ছিলো আমি ফিরেও তাকাই নাই
চলবে
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Labels

Blog Archive

Recent Posts

Label